





























Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
All
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন লোককে সৈন্যদলের আমীর বানিয়ে পাঠান। সে সাথীদের নিয়ে পড়ত, তবে সূরা ইখলাস দ্বারা কিরাত শেষ করতেন। তারা যখন যুদ্ধ থেকে ফিরে আসেন বিষয়টি রাসূলুল্লাহর নিকট আলোচনা করলে তিনি বলেন, তোমরা তাকে জিজ্ঞাসা করো কেন সে এমন করল? তারা তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি উত্তর দেন, কারণ, এ সূরাটিতে রয়েছে রহমানের গুণাগান। আর আমি তাই এটা পড়তে পছন্দ করি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাকে তোমরা জানিয়ে দাও যে, আল্লাহ তা‘আলা তাকে ভালোবাসেন”।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন সাহাবীকে সৈন্যদের পরিচালনা করা ও তাদের মধ্যে ফায়সালা করার জন্য আমীর বানালেন, যাতে কোন বিশৃংখলা দেখা না দেয়। তাদের মধে যে দীন, ইলম ও পরিচালনায় দক্ষ হতেন তাকেই তিনি নিযুক্ত করতেন। ফলে যিনি আমীর হতেন তিনিই সালাতের ইমাম হতেন এবং ইলম ও দীন বিষয়ে ফতওয়া দানকারী হতেন। তিনি প্রত্যেক সালাতের দ্বিতীয় রাকা‘আতে আল্লাহ এবং তার নামসমূহ ও সিফাতসমূহের মহব্বতে শুধু কুল হুয়াল্লাহু আহাদ পড়তেন। আর যে ব্যক্তি যাকে মহব্বত করে সে তার আলোচনা বেশি করে। তারপর যখন তারা তাদের যুদ্ধ থেকে রাসুল্লাহর কাছে ফিরে আসেন, তখন তারা বিষয়টি রাসূলুল্লাহর নিকট আলোচনা করলে তিনি বলেন, তোমরা তাকে জিজ্ঞাসা করো কেন সে এমন করল? এটি কি আকস্মিকভাবে করছে না কোন কারণে করেছে? তারা তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি উত্তর দেন, আমি এটি করেছি কারণ, সূরাটি রহমানে গুণাগানকে সামিল করে। তাই আমি তাকে বার বার বলতে পছন্দ করি। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাকে তোমরা জানিয়ে দাও যে, সে যেভাবে সূরাটিকে ভালোবেসে বারবার পড়েছে, কারণ এতে রয়েছে আল্লাহর মহান সিফাতসমূহ যা প্রকাশ করে তাতে উল্লিখিত নামসমূহ, আল্লাহ তা‘আলা অবশ্যই তাকে ভালোবাসেন। হায়! এ সূরার কতইনা ফযীলত।
বারা’ ইবনে আযেব রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা একটি লোক সূরা কাহাফ পাঠ করছিল। তার পাশেই দুটো রশি দিয়ে একটি ঘোড়া বাঁধা ছিল। ইতোমধ্যে লোকটিকে একটি মেঘে ঢেকে নিলো। মেঘটি লোকটির নিকটবর্তী হতে থাকলে ঘোড়াটি তা দেখে চমকাতে আরম্ভ করল। অতঃপর যখন সকাল হল তখন লোকটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দরবারে হাজির হয়ে উক্ত ঘটনা বর্ণনা করল। তা [শুনে] তিনি বললেন, “ওটি প্রশান্তি ছিল, যা তোমার কুরআন পড়ার দরুন অবতীর্ণ হয়েছে।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।