Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way






























Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানিয়েছেন যে, সমাজে প্রত্যেক মুসলিমের উপর দায়িত্ব অর্পিত আছে, যা তাকে পালন করতে হবে। ইমাম ও শাসক তাদের রক্ষক, আল্লাহ তাকে যাদের দায়িত্ব দিয়েছেন। তার উপর অর্পিত দায়িত্ব হলো তাদের শরীয়তের হিফাযত করা, তাদের উপর অত্যাচার হওয়া থেকে রক্ষা করা, তাদের শত্রুর বিরুদ্ধে জিহাদ করা এবং তাদের অধিকার নষ্ট না করা। পুরুষ তার পরিবারের প্রতি দায়িত্বশীল। তার উপর অর্পিত দায়িত্ব হলো তাদের ভরণ-পোষণ করা, উত্তম আচরণ করা এবং তাদেরকে শিক্ষা দেওয়া ও আদব শেখানো। স্ত্রী তার স্বামীর ঘরের রক্ষক। তার দায়িত্ব হলো ঘর সুন্দরভাবে পরিচালনা করা, সন্তানদের লালন-পালন করা এবং এ বিষয়ে সে জিজ্ঞাসিত হবে। চাকর, গোলাম ও শ্রমিক তাদের মালিকের সম্পদের প্রতি দায়িত্বশীল। তাদের দায়িত্ব হলো তাদের হাতে থাকা সম্পদ রক্ষা করা এবং সেবা করা। সে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। সুতরাং, প্রত্যেকেই তার উপর অর্পিত দায়িত্বের দায়িত্বশীল, এবং প্রত্যেকেই তার দায়িত্বের ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবে।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন যে, ইমাম যখন আমীন বলে তখন আমরাও যেন আমীন বলি। কেননা সেটিই ফিরিশতাদের আমীন বলার সময়। আর যার আমীন ফিরিশতাদের আমীনের সাথে মিলবে তার পূর্ব-জীবনের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম অজানা বস্তুর বেচাকেনা করতে নিষেধ করেছেন। কেননা, এতে ক্রেতা বা বিক্রেতার ক্ষতি নিহিত। হয় ক্রেতা কিনে ঠকে বা বিক্রেতা বিক্রি করে ঠকে। যেমন, বিক্রয়কৃত বস্তুটি ক্রেতা বা বিক্রেতা বা উভয়ের কাছে অস্পষ্ট। এ ধরণের বেচা-কেনার একটি হলো, ‘মুনাবাযা’ পদ্ধতিতে ক্রয়-বিক্রয়। আর তা হলো, বিক্রয় চূড়ান্ত করার উদ্দেশ্যে ক্রেতা কাপড়টি উল্টানো-পাল্টানো অথবা দেখে নেওয়ার আগেই বিক্রেতা কর্তৃক তা ক্রেতার দিকে নিক্ষেপ করা। এ ধরণের আরেকটি নিষিদ্ধ ক্রয়-বিক্রয় হলো, ‘মুলামাসা’ পদ্ধতিতে ক্রয়-বিক্রয়। তা হলো, কাপড়টি না দেখে বা উল্টানো-পাল্টানোর আগে শুধু স্পর্শ করে বেচা-কেনা সম্পন্ন করা। এ দু-ধরণের বেচা-কেনা বিক্রিত বস্তুর ব্যাপারে অজ্ঞতা ও অস্পষ্টতার অভিযোগ সৃষ্টি করে। ক্রেতা বা বিক্রতা যে কেউ মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে কেউ অতিরিক্ত লাভবান হবে এবং অন্যজন মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ফলে তা মাইসার তথা জুয়ার অন্তর্ভুক্ত— যা শরী‘আতে নিষিদ্ধ।
ফল খাওয়ার উপযুক্ত হওয়ার পূর্বে বিভিন্ন ধরনের বিপদের সম্মুখীন হয় তা। আর ঐ সময় ফল কেনাতে ক্রেতার কোনো ফায়দা হয় না। তাই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম রং ধারণ করার আগে ফল বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন। অর্থাৎ খাওয়ার উপযুক্ত হওয়ার পূর্বে। খেজুরের ক্ষেত্রে উপযুক্ত হওয়ার অর্থ হচ্ছে বর্ণ ধারণ করা বা হলুদ বর্ণ হওয়া। অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বেচা কেনা নিষিদ্ধ হওয়ার কারণ বর্ণনা করে বলেন, দেখ, যদি তার ওপর কোনো বিপদ আসে অথবা কিছু অংশের ওপর বিপদ আসে তাহলে তোমরা তোমাদের ভাই ক্রেতার সম্পদ কিসের বদলে হালাল করবে, তাকে উপকারী কিছু না দিয়ে কীভাবে তার অর্থ গ্রহণ করবে?
