Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way






























Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেছেন যে, নিশ্চয়ই দুনিয়ার স্বাদ হচ্ছে সুমিষ্ট এবং দেখতে সবুজ-শ্যামল। ফলে মানুষ এর ধোঁকায় পড়ে যায়, এটি নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে এবং এটিকে তার সবচেয়ে বড় অভিপ্রায় বানিয়ে দেয়। আর আল্লাহ তা‘আলা আমাদের পরস্পরকে এ দুনিয়াতে প্রতিনিধি বানিয়েছেন,যাতে তিনি দেখে নিতে পারেন যে, আমরা কিভাবে আমল করি? আমরা কী তাঁর আনুগত্য করি, নাকি তাঁর অবাধ্য হই? অতএব রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: দুনিয়ার ভোগ-বিলাস ও এর সৌন্দর্য তোমাদের কে ধোকায় ফেলা থেকে সতর্ক হও, অন্যথায় আল্লাহ যা আদেশ করেছন তা পরিত্যাগ করা এবং যা নিষেধ করেছেন তাতে পতিত হওয়ার প্রতি তোমাদেরকে তা উৎসাহী করে তুলবে। আর দুনিয়াতে সবচেয়ে গুরুতর সাবধানতার বিষয় হলো নারী জাতির ফিতনা। কারণ, এটি প্রথম ফিতনা যাতে বনী ইসরাইল লিপ্ত হয়েছিল।
ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেসব নফল সালাত নিয়মিত আদায় করতেন, তা দশ রাক‘আত। এগুলোকে ‘সুনানুর রাওয়াতিব’ তথা নিয়মিত আদায়কৃত সুন্নাত সালাত বলা হয়। যুহরের ফরয সালাতের পূর্বে দু’রাক‘আত, পরে দু’ রাক‘আত। মাগরিবের পরে তাঁর ঘরে দু’রাক‘আত সুন্নাত আদায়। ‘ইশার ফরয সালাতের পরে দু’রাক‘আত তাঁর ঘরে আদায়। আর দু’রাক‘আত ফজরের(ফরজ) সালাতের পূর্বে। এভাবে সর্বমোট দশ রাক‘আত নফল সালাত পরিপূর্ণ হয়। অন্যদিকে জুমু‘আর ফরয সালাতের পরে তিনি দু’রাকা’আত সালাত আদায় করতেন।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রায়শই মিসওয়াক করতেন এবং তার আদেশ দিতেন। আর কিছু সময়ে এটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যায়, যেমন রাতে উঠার সময় মিসওয়াক করা। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন তাঁর দাঁত ঘষতেন এবং মিসওয়াক দিয়ে মুখ পরিষ্কার করতেন।
এ হাদীসটি —যেমনটি ইমাম নববী রহ. উল্লেখ করেছেন— ইসলামের সর্বজনীন নিয়ম ও মূলনীতিসমূহের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম ও মূলনীতি যার ওপর অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ বিধান নির্ভর করে থাকে। আর তা হলো “সমস্ত নিশ্চিত বস্তুর মধ্যে আসল হলো তার নিজস্ব বিধানের ওপর বাকী থাকা।” সন্দেহ শক্তিশালী হোক বা দূর্বল হোক, শুধু সন্দেহ বা ধারণার কারণে কোন বস্তুকে তার আসল বিধান থেকে ফেরানো যাবে না যতক্ষণ পর্যন্ত তা বিশ্বাসের স্তরে বা প্রবল ধারণায় না পৌঁছবে। এর অসংখ্য দৃষ্টান্ত রয়েছে যা কারো নিকটই অস্পষ্ট নয়। যেমন, এ হাদীস। যতক্ষণ পর্যন্ত একজন মানুষ তার পবিত্রতার ব্যাপারে নিশ্চিত থাকবে তারপর যদি অপবিত্র হওয়ার ব্যাপারে তার সন্দেহ হয়, তখন আসল হলো সে তার পবিত্রতার ওপর বাকী থাকবে। আর এর বিপরীতে যে ব্যক্তি তার অপবিত্রতা বিষয়ে নিশ্চিত কিন্তু পবিত্রতা বিষয়ে সন্দিহান তখন আসল হলো সে অপবিত্র হিসেবে পরিগণিত হবে। একই নিয়ম কাপড় বা স্থানসমূহের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এ সবের মধ্যে আসল হলো পবিত্রতা তবে যদি তার অপবিত্র হওয়া নিশ্চিত হওয়া যায়। অনুরূপভাবে সালাতে রাাকা‘আতের সংখ্যা। যেমন কোন ব্যক্তি নিশ্চিত যে, সে তিন রাকা‘আত সালাত আদায় করেছে এবং চতুর্থ রাকা‘আত সম্পর্কে তার সন্দেহ। তখন আসল হলো সন্দেহ না ধরা। তার ওপর জরুরি হলো চতুর্থ রাকা‘আত পড়ে নেওয়া। অনুরূপভাবে যে ব্যক্তি তার স্ত্রীর তালাক বিষয়ে সন্দেহ পোষণ করে তখন আসল হলো বিবাহ বাকী থাকা তালাক না হওয়া। এ ধরনের অসংখ্য মাসআলা রয়েছে যা কারো নিকটই গোপন নয়।
