





























Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
All
সাহল ইবনু সা’দ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বার দিবসে বলেন: অবশ্যই আগামীকাল আমি এই পতাকা এমন এক ব্যক্তিকে দেব, যার হাতে আল্লাহ তা’আলা বিজয় দান করবেন, যে আল্লাহ তা‘আলা ও তাঁর রাসূলকে ভালোবাসেন আর আল্লাহ ও তাঁর রাসূলও তাকে ভালোবাসেন। রাবী বলেন: মানুষেরা সারারাত চিন্তার মধ্যে কাটালো যে, কাকে সেটি দেওয়া হবে। ভোর হতেই লোকেরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে উপস্থিত হলো। তারা প্রত্যেকেই আশা করছিলেন যে, পতাকা তাকেই দেওয়া হবে। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: ‘আলী ইবনু আবূ ত্বালিব কোথায়? বলা হল: হে আল্লাহর রাসূল! তার চোখে অসুস্থতা দেখা দিয়েছে। তিনি বললেন: তার কাছে কাউকে পাঠাও। অতপর আলী রদিয়াল্লাহু আনহুকে আনা হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দু’চোখে থুথু লাগিয়ে দিলেন এবং তার জন্য দু‘আ করলেন। তাতে তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে গেলেন, যেন তার চোখে কোন ধরণের রোগই ছিল না।অতপর তিনি পতাকাটি তার হাতে প্রদান করলেন। পতাকা হাতে নিয়ে ’আলী রদিয়াল্লাহু আনহু বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! শত্রুদের বিরুদ্ধে আমি কি সেই অবধি যুদ্ধ করে যাব যে পর্যন্ত না তারা আমাদের মত হয়ে যায়? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “তুমি ধীরে-সুস্থে চল, যতক্ষণ না তুমি তাদের অঙ্গনে পৌঁছুবে, তারপরে সর্বপ্রথম তাদেরকে ইসলামের দিকে আহ্বান করবে এবং তাদের উপরে আল্লাহ যা আবশ্যক করেছেন, তা সম্পর্কে তাদেরকে অবহিত করবে। আল্লাহর কসম! তোমার দ্বারা যদি আল্লাহ একটি লোককেও হিদায়াত দান করেন, তবে তা তোমার জন্য লাল রঙের উট অপেক্ষাও উত্তম হবে।”
সহীহ বুখারী ও মুসলিমনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরের দিন খায়বারের ইহুদীদের উপর মুসলমানদের বিজয়ের বিষয়ে সাহাবীদের অবহিত করেছিলেন, আর তা এভাবে যে, একজন ব্যক্তির হাতে পতাকা দেওয়া হবে, এটি হচ্ছে এমন পতাকা যা কোন সেনাবাহিনী তার নিজস্ব প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করে। এ ব্যক্তির বিশেষ বৈশিষ্টে্যর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে: আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলকে সে ভালোবাসে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলও তাকে ভালোবাসে। সুতরাং সাহাবারা তাদের পুরো রাত ব্যাপী চিন্তা-ভাবনা ও আলোচনা করে কাটালেন যে, কাকে পতাকা দেওয়া হবে? কারণ তারা সকলেই এ মর্যাদাটির প্রতি আগ্রহী ছিলেন। যখনই সকাল হল, তারা সকলেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে গেলেন, আর তারা প্রত্যেকেই মনে মনে এ মর্যাদাটি পেয়ে কৃতকার্য হওয়ার আশা করছিলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলী ইবনু আবী ত্বালিব রদিয়াল্লাহু আনহু সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। বলা হল: তিনি অসুস্থ, তার দুই চোখ রোগে আক্রান্ত। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কাছে লোক পাঠালেন, তারা তাকে সাথে নিয়ে আসলেন, এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলীর দুই চোখে তার থুথু/লালা নিয়ে লাগিয়ে দিলেন এবং তার জন্য দু‘আ করলেন, তখন তিনি এমনভাবে সুস্থ হয়ে গেলেন যে, তার চোখে কখনো ব্যাথ্যাই হয়নি। তারপরে তিনি তার হাতে পতাকা তুলে দিলেন। এরপরে তিনি তাকে নসীহত করলেন যে, শত্রুর দূর্গের কাছাকাছি যাওয়া পর্যন্ত ধীরে সুস্থে যেতে হবে এবং সেখানে যেয়ে তাদেরকে ইসলামে প্রবেশের দাও‘আত দিতে হবে, যদি তারা সাড়া দেয় তাহলে তাদেরকে ফরয বিধানগুলি সম্পর্কে অবহিত করবে। তারপরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলীকে আল্লাহ্র দিকে ডাকার ফযীলত ব্যাখ্যা করলেন যে, একজন দায়ী (দীন প্রচারক) যদি একজন মানুষের হিদায়াতের কারণ হয়, তবে সেটা তার কাছে লাল উট থাকার চেয়ে উত্তম। লাল উট হচ্ছে আরবদের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ,যার মালিকানা লাভ করা অথবা এটিকে দান করে দেওয়া।
যায়দ ইবনু খালিদ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে জিহাদকারীর আসবাবপত্র সরবরাহ করল সে যেন জিহাদ করল। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে কোন জিহাদকারীর পরিবার-পরিজনকে উত্তমরূপে দেখাশোনা করল, সেও যেন জিহাদ করল”।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমনবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় জিহাদকারীর জন্য তার ভ্রমণের আসবাব এবং তার প্রয়োজনীয় অস্ত্র, যানবাহন, খাদ্য, খরচ এবং অন্যান্য জিনিস প্রস্তুত করেদিল; তিনি জিহাদকারীর মত এবং তার জন্য জিহাদকারীদের সাওয়াব হাসিল হবে। যে ব্যক্তি জিহাদকারীর দায়িত্ব ভালোভাবে গ্রহণ করে এবং তার অনুপস্থিতিতে তার পরিবার-পরিজনের দেখাশোনা করার দায়িত্ব পালন করে, তাহলে সে জিহাদকারীর হুকুমে থাকে।
ইয়াহইয়া ইবন ‘উমারাহ আল-মাযেনী রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি একদা ‘আমর ইবনু আবূ হাসান রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর নিকট উপস্থিত ছিলাম। তিনি ‘আবদুল্লাহ ইবনু যায়েদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুকে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের অযু সম্পর্কে প্রশ্ন করলেন। অতঃপর তিনি পানির একটি পাত্র আনতে বললেন। অতঃপর তিনি তাঁদের (দেখাবার) জন্য নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের অযুর মতো অযু করলেন। তিনি পাত্রটি কাত করে উভয় হাতের উপর পানি ঢেলে তিনবার তা ধুয়ে ফেলেন। তারপর পাত্রের মধ্যে হাত ঢুকালেন এবং তিন আঁজলা পানি দিয়ে তিনবার করে কুলি করলেন এবং নাকে পানি দিয়ে তা ঝাড়লেন। অতঃপর পুনরায় পাত্রের মধ্যে হাত ঢুকিয়ে তিনবার মুখমণ্ডল ধুলেন। অতঃপর পুনরায় পাত্রের মধ্যে হাত ঢুকিয়ে উভয় হাত কনুই পর্যন্ত দু’-দু’বার ধুলেন। অতঃপর পুনরায় পাত্রের মধ্যে হাত ঢুকিয়ে তাঁর উভয় হাত সামনে থেকে পেছনে নিয়ে মাসেহ করলেন। তারপর টাখনুসহ দুই পা ধুলেন।
