





























Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
All
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কুরআন তিলাওয়াতকারী এবং এতে দক্ষ ব্যক্তি সম্মানিত পূণ্যবানদের সাথে থাকবেন (জান্নাতে)। আর যে ব্যক্তি ভেঙ্গে ভেঙ্গে অতি কষ্ট হওয়া সত্ত্বেও কুরআন তিলাওয়াত করে, সে দ্বিগুণ পুরস্কার পাবে।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কুরআন তিলাওয়াতকারী দক্ষ ব্যক্তি অনুগত সম্মানিতগণের সাথে থাকবেন (জান্নাতে)। মাহির হলো যিনি দক্ষতা ও সুনিপুণতার সাথে কুরআন তিলাওয়াত করেন। এখানে মাহির দ্বারা উদ্দেশ্য যিনি ভালো হিফযসহ উৎকৃষ্ট তিলাওয়াত করেন। সম্মানিত ব্যক্তি দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ফিরিশতাগণ। যেমন আল্লাহ বলেছেন, “এটা আছে সম্মানিত সহীফাসমূহে। সমুন্নত, পবিত্র, লেখকদের হাতে, যারা মহাসম্মানিত, পূণ্যবান।” [সূরা আবাসা, আয়াত: ১৩-১৬] সুতরাং কুরআনে দক্ষ ব্যক্তি ফিরিশতাদের সাথে জান্নাতে থাকবেন। কেননা আল্লাহ তা‘আলা তার ওপর এ কাজ সহজ করে দিয়েছেন যেমনিভাবে অনুগত সম্মানিত ফিরিশতাদের ওপর সহজ করে দিয়েছেন। সুতরাং সে কুরআন তিলাওয়াতে তাদের (ফিরিশতাদের) অনুরূপ হয়েছে। তাই সে স্তরের দিক থেকেও আল্লাহর নিকট তাদের সমান।অন্যদিকে যারা ভেঙ্গে ভেঙ্গে অতি কষ্ট হওয়া সত্ত্বেও কুরআন তিলাওয়াত করে, তাদের জন্য রয়েছে দ্বিগুণ পুরস্কার। একটি তিলাওয়াতের জন্য, আরেকটি কষ্টের জন্য। দেখুন, ফাতহুল বারী (১৩/৫১৮); শারহু রিয়াদুস সালেহীন (৪/৬৪১-৬৪২); শারহু কিতাবুত তাওহীদ (২/৫৯৩)
‘উকবা ইবন ‘আমের রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তুমি কি দেখনি যে, আজ রাতে আমার ওপর কিছু আয়াত নাযিল হয়েছে, তার ন্যায় মর্যাদাময় আর কোনো আয়াতই কখনো দেখা যায়নি। তা হলো সূরা ফালাক এবং সূরা নাস।”
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।‘উকবা ইবন ‘আমের রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তুমি কি লক্ষ্য করনি?” অর্থাৎ তুমি কী জানতে পারনি? এটি বর্ণনাকারীকে উদ্দেশ্য করে সম্বোধন। তবে এর উদ্দেশ্য সকলকে সম্বোধন করা। এটি আর্শ্চয্যবোধক শব্দ। এর দ্বারা আর্শ্চয্য হওয়ার কারণের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। আর সেটি হচ্ছে তার বাণী, “এর ন্যায় কোনো কিছু দেখা যায় নি।” অর্থাৎ এ অধ্যায়ে, আর তা হচ্ছে আল্লাহর আশ্রয় নেওয়া সংক্রান্ত বিষয়ে। রাসূল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী, “কাততু” অর্থ: কখনো। না সূচক কথাকে আরো সুদৃঢ় করতে ব্যবহৃত হয়েছে। নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী, “কুল আ‘ঊযু বিরাব্বিল ফালাক এবং কুল আ‘ঊযু বিরাব্বিন নাস (সূরা ফালাক ও সূরা নাস)” অর্থাৎ এ দু’টি সূরায় যেভাবে সব আয়াতে এর পাঠককে অকল্যাণ থেকে আশ্রয় প্রার্থনার কথা এসেছে, অন্য কোনো সূরার সব আয়াতে তা পাওয়া যায় না। ঈমান ও সততার সাথে কোনো আশ্রয় প্রার্থনাকারী এ দু’টি সূরা দিয়ে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করলে আল্লাহ অবশ্যই তাকে আশ্রয় দিবেন। মূলকথা হলো, মানুষের উচিৎ এ দু’সূরার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করা। দেখুন, মিরকাতুল মাফাতীহ (৪/৬৩৯); শরহু রিয়াদিস সালিহীন (৪/৬৭৮)।
