





























Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
All
আবূ কাতাদাহ্ আনসারী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবুল আস ইবন রাবী‘ ইবন আবদে শামছ -রাদিয়াল্লাহু আনহু- এর মেয়ে উমামাহ বিনতে যয়নাব বিনতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বহন করে সালাত আদায় করতেন। যখন তিনি সাজদায় যেতেন তখন তাকে রেখে দিতেন। আর যখন দাঁড়াতেন তখন তাকে তুলে নিতেন।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর নাতনী যয়নবের কন্যা উমামাহকে কাঁধে নিতেন যে অবস্থায় তিনি সালাত আদায় করছেন। যখন দাঁড়াতেন তখন তাকে তার কাঁধে তুলে নিতেন। আর তিনি যখন রুকূ বা সাজদায় যেতেন তখন তাকে মাটিতে রেখে দিতেন। এটি করতেন তার প্রতি ভালোবাসা এবং দয়া প্রদর্শনের জন্য।
উম্মু আতিয়্যাহ্ রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, জানাযার পশ্চাদানুগমণ করতে আমাদের নিষেধ করা হয়েছে, তবে আমাদের উপর কড়াকড়ি আরোপ করা হয়নি।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমউম্মে আতিয়াহ আল-আনসারিয়াহ রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহিলাদেরকে জানাযার সাথে হাঁটতে নিষেধ করেছেন। এর কারণ হলো তাদের মধ্যে এবং তাদের মাধ্যমে ফিতনার ভয় এবং তাদের ধৈর্যের অভাব। তারপর তিনি রাদিয়াল্লাহু আনহা আমাদের জানান যে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্যান্য নিষেধাজ্ঞার মতো নিষেধ করার ওপর জোর দেননি।
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফূ‘ সনদে বর্ণিত: “একজন মদ পানকারীকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট নিয়ে আসলে তিনি বললেন, “তোমরা তাকে প্রহার কর”। তারপর আমাদের কেউ হাত দিয়ে, কেউ জুতা দিয়ে, কেউ কাপড় দিয়ে তাকে প্রহার করল। যখন সে ফিরে যাচ্ছিল তখন উপস্থিত কেউ বলল, আল্লাহ তোমাকে লাঞ্ছিত করুন। রাসূল বললেন, “এমন কথা বলো না, তার বিপক্ষে শয়তানকে সাহায্য করো না।”
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।হাদীসের অর্থ: সাহাবীগণ একজন লোককে রাসূলের কাছে নিয়ে আসেন যে মদ পান করেছে। রাসূল তাকে প্রহার করার নির্দেশ দিলে সাহাবীগণ তাকে মারল। কেউ কেউ মারার কোনো হাতিয়ার না নিয়ে হাত দিয়ে মারল, কেউ কেউ তাকে জুতা দিয়ে মারল। যাতে তার দ্বারা অন্যরা উপদেশ গ্রহণ করে। আবার কেউ কেউ কাপড় দিয়ে প্রহার করল। তবে তারা কেউ লাঠি, যা শাস্তি প্রয়োগ করতে ব্যবহার করা হয় তা, ব্যবহার করেনি। অপর একটি বর্ণনায় এসেছে, তিনি বিশ জন লোককে নির্দেশ দিলেন। তাদের প্রত্যেকে খেজুরের ডাল ও জুতা দিয়ে তাকে দুটি করে আঘাত করে। এ দ্বারা এ ব্যাখ্যা করা যায় যে, তার শাস্তি চল্লিশ বেত্রাঘাত। খুলাফায়ে রাশেদীন কর্তৃক আরও বেশি শাস্তির যে বর্ণনা এসেছে, তা হলো ইমামের পক্ষ থেকে তার জন্য অনির্ধারিত শাস্তিস্বরূপ। অতঃপর যখন মানুষ তাকে আঘাত করা শেষ করল, তাদের কেউ কেউ তার জন্য বদ-দো‘আ করতে লাগলো এবং অপমান অপদস্থের জন্য দো‘আ করল। অর্থাৎ মানুষের মাঝে বে-ইজ্জত হওয়া, লাঞ্ছিত এবং অপদস্থ হওয়ার দো‘আ করল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা এমন কথা বলো না। তার বিরুদ্ধে শয়তানকে সাহায্য করো না। কারণ, যখন তারা তার জন্য অপমানের দো‘আ করবে হতে পারে তা কবুল হবে। তাতে শয়তান তার টার্গেটে পৌঁছে যাবে, তার উদ্দেশ্য সফল হবে। এমনকি অপরাধী শাস্তি পাওয়া সত্বেও তা থেকে দূরে থাকবে না।