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়কে খাওয়ার উপযুক্ত হওয়ার আগে ফল বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন।
যে ব্যক্তি ধোকাবাজী ও অসদুপায় বর্জন করে হালাল ও পবিত্র উপার্জন থেকে একটি খেজুর পরিমাণ সদকা করবে, (আল্লাহ তা কবুল করবেন) এবং আল্লাহ কেবল পবিত্র সম্পদ কবুল করেন। আর আল্লাহ তাঁর ডান হাত দিয়ে তা কবুল করেন। আর ‘আল্লাহর ডান হাতের বিষয়টি’ প্রকাশ্য অর্থের ওপরই বলতে হবে, যেভাবে আল্লাহর জন্য হওয়া উপযুক্ত; কোনোরূপ অপব্যাখ্যা কিংবা বিকৃতি সাধন ব্যতিরেকেই এর অর্থ করতে হবে। অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলা তার থেকে তা গ্রহণ করেন। যেমনটি সহীহ মুসলিমের বর্ণনায় এসেছে। এরপর আল্লাহ দাতার জন্য তা প্রতিপালন করেন, বর্ধিত করেন, যেমন তোমাদের কেউ অশ্ব শাবক প্রতিপালন করে থাকে, অবশেষে সেই সদকা পাহাড় বরাবর হয়ে যায়।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যারা বিবাহের খরচ বহন ও যৌন মিলন করতে সক্ষম তাদের বিয়ে করার জন্য উদ্বুদ্ধ করেছেন; এটা তার দৃষ্টিকে হারাম জিনিস থেকে রক্ষাকারী, তার সতীত্বকে হিফাজতকারী এবং তাকে অনৈতিকতায় পতিত হওয়া থেকে বাধা দানকারী। যে ব্যক্তি সহবাস করতে সক্ষম কিন্তু বিবাহের খরচ বহন করতে সক্ষম নয়, তাকে অবশ্যই সিয়াম রাখতে হবে। কারণ এটি যৌন কামনার প্রবৃত্তি নিঃশেষ করে এবং বীর্যের অনিষ্টতা দূর করে।
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইমামদের নির্দেশ দিয়েছেন তারা যেন সুন্নত মোতাবেক সালাত সংক্ষেপ করে। তিনি এর কারণ বর্ণনা করেছেন যে, তাদের পিছনে শারীরিক গঠনগত দুর্বল, বার্ধক্যজনিত দুর্বল, রোগাগ্রস্ত ও কর্মজীবি লোকেরা অংশগ্রহণ করেন। অন্যদিকে তারা যখন নিজেরা একাকী সালাত আদায় করবে তখন ইচ্ছা করলে দীর্ঘ করতে পারে আবার ইচ্ছা করলে সংক্ষেপও করতে পারে।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরনারীদের সাথে সংমিশ্রণের বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন এবং বলেছেন: তোমরা নারীদের কাছে এবং নারীদের তোমাদের কাছে আসা থেকে নিজেদের রক্ষা কর। তখন এক ব্যক্তি বললেন, স্বামীর নিকট আত্মীয়ের বিষয়ে আপনার অভিমত কী, যেমন স্বামীর ভাই, তার ভাতিজা, তার চাচা, তার চাচাতো ভাই, তার বোনের ছেলে প্রভৃতি যাদেরকে তার জন্য বিয়ে করা হালাল ছিল, যদি সে বিবাহিতা না হত? তিনি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তার থেকে সাবধান হও যেমন তুমি মৃত্যু থেকে সাবধান! কেননা দেবরদের নির্জন নৈকট্য ফিতনা ও দ্বীন ধ্বংসকারী। কাজেই স্বামীর পিতা ও তার সন্তান ব্যতীত তার অন্যান্য আত্মীয় পর পুরুষদের চেয়ে নিষেধাজ্ঞার বেশি দাবিদার। স্বামীর আত্মীয়ের সাথে নির্জনতা অন্য কারো সাথে নির্জনতার চেয়ে বেশী হয় এবং অন্যের চেয়ে তার কাছ থেকে মন্দের সম্ভাবনা বেশী থাকে এবং তার দ্বারা ফিতনার সুযোগ বেশী। কারণ ভাবীর কাছে দেবরের গমন এবং তার সাথে তার নির্জনতা আপত্তি ছাড়া সম্ভব। অধিকন্তু এটির প্রয়োজন হয় এবং তার থেকে তাকে দূরে রাখা সম্ভব নয়, যেখানে এই বিষয়ে শিথিলতার সুযোগে দেবর ভাবীর সাথে একাকী হয়; কাজেই খারাপ ও ফ্যাসাদের ক্ষেত্রে সে মৃত্যুর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ, পর পুরুষের বিপরীত কারণ তার থেকে সতর্কতা অবলম্বন করা হয়।