আবূ হুরাইরা রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “কিয়ামাত কায়েম হবে না, যতক্ষণ না সূর্য তার অস্তাচল থেকে উদয় হবে, যখন তা উদয় হবে আর সকল মানুষ তা প্রত্যক্ষ করবে, তখন সবাই ঈমান আনবে, কিন্তু তখন হচ্ছে সেই সময়: لاَ يَنْفَعُ نَفْسًا إِيمَانُهَا لَمْ تَكُنْ آمَنَتْ مِنْ قَبْلُ، أَوْ كَسَبَتْ فِي إِيمَانِهَا خَيْرًا যার অর্থ: “সেদিন কোন ব্যক্তির ঈমান আনা কোন কাজে আসবে না, যে পূর্বে ঈমান আনেনি অথবা যে ব্যক্তি ঈমানের মধ্যে কোন কল্যাণ অর্জন করেনি।” [আল-আন‘আম: ১৫৮]। অবশ্যই কিয়ামাত এতটা দ্রুত এসে যাবে যে, দুজন ব্যক্তি তাদের বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে একে অপরের কাছে কাপড় মেলে ধরবে, কিন্তু তারা ক্রয়-বিক্রয় সম্পূর্ণ করতে পারবে না এমনকি তা ভাঁজও করতে পারবে না। অবশ্যই কিয়ামাত এত দ্রুত এসে পড়বে যে, এক ব্যক্তি তার উটনীর দুধ দোহন করে ফিরবে অথচ সে তা খেতে পারবে না। অবশ্যই কিয়ামাত এত দ্রুত এসে পড়বে যে, কোন ব্যক্তি তার পানির হাউয প্রস্তুত করবে কিন্তু সে সেখান থেকে পানি পান করতে পারবে না। অবশ্যই কিয়ামাত এত দ্রুত এসে পড়বে যে, তোমাদের একজন তার খাবারের লোকমা তার মুখের দিকে উঁচু করবে অথচ সে তা খেতে পারবে না।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দিচ্ছেন যে, কিয়ামাতের বড় নিদর্শন বা আলামতের মধ্যে অন্যতম একটি হচ্ছে: সূর্য তার উদয়াচলের পরিবর্তে অস্তাচল থেকে উদিত হবে। আর মানুষেরা যখনই তা দেখবে, তখন সবাই ঈমান আনবে। সে সময় কোন কাফির ঈমান আনলে তা কোন উপকারে আসবে না আর তখন কোন ভালোকাজ এবং তাওবাও কোন কাজে আসবে না। তারপরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো সংবাদ দিয়েছেন যে, কিয়ামাত ক্ষিপ্র গতিতে এসে পড়বে, এমনকি মানুষ তাদের জীবন-যাপনের বিভিন্ন বিষয়াদিতে ব্যস্ত থাকা অবস্থাতেই কিয়ামাত কায়েম হয়ে যাবে। সুতরাং কিয়ামাত এমন সময়ে কায়েম হবে যখন ক্রেতা-বিক্রেতা তাদের মধ্যে কাপড় ছড়াবে কিন্তু ক্রয়-বিক্রয় শেষও করতে পারবে না আবার তা ভাঁজ করতেও পারবে না। এমন সময়ে কিয়ামাত কায়েম হবে যখন কোন এক ব্যক্তি তার উটনী থেকে দুধ দোহন করবে, তবে তা সে পান করতে পারবে না। কিয়ামাত এমন সময়ে কায়েম হবে যখন কোন এক ব্যক্তি তার পানির হাউয ব্যবহার উপযোগী করবে, তবে সে সেখান থেকে পানি পান করতে পারবে না। আবার কিয়ামাত এমন সময়ে কায়েম হবে, যখন কোন ব্যক্তি তার খাবারের লোকমা তার মুখের কাছে নেবে, তবে সে খেতে পারবে না।
আবু সাঈদ আল-খুদরী রদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: “মৃত্যুকে সাদা-কালো মিশ্রিত একটি ভেড়ার আকৃতিতে উপস্থিত করা হবে। তারপরে একজন ঘোষক ডেকে বলবেন: হে জান্নাতের অধিবাসীগণ! তখন তারা ঘাড় উঁচু করে তাকাবে আর উক্ত ঘোষক বলবেন: তোমরা কী একে চিনতে পারছ? তারা বলবে: জ্বী, এটা হচ্ছে মৃত্যু। আর এটা প্রত্যেক ব্যক্তিই দেখতে পাবে। তারপরে ঘোষক আবার ডেকে বলবেন: হে জাহান্নোমের অধিবাসীগণ! তখন