Hedayat “A fruitful harvest”
from the gardens of “ Verses and Hadiths ”
Inspiring Dawah cards that highlight the profound meanings of Quranic verses and Prophetic Hadiths. Presented in an accessible and engaging style to help Muslims gain a deeper understanding of their faith with ease.
About Hedayat
Hedayat is a platform that combines simplicity of design and ease of use
displaying the benefits derived from Verses and Hadiths in
attractive cards with unique designs.
Unique Designs
Cards with unique and attractive designs that express the content of the text
Reliable Materials
Scientifically reliable benefits reviewed by a group of scholars
Easy Browsing
You can browse the cards easily and display them effortlessly
Different Languages
Cards are available in more than 40 languages for the benefit of all
Hadith Cards
আবু সাঈদ আল-খুদরী রদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: “মৃত্যুকে সাদা-কালো মিশ্রিত একটি ভেড়ার আকৃতিতে উপস্থিত করা হবে। তারপরে একজন ঘোষক ডেকে বলবেন: হে জান্নাতের অধিবাসীগণ! তখন তারা ঘাড় উঁচু করে তাকাবে আর উক্ত ঘোষক বলবেন: তোমরা কী একে চিনতে পারছ? তারা বলবে: জ্বী, এটা হচ্ছে মৃত্যু। আর এটা প্রত্যেক ব্যক্তিই দেখতে পাবে। তারপরে ঘোষক আবার ডেকে বলবেন: হে জাহান্নোমের অধিবাসীগণ! তখন তারাও ঘাড় উঁচু করে তাকাবে। আর উক্ত ঘোষক বলবেন: তোমরা কী একে চিনতে পারছ? তারা বলবে: জ্বী, এটা হচ্ছে মৃত্যু। আর এটা তাদের প্রত্যেকেই দেখতে পাবে। তারপরে ভেড়াটিকে যবাই করা হবে আর উক্ত ঘোষক বলবেন: হে জান্নাতের অধিাবসীগণ, স্থায়ীত্ব, আর কোন মৃত্যু নেই। হে জাহান্নামের অধিবাসীগণ! স্থায়ীত্ব, আর কোন মৃত্যু নেই। এরপরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাঠ করলেন: وَأَنْذِرْهُمْ يَوْمَ الحَسْرَةِ إِذْ قُضِيَ الأَمْرُ وَهُمْ فِي غَفْلَةٍ যার অর্থ: “আর তাদেরকে পরিতাপ দিবসের ব্যাপারে সতর্ক কর, যখন ফয়সালা হয়ে যাবে অথচ তারা গাফিলতির মধ্যে থাকবে।” [মারইয়াম: ৩৯]। এবং এ সমস্ত লোকেরা দুনিয়াদার, যারা গাফিলতির মধ্যে থাকবে । {وَهُمْ لاَ يُؤْمِنُونَ} যার অর্থ: “আর তারা ঈমানও আনবে না।” [সূরা মারইয়াম, আয়াত: ৩৯]।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেছেন যে, কিয়ামাতের দিনে মৃত্যুকে নিয়ে আসা হবে পুরুষ ভেড়ার আকৃতিতে আর ভেড়াটি সাদা ও কালো রঙ মিশ্রিত হবে। তারপরে ডাকা হবে: হে জান্নাতীরা! তখন তারা তাদের ঘাড়গুলো বাড়িয়ে তাদের মাথাগুলো উঁচু করে তাকাবে। একজন ঘোষক তাদেরকে তখন জিজ্ঞাসা করবেন: তোমরা কী একে চিনতে পারছ? তারা বলবে: হ্যাঁ, এটা তো মৃত্যু। জান্নাতীদের প্রত্যেকেই এটি দেখবে এবং চিনতে পারবে। তারপরে ঘোষক ডেকে বলবেন: হে জাহান্নামীরা! তখন তারাও তাদের ঘাড়গুলো বাড়িয়ে তাদের মাথাগুলো উঁচু করে তাকাবে। তিনি জিজ্ঞাসা করবেন: তোমরা কী একে চিনতে পারছ? তারা বলবে: হ্যাঁ, এটা তো মৃত্যু। আর জাহান্নামীদের প্রত্যেকেই এটা দেখতে পাবে। তারপরে মৃত্যুকে যবাই করা হবে। তারপরে উক্ত ঘোষক বলবেন: হে জান্নাতীরা, স্থায়ীদের ন্যায় স্থায়ীত্ব, আর কখনো মৃত্যু হবে না।