উসামাহ ইব্নু যায়দ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জনৈকা কন্যা (যায়নাব) তাঁর (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের) নিকট লোক পাঠালেন যে, আমার এক পুত্র মরণাপন্ন অবস্থায় রয়েছে, তাই আপনি আমাদের নিকট আসুন। তিনি বলে পাঠালেন, (তাঁকে) সালাম দিবে এবং বলবে, নিশ্চয় আল্লাহ যা নিয়েছেন ও যা দিয়েছেন সব তারই। তাঁর নিকট সকল কিছুরই একটি নির্দিষ্ট সময় আছে। কাজেই সে যেন ধৈর্য ধারণ করে এবং সাওয়াবের অপেক্ষায় থাকে। তখন তিনি তাঁর কাছে কসম দিয়ে পাঠালেন, তিনি যেন অবশ্যই আগমন করেন। তখন তিনি দণ্ডায়মান হলেন এবং তাঁর সাথে ছিলেন সা’দ ইব্নু উবাদাহ, মু‘আয ইব্নু জাবাল, উবাই ইব্নু কা’ব, যাইদ ইব্নু সাবিত রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুম এবং আরও কয়েকজন। তখন শিশুটিকে রাসূলুল্লাহ্ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে তুলে দেয়া হল। তখন সে ছটফট করছিল। বর্ণনাকারী বলেন, আমার ধারণা যে, তিনি এ কথা বলেছিলেন, যেন তার শ্বাস মশকের মত (শব্দ হচ্ছিল)। আর নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দু’ চক্ষু বেয়ে অশ্র“ ঝরছিল। সা’দ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! একি? তিনি বললেন, এ হচ্ছে রাহমাত, যা আল্লাহ্ তাঁর বান্দার অন্তরে গচ্ছিত রেখেছেন। আর আল্লাহ্ তো তাঁর দয়ালু বান্দাদের প্রতিই দয়া করেন।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।উসামাহ ইব্নু যায়দ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা উল্লেখ করেন যে, নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জনৈকা কন্যা (যায়নাব) তাঁর নিকট এ বলে লোক পাঠালেন যে, তার এক পুত্র মরণাপন্ন অবস্থায় রয়েছে, অর্থাৎ তার মৃত্যু উপস্থিত। তিনি চাইলেন যে, রাসূলুল্লাহ যেন সেখানে উপস্থিত হয়। বিষয়টি রাসূলের নিকট পৌঁছলে তিনি তাকে বললেন, তুমি তাকে আদেশ কর যেন সে ধৈর্য ধারণ করে এবং সাওয়াবের আশা করে। কারণ, আল্লাহ যা নিয়ে যান আর যা দান করেন সব তাঁরই মালাকানাধীন। তাঁর নিকট সকল কিছুর একটি নির্দিষ্ট সময় আছে। যে লোকটিকে তার মেয়ে তার নিকট পাঠিয়েছিল তাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দেশ দেন যে, সে যেন বাচ্চার মা অর্থাৎ তাঁর মেয়েকে এ বাক্যগুলো দ্বারা উপদেশ দেয়: “সে যেন ধৈর্য ধারণ করে” অর্থাৎ এ বিপদের ওপর। “আর সাওয়াবের আশা করে” অর্থাৎ, ধৈর্য ধারণ করার মাধ্যমে আল্লাহর নিকট সাওয়াবের আশা করে। কারণ, কতক মানুষ আছে যারা ধৈর্য ধারণ করে তবে সাওয়াবের আশা করে না। কিন্তু যখন সবর করে এবং সাওয়াবের আশা করে অর্থাৎ সে তার সবর দ্ধারা ইচ্ছা করল যে, আল্লাহ তাকে সাওয়াব ও বিনিময় দান করবেন। আর একেই বলে ইহতিসাব। তার বাণী: “আল্লাহর জন্যেই যা কিছু তিনি দিয়েছেন ও যা কিছু তিনি গ্রহণ করেছেন”। এটি একটি মহান বাক্য। যখন সবকিছু আল্লাহর অধিকারে হয় সে যদি তোমার থেকে কিছু নেয় তা তাঁরই অধিকার আর যদি কোন কিছু তোমাকে দান করে তা তাঁরই অধিকার। তাহলে তুমি কীভাবে