যখন সালাতের ইকামত দেওয়া হলো অথচ খাওয়া ও পানীয় উপস্থিত তার জন্য উচিত হলো খাওয়া ও পান করার কর্ম আগে সেরে নেবে। যাতে মুসল্লীর চাহিদা দূর হয় এবং তার মন তার সাথে সম্পৃক্ত না হয়।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বামীকে নিষেধ করেছেন,যেন সে তার স্ত্রীকে এমন পর্যায়ের ঘৃণা না করে, যা তাকে তার উপরে যুলুম করা, তাকে পরিত্যাগ করা এবং তাকে উপেক্ষার দিকে ধাবিত করে। মানুষ সৃষ্টিগতভাবেই অপূর্ণ, তাই যদিও সে তার একটি মন্দ আচরণকে অপছন্দ করে, তবে আবার তার মধ্যে অপর এমন একটি উত্তম আচরণও পাওয়া যাবে, যা তার উপযোগী। অতএব সে যে মন্দ বিষয়কে পছন্দ করে না, তার ব্যাপারে সবর করবে। যা তাকে এমন ধৈর্যশীল করে তুলবে এবং সে স্ত্রীকে এমনভাবে অপছন্দ আর করবে, না যা তাকে তার সাথে বিচ্ছেদের দিকে ধাবিত করতে পারে।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন, কোন ব্যক্তি যখন তার প্রাকৃতিক ডাকে সাড়া দেওয়ার ইচ্ছা করে, তখন সে যেন কিবলাকে সামনে রেখে কিবলামুখী না হয়ে বসে, আবার যেন সে কিবলাকে পিছনে পিঠের দিকে রেখেও না বসে। বরং তার জন্য আবশ্যক হচ্ছে, মদীনাবাসীর ন্যায় কিবলার দিক হলে, সে পূর্ব অথবা পশ্চিমের দিকে ঘুরে বসবে। তারপরে আবূ আইয়ূব রদিয়াল্লাহু আনহু সংবাদ দিচ্ছেন, তারা যখন শামে গেলেন, তখন তারা প্রয়োজন মেটানোর জন্য প্রস্তুতকৃত শৌচাগারগুলিকে কা‘বা অভিমুখী দেখতে পেলেন। তখন তারা তাদের শরীরকে কা‘বার দিক থেকে ঘুরিয়ে রাখতেন। আবার সেই সাথে তারা আল্লাহর কাছে ক্ষমাও চাইতেন।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাদীসটিতে কতিপয় শিষ্টাচার বর্ণনা করেছেন; এখানে তিনি প্রসাব করা অবস্থায় ডান হাত দিয়ে পুরুষাঙ্গ ধরতে নিষেধ করেছেন এবং পিছন ও সামনের রাস্তার ময়লাও ডান হাত দ্বারা দূর করতে নিষেধ করেছেন; কেননা ডান হাত সম্মানজনক কাজের জন্য তৈরী করা হয়েছে। অনুরূপভাবে যে পাত্রে পানি পান করা হয়, তাতে নিঃশ্বাস ফেলতে নিষেধ করেছেন।
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ দুটি হাদীসে ফজরের পর সূর্য উজ্জ্বল না হওয়া ও আপাত দৃষ্টিতে দিগন্তে পুঁতে রাখা তীর পরিমাণ উপরে না উঠা পর্যন্ত সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন। আর এটি কয়েক মিনিট দ্বারা নির্ধারণ করা যায়। আলেমগণ তা নির্ধারণে ৫ থেকে ১৫ মিনিট পর্যন্ত হতে পারে বলে মতানৈক্য করেছেন। অনুরূপভাবে ‘আসরের পর সূর্য অস্ত না যাওয়া পর্যন্ত সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন। অর্থাৎ মাগরিবের আযানের কয়েক মিনিট পূর্বে। কারণ, এ দুটি ওয়াক্তে সালাত আদায় করলে সেসব মুশরিকদের সাথে সদৃশ হয় যারা সূর্য উদয় ও অস্ত যাওয়ার সময় তার ইবাদত করে। আর ইবাদতে তাদের সদৃশ অবলম্বন থেকে আমাদের নিষেধ করা হয়েছে। কারণ, যে ব্যক্তি কোন সম্প্রদায়ে লোকের সাথে সদৃশ অবলম্বন করে সে তাদের অন্তর্ভুক্ত।