





























Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
All
আবূ সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফু হিসেবে বর্ণিত, “কিয়ামতের দিন আল্লাহর নিকট সবচেয়ে নিকৃষ্ট মানুষ সেই ব্যক্তি হবে, যে স্ত্রীর সঙ্গে মিলন করে এবং স্ত্রী তার সঙ্গে মিলন করে। অতঃপর সে তার (স্ত্রীর) গোপন কথা প্রকাশ করে দেয়।”
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দেন যে, “কিয়ামতের দিন আল্লাহর নিকট সবচেয়ে নিকৃষ্ট মানুষ হবে এ খিয়ানতের দোষে দোষী ব্যক্তি। অর্থাৎ যে ব্যক্তি স্বামী-স্ত্রীর ঘরের গোপন বিষয় স্বেচ্ছায় প্রকাশ করে যা স্বামী স্ত্রী ছাড়া কেউ জানে না। এ হাদীসটিতে ব্যক্তির সেসব বিষয়কে প্রকাশ করা হারাম করা হয়েছে, যেসব উপভোগ্য বিষয় ও তার বিস্তারিত বিশ্লেষণ তার মাঝে ও তার স্ত্রীর মাঝে সংঘটিত হয় এবং নারী যে কথা-কর্ম ও অঙ্গভঙ্গী প্রকাশ করে। তবে শুধু সহবাসের কথা আলোচনা করা যদি তাতে কোন উপকার বা প্রয়োজন না থাকে তাও অপছন্দনীয়। কারণ, তা রুচির পরিপন্থী। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন. যে আল্লাহ ও আখিরাত দিবেসের প্রতি বিশ্বাস করে সে যেন ভালো কথা বলে অথবা চুপ থাকে। আর যদি তা বলার প্রয়োজন দেখা দেয় বা তাতে কোনো ফায়দা থাকে যেমন, তার স্ত্রী থেকে বিরত থাকাকে তিরস্কার করা হয় বা স্ত্রী তার ব্যাপারে সহবাসে অক্ষম হওয়ার দাবি করে অথবা এ জাতীয় কিছু, তখন তা বলার মধ্যে কল্যাণ থাকার কারণে কোন অসুবিধা নেই। কারণ, সুন্নাহ এর ওপর প্রমাণ।
উম্মু সালামাহ রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, “আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আবু তালহার স্ত্রী উম্মু সুলায়ম এসে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আল্লাহ্ হক কথা প্রকাশ করতে লজ্জাবোধ করেন না। মহিলাদের স্বপ্নদোষ হলে কি গোসল করতে হবে? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘হ্যাঁ, যখন সে বীর্য দেখতে পাবে”।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।উম্মু সুলাইম আল-আনসারী রাদিয়িাল্লাহু আনহা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট জিজ্ঞাসা করার জন্য আসলেন। যেহেতু প্রশ্নটি লজ্জাস্থানের সাথে সম্পৃক্ত যে বিষয়ে প্রশ্ন করতে সাধারণত মানুষ লজ্জাবোধ করে তাই তিনি প্রশ্নটি উত্থাপন করার পূর্বে একটি ভুমিকা পেশ করেন যাতে শ্রোতাদের জন্য তার অবস্থান গোপন থাকে। তাই তিনি বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আল্লাহ্ হক। তিনি হক প্রকাশ করা থেকে নিবৃত হন না, যদি তার মধ্যে কল্যাণ থাকে, যা উল্লেখ করতে সাধারণত লজ্জাবোধ করা হয়, যখন উম্মে সুলাইম এ ভুমিকা তুলে ধরলেন যার কারণে তার জিজ্ঞাসা করা সহজ হলো এবং আলোচ্য বিষয়ে গভীরে প্রবেশ করে বললেন, যখন কোন মহিলা ঘুমের ঘোরে দেখে যে সে সহবাস করছে তখন তার ওপর গোসল করা ওয়াজিব হবে কি? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘হ্যাঁ, তার ওপর গোসল করা ওয়াজিব। যখন সে বীর্য / যৌনপানি নির্গত হওয়া দেখতে পাবে।’
নবী সহধর্মিণী মুমিনগণের মা ‘আয়িশাহ্ রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একটি স্ত্রীলোক দু’টি মেয়ে সাথে নিয়ে আমার কাছে এসে কিছু চাইলো। আমার কাছে একটি খুরমা ব্যতীত আর কিছুই সে পেলো না। আমি তাকে ওটা দিলাম। স্ত্রীলোকটি তার দু’মেয়েকে খুরমাটি ভাগ করে দিল। তারপর সে উঠে বের হয়ে গেল। এ সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এলেন। আমি তাঁকে ব্যাপারটি জানালাম। তখন তিনি বললেন: “যাকে এ সব কন্যা সন্তান দিয়ে কোন পরীক্ষা করা হয়, অতঃপর সে তাদের সাথে ভাল ব্যবহার করে, এ কন্যারা তার জন্য জাহান্নামের আগুন থেকে প্রতিবন্ধক হবে”।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমুমিনদের মা আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেছেন যে, একজন মহিলা তার দুই মেয়েকে নিয়ে তার কাছে এসে তাকে কিছু খেতে দিতে বললেন। আয়েশা তার কাছে একটি খেজুর ছাড়া আর কিছুই পেল না, তাই সে তাকে এটি দিয়ে দিল। মহিলাটি তার দুই মেয়ের মধ্যে খেজুর ভাগ করে দিল এবং সে তা থেকে কিছুই খেল না। তারপর সে উঠে বাইরে চলে গেল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রবেশ করলেন এবং আয়েশা তাঁর সাথে ঘটনাটি বর্ণনা করলে তিনি বললেন: যে ব্যক্তি এই মেয়েদের কোন কিছু দায়িত্ব নিবে, তাদের সাথে ভালো ব্যবহার করবে, তাদের শিক্ষা দেবে, খাওয়াবে, পানীয় দেবে, পোশাক পরাবে এবং তার উপর ধৈর্য ধরবে, তাহলে তারা তার জন্য জাহান্নাম থেকে বাচার ডাল ও প্রতিবন্ধক হবে।
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, রসূলল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “নিশ্চয় আমার উম্মাতকে কিয়ামতের দিন এমন অবস্থায় ডাকা হবে, যে সময় তাদের ওযূর অঙ্গগুলো চমকাতে থাকবে”। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে তার চমক বাড়াতে চায়, সে যেন তা করে। অপর শব্দে সহীহ মুসলিমে বর্ণিত: আমি আবূ হুরায়রাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুকে ওযূ করতে দেখেছি, তিনি তার চেহারা ধোন এবং তার দুই হাতকে বোগলের কাছাকাছি পর্যন্ত ধোন তারপর সে তার দুই পাকে ধোন এমনকি পায়ের নলা পর্যন্ত উঁচা করেন। তারপর তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি তিনি বলেন, “নিশ্চয় আমার উম্মাতকে কিয়ামতের দিন এমন অবস্থায় ডাকা হবে, যে সময় তাদের ওযূর অঙ্গগুলো চমকাতে থাকবে। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে তার চমক বাড়াতে চায়, সে যেন তা করে।” সহীহ মুসলিমে অপর শব্দে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আমার বন্ধু সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, “(পরকালে) মু’মিনের অলংকার ততদূর হবে, যতদূর তার ওযূর (পানি) পৌঁছবে।”
এটি মুসলিম তার দুই রেওয়ায়েতে বর্ণনা করেছেন। - মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার উম্মাতকে সু-সংবাদ দেন যে, আল্লাহ সুবহানাহু তা‘আলা কিয়ামাতের দিন অন্যান্য উম্মাতের মাঝে তাদের মর্যাদা ও সম্মানের বিশেষ আলামত দিয়ে বৈশিষ্টমণ্ডিত করবেন। তাদেরকে ডাকা হলে তারা সমস্ত মাখলুকের সামনে উপস্থিত হবেন তাদের চেহারা, হাত ও পা নূর দ্বারা চমকিতে থাকবে। আর এটি হলো এ মহান ইবাদত ওযূর প্রভাব। অর্থাৎ যে ওযু তারা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ ও তার থেকে সাওয়াবের আশায় এ সব অঙ্গসমূহের ওপর বার বার প্রয়োগ করেছে। তাই তাদের বিনিময় হলো এ মহা প্রশংসনীয় বৈশিষ্ট। অতঃপর আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, তোমাদের মধ্যে যে তার চমক বাড়াতে চায়, সে যেন তা করে।কারণ, অঙ্গসমূহের ধোয়ার স্থান যত দীর্ঘ হবে, তাদের চমকের স্থানও তত দীর্ঘ হবে। কারণ, ওযূর পানি যতদূর পৌঁছবে নূরের অলংকারও ততদূর পৌঁছবে। কিন্তু ওযূতে শুধু দুই হাত কনুই পর্যন্ত ধুইবে। বোগল ও তার কিছু অংশ ধোয়ার শুরুতে কনুইসহ ধুইবে। আর দুই পা ঘিরাসহ ধুইবে। নলা ধোয়া শুরুর সময় ঘিরা পুরো ধুইবে। ওযূতে নলা ও বোগল ধোয়া শরী‘আত সম্মন নয়।
আবূ নুজাইদ ইমরান ইবনে হুসাইন আল-খুযায়ী থেকে বর্ণিত, জুহাইনা গোত্রের এক নারী আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খিদমতে হাজির হল। সে অবৈধ মিলনে গর্ভবতী ছিল। সে বলল, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমি দণ্ডনীয় অপরাধ করে ফেলেছি তাই আপনি আমাকে শাস্তি দিন!’ সুতরাং আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার আত্মীয়কে ডেকে বললেন, “তুমি একে নিজের কাছে যত্ন সহকারে রাখ এবং সন্তান প্রসবের পর একে আমার নিকট নিয়ে এসো।” সুতরাং সে তাই করল। আল্লাহর নবী তার কাপড় তার (শরীরের) উপর মজবুত করে বেঁধে দেওয়ার আদেশ দিলেন। অতঃপর তাকে পাথর ছুঁড়ে মেরে ফেলার আদেশ দিলেন। অতঃপর তিনি তার জানাযার সালাত পড়লেন। উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু তাঁকে বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আপনি তার ওপর জানাযার সালাত পড়লেন, অথচ সে ব্যভিচার করেছে?’ তিনি বললেন, সে এমন বিশুদ্ধ তাওবা করেছে, যদি তা মদীনার ৭০জন লোকের মধ্যে বণ্টন করা হয় তা তাদের জন্য যথেষ্ট হবে। সে নিজের নফসকে আল্লাহর জন্য ত্যাগ করার পরিবর্তে উত্তম কিছু দেখেছে কি?
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।জুহাইনাহ গোত্রের একজন গর্ভবতী মহিলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলেন, ইতোপূর্বে সে যেনা করেছে (রাদিয়াল্লাহু আনহা) সে তাকে জানালেন যে, সে এমন কর্ম করেছে যা তার ওপর শাস্তি/হদ ওয়াজিব করে, যাতে তিনি তার ওপর তা বাস্তবায়ন করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার অভিভাবককে ডাকলেন এবং তাদের নির্দেশ দিলেন তারা যেন তার সাথে ভালো আচরণ করে। তারপর যখন সন্তান ভূমিষ্ঠ হয় তখন যেন তাকে নিয়ে আসে। যখন সন্তান প্রসব করল তার অভিভাবক তাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট নিয়ে আসল। তারপর সে তার কাপড় তার (শরীরের) উপর মজবুত করে বেঁধে নিল, যাতে তা সে বিবস্ত্র না হয়। অতঃপর তাকে পাথর নিক্ষেপ করার আদেশ দিলেন, অবশেষে সে মারা গেল। অতঃপর তিনি তার জানাযার সালাত পড়লেন এবং তার জন্য অন্যান্য মৃত ব্যক্তির মতো দো‘আ করলেন। তখন উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু তাঁকে বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আপনি তার জানাযার সালাত পড়লেন, অথচ সে যেনা করেছে?’ তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জানালেন, “এ নারী এমন বিশুদ্ধ তাওবা করেছে, যদি তা মদীনার ৭০টি অপরাধী লোকের মধ্যে বন্টন করা হয় তা তাদের জন্য যথেষ্ট হবে এবং তাদের উপকার হবে। কারণ, মহিলাটি আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে এবং ব্যভিচারের গুনাহ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য নিজের জীবনকে পেশ করেছে। এখানে এর চেয়ে মহান আর কী হতে পারে?
‘আয়িশাহ রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাপড় হতে বীর্যের চিহ্ন ধুয়ে দিতাম পরক্ষণে তিনি সালাতে বের হতেন যে পানির চিহ্ন তার কাপড়ে থাকত”। অপর বর্ণনায় বর্ণিত: “আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাপড় থেকে তা খুটতাম পরক্ষণে তিনি তাতে সালাত আদায় করতেন”।
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন। - মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।আয়িশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা আলোচনা করেন যে, রাসূলের কাপড়ে জানাবাতের কারণে বীর্য লাগতো। কখনো তা তরল হতো। তখন পানি দিয়ে কাপড় ধুয়ে সালাতে বের হতেন, অথচ কাপড়ের পানি এখনো শুকায়নি। আবার কখনো তা শকনো হতো। তখন তিনি তার কাপড় থেকে খুঁটে দিতেন। তারপর তাতে সে সালাত আদায় করত।
উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন নফল সলাতকে ফজরের দু’রাক‘আত সুন্নাতের চেয়ে অধিক গুরুত্ব প্রদান করতেন না।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমুমিনদের মা আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের সালাতের আগে দুই রাকাত নিয়মিত সালাতের চেয়ে কোনও নফল সালাতের প্রতি বেশি মনোযোগী, আগ্রহী বা নিবেদিতপ্রাণ ছিলেন না।
আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে মারফু হিসেবে বর্ণিত, “একাকীর সালাত অপেক্ষা জামা‘আতের সালাত সাতাশ গুণ উত্তম।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।এ হাদীসটিতে একা সালাত আদায়ের ওপর জামা‘আতে সালাত আদায়ের ফযীলত বর্ণনা করা হয়েছে। কেননা, জামা‘আতের সালাত অনেক উপকারিতা ও মহান কল্যাণের কারণে একা সালাতের ওপর সাতাশ গুণ সাওয়াব বেশি রাখে। কারণ, উদ্দেশ্য হাসিল ও কল্যাণ সাধনে দুটি আমলের মাঝখানে রয়েছে বিশাল ব্যবধান। যে ব্যক্তি এত বড় লাভকে নষ্ট করবে সে অবশ্যই বঞ্চিত।
মু'আযাতা সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আয়েশাকে জিজ্ঞেস করে বললাম: হায়েযা (ঋতুবতী) নারী সাওম কাযা করে কিন্তু সালাত কাযা করে না কেন? তিনি বললেন, তুমি কি হারূরিয়্যাহ (খারিজি)? আমি বললাম আমি হারূরিয়্যাহ নয়। তবে জিজ্ঞাসা করছি। তিনি বললেন, আমাদের (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে) ঋতু হত, তখন আমাদের সাওম কাযা করার নির্দেশ দেওয়া হত, কিন্তু সালাত কাযার নির্দেশ দেওয়া হত না।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমু'আযাতা আল-আদাউইয়া উম্মুল মুমেনীন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে জিজ্ঞাসা করলেন, কেন ঋতুবতী মহিলারা সিয়াম কাযা আদায় করে কিন্তু সালাত কাযা আদায় করে না? তিনি তাকে বলল: তুমি কি খারেজী হারুরীদের একজন যারা একগুঁয়ে এবং হৎকারীতার কারণে বেশি বেশি প্রশ্ন করে? আমি বললাম: আমি হারুরী (খারেজীরা) নই, কিন্তু আমি জিজ্ঞাসা করছি। তিনি বললেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে আমাদের ঋতুস্রাব হত, তখন আমাদের সিয়াম কাযা করার নির্দেশ দেওয়া হত, কিন্তু সালাত কাযা করার নির্দেশ দেওয়া হত না।