Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way






























Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দিনের তিন সময় নফল সালাত পড়তে এবং তাতে মৃত ব্যক্তিকে দাফন ও কবরস্থ করতে নিষেধ করেছেন: প্রথমবার: যখন সূর্য উপরে ওঠে, অর্থাৎ যখন এটি প্রথম প্রথম উদয় হয় যতক্ষণ না তা একটি বর্শার দৈর্ঘ্যে ওঠে, যা আনুমানিক এক-চতুর্থাংশ ঘন্টা। দ্বিতীয়বার: যখন সূর্য আকাশের মাঝখানে থাকে, তখন পূর্ব বা পশ্চিম দিক থেকে তার ছায়া হয় না যতক্ষণ না এটি আকাশের মাঝখান থেকে অতিক্রম করে। তারপর পূর্ব দিক থেকে ছায়াটি দেখা যায়, তখন থেকে যোহরের সালাতের সময় শুরু হয়, যা খুব অল্প সময়। এটি প্রায় পাঁচ মিনিটের মত। তৃতীয়বার: যখন সূর্য অস্ত যেতে শুরু করে এবং অস্ত যায়।
একজন জ্ঞানী ও প্রাপ্ত বয়স্ক নারীর জন্য উড়না ছাড়া অর্থাৎ মাথা ও গাড় খুলে সালাত আদায় করা বৈধ নয়। যদি কোন নারী এভাবে সালাত আদায় করে তবে তার সালাত বাতিল। কারণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ কবুল করবেন না। কবুল না করা দ্বারা এখানে উদ্দেশ্য সহীহ ও যথেষ্ট না হওয়া। আর ঋতুবতী হওয়া দ্বারা উদ্দেশ্য সাবালগ নারী। যে সাবালগ হওয়ার কোন আলামত প্রকাশ পাওয়ার কারণে মাসিকের বয়সে উপনিত হয়েছে। সাবালগ হওয়ার আলামত হলো, মাসিক হওয়া, বীর্যপাত হওয়া, নাভীর নিচে পশম গজানো অথবা পনের বছর পূর্ণ হওয়া। আর ঋতু দিয়ে ব্যক্ত করার কারণ হলো এটি কেবল নারীদেরই হয়ে থাকে এবং এটি সাধারণত বেশি। এ দ্বারা উদ্দেশ্য মাসিকে আক্রান্ত হওয়া নয়। কারণ, মাসিক চলাকালে নারীদের জন্য সালাত আদায় করা নিষিদ্ধ। এ বিষয়ে সুন্নাতের প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং উম্মাতের ইজমা প্রমাণিত।
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক পোশাকে সালাত আদায়কারীকে তার দুই কাঁধ, অর্থাৎ কাঁধ ও ঘাড়ের মাঝখানে যা আছে তা খোলা রাখতে নিষেধ করেছেন এমন যেন না হয় যে তার উপর কিছুই থাকবে না। এর কারণ হল যদিও কাঁধগুলি ‘আওরাহ (শরীরের যেসব অংশ আবশ্যিকভাবে আবৃত করতে হবে) নয়, তবুও সেগুলিকে ঢেকে রাখা ‘আওরা’কে আরও ভালোভাবে আড়াল করার নিশ্চয়তা দেয়, পাশাপাশি সালাতে তাঁর সামনে দাঁড়ানোর সময় এটি সর্বশক্তিমান আল্লাহর প্রতি শ্রদ্ধা ও মহিমা প্রদর্শনের কাছাকাছি।
সফর অবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার আরোহণ থেকে নামতেন না বরং তিনি তার উপর বসেই সালাত আদায় করতেন। ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু ও অন্যান্যদের বর্ণনা একে সমর্থন করে: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফরে স্বীয় বাহনের উপর সালাত আদায় করতেন যে দিকেই সে মুখ ফিরাক না কেন। এটি বর্ণনা করেছেন সহীহ বুখারী। রাসূলুল্লা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তার বাহনের উপর থাকতেন, তখন তিনি তার বাহন যেদিকে মুখ করত সেদিকে ফিরে সালাত আদায় করতেন। কিবলার দিক হোক বা না হোক। আর যদি ফরয সালাত হত অর্থাৎ পাঁচ ওয়াক্ত সালাত হতো তখন তিনি তার বাহন থেকে নেমে যেতেন। কিবলামুখী হয়ে যমীনের ওপর সালাত আদায় করতেন। ইবন উমারের হাদীসে বর্ণিত ফরয সালাতে তিনি তা—আরোহনের উপর সালাত আদায়— করতেন না।মুত্তাফাকুন আলাইহি। সুতরাং, শর‘ঈ কোন অপারগতা ছাড়া ফরয সালাত যমীনে আদায় করা জরুরি। তবে যদি কোন অপরগতা থাকে যেমন, বৃষ্টি, দুশমনের ভয় ইত্যাদি তখন বাহনের ওপর আদায়ে কোন অসুবিধা নেই। অথবা অসুস্থ ব্যক্তি হলে সে তার খাটের ওপর বসে সালাত আদায় করবে। বিশেষ করে যখন সালাতের সময় চলে যাওয়ার আশঙ্কা করে। সহনীয় ও সহজীকরণ এবং এ উম্মাতের কষ্ট দূর করার দলীলসমূহ বিষয়টিকে সমর্থন করে। এ সব দলীলসমূহের মধ্যে রয়েছে, আল্লাহর বাণী: তিনি বলেন, “কোন আত্মাকে তার সাধ্যের বাহিরে দায়িত্ব প্রদান করা হয় না”। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী— “যখন আমি তোমাদের কোন নির্দেশ দিয়ে থাকি তোমরা তোমাদের সাধ্য অনুযায়ী তা পালন কর।”
