Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way






























Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা সংবাদ দেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের প্রথমভাগে ইশার সালাত আদায় করে ঘুমাতেন এবং রাতের শেষভাগে অর্থাৎ রাতের তৃতীয়াংশের দ্বিতীয়াংশে উঠে তাহাজ্জুদের সালাত আদায় করে বিছানায় ফিরে এসে আবার ঘুমাতেন। আর তা ছিলো রাতের শেষ ষষ্ঠাংশে। তিনি এমন করার কারণ ছিলো তাহাজ্জুদের সালাতের ক্লান্তি যাতে দূর হয়ে শরীর বিশ্রাম পায়। এতে আরো ফায়েদা হচ্ছে ফজরের সালাতের প্রস্তুতি গ্রহণ, উৎসাহ উদ্দীপনাসহ দিনের যিকিরসমূহ পাঠ করা। কেননা এ পদ্ধতিই হচ্ছে লৌকিকতা মুক্ত থাকার একটি উপায়। যেহেতু যারা রাতের শেষ ষষ্ঠাংশে ঘুমায় তার চেহারা সাধারণত উজ্জল হয়, শরীরিক শক্তি বৃদ্ধি পায়। রাতের অন্য অংশে কৃত আমল কাউকে না দেখিয়ে গোপন রাখতে সক্ষম হয়। এ কারণেই ইসলামে ফজরের আযানের আগে প্রথম আযানের প্রচলন ছিলো যাতে ঘুমন্ত ব্যক্তিকে জাগিয়ে তোলা যায় এবং রাতে দাঁড়িয়ে ইবাদতকারী (সামান্য সময়ের জন্য) ঘুমাতে পারে যাতে সে (ফজরের সালাতের আগে) শারীরিক শক্তি ও নতুন উদ্দীপনা লাভ করতে পারে। ঘুমন্ত ব্যক্তি ঘুম থেকে উঠে ফজরের সালাতের জন্য প্রস্তুতি নিবে এবং প্রথম রাতে বিতরের সালাত আদায় না করে থাকলে তা আদায় করবে।
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করেন, আমার দু’জন প্রতিবেশী রয়েছে। আমাকে প্রতিবেশীকে সম্মান করতে নির্দেশ করা হয়েছে। অথচ আমি তাদের দু’জনকে এক সঙ্গে হাদিয়া দিতে সক্ষম নই। অতএব আমি তাদের কাকে হাদিয়া দিব, যেন আমি প্রতিবেশীর সম্মানকারীদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারি? তিনি বললেন: “তোমার থেকে যার ঘর অতি কাছে তাকেই হাদিয়া দাও।”
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্পষ্ট করেছেন যে, জন্ম বা বংশীয় সম্পর্কের কারণে মামা, চাচা, ভাই প্রমুখ হারাম হয়, একইভাবে দুধ পান করানো দ্বারাও তারা হারাম হয়। দুধ পান করানো সেই সমস্ত বিধানকেও বৈধ করে যা জন্মের মাধ্যমে বৈধ হয়।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শুধু জুমআর দিন একটি সাওম পালন করতে নিষেধ করেছেন। তবে তার সাথে পূর্বে অথবা পরে একদিন মিলিয়ে সিয়াম পালন করা যাবে অথবা জুমআর দিন অভ্যাসের সাওম হলে রাখা যাবে।
আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা সংবাদ দিচ্ছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের দিন বক্তব্য প্রদান করতে দাঁড়ালেন। অতঃপর বললেন, কোনো হিজরত নেই, অর্থাৎ মক্কা থেকে। কেননা মক্কা ইসলামের রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। কিন্তু জিহাদ অবশিষ্ট আছে। আল্লাহ, আল্লাহর রাসূল ও আমীরের আনুগত্য পালনে যাকে জিহাদে যাওয়ার জন্য বলা হবে, তাকে তিনি জিহাদের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার নির্দেশ দেন। অতঃপর তিনি মক্কা নগরীর মর্যাদা বর্ণনা করেন। কেননা যখন থেকে আল্লাহ তা‘আলা আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন তখন থেকে মক্কা সম্মানিত। এখানে যুদ্ধ করা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আগে আর কারোও জন্য হালাল ছিলো না, তাঁর পরেও কারো জন্য হালাল নয়। তবে তার জন্যে তা দিনের কিছু সময়ের জন্য হালাল করা হয়েছিল। অতঃপর তার সম্মান আগের মতো ফিরে এসেছে। অতঃপর তিনি মক্কা নগরীর আরো সম্মান উল্লেখ করেন এবং বলেন, হারামের কাঁটা কর্তন করা যাবে না; তার শিকারকে উত্যক্ত করা যাবে না; তার পথে পড়ে থাকা বস্তু উঠানো যাবে না; তবে সে ব্যক্তি উঠাতে পারবে যে তা ঘোষণা করবে। এখানকার ঘাস কাঁটা যাবে না। তবে তিনি মক্কাবাসীদের প্রয়োজনে ইযখির কাঁটার অনুমতি দেন। দেখুন, তাইসীরুল আল্লাম, পৃ. ৩৮৪; তানবীহুল আফহাম, (৩/৫১৫); তা’সীসুল আহকাম, (৩/৩৫১)