বারা’ ইবনে আযেব রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসূলের যামানায় সংঘটিত একটি আশ্চর্য ঘটনা বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, একদা একটি লোক সূরা কাহাফ পাঠ করছিল। তার পাশেই রশি দিয়ে একটি ঘোড়া বাঁধা ছিল। ইতোমধ্যে লোকটিকে ছাতার মতো একটি মেঘ ঢেকে নিলো। মেঘটি তার নিকটবর্তী হতে থাকলে ঘোড়াটি তা দেখে চমকাতে আরম্ভ করল এবং লাফালাফি করতে লাগল। অতঃপর যখন সকাল হল তখন লোকটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দরবারে হাজির হয়ে উক্ত ঘটনা বর্ণনা করল। তা [শুনে] নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন,“এ প্রশান্তিটি কুরআন পড়ার সময় যে সাহাবী কুরআন পড়ছিল তার সম্মানে এবং আল্লাহর কালাম যে সত্য তার সাক্ষ্য হিসেবে অবতীর্ণ হয়েছে।” লোকটি হলো উসাইদ ইবনে হুযাইর রাদিয়াল্লাহু আনহু।
আবূ মূসা আশ‘আরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমাকে দাউদের সুললিত কণ্ঠের মত মধুর কণ্ঠ দান করা হয়েছে।” মুসলিমের এক বর্ণনায় আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেন, “যদি তুমি আমাকে গত রাতে তোমার তেলাওয়াত শোনা অবস্থায় দেখতে [তাহলে তুমি কতই না খুশি হতে]!”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।আবূ মূসা আশ‘আরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তারতীল সহ সু ললিত কন্ঠে তার তিলাওয়াত শোনেন তখন তিনি বলেন, “তোমাকে দাউদের সুললিত কণ্ঠের মত মধুর কণ্ঠ দান করা হয়েছে।” দাউদ আলাইহিস সালাম ছিলেন, সুন্দর উঁচা আওয়াজ সু ললিত কন্ঠের অধিকারী। এমনকি আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, ‘হে পর্বতমালা, তোমরা তার সাথে আমার পবিত্রতা ঘোষণা কর’ এবং পাখিদেরকেও (এ আদেশ দিয়েছিলাম)। আর আমি তার জন্য লোহাকেও নরম করে দিয়েছিলাম।[সূরা সাবা, আয়াত: ১০] অমুকের বংশধর বলে অনেক সময় শুধু তাকে উদ্দেশ্য করা হয়। কারণ, এখানে দাউদ আলাইহি সালামকে যেমন সুন্দর কন্ঠ দেওয়া হয়েছে, তাদের থেকে আর কাউকে এ ধরনের সুন্দর কন্ঠ দেওয়া হয়নি।
নাওআস ইবন সাম‘আন রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, “কিয়ামতের দিন কুরআন ও কুরআনের ধারকদ- যারা তার ওপর দুনিয়াতে আমল করত. তাদের উপস্থিত করা হবে। সূরা আল-বাকারা ও সূরা আলে-ইমরান তার আগে আগে থাকবে, তারা তাদের তিলাওয়াতকারীদের জন্যে সুপারিশ করবে।”
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।নাওআস ইবন সাম‘আন রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে,নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “কিয়ামতের দিন কুরআন ও কুরআনের ধারকদেরকে উপস্থিত করা হবে— যারা দুনিয়াতে কুরআন অনুযায়ী আমল করত। সূরা আল-বাকারা ও সূরা আলে-ইমরান তার আগে আগে থাকবে, তারা তাদের তিলাওয়াতকারীদের জন্যে সুপারিশ করবে।” তবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ হাদীসে কুরআন তিলাওয়াতকে আমলের সাথে শর্তযুক্ত করে দিয়েছেন। কেননা যারা কুরআন তিলাওয়াত করে তারা দু’ধরণের। এক প্রকার যারা তিলাওয়াত অনুযায়ী আমল করে না। তারা কুরআনে বর্ণিত সংবাদসমূহের প্রতি আদৌই ঈমান আনে নি, এবং তারা কুরআনের বিধান অনুযায়ী আমল করে নি। কুরআন উল্টো তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষী দিবে। আর আরেক প্রকার লোক আছে যারা কুরআনে বর্ণিত সংবাদসমূহের প্রতি ঈমান এনেছে, সেগুলোর প্রতি বিশ্বাস করেছে এবং এর বিধান অনুযায়ী আমল করে। তাদের জন্যই কুরআন কিয়ামতের দিন সুপারিশকারী হবে।