হে জাহান্নামীরা, স্থায়ীদের ন্যায় স্থায়ীত্ব, আর কখনো মৃত্যু হবে না। আর এতে করে মুমিনদের নি‘আমাত বেড়ে যাবে আর কাফিরদের আযাবের যন্ত্রনাও বৃদ্ধি পাবে। তারপরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পাঠ করলেন: {وَأَنْذِرْهُمْ يَوْمَ الْحَسْرَةِ إِذْ قُضِيَ الأَمْرُ وَهُمْ فِي غَفْلَةٍ وَهُمْ لا يُؤْمِنُونَ} যার অর্থ: “আর তাদেরকে পরিতাপ দিবসের ব্যাপারে সতর্ক কর, যখন ফয়সালা হয়ে যাবে অথচ তারা গাফিলতির মধ্যে থাকবে। আর তারা ঈমানও আনবে না।” সুতরাং কিয়ামাতের দিনে জান্নাতী ও জাহান্নামীদের মধ্যে পার্থক্য করা হবে, আর প্রত্যেকে যেখানে সে স্থায়ীভাবে থাকবে, সেখানে প্রবেশ করবে। আর তাই সেদিন খারাপ লোকের জন্য অনুতাপ ও পরিতাপের বিষয় হবে যে, সে ভালো কাজ করেনি। আর অল্প আমলকারীর পরিতাপ হবে যে, তার ভালো কাজের পরিমাণ বেশী হয়নি।
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন লোককে সৈন্যদলের আমীর বানিয়ে পাঠান। সে সাথীদের নিয়ে পড়ত, তবে সূরা ইখলাস দ্বারা কিরাত শেষ করতেন। তারা যখন যুদ্ধ থেকে ফিরে আসেন বিষয়টি রাসূলুল্লাহর নিকট আলোচনা করলে তিনি বলেন, তোমরা তাকে জিজ্ঞাসা করো কেন সে এমন করল? তারা তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি উত্তর দেন, কারণ, এ সূরাটিতে রয়েছে রহমানের গুণাগান। আর আমি তাই এটা পড়তে পছন্দ করি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাকে তোমরা জানিয়ে দাও যে, আল্লাহ তা‘আলা তাকে ভালোবাসেন”।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন সাহাবীকে সৈন্যদের পরিচালনা করা ও তাদের মধ্যে ফায়সালা করার জন্য আমীর বানালেন, যাতে কোন বিশৃংখলা দেখা না দেয়। তাদের মধে যে দীন, ইলম ও পরিচালনায় দক্ষ হতেন তাকেই তিনি নিযুক্ত করতেন। ফলে যিনি আমীর হতেন তিনিই সালাতের ইমাম হতেন এবং ইলম ও দীন বিষয়ে ফতওয়া দানকারী হতেন। তিনি প্রত্যেক সালাতের দ্বিতীয় রাকা‘আতে আল্লাহ এবং তার নামসমূহ ও সিফাতসমূহের মহব্বতে শুধু কুল হুয়াল্লাহু আহাদ পড়তেন। আর যে ব্যক্তি যাকে মহব্বত করে সে তার আলোচনা বেশি করে। তারপর যখন তারা তাদের যুদ্ধ থেকে রাসুল্লাহর কাছে ফিরে আসেন, তখন তারা বিষয়টি রাসূলুল্লাহর নিকট আলোচনা করলে তিনি বলেন, তোমরা তাকে জিজ্ঞাসা করো কেন সে এমন করল? এটি কি আকস্মিকভাবে করছে না কোন কারণে করেছে? তারা তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি উত্তর দেন, আমি এটি করেছি কারণ, সূরাটি রহমানে গুণাগানকে সামিল করে। তাই আমি তাকে বার বার বলতে পছন্দ করি। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাকে তোমরা জানিয়ে দাও যে, সে যেভাবে সূরাটিকে ভালোবেসে বারবার পড়েছে, কারণ এতে রয়েছে আল্লাহর মহান সিফাতসমূহ যা প্রকাশ করে তাতে উল্লিখিত নামসমূহ, আল্লাহ তা‘আলা অবশ্যই তাকে ভালোবাসেন। হায়! এ সূরার কতইনা ফযীলত।