সহীহ বুখারী ও মুসলিম‘আবদুল্লাহ ইবনু যায়েদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের অযুর পদ্ধতি এ হাদীসে বাস্তব চিত্রে বর্ণনা করেছেন। প্রথমত তিনি পানির ছোট একটি পাত্র চাইলেন। অতঃপর তিনি শুরুতেই হাতের তালুদ্বয় ধৌত করার মাধ্যমে অযু আরম্ভ করলেন। অতঃপর তিনি পাত্রটি কাত করে উভয় হাতের উপর পানি ঢেলে পাত্রের বাহিরে তিনবার তালুদ্বয় ধুয়ে ফেলেন। তারপর পাত্রের মধ্যে হাত ঢুকালেন এবং তিন আঁজলা পানি দিয়ে তিনবার করে কুলি করলেন এবং নাকে পানি দিয়ে তা ঝাড়লেন। অতঃপর পুনরায় পাত্রের মধ্যে হাত ঢুকিয়ে তিনবার মুখমণ্ডল ধুলেন। অতঃপর পুনরায় পাত্রের মধ্যে হাত ঢুকিয়ে উভয় হাত কনুই পর্যন্ত দু’-দু’বার ধুলেন। অতঃপর পুনরায় পাত্রের মধ্যে হাত ঢুকিয়ে তাঁর মাথা হাত দিয়ে সামনের থেকে পেছনের ঘাড়ের উপরি অংশ পর্যন্ত, অতঃপর তা আবার মাথার সামনের অংশে ফিরে এনে (সম্পূর্ণ মাথা) মাসেহ করলেন। অতঃপর টাখনুসহ দুই পা ধুলেন।
ইবনে শিমাসাহ আল-মিহরি হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমর ইবনে আ’স রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু-এর মরণো¦মুখ সময়ে আমরা তাঁর নিকটে উপস্থিত হলাম। তিনি অনেক ক্ষণ ধরে কাঁদতে থাকলেন এবং দেওয়ালের দিকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। এরূপ অবস্থা দেখে তাঁর এক ছেলে বলল, ‘আব্বাজান! আপনাকে কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম অমুক জিনিসের সুসংবাদ দেননি? আপনাকে কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম অমুক জিনিসের সুসংবাদ দেননি?’ এ কথা শুনে তিনি তাঁর চেহারা সামনের দিকে ক’রে বললেন, আমাদের সর্বোত্তম পুঁজি হল, এই সাক্ষ্য প্রদান করা যে, আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল। আমি তিনটি স্তর অতিক্রম করেছি। (এক) আমার চেয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি বড় বিদ্বেষী আর কেউ ছিল না। তাঁকে হত্যা করার ক্ষমতা অর্জন করাই ছিল আমার তৎকালীন সর্বাধিক প্রিয় বাসনা। যদি (দুর্ভাগ্যক্রমে) তখন মারা যেতাম, তাহলে নিঃসন্দেহে আমি জাহান্নামী হতাম। (দুই) তারপর যখন আল্লাহ তাআলা আমার অন্তরে ইসলাম দান করলেন, তখন নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট হাযির হয়ে নিবেদন করলাম, ‘আপনার ডান হাত প্রসারিত করুন। আমি আপনার হাতে বায়আত করতে চাই।’ বস্তুতঃ তিনি ডান হাত বাড়িয়ে দিলেন। কিন্তু আমি আমার হাত টেনে নিলাম। তিনি বললেন, “আমর! কী ব্যাপার?” আমি নিবেদন করলাম, ‘একটি শর্ত আরোপ করতে চাই।’ তিনি বললেন, “শর্তটি কী?” আমি বললাম, ‘আমাকে ক্ষমা করা হোক---শুধু এতটুকুই।’ তিনি বললেন, “তুমি কি জানো না যে, ইসলাম পূর্বের সমস্ত পাপকে মিটিয়ে দেয়, হিজরত পূর্বের সমস্ত পাপকে নিশ্চিহ্ন ক’রে ফেলে এবং হজ্জ ক্ষমা ও পূর্বের পাপসমূহ ধ্বংস ক’রে দেয়?” তখন থেকে আমার নিকট রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম অপেক্ষা অধিক প্রিয় মানুষ আর কেউ নেই। আর আমার দৃষ্টিতে তাঁর চেয়ে সম্মানী ব্যক্তি আর কেউ নেই। তাঁকে সম্মান ও শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করার অবস্থা এরূপ ছিল যে, তাঁর দিকে নয়নভরে তাকাতে পারতাম না। যার ফলে আমাকে কেউ যদি প্রশ্ন করে যে, ‘আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর গঠনাকৃতি কিরূপ ছিল?’ তাহলে আমি তা বলতে পারব না। এ অবস্থায় যদি আমার মৃত্যু হয়ে যেত, তাহলে আশা ছিল যে, আমি জান্নাতবাসীদের অন্তর্ভুক্ত হতাম। (তিন) তারপর বহু দায়িত্বপূর্ণ বিষয়াদির খপ্পরে পড়লাম। জানি না, তাতে আমার অবস্থা কী? সুতরাং আমি মারা গেলে কোন মাতমকারিণী অথবা আগুন যেন অবশ্যই আমার (জানাযার) সাথে না থাকে। তারপর যখন আমাকে দাফন করবে, তখন যেন তোমরা আমার কবরে অল্প অল্প ক’রে মাটি দেবে। অতঃপর একটি উট যবেহ ক’রে তার মাংস বন্টন করার সময় পরিমাণ আমার কবরের পাশে অপেক্ষা করবে। যাতে আমি তোমাদের সাহায্যে নিঃসঙ্গতা দূর করতে পারি এবং আমার প্রভুর প্রেরিত ফিরিশতারা কিভাবে আমার প্রতি উত্তর করে সেটা দেখতে পারি।
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।আমর ইবনুল আস রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদীস যেটি কল্যাণের প্রতি সু সংবাদ ও মুবারকবাদকে অর্ন্তভুক্ত করে তা একটি ঘটনা। এ মহান ঘটনার সারসংক্ষেপ হলো যথন তিনি মৃতু অভিমুখি তখন তার কতক সাথী তার নিকট উপস্থিত হলো। তিনি খুব কাঁদলেন এবং স্বীয় চেহারাকে দেওয়ালের দিকে ফিরিয়ে নিলেন। অথচ সে অচীরেই দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। তখন তার ছেলে তাকে বলল, তুমি কেন কাঁদছো, অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাকে জান্নাতের সু সংবাদ দিয়েছেন? তখন তিনি বললেন, হে ছেলে আমি তিনটি অবন্থা অতিক্রক করেছি। তারপর তিনি তিনটি অবস্থার বর্ণনা দেন। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে খুব দুশমন ভাবতেন। যমীনের বুকে আর কারো সাথে তিনি এতো বেশি দুশমনি রাখতেন না যেমনটি তার সাথে রাখতেন। আর সে পছন্দ করত যে, যদি সে সুযোগ পেত তাহলে সে তাকে হত্যা করত। এটি ছিল সবচেয়ে মারাত্মক কুফর। তারপর আল্লাহ তার অন্তরে ইসলাম ডেলে দিল। তখন সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল তুমি তোমার হাত বিছিয়ে দাও যাতে আমি তোমার হাতে ইসলামের ওপর বাইয়াত গ্রহণ করি। আর রাসূল ছিল চারিত্রিক দিক দিয়ে সবার চেয়ে সুন্দর। তাই তিনি হাত বিছিয়ে দিলেন। কিন্তু আমর ইবনুল আস রাদিয়াল্লাহু আনহু হাত ঘুটিয়ে নিলেন। এটি অহংকার করে নয় বরং পরবর্তী কথাকে শক্তিশালী করার জন্য। তখন তিনি তাকে বললেন, তোমার কি হয়েছে? আমি ইসলাম গ্রহণ করার জন্য শর্তারোপ করতে চাই। বললেন, কি শর্ত? অতীতের গুনাহ ও কুফরীর ক্ষমা করা শর্ত। এটি ছিল তার বড় চিন্তা। তাই তিনি শর্তারোপ করলেন যাতে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেয়। তিনি ধারণা করছিলেন যে, আল্লাহ তা‘লা হয়তো তার অতীত ক্ষমা করবেন না। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, “তুমি কি জানো না যে, ইসলাম পূর্বের সমস্ত পাপকে মিটিয়ে দেয়, হিজরত পূর্বের সমস্ত পাপকে নিশ্চিহ্ন ক’রে ফেলে এবং হজ্জ ক্ষমা ও পূর্বের পাপসমূহ ধ্বংস ক’রে দেয়? তিনটি বস্তু। ইসলাম পূর্বের সমস্ত পাপকে মিটিয়ে দেয় তা আল্লাহর মহান কিতাব দ্বার প্রমাণিত। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, যারা কুফরী করে তাদের বলে দিন, যদি তারা বিরত থাকে তাদের যা অতীত হয়েছে তা ক্ষমা করে দেওয়া হবে। আর যদি ফিরে আসে পূর্ববতীদের রীতিনীতি অতিবাহিত হয়েছে। [ সূরা আনফাল, আয়াত: ৩৮] হিজরত: যখন কোন ব্যক্তি তার কুফরের এলাকা যাতে সে বসবাস করে তা ছেড়ে যায় তার অতীতের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে। আর হজ অতীতের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেয়। কারণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, মাবরুর হজের বিনিময় জান্নাত বৈ কি হতে পারে? তিনি বলেন, যদি প্রথম অবস্থায় মারা যেতেন তখন তিনি জাহান্নামী হতেন। আর যদি এ অবস্থায় মারা যেতাম তাহলে আশা করতাম যে, আমি জান্নাতী। দেখ সতর্কতা। তিনি নিশ্চিত যে যদি প্রথম অবস্থায় মারা যেতেন তাহলে তিনি জাহান্নামী হতেন। আর দ্বিতীয় অবস্থা অধিক ভয়ের কারণে তিনি বলেন, যদি এ অবস্থায় মারা যেতাম তাহলে আশা রাখি যে, আমি জান্নাতী হবো। কারণ জান্নাতে যাওয়ার গ্যারান্টি দেওয়া কঠিন কাজ। তারপর আমর ইবনুল আস রাদিয়াল্লাহ আনহু বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। আমীর ও নেতার দায়িত্ব পালন করেন। মুআ‘বিয়্যাহ ও অন্যান্যদের সাথে সংঘটিত যুদ্ধে যা হওয়ার হয়েছে। আমর ইবনুল আস আরবের লোকদের মধ্যে সর্বাধিক মেধাবী ও বুদ্ধিমাণ হিসেবে প্রসিদ্ধ ছিলেন। তারপর তিনি বলেন, মাঝের অবস্থার পর যে অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে আমি ভয় করি যে, তা আমার আমলকে ঘ্রাস করে নিবে। তারপর তিনি উপদেশ দেন যে, তিনি যখন মারা যাবেন তখন যেন কেউ নিয়াহাহ না করে। আর নিয়াহাহ হলো, সেই নারী যে মৃত ব্যক্তির ওপর চিৎকার করে এবং কবুতরের ডাকের মতো খুব জোরে কান্নাকাটি করে। তিনি নির্দেশ দেন যে, যখন তাকে দাফন করা হয় তারা যেন তার কবরের পাশেে এ পরিমান সময় অবস্থান করে, যে পরিমাণ সময়ে একটি উট জবেহ করে তার গোস্ত বন্টন করা যায়। যাতে আাল্লাহর ফিরিশতাগণ যারা মৃতকে দাফন করার পর কবরে আসে তারা ফিরে যায়। কারণ, যখন কোন মানুষকে দাফর করা হয়, তখন দুইজন ফিরিশতা