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা সংবাদ দেন যে, হামযা ইবন আমর আল-আসলামী রাদিয়াল্লাহু আনহু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করলেন যে, সে কি সফরে সাওম পালন করবে? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে সফরে সাওম রাখা ও না রাখার অবকাশ দিলেন। তিনি বললেন, যদি তোমার ইচ্ছা হয় সাওম রাখো, আর যদি তোমার ইচ্ছা হয় সাওম ভঙ্গ করো। হাদীসে উল্লিখিত সাওম দ্বারা ফরয সাওমকে বুঝোনো হয়েছে। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (অন্য হাদীসে) বলেছিলেন, “এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ ছাড়।” আর সে ফরয সিয়াম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিল তার প্রমাণ হচ্ছে আবূ দাঊদের বর্ণনা। সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমার একটি বাহন আছে, আমি এটিকে আমার কাজে ব্যবহার করি, এর উপর সফর করি এবং তা ভাড়া দিই। কখনো এই মাস চলে আসে অর্থাৎ রমাদান মাস। আমি শরীরে শক্তি অনুভব করি, আল-হাদীস। এ থেকে স্পষ্ট হয় যে, সফরে সাওম পালন না করার ব্যাপারে আল্লাহর পক্ষ থেকে ছাড় রয়েছে। সুতরাং যে ছাড় গ্রহণ করল সে সঠিক কাজটিই করল। আবার যে সফরে সাওম পালন করল সেটাও তার জন্যে জায়েয। আর তার সাওমের দ্বারা ফরয আদায় হয়ে যাবে। তাইসীরুল ‘আল্লাম, পৃ. ৩২৫; তাম্বীহুল আফহাম (৩/৪২৯); তা’সীসুল আহকাম (৩/২৩৭)
আয়েশা ও উম্মে সালামা রাদিয়াল্লাহু আনহুমা সংবাদ দিচ্ছেন যে, রাত্রি বেলায় সহবাসের কারণে নাপাক অবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ফজরের সময় হয়ে যেত। তখন তিনি গোসল না করে সাওম পূরণ করতেন এবং সিয়াম কাযা করতেন না। মারওয়ান বিন হাকাম যখন তাদের নিকট বিষয়টি জানার জন্য তাদের কাছে লোক প্রেরণ করেছিলেন, তখন তারা এ বিষয়ে উপরোক্ত সংবাদ দিয়েছেন। আর এ হুকুমটি রামাযান এবং রমযান মাসের ছাড়া অন্য মাসের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
এ হাদীসটিতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুই দিন সাওম পালন করা, দুই ধরনের কাপড় পরিধান করা এবং দুই সালাত থেকে নিষেধ করেছেন। যে দুই দিন সাওম পালন করা নিষিদ্ধ, তা হলো ফিতরের দিন এবং কুরবানীর দিন। এ দু’দিন সাওম পালন নিষিদ্ধ হওয়ার হিকমত হলো, খানা-পিনা ও আনন্দের দিনে সাওম পালন করা মুনাসিব নয়। আর দুই ধরনের কাপড় পরিধান হলো আপাদমস্তক এক কাপড়ে ঢাকা ও এক কাপড়ে ইহতেবা করা। (ইহতিবা হচ্ছে পাছার উপর বসে দুই হাটু দাঁড় করিয়ে হাত দিয়ে পেচিয়ে ধরা কিংবা কাপড় দিয়ে বাঁধা)। আর সহীহ বুখারীর বর্ণনায় “যদি তার লজ্জাস্থানের উপর কোনো কাপড় না থাকে” বলে শর্তারোপ করা হয়েছে। আর দুই সালাত হলো, ফজরের সালাতের পর এবং আসরের সালাতের পর সালাত আদায় করা। কাফির, যারা সূর্য অস্ত যাওয়া বা উদয় হওয়ার সময় সূর্যপূজা করে তাদের সাথে সাদৃশ্য হওয়া থেকে বাঁচার জন্য এ নিষেধ। তবে যদি ফরয সালাত আদায় না করে তবে এ দুই সময়ের মধ্যে তা আদায় করা বৈধ। অনুরূপভাবে কোনো কারণের সাথে সম্পৃক্ত সালাত আদায়ও বৈধ।
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন যে, তাঁর প্রিয় সঙ্গী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে উপদেশ দেন এবং তাঁকে তিনটি অসিয়ত করেন: প্রথমটি: প্রতি মাসে তিন দিন সিয়াম রাখা। দ্বিতীয়: প্রতিদিন দুই রাকাত দুহার সালাত(চাশতের নামাজ)। তৃতীয়: ঘুমের আগে বিতর সালাত । এটি তার জন্য যে রাতের শেষভাগে জেগে না উঠার ভয় করেন।