আবূ হুরাইরা রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “কিয়ামাত কায়েম হবে না, যতক্ষণ না সূর্য তার অস্তাচল থেকে উদয় হবে, যখন তা উদয় হবে আর সকল মানুষ তা প্রত্যক্ষ করবে, তখন সবাই ঈমান আনবে, কিন্তু তখন হচ্ছে সেই সময়: لاَ يَنْفَعُ نَفْسًا إِيمَانُهَا لَمْ تَكُنْ آمَنَتْ مِنْ قَبْلُ، أَوْ كَسَبَتْ فِي إِيمَانِهَا خَيْرًا যার অর্থ: “সেদিন কোন ব্যক্তির ঈমান আনা কোন কাজে আসবে না, যে পূর্বে ঈমান আনেনি অথবা যে ব্যক্তি ঈমানের মধ্যে কোন কল্যাণ অর্জন করেনি।” [আল-আন‘আম: ১৫৮]। অবশ্যই কিয়ামাত এতটা দ্রুত এসে যাবে যে, দুজন ব্যক্তি তাদের বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে একে অপরের কাছে কাপড় মেলে ধরবে, কিন্তু তারা ক্রয়-বিক্রয় সম্পূর্ণ করতে পারবে না এমনকি তা ভাঁজও করতে পারবে না। অবশ্যই কিয়ামাত এত দ্রুত এসে পড়বে যে, এক ব্যক্তি তার উটনীর দুধ দোহন করে ফিরবে অথচ সে তা খেতে পারবে না। অবশ্যই কিয়ামাত এত দ্রুত এসে পড়বে যে, কোন ব্যক্তি তার পানির হাউয প্রস্তুত করবে কিন্তু সে সেখান থেকে পানি পান করতে পারবে না। অবশ্যই কিয়ামাত এত দ্রুত এসে পড়বে যে, তোমাদের একজন তার খাবারের লোকমা তার মুখের দিকে উঁচু করবে অথচ সে তা খেতে পারবে না।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দিচ্ছেন যে, কিয়ামাতের বড় নিদর্শন বা আলামতের মধ্যে অন্যতম একটি হচ্ছে: সূর্য তার উদয়াচলের পরিবর্তে অস্তাচল থেকে উদিত হবে। আর মানুষেরা যখনই তা দেখবে, তখন সবাই ঈমান আনবে। সে সময় কোন কাফির ঈমান আনলে তা কোন উপকারে আসবে না আর তখন কোন ভালোকাজ এবং তাওবাও কোন কাজে আসবে না। তারপরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো সংবাদ দিয়েছেন যে, কিয়ামাত ক্ষিপ্র গতিতে এসে পড়বে, এমনকি মানুষ তাদের জীবন-যাপনের বিভিন্ন বিষয়াদিতে ব্যস্ত থাকা অবস্থাতেই কিয়ামাত কায়েম হয়ে যাবে। সুতরাং কিয়ামাত এমন সময়ে কায়েম হবে যখন ক্রেতা-বিক্রেতা তাদের মধ্যে কাপড় ছড়াবে কিন্তু ক্রয়-বিক্রয় শেষও করতে পারবে না আবার তা ভাঁজ করতেও পারবে না। এমন সময়ে কিয়ামাত কায়েম হবে যখন কোন এক ব্যক্তি তার উটনী থেকে দুধ দোহন করবে, তবে তা সে পান করতে পারবে না। কিয়ামাত এমন সময়ে কায়েম হবে যখন কোন এক ব্যক্তি তার পানির হাউয ব্যবহার উপযোগী করবে, তবে সে সেখান থেকে পানি পান করতে পারবে না। আবার কিয়ামাত এমন সময়ে কায়েম হবে, যখন কোন ব্যক্তি তার খাবারের লোকমা তার মুখের কাছে নেবে, তবে সে খেতে পারবে না।
