





























Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
All
মালিক ইবনু আওস ইবনু হাদাসান হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এ কথা বলতে বলতে আগালাম যে, দিরহাম বিনিময় করতে পারে এমন কে আছে? তালহা ইবনু উবাইদুল্লাহ তখন উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) এর নিকটেই ছিলেন- তিনি বললেন, তোমার স্বর্ণ আমাদেরকে দেখাও এবং তুমি পরে এসো। আমাদের গোলাম যখন আসবে তখন তোমার রৌপ্য দিয়ে দিব। তখন উমর ইবনুল খাত্তাব বললেনঃ কখনো নয়; আল্লাহর শপথ! হয় তুমি তার দিরহাম এখনই প্রদান করো, অন্যথায় তার স্বর্ণ তাকে ফিরিয়ে দাও। কারণ, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ নগদ নগদ বিক্রি না হলে সুদ হবে, গমের বিনিময়ে গম নগদ নগদ এবং হাতে হাতে বিক্রি না হলে সুদ হবে, যবের বিনিময়ে যব নগদ নগদ না হলে সুদ হবে এবং খেজুরের বিনিময়ে খেজুর নগদ বিক্রি না হলে তাও সুদে পরিণত হবে”।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমতাবেয়ী মালিক ইবনু আনাস সংবাদ দিচ্ছেন যে, তার নিকট কিছু সোনার দিনার ছিল এবং তিনি সেগুলো রোপার দিরহাম দিয়ে ভাঙ্গতি করতে চাইলেন। তখন তালহা ইবনু উবাইদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, দেখার জন্য আপনার দিনারগুলো আমাদেরকে দিন! তারপর কেনার দৃঢ় ইচ্ছা করার পর বললেন: আমাদের খাদিম আসার পর আসনু আমরা আপনাকে রূপার দিরহাম দিয়ে দিব। উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু মজলিসে উপস্থিত ছিলেন। তিনি এই প্রকার লেনদেন নিষেধ করলেন এবং তালহার ওপর কসম দিয়ে এখনই তাকে রূপা পরিশোধ অথবা তার সোনা তাকে ফেরত দিতে বললেন। এর কারণ বর্ণনা করলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সোনার বিনিময়ে রূপা অথবা তার বিপরীত বিক্রি করলে সাথে সাথে গ্রহণ করা ওয়াজিব, অন্যথায় সেই চুক্তি হারাম সুদ ও বাতিল বেচাকেনা হবে। কাজেই নগদ ও হাতে হাতে গ্রহণ করা ছাড়া রূপার বিনিময়ে সোনা এবং সোনার বিনিময়ে রূপা বিক্রি করা যাবে না। অনুুরূপভাবে ওজনে ওজন, পরিমাপে পরিমাপ সমান সমান ও হাতে হাতে গ্রহণ করা ছাড়া গমের বিনিময়ে গম, যবের বিনিময়ে যব, খেজুরের বিনিময়ে খেজুর বিক্রি করা যাবে না। এসবের কোনো পণ্য একটি নগদ আরেকটি বাকি এবং একই মজলিস গ্রহণ করা ছাড়া বিক্রি করা যাবে না।
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফু‘ হিসেবে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম গ্রামবাসীর পক্ষে শহরবাসীকে বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন এবং তোমরা প্রতারণামূলক দালালী করবে না। কোন ব্যক্তি যেন তার ভাইয়ের ক্রয়-বিক্রয়ের উপর ক্রয়-বিক্রয় না করে। কেউ যেন তার ভাইয়ের বিবাহের প্রস্তাবের উপর প্রস্তাব না দেয়। কোন মহিলা যেন তার বোনের (সতীনের) তালাকের দাবী না করে, যাতে সে তার পাত্রে যা কিছু আছে, তা নিয়ে নিতে পারে।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।