আসে, কবরের মধ্যে তাকে বসিয়ে তিনটি বিষয়ে জিজ্ঞাসা করে। তারা দুইজন বলে তোমার রব কে? তোমার দীন কি? আর তোমার নবী কে? আমর ইবনুল আস রাদিয়াল্লাহু আনহু তার পরিবারকে উট জবেহ করে তার গোস্ত বন্টন করতে যত সময় লাগে তত সময় পর্যন্ত অবস্থান করার নির্দেশ দিয়েছেন যাতে তাদের দ্বারা তিনি সহচর্যতা লাভ করেন। এতে প্রমাণিত হয় যে, মৃত ব্যক্তি তার পরিবারকে কবরের মধ্যে অনুভব করে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত: যখন তারা দাফন করে বাড়িতে ফিরে তখন সে তাদের খড়মের আওয়াজ শুনতে পায়। জুতার নিম্ন আওয়াজ মৃত ব্যক্তি শুনতে পায়, যখন তারা তাকে দাফন করে ফিরে। একটি হাসান হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত: তিনি যখন মৃতদের দাফন করতেন তার ওপর অবস্থান করতেন। আর তিনি বলেন, তোমরা তোমার ভাইযের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো এবং তার জন্য ইস্তেকামাত চাও। কারণ এখন সে জিজ্ঞাসিত হবে। সুতরাং মুস্তাহাব হলো যখন মুরদা দাফন করা হয়, তখন লোকেরা তার কবরের ওপর দাঁড়াবে এবং বলবে হে আল্লাহ তাকে তুমি অটুট রাখো, হে আল্লাহ তাকে তুমি অটুট রাখো। হে আল্লাহ তুমি তাকে ক্ষমা করো. হে আল্লাহ তুমি তাকে ক্ষমা করো হে আল্লাহ তুমি তাকে ক্ষমা করো। কারণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাম দিতেন তখন তিনি তিনবার সালাম দিতেন। আর যখন দো‘আ করতেন তিনবার দো‘আ করতেন। মোট কথা, আমর ইবনুল আসের জন্য বলা হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাকে জান্নাতের সু সংবাদ দিয়েছেন। এটি কল্যাণের সু সংবাদ এবং তার প্রতি মুবারকবাদ।
আবূ মূসা আল-আশ‘আরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, “একবার আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এলাম। তখন তাঁকে দেখলাম তিনি তাজা মিসওয়াক দ্বারা মিসওয়াক করছেন। তিনি বলেন: মিসওয়াকের কিনারা তার মুখে রেখে তিনি উ‘ উ‘ শব্দ করছেন। মিসওয়াকটি তার মুখে রেখে যেন তিনি বমি করছেন”।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।আবূ মূসা আল-আশ‘আরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু উল্লেখ করেন। একবার তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এলেন তখন তিনি তাজা মিসওয়াক দ্বারা মিসওয়াক করছেন। কারণ তাজা মিসওয়াক দ্বারা পরিষ্কার পরিপূর্ণভাবে হয়। ফলে মুখে দুগর্ন্ধ থাকে না যা কষ্টদায়ক। আর মিসওয়াকের কিনারা তার মুখের উপর রেখেছেন এবং খুব ভালোভাবে তিনি মিসওয়াক করছেন, যেন তিনি বমি করছেন।
আম্মার ইবন ইয়াসির রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: “আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটা প্রয়োজনে বাইরে পাঠিয়েছিলেন। সফরে আমি অপবিত্র হয়ে পড়লাম এবং (পবিত্র অর্জনের জন্যে) পানি পেলাম না। এজন্য আমি জন্তুর মত মাটিতে গড়াগড়ি দিলাম। পরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট ঘটনাটি বর্ণনা করলাম। তখন তিনি বললেন: “তোমার জন্য তো এটুকুই যথেষ্ট ছিল যে, তুমি তোমার হাত দ্বারা এরূপ করবে; তারপর তিনি দু’ হাত মাটিতে একবার মারলেন এবং তিনি বাম হাতকে ডান হাতের উপর মাসেহ করলেন। আর দুই হাতের কব্জির উপরভাগ ও চেহারা মাসেহ করলেন।”
