Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way






























Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
আয়েশা রাদিয়াল্লাহ আনহা সংবাদ দেন যে, রমযান ও রমযানের বাহিরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের বেলা সব সময় তের রাক‘আত সলাত আদায় করতেন। বিতিরি এ তের রাকা‘আতের মধ্যেই ছিল। অনুরূপভাবে তিনি ফজরের দুই রাকা‘আত সালাত সব সময় আদায় করতেন। এখানে সবসময় দ্বারা উদ্দেশ্য অধিকাংশ সময়। কারণ, হাদীসে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযানের শেষ দশকে এত বেশি ইবাদত করতেন যা অন্য সময় করতেন না। এটি রাকা‘আত লম্বা ও দীর্ঘ করার ওপর প্রযোজ্য। রাকা‘আত সংখ্যা বাড়ানো নয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো কখনো তের রাকা‘আত সালাত আদায় করতেন আবার কখনো এগারো রাকা‘আত আদায় করতেন। আর বর্ণনায় এসেছে যে, তিনি কখনো এর চেয়ে কমও আদায় করতেন।
ভিতির হলো রাতের সালাত। এ সালাত দ্বারাই রাতের সালাতের সমাপ্তি করা হয়ে থাকে। যেমন দিনের সালাত মাগরিবের সালাত দ্বারা শেষ করা হয়ে থাকে। হাদীস শরীফটি ভিতিরের সালাতের ওয়াক্তকে স্পষ্ট করে যে, ভিতিরের সালাতের ওয়াক্ত হলো দ্বিতীয় ফাজর উদয় হওয়ার পূর্বে।
হাদীসটি বিতিরের সালাত প্রথম রাতে পড়ার বৈধতাকে স্পষ্ট করে। তবে যে ব্যক্তি শেষ রাতে জাগ্রত না হওয়াার আশঙ্কা করে তার ক্ষেত্রে প্রথম রাতে আদায় করা অধিক বৈধ। যেমনটি শেষ রাতে সালাত আদায় করা উত্তম হওয়া স্পষ্ট করা হলো, কারণ তা ফিরিশতাগণের উপস্থিতির সময়।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যাখ্যা করেছেন যে, ইমামের সাথে জামাতে সালাত পড়ার প্রতিদান তার ঘরে বা বাজারে একাকী পঁচিশটি সালাত পড়ার চেয়ে উত্তম। এরপর তিনি উল্লেখ করেছেন যে রাত ও দিনের ফেরেশতারা ফজরের সালাতের জন্য একত্রিত হন। এরপর আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু তার প্রমাণ উদ্ধৃত করে বলেন: ইচ্ছা হলে পড়ুন: [নিশ্চয় ফজরের সালাত উপস্থিতির সময়] [আল-ইসরা : ৭৮] অর্থাৎ ফজরের সালাতে রাতের ফেরেশতা ও দিনের ফেরেশতারা উপস্থিত থাকেন।
এ হাদীসটি জামা‘আতে সালাতের প্রতি সবোর্চ্চ গুরুত্ব দেওয়া ও যত্ন নেওয়ার প্রতি দাওয়াত দেয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেন, যে ব্যক্তি এমন যায়গায় উপস্থিত থাকে যেখানে জামাতে সালাতের আযান শোনা যায়, তার জন্য জামাতে উপস্থিত হওয়া ওয়াজিব। যদি উপস্থিত না হয় তবে তার সালাত অসম্পন্ন এবং কম সাওয়াব। তবে কোন প্রকার অপারগতা ছাড়া জামাত থেকে বিরত থাকা গুনাহের সাথে তা তার দায়িত্ব থেকে অব্যহতির জন্য যথেষ্ট হবে। আর যে ব্যক্তি শর‘ঈ অপারগতা যেমন, অসুস্থতা, বৃষ্টি, জান-মাল অথবা সন্তান ইত্যাদির ওপর ভয়ের কারণে জামাত থেকে বিরত থাকে তাতে কোন গুনাহ নেই।
হাদীস শরীফটি বর্ণনা করে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চাটাই দিয়ে মসজিদের এক কোনায় চাটাই দিয়ে একটি ছোট কামরা নির্মাণ করেন। স্পষ্টত তিনি তখন ই‘তেকাফকারী ছিলেন। তিনি রাতে কিয়ামুল লাইল করতেন। কিছু লোক তা দেখে তার পিছনে ইক্তেদা করা আরম্ভ করলেন। এভাবে কয়েকদিন চলার পর তারা আর তার আওয়াজ শুনতে পেলেন না। তারা ধারণ করছিল তিনি ঘুমে। তাই তারা তাকে জাগানোর বিভিন্ন আওয়াজ করতে শুরু করেন। তারপর তিনি তাদের কাছে আসলেন এবং তাদের বললেন, মুলত: তিনি ঘুমাননি। তবে তিনি আশঙ্কা করেন যে, তাদের ওপর কিয়ামুল লাইল ফরয করা হতে পারে। আর তিনি বলেন, যদি তা ফরয করা হয়, তা তারা পালন করতে সক্ষম হবে না। অনুরূপভাবে বর্ণনা করেন যে, নফল সালাতের জন্য উত্তম হলো তাদের ঘরে সালাত আদায় করা।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,সালাতের ভেতর পুরুষদের সর্বোত্তম কাতার এবং সবচেয়ে সাওয়াব ও পুণ্যের হল প্রথমটি; কারণ তারা ইমামের নিকটবর্তী, তার তিলাওয়াত শোনেন এবং মহিলাদের থেকে দূরে অবস্থান করেন। তার মধ্যে সবচেয়ে খারাপ, সওয়াব ও পুণ্যের দিক থেকে সর্বনিম্ন এবং ইসলামী শরীয়তের উদ্দেশ্য থেকে সবচেয়ে দূরে শেষেরটি। আর মহিলাদের জন্য সর্বোত্তম কাতার শেষেরটি; কারণ এটি তাদের জন্য আরও গোপনীয় এবং পুরুষদের সাথে সংমিশ্রন, তাদের দেখা এবং তাদের দ্বারা প্রলুব্ধ হওয়া থেকে অনেক দূরে; তার মধ্যে সবচেয়ে খারাপ প্রথমটি; কারণ এটি পুরুষদের নিকটবর্তী এবং ফিতনার কাছাকাছি।
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাতারের পিছনে একা এক ব্যক্তিকে সালাত আদায় করতে দেখলেন এবং তিনি তাকে তার সালাত পুনরায় পড়তে আদেশ করলেন; কারণ তার সালাত এই অবস্থায় শুদ্ধ হয়নি।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন ফজরের সালাত পড়লেন, তারপর জিজ্ঞেস করলেনঃ আমাদের এই সালাতে অমুক কি আছে? সাহাবীগণ বললেন: না। তারপর বললেন: অমুক কি আছে? অপর ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করে, তারা বলল: না। তখন তিনি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: ফজর ও এশার সালাত মুনাফিকদের জন্য সবচেয়ে কঠিন সালাত। কারণ তাতে অলসতা প্রবল হয় এবং এই দু’টি সালাতে লৌকিকতা কম দৃশ্যমান হয়, কারণ অন্ধকারে তাদের দেখা যায় না। হে মুমিনগণ, যদি তোমরা জানতে, ফজর ও এশার সালাত দু’টিতে কী পরিমাণ প্রতিদান ও বেশী সওয়াব রয়েছে - কারণ প্রতিদান কষ্টের সমানুপাতিক - তাহলে তোমরা হাত ও হাঁটুতে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও সেগুলিতে উপস্থিত হতে। ইমামের নৈকট্যে প্রথম সারিটি আল্লাহ তা‘আলার নৈকট্যে ফেরেশতাদের সারির মতো, যদি মুমিনগণ জানতেন যে প্রথম সারির ফজিলত কী, তবে তারা এটির দিকে অবশ্যই প্রতিযোগিতা করতেন। আর একজন ব্যক্তির সাথে অপর ব্যক্তির সালাত তার একা সালাতের চেয়ে সওয়াব ও প্রভাবের দিক থেকে মহান এবং তার সালাতে একজন ব্যক্তির চেয়ে দু’জন ব্যক্তির সাথে বেশী উত্তম। বস্তুত যে সালাতে অনেক মুসল্লি হবে তা আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয় ও উত্তম।