একথা দ্বারা স্পষ্ট হলো যে, কুরআনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সে অনুযায়ী আমল করা। আল্লাহ তা‘আলার নিম্নোক্ত বাণী এ কথা সমর্থন করে, “আমি আপনার প্রতি নাযিল করেছি এক বরকতময় কিতাব, যাতে তারা এর আয়াতসমূহ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করে এবং যাতে বুদ্ধিমানগণ উপদেশ গ্রহণ করে।” [সূরা সোয়াদ, আয়াত: ২৯] আল্লাহর বাণী, “যাতে তারা এর আয়াতসমূহ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করে” অর্থাৎ যাতে তারা এর অর্থ গভীরভাবে অনুধাবন করে ও বুঝে। “এবং যাতে বুদ্ধিমানগণ উপদেশ গ্রহণ করে” অর্থাৎ যাতে তারা কুরআন অনুযায়ী আমল করে। আমলকে গভীরভাবে চিন্তা করার পরে আনা হয়েছে; কেননা কোনো কিছু করার আগে গভীরভাবে বুঝা ব্যতীত আমল করা অসম্ভব। আর ইলমের দ্বারা তাদাব্বুর তথা গভীর চিন্তা-ভাবনা অর্জিত হয়। আর আমল হলো ইলমের শাখা। মূলকথা হলো, কুরআন নাযিলের উদ্দেশ্য হলো তা তিলাওয়াত করা, সে অনুযায়ী আমল করা, এর আনিত সংবাদসমূহের ওপর বিশ্বাসস্থাপন করা, এর বিধান অনুযায়ী আমল করা, এর আদেশসমূহ মান্য করা এবং নিষেধাজ্ঞাসমূহ থেকে বিরত থাকা। তাহলে কিয়ামতের দিন কুরআন তার তিলাওয়াতকারীর জন্য সুপারিশ করবে। দেখুন, শরহি রিয়াদুস সালিহীন, (4/637-638)
আব্দুল্লাহ ইবন আবূ বকর ইবন হাযাম থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমর ইবন হাযামকে যে চিঠি লিখেছেন তাতে রয়েছে যে, “পবিত্র ব্যক্তি ছাড়া কেউ কুরআনকে স্পর্শ করবে না।”
এটি মালেক বর্ণনা করেছেন।হাদীসটির অর্থ: “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমর ইবন হাযামকে যে চিঠি লিখেছেন তাতে রয়েছে” অর্থাৎ আমর ইবন হাযাম যখন নাজরানের বিচারপতি ছিলেন, তখন তার কাছে একটি দীর্ঘ চিঠি লিখেন, যাতে শরী‘আতের অনেক বিধান যেমন, ফারায়েয, সাদাকাত, দিয়াত ইত্যাদি। এটি একটি প্রসিদ্ধ চিঠি যা উম্মত গ্রহণ করেছেন। তাতে রয়েছে: “পবিত্র ব্যক্তি ছাড়া কেউ কুরআনকে স্পর্শ করবে না” স্পর্শ করা দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে কোনো প্রকার আড়াল ছাড়া ধরা। এর ওপর ভিত্তি করে বলা যায়, কাপড়ের উপর ধরার বিষয়টি আলাদা। যেমন, যদি কোনো ব্যক্তি কোনো ব্যাগ বা থলে বহন করল অথবা তার পৃষ্ঠাগুলো কোনো লাকড়ি বা লাকড়ি জাতীয় বস্তু দ্বারা উল্টালো প্রভৃতি এ নিষেধের অন্তর্ভুক্ত হবে না। কারণ, স্পর্শ করা পাওয়া যায় নি। এখানে কুরআন দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, যাতে কুরআন লিপিবদ্ধ করা হয়। যেমন, তখতি, কাগজ, চামড়া ইত্যাদি। এখানে কুরআন দ্বারা উদ্দেশ্য আল্লাহর বাণী নয়। কারণ, বাণী শোনা যায় স্পর্শ করা যায় না। إلا طَاهر শব্দটির চারটি অর্থ এখানে প্রয়োগ করা যেতে পারে। এক. এখানে পবিত্র দ্বারা উদ্দেশ্য মুসলিম। যেমন, আল্লাহ বলেন, “নিশ্চয় মুশরিকরা অপবিত্র।” দুই. নাপাকী থেকে পবিত্র উদ্দেশ্য। যেমন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিড়াল সম্পর্কে বলেছেন, “অবশ্যই তা অপবিত্র নয়।” তিন. বড় নাপাকী থেকে পবিত্রতা। চার. পবিত্রতা দ্বারা উদ্দেশ্য ওযু অবস্থায় থাকা। শরী‘আতে স্বীকৃত এসব তাহারাত এ হাদীসটির অর্থে প্রয়োগ করার সম্ভাবনা ও অবকাশ রয়েছে। আমাদের নিকট এক অর্থকে অপর অর্থের ওপর প্রাধান্য দেওয়ার কোনো প্রমাণ নেই। তবে উত্তম হলো তাকে সর্বনিম্ন অর্থে প্রয়োগ করা। আর তা হলো ছোট নাপাকী। কারণ, এটি নিশ্চিত। আর এটিই অধিকাংশ মতের অনুরূপ। তাদের মধ্যে রয়েছেন চার ইমাম এবং তাদের অনুসারীগণ। এটিই সতর্কতা ও উত্তম।
উমার ইবন খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা এই কিতাব দ্বারা কতক লোককে উচ্চ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেন এবং কতককে অবনমিত করেন।”
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।উমার ইবন খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা এই কিতাব দ্বারা কতক লোককে উচ্চ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেন এবং কতককে অবনমিত করেন।” অর্থাৎ লোকেরা এ কুরআন গ্রহণ করেন, তা তিলাওয়াত করেন ও অনুধাবন করেন। তাদের মধ্য থেকে কিছু সংখ্যক লোককে আল্লাহ তা‘আলা দুনিয়া ও আখিরাতে উচ্চ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেন। আবার কিছু সংখ্যক লোককে তিনি দুনিয়া ও আখিরাতে অবনমিত ও অপদস্ত করেন। যারা এ কুরআনের ওপর বিশ্বাস করে সে অনুযায়ী আমল করবে, এর আদেশ মান্য করবে, নিষেধাজ্ঞা থেকে বিরত থাকবে, এর পথনির্দেশনা অনুযায়ী চলবে, কুরআনের আখলাক অনুযায়ী নিজের আখলাক তথা চরিত্র গঠন করবে (কুরআনের সব আখলাকই উত্তম আখলাক) আল্লাহ তাদেরকে দুনিয়া ও আখিরাতে উচ্চ মর্যাদাবান করবেন। কেননা এ কুরআন হলো জ্ঞান-বিজ্ঞানের মূল, সমস্ত জ্ঞান ও মর্যাদার মূল উৎস। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদেরকে জ্ঞান দান করা হয়েছে আল্লাহ তাদেরকে মর্যাদায় সমুন্নত করবেন।” [সূরা আল-মুজাদালাহ, আয়াত: ১১] আর আখিরাতে আল্লাহ জান্নাতের চির সুখ-শান্তি দান করে তাদের মর্যাদা উচ্চ করবেন। আর এ কুরআন দ্বারা আল্লাহ যাদেরকে অবনমিত করবেন তারা হলেন যারা এ কুরআন তিলাওয়াত করেছে, সুন্দরভাবে অর্থসহ বুঝেছে; কিন্তু তারা অহংকার করেছে (আল্লাহর কাছে আমরা আশ্রয় চাচ্ছি), তারা কুরআনের সংবাদসমূহের প্রতি বিশ্বাস করে নি, এর বিধান অনুযায়ী আমল করে নি, আমলের ক্ষেত্রে তারা অহংকার করেছে, কুরআন আনিত ঘটনাসমূহ যেমন পূর্ববর্তী নবীদের ঘটনা বা অন্যদের ঘটনা, অথবা কিয়ামত দিবস বা এ রূপ অন্যান্য বিষয়ের প্রতি ঈমান না এনে সন্দেহ পোষণ করেছে ও অস্বীকার করেছে। কখনো তাদের এ অবস্থা এমন পর্যায়ে নিয়ে গেছে যে তারা কুরআন পাঠ করা সত্ত্বেও তা অস্বীকার করেছে, এর বিধানসমূহ অহংকারবশত অস্বীকার করেছে, এর আদেশ অনুযায়ী আমল করেনি এবং নিষেধাজ্ঞা থেকে বিরত থাকেনি। এসব লোকদেরকে আল্লাহ দুনিয়া ও আখিরাতে অপদস্ত ও অবনমিত করবেন। দেখুন, শরহে রিয়াদুস সালেহীন, (৪/৬৪৫-৬৪৭)
