





























Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
All
রুকাইকার মেয়ে উমাইমা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি কয়েকজন আনসারী নারীর সাথে রাসূলুয়াহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট বায়’আত গ্রহণের জন্য উপস্থিত হই। আমরা আরয করলামঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমরা আপনার নিকট একথার উপর বায়আত করছি যে, আমরা আল্লাহ তা’আলার সাথে কাউকে শরীক করবো না, চুরি করবো না, ব্যভিচার করবো না, হাত-পায়ের মধ্যে অপবাদ রচনা করবে না, ভাল কাজে আপনার নাফরমানী করবো না। তিনি বললেনঃ “তোমরা এও বল যে, আমাদের দ্বারা যতটুকু সম্ভব”। উমায়মা বলেন, আমরা বললামঃ আল্লাহ এবং আল্লাহর রাসূল আমাদের প্রতি কত মেহেরবান। আমরা বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আসুন, আমরা আপনার হাতে বায়আত করবো। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “আমি স্ত্রীলোকের হাতে হাত মিলাই না। কেননা একজন নারীকে আমার বলাটা একশত নারীকে বলার মত, অথবা একজন নারীর জন্য আমার কথার মত”।
এটি তিরমিযী, নাসায়ী ও ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন।উমাইমা বিনতে রুকাইকা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে কিছু আনসারী মহিলার সাথে এই মর্মে বাইয়াত করতে এসেছেন যে, তারা আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করবে না, চুরি করবে না, ব্যভিচার করবে না, হাত-পায়ের মধ্যে অপবাদ রচনা করবে না এবং ভালো কাজে তাঁর অবাধ্য হবে না। তাই তিনি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: যতটা তোমরা পারবে এবং সামর্থ্য রাখবে। আমরা বললাম: আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল আমাদের প্রতি আরও দয়ালু। আসুন, হে আল্লাহর রাসূল, আমরা আপনার কাছে পুরুষদের মতো হাত মেলানোর মাধ্যমে বায়আত (শপথ) করি। ফলে তিনি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: আমি নারীদের সাথে মুসাফা (করমর্দন) করি না, কিন্তু একশ নারীর প্রতি আমার কথা ও আনুগত্যের অঙ্গীকার একজন নারীর প্রতি আমার কথার মতো।
উম্মু আতিয়্যাহ্ রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কন্যাগণের একজনের ইন্তিকাল হল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে গেলেন এবং বললেনঃ “তোমরা তাঁকে তিনবার, পাঁচবার অথবা প্রয়োজন মনে করলে তার চেয়ে অধিকবার বরই পাতাসহ পানি দ্বারা গোসল দাও। শেষবারে কর্পুর (অথবা তিনি বলেন) ‘কিছু কর্পূর’ ব্যবহার করবে। গোসল শেষ করে আমাকে জানাবে”। উম্মু আতিয়্যাহ্ বলেন, আমরা শেষ করে তাঁকে জানালাম। তখন তিনি তাঁর চাদর আমাদের দিকে এগিয়ে দিয়ে বললেনঃ “এটি তাঁর ভিতরের কাপড় হিসেবে পরাও”। উম্মু আতিয়্যাহ্ বলেন, আমরা তাঁর মাথার চুলে তিনটি গোছা (বেনী) বানিয়ে দিলাম।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমযখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মেয়ে জয়নব মারা যান, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদল নারীর কাছে প্রবেশ করলেন, যারা ইতোমধ্যেই তার মেয়েকে গোসল দিবেন। তিনি তাদের বললেন: তোমরা তাকে বরই পাতার পানি দিয়ে বেজোড় সংখ্যায় তিনবার, অথবা পাঁচবার বা এটার চেয়ে আরও বেশিবার ধৌত কর, যদি প্রয়োজন হয় এবং শেষ ধোয়ায় কিছু কাফূর রাখো, যখন তোমরা কাজ শেষ করবে, আমাকে জানাবে। যখন তারা তার গোসল দেওয়া শেষ করল, তখন আমরা তাকে সংবাদ দিলাম। তিনি গোসল দানকারী নারীদের তাঁর পরিধেয় দিলেন এবং বললেন: তোমরা এটি দিয়ে তাকে মোড়িয়ে দাও এবং এটিই সেই কাপড় হউক যা তার দেহের সাথে লেগে থাকবে, তারপর তার চুল তিনটি বেনি করা হলো।
সালমান ফারসী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফু হিসেবে বর্ণিত, “একদিন ও একরাত সীমান্ত প্রহরায় রত থাকা একমাস সিয়াম ও কিয়াম অপেক্ষা উত্তম। আর যদি ঐ অবস্থায় মারা যায়, তাহলে তাতে ঐসব কাজের প্রতিদান দেওয়া হবে, যা সে পূর্বে করত এবং তার রিযক অব্যাহত থাকবে এবং তাকে (কবরের) ফিৎনা থেকে মুক্ত রাখা হবে।”