সহজ-সরল ইসলামী শরী‘আত মুসলিম সমাজের অধিবাসীদের মধ্যে হিংসা-বিদ্বেষ ও শত্রুতার কারণসমূহ নিশ্চিহ্ন করেছে। উপরোক্ত হাদীসে এ বিষয়টি সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিক্রেতার স্বার্থে পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির জন্য ক্রয়ের উদ্দেশ্য না করে শুধু বস্তুটির মূল্য বৃদ্ধির জন্য দরদাম করতে নিষেধ করেছেন। অথবা ক্রেতার ক্ষতিসাধনে পণ্যটি মূল্য বাড়িয়ে দেওয়া এবং পণ্যটি (ভালো হওয়া সত্ত্বেও) সেটি ক্রয় করতে নিষেধ করা। যেহেতু এতে রয়েছে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের জন্যই মিথ্যাচার ও প্রতারণা এবং ষড়যন্ত্র ও ধোকাবাজি করে পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি। এমনিভাবে তিনি গ্রামবাসীর পক্ষে শহরবাসীকে পণ্য বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন। কেননা এতে শহরবাসী পণ্যটির মূল্য পূর্ণরূপে জ্ঞাত থাকায় সে পণ্যটি এতো উচ্চ দাম হাকবে যে এতে ক্রেতাগণ লাভবান হতে পারবে না। অথচ নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “মানুষকে তার স্বাভাবিকতার উপর ছেড়ে দাও। আল্লাহ তাদের একের দ্বারা অন্যকে রিযিক দান করেন।” গ্রামবাসী যখন পণ্যটি বিক্রি করবে তখন সে ক্রেতার কাছ থেকে এর ন্যায্য মূল্য পাবে। সুতরাং গ্রামবাসীর পক্ষে শহরবাসীকে পণ্য বিক্রয় করতে নিষেধ করার কারণ হলো যাতে শহরের অধিবাসীদের জন্য জিনিস ক্রয়-বিক্রয় করতে সংকীর্ণ না হয়। কারো ভাইয়ের বিবাহের প্রস্তাবের উপর প্রস্তাব দেওয়া হারাম; যতক্ষণ সে জানতে পারে যে, প্রস্তাবকারী তার প্রস্তাব থেকে সরে এসেছে অথবা তার প্রস্তাবে কন্যাপক্ষ সাড়া দেয় নি। যেহেতু একজনের বিবাহের প্রস্তাবের ওপর আরেকজন প্রস্তাব দিলে শত্রুতা ও হিংসা-বিদ্বেষ সৃষ্টি হয় এবং অন্যের রিযিক নষ্ট করা হয়। কোন মহিলা তার স্বামীর কাছে তার সতীনের তালাকের দাবী অথবা তাকে তালাক দিতে প্রলুব্ধ করা অথবা তাদের উভয়ের মাঝে তালাকের উদ্দেশ্যে সম্পর্ক বিনষ্ট করতে ফিতনা-ফ্যাসাদ ও ঝগড়া সৃষ্টি করা হারাম। এ ধরণের সকল কাজ করা হারাম; যেহেতু এতে রয়েছে বিরাট বিশৃঙ্খলা, শত্রুতা সৃষ্টি, অন্যের ক্ষতি সাধন কামনা ও তালাকপ্রাপ্তা নারীর রিযিক বিনষ্ট করা। এগুলোকে রূপকার্থে বলা হয়েছে, যাতে সে বিবাহের কারণে তার (সতীনের) পাত্রে কল্যাণকার যা কিছু আছে এবং বৈবাহিক সম্পর্কের কারণে অত্যাবশ্যকীয়ভাবে প্রদেয় ভরণ-পোষণ ও অন্যান্য অধিকারসমূহ নিজেই নিয়ে নিতে পারে।”
আবূ মিনহাল রাহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বারা ইবন আযেব ও যায়েদ ইবন আরকাম রাদিয়াল্লাহু আনহুমাকে মুদ্রার বিনিময় সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করলাম। প্রত্যেকেই অপরের সম্পর্কে বললেন, তিনি আমার চাইতে উত্তম। এরপর উভয়ে বললেন, “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাকীতে রুপার বিনিময়ে সোনা ক্রয়-বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।