অসন্তুষ্ট হবে যখন সে তোমার থেকে নেয় এমন বস্তু যার মালিক সে নিজেই। এ কারণেই মানুষের জন্য সুন্নাত হলো যখন সে কোন বিপদে পড়ে সে বলবে, নিশ্চয় আমরা আল্লাহর জন্য আর তার দিকেই আমাদের ফিরে যাওয়া। অর্থাৎ, আমরা আল্লাহর অধিনস্থ। তিনি আমাদের যা চান করেন। অনুরূপভাবে আমরা যা ভালোবাসি তাও আল্লাহর। যখন তিনি তা আমাদের হাত থেকে নিয়ে যান তা তাঁরই। যা গ্রহণ করেন তাও তার আর যা দান করেন তাও তার। এমনকি তোমাকে তিনি যা দান করেন তুমি তার মালিক নয় তাও আল্লাহর। আর এ কারণেই তোমাকে আল্লাহ যা দান করেছেন তাতে তুমি আল্লাহর দেয়া পদ্ধতি বা অনুমতি ছাড়া তোমার ইচ্ছা অনুযায়ী ব্যয় করতে পারবে না। এতে প্রমাণিত হয় যে, আল্লাহ আমাদের যা দান করেন তাতে আমাদের মালিকানা দুর্বল। আমরা আমাদের ইচ্ছা অনুযায়ী তাতে কোন হস্তক্ষেপ করতে পারি না। এ কারণেই তিনি বলেন, আল্লাহর জন্যই যা তিনি নিয়ে যান এবং তিনি যা দেন তাও তার জন্য। সুতরাং যা তিনি নিয়ে যান তা যদি আল্লাহর জন্য হয় তাহলে আমরা কীভাবে হায়হুতাশ করি? আর আমরা কীভাবে অসন্তুষ্ট হই যখন মালিক যা তার মালিকানায় তা নিয়ে যায়?। এটি অযৌক্তিক ও অবাস্তব। তিনি বলেন, “তবে তাঁর নিকট সকল কিছুরই একটি নির্দিষ্ট সময় আছে।” প্রতিটি বস্তু তার নিকট নির্দিষ্ট পরিমাণে। যখন তুমি এ কথা বিশ্বাস করবে যে, “আল্লাহরই অধিকারে যা কিছু তিনি নিয়ে যান আর তাঁরই অধিকারে যা কিছু তিনি দান করেন, তাঁর নিকট সকল কিছুরই একটি নির্দিষ্ট সময় আছে” তুমি অবশ্যই সন্তুষ্ট থাকবে। শেষ বাক্যটির অর্থ হলো একজন মানুষের জন্য লিপিবদ্ধ নির্ধারিত সময়কে আগে বা পিছে করে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন, প্রত্যেক উম্মতের রয়েছে নির্দিষ্ট সময়। যখন তাদের সময় এসে যাবে এক মুহুর্তও আগে বা পিছে করা হবে না” [সূরা ইউনুস, আয়াত: ৪৯] যখন সব বস্তুরই নির্ধারিত সময় আছে যা এদিক সেদিক করা যাবে না তাহলে হায় হুতাশ করা এবং কান্নাকাটি করা দ্বারা কোন লাভ নেই। কারণ, সে যতই কান্নাকাটি ও নারাজি প্রকাশ করুক সে তার ভাগ্যের কোন কিছুই পরিবর্তন করতে পারবে না। অতঃপর দূতটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিলেন তা তিনি পৌঁছে দিলেন। কিন্তু সে তার নিকট চাইলেন যে সে যেন উপস্থিত হন। ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে নিজে এবং এক জামা‘আত সাহাবীকে নিয়ে রওয়ানা করলেন এবং তার নিকট পৌঁছলেন। তার নিকট বাচ্চাটি তুলে ধরা হলে তখন সে ছটফট করছিল। আর নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেঁদে দিলেন এবং তার দু’ চক্ষু বেয়ে অশ্রু ঝরছিল। সা’দ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু ধারণা করলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অধৈর্য্য হয়ে কাঁদছেন। তাই সে তাকে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! একি? তিনি বললেন, এ হচ্ছে রাহমাত, অর্থাৎ, আমি বাচ্চার প্রতি দয়ালু হয়ে কান্নাকাটি করছি ভাগ্যের প্রতি অধৈর্য হয়ে নয়। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আর আল্লাহ্ তো তাঁর দয়ালু বান্দাদের প্রতিই দয়া করেন। এ দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, মুসীবতগ্রস্থের প্রতি দয়াদ্র হয়ে কান্নাকাটি করা বৈধ।
আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক মহিলার পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন। সে একটি কবরের পাশে বসে কাঁদছিল। তিনি বললেন, “তুমি আল্লাহকে ভয় কর এবং ধৈর্য ধারণ কর।” সে বলল, ‘আপনি আমার নিকট হতে দূরে সরে যান। কারণ, আমি যে বিপদে পড়েছি আপনি তাতে পড়েননি।’ সে তাঁকে চিনতে পারেনি (তাই সে চরম শোকে তাঁকে অসঙ্গত কথা বলে ফেলল)। অতঃপর তাকে বলা হল যে, ‘তিনি নাবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন।’ সুতরাং (এ কথা শুনে) সে নাবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দুয়ারের কাছে এল। সেখানে সে দারোয়ানদেরকে পেল না। অতঃপর সে (সরাসরি প্রবেশ করে) বলল, ‘আমি আপনাকে চিনতে পারিনি।’ তিনি সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “আঘাতের শুরুতে সবর করাটাই হল প্রকৃত সবর।” মুসলিমের একটি বর্ণনায় আছে, সে (মহিলাটি) তার মৃত শিশুর জন্য কাঁদছিল।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক মহিলার পাশ দিয়ে গেলেন, যে তার একটি মৃত বাচ্চার কবরের নিকট অবস্থান করছিল। আর সে বাচ্চাটিকে খুব মহব্বত করত। সে নিজেকে সংবরণ করতে না পেরে ঘর থেকে বের হয়ে কবরের নিকট কাঁদতে চলে গেল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে দেখে আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন ও ধৈর্য ধারণের নির্দেশ দেন। তখন সে বলল, আমার থেকে দূর হও। তুমি আমার মতো বিপদে আক্রান্ত হওনি। অতঃপর তাকে জানানো হলো যে, তিনি ছিলেন আল্লাহর রাসূল। তারপর সে লজ্জিত হলো এবং রাসূলের বাড়ীর দরজায় উপস্থিত হলেন। দরজায় কোন পাহারাদার ছিল না যারা তাকে প্রবেশে বারণ করবে। সে তাকে জানালো যে, আমি আপনাকে চিনতে পারি নাই। তখন রাসূলুল্লাহ তাকে জানালেন, যে ধৈর্যের ওপর মানুষকে সাওয়াব দেওয়া হয় সেটা হচ্ছে মুসিবত স্পর্শ করার শুরুর ধৈর্য।
আনাস ইবন মালিক থেকে মারফূ‘ হিসেবে বর্ণিত: “বিলালকে আযানের বাক্য দু’বার ও ইক্বামাতের বাক্য একবার করে বলার নির্দেশ দেওয়া হল”।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার মুয়াজ্জিন বিলালকে আযানের বাক্য দু’বার করে বলার নির্দেশ দেন। কারণ, এটি অনুপুস্থিত লোকদের অবগত করার জন্য। তাই বাক্যগুলো দুইবার করে বলবে। তবে এটি শুরুতে তাকবীর ছাড়া অন্য বাক্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কারণ, শুরুতে তাকবীর চারবার বলা হাদীস দ্বারা প্রমাণিত এবং শেষে তাওহীদের বাক্য। কারণ, তা একবার বলা প্রমাণিত। যেমনিভাবে তিনি বিলালকে ইকামতে বাক্যগুলো বেজোড় করে বলার নির্দেশ দেন। কারণ, ইকামত হলো উপস্থিত লোকদের সতর্ক করার জন্য। আর এটি তাকবীর ও কাদকামাতিস সালাহ ছাড়া। কারণ, এ দুটি বাক্য দুইবার করে বলা হাদীস দ্বারা প্রমাণিত।