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যখন তোমরা আলহামদু লিল্লাহ পড়ো, তখন তোমরা বিছমিল্লাহির রাহমানির রাহিম পড়। এটি কুরআনের মা, কিতাবের মা এবং সাতটি প্রশংসনীয় আয়াত। আর বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম তার একটি”।
এটি বাইহাকী বর্ণনা করেছেন।সালাতে সূরা ফাতিহার পূর্বে বিসমিল্লাহ পড়ার প্রচলন থাকার বিষয়টি হাদীসটি স্পষ্ট করে। কারণ, এটি সূরা ফাতিহারই একটি অংশ। পড়া দ্বারা উদ্দেশ্য আস্তে পড়া বড় আওয়াযে নয়। অসংখ্য ও বিশুদ্ধ হাদীসে জোরে না পড়ার কথা এসেছে। আর তাহাবী বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তার পরবর্তী খুলাফায়ে রাশেদীন থেকে বিসমিল্লাহ উচ্চ আওয়াজে না পড়ার বিষয়টি মুতাওয়াতির বর্ণনা দ্বারা প্রমাণিত।
ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন যে, উমার আমাকে বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী শাইখদের সঙ্গে (তার সভায়) প্রবেশ করাতেন। তাদের মধ্যে কিছু লোক যেন মনে মনে ক্ষুব্ধ হলেন। অতএব, বললেন, ‘এ আমাদের সঙ্গে কেন প্রবেশ করছে? এর মত (সমবয়স্ক) ছেলে তো আমাদেরও আছে।’ (এ কথা শুনে) উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বললেন, ‘এ কে, তা তোমরা জান।’ সুতরাং তিনি একদিন আমাকে ডাকলেন এবং আমাকে তাঁদের সঙ্গে (সভায়) প্রবেশ করালেন। আমার ধারণা ছিল যে, এদিন আমাকে ডাকার উদ্দেশ্য হলো, তাদেরকে আমার মর্যাদা দেখানো। তিনি (পরীক্ষাস্বরূপ সভার লোককে) বললেন, ‘তোমরা আল্লাহর এই কথা: “যখন আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় উপস্থিত হবে।” [সূরা আন-নাসর, আয়াত: ১] এর ব্যাখ্যার ব্যাপারে কী বল?’ কিছু লোক বললেন, ‘আমাদেরকে এতে আদেশ দেওয়া হয়েছে যে, যখন আল্লাহ আমাদেরকে সাহায্য ও বিজয় দান করবেন, তখন যেন আমরা তাঁর প্রশংসা করি ও তাঁর কাছে ক্ষমা চাই।’ আর কিছু লোক নিরুত্তর থাকলেন এবং কিছুই বললেন না। (ইবন আব্বাস বলেন,) অতঃপর তিনি আমাকে বললেন, ‘হে ইবনে আব্বাস! তুমিও কি এ কথাই বল?’ আমি বললাম, ‘না।’ তিনি বললেন, ‘তাহলে তুমি (এর ব্যাখ্যা) কী বল?’ আমি বললাম, ‘তা হলো আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত্যু সংবাদ, যা আল্লাহ তাঁকে জানিয়েছেন।’ তিনি বলেন, “যখন আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় সমাগত হবে।” আর সেটা হলো তোমার মৃত্যুর পূর্বলক্ষণ। “তখন তুমি তোমার রবের প্রশংসা দ্বারা তাঁর পবিত্রতা বর্ণনা কর ও তাঁর কাছে স্বীয় ত্রুটির জন্য ক্ষমা চাও। নিশ্চয় তিনি তওবা গ্রহণকারী।” [সূরা আন-নাসর, আয়াত: ৩] অতঃপর উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বললেন, এর অর্থ আমি তাই জানি, যা তুমি বললে।