নাওআস ইবন সাম‘আন রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, “কিয়ামতের দিন কুরআন ও কুরআনের ধারকদ- যারা তার ওপর দুনিয়াতে আমল করত. তাদের উপস্থিত করা হবে। সূরা আল-বাকারা ও সূরা আলে-ইমরান তার আগে আগে থাকবে, তারা তাদের তিলাওয়াতকারীদের জন্যে সুপারিশ করবে।”
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।নাওআস ইবন সাম‘আন রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে,নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “কিয়ামতের দিন কুরআন ও কুরআনের ধারকদেরকে উপস্থিত করা হবে— যারা দুনিয়াতে কুরআন অনুযায়ী আমল করত। সূরা আল-বাকারা ও সূরা আলে-ইমরান তার আগে আগে থাকবে, তারা তাদের তিলাওয়াতকারীদের জন্যে সুপারিশ করবে।” তবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ হাদীসে কুরআন তিলাওয়াতকে আমলের সাথে শর্তযুক্ত করে দিয়েছেন। কেননা যারা কুরআন তিলাওয়াত করে তারা দু’ধরণের। এক প্রকার যারা তিলাওয়াত অনুযায়ী আমল করে না। তারা কুরআনে বর্ণিত সংবাদসমূহের প্রতি আদৌই ঈমান আনে নি, এবং তারা কুরআনের বিধান অনুযায়ী আমল করে নি। কুরআন উল্টো তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষী দিবে। আর আরেক প্রকার লোক আছে যারা কুরআনে বর্ণিত সংবাদসমূহের প্রতি ঈমান এনেছে, সেগুলোর প্রতি বিশ্বাস করেছে এবং এর বিধান অনুযায়ী আমল করে। তাদের জন্যই কুরআন কিয়ামতের দিন সুপারিশকারী হবে।একথা দ্বারা স্পষ্ট হলো যে, কুরআনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সে অনুযায়ী আমল করা। আল্লাহ তা‘আলার নিম্নোক্ত বাণী এ কথা সমর্থন করে, “আমি আপনার প্রতি নাযিল করেছি এক বরকতময় কিতাব, যাতে তারা এর আয়াতসমূহ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করে এবং যাতে বুদ্ধিমানগণ উপদেশ গ্রহণ করে।” [সূরা সোয়াদ, আয়াত: ২৯] আল্লাহর বাণী, “যাতে তারা এর আয়াতসমূহ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করে” অর্থাৎ যাতে তারা এর অর্থ গভীরভাবে অনুধাবন করে ও বুঝে। “এবং যাতে বুদ্ধিমানগণ উপদেশ গ্রহণ করে” অর্থাৎ যাতে তারা কুরআন অনুযায়ী আমল করে। আমলকে গভীরভাবে চিন্তা করার পরে আনা হয়েছে; কেননা কোনো কিছু করার আগে গভীরভাবে বুঝা ব্যতীত আমল করা অসম্ভব। আর ইলমের দ্বারা তাদাব্বুর তথা গভীর চিন্তা-ভাবনা অর্জিত হয়। আর আমল হলো ইলমের শাখা। মূলকথা হলো, কুরআন নাযিলের উদ্দেশ্য হলো তা তিলাওয়াত করা, সে অনুযায়ী আমল করা, এর আনিত সংবাদসমূহের ওপর বিশ্বাসস্থাপন করা, এর বিধান অনুযায়ী আমল করা, এর আদেশসমূহ মান্য করা এবং নিষেধাজ্ঞাসমূহ থেকে বিরত থাকা। তাহলে কিয়ামতের দিন কুরআন তার তিলাওয়াতকারীর জন্য সুপারিশ করবে। দেখুন, শরহি রিয়াদুস সালিহীন, (4/637-638)