আবূ মিনহাল রাহিমাহুল্লাহ বারা ইবন আযেব ও যায়েদ ইবন আরকাম রাদিয়াল্লাহু আনহুমাকে সারফ তথা মুদ্রার বিনিময় সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করলেন। তা হলো মূল্য জাতিয় জিনিস যেমন সোনা-রুপার একটি অন্যটির বিনিময়ে ক্রয়-বিক্রয় করা। সতর্কতাস্বরূপ তাদের একজন অন্যজনের কাছ থেকে ফাতওয়া নিতে বললেন এবং নিজেকে এ ব্যাপারে অপরজনের তুলনায় নগণ্য মনে করলেন। কিন্তু উভয়েই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যে হাদীস মুখস্ত রেখেছেন, সে ব্যাপারে তারা একমত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাকীতে রুপার বিনিময়ে সোনা ক্রয়-বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন। কেননা এতে উভয় পন্যতেই সুদের কারণ পাওয়া যায়। (উভয়টি পন্যদ্রব্য ক্রয়-বিক্রয়ের মূল্য হিসাবে ব্যবহৃত হওয়াই সুদের কারণ) তাই এর বেচা-কেনার বৈঠকে নগদ নগদ গ্রহণ করা আবশ্যক হয়ে যায়। নতুবা ক্রয়-বিক্রয় সহীহ হবে না এবং তা বাকীতে হওয়ার কারণে সুদ হয়ে যাবে। একটি সতর্কতা: সুদ হলো আর্থিক হারাম লেনদেন, যা দু’ভাগে বিভক্ত। ঋণের সুদ, যা নির্দিষ্ট পরিমাণ ঋণের ওপর নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অতিরিক্ত নেওয়া হয়। আর দ্বিতীয় প্রকারের সুদ হলো বেচা-কেনায় সুদ। তা হলো নির্দিষ্ট শ্রেণীর জিনিস বেচা-কেনায় নগদ বা বাকীতে অতিরিক্ত পরিমাণ নেওয়া। এগুলোকে সুদী জিনিস বলে নামকরণ করা হয়। যেমন স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ বা গমের বিনিময়ে গম নেওয়া।
আবূ বাকরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম রৌপ্যের বিনিময়ে রৌপ্য ও স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ সমান সমান ব্যতিরেকে ক্রয় করতে নিষেধ করেছেন। আমরা যেভাবে চাই সেভাবে তিনি স্বর্ণের বিনিময়ে রৌপ্য এবং রৌপ্যের বিনিময়ে স্বর্ণ ক্রয় করার অনুমতি দিয়েছেন। বর্ণনাকারী বলেন, অতপরঃ এক ব্যক্তি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, “হাতে হাতে (নগদ নগদ)?” তিনি বললেন, “এরূপই আমি শুনেছি।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ ও রৌপ্যের বিনিময়ে রৌপ্য অতিরিক্ত নেওয়া রিবা তথা সুদ। তাই নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সমান সমান ব্যতিরেকে এগুলোর ক্রয়-বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন। অন্যদিকে রৌপ্যের বিনিময়ে স্বর্ণ বা স্বর্ণের বিনিময়ে রৌপ্য ক্রয় করতে কোন অসুবিধে নেই; যদিও তা কম বা বেশি হোক। তবে বেচা-কেনাটি বৈধ হতে হলে ক্রয়-বিক্রয়ের বৈঠকে তা ক্রেতা কর্তৃক গ্রহণ করতে হবে; নতুবা তা রিবা নাসী তথা বিলম্বে গ্রহণকৃত হারাম সুদ হবে। কেননা সোনা-রূপা দু’টি ভিন্ন জাতীয় বস্তু হওয়ায় তাতে কম বা বেশি নেওয়া জায়েয; কিন্তু গ্রহীতা কর্তৃক তা নগদ গ্রহণ করা শর্ত সাপেক্ষে হতে হবে।কারণ, সুদের কারণ যা উভয়ের মাঝে একত্র রয়েছে।
উসমান ইবনু আবূল আস-সাকাফী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট একটি ব্যথার অভিযোগ করলেন, যা তিনি ইসলাম গ্রহণের পর থেকে তার দেহে অনুভব করছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, “তোমার শরীরের যে অংশ ব্যথাযুক্ত হয়, তার উপরে তোমার হাত রেখে তিনবার ’বিসমিল্লা-হ’ বলবে এবং সাতবার বলবে-أَعُوذُ بِاللَّهِ وَقُدْرَتِهِ مِنْ شَرِّ مَا أَجِدُ وَأُحَاذِرُ "আল্লাহ এবং তার ক্ষমতার আশ্রয় প্রার্থনা করছি- যা আমি অনুভব করি এবং যা থেকে ভয় করি তার অনিষ্ট হতে।"
