





























Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
All
উম্মে আতিয়্যা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাতে বাই‘আত গ্রহণ করেছিলেন। তিনি বলেন: “আমরা(মাসিক স্রাব থেকে) পবিত্র হওয়ার পর হলদে ও মেটে বর্ণের স্রাবকে কিছুই গণ্য করতাম না।”
আবূ দাউদ এই শব্দে বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম বুখারীও বর্ণনা করেছেন, তবে (بعد الطهر) শব্দ ব্যতীত।মহিলা সাহাবি উম্মু আতিয়্যাহ রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে নারীরা হায়েয থেকে পবিত্র হওয়ার পর যে পানি যোনিপথ থেকে বের হয়-যার রং কালচে বা হলুদাভ-তাকে হায়েয (ঋতুস্রাব) হিসেবে গণ্য করত না। তাই তারা এই পানির কারণে সালাত বা সাওম ছেড়ে দিত না।
উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়িশাহ রদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: উম্মু হাবীবাহ বিনতে জাহাশ, যিনি আবদুর রহমান ইবনু আওফ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর স্ত্রী ছিলেন, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট রক্ত বের হওয়ার অভিযোগ করেন। তখন তিনি তাকে বলেন: “তোমার হায়েয(মাসিক স্রাব) তোমাকে যে পরিমাণ বিরত রাখত সে পরিমাণ তুমি বিরত থাকো। অতঃপর তুমি গোসল করো।” ফলে তিনি প্রতি সালাতে গোসল করতেন।
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেনএকজন মহিলা সাহাবি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে অভিযোগ করলেন, তার রক্তস্রাব অব্যাহত রয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে নির্দেশ দিলেন, সে যেন তার স্বাভাবিক হায়েযের দিনগুলো পর্যন্ত সালাত থেকে বিরত থাকে, যেমনটি এই সমস্যা হওয়ার আগে তার হায়েযের সময় ছিল। এরপর সে গোসল করবে এবং সালাত আদায় করবে। তারপর সে প্রতিটি সালাতের জন্য স্বেচ্ছায় গোসল করত।
সাঈদ আল-খুদরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফু‘ হিসেবে বর্ণিত, “যখন তোমাদের কেউ তার পরিবারের নিকট আসে তারপর যখন পুণরায় তার নিকট যেতে চায় সে যেন মাঝখানে একবার অযু করে নেয়। হাকেমের বর্ণনায় এসছে: “কারণ, তা পুণরায় ফিরে আসার জন্য সহায়ক।”
এটি হাকিম বর্ণনা করেছেন। - এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।যে ব্যক্তি তার স্ত্রীর সাথে দ্বিতীয়বার সহবাস করার ইচ্ছা করে তার ক্ষেত্রে নববী আদর্শের বর্ণনার জন্য হাদীসটি তুলে ধরা হলো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “যখন তোমাদের কেউ তার পরিবারের নিকট আসে তারপর যখন পুণরায় তার কাছে যেতে চায়” অর্থাৎ যখন কোনো ব্যক্তি তার পরিবারের সাথে একবার সহবাস করে, অতঃপর দ্বিতীয় বা তৃতীয়বার সহবাস পুনরাবৃত্তি করার ইচ্ছা করে, তার জন্য রাসূলের কথার মধ্যে নববী আদর্শের দিকনির্দেশনা পাওয়া যায় “তখন সে যেন মাঝখানে একবার অযু করে নেয়।” অর্থাৎ প্রথম সহবাসের পরে এবং দ্বিতীয় সহবাসের পূর্বে। আর এখানে অযু দ্বারা উদ্দেশ্য সালাতের অযু। কারণ, যখন অযু শব্দ ব্যবহার করা হয়, তখন মূলনীতি হলো, তার দ্বারা উদ্দেশ্য শর‘ঈ অযু। ইবন খুযাইমাহ ও বায়হাকী-এর বর্ণনায় বিষয়টি স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। তাতে রয়েছে: “তুমি সালাতের মতো অযু করে নাও।” এ অযু মুস্তাহাব।
সামুরাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফূ‘ হিসেবে বর্ণিত, “যে ব্যক্তি জুমু‘আর দিন অযু করল সে যথেষ্ট করল ও ভালো করল, আর যে গোলস করল সে অধিক উত্তম।”
এটি ইবন মাজাহ বর্ণনা করেছেন। - এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। - এটি নাসাঈ বর্ণনা করেছেন। - এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন। - এটি দারিমী বর্ণনা করেছেন“যে ব্যক্তি জুমু‘আর দিন ওযূ করল।” অর্থাৎ জুমু‘আর সালাতের অযু “সে যথেষ্ট করল” অর্থাৎ সে সুন্নাত পালন করল এবং অনুমোদিত আমল করল। “এবং ভালো করল” অর্থাৎ সুন্নাত পালনের কারণে সে ভালো কর্ম করল। এটি তার জন্য প্রসংশা। “আর যে ব্যক্তি জুমু‘আর দিন গোসল করল সে অধিক উত্তম।” অর্থাৎ যে ব্যক্তি জুমু‘আর দিন অযুর সাথে গোসল করল, তা গোসল ছাড়া শুধু অযু করা অপেক্ষা অধিক উত্তম। অধিকাংশ আলেম এ পদ্ধতিকে গ্রহণ করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছে চার ইমাম। তাদের মতের পক্ষে আরও প্রমাণ, সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হাদীস: যে ব্যক্তি সুন্দরভাবে অযু করে জুমু‘আর সালাতে উপস্থিত হয়ে মনোযোগ দিয়ে খুতবা শুনলো এবং চুপ থাকলো তার এক জুমু‘আ থেকে অপর জুমু‘আর মাঝখানের এবং আরও অতিরিক্ত তিন দিনের গুনাহগুলো ক্ষমা করে দেওয়া হবে।
‘আমর ইবন সুলাইম আনসারী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আবূ সা‘ঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি এ মর্মে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “জুমু‘আর দিন প্রত্যেক বালিগের জন্য গোসল করা ওয়াজিব (কর্তব্য)। আর মিস্ওয়াক করবে এবং সুগন্ধি পাওয়া গেলে তা ব্যবহার করবে।”
সহীহ বুখারী ও মুসলিমনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেছেন, জুমু্আর দিন গোসল করা প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম পুরুষের জন্য ওয়াজিবের মতো গুরুত্বপূর্ণ, যার উপর জুমুআ ফরয। এবং তিনি মিসওয়াক বা অনুরূপ কিছু দিয়ে দাঁত পরিষ্কার করার কথা বলেছেন। অনুরুপভাবে, যে কোন সুগন্ধি ব্যবহার করে সুগন্ধময় হওয়ার কথা বলেছেন।
আবূ হুরায়রাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে মারফু হিসেবে বর্ণিত: “দুই অভিশাপকারী থেকে তোমরা সতর্ক থাকো। তারা বলল, হে আল্লাহর রাসূল দুই অভিশাপকারী কি? তিনি বললেন, যে মানুষের চলাচলের রাস্তায় অথবা তাদের ছায়ায় পেশাব-পায়খানা করে”।
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।তোমরা এমন দুটি বিষয় থেকে বিরত থাকো যা মানুষের অভিশাপকে টেনে আনে এবং তার প্রতি আহ্বান করে। যে ব্যক্তি এ দুটি কর্ম করে তাকে সাধারণত গাল দেওয়া হয় এবং অভিশাপ করা হয়। অর্থাৎ মানুষের অভ্যাস হলো তাকে অভিশাপ করা। সুতরাং সে অভিশাপের কারণ। এ কারণেই কর্মদ্বয়ের সাথে অভিশাপকে সম্পৃক্ত করা হলো। আর কর্ম দু’টি হচ্ছে মানুষের রাস্তা ও ছায়ায় পেশাব-পায়খানা করা। এর দৃষ্টান্ত হলো আল্লাহ তা‘আলার বাণীর অনুরুপ: “যারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্যকে ডাকে তাদের তোমরা গালি দিওনা। কারণ, তারা দুশমনি বশত না জেনে আল্লাহকে গাল দেবে”। [সূরা আল-আন‘আম, আয়াত: ১০৮] অর্থাৎ, তোমরা এ বিষয়ের কারণ হবে যে, তারা আল্লাহকে গাল দেবে। কারণ, তোমরা তাদের ইলাহসমূহকে গাল দিয়েছে। এ ছাড়াও রয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন লোকের পিতা মাতাকে গাল দিতে নিষেধ করেন। তারা বলল, কোন মানুষ তার পিতা-মাতাকে গাল দেয়? তিনি বললেন, হ্যাঁ। কোন লোক কারো পিতাকে গাল দেওয়ার ফলে সে তার মাতা-পিতাকে গাল দেয়। তখন তা এমন হবে যে, সেই যেন তার পিতাকে গাল দিল। কারণ, সেই এর কারণ হলো। তার বাণী: “যে মানুষের চলাচলের পথে পায়খানা-পেশাব করে” অর্থাৎ, যে স্থানসমূহে মানুষ চলাচল করে এবং রাস্তা বানায় সেখানে পায়খানা বা পেশাবের প্রয়োজন পুরণ করে। সফরে হোক বা নিজ এলাকায় হোক এ কর্মটি হারাম হওয়ার ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই। কারণ, এতে রয়েছে মানুষকে কষ্ট দেওয়া। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, “যারা মু’মিন নারী ও পুরুষদের তাদের কোন কৃত কর্ম ছাড়া কষ্ট দেয় সে অবশ্যই বহন করল অপবাদ ও স্পষ্ট গুনাহ।” [সূরা আহযাব, আয়াত: ৫৮] তবে যদি রাস্তাটি পরিত্যক্ত হয়, তাতে প্রয়োজন পুরণ করলে অভিশাপের কারণ না থাকায় কোন অসুবিধা নেই। তার বাণী: “অথবা তাদের ছায়ায়” অর্থাৎ যে ছায়ার মধ্যে মানুষ বিশ্রাম নেয়, তাদের উট বসায় এবং তাতে তারা বসে তাতে প্রয়োজন পুরণ করা। কিন্তু যে ছায়ায় বিরাণ ভুমিতে থাকে যেখানে মানুষের যাতায়াত নেই এবং যেখানে তারা বিশ্রামের উদ্দেশ্যে গমন করে না, কারণ না পাওয়া যাওয়ার কারণে তার নিচে প্রয়োজন পূরণ করাতে কোন অসুবিধা নেই। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রয়োজন পূরণের জন্য ছায়াদার খেজুর ডালের নিচে বসেছেন।
ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, নিশ্চয় রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আশূরার দিন সাওম পালন করেছেন এবং লোকদেরকে সেদিনের সাওম পালনের নির্দেশ দিয়েছেন।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।আলেমগণ এ ব্যাপারে একমত যে, আশূরার দিন সাওম পালন করা সুন্নাত; ওয়াজিব নয়। তবে তারা ইসলামের প্রাথমিক যুগে রমযানের সাওম ফরয হওয়ার পূর্বে যখন আশূরার সাওমের বৈধতা প্রদান করা হয়েছে, তখনকার হুকুমের ব্যাপারে মতানৈক্য করেছেন, তার সাওম ওয়াজিব ছিল কি না? যারা তখনকার সাওম ওয়াজিব বলেছেন, তাদের কথাকে বিশুদ্ধ মানলেও একাধিক সহীহ হাদীস দ্বারা সেটা রহিত করা হয়েছে। সেসব হাদীস থেকে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহার বর্ণিত একটি হাদীস: কুরাইশগণ জাহেলি যুগে আশূরার দিন সাওম পালন করত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযানের সাওম ফরয হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত আশূরার সাওম পালন করতে নির্দেশ দিয়েছেন। অতঃপর যখন রমযানের সাওম ফরয হলো তখন তিনি বললেন, “কেউ ইচ্ছা করলে আশূরার সাওম পালন করতে পারে, আবার কেউ চাইলে সেদিন সাওম পালন নাও করতে পারে।” বুখারী, (৩/২৪), হাদীস নং ১৮৯৩; মুসলিম, (২/৭৯২), হাদীস নং ১১২৫, দেখুন, শারহু মুসলিম (৮/৪); ফাতহুল বারী (৪/২৪৬)
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন প্রকার পানি স্পর্শ করা ছাড়া নাপাকী অবস্থায় ঘুমাতেন।
