Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way






























Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শয়তানের অবস্থা এবং এমন একজন ব্যক্তির সাথে তার লড়াই সম্পর্কে বলেন যে রাত বা সকালের সালাতের জন্য উঠতে চায়। যখন একজন মুমিন ঘুমাতে যায়, শয়তান তার মাথায়- অর্থ: তার মাথার পিছনে- তিনটি গিরা বেঁধে দেয়। যদি মুমিন জেগে ওঠে এবং আল্লাহ তা‘আলাকে স্মরণ করে আর শয়তানের ওয়াসওয়াসাতে সাড়া না দেয়; একটি গিরা খুলে যায়। যদি সে অযু করে অন্য আরেকটি গিরা খুলে যাবে। যদি সে উঠে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করে, তৃতীয় গিঁটটি খুলে যায় এবং আল্লাহ তাকে যে ইবাদত করার তাওফিক দিয়েছেন তার খুশিতে এবং আল্লাহ তাকে যে পুরষ্কার ও ক্ষমার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তার আনন্দে সে সক্রিয় হয়ে উঠে; অধিকন্তু সে শয়তানের জটিলতা এবং নিরুৎসাহ থেকে মুক্ত হয়, অন্যথায় সে মন্দ আত্মায়, দুঃখী হৃদয়ে এবং ভাল এবং সৎ কাজ করতে অলসতা নিয়ে ভোর করে। কারণ সে শয়তানের শৃঙ্খলে আবদ্ধ এবং রহমানের নৈকট্য থেকে অনেক দূরে।
জান্নাতে প্রবেশ করার কারণ অথবা আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হয়? প্র্রশ্নকারীকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জবাব দিয়েছিলেন: তুমি সালাতে দ্বারা বেশী বেশী সিজদা করতে থাক; কেননা তুমি আল্লাহর উদ্দেশ্যে একটি সিজদা করা মাত্রই আল্লাহ তোমার মর্যাদার একটি ধাপ উঁচু করে দেন আর তোমার থেকে একটি পাপ ক্ষমা করে দেন।
যখন রমজানের শেষ দশ দিন আসত, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইবাদত ও আনুগত্যের জন্য কঠোর পরিশ্রম করতেন এবং কল্যাণমূলক বিভিন্ন কাজ, নেক আমল এবং ইবাদত আঞ্জাম দিয়ে অন্যান্য সময়ের চেয়ে চরম পর্যায়ে যেতেন। এটা হল ঐ রাতগুলোর মাহাত্ম্য ও ফযীলত এবং লাইলাতুল কদর অন্বেষণ করার স্বার্থে ছিল।
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা সংবাদ দেন যে, তিনি রাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য দাঁতন ও ওযূর পানি প্রস্তুত করে রাখতেন। অতঃপর রাতের যে কোন অংশে আল্লাহ তাঁকে জাগাতো, তখন জেগে উঠে তিনি মিসওয়াক দ্বারা দাঁত মাঝা আরম্ভ করতেন, যাতে সাধারণত ঘুমের কারণে মুখে যে দুর্গন্ধ তৈরি হয় তা দূর হয়ে যায়। তারপর তিনি সালাতের জন্য যেভাবে ওযূ করতেন সেভাবে ওযূ করতেন এবং রাতের সালাত আদায় করতেন।’
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুসংবাদ দিচ্ছেন যে, আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা অবস্থায় যার দুই পায়ে ধুলো লাগবে জাহান্নামের আগুন তা স্পর্শ করবে না।
হাদীসের অর্থ: মানুষ যখন আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হয় তখন সে শাহাদাতের সময় এতোটুকু ব্যথা অনুভব করে যতোটুকু ব্যথা কাউকে পিপীলিকা কামড় দিলে অনুভব করে। দারিমীর বর্ণনায় এসেছে, “যতোটুকু ব্যথা কাউকে একবার চিমটি কাটায় পায়।” অর্থাৎ শহীদ মৃত্যুর যন্ত্রতা ও ভয়াবহতা অনুভব করে না, যা অন্যান্য মানুষ পেয়ে থাকে। বরং তারা বেশির থেকে বেশি আমাদেরকে পিপীলিকা কামড় দিলে যতোটুকু ব্যথা পাই শহীদরা মৃত্যুর সময় ততোটুকু ব্যথেই পায়। তাদের মৃত্যু এতো দ্রুতগতিতে হয় যে, তারা এ ব্যথাটুকুও অনুভব করতে পারে না। এটি মূলত শহীদগণের প্রতি মহান আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ। সে যেহেতু তার জীবনকে আল্লাহর রাস্তায় পেশ করে দেয়, ফলে আল্লাহও তার মৃত্যু যন্ত্রণা সহজ করে দেন।
আবূ কাতাদাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু তার থেকে ঋণগ্রহণকারী এক ব্যক্তি যে তার থেকে আত্মগোপনে থাকতেন খোঁজ করতে ছিলেন এবং তিনি তাকে পেয়ে যান। ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি বলল: আমি অভাবগ্রস্ত, আপনার ঋণ পরিশোধ করার মত সম্পদ আমার কাছে নেই। আবূ কাতাদাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু তার কাছে আল্লাহর নামে এই মর্মে কসম তলব করলেন যে, তার নিকট সম্পদ নেই? সে আল্লাহর নামে কসম করল যে, তিনি যা বলছেন তাতে তিনি সত্যবাদী। আবূ কাতাদাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: আল্লাহ কিয়ামতের দিনের আতঙ্ক, মুসিবত ও বিভীষিকা থেকে সুরক্ষা দিবেন বিষয়টি যাকে প্রফুল্ল ও আনন্দিত করে, তার উচিত অভাবগ্রস্তকে সুযোগ দেওয়া, যেমন তাকে অবকাশ দেওয়া ও তার ঋণের তাগাদা বিলম্বিত করা, অথবা কিছু ঋণ হ্রাস করা অথবা পুরো ঋণ ক্ষমা করা।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুটি ঠান্ডার সময়ের সালাত আদায়ের ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেছেন, সালাত দুটি হচ্ছে: ফজর এবং আসর। এবং যে ব্যক্তি তা যথাযথভাবে আদায় করবে যেমন: ওয়াক্তের মধ্যে, জামা‘আতের সাথে ইত্যাদি, তার জন্য এটি জান্নাতে যাওয়ার কারণ হবে।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবীদের মাঝে ভাষণ দানকালে বললেন, আল্লাহর কালেমাকে সুউচ্চ করার জন্য জিহাদ করা এবং আল্লাহর পথে ঈমান রাখা সর্বোত্তম আমল। জনৈক ব্যক্তি উঠে বলল, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আপনি বলুন, যদি আমি আল্লাহর কালিমাকে সুউচ্চ করার জন্য লড়াই করে শাহাদত বরণ করি, তাহলে কি আমার সমুদয় পাপ ক্ষমা করে দেওয়া হবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “হ্যাঁ, তবে শর্তে হচ্ছে তোমার ওপর যে মুসীবত চাপবে তাতে সবর করে, বরদাশত করবে, আল্লাহর জন্য নিষ্ঠাবান হয়ে এবং যুদ্ধের ময়দান থেকে পলায়ন না করে তুমি শহীদ হয়ে যাও। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি বিষয়কে ক্ষমার আওতামুক্ত রাখলেন। আর তা হচ্ছে ঋণ। তিনি সতর্ক করলেন যে, জিহাদ এবং শাহাদত মানুষের হকসমূহের কাফফারা হতে পারে না।