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর অভ্যাস ছিল, তিনি কোন জটিল বিষয়ে বুদ্ধিমান লোকদের থেকে পরামর্শ নিতেন। আর তিনি তার সভা কক্ষে বদরী ও বড় বড় সাহাবীদের সাথে আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাসকেও প্রবেশ করাতেন। অথচ তিনি ছিলেন তাদের তুলনায় বয়সে ছোট। ফলে তারা ক্ষুব্ধ হলো এবং তারা বলাবলি করতে লাগলো কীভাবে ইবন আব্বাসকে প্রবেশ করান। অথচ তাদের সন্তানদের প্রবেশ করান না। তাই উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু মেধা, ইলম ও দূরদর্শি হিসেবে আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহর অবস্থান তাদের সামনে তুলে ধরতে চাইলেন। তিনি তাদের সবাইকে এবং তাকে একত্র করলেন। আর তাদের সামনে এ সূরা: “যখন আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় সমাগত হবে এবং আপনি মানুষকে দলে দলে আল্লাহর দীনে প্রবেশ করতে দেখবেন,তখন আপনি আপনার রবের পবিত্রতা বর্ণনা করুন এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাকারী।” [সূরা আন-নাসর] পেশ করলেন। যখন তাদেরকে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন যে, তোমরা এ সূরা সম্পর্কে কী বল? তখন তারা দু’ভাগে বিভক্ত হলো, একদল চুপ থাকল। আর অপর দল বলল, ‘আমাদেরকে এতে আদেশ দেওয়া হয়েছে যে, যখন আল্লাহ আমাদেরকে সাহায্য ও বিজয় দান করবেন, তখন যেন আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাসবীহ পাঠ করি ও তাঁর কাছে ক্ষমা চাই। কিন্তু উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু সূরার উদ্দেশ্য সম্পকে জানতে চেয়েছেন। তিনি শাব্দিক অর্থ ও বাক্যগুলোর অর্থ জানতে চান নি। অতঃপর তিনি আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাসকে বললেন, ‘তুমি এ সূরা সম্পর্কে কী বল? তিনি বললেন, ‘তা হলো আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত্যু সংবাদ। অর্থাৎ তার মৃত্যু উপস্থিত হওয়ার আলামত। এটি আল্লাহ তা‘আলা তাকে নির্দশন হিসেবে দান করেছেন। “যখন আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় সমাগত হবে।” অর্থাৎ মক্কা বিজয়। আর সেটা হলো তোমার মৃত্যুর পূর্বলক্ষণ। “তখন তুমি তোমার রবের প্রশংসায় তাঁর পবিত্রতা বর্ণনা কর ও তাঁর কাছে স্বীয় ত্রুটির জন্য ক্ষমা চাও। নিশ্চয় তিনি তাওবা গ্রহণকারী।” [সূরা আন-নাসর, আয়াত: ৩] অতঃপর উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বললেন, এর অর্থ আমি তাই জানি, যা তুমি বললে। এ ঘটনা দ্বারা আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমার ফযীলত স্পষ্ট হলো।
আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মরফূ‘ হিসেবে বর্ণিত, নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত্যুর পূর্বে (পূর্বাপেক্ষা) বেশি অহী নিরবচ্ছিন্নভাবে অবতীর্ণ করেছেন।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।আল্লাহ তা‘আলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত্যুর পূর্বে অধিক পরিমাণ অহী অবতীর্ণ করেছেন শরী‘আত পরিপূর্ণ হওয়া পর্যন্ত। এমনকি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মারা গিয়েছেন তাঁর ওপর অধিক পরিমাণ অহী অবতীর্ণ হওয়ার সময়।