আব্দুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাবের একটি হরফ পাঠ করবে তার জন্য এর এর কারণে একটি সাওয়াব আছে। আর সাওয়াবটি তার দশ গুণ বৃদ্ধি পায়। আমি বলি না যে, আলিফ-লাম-মীম একটি হরফ; বরং আলিফ একটি হরফ, লাম একটি হরফ এবং মীম একটি হরফ।”
এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন।নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ হাদীসে সংবাদ দিয়েছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাবের একটি হরফ পাঠ করবে তার জন্য রয়েছে একটি সাওয়াব এবং তার জন্য এর সাওয়াব দশ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। অতপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিষয়টি স্পষ্ট করেন, আমি বলি না, আলিফ-লাম-মীম একটি হরফ; বরং আলিফ একটি হরফ, লাম একটি হরফ এবং মীম একটি হরফ। সুতরাং এ তিনটি হরফে ত্রিশটি নেকি অর্জিত হবে।
ইবনে মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে মারফূ হিসেবে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘কেবল দু’জন ব্যক্তি ঈর্ষার পাত্র। সেই ব্যক্তি যাকে আল্লাহ ধন-সম্পদ দান করেছেন এবং তাকে তা সৎপথে ব্যয় করার শক্তিও দিয়েছেন। আর সেই লোক যাকে আল্লাহ জ্ঞান-বুদ্ধি দান করেছেন, যার বদৌলতে সে বিচার-ফায়সালা করে থাকে ও তা অপরকে শিক্ষা দেয়।’’ আব্দুল্লাহ ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুমা কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘দু’জনের ক্ষেত্রে ঈর্ষা করা সিদ্ধ। [১] যাকে আল্লাহ কুরআন [মুখস্থ করার শক্তি] দান করেছেন, সুতরাং সে ওর [আলোকে] দিবা-রাত্রি পড়ে ও আমল করে। [২] যাকে আল্লাহ তা'আলা ধন-সম্পদ দান করেছেন এবং সে [আল্লাহর পথে] দিন-রাত ব্যয় করে।’’
উভয় বর্ণনা মুত্তাফাকুন আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।এখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইঙ্গিত করেছেন যে, হিংসা বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। তার মধ্যে এক প্রকার হিংসা নিন্দনীয় এবং শরীয়তে নিষিদ্ধ। আর তা হচ্ছে, কোনো মানুষ তার ভাইয়ের নেয়ামতের ধ্বংস কামনা করা। আরেক প্রকার হিংসা হচ্ছে মুবাহ।অন্যের পার্থিব নেয়ামত দেখে নিজের জন্য অনুরূপ নেয়ামতের আশা করা প্রশংসীয় হিংসা। শরীয়তের দৃষ্টিতে এটি মুস্তাহাব। আর এটিই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর এ বাণী দ্বারা বুঝিয়েছেন, “একমাত্র দু’টি বিষয়েই হিংসা করা যায়।” অর্থাৎ হিংসার প্রকারের ভিন্নতা অনুযায়ী তার আহকামও বিভিন্ন ধরণের হয়ে থাকে। দু’টি ক্ষেত্র ব্যতীত শরীয়তে তা প্রশংসনীয় ও মুস্তাহাব হতে পারে না। প্রথমটি হলো, এমন ধনী ও তাকওয়াবান ব্যক্তি, যাকে আল্লাহ তাআলা হালাল সম্পদ দিয়েছেন। অতঃপর সে তা আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করে। সুতরাং তার মতো হওয়া এবং তাকে এই নেয়ামতের জন্য হিংসা করা বৈধ। দ্বিতীয়টি হলো, এমন আলেম যাকে আল্লাহ তাআলা উপকারী জ্ঞান দিয়েছেন। সে ইলম অনুযায়ী আমল করে, তা অন্যকে শিক্ষা দেয় এবং এর মাধ্যমে মানুষের মাঝে বিচার ফয়সালা করে। অনুরূপ ব্যক্তি হওয়ার আশা করা মুস্তাহাব।