তারাও ঘাড় উঁচু করে তাকাবে। আর উক্ত ঘোষক বলবেন: তোমরা কী একে চিনতে পারছ? তারা বলবে: জ্বী, এটা হচ্ছে মৃত্যু। আর এটা তাদের প্রত্যেকেই দেখতে পাবে। তারপরে ভেড়াটিকে যবাই করা হবে আর উক্ত ঘোষক বলবেন: হে জান্নাতের অধিাবসীগণ, স্থায়ীত্ব, আর কোন মৃত্যু নেই। হে জাহান্নামের অধিবাসীগণ! স্থায়ীত্ব, আর কোন মৃত্যু নেই। এরপরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাঠ করলেন: وَأَنْذِرْهُمْ يَوْمَ الحَسْرَةِ إِذْ قُضِيَ الأَمْرُ وَهُمْ فِي غَفْلَةٍ যার অর্থ: “আর তাদেরকে পরিতাপ দিবসের ব্যাপারে সতর্ক কর, যখন ফয়সালা হয়ে যাবে অথচ তারা গাফিলতির মধ্যে থাকবে।” [মারইয়াম: ৩৯]। এবং এ সমস্ত লোকেরা দুনিয়াদার, যারা গাফিলতির মধ্যে থাকবে । {وَهُمْ لاَ يُؤْمِنُونَ} যার অর্থ: “আর তারা ঈমানও আনবে না।” [সূরা মারইয়াম, আয়াত: ৩৯]।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেছেন যে, কিয়ামাতের দিনে মৃত্যুকে নিয়ে আসা হবে পুরুষ ভেড়ার আকৃতিতে আর ভেড়াটি সাদা ও কালো রঙ মিশ্রিত হবে। তারপরে ডাকা হবে: হে জান্নাতীরা! তখন তারা তাদের ঘাড়গুলো বাড়িয়ে তাদের মাথাগুলো উঁচু করে তাকাবে। একজন ঘোষক তাদেরকে তখন জিজ্ঞাসা করবেন: তোমরা কী একে চিনতে পারছ? তারা বলবে: হ্যাঁ, এটা তো মৃত্যু। জান্নাতীদের প্রত্যেকেই এটি দেখবে এবং চিনতে পারবে। তারপরে ঘোষক ডেকে বলবেন: হে জাহান্নামীরা! তখন তারাও তাদের ঘাড়গুলো বাড়িয়ে তাদের মাথাগুলো উঁচু করে তাকাবে। তিনি জিজ্ঞাসা করবেন: তোমরা কী একে চিনতে পারছ? তারা বলবে: হ্যাঁ, এটা তো মৃত্যু। আর জাহান্নামীদের প্রত্যেকেই এটা দেখতে পাবে। তারপরে মৃত্যুকে যবাই করা হবে। তারপরে উক্ত ঘোষক বলবেন: হে জান্নাতীরা, স্থায়ীদের ন্যায় স্থায়ীত্ব, আর কখনো মৃত্যু হবে না।হে জাহান্নামীরা, স্থায়ীদের ন্যায় স্থায়ীত্ব, আর কখনো মৃত্যু হবে না। আর এতে করে মুমিনদের নি‘আমাত বেড়ে যাবে আর কাফিরদের আযাবের যন্ত্রনাও বৃদ্ধি পাবে। তারপরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পাঠ করলেন: {وَأَنْذِرْهُمْ يَوْمَ الْحَسْرَةِ إِذْ قُضِيَ الأَمْرُ وَهُمْ فِي غَفْلَةٍ وَهُمْ لا يُؤْمِنُونَ} যার অর্থ: “আর তাদেরকে পরিতাপ দিবসের ব্যাপারে সতর্ক কর, যখন ফয়সালা হয়ে যাবে অথচ তারা গাফিলতির মধ্যে থাকবে। আর তারা ঈমানও আনবে না।” সুতরাং কিয়ামাতের দিনে জান্নাতী ও জাহান্নামীদের মধ্যে পার্থক্য করা হবে, আর প্রত্যেকে যেখানে সে স্থায়ীভাবে থাকবে, সেখানে প্রবেশ করবে। আর তাই সেদিন খারাপ লোকের জন্য অনুতাপ ও পরিতাপের বিষয় হবে যে, সে ভালো কাজ করেনি। আর অল্প আমলকারীর পরিতাপ হবে যে, তার ভালো কাজের পরিমাণ বেশী হয়নি।
আবূ হুরাইরাহ রদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: আহলুল কিতাব হিব্রু ভাষাতে তাওরাত পাঠ করত, মুসলিমদের জন্য তারা তা আরবী ভাষাতে ব্যাখ্যা করত। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “তোমরা আহলুল কিতবাদের বিশ্বাস করবে না আবার অস্বীকারও করবে না। বরং তোমরা বলবে: آمَنَّا بِاللهِ وَمَا أُنْزِلَ إِلَيْنَا যার অর্থ: আমরা আল্লাহর উপরে এবং আমাদের প্রতি যা নাযিল করা হয়েছে তার উপরে ঈমান এনেছি। [সূরা আল-বাকারাহ: ১৩৬]।”
