





























Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
All
সাহল ইবনু হুনায়ফ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি সত্যি কারে আল্লাহর নিকট শাহাদাত প্রার্থনা করে আল্লাহ তা’আলা তাকে শহীদের মর্যাদায় অভিষিক্ত করবেন যদিও সে আপন শয্যায় ইন্তিকাল করে”।
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেননবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দিয়েছেন , যে ব্যক্তি সত্যি করে ইখলাসের সাথে নিয়ত করে আল্লাহর রাস্তায় হত্যা ও শাহাদাত তলব করল, আল্লাহ তাকে তার সত্য নিয়তের জন্য শহীদদের মর্যাদা দান করবেন, যদিও সে তার বিছানায় জিহাদ বিহীন মারা যায়।
আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, লোকদেরকে সবশেষে বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করে বিদায় হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে; তবে ঋতুবতী নারীর জন্য এ তাওয়াফ শিথিল (মাফ) করা হয়েছে।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।সম্মানীত এ ঘরের জন্যে রয়েছে সম্মান ও মর্যাদা। এ গৃহটি আল্লাহর ইবাদত এবং তাঁর সমীপে বিনয় ও শ্রদ্ধার বহিঃপ্রকাশের নিদর্শন। ফলে মানুষের বক্ষে এ ঘরের ব্যাপারে রয়েছে ভীতি। অন্তরে রয়েছে সম্মানবোধ, এ ঘরের সাথে সম্পর্ক ও ভালোবাসা। এ কারণে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাজীদেরকে সবশেষে বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করে বিদায় হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সর্বশেষ এ তাওয়াফটি বিদায়ী তাওয়াফ বলা হয়। কিন্তু হায়েযগ্রস্ত মহিলাদের জন্য এ তাওয়াফ মাফ করা হয়েছে। যেহেতু তারা হায়েয অবস্থায় অপবিত্র থাকায় মসজিদে প্রবেশ করলে তা নোংরা হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় তাদের থেকে বিদায়ী তাওয়াফ ফিদিয়া ব্যতীতই মাফ করে দেওয়া হয়েছে। এ বিধানটি হজের ব্যাপারে প্রযোজ্য, উমরার ব্যাপারে নয়। তাইসীরুল ‘আল্লাম, 434পৃ; তাম্বীহুল আফহাম, 2/584 ও তা’সীসুল আহকাম, 3/436।
উম্মুল মু’মিনীন মাইমূনাহ রদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য গোসলের পানি রাখলাম, এরপরে একটি কাপড় দিয়ে তাকে আড়াল করে দিলাম। তিনি তার দুই হাতে পানি ঢেলে হাতদুটি ধুলেন, তারপরে তিনি তার ডানহাত দিয়ে বাম হাতের উপরে পানি ঢেলে তার যৌনাঙ্গ ধুলেন, তারপরে তার হাত মাটিতে মাসাহ করে তা ধুয়ে নিলেন। এরপরে গড়গড়ার সাথে কুলি করলেন, নাকে পানি দিলেন, মুখমণ্ডল ধুলেন, তার দুই হাতের কনুইসহ ধুয়ে নিয়ে তার মাথায় পানি ঢাললেন এবং তার সারা শরীরে পানি প্রবাহিত করলেন। এরপরে সেখান থেকে সরে এসে তার দুই পা ধুলেন। তখন আমি তার দিকে একটি কাপড় এগিয়ে দিলাম, তিনি তা গ্রহণ করলেন না, এরপরে তিনি তার হাত ঝাড়া দিতে দিতে স্থান ত্যাগ করলেন।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমউম্মুল মুমিনীন মাইমূনাহ রদিয়াল্লাহু আনহা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নাপাক অবস্থা থেকে গোসলের নিয়ম-কানুনের ব্যাপারে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি রসূলের জন্য পানি প্রস্তুত করেছিলেন, যাতে সেখান থেকে তিনি গোসল করতে পারেন, এবং তিনি পর্দা দ্বারা তাকে আড়াল করে দিয়েছিলেন, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে কাজগুলো করেছিলেন, তা নিম্নরূপ: প্রথমত: পাত্রে তার দুই হাত প্রবেশ করানোর আগে তিনি পানি ঢেলে তার হাত দুটি ধুয়ে নিলেন। দ্বিতীয়ত: গোপনাঙ্গে লেগে থাকা নাপাকীর চিহ্নসমূহ পরিষ্কার করার জন্য তিনি তার ডান হাত দিয়ে বাম হাতে পানি ঢাললেন এবং তার যৌনাঙ্গ ধুয়ে ফেললেন। তৃতীয়ত: হাত মাটিতে ঘষে নিয়ে তা মুছে নিলেন এবং এরপরে তা ধুয়ে নিলেন, যাতে হাত থেকে অপবিত্রতা দূর হয়ে যায়। চতুর্থত: কুলি করলেন, এটি এভাবে: তার মুখের মধ্যে পানি প্রবেশ করিয়ে, তা নাড়াচড়া করিয়ে, চারিদিকে ঘুরিয়ে তা ফেলে দিলেন। এবং নাকে পানি দিলেন, এটা এভাবে: পরিষ্কার করা উদ্দেশ্যে নিঃশ্বাসের সাথে তিনি তার নাকে পানি প্রবেশ করালেন আর এরপরে তিনি তা বের করে দিলেন। পঞ্চমত: তিনি তার মুখমণ্ডল ধুলেন এবং কনুইসহ হাত দুটি ধুলেন। ষষ্টত: তিনি তাঁর মাথায় পানি ঢাললেন। সপ্তমত: শরীরের বাকী স্থানগুলোতে পানি ঢাললেন। অষ্টমত: গোসলের স্থান থেকে সরে অন্য স্থানে এসে তিনি তার দুই পা ধুলেন; যেহেতু তিনি পা ধৌত করার কাজটি আগে করেননি। তারপরে মাইমূনাহ রদিয়াল্লাহু আনহা তার কাছে পানি মোছার জন্য একটি রুমাল নিয়ে আসলেন, কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করলেন না। বরং তার হাত দিয়ে তিনি তার শরীর থেকে পানি মুছে ফেলছিলেন আর তা গড়িয়ে পড়ছিল।
উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا اغْتَسَلَ مِنَ الجَنَابَةِ، غَسَلَ يَدَيْهِ، وَتَوَضَّأَ وُضُوءَهُ لِلصَّلاَةِ، ثُمَّ اغْتَسَلَ، ثُمَّ يُخَلِّلُ بِيَدِهِ شَعَرَهُ، حَتَّى إِذَا ظَنَّ أَنَّهُ قَدْ أَرْوَى بَشَرَتَهُ، أَفَاضَ عَلَيْهِ المَاءَ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ، ثُمَّ غَسَلَ سَائِرَ جَسَدِهِ، وَقَالَتْ: كُنْتُ أَغْتَسِلُ أَنَا وَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ إِنَاءٍ وَاحِدٍ، نَغْرِفُ مِنْهُ جَمِيعًا. “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন নাপাকি হতে ফরয গোসল করতেন তখন দুই হাত ধৌত করতেন। তারপর তিনি সালাতের অযুর মতো করে অযু করতেন। তারপর গোসল করতেন। তারপর তিনি তার হাত দিয়ে চুল খিলাল করতেন। তারপর যখন তিনি নিশ্চিত হতেন যে, তিনি চুলের গোড়ায় চামড়াতে পানি পৌছাতে সক্ষম হয়েছেন তখন তিনি তার ওপর তিনবার পানি প্রবাহিত করতেন। তারপর তিনি সমগ্র শরীর ধৌত করতেন। আর তিনি (আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা ) বলেন: আমি এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম একই পাত্র থেকে পানি নিয়ে গোসল করতাম। আমরা উভয়েই তা থেকে পানি উঠাতাম।”
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন নাপাকি হতে ফরয গোসল করতে ইচ্ছে করতেন তখন দুই হাত ধৌত করার মাধ্যমে তা শুরু করতেন। অতঃপর তিনি সালাতের অযুর মতো করে অযু করতেন। অতঃপর তাঁর শরীরে পানি প্রবাহিত করে দিতেন। তারপর তিনি তার হাত দিয়ে মাথার চুল খিলাল করতেন। তারপর যখন তিনি নিশ্চিত হতেন যে, তিনি চুলের গোড়ায় চামড়াতে পানি পৌছাতে সক্ষম হয়েছেন তখন তিনি তাঁর মাথার ওপর তিনবার পানি প্রবাহিত করতেন। অতঃপর তিনি তাঁর সমস্ত শরীর ধৌত করতেন। আর আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা বলেন: আমি এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম একই পাত্র থেকে পানি নিয়ে গোসল করতাম। আমরা উভয়েই তা থেকে পানি উঠাতাম।
আলী ইবনুল হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি একজন লোককে দেখতে পেলেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কবরের পাশে একটি ছিদ্র পথে প্রবেশ করে সেখানে দু‘আ করছে। তখন তিনি ঐ লোকটিকে এ ধরণের কাজ করতে নিষেধ করলেন। তাকে বললেন, “আমি কি তোমার কাছে সে হাদীসটি বর্ণনা করবো না, যা আমি আমার পিতার কাছ থেকে শুনেছি এবং তিনি শুনেছেন আমার দাদার কাছ থেকে, আর আমার দাদা শুনেছেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছ থেকে? তিনি বলেছেন, “তোমরা আমার কবরকে মেলায় পরিণত করো না আর তোমাদের ঘরগুলোকে কবরে পরিণত করো না। তোমরা যেখানেই থাকো না কেন তোমাদের সালাম আমার কাছে পৌঁছে যায়।”
এটি ইবন আবী শাইবাহ বর্ণনা করেছেন।আলী ইবন হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু আমাদের জানান যে, তিনি একজন লোককে দেখেন, সে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কবরের পাশে আল্লাহ তাআলার কাছে দুআ করছে। তিনি তাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদীস দ্বারা দলীল দিয়ে তাকে তা করতে নিষেধ করেন। যাতে যিয়ারতের জন্য তার কবরকে ঈদ উৎসব স্থল বানাতে নিষেধ করেন এবং ঘরসমূহকে আল্লাহ ইবদত, তার যিকির এবং কবরসমূহের সাদৃশ করতে নিষেধ করেন। আরো সংবাদ দিয়েছেন যে, সালাম প্রদানকারী যেখানেই থাকুক না কেন তার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে পৌঁছে যায়।
’আলী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: كُنْتُ رَجُلًا مَذَّاءً وَكُنْتُ أَسْتَحْيِي أَنْ أَسْأَلَ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِمَكَانِ ابْنَتِهِ فَأَمَرْتُ الْمِقْدَادَ بْنَ الْأَسْوَدِ فَسَأَلَهُ فَقَالَ: «يَغْسِلُ ذَكَرَهُ وَيَتَوَضَّأُ» ‘আমার বেশি বেশি(লজ্জাস্থানে) মাযী বের হতো। আমি এ সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে জিজ্ঞেস করতে লজ্জাবোধ করতাম। কারণ তার কন্যা ছিল আমার স্ত্রী। তাই আমি মিকদাদ ইবনুল আসওয়াদকে (এ সম্পর্কে জানতে) বললাম। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করলেন। তখন তিনি বললেন: “এতে তার পুরুষাঙ্গ ধুয়ে ফেলবে এবং অযু করে নিবে।” বুখারীর বর্ণনায় রয়েছে: তিনি বলেন: «تَوَضَّأْ وَاغْسِلْ ذَكَرَكَ». “তুমি অযু করো এবং তোমার পুরুষাঙ্গ ধুয়ে ফেলো।”
সহীহ বুখারী ও মুসলিম‘আলী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু সংবাদ দেন যে, তার বেশি বেশি মাযী বের হয়। -মাযী হলো সাদা পাতলা পানি, যা যৌন উত্তেজনার সময় বা সহবাসের পূর্বে যৌনাঙ্গ থেকে বের হয়-। এটি বের হলে কী করণীয়, তা তিনি জানতেন না। কিন্তু এ সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে জিজ্ঞেস করতেও তিনি লজ্জাবোধ করতেন। কেননা তিনি ছিলেন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কন্যা ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহার স্বামী। তাই তিনি মিকদাদ ইবনুল আসওয়াদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুকে এ সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করতে বলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জবাবে বললেন: এতে তার পুরুষাঙ্গ ধুয়ে ফেলবে অতঃপর অযু করে নিবে।
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যখন তোমরা কাপড় পরিধান করবে ও ওযূ করবে তখন তোমরা তোমাদের ডান দিক থেকে আরম্ভ করবে।”
এটি ইবন মাজাহ বর্ণনা করেছেন। - এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। - এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর হাদীসটি যাবতীয় ভালো কর্মে ডান দিক মুস্তাহাব হওয়ার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়। তাই তিনি বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “যখন তোমরা পরিধান কর” অর্থাৎ তোমরা পরিধান করার ইচ্ছা কর। “এবং যখন তোমরা ওযু কর” অর্থাৎ ওযু করার ইচ্ছা কর, “তখন তোমরা তোমাদের ডান দিক থেকে শুরু কর”। ‘আয়ামান’ আইমান এর বহুবচন অর্থ বামের বিপরীত। সুতরাং জামার পরিধানে তোমরা বামের পূর্বে ডান হাতকে আগে বাড়াবে এবং ওযুর সময় হাত ও পায়ের ক্ষেত্রে ডানকে আগে বাড়াবে। বিকলাঙ্গ ব্যক্তি ওযূর সব আমলে ডানকে গ্রহন করবে। অতঃপর যেনে রাখা ভালো যে, ওযূর কতক অঙ্গ আছে যাতে ডান দিক মুস্তাহাব নয়। আর তা হলো দুই কান, কব্জি, চেহারা। বরং তা একবারেই করবে। যদি তা কষ্টকর হয়, যেমন বিকলাঙ্গের ইত্যাদির ক্ষেত্রে তখন ডানকে আগে বাড়াবে।
আব্দুল্লাহ ইবন মাস‘ঊদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: سَأَلْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَيُّ العَمَلِ أَحَبُّ إِلَى اللَّهِ؟ قَالَ: «الصَّلاَةُ عَلَى وَقْتِهَا»، قَالَ: ثُمَّ أَيٌّ؟ قَالَ: «ثُمَّ بِرُّ الوَالِدَيْنِ» قَالَ: ثُمَّ أَيٌّ؟ قَالَ: «الجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ» قَالَ: حَدَّثَنِي بِهِنَّ، وَلَوِ اسْتَزَدْتُهُ لَزَادَنِي. ‘আমি নবী কে প্রশ্ন করলাম,আল্লাহর নিকট কোন আমলটি সর্বাধিক প্রিয়?’ তিনি বললেন, “যথা সময়ে সালাত আদায় করা।” আমি আবার জিজ্ঞেস করলাম, ’তারপর কোনটি?’ তিনি বললেন, “পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহার করা।” আমি আবার জিজ্ঞেস করলাম, ’তারপর কোনটি?’ তিনি বললেন, “আল্লাহর পথে জিহাদ করা। তিনি বলেন, এতটুকু তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছেন। যদি আমি আরো জিজ্ঞেস করতাম তাহলে তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে আরো বলতেন।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমনবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করা হয়েছে, আল্লাহর কাছে কোন আমলটি উত্তম? তিনি বললেন: “ফরয সালাত শরী‘আহ নির্ধারিত সময়ে আদায় করা। অতঃপর পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহার করা ও তাঁদের প্রতি ইহসান করা, তাঁদের হকসমূহ যথাযথভাবে আদায় করা এবং তাঁদের অবাধ্য না হওয়া। অতঃপর উত্তম কাজ হলো মহান আল্লাহর কালিমাকে সুউচ্চ করতে, দ্বীন ইসলাম ও মুসলিমদের পক্ষে, ইসলামের নিদর্শনসমূহ প্রকাশ করতে জান ও মাল দ্বারা আল্লাহর পথে জিহাদ করা। ইবনু মাস‘ঊ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে এ আমলগুলোর সংবাদ দিয়েছেন। আমি যদি তাঁকে আরো বলতাম তারপর কোনটি, তাহলে তিনি আমাকে আরো বেশী বলতেন।
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “প্রতিদিন সকালে দু’জন ফেরেশতা অবতরণ করেন। তাঁদের একজন বলেন, হে আল্লাহ! দাতাকে তার দানের উত্তম প্রতিদান দিন আর অপরজন বলেন, হে আল্লাহ! কৃপণকে ধ্বংস করে দিন”।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমনবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দিয়েছেন যে, প্রতিদিন যেখানে সূর্য উদিত হয় দু’জন ফেরেশতা আহ্বান করতে করতে অবতরণ করেন: তাদের একজন বলেন: হে আল্লাহ! ইবাদত, পরিবার, মেহমান ও নফল কাজে ব্যয়কারীকে প্রতিবিধান করুন এবং সে যা খরচ করেছে তার বিনিময়ে কল্যাণ দান করুন এবং তাকে বরকত দিন। অপরজন বলেন, হে আল্লাহ! তাতে ব্যয় না করে সঞ্চয়কারীকে ধ্বংস দিন এবং হকদারকে না দিয়ে যে সম্পদ জমা করে রেখেছে তা ধ্বংস করুন।