‘আয়িশাহ রদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে বসে বলল: ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমার কয়েকটি গোলাম রয়েছে। তারা আমাকে মিথ্যা বলে, আমার খিয়ানত করে এবং আমার অবাধ্য। আমি এদেরকে গাল-মন্দ ও মারধর করি। সুতরাং তাদের ব্যাপারে আমি কেমন? তিনি বললেন: “তোমার সাথে তারা যে খিয়ানত করেছে, অবাধ্য হয়েছে এবং মিথ্যা বলেছে আর তুমি এ সবের জন্য তাদের যে শাস্তি দিয়েছ তা হিসাব করা হবে। যদি তোমার শাস্তি অপরাধের সমান হয় তবে তা যথেষ্ট। এতে তোমার লাভ বা ক্ষতি কোনটিই হবে না। আর শাস্তি যদি এদের অপরাধের চেয়ে কম হয়, তবে তা তোমার অতিরিক্ত মর্যাদা। আর তোমার শাস্তি যদি অপরাধের চেয়ে বেশি হয়, তবে অতিরিক্তটির পরিমাণে তাদের পক্ষে প্রতিশোধ গ্রহণ করা হবে।” রাবী বলেন: লোকটি একপাশে সরে গিয়ে সজোরে কাঁদতে লাগল। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “তুমি কি আল্লাহর কিতাব পাঠ কর না: ونَضَعُ الْمَوَازِينَ الْقِسْطَ لِيَوْمِ الْقِيَامَةِ فَلاَ تُظْلَمُ نَفْسٌ شَيْئًا وَإِنْ كَانَ مِثْقَالَ যার অর্থ: “এবং কিয়ামত দিবসে আমি স্থাপন করব মানদন্ড, সুতরাং কারো প্রতি কোন অবিচার করা হবে না, যদি তা বিন্দুমাত্রও হয়ে থাকে।” লোকটি বলল: ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আল্লাহর কসম! আমার এবং তাদের মধ্যে পৃথক করা ছাড়া উত্তম অন্য কিছু মনে হচ্ছে না। আপনাকে সাক্ষী রেখে বলছি: এরা সবাই মুক্ত।
এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন।নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে একজন লোক তার গোলামদের ব্যাপারে অভিযোগ করতে এসে জানালেন, তারা তাকে মিথ্যা সংবাদ দেয়, আমানতের খিয়ানত করে, আচরণে ধোঁকা দেয় এবং কাজে অবাধ্য হয়। তাদেরকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য সে তাদেরকে গাল-মন্দ এবং প্রহার করে। তাদের ব্যাপারে কিয়ামাতের দিনে তার অবস্থা কেমন হবে, এটা জিজ্ঞাসা করল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন: তোমাকে তারা যে মিথ্যা বলেছে, খিয়ানত করেছে এবং তোমার অবাধ্য হয়েছে, সেগুলোকে হিসাব করা হবে, আবার তাদেরকে তোমার দেওয়া শাস্তিও হিসাব করা হবে, যদি তাদের অপরাধ তোমার দেওয়া শাস্তির সমান হয়, তাহলে তোমার কোন লাভ অথবা ক্ষতি কোনটিই হবে না। আর যদি তোমার দেওয়া শাস্তি তাদের অপরাধের চেয়ে কম হয়, তাহলে সেটা তোমার পুরষ্কার প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বাড়তি মর্যাদা হিসেবে গণ্য হবে। পক্ষান্তরে যদি তোমার দেওয়া শাস্তি তাদের অপরাধের চেয়ে বেশী হয়, তাহলে তোমাকে শাস্তি দেওয়া