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সফর করতেন এবং নফল সালাত আদায় করার ইচ্ছা করতেন, তখন তাকবীরে তাহরীমার সময় তিনি তার উষ্টিকে কিবলামুখ করতেন। তারপর সালাত আদায় করতেন যে দিকে তার সফর হতো।
‘পুরুষের জন্য তাসবীহ এবং নারীদের জন্য হস্তাঘাত’ হাদীসটির অর্থ। আর মুসলিমের অপর এক বর্ণনায় বর্ণিত আছে “সালাতে” অর্থাৎ সালাতে যখন এমন কোন ঘটনা দেখা দেয়, যা অপরকে অবহিত করার দাবি রাখে, যেমন সালাতে ইমাম ভূল করলে তাকে সতর্ক করা বা কোন অন্ধ লোক গর্তে পড়ে যাচ্ছে তা দেখে কাউকে জানানো বা কোন প্রবেশকারী অনুমতি চাইলে তাকে সতর্ক করা বা মুসল্লী কোন বিষয়ে অপরকে অবগত করতে চায় এ ধরনের পেক্ষাপটে সে কোন অবস্থায় আছে তা বুঝানোর জন্য তাসবীহ অর্থাৎ সুবহানাল্লাহ বলবে। এটি পুরুষদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আর নারীদের ক্ষেত্রে যখন তাদের সালাতে এ ধরনের কোন অবস্থার সৃষ্টি হয়, সে তাসফীক করবে। তার পদ্ধতি হলো, এক হাতের তালু দিয়ে অন্য হাতের তালুতে মারা বা যে কোনভাবে হাতে আঘাত করা। এটি হলো সালাতকে এমন কথা থেকে দূরে রাখা যা সালাতের কথা নয়। কারণ, সালাত হলো আল্লাহর সাথে মুনাজাত। কিন্তু যখন কথা বলার প্রয়োজন দেখা দিল, তাই তাতে এমন কথা বৈধ রাখা হলো যা সালাতের সাথে সম্পৃক্ত কথা। আর তা হলো তাসবীহ।
কেউ যখন কোন জিনিস দিয়ে লোকদের আড়াল করে সালাতে দাঁড়ায়; যাতে কেউ তার সামনে দিয়ে অতিক্রম করে সালাতে ও তার রবের সাথে মুনাজাতে বিঘ্ন ঘটাতে না পারে, এমতাবস্থায় কেউ যদি তার সমানে দিয়ে অতিক্রম করতে চায় তবে তাকে যেন আলতোভাবে সরিয়ে দেয়, তাতে কাজ না হলে ক্রমান্বয়ে কঠোর থেকে কঠোরতর হবে। যদি সহজভাবে সে সরে না যায় তাহলে সে তার সম্মান হারিয়ে ফেলল এবং সীমালঙ্ঘনকারী হলো। তখন তার সীমালঙ্ঘন প্রতিহত করতে হাতের দ্বারা তাকে সরিয়ে দেওয়া জায়েয। কেননা, তার কাজটি শয়তানের কাজ বলে গণ্য, যে শয়তানের কাজই হলো মানুষের ইবাদত নষ্ট করা ও তাদের সালাতে ওয়াসওয়াসা দেওয়া।
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার কারুকার্য ও বিভিন্ন রং বিশিষ্ট একটি পাতলা চাদর ছিল যা দিয়ে সে তার কামরার ফাঁকা ডেকে রাখত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে সরানোর নির্দেশ দিলেন। তিনি তার কারণটি স্পষ্ট করলেন যে, তার কারুকার্য ও রংগুলো সালাতে তার চোখের সামনে ভেসে উঠতে থাকে। তাই তিনি আশঙ্কা করেন যে, সালাতে পরিপূর্ণ মনোযোগী হওয়া, যিকির ও তিলাওয়াতে চিন্তা করা এবং সালাতের উদ্দেশ্য আল্লাহর আনুগত্য করা ও বিনয়ী হওয়া থেকে তা তাকে ফিরিয়ে রাখবে।
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের সতর্ক করে দিয়েছেন যারা সালাতে দোআ বা অন্যায় কর্মে আকাশের দিকে চোখ তুলে তাকায়। তারপর তিনি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যারা এটি করে তাদের বিরুদ্ধে তার তিরস্কার এবং হুমকি আরও তীব্র করে বলেছেন যে তিনি আশঙ্কা করেন যে তাদের দৃষ্টিশক্তি তাদের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হবে এবং এত তাড়াতাড়ি কেড়ে নেওয়া হবে যে তারা দৃষ্টিশক্তি হারানো পর্যন্ত বুঝতে পারবে না।