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার উম্মাতকে আহলে কিতাবগণ তাদের কিতাবসমূহ থেকে যা বর্ণনা করে, তা দ্বারা ধোকায় নিমজ্জিত হওয়া থেকে সতর্ক করেছেন। ইহুদীরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে হিব্রু ভাষাতে তাওরাত পাঠ করত; যা ছিল ইহুদীদের ভাষা। আর তারা তাওরাতকে আরবী ভাষায় ব্যাখ্যা করত। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তোমরা আহলে কিতাবদের বিশ্বাস বা অবিশ্বাস কোনটাই করবে না। এটা এমন বিষয়ে যার সত্য বা মিথ্যা হওয়া অজানা। কারণ, আল্লাহ তা‘আলা কুরআনের যে অংশ আমাদের কাছে ও কিতাবের যে অংশ তাদের ওপর নাযিল করা হয়েছে, সেগুলোর প্রতি ঈমান আনার আদেশ করেছেন। তবে সেগুলো ব্যতীত, তারা তাদের ঐ সমস্ত কিতাবসমূহ থেকে যা বর্ণনা করে থাকে, সেগুলোর বিশুদ্ধ বর্ণনাকে অশুদ্ধ বর্ণনা থেকে আলাদা করার কোন পন্থা আমাদের কাছে নেই, যদি না আমাদের শারী‘আতে এমন কিছু থাকে, যা এর মিথ্যা থেকে সত্যকে স্পষ্ট করে দেয়। তাই আমাদের উচিৎ এ ব্যাপারে চুপ থাকা, সুতরাং আমরা তাদেরকে সত্যায়ন করব না; যাতে তারা কিতাব থেকে যা বিকৃত করে ফেলেছে আমরা সেক্ষেত্রে তাদের সহযোগী না হয়ে যাই। আবার তাদেরকে মিথ্যাবাদীও বলব না; কারণ হতে পারে বিষয়টি সঠিক, আর তাতে আমরা যেন এমন বিষয়কে অস্বীকারকারী না হয়ে যাই, যে ব্যাপারে আমাদেরকে ঈমান আনার আদেশ দেওয়া হয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে এ কথা বলার আদেশ করেছেন: آمنا بالله وما أنزل إلينا وما أنزل إلى إبراهيم وإسماعيل وإسحاق ويعقوب والأسباط وما أوتي موسى وعيسى وما أوتي النبيون من ربهم لا نفرق بين أحد منهم ونحن له مسلمون যার অর্থ: “আমরা ঈমান এনেছি আল্লাহ্র প্রতি, যা আমাদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে, এবং যা ইবরাহীম, ইসমা’ঈল, ইসহাক, ইয়া’কূব ও তার বংশধরদের প্রতি যা নাযিল করা হয়েছে, এবং যা মূসা, ঈসা ও অন্যান্য নবীগণকে তাদের রব-এর নিকট হতে দেওয়া হয়েছে তার প্রতি। আমরা তাদের মধ্যে কোন তারতম্য করি না। আর আমরা তাঁরই কাছে আত্মসমর্পণকারী।” [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ১৩৬]
ইবনু ‘আব্বাস রদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ বিসমিল্লাহ.. নাযিল হওয়া ছাড়া নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উভয় সূরার পার্থক্য বুঝতেন না।
এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন।ইবনু ‘আব্বাস রদিয়াল্লাহু আনহুমা বর্ণনা করেছেন, কুরআনে কারীমের সূরাসমূহ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপরে নাযিল হত, তখন তিনি তার সমাপ্তি এবং আলাদা হওয়া সম্পর্কে জানতে পারতেন না, যতক্ষন না بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ নাযিল হত। এটা নাযিল হলে তিনি বুঝতেন, আগের সূরাটি সমাপ্ত হয়েছে আর নতুন সূরা শুরু হয়েছে।
আব্দুল্লাহ ইবনু ‘আমর ইবনুল ‘আস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “কুরআনের ধারককে বলা হবে: তুমি পাঠ কর এবং উপরে উঠতে থাক। তারতীল সহকারে সুন্দর করে পাঠ করবে যেভাবে তুমি দুনিয়াতে তারতীল সহকারে সুন্দর করে পাঠ করতে। নিশ্চয় তোমার সর্বশেষ পাঠকৃত আয়াতের স্থানেই তোমার আবাসস্থল।”
এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন।নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দিয়েছেন, কুরআনের মধ্যে যা আছে সেগুলোর উপরে আমলকারী ক্বারী বা পাঠকারী, যিনি কুরআনকে তেলাওয়াত করা ও হিফয করার সাথে লেগে থাকে,তাকে জান্নাতে প্রবেশের পরে বলা হবে: তুমি কুরআন পাঠ কর। আর এর মাধ্যমে তুমি জান্নাতে তোমার উচ্চ মর্যাদাসমূহে আসীন হতে থাক। তুমি দুনিয়াতে তারতীল সহকারে ধীরে সুস্থে ও প্রশান্তচিত্তে যেভাবে তেলাওয়াত করতে, ঠিক সেভাবেই এখানেও তারতীল সহকারে তেলাওয়াত করতে থাক। তোমার পঠিত শেষ আয়াতেই তোমার মর্যাদাগত আবাসন নির্ধারিত হবে।
আবু আব্দুর রহমান আস-সুলামী রহিমাহুল্লাহ হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহবীদের মধ্য হতে আমাদেরকে কুরআন পড়াতেন, এমন একজন আমাদেরকে হাদীস বর্ণনা করেছেন, তারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে দশটি করে আয়াত পাঠ করতেন, তারপরে তারা পরবর্তী দশটি আয়াত আর গ্রহণ করতেন না, যতক্ষণ না এ আয়াতগুলোর মধ্যে থাকা ইলম ও আমল সম্পর্কে তারা জানতে পারতেন। তারা বলতেন: এভাবেই আমরা ইলম ও আমল (একত্রে) শিক্ষা করতাম।
এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।সাহাবীগণ রদিয়াল্লাহু ‘আনহুম রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কুরআন গ্রহণ করতেন দশ আয়াত পরিমাণ করে। এরপরে তারা আর দশটি আয়াত শিক্ষা করতেন না, যতক্ষণ না তারা উক্ত দশটি আয়াতের ইলম হাসিল করে তার উপরে আমল না করতেন। আর তাই তারা ইলম ও আমল একই সাথে শিখে ফেলতেন।
উবাই ইবনু কা‘ব রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “হে আবুল মুনযির! তুমি কি জান, তোমার সাথে থাকা আল্লাহর কিতাবের কোন আয়াতটি সবচেয়ে বেশী গুরুত্বপূর্ণ? আবুল মুনযির বলেন: জবাবে আমি বললাম: এ বিষয়ে আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূলই সর্বাধিক অবগত। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আবার বললেন: “হে আবুল মুনযির! তুমি কি জান, তোমার সাথে থাকা আল্লাহর কিতাবের কোন আয়াতটি সবচেয়ে বেশী গুরুত্বপূর্ণ? তখন আমি বললাম: اللَّهُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ الْحَىُّ الْقَيُّومُ [আল-বাকারা:২৫৫]। এ কথা শুনে তিনি আমার বুকের উপর হাত মেরে বললেন: হে আবুল মুনযির! তোমার ইলমকে স্বাগত।”
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম উবাই ইবনু কা‘বকে আল্লাহর কিতাব তথা কুরআনের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে, তিনি প্রশ্নের উত্তর দিতে ইতস্তত বোধ করেন। তারপরে তিনি বললেন: সেটি হচ্ছে: আয়াতুল কুরসী: {الله لا إله إلا هو الحي القيوم}। তখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে সমর্থন জানালেন এবং তার বুকে মৃদু আঘাত করলেন, যা তার হিকমত ও ইলমের পূর্ণতার প্রতি ইশারা করে। এবং তার জন্য এ মর্মে দু‘আ করলেন যেন তার এই ইলম দ্বারা সে সৌভাগ্যবান হয় আর তার জন্য এটি সহজ হয়ে যায়।