Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way






























Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
সিয়ামের শরীয়ত সম্মত সময় হচ্ছে ফজর উদয় হওয়া থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত। আর এ কারণেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মতকে বলেছেন যে, যখন পূর্ব দিক হতে রাত ঘনিয়ে আসে ও দিন পশ্চিম দিক দিকে চলে যায়, যেমন হাদীসে বর্ণিত হয়েছে: “যখন রাত এ দিক থেকে ঘনিয়ে আসে ও দিন এ দিক থেকে চলে যায় এবং সূর্য ডুবে যায়, তখন সিয়াম পালনকারী ইফতার করবে।” অর্থাৎ তখন সিয়াম পালনকারী ইফাতারের সময়ে প্রবেশ করে। এ সময় তার বিলম্ব করা উচিৎ নয়; বরং দেরী করলে সে দোষী হবে। শরীয়ত প্রণেতার নির্দেশ অনুযায়ী, তার আনুগত্য করণার্থে, ইবাদাতের সময়কে অন্য সময় থেকে আলাদা করণার্থে এবং বৈষয়িক মুবাহ বিষয়াবলি থেকে নফসকে তার হক থেকে বঞ্চিত না করণার্থে বেলা ডুবার সাথে সাথে ইফতার করা উচিৎ। তাঁর বাণী: “তখন সিয়াম পালনকারী ইফতার করবে” এর দু’টি অর্থ হতে পারে। (১) হয়তো এর অর্থ হলো, ইফতারের সময় প্রবেশ করায় সিয়াম পালনকারী শরীয়তের বিধান অনুসারে ইফাতার করেই ফেলেছে। যদিও সে কিছু খায়নি। সুতরাং কিছু কিছু হাদীসে দ্রুত ইফতার করার যে উৎসাহ দেয়া হয়েছে তাতে মূলত খাবার গ্রহণের মাধ্যমে ইফতার করার প্রতি উৎসাহ দেয়া হয়েছে। যেন শরীয়তের হকুমগতভাবে ইফতার করার সাথে প্রকাশ্যভাবে খবার গ্রহণ করে ইফতার করার বিষয়টি মিলে যায়। (২) অথবা এর অর্থ হবে, সে ইফতার করার সময়ে প্রবেশ করেছে। আর দ্রুত ইফতার করার উৎসাহ প্রকৃতপক্ষে ইফতার গ্রহণ করার অর্থই প্রদান করবে। এ অর্থটিই উত্তম এবং এটি সহীহ বুখারীর বর্ণনা দ্বারা সমর্থিত “ইফতার করা হালাল হয়েছে”।
যাকাত ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে সমতা বিধানকারী। এ কারণেই যার সম্পদ স্বল্প তার কাছ থেকে যাকাত গ্রহণ করা হয়না এবং এর মালিককে ধনী গণ্য করা হয় না। যার ওপর যাকাত ওয়াজিব শরীয়ত প্রণেতা তার সর্বনিম্ন সীমা বর্ণনা করেছেন। অতএব, যে ব্যক্তি সর্বনিম্ন সীমার চেয়ে কম সম্পদের মালিক সে অভাবী হিসেবে বিবেচিত। তার কাছ থেকে যাকাত হিসেবে কোনো কিছু নেওয়া হবে না। রৌপ্যের মালিকের ওপর যাকাত ওয়াজিব হবে না যতক্ষণ না তার কাছে পাঁচ উকিয়া রৌপ্য হবে। এক উকিয়ার পরিমাণ হলো ৪০ দিরহাম। এতএব, তার নিসাব হচ্ছে, ২০০ দিরহাম। যা আণুমানিক পাঁচশত নব্বই গ্রাম।উটের মালিকের ওপর যাকাত ওয়াজিব হবে না যতক্ষণ না তার কাছে পাঁচটি উট হবে। এর কম হলে তাতে যাকাত নেই। দানা জাতিয় শস্য ও খেজুরের মালিকের ওপর যাকাত ওয়াজিব হবে না যতক্ষণ না তার কাছে পাঁচ ওয়াসাক পরিমাণ হবে। আর ওয়াসাকের পরিমাণ হলো ষাট সা। সুতরাং এ হিসেবে তার নিসাব হচ্ছে ৩০০ সা‘।
উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু জাহেলী যুগে মসজিদুল হারামে এক রাত ই‘তিকাফ করার মানত করেছিলেন। তাই তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে তার মানতের হুকুম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন যা তিনি জাহেলী যুগে করেছিলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে তার মানত পূর্ণ করার নির্দেশ দিলেন। তাইসীরুল আল্লাম (পৃ. ৩৫৩), তানভীহুল আফহাম (৩/৪৮০)
