Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way






























Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
আবূ জা‘ফার মুহাম্মদ ইবন আলী ও তাঁর পিতা জাবির ইব্নু ‘আবদুল্লাহ্ (রাযি.)-এর নিকট ছিলেন। সেখানে আরো কিছু লোক ছিল। তাদের থেকে এক লোক জাবেরকে অপবিত্রতার গোসলে কতটুকু পানি যথেষ্ট হবে সে বিষয়ে জিজ্ঞেস করলেন। তিনি বললেন, এক সা‘ তোমার জন্য যথেষ্ট হবে। হাসান ইবন মুহাম্মাদ ইবনুল হানাফিয়্যাহ জাবেরের নিকট লোকদের সাথে ছিল। সে বলে উঠল, এ পরিমাণ পানি জানাবাতের গোসলে আমার জন্য যথেষ্ট নয়। জাবির (রাযি.) বললেন, তোমার চেয়ে অধিক ও ঘণ চুল যাঁর মাথায় ছিল এবং তোমার চেয়ে যিনি উত্তম ছিলেন তাঁর জন্য তো এ পরিমাণই যথেষ্ট ছিল। ফলে তিনিই পবিত্রতা ও দীনের ওপর তোমার চেয়ে অধিক লালায়িত ছিলেন। অর্থাৎ, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। এটি সুন্নাতের অুনসরণ এবং গোসলে পানি অপচয় না করার প্রতি উৎসাহ। অতঃপর তিনি তাদের ইমামাত করেন।
উট ছাড়া গরু, ছাগল ইত্যাদি জবেহ করার সুন্নাত হলো বাম দিকে শোয়াইয়ে কিবলামুখ করে গলায় জবেহ করা। আর উটের ক্ষেত্রে সুন্নাত হলো বাম হাত বাঁধা দাঁড়ানো অবস্থায় তার চোঁটে নহর করা। কারণ, তার রুহ দ্রুত বের হওয়ার জন্য এতেই তার আরাম। এ কারণেই যখন আব্দুল্লাহ ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু এমন এ ব্যক্তি নিকট অতিক্রম করেন যে তার নিজের উটকে নহর করার জন্য বসিয়ে রেখেছিল। তিনি তাকে বললেন, সেটি উঠিয়ে দাঁড়ানো অবস্থায় বেঁধে নাও। এটিই মুহাম্মদ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাত, যিনি নহর করার ক্ষেত্রে কুরআনেরই পদ্ধতিই গ্রহণ করেছেন। তাতে বলা হয়, “যখন তার একপাশ লুটে পড