Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way






























Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমার সালাতে আগে আগে যাওয়ার ফযীলত সম্পর্কে বলছেন। সূর্যোদয়ের পর থেকে শুরু হয়ে ইমামের খুতবার জন্য আসা পর্যন্ত আগে আগে মসজিদে আগমনের ফজিলত পর্যায়ক্রমে অবশিষ্ট থাকে।এটি হল পাঁচটি ঘন্টা: সূর্যোদয় থেকে ইমামের খুতবা দেওয়ার জন্য প্রবেশ ও মিম্বারে আরোহণ করা পর্যন্ত মধ্যবর্তী সময়কে পাঁচটি ভাগ করা হবে: প্রথমটি: যে ব্যক্তি সম্পূর্ণরূপে গোসল করল, যেমনভাবে নাপাক থেকে গোসল করা হয়। অতঃপর প্রথম প্রহরে জুমার মসজিদে গেল,সে যেন একটি উট সদকা করল। দ্বিতীয়: যে দ্বিতীয় ঘন্টায় গেল, সে যেন একটি গরু সাদকা করে। তৃতীয়: যে তৃতীয় ঘন্টায় গেল, সে যেন একটি মেষ সাদকা করল - তা হল একটি পুরুষ ভেড়া - যার শিং রয়েছে। চতুর্থ: যে ব্যক্তি চতুর্থ প্রহরে গেল, সে যেন একটি মুরগি সাদকা করল। পঞ্চম: যে পঞ্চম ঘন্টায় গেল, সে যেন একটি ডিম সাদকা করল। আর যখন ইমাম খুতবা দিতে বের হয়; প্রথমে মসজিদে প্রবেশকারী ও পরস্পর প্রবেশকারীদের সাওয়াব লেখার জন্য দরজায় বসা ফেরেশতারা লেখা বন্ধ করে দেন এবং খুতবা ও আল্লাহর যিকির শুনতে চলে আসেন।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে ব্যক্তি জুমআর সালাতের জন্য আসার ইচ্ছে করে তার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন যে, তার ফরয গোসলের মতই গোসল করা মুস্তাহাব।
আল্লাহ তার বান্দাদের প্রতি অতি দয়ালু। তিনি তাদের জন্য ক্ষমার কারণগুলো প্রস্তুত করে দিতে চান। এ কারণেই তিনি জানাযার সালাত ও তাতে উপস্থত হওয়ার প্রতি উৎসাহ প্রদান করেন। কারণ, তা মৃতের জন্য সৃুপারিশ আর রহমতের কারণ হয়। তাই যে তার ওপর সালাত আদায় করে তার জন্য এক কীরাত আর যে দাফন করা পর্যন্ত উপস্থিত থাকে তার জন্য আরও একটি কীরাত সাওয়াব নির্ধারণ করে। এ পরিমাণ সাওয়াব অবশ্যই মহান আর তার পরিমাণ আল্লাহরই নিকট জানা। সাহাবীগণের নিকট তার পরিমাণ অস্পষ্ট থাকায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বুঝের কাছাকাছি নিয়ে এসে বলেন যে, প্রতিটি কীরাত মহান পাহাড়ের মতো। কারণ, তাতে রয়েছে একজন মুসলিম ভাইয়ের হক আদায় করা, তার জন্য দো‘আ করা, আখিরাতে স্মরণ, মৃত ব্যক্তির পরিবাবের প্রতি শান্তনা প্রভৃতি ফায়দা।
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দিচ্ছেন, যে ব্যক্তি ওযু করল এবং এর রোকন, সুন্নাত ও আদব পরিপূর্ণ করার মাধ্যমে সুন্দরভাবে অযু আঞ্জাম দিল। তারপর জুমআর সালাতে আসল এবং চুপ থাকল ও মনযোগসহ খতীবের কথা শোনল এবং অনর্থক কর্ম থেকে বিরত থাকল। তার দশ দিনের সগীরাহ পাপ ক্ষমা করে দেওয়া হবে: এক জুমার সালাত থেকে দ্বিতীয় জুমা পর্যন্ত এবং অতিরিক্ত তিন দিন। কারণ একটি নেকি তার দশগুণ বৃদ্ধি করা হয়। অতঃপর তিনি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুতবার ভেতর যে উপদেশ পেশ করা হয় তার প্রতি অন্তরের মননিবেশ না করা এবং কংকর স্পর্শ করা, ব্যস্ত থাকা ও অন্যান্য বেহুদা কর্ম করে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নিয়ে খেলা করা থেকে সতর্ক করলেন। কারণ, যে এগুলো করল সে অনর্থক কর্ম করল। আর যে অনর্থক কাজ করল তার জন্য পূর্ণ জুমার সাওয়াব নেই।