আনাস ইব্নু মালিক রাদয়িাল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত যে, তাঁর দাদী মুলাইকাহ্ আল্লাহর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে খাওয়ার দা’ওয়াত দিলেন, যা তাঁর জন্যই তৈরি করেছিলেন। তিনি তা হতে খেলেন, অতঃপর বললেন, উঠ, তোমাদের নিয়ে আমি সালাত আদায় করি। আনাস বলেন, আমি আমাদের একটি চাটাই আনার জন্য উঠলাম, তা অধিক ব্যবহারে কাল হয়ে গিয়েছিল। তাই আমি সেটা পানি দিয়ে পরিষ্কার করে নিলাম। তার ওপর আল্লাহর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়ালেন। আর আমি এবং একজন ইয়াতীম বালক (যুমাইরাহ) তাঁর পেছনে দাঁড়ালাম আর বৃদ্ধা দাদী আমাদের পেছনে ছিলেন। তিনি আমাদের নিয়ে দু’রাক‘আত সলাত আদায় করলেন। অতঃপর তিনি চলে গেলেন। মুসলিমের বর্ণনায় বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাম তাকে ও তার মাকে সাথে নিয়ে সালাত আদায় করেন। তিনি আমাকে তার ডান পাশে এবং মহিলাকে আমাদের পিছনে দাড়া করালেন।
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন। - মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মুলাইকাহ্ রাদয়িাল্লাহু আনহা নিজের তৈরি খাবারের জন্যে আল্লাহর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দা’ওয়াত দিলেন। আল্লাহ তা‘আলা তাকে উত্তম চরিত্র ও উন্নত গুনের অধিকারী করে সৃষ্টি করেছেন। তা থেকে একটি হলো অস্বাভাবিক বিনয়। তাই তার সম্মান ও অবস্থান উচ্চ ও মহান হওয়া সত্বেও ছোট, বড়, নারী পুরুষ, ধনী গরীব সবার দাওয়াতে সাড়া দিতেন। এ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, অভাবীদের অন্তরসমূহকে আকৃষ্ট করা, মিসকীনদের প্রতি বিনয় পদর্শন করা, মুর্খদের শিক্ষা দেওয়া সহ ইত্যাদি প্রশংসিত, মহান ও উন্নত উদ্দেশ্যসমূহ বাস্তবায়ন করা। তিনি দাওয়াতদানকারী এ মহিলার নিকট আসলেন। তিনি তার খাদ্য খেলেন।তারপর তিনি এ সুযোগকে এসব দুর্বলদের শিক্ষা দেওয়ার জন্য গণীমত মনে করলেন যারা বড়দের সাথে ঠেলাঠেলি করে তার বরকতপূর্ণ মজলিসে হাজির হয় না। তিনি তাদেরকে তার সাথে সালাত আদায় করার জন্যে দাঁড়াতে নির্দেশ দিলেন। যাতে তারা তার থেকে সালাতের পদ্ধতি শিখে নেন। আনাস একটি পুরাতন চাটাই আনার জন্য উঠলেন, যা অধিক ব্যবহার ও অধিক সময় পড়ে থাকার কারণে কালো হয়ে গিয়েছিল। তাই সে সেটাকে পানি দিয়ে পরিষ্কার করল। অতঃপর আল্লাহর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতের জন্যে তার উপর দাঁড়ালেন। আনাস এবং একজন ইয়াতীম বালক (যুমাইরাহ) রাসূলুল্লাহর পেছনে একটি কাতার করে দাঁড়ালো। আর বৃদ্ধা দাদী যিনি দাওয়াত দিয়েছিলেন আনাস এবং ইয়াতীমের পিছনে দাড়িয়ে তাদের সাথে সালাত আদায় করেন। আল্লাহর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের নিয়ে দু’রাক‘আত সালাত আদায় করলেন। অতঃপর তিনি দাওয়াত ও তা‘লীমের হক আদায় করার পর চলে গেলেন। আল্লাহ তা‘আলা তার কর্মসমূহ ও চরিত্রসমূহে তার অনুকরণ করার সুযোগ করে দিয়ে আমাদের প্রতি ইহসান করেছেন।
আব্দুল্লাহ ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে মারফূ‘ হিসেবে বর্ণিত: “যখন কোন নারী মসজিদে যাওয়ার জন্য অনুমতি চায় তাকে যেন বাধা না দেয়। তিনি বলেন, এ কথা শোনে বিলাল ইবন আব্দুল্লাহ বলল, আল্লাহর কসম আমি তাদের বারণ করব। তিনি বলেন, তারপর আব্দুল্লাহ তার সামনে আসলেন এবং তাকে খুব খারাপ ভাষায় গালি দিলেন। আমি তাকে আর কখনো এ ধরনের গাল দিতে শুনিনি। তিনি বললেন, আমি তোমাকে রাসূলুল্লাহুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে সংবাদ দিচ্ছি আর তুমি বলছো আল্লাহর কসম আমি তাদের বারণ করব?” অপর শব্দে বর্ণিত: “তোমরা আল্লাহর বাঁদীদেরকে আল্লাহর মসজিদসমূহে গমনে বাঁধা দিবে না।”