হবে। ফলে তোমার থেকে বাড়তি পরিমাণ গ্রহণ করা হবে এবং তাদেরকে প্রদান করা হবে। এ কথা শুনে লোকটি একদিকে সরে যেয়ে জোরে কাঁদতে লাগল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তুমি কি আল্লাহর কিতাবে পড় না যে, তিনি বলেছেন: যার অর্থ: “আর কিয়ামাতের দিনে আমরা স্থাপন করব মানদন্ড, সুতরাং কারো প্রতি কোন যুলুম করা হবে না এবং আমল যদি শষ্য দানা পরিমাণ ওজনেরও হয়, তবুও তা আমরা উপস্থিত করব; আর হিসেব গ্রহণকারীরূপে আমরাই যথেষ্ট।” [সূরা আল-আম্বিয়া: ৪৭], সুতরাং কোন ব্যক্তির উপরেই কিয়ামাতের দিন কোন যুলুম করা হবে না। আর মানুষের মাঝে ন্যায় সহকারে মানদন্ডকে উপস্থিত করা হবে। তখন লোকটি বলল: আল্লাহর কসম! হে আল্লাহর রাসূল! তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া এবং মুক্ত করে দেওয়া থেকে তাদের এবং আমার জন্য উত্তম কোন পথ দেখছি না। আমি আপনাকে সাক্ষী রেখে বলছি: আল্লাহর উদ্দেশ্যেই তারা সকলেই মুক্ত। তিনি এ কথা বলেছিলেন হিসাব ও আযাবের ভয়ে।
ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, মক্কা বিজয়ের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপস্থিত জনতার উদ্দেশে ভাষণ দেন এবং বলেনঃ “হে জনমণ্ডলী! তোমাদের হতে আল্লাহ তা’আলা জাহিলিয়াত যুগের দম্ভ ও অহংকার এবং পূর্বপুরুষের অহংকার বাতিল করেছেন। এখন মানুষ দুই অংশে বিভক্তঃ এক দল মানুষ নেককার, পরহেজগার, আল্লাহ তা’আলার নিকট প্রিয় ও সম্মানিত এবং অন্য দল পাপিষ্ঠ, দুর্ভাগা, আল্লাহ তা’আলার নিকট অত্যন্ত নিকৃষ্ট, নিচু ও ঘৃণিত। সকল মানুষই আদম সন্তান। আল্লাহ তা’আলা আদম-কে মাটি দিয়ে তৈরী করেছেন। মহান আল্লাহ তা’আলা বলেছেনঃ “হে লোক সকল! তোমাদেরকে আমি একজন পুরুষ ও একজন নারী হতে তৈরী করেছি, তারপর বিভিন্ন বংশ ও গোত্রে বিভক্ত করেছি, তোমরা যাতে একে অন্যকে চিনতে পার। যে লোক বেশি পরহেজগার সেই আল্লাহ তা’আলার নিকট বেশী মর্যাদার অধিকারী। আল্লাহ তা’আলা সবকিছু সম্পর্কে জ্ঞাত, সব খবর রাখেন। [হুজুরাত ১৩]”।
এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন।নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের দিন ভাষণ দানকালে বলেন, হে লোকসকল, নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের থেকে জাহিলি যুগের অহঙ্কার, বড়ত্ব ও বাপ-দাদাদের নিয়ে গর্ব করাকে রহিত করেছেন। এখন মানুষেরা দু’ভাগে বিভক্ত: প্রথমঃ হয়তো মুমিন নেককার মুত্তাকি আল্লাহর আনুগত্য পরায়ন অনুগত ইবাদতকারী, সে আল্লাহর নিকট সম্মানিত, যদিও সে মানুষের নিকট সম্মানিত নয় অথবা বড় বংশীয় নয়। দ্বিতীয়ঃ কাফির পাপী হতভাগা, সে আল্লাহর নিকট লাঞ্ছিত অপমানিত, সে কোনো কিছুর সমান নয়, যদিও মানুষের নিকট সম্মানিত, মর্যাদা ও ক্ষমতার অধিকারী। মানুষ সবাই আদম সন্তান। আল্লাহ আদমকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন। কাজেই যার উৎস হলো মাটি