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেনউসমান ইবনু আবি আল-আস রাদিয়াল্লাহু আনহু এমন ব্যথায় ভুগছিলেন যা তাকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে দেখতে গেলেন এবং তাকে এমন একটি দোয়া শিখিয়ে দিলেন যার মাধ্যমে আল্লাহ তাকে যে রোগে আক্রান্ত করেছেন তা থেকে নিরাময় করবেন। তা হল তিনি যে অংশে ব্যথা অনুভব করেন সেখানে তার হাত রাখবেন এবং বলবেন: (بسم الله) তিনবার, তারপর সাতবার বলতে: (أعوذ) আশ্রয়, সুরক্ষা এবং নিরাপত্তা চাই (بالله وقدرته من شر ما أجد) বর্তমান সময়কার ব্যথা (وأُحاذِر) এবং ভয় পাই ভবিষ্যতে দুঃখ ও ভয়ে আক্রান্ত হওয়ার বা এই অসুস্থতার ধারাবাহিকতা এবং শরীরে ব্যথার বিস্তার থেকে আশ্রয় চাই।
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে মারফু‘ হিসেবে বর্ণিত, অনুসরণ করার জন্যেই ইমাম নির্ধারণ করা হয়েছে। অতএব, তোমরা আমলে তার সাথে অনৈক্য করো না। যখন সে তাকবীর বলে তোমরাও তখন তাকবীর বল এবং যখন সে রুকু করে তোমরাও তখন রুকু কর। আর যখন সে, ‘সামিআ‘ল্লাহুলিমান হামিদাহ’ বলে, তোমরা তখন ‘রাব্বানা লাকাল হামদ্’ বল, আর যখন সে সাজদাহ করে তোমরাও তখন সাজদাহ কর। আর যখন সে বসে সালাত পড়ে তোমরাও তখন সম্মিলিতভাবে বসে সালাত পড়।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুক্তাদিদেরকে ইমাম নির্ধারণ করার হিকমত সম্পর্কে অবহিত করেছন। আর সেটি হচ্ছে মুক্তাদিরা তাদের সালাতে ইমামের অনুসরণ করবে, সালাতের কোনো আমল নিয়ে তার সাথে বিরোধে লিপ্ত হবে না, বরং নিয়ম অনুযায়ী তার পরিবর্তনগুলো লক্ষ্য করবে। যখন সে তাহরীমার জন্যে তাকবীর বলে, তোমরাও সেরূপ তাকবীর বল। আর যখন সে রুকু করে তোমরাও তার পরে রুকু কর। আর যখন সে "সামিআ‘ল্লাহুলিমান হামিদাহ" বলে তোমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রশংসা করে আল্লাহ তার ডাকে সাড়া দেন, তখন তোমরা "রাব্বানা লাকাল হামদ্" বলে আল্লাহর প্রশংসা কর। অনুরূপভাবে বর্ণিত অন্যান্য বাক্যও বলা যায়, যেমন এক. "রাব্বানা ওয়ালাকাল হামদ্" দুই. "আল্লাহুম্মা রাব্বানা ওয়ালাকাল হামদ্" তিন. "আল্লাহুম্মা রাব্বানা লাকাল হামদ্" প্রভৃতি। আর যখন সে সাজদাহ করে তোমরা তার অনুসরণ কর ও সাজদাহ কর। আর যখন সে ওযরবশত বসে সালাত পড়ে, তার অনুসরণ করতে গিয়ে তোমরাও বসে সালাত পড়, যদিও তোমরা দাঁড়াতে সক্ষম।
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফূ‘ হিসেবে বর্ণিত, “বিবাহিত মহিলাকে তার নির্দেশ ছাড়া বিবাহ দেওয়া যাবে না। আর কুমারী নারীকে তার অনুমতি ছাড়া বিবাহ দেওয়া যাবে না। তার বলল, হে আল্লাহর রাসূল! তার অনুমতি কীভাবে গ্রহণ করা হবে? তিন বললেন, তার চুপ থাকা।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।বিবাহ বন্ধন একটি মারাত্মক বন্ধন। এর মাধ্যমে একজন পুরুষ একজন নারীর সর্বাধিক সংরক্ষিত বস্তু অর্থাৎ লজ্জাস্থানকে বৈধ করে থাকে। এ ধরনের একটি বন্ধনের মাধ্যমে একজন নারী তার স্বামীর কাছে আবদ্ধ হয়ে যায়। এ কারণেই ইনসাফগার, পরম করুণাময় ও দয়ালু শরী‘আত প্রণেতা তার জীবন সঙ্গীকে পছন্দ করা এবং দেখে শুনে নির্বাচন করার ক্ষমতা দিয়েছেন। কারণ, সেই তার সাথে বসবাস করবে এবং সেই নিজের আগ্রহ ও ভালোবাসা সম্পর্কে অধিক অবগত। এ কারণেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিবাহিত মহিলাকে তার নির্দেশ ছাড়া বিবাহ দিতে নিষেধ করেছেন, সেই তার নির্দেশ দিবে। অনুরূপভাবে কুমারী নারীকে তার অনুমতি ছাড়া বিবাহ দিতে নিষেধ করেছেন। এ ক্ষেত্রেও তার অনুমতির কথা বলা হয়েছে। কারণ, কুমারী নারীদের সাধারণত লজ্জা অধিক হয়ে থাকে। এ কারণে তার ক্ষেত্রে সহজ পন্থাটি গ্রহণ করা হয়েছে, আর তা হলো অনুমতি। যেমন, তার চুপ থাকাকে তার রাজি থাকার দলীল বলে যথেষ্ট মনে করা হয়েছে।