এটি ইবন মাজাহ বর্ণনা করেছেন। - এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। - এটি নাসাঈ বর্ণনা করেছেন। - এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সহবাসের পর চামড়ায় কোন প্রকার পানি স্পর্শ করা ছাড়া ঘুমিয়ে পড়তেন। না কোন ওযূর পানি, না কোন গোসলের পানি এমন কি লজ্জাস্থান ধোয়ার পানি স্পর্শ করতেন না। কারণ, পানি শব্দটি নাফীর পর নাকিরাহ। তাই তা যাবতীয় ব্যবহার যোগ্য পানিকে সামিল করবে। দ্বিতীয় সম্ভাবনা হলো, তিনি গোসলের পানি স্পর্শ করতেন না। ওযূর পানি নয়। সহীহ বুখারী ও মুসলিমের সু-স্পষ্ট হাদীসসমূহ তার সমর্থন করে। তাতে বলা হয়, তিনি তার লজ্জাস্থান ধৌত করতেন। আর ঘুম, খানা পান করা ও সহবাসের জন্য ওযূ করতেন। এ বিষয়ে রয়েছে ইবন উমারের হাদীস। উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, হে আল্লাহর রাসূল অপবিত্র অবস্থায় আমাদের কেউ ঘুমাবে? সে বলল, হ্যাঁ, যখন সে ওযূ করে। মুত্তাফাকুন আলাইহি। আম্মার ইবন ইয়াসার থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাপাক ব্যক্তিকে যখন সে খানা পান করা বা ঘুমানোর ইচ্ছা করে তখন তাকে সালাতের ওযূর মতো ওযূ করার নির্দেশ দিয়েছেন। এটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ ও তিরমিযী। এবং তিন সহীহ বলে আখ্যায়িত করেছেন। তবে এ ব্যাখ্যাকে হদীসের ব্যাপকতা প্রত্যাখ্যান করে। উত্তম হলো এ কথা বলা যে, তিনি বৈধতা বর্ণনা করার জন্য কখনো কখনো পানি একেবারেই স্পর্শ করতেন না। কারণ, যদি তিনি সব সময় করতেন তাহলে তা ওয়াজিব বলে ধারণা করা হতো। তাই উম্মাতের ওপর সহজ এবং সহনীয় করার জন্য তা করেননি।
আবূ সা‘ঈদ আল খুদরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত: (যিনি নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে বারটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন) তিনি বলেন, চারটি বিষয় যা আমি আল্লাহর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে শুনেছি এ বিষয়গুলো আমাকে আশ্চর্যান্বিত করেছে। তিনি বলেন: “(এক) স্বামী কিংবা মাহরাম(যার সাথে কখনো বিবাহ জায়েয নেই) ব্যতীত কোন মহিলা দু’দিনের পথ সফর করবে না। (দুই)‘ঈদুল ফিতর এবং ‘ঈদুল আযহা- এ দুই দিন কেউ সাওম পালন করবে না। (তিন)‘আসরের পর সূর্য অস্ত যাওয়া পর্যন্ত এবং ফজরের পর সূর্য উদয় পর্যন্ত কেউ কোন সালাত আদায় করবে না। (চার)আর মাসজিদে হারাম,মাসজিদে আকসা এবং আমার এই মাসজিদ (মাসজিদে নাববী) এ তিন মাসজিদ ব্যতীত অন্য কোন মাসজিদের জন্য সফরের প্রস্তুতি গ্রহণ করবে না।”
সহীহ বুখারী ও মুসলিমনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চারটি বিষয় থেকে নিষেধ করেছেন: প্রথমত: মহিলাদেরকে তাদের স্বামী বা কোনো মাহরাম অর্থাৎ যার সাথে চিরস্থায়ীভাবে বিবাহ নিষিদ্ধ, যেমন পিতা,পুত্র, ভাই, ভাতিজা, ভাগ্নে, চাচা, মামা ইত্যাদি ব্যতীত দু'দিনের পথের সফর করতে নিষেধ করা হয়েছে। দ্বিতীয়ত: ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার দিন সাওম পালনে নিষেধ করা হয়েছে। এটি মানত, নফল বা কাফফারা যে ধরনের সাওমই হোক না কেন, এই দুই দিন সাওম পালন করা নিষিদ্ধ। তৃতীয়ত: আসরের সালাতের পর সূর্যাস্ত পর্যন্ত এবং ফজরের সালাতের পর সূর্যোদয় পর্যন্ত নফল সালাত পড়তে নিষেধ করা হয়েছে। চতুর্থত: এই তিনটি মসজিদ (মসজিদুল হারাম, মসজিদে নববী ও মসজিদুল আকসা) ছাড়া অন্য কোনো স্থানের বিশেষ ফযীলত বা সেখানে নেকি বৃদ্ধির বিশ্বাস করে সেখানে সফর করতে নিষেধ করা হয়েছে। এই তিন মসজিদ ব্যতীত অন্য কোনো স্থানে অধিক নেকির আশায় সালাত পড়ার উদ্দেশ্যে সফর করা যাবে না, কারণ নেকি কেবল এই তিন মসজিদে বৃদ্ধি পায়।