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজান মাসের শুরু ও শেষের আলামত ব্যাখ্যা করেছেন এবং বলেছেন: যখন তোমরা রমজানের চাঁদ দেখতে পাও সিয়াম রাখ। যদি তোমাদের ও তার মাঝে মেঘ আড়াল হয় এবং তোমাদেরকে ঢেকে নেয়; তখন শাবান মাসের ত্রিশ দিন গণনা কর। আর যখন তোমরা শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখবে, তখন তোমার সিয়াম ভেঙ্গে ফেলবে। যদি তোমাদের ও তার মাঝে মেঘ আড়াল হয় এবং তোমাদেরকে ঢেকে ফেলে; তখন তোমরা রমজান মাসের ত্রিশ দিন গণনা কর।
যে সব কথা এ কাজ নিষিদ্ধ কি নিষিদ্ধ না হারাম নাকি হালাল এ বিষয়ে সংশয় রয়েছে সে গুলো ছেড়ে এমন সব কাজ কর্ম করার নির্দেশ নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম দিয়েছেন যে গুলো ভালো ও হালাল হওয়া নিশ্চিত। কারণ হৃদয় তার প্রতি শান্ত হয় এবং তৃপ্তি অনুভব করে। আর যাতে সন্দেহ থাকে তার কারণে হৃদয় অস্থীর ও বিরক্ত হয়।
এ হাদীসে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেছেন, যখন কোন মুসলিম জামা‘আতের সাথে সালাত আদায় করে, তখন তার সে সালাত তার ঘরে বা তার বাজারে বিশ বার সালাত আদায়ের চেয়ে উত্তম হয়। অতপর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ ভাবে তার কারণ উল্লেখ করেন, যখন কোনো ব্যক্তি উত্তমরূপে অযু করে শুধু সালাত আদায়ের উদ্দেশ্যেই মসজিদে গমন করে, তখন তার মসজিদে প্রবেশ করা পর্যন্ত প্রত্যেক পদক্ষেপের বিনিময়ে একটি মর্যাদা উন্নত হয় ও একটি পাপ মোচন করা হয়। অতঃপর সে যখন মসজিদে প্রবেশ করে এবং সালাত শুরু হওয়া পর্যন্ত বসে অপেক্ষা করে, তখন সে সালাত আদায়েরই সাওয়াব এবং সালাতের জন্যে অপেক্ষার সাওয়াব পাবে। আর যেখানে সে সালাত আদায় করেছে সেখানে যতক্ষণ অপেক্ষা করে ততক্ষণ পর্যন্ত ফিরিশতারা তার জন্যে রহমতের দো‘আ করতে থাকেন এবং তারা বলেন: ‘হে আল্লাহ! একে ক্ষমা কর, হে আল্লাহ! এর প্রতি দয়া কর, হে আল্লাহ! এর তাওবাহ কবুল কর।’ ফিরিশতাদের এই দো‘আ সে পর্যন্ত চলতে থাকে, যে পর্যন্ত তার অযু নষ্ট হয় না অথবা এমন কাজ করে না যা মানুষ বা ফিরিশতাদেরকে কষ্ট দেয়।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেছেন যে, মুসলিমের রক্ত হারাম—যতক্ষণ না সে তিনটি বিষয়ের কোনো একটি করে বসে: প্রথমটি: যে ব্যক্তি ব্যভিচারে লিপ্ত হয়, অথচ সে বৈধভাবে বিবাহ করেছে—তাকে রজম করে হত্যা করা বৈধ। দ্বিতীয়টি: যে ব্যক্তি কোনো নিরাপরাধ প্রাণকে অন্যায়ভাবে ইচ্ছাকৃত হত্যা করে, তাকে শর্তসাপেক্ষে হত্যা করা হবে। তৃতীয়টি: মুসলিমদের জামাআত থেকে বেরিয়ে যাওয়া ব্যক্তি—হোক তা সম্পূর্ণরূপে ইসলাম ত্যাগ করে মুরতাদ হওয়ার মাধ্যমে, অথবা মুরতাদ না হয়ে ইসলামের কিছু অংশ ত্যাগ করে বিচ্ছিন্ন ব্যক্তি, যেমন বিদ্রোহীরা, ডাকাতরা, খারিজিদের মতো সশস্ত্র হামলাকারীরা এবং অনুরূপ অন্যান্য গোষ্ঠী।
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেন যে, যদি মানুষকে কেবল তাদের দাবির ভিত্তিতে প্রমাণ ছাড়াই দাবি করা জিনিস দেওয়া হয়, তবে লোকেরা জনগণের সম্পদ ও রক্ত দাবি করবে, কিন্তু দাবিদারকে অবশ্যই যা দাবি করছেন তার পক্ষে প্রমাণ ও দলিল উপস্থিত করতে হবে। যদি তার কাছে প্রমাণ না থাকে, তাহলে যার উপর দাবি করা হয়েছে তার সামনে দাবিটি উপস্থাপন করা হবে, যদি সে তা অস্বীকার করে তবে তাকে শপথ করতে হবে এবং সে খালাস পেয়ে যাবেন।
“দৈহিক ব্যথা বা অন্য কোনো অসুবিধার কারণে যদি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ‘কিয়ামুল লাইল’ ছুটে যেত, তাহলে তিনি দিনের বেলায় ১২ রাকাত সালাত পড়তেন। কারণ, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লা ১১ রাকাত বিতর সালাত পড়তেন। যদি ঘুম বা সংশয়ের কারণে রাত অতিবাহিত হয়ে যেত তখন তিনি এই সালাতকে কাযা করে নিতেন। কিন্তু যেহেতু বিতরের ওয়াক্ত চলে গেল সেহেতু শরীয়ত বলে তা জোড় করে পড়তে।”