





























Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
All
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: أَمَا يَخْشَى أَحَدُكُمْ - أَوْ: لاَ يَخْشَى أَحَدُكُمْ - إِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ قَبْلَ الإِمَامِ، أَنْ يَجْعَلَ اللَّهُ رَأْسَهُ رَأْسَ حِمَارٍ، أَوْ يَجْعَلَ اللَّهُ صُورَتَهُ صُورَةَ حِمَارٍ “তোমাদের কেউ যখন ইমামের পূর্বে মাথা উঠিয়ে ফেলে, তখন সে কি ভয় করে না যে, আল্লাহ তা‘আলা তার মাথা গাধার মাথায় পরিণত করে দিবেন, অথবা তার আকৃতি গাধার আকৃতি করে দিবেন।”
সহীহ বুখারী ও মুসলিমনবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ হাদীসে কঠোর শাস্তির ভয় প্রদর্শন করেছেন, যে কেউ ইমামের পূর্বে মাথা উঠিয়ে ফেলে, আল্লাহ তা‘আলা তার মাথা গাধার মাথায় পরিণত করে দিবেন অথবা তার আকৃতি গাধার আকৃতি করে দিবেন।
ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাত শুরু করতেন, তখন উভয় হাত তাঁর কাঁধ বরাবর উঠাতেন। আর যখন রুকূ‘তে যাওয়ার জন্য তাকবীর বলতেন এবং যখন রুকূ‘ হতে মাথা উঠাতেন তখনও একইভাবে দু’হাত উঠাতেন এবং سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ(সামিয়াল্লাহু লিমান হামেদাহ,রব্বানা ওয়ালাকাল হামদু) বলতেন। কিন্তু সাজদার সময় তিনি এমন করতেন না।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতে তিন স্থানে কাঁধ বরাবর দুই হাত উত্তোলন করতেন, কাঁধ হচ্ছে: গলার পাশের হাড় ও বাহুর সংযোগস্থল। প্রথম স্থান: সালাতের শুরুতে তাকবীরে তাহরীমা(আল্লাহু আকবার) বলার সময়। দ্বিতীয় স্থান: রুকুর জন্য”আল্লাহু আকবার” বলার সময়। তৃতীয় স্থান: রুকু থেকে মাথা উঠানোর সাথে سمع الله لمن حمده ربنا ولك الحمد (সামিয়াল্লাহু লিমান হামেদাহ,রব্বানা ওয়ালাকাল হামদু)বলার সময়। সিজদা শুরু করার সময় এবং সিজদা থেকে মাথা তোলার সময় তিনি তাঁর উভয় হাত উঠাতেন না।
ইবন মাস‘ঊদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার হাত তাঁর উভয় হতের মধ্যে রেখে আমাকে এমনভাবে তাশাহহুদ শিখিয়েছেন, যেভাবে তিনি আমাকে কুরআনের সূরা শিখাতেন,তা হলো : التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ الله وَبَرَكَاتُهُ السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا الله وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ “সকল বড়ত্ব ও প্রশংসা,সালাতসমূহ:এমনকি সকল মৌখিক, দৈহিক,আর্থিক ও অন্তর্গত ‘ইবাদত এবং সকল পবিত্রতা-উত্তমতা আল্লাহরই জন্য। হে নবী ! আপনার উপর আল্লাহর পক্ষ থেকে সবধরনের নিরাপত্তা, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক।বর্ষিত হোক সকল বিপদ থেকে নিরাপত্তা-সালাম আমাদের এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের উপর। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোনো মা‘বূদ নেই এবং আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চয়ই মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল। অপর বর্ণনায় বর্ণিত, «إِنَّ اللهَ هُوَ السَّلَامُ، فَإِذَا قَعَدَ أَحَدُكُمْ فِي الصَّلَاةِ فَلْيَقُلْ: التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ، السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللهِ الصَّالِحِينَ، فَإِذَا قَالَهَا أَصَابَتْ كُلَّ عَبْدٍ لِلَّهِ صَالِحٍ فِي السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ، ثُمَّ يَتَخَيَّرُ مِنَ الْمَسْأَلَةِ مَا شَاءَ». আল্লাহর নামই হলো সালাম। সকল বড়ত্ব-প্রশংসা,সালাতসমূহ:এমনকি সকল মৌখিক, দৈহিক,আর্থিক ও অন্তর্গত ‘ইবাদত এবং সকল পবিত্র-উত্তম আল্লাহরই জন্য। হে নবী! আপনার উপর আল্লাহর পক্ষ থেকে সবধরনের নিরাপত্তা, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক।সকল বিপদ থেকে নিরাপত্তা-সালাম আমাদের এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের উপর বর্ষিত হোক।” যখন সে একথাগুলো বলে তখন তা আসমানে ও জমিনের আল্লাহর প্রতিটি নেক বান্দার কাছে পৌঁছে যায়। (পরে সে বলবে:) “আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া কোন প্রকৃত ইলাহ নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি, মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল।” এরপর তার যা মন চায় দু’আ করবে।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইবন মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুকে তাশাহহুদ শিখিয়েছেন, যা সালাতে পড়া হয়। তিনি শিক্ষা দেওয়ার সময় তাঁর হাত ইবন মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর দু হাতের মধ্যে রেখেছিলেন, যাতে ইবন মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর মনোযোগ সেদিকে থাকে, যেভাবে তিনি তাকে কুরআনের সূরা শিখাতেন। এ দ্বারা তাশাহুদের শব্দ ও অর্থের ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের গুরুত্ব প্রমাণ করে। অতঃপর তিনি বলেন: "التَّحِيَّات لله"সকল বড়ত্ব ও প্রশংসা আল্লাহরই জন্য । আর তা হলো: সকল কথা ও কাজ যা আল্লাহর মহত্ত্ব প্রমাণ করে। সবই আল্লাহর জন্য প্রযোজ্য। "الصَّلَوَاتُ": সালাতসমূহ এ হলো প্রচলিত ফরয ও নফল সালাতসমূহ(এমনকি যাবতিয় ইবাদত) একমাত্র আল্লাহর জন্যে। "الطَّيِّبَاتُ": সকল পবিত্রতা-উত্তমতা। তা হলো: সকল উত্তম কথা, কাজ ও গুণ যা আল্লাহর পরিপূর্ণতার উপর প্রমাণ করে, একমাত্র আল্লাহই এসব কিছুর উপযুক্ত। "السلام عليك أيها النبي ورحمة الله وبركاته": হে নবী ! আপনার উপর (আল্লাহর পক্ষ থেকে) সবধরনের নিরাপত্তা , রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক। এটি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্যে সমস্ত বিপদাপদ, দুঃখ-কষ্ট থেকে শান্তি ও নিরাপত্তা এবং সমস্ত কল্যাণের বৃদ্ধি ও প্রাচুর্যের জন্যে দু‘আ। "السلام علينا وعلى عباد الله ” আমাদের এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের উপর প্রশান্তি ও সকল অনিষ্ট হতে নিরাপত্তা বর্ষিত হোক। মুসল্লী ও আসমান ও জমিনে বিদ্যমান সকল নেক বান্দাহদের শান্তি-নিরাপত্তার জন্যে দু‘আ। "أشهد أن لا إله إلا الله": আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোনো মা‘বূদ নেই অর্থাৎ আমি দৃঢ়ভাবে স্বীকার করি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য মাবূদ নেই। "وأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ ورسولُهُ": এবং আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চয়ই মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল। আমি তার আল্লাহর বান্দাহ হওয়া এবং শেষ নবী হওয়া স্বীকার করি। এরপরে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসল্লীকে ইচ্ছে মতো (হাদীসে বর্ণিত দু‘আ থেকে) দু‘আ করতে উৎসাহিত করেছেন।
আবূ হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: “নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’আ করতেন ও বলতেনঃ, اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ القَبْرِ، وَمِنْ عَذَابِ النَّارِ، وَمِنْ فِتْنَةِ المَحْيَا وَالمَمَاتِ، وَمِنْ فِتْنَةِ المَسِيحِ الدَّجَّالِ ‘হে আল্লাহ ! আমি আপনার সমীপে আশ্রয় চাচ্ছি কবরের আযাব থেকে, জাহান্নামের আযাব থেকে, জীবন ও মরণের ফিতনা থেকে এবং মাসীহ দাজ্জাল এর ফিতনা থেকে। মুসলিমের বর্ণনায় আছে: «إِذَا فَرَغَ أَحَدُكُمْ مِنَ التَّشَهُّدِ الْآخِرِ، فَلْيَتَعَوَّذْ بِاللهِ مِنْ أَرْبَعٍ: مِنْ عَذَابِ جَهَنَّمَ، وَمِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ، وَمِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ، وَمِنْ شَرِّ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ». রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যখন তোমাদের কেউ সালাতে তাশাহুদ পড়া শেষ করবে, তখন চারটি বিষয় থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করবে: জাহান্নামের আযাব থেকে, কবরের আযাব থেকে, জীবন-মৃত্যুর ফিতনা থেকে এবং মাসীহ দাজ্জালের অনিষ্ট থেকে।”