উভয় বর্ণনা মুত্তাফাকুন আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বর্ণনা করেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন কোন নারী তোমাদের নিকট মসজিদে যাওয়ার জন্য অনুমতি চায় তাকে যেন বাধা না দেয়। যাতে সে মসজিদে সালাত আদায়ের কারণে জামা‘আতের ফযীলত থেকে বঞ্চিত না হয়। এতে সালাত আদায়ের জন্য নারীদের মসজিদে যাওয়ার বিধানের আলোচনা করা হয়েছে। আর এটি বৈধ। এ হাদীসটি বলার সময় আব্দুল্লাহ ইবন উমারের ছেলেদের থেকে কোন একজন সেখানে উপস্থিত ছিল। সে দেখল যে, নারীগণ অধিক সাজ-সজ্জা অবলম্বন করার কারণে রাসূলের যুগের যামানাহ থেকে বর্তমান যামানার অবনতি হয়েছে। এটি তাকে নারীগণের সুরাক্ষার প্রতি উদ্বুদ্ধ করল। তাই শরীয়ত প্রণেতার ওপর আপত্তি করার ইচ্ছা ছাড়া সে বলল, আল্লাহর কসম আমি তাদের বারণ করব। তার কথা থেকে তার পিতা বুঝতে পারল যে, এভাবে প্রতিউত্তর করে সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাতের ওপর আপত্তি তুলছে। তাই তার কথা তাকে আল্লাহর ও তার রাসূলের জন্য সংক্ষুব্ধ করে তুলল। তাই তিনি তাকে খুব খারাপ ভাষায় গালি দিলেন। আর বললেন, আমি তোমাকে রাসূলুল্লাহু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে সংবাদ দিচ্ছি আর তুমি বলছো আল্লাহর কসম আমি তাদের বারণ করব।?
আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত: রাসূলুল্লাহ সালাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং আবূ বকর ও উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুমা সালাত আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামীন দ্বারা আরম্ভ করতেন। অপর বর্ণনায় বর্ণিত: আমি আবূ বকর, উমার ও উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুমের সাথে সালাত আদায় করেছি। তাদের কাউকে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম পড়তে শুনিনি। আর সহীহ মুসলিমের বর্ণনায় বর্ণিত: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং আবূ বকর, উমার ও উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুমের পিছনে সালাত আদায় করি, তারা আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামীন দ্বারা সালাত আরম্ভ করতেন। তারা বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম কিরাতের শুরুতে এবং শেষে উল্লেখ করতেন না।
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন। - মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসূলুল্লাহ সালাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সহচর্যে দীঘ সময় থাকা এবং তার ও খুলাফায়ে রাশেদীনের সান্নিধ্যে জমে থাকা সত্বেও তাদের কারো থেকে সালাতে কিরাতের শুরুতে বা শেষে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম পড়তে শুনেননি। তারা আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামীন দ্বারা সালাত আরম্ভ করতেন। আলেমগণ বিছমিল্লাহ-এর প্রচলনের বিধান এবং তা উচ্চ আওয়াজে পড়া সম্পর্কে বিভিন্ন মতামত দিয়েছেন। আলেমগণের বিশুদ্ধ মত হলো সালাত আদায়কারী সূরা ফাতিহার পূর্বে সালাতের প্রতি রাকা‘আতে বিছমিল্লাহ নিম্ন আওয়াযে পড়বে। চাই জাহরি সালাত হোক বা আস্তে কিরাত পড়া সালাত হোক।