Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way






























Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দিয়েছেন, যে ব্যক্তি ফরয সালাত শেষ হওয়ার পরে আয়াতুল কুরসী পাঠ করবে, তাকে জান্নাতে প্রবেশ করতে কোন কিছুই বাধা দেবে না কেবল মৃত্যু ছাড়া; এ আয়াতটি সূরা বাকারাতে রয়েছে, আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: اللَّهُ لا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ لا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلا نَوْمٌ لَهُ مَا فِي السَّمَوَاتِ وَمَا فِي الأَرْضِ مَنْ ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِنْ عِلْمِهِ إِلَّا بِمَا شَاءَ وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضَ وَلا يَئُودُهُ حِفْظُهُمَا وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ “আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোন (সত্য) মাবুদ নেই, তিনি চিরঞ্জীব, সব কিছুর রক্ষণাবেক্ষণকারী। তাঁকে তন্দ্রা ও নিদ্রা স্পর্শ করে না। তাঁর জন্যই আসমানসমূহে যা রয়েছে তা এবং জমিনে যা আছে তা। কে সে, যে তাঁর নিকট সুপারিশ করবে তাঁর অনুমতি ছাড়া? তিনি জানেন যা আছে তাদের সামনে এবং যা আছে তাদের পেছনে। আর তারা তাঁর জ্ঞানের সামান্য পরিমাণও আয়ত্ত করতে পারে না, তবে তিনি যা চান তা ছাড়া। তাঁর কুরসী আসমানসমূহ ও জমিন পরিব্যাপ্ত করে আছে এবং এ দুটোর সংরক্ষণ তাঁর জন্য বোঝা হয় না। আর তিনি সুউচ্চ, মহান।” [আল-বাকারাহ : ২৫৫]।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেছেন যে, সালাত আদায়কারী ব্যক্তি যখন তার সালাতের মধ্যে সন্দেহে পড়ে যায়, আর সে মনে করতে পারে না যে, সে কত রাকাত সালাত আদায় করেছে, তিন রাকাত নাকি চার রাকাত? তখন সে সন্দিহান অতিরিক্ত রাকাত সংখ্যা গ্রহণ করা থেকে দূরে থাকবে; [যেমন] তিন হচ্ছে নিশ্চিত রাকাত সংখ্যা, সুতরাং সে চতুর্থ রাকাত আদায় করবে এবং সালাম ফিরানোর আগে দুটি সাজদা করবে। যদি সে প্রকৃতপক্ষে চার রাকাত পড়ে থাকে, তাহলে এক রাকাত যুক্ত হওয়ায় তা পাঁচ রাকাত হয়ে যাবে, আর সাহু সাজদা দুটি এক রাকাতের পরিবর্তে ধর্তব্য হবে, আর তাতে সংখ্যা জোড় হয়ে যাবে, বিজোড় থাকবে না। আর যদি অতিরিক্ত রাকাতটি আদায় করার মাধ্যমে চার রাকাত হয়ে যায়, তবে কোন বাড়তি-কমতি ছাড়াই তার উপরে যতটুকু ফরয ছিল তা আদায় হয়ে যাবে। সাহুর দুটি সাজদা শয়তানের জন্য লাঞ্ছনা ও অপমানসূচক দন্ড হিসেবে কাজ করে। এর মাধ্যমে তাকে তার উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন থেকে দূরে সরিয়ে অসম্মানের সাথে প্রত্যাখ্যান করা হয়। কারণ সে তার সালাতকে সন্দেহযুক্ত করেছিল, এবং তা নষ্ট করার জন্য সন্দেহে নিপতিত করেছিল। অথচ আদাম সন্তানের সালাত সম্পন্ন হয়ে গেল যখন সে আল্লাহ তা‘আলার সাজদা করার আদেশ মেনে নিল, যে সাজদা ইবলিস অস্বীকার করে অবাধ্য হয়েছিল, যখন আদামকে সিজদার মাধ্যমে আল্লাহর আদেশ পালনে সে অসম্মত হয়েছিল।
এ হাদীসটিতে হাফসা রাদিয়াল্লাহু আনহা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অবস্থা সম্পর্কে সংবাদ দেন যে, তিনি ফজরের দুই রাকা‘আত সুন্নাত পড়তেন। এর বেশি পড়তেন না। কারণ ইমাম মুসলিম হাফসা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, যখন ফজর উদয় হতো তখন কেবল দুই রাকা‘আত সংক্ষিপ্ত সালাত আদায় করতেন। এ হাদীসে তার কথা, “সংক্ষিপ্ত” অর্থাৎ কিয়াম, রুকূ ও সেজদায় সংক্ষেপ করতেন। অধিক সংক্ষিপ্ত করার কারণে, সহীহ বুখারির বর্ণনায় আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, তিনি কি সূরা ফাতিহা পড়েছেন? মুয়া’আত্তার একটি বর্ণনায় বর্ণিত: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের দুই রাকা‘আত এত সংক্ষেপ করতেন এমনকি আমি বলতাম, সূরা ফাতিহা পড়ছেন নাকি পড়েন নাই। এর অর্থ এ নয় যে, তিনি দুই রাকা‘আতে এতো বেশি সংংক্ষেপ করতেন যাতে রুকনসমূহ কিয়াম, রুকূ, সেজদা ইত্যাদি আদায়ে বিঘ্ন ঘটতো। সহীহ কথা হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্যান্য নফল সালাত যেগুলো তিনি খুব দীর্ঘ করতেন বলে জানা যায় তার তুলনায় সংক্ষেপ করতেন। ফজর উদয় হওয়ার পর” অর্থাৎ যখন ফজর উদয় হয়, তখন ইকামাতের পূর্বে। এর অর্থ হলো, ফজরের দুই রাকা‘আতের সময় হলো, ফজর উদয় হওয়া থেকে নিয়ে ফজরের সালাত পর্যন্ত।
আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা সংবাদ দিচ্ছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ঘরে রীতিমত নফল সালাত আদায় করতেন এবং তা তিনি পরিত্যাগ করতেন না: যুহরের পূর্বে দুই সালামে চার রাকাত এবং ফজরের পূর্বে দুই রাকাত।
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে ব্যক্তি যুহরের সালাতের পূর্বে চার রাকাত এবং পরে চার রাকাত নফল আদায় করবে এবং তা নিয়মিত চালিয়ে যাবে তার উপর আল্লাহ জাহান্নাম হারাম করে দিবেন মর্মে সু-সংবাদ দিয়েছেন।
হাদীস শরীফটি তার ফজিলত বর্ণনা করছে যে ব্যক্তি আসর সালাতের পূর্বে চার রাক‘আত নফল সালাত আদায় করে। কারণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জন্য আল্লাহর রহমতের দু‘আ করেছেন।
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের দুই রাকাত রাতিব সালাতে ফাতিহার পর প্রথম রাকাতে {قل يا أيها الكافرون} (কাফিরুন) দ্বিতীয় রাকাতে {قل هو الله أحد} (ইখলাস) পড়তেন।
হাদীসটির অর্থ: রাত ও দিনের সালাত দুই রাকা‘আত দুই রাকা‘আত। এ হাদীসটির মূল বুখারী ও মুসলিমে রয়েছে এভাবে: রাতের সালাত দুই রাকা‘আত, দুই রাকা‘আত। কোন কোন বর্ণনাকারী বৃদ্ধি করেছেন (এবং দিনের।) আর বৃদ্ধিটি দুর্বল। অর্থাৎ, যে ব্যক্তি রাতে বা দিনে নফল সালাত আদায় করতে চায়, সে যেন প্রতি দুই রাকা‘আতে সালাম ফিরায়। যেমনটি সহীহ মুসলিমে ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুমার বর্ণনায় বিষয়টি স্পষ্ট এসেছে। যখন তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো যে, দুই দুই অর্থ কি? তিনি বলেন, প্রত্যেক দুই রাকা‘আত পর সালাম ফিরাবে। রাতের সালাত সম্পর্কে এটি অধিকাংশ আলেমদের মতামত। অর্থাৎ রাতের নফল সালাতে দুই রাকা‘আত থেকে অধিক একসাথে আদায় করা বৈধ নয়। তবে বিতিরের সালাত ছাড়া। তা বেশি আদায় করা বৈধ। এ বিষয়ে সুন্নাত প্রমাণিত হওয়ার কারণে। তবে দিনের সালাত দুই রাকা‘আতের বেশি আদায় করাতে কোন অসুবিধা নেই। তবে উত্তম হলো দুই রাকা‘আত দুই রাকা‘আত।
হিজরী সালের মাসসমূহের প্রথম মাস মুহাররাম। রমাযান মাসের সাওমের পর সর্ব উত্তম সাওম হলো এ মাসের সাওম। কারণ, এটি বছরের শুরু মাস। তাই বছরকে সাওম যা কেবলই রশ্মি দ্বারা শুরু করা হবে উত্তম আমল। সব মুসলিমের জন্য উচিত হলো তার প্রতি আগ্রোহী হওয়া এবং কোন রকম ওজর ছাড়া তা না ছাড়া। আর তার বাণী: “আল্লাহর মাস” কথাটি অন্যান্য মাসের ওপর এ মাসের সম্মান ও বিশেষ বৈশিষ্ট্যকে প্রমাণ করে। আর রাতের সালাত ফরয সালাত সমূহের পর উত্তম সালাত। কারণ, অন্তরের একাগ্রতা ও রবের সাথে একাকী হওয়ার কারণেএ সময় খুশূ অধিক হয়ে থাকে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, “এ ছাড়াও রাত হলো আরাম আয়েশ করা সময়। এ সময়টিকে যখন ইবাদাতে নিয়োজিত করা হয়, তখন তা তার আত্মার ওপর কঠিন ও কষ্টকর হয় এবং দেহের জন্য কষ্টদায়ক এবং পরিশ্রম হয়,ফলে তা ইবাদাতের অর্থে গ্রহণযোগ্য এবং আল্লাহর নিকট সর্ব উত্তম।