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।মুসলিমদের হিফাযতের জন্য একরাত ও একদিন পাহারাদারী করা একমাস সিয়াম ও কিয়াম থেকে উত্তম। মুজাহিদ যখন মারা যায় তার আমলের সাওয়াব চালু থাকে, বন্ধ হয় না। অনুরূপভাবে জান্নাত থেকে তাকে খাদ্য দেওয়া হয়। কারণ, সে জান্নাতে তার রবের নিকট জীবিত। তার আরও মর্যাদা লাভ হয় যে, দু’জন ফিরিশতা তাকে প্রশ্ন করার জন্য আসে না। কারণ, সে আল্লাহর রাস্তায় পাহারারত অবস্থায় মারা গেছেন। এ কথাও স্বীকৃত যে, পাহারা দেওয়া আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করার নামান্তর। কারণ, পাহারাদারির অর্থই হচ্ছে কাফিরদের থেকে মুসলিমদের রক্ষা করার উদ্দেশ্যে সীমান্তে অবস্থান করা।
ইবনু ’আব্বাস রদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন একজন আনসারী মহিলাকে জিজ্ঞাসা করলেন - (বর্ণনাকারী বলেন:) ইবনু ‘আব্বাস তার নাম বলেছিলেন, তবে আমি তার নাম ভুলে গিয়েছি-: “তোমাকে কিসে আমাদের সাথে হজ করতে বাধা দিল?” মহিলা জবাব দিলেন: আমাদের মাত্র দুটি পানি সিঞ্চনের কাজে ব্যবহৃত উট রয়েছে, সেখান থেকে একটি তার সন্তানের পিতা ও সন্তান হজ করতে নিয়ে গেছেন আর অপরটি আমাদের পানি সিঞ্চনের কাজে রেখে গেছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন “যখন রমাদান আসবে তখন তুমি উমরাহ করবে; কেননা রমাদানে উমরাহ পালন করা হজের সমতুল্য।”
সহীহ বুখারী ও মুসলিমনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন বিদায় হজ থেকে ফিরেছিলেন, তখন তিনি হজে শরীক না হওয়া একজন আনসারী মহিলাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন: আমাদের সাথে হজ করতে কিসে তোমাকে বাধা দিল? তখন সেই মহিলা এ কথা বলে উযর পেশ করলেন যে, তাদের মোট দুটি উট রয়েছে। তাদের একটিতে করে তার ছেলে ও স্বামী হজ করতে গিয়েছিলেন আর অপরটি কুয়া থেকে পানি উঠানোর কাজে রেখে গিয়েছিলেন। তখন তাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দিলেনে যে, রমাদান মাসে উমরাহ করার সওয়াব হজ পালন করার সওয়াবের সমান।
ফাদালাহ বিন উবাইদ, সালমান আল-ফারসী এবং উকবা ইবন আমের আল-জুহানী রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকে মরফূ হিসেবে বর্ণিত, “প্রত্যেক ব্যক্তির মৃত্যুর সাথে সাথে তার আমল শেষ হয়ে যায়, কিন্তু সীমান্ত প্রহরীর সাওয়াব বন্ধ হয় না। কিয়ামত পর্যন্ত তার আমলের সাওয়াব বৃদ্ধি পেতে থাকবে এবং সে কবরের ফিতনা থেকে নিরাপদ থাকবে।”
এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। - এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।প্রত্যেক ব্যক্তির মৃত্যুর সাথে সাথে তার আমল বন্ধ হয়ে যায়। এরপর তার জন্য আর কোনো নতুন সাওয়াব লিখা হয় না। কিন্তু সীমান্ত প্রহরীর সাওয়াব বাকী থাকে যারা মুসলিমদের সীমানা পাহারা দেয়। নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা তার আমলের সাওয়াব জারী রেখে তাকে সম্মানিত করেন এবং কবরের ফিতনা থেকে নিরাপদ রাখেন। সুতরাং দুই ফিরিশতা (মুনকার ও নাকির) তাকে কোনো প্রশ্ন করবে না।
উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়িশাহ রদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমরা জিহাদকে সর্বশ্রেষ্ট আমল হিসেবে জানি, তাহলে আমরা কি জিহাদ করব না? তিনি বললেন: “না, তবে সর্বশ্রেষ্ট জিহাদ হচ্ছে- মাবরূর হজ।”
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।সাহাবীগণ -রদিয়াল্লাহু আনহুম- আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ এবং শত্রুর সাথে যুদ্ধ করাকে সর্বশ্রেষ্ট আমল হিসেবে বিবেচনা করতেন। তাই ‘আয়িশাহ রদিয়াল্লাহু আনহা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন যে, তারা (মহিলারা) কি জিহাদ করবেন না? তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে তাদের জন্য উপযুক্ত সর্বোত্তম জিহাদের কথা বর্ণনা করলেন, আর তা হল: মাবরূর হজ, যা কিতাব ও সুন্নাহ অনুযায়ী করা হয় এবং সেটি গুনাহ এবং রিয়া থেকেও মুক্ত।