তার পক্ষে অহংকার করা ও আত্মতষ্টিতে ভোগা উচিত নয়। এর নমুনা হলো আল্লাহ তা‘আলার বাণী: {يا أيها الناس إنا خلقناكم من ذكر وأنثى وجعلناكم شعوبا وقبائل لتعارفوا إن أكرمكم عند الله أتقاكم إن الله عليم خبير} [الحجرات: 13]. “হে লোক সকল! তোমাদেরকে আমি একজন পুরুষ ও একজন নারী হতে তৈরী করেছি, তারপর বিভিন্ন বংশ ও গোত্রে তোমাদেরকে বিভক্ত করেছি, তোমরা যাতে একে অন্যকে চিনতে পার। যে লোক তোমাদের মাঝে বেশি পরহেজগার সেই আল্লাহ তা’আলার নিকট বেশী মর্যাদার অধিকারী। আল্লাহ তা’আলা সবকিছু সম্পর্কে জ্ঞাত, সব খবর রাখেন। [সূরা হুজুরাত: আয়াত ১৩]”।
উবাই ইবনু কা‘ব রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “হে আবুল মুনযির! তুমি কি জান, তোমার সাথে থাকা আল্লাহর কিতাবের কোন আয়াতটি সবচেয়ে বেশী গুরুত্বপূর্ণ? আবুল মুনযির বলেন: জবাবে আমি বললাম: এ বিষয়ে আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূলই সর্বাধিক অবগত। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আবার বললেন: “হে আবুল মুনযির! তুমি কি জান, তোমার সাথে থাকা আল্লাহর কিতাবের কোন আয়াতটি সবচেয়ে বেশী গুরুত্বপূর্ণ? তখন আমি বললাম: اللَّهُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ الْحَىُّ الْقَيُّومُ [আল-বাকারা:২৫৫]। এ কথা শুনে তিনি আমার বুকের উপর হাত মেরে বললেন: হে আবুল মুনযির! তোমার ইলমকে স্বাগত।”
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম উবাই ইবনু কা‘বকে আল্লাহর কিতাব তথা কুরআনের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে, তিনি প্রশ্নের উত্তর দিতে ইতস্তত বোধ করেন। তারপরে তিনি বললেন: সেটি হচ্ছে: আয়াতুল কুরসী: {الله لا إله إلا هو الحي القيوم}। তখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে সমর্থন জানালেন এবং তার বুকে মৃদু আঘাত করলেন, যা তার হিকমত ও ইলমের পূর্ণতার প্রতি ইশারা করে। এবং তার জন্য এ মর্মে দু‘আ করলেন যেন তার এই ইলম দ্বারা সে সৌভাগ্যবান হয় আর তার জন্য এটি সহজ হয়ে যায়।
আবূ মাস‘ঊদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি কোন রাতে সূরাহ বাকারার শেষ দু’টি আয়াত পাঠ করে, সে দুটিই তার জন্য যথেষ্ট।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ হাদীসে বর্ণনা করেছেন , যে ব্যক্তি কোন রাতে সূরা বাকারার শেষ দু’টি আয়াত পাঠ করে, যাবতীয় ক্ষতি ও অপছন্দনীয় অবস্থা থেকে রক্ষা করতে তার জন্য আল্লাহ যথেষ্ট। কেউ কেউ বলেছেন: এ দুটি তার কিয়ামুল লাইল (তাহাজ্জুদের সালাত)এর জন্য যথেষ্ট। আবার কেউ কেউ বলেছেন: এ দুটি তার রাতের সকল অযীফার জন্য যথেষ্ট। আবার কেউ বলেছেন: কিয়ামুল লাইলে কুরআন তিলাওয়াতের জন্য এ দু’ আয়াত তার জন্য যথেষ্ট। এ ছাড়াও অন্য ব্যাখ্যাও কেউ কেউ দিয়েছেন। সম্ভবত উল্লিখিত সকল ব্যাখ্যাই সহীহ যা হাদীসে শব্দসমূহ অন্তর্ভুক্ত করে।