ইবনু ’আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম সমস্ত লোকের চেয়ে অধিক দানশীল ছিলেন। আর মাহে রমযানে যখন জিব্রাঈল তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন, তখন তিনি আরো বেশী বদান্য প্রদর্শন করতেন। জিব্রাঈল মাহে রমযানের প্রত্যেক রজনীতে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন এবং তাঁর কাছে কুরআন পুনরাবৃত্তি করতেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবশ্যই প্রেরিত বায়ু অপেক্ষা অধিক দানশীল ছিলেন।”
সহীহ বুখারী ও মুসলিমনবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহাদানশীল ছিলেন। রমযান মাসে তার দানের প্রশস্ততা বেশী বৃদ্ধি পেত, তখন তিনি যার জন্য যা উপযুক্ত হত তাকে তাই দান করতেন। তার উদারতা বৃদ্ধির কারণ ছিল দুটি বিষয়: প্রথম: জিব্রাইল আলাইহিস সালামের সাথে তাঁর সাক্ষাৎ। দ্বিতীয় বিষয়: কুরআন অধ্যয়ন, অর্থাৎ মুখস্থ পাঠ করা। জিব্রাইল আলাইহিস সালাম তাঁর সাথে কুরআন থেকে যতটুকু অবতীর্ণ হয়েছিল তা অধ্যয়ন করতেন। আল্লাহ্র রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও উদার, আরও দানশীল, আরও কল্যাণকর ছিলেন এবং আল্লাহ তা‘আলা বৃষ্টি ও রহমতের সাথে যে পবিত্র বাতাস প্রেরণ করেন সৃষ্টির জন্য তার চেয়ে বেশী দ্রুত উপকারী ছিলেন।
আয়েশা রাদিয়াল্লাহ আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শাবানের চাইতে বেশি সিয়াম কোনো মাসে রাখতেন না। অপর বর্ণনায়, তিনি অল্প কিছুদিন ব্যতীত পূর্ণ শাবান সিয়াম রাখতেন।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।আয়েশা রাদিয়াল্লাহ আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শাবান মাস চাইতে বেশি নফল রোযা অন্য কোন মাসে রাখতেন না। নিঃসন্দেহে তিনি পূর্ণ শাবান মাস রোযা রাখতেন।’ অপর বর্ণনায় বর্ণিত: তিনি সাবান মাসে রোযা রাখতেন তবে স্বল্প সংখ্যক দিন বাদ দিতেন। দ্বিতীয় হাদীসটি প্রথম হাদীসের ব্যখ্যা এবং এ কথা স্পষ্ট করা যে, তার কথা পূর্ণ শাবান অর্থ হলো অধিকাংশ। আবার কেউ কেউ বলেছেন, কোন বছর তিনি পুরো মাস আবার কোন বছর কতক দিন সিয়াম রাখতেন। আবার কেউ কেউ বলেন, কখনো সময় তিনি শুরুতে আবার কখনো সময় তিনি শেষে রোযা রাখতেন আবার কখনো সময় মাঝামাঝি রোযা রাখতেন। তার কোন অংশই রোযা রাখা ছাড়া বাকী থাকতো না। সুতরাং একজন মানুষের জন্য উচিত হলো, অন্য মাসের তুলনায় সাবান মাসে অধিকহারে সাওম পালন করা। কারণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ মাসে সাওম পালন করতেন। এ হিকমত হলো, রমযান মাসের পূর্বে রোযা রাখা ফরয সালাতের পূর্বে সুন্নাতে রাতিবার মতো গণ্য হয়। আবার কেউ কেউ বলেছেন, এ মাসে বিশেষভাবে বেশি বেশি করে সাওম পালনের কথা বলেছেন কারণ, এ মাসে বান্দার আমলসমূহ আল্লাহর দরবারে তুলে নেওয়া হয়। যেমনটি সুন্নাত দ্বারা প্রমাণিত।