ইবনু ‘উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যখন আল্লাহ কিয়ামতের দিন প্রথম ও শেষ সকলকে একত্রিত করবেন, তখন প্রতিটি বিশ্বাসঘাতকের জন্য একটি পতাকা উত্তোলন করা হবে এবং বলা হবে: 'এটি অমুকের পুত্র অমুকের বিশ্বাসঘাতকতা।'"
সহীহ বুখারী ও মুসলিমনবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের জানান যে, যখন আল্লাহ তা‘আলা কিয়ামতের দিন প্রথম ও শেষ সকলকে হিসাব গ্রহণের জন্য একত্রিত করবেন, তখন তিনি প্রতিটি বিশ্বাসঘাতকের জন্য একটি নিদর্শন স্থাপন করবেন যারা আল্লাহর সাথে বা মানুষের সাথে করা তার প্রতিশ্রুতি পূরণ করেনি, যা তার বিশ্বাসঘাতকতা প্রকাশ করবে এবং সেই দিন তাকে ডাকা হবে: এটা অমুক ব্যক্তির বিশ্বাসঘাতকতা; সমবেত লোকদের কাছে তার খারাপ কাজগুলো প্রকাশের জন্য।
ইবনু ‘আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত। সা‘দ ইবনু উবাদা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে তার মায়ের একটি মান্নত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন, যা পূর্ণ করার আগেই তার মা মারা যান। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তুমি তার পক্ষ থেকে তা পূর্ণ করো।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।সা‘আদের মা মারা গেল, অথচ তার ওপর থাকা মান্নত সে পুরো করতে পারেনি, তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ছেলে সা‘আদ ইবন উবাদাহকে নির্দেশ দিলেন সে যেন তার মায়ের পক্ষ থেকে তা পূরণ করে দেয়।
সালমা ইবনুল আকওয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, “রাসূলুল্লাহর নিকট মুশরিকদের একজন গুপ্তচর উপস্থিত হলো। তখন তিনি সফরে ছিলেন। সে সাহাবীদের সাথে বসে কথা বলছিল। অতঃপর সে চলে গেল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা তাকে তালাশ কর এবং তাকে হত্যা কর। ফলে আমি তাকে হত্যা করলাম। তারপর তিনি তার মাল সামানাহ নফল হিসেবে আমাকে প্রদান করলেন”। অপর বর্ণনায় বর্ণিত, তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, “লোকটিকে কে হত্যা করল? তারা বলল, ইবনুল আকওয়া, তারপর বলল, তার জন্য তার সব মাল-সামানাহ”।
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন। - মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।এ হাদীসটিতে মুসলিম বিরোধী কাফিরদের পক্ষ থেকে যারা মুসলিমদের বিষয়ে গোয়েন্দাগিরী করে ইসলামে তাদের বিধান সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। সালমা ইবন আকওয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু সংবাদ দেন যে, রাসূলুল্লাহর নিকট মুশরিকদের একজন গুপ্তচর উপস্থিত হলো। আঈন-চোখ অর্থ গুপ্তচর। কারণ, তার কর্ম সাধারণত চোখ দিয়ে হয়ে থাকে। অথবা দেখার প্রতি তার গুরুত্ব বেশি হওয়া এবং তাতে সে অধিক মগ্ন হওয়ার কারণে তার পুরো দেহই যেন চোখ হয়ে গেছে। আর তিনি অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি সফরে ছিলেন। সে বসে পড়ল আর সাহাবীদের সাথে কথা বলছিল। অতঃপর সে চলে গেল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা তাকে তালাশ কর এবং তাকে হত্যা কর। ফলে আমি তাকে তালাশ করলাম তারপর তাকে পেয়ে হত্যা করলাম। তার মাল সামানাহ তিনি নফল হিসেবে আমাকে প্রদান করলেন। অর্থাৎ, আমাকে নফল দান করলেন। আর নফল হলো, কোন মানুষের জন্য গণীমতের মালকে খাস করা এবং তাকে তার অংশের ওপর কিছু অতিরিক্ত দেওয়া। সালাবুহু অর্থাৎ, তার নিকট কাপড়, অস্ত্র ইত্যাদি যা ছিল তাকে ‘সালাব’ বলে নাম করণ করা হয়েছে। কারণ, তা তার থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়। সাওয়ারী, তার উপর বিছানো বিছানা, অস্ত্র, বাহনের ওপর রাখা মালামাল এবং তার মাঝে থাকা স্বর্ণ ও চাঁদি সবই সালারেব অর্ন্তভুক্ত।