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে কেউ ইবাদত, ইলম বা অন্যান্য ভাল উদ্দেশ্যে যে কোন সময় দিনের শুরুতে বা শেষে মসজিদে আসেন তাকে সুসংবাদ দিয়েছেন যে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি জায়গা এবং আতিথেয়তা প্রস্তুত করেছেন, যখনই তিনি দিন বা রাতে মসজিদে আসেন।
যে ব্যক্তি মসজিদসমূহ অথবা কোনো বাজারের ভিতর বা মানুষ একত্র হওয়ার স্থান দিয়ে অতিক্রম করবে, আর তার সাথে রয়েছে অস্ত্র তীর ইত্যাদি। তার উচিৎ হবে, হাতের চেটো দ্বারা তার ফলাকে ধরে নেওয়া। যাতে কোনো মুসলিম তার দ্বারা আক্রান্ত না হয়।
যখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদীনায় এলেন, লোকেরা তাঁকে দেখতে তাঁর দিকে ছুটাছুটি করা আরম্ভ করল। তখন তাদের মধ্যে ছিলেন আব্দুল্লাহ বিন সালাম রাদিয়াল্লাহু আনহু, যিনি একজন ইহুদী ছিলেন। তাকে দেখে সে জানতে পারল যে তার চেহারা কোন মিথ্যাবাদীর চেহারা নয়। কারণ, তার ওপর আলো, সৌন্দর্য এবং আন্তরিক ভয় প্রকাশ পাচ্ছিল। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছ থেকে সর্বপ্রথম যে কথাটি শুনেছিলেন, তা হল তিনি মানুষকে এমন কাজ করার জন্য আহ্বান জানালেন যা জান্নাতে প্রবেশ করার উপায় হবে, যার মধ্যে রয়েছে: প্রথমত: সালামের অভিবাদন ছড়িয়ে দেওয়া, প্রকাশ করা এবং যাদের আপনি চেনেন ও যাদের আপনি চেনেন না তাদের সবার মাঝে অধিক প্রচার করা। দ্বিতীয়ত: সাদকাহ, হাদিয়া এবং আতিথেয়তার দ্বারা খাবার খাওয়ানো। তৃতীয়ত: পিতা বা মায়ের পক্ষ থেকে যাদের সাথে আপনি রক্ত বা আত্মীয়তার সাথে সম্পর্কযুক্ত তাদের সাথে আত্মীয়তার সম্পর্ক ঠিক রাখা। চতুর্থত: মানুষের ঘুমন্ত অবস্থায় রাতের নফল তাহাজ্জুদ আদায় করা।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করা হলো কোন লোকটি উত্তম। তিনি স্পষ্ট করেন, সেই ব্যক্তি, যে নিজের জান ও মাল দ্বারা আল্লাহর পথে জিহাদ করে। তারপর প্রশ্ন করা হলো, ‘তারপর কে?’ তিনি বললেন, “ঐ মুমিন ব্যক্তি, যে কোনো পার্বত্য এলাকায় অবস্থান করার পরও সেখানে আল্লাহর ইবাদতে প্রবৃত্ত থাকে ও জনগণকে নিজের মন্দ থেকে মুক্ত রাখে। অর্থাৎ সে আল্লাহর ইবাদতে মগ্ন ও মানুষ থেকে বিরত থাকে, সে চায় না তার কোনো কষ্ট মানুষকে স্পর্শ করুক।
যখন কোন স্বামী তার স্ত্রীকে সহবাসের জন্য ডাকে, তখন তার ওপর ওয়াজিব হলো তার ডাকে সাড়া দেওয়া। যদিও সে এমন কাজে ব্যস্ত থাকে যে কাজ করার অন্য কেউ নেই, যেমন, সে রুটি বানাচ্ছে বা রান্না-বান্না করছে।