সহীহ বুখারী ও মুসলিমনবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন এক সফরে একটা প্রয়োজনে আম্মার ইবন ইয়াসির রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুকে বাইরে পাঠিয়েছিলেন। অতঃপর সফরে তিনি সহবাস বা উত্তেজনায় বীর্য বের হয়ে অপবিত্র হয়ে পড়লেন। কিন্তু গোসলের জন্যে তিনি পানি পেলেন না। তখনও তিনি বড় নাপাকী থেকে পবিত্রতা অর্জনের জন্যে তায়াম্মুমের বিধান জানতেন না। তিনি জানতেন যে, এর বিধান হলো: ছোট অপবিত্রতা থেকে পবিত্র অর্জন করা যায়। তাই তিনি ইজতিহাদ করলেন এবং ধারণা করলেন যে, ছোট অপবিত্রতা থেকে পবিত্র হওয়ার জন্যে অযুর ক্ষেত্রে তায়াম্মুমে যেভাবে কিছু অঙ্গ মাটি দ্বারা মাসেহ করতে হয়, জুনুবী তথা বড় অপবিত্রতা থেকে তায়াম্মুমের মাধ্যমে পবিত্র হতে হলেও পুরো শরীরে মাটি লাগাতে হয়। ফলে তিনি পানির উপর কিয়াস করে মাটিতে গড়াগড়ি করলেন, যাতে পুরো শরীরে মাটি লাগে। অতঃপর তিনি সালাত আদায় করলেন। অতঃপর তিনি যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলেন তখন তিনি ঘটনাটি তাঁর কাছে বর্ণনা করলেন। যাতে তিনি নিশ্চিত হন যে, তিনি যে পদ্ধতিতে তায়াম্মুম করেছেন, তা সঠিক কি না? অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছোট অপবিত্রতা, যেমন পেশাব-পায়খানা থেকে পবিত্রতা অর্জন এবং বড় অবিত্রতা যেমন সহবাস বা মাসিক জনিত কারণে অপবিত্রতা থেকে পবিত্রতা অর্জনের পদ্ধতি বর্ণনা করেন এভাবে: হাতদ্বয় একবার মাটিতে মারবে, অতঃপর বাম হাত ডান হাতের উপরে মাসাহ করবে এবং এর দ্বারা হাতের তালুর উপরিভাগ এবং চেহারা মাসাহ করবে।
তারিক ইবনে শিহাব বাজালী আহমাসী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু কর্তৃক বর্ণিত, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করল এমতাবস্থায় যে, তিনি (সওয়ারীর উপর আরোহণ করার জন্য) পাদানে পা রেখে দিয়েছিলেন, ‘কোন্ জিহাদ সর্বশ্রেষ্ঠ?’ তিনি বললেন, “অত্যাচারী বাদশাহর সামনে হক কথা বলা।”
এটি নাসাঈ বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।এ ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন যখন তিনি সফরের জন্য প্রস্তুত হলেন। ‘কোন্ জিহাদ সাওয়াবের দিক দিয়ে সর্বশ্রেষ্ঠ?’ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে সর্বোত্তম জিহাদ সম্পর্কে সংবাদ দেন যে, অত্যাচারী বাদশাহকে ভালো কাজের আদেশ দেওয়া অথবা মন্দ কর্ম হতে বারণ করা। সুতরাং, জিহাদ কাফেরদের সাথে মারামারি করাতে সীমাবদ্ধ নয়। বরং তার বিভিন্ন স্তর আছে। উল্লিখিত কর্মটিতে সাওয়াব বেশি। কারণ, বাদশাহর অত্যাচারের কারণে এতে নিহত হওয়া বা বন্দী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং এরূপ কথা বলার লোক অনেক কম।
জারীর ইবন আব্দুল্লাহ রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাতে এ কথার সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবূদ নেই এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল, সালাত কায়েম, যাকাত আদায়, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করা ও তাদের আদেশ মান্য করা ও প্রতিটি মুসলিমের কল্যাণ কামনা করার শর্তে আমি বাই‘আত গ্রহণ করেছি।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমসাহাবী জারীর ইবন আব্দুল্লাহ রদিয়াল্লাহু ‘আনহু এ হাদীসে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাতে তাওহীদ তথা আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবূদ নেই এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল- এ কালেমার সাক্ষ্য, দিনে রাতে পাঁচ ওয়াক্ত ফরয সালাত , তার শর্ত ফরজ ওয়াজিব ও সুন্নাতসহকারে আদায়, ফরয যাকাত আদায়, আর তা হলো আর্থিক ফরয ইবাদত, যা ধনীদের থেকে নিয়ে এর হকদার দরিদ্র ও অন্যদেরকে দেওয়া হয়, তাছাড়া শাসকের আনুগত্য করা এবং প্রতিটি মুসলিমের জন্যে কল্যাণ কামনা করার উপরে বাই‘আত গ্রহণ করেছেন। আর মুসলিমের জন্যে কল্যাণ কামনা করার উদ্দেশ্য হলো তার উপকার করার ব্যাপারে গুরুত্ব দেওয়া, তাকে কল্যাণ পৌঁছানো এবং কথা ও কাজে তার থেকে মন্দ ও ক্ষতিকর জিনিস প্রতিহত করা।
মু‘আয ইবন জাবাল রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার হাত ধরে বললেন, “হে মু’আয! আল্লাহর শপথ! আমি অবশ্যই তোমাকে ভালবাসি”, তিনি বললেন, “হে মু’আয! আমি তোমাকে ওয়াসিয়াত করছি, তুমি প্রত্যেক সালাতের পর এ দু’আটি কখনো পরিহার করবে নাঃ اللَّهُمَّ أَعِنِّي عَلَى ذِكْرِكَ وَشُكْرِكَ وَحُسْنِ عِبَادَتِكَ “আল্লাহুম্মা আঈন্নী ’আলা যিকরিকা ওয়া শুকরিকা ওয়া হুসনি ’ইবাদাতিকা” (অর্থঃ হে আল্লাহ! আপনার জিকির- স্মরণে, আপনার কৃতজ্ঞতা প্রকাশে এবং আপনার উত্তম ’ইবাদাতে আমাকে সাহায্য করুন)”।
এটি আবূ দাউদ, নাসাঈ ও আহমাদ বর্ণনা করেছেন।নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুআয রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাত ধরলেন এবং বললেনঃ আল্লাহর কসম, আমি তোমাকে ভালবাসি এবং আমি তোমাকে উপদেশ দিই হে মুআয, তুমি প্রতিটি সালাতের শেষে বলা ছাড়বে না: (اللهم أَعِنّي على ذكرك) (হে আল্লাহ, আমাকে আপনার জিকির করতে সাহায্য করুন)যা এমন প্রতিটি কথা ও কাজে যা আমাকে ইবাদতের নিকটবর্তী করবে। (وشُكْرِك) (আপনার শোকর আদায়ের জন্য সাহায্য করুন) নিয়ামত অর্জন এবং শাস্তি প্রতিহত করার ফল (কৃতজ্ঞতা) স্বরূপ। (وحُسْن عبادتك) (এবং সাহায্য করুন আপনার উত্তমরূপে ইবাদত করার জন্য) আল্লাহর জন্য ইখলাসের সাথে এবং নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অনুসরণ করার মাধ্যমে।