সহীহ বুখারী ও মুসলিমনবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম শেষ বৈঠকে তাশাহহুদের পরে এবং সালাম ফিরানোর আগে নিম্নোক্ত চারটি বিষয় থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করতেন এবং তিনি আমাদেরকেও এগুলো থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করতে আদেশ দিয়েছেন। প্রথম: কবরের আযাব থেকে আশ্রয় চাইতেন। দ্বিতীয়: কিয়ামতের দিন জাহান্নামের আযাব থেকে। তৃতীয়: জীবনের ফিতনা থেকে, দুনিয়ার হারাম প্রবৃত্তি এবং বিভ্রান্তিকর সন্দেহজনক বিষয়াদি থেকে এবং এবং মৃত্যুর ফিতনা থেকে, অর্থাৎ মৃত্যুর সময় যখন উপস্থিত হবে তখনকার ফিতনা থেকে, যেমন: ইসলাম বা সুন্নাহ থেকে বিপথগামী হওয়া বা কবরের ফিতনা থেকে, যেমন দুই ফিরিশতার জিজ্ঞাসাবাদ পানাহ চাইতেন। চতুর্থ: মাসীহ দাজ্জাল এর ফিতনা থেকে, যে আখেরি যামানায় বের হবে। আল্লাহ তার দ্বারা তাঁর বান্দাহদেরকে পরীক্ষা করবেন। তার ফিতনার কথা বিশেষ করে উল্লেখ করার কারণ হলো: দাজ্জালের ফিতনা খুবই ভয়ংকর এবং মারাত্মক পথভ্রষ্টকারী।
আবূ হুরাইরাহ রদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকবীরে তাহরীমা ও কিরাআতের মধ্যে কিছুক্ষণ চুপ করে থাকতেন। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমার মাতা-পিতা আপনার উপর কুরবান হোক, তাকবীর ও কিরাআত এর মধ্যে চুপ থাকার সময় আপনি কী পাঠ করেন? তিনি বললেন, এ সময় আমি বলি: اللهُمَّ بَاعِدْ بَيْنِي وَبَيْنَ خَطَايَايَ كَمَا بَاعَدْتَ بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ نَقِّنِي مِنْ خَطَايَايَ كَمَا يُنَقَّى الثَّوْبُ الْأَبْيَضُ مِنَ الدَّنَسِ، اللهُمَّ اغْسِلْنِي مِنْ خَطَايَايَ بِالثَّلْجِ وَالْمَاءِ وَالْبَرَدِ».“হে আল্লাহ! আমার এবং আমার গুনাহের মধ্যে এমন ব্যবধান করে দিন যেমন ব্যবধান করেছেন পূর্ব এবং পশ্চিমের মধ্যে। হে আল্লাহ আমাকে আমার গুনাহ হতে এমনভাবে পবিত্র করুন যেমন সাদা কাপড় ময়লা থেকে পরিষ্কার হয়। হে আল্লাহ! আমার গোনাহকে বরফ, পানি ও শিলা দ্বারা ধৌত করে দিন।”
সহীহ বুখারী ও মুসলিমনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাতের জন্য তাকবীর বলতেন, তখন সূরা আল-ফাতিহা পাঠ করার আগে কিছুটা সময় চুপ থাকতেন, সেখানে তিনি কতিপয় দু‘আর মাধ্যমে তার সালাত শুরু করতেন। তিনি যেসব দু‘আ এ সময়ে বলতেন তার মধ্যে রয়েছে: اللهُمَّ بَاعِدْ بَيْنِي وَبَيْنَ خَطَايَايَ كَمَا بَاعَدْتَ بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ*، اللهُمَّ نَقِّنِي مِنْ خَطَايَايَ كَمَا يُنَقَّى الثَّوْبُ الْأَبْيَضُ مِنَ الدَّنَسِ، اللهُمَّ اغْسِلْنِي مِنْ خَطَايَايَ بِالثَّلْجِ وَالْمَاءِ وَالْبَرَدِ».“হে আল্লাহ্! আমার এবং আমার গুনাহের মধ্যে এমন ব্যবধান করে দিন যেমন ব্যবধান করেছেন পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে। হে আল্লাহ্ আমাকে আমার গুনাহ হতে এমনভাবে পবিত্র করুন যেমন সাদা কাপড় ময়লা থেকে পরিষ্কার হয়। হে আল্লাহ্ আমার গোনাহকে বরফ, পানি ও শিলা দ্বারা ধৌত করে দিন।” নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ তা‘আলার কাছে দু‘আ করতেন যেন তিনি তার গুনাহ এবং তার মাঝে দূরত্ব তৈরী করে দেন, যাতে তিনি গুনাহে পতিত না হন, এমনভাবে যাতে গুনাহের সাথে সাক্ষাৎও না হয়। যেভাবে মাশরিক ও মাগরিবের মধ্যে কখনোই সাক্ষাৎ হয় না। আর যদিও কখনো গুনাহে পতিত হয়ে থাকে, তাহলে সেখান থেকে তাকে যেন পরিচ্ছন্ন করা হয়, আর তার থেকে সেগুলোকে দূরীভুত করা হয় যেমন করে সাদা কাপড় থেকে ময়লা দূর করা হয়। আর তিনি (আল্লাহ) যেন তাকে (নবী সা.) তার গুনাহসমূহ থেকে গোসল করিয়ে এর প্রভাব ও উষ্ণতাকে যেন পানি, বরফ ও শিলা জাতীয় পবিত্রকারী বস্তু দ্বারা ঠান্ডা করে দেন।
আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফু‘ হিসেবে বর্ণিত, “তোমরা সিজদায় মধ্যপন্থা অবলম্বন করো। তোমাদের কেউ যেন তার বাহুদ্বয় কুকুরের ন্যায় বিছিয়ে না রাখে।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিজদায় মধ্যপন্থা অবলম্বন করতে নির্দেশ দিয়েছেন। অর্থাৎ মুসল্লী সিজদায় সুন্দর আকৃতিতে হবে। সে তার দু‘হাতের তালু যমীনের উপর রাখবে, দু’বাহু আগলা করবে এবং বাহুদ্বয়কে দু’পার্শ্ব থেকে দূরে রাখবে। কেননা এ অবস্থা হলো উৎসাহ-উদ্দীপনার ও মনোযোগী হওয়ার আলামত যা সালাতে মুসল্লীদের থেকে কাম্য। এ ছাড়াও এ সুন্দর অবস্থার কারণে সিজদার সমস্ত অঙ্গগুলো তার ইবাদতের অংশ গ্রহণ করতে সক্ষম হয়। আর সিজদায় বাহুদ্বয় বিছিয়ে রাখতে নিষেধ করা হয়েছে। কেননা এটি অলসতা ও বিরক্তির প্রমাণ। এতে রয়েছে কুকুরের সাথে সাদৃশ্য। আর তা এমন একটি সাদৃস্য শোভাযোগ্য নয়।
(আবূ) মাসলামাহ সা‘ঈদ ইব্নু ইয়াযীদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আনাস ইব্নু মালিক—রাদিয়াল্লাহু আনহু—কে জিজ্ঞেস করেছিলাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি তাঁর না‘লাইন (চপ্পল) পরে সালাত আদায় করতেন? তিনি বললেন, হাঁ।
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।ইসলামের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো কিতাবীদের বিরোধিতা করা এবং যে সব বিষয়ে মুসলিমের ওপর কষ্ট এবং ক্ষতি রয়েছে তা দূর করা। সা‘ঈদ ইবন ইয়াযীদ যিনি একজন নির্ভরযোগ্য তাবে‘ঈ তিনি আনাস ইবন মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহুকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন, তিনি কি তার পাদুকাদ্বয়ে সালাত আদায় করতেন, যাতে এ বিষয়ে তিনি তার অনুকরনীয় হোন? অথবা জুতায় সাধারণত ময়লা আর্বজনা থাকার কারণে তিনি বিষয়টি আশ্চর্য মনে করেন? তখন আনাস তাকে হ্যাঁ বলে উত্তর দেন। তিনি তার পাদুকাদ্বয়ে সালাত আদায় করতেন। এটি তার পবিত্র সুন্নাতসমূহের অর্ন্তভুক্ত। এটি কোন ভুখন্ড বা নির্দিষ্ট যামানার সাথে খাস নয়।
আবূ হুরাইরা রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যখন তোমাদের কারো পাত্রে কুকুর পান করে, সে তা সাতবার ধুয়ে নিবে”। আর সহীহ মুসলিমের বর্ণনায় রয়েছে: “তার প্রথমবার মাটি দিয়ে”।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমনবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাত্রে কুকুর জিহ্বা দাখিল করলে সেটি সাতবার ধৌত করতে নির্দেশ দিয়েছেন। তার প্রথমটি হবে মাটি দিয়ে যাতে তার পরে পানি দিয়ে ধৌত করা হয়। তবেই নাপাকি থেকে ও তার ক্ষতি থেকে পরিপূর্ণ পবিত্রতা হাসিল হবে।
আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন টয়লেটে প্রবেশ করতেন, তখন বলতেন: “ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الخُبُثِ وَالخَبَائِثِ ” “হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট অপবিত্র জিনিস বা শয়তান নর-নারী থেকে আশ্রয় গ্রহণ করছি।”
সহীহ বুখারী ও মুসলিমনবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন পেশাব বা পায়খানায় প্রবেশ করতে ইচ্ছা করতেন, তখন তিনি আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতেন, যাতে আল্লাহ তাঁকে পুরুষ ও নারী শয়তানের অনিষ্টতা থেকে রক্ষা করেন। الخبث والخبائث এর ব্যাখ্যায় কেউ কেউ অকল্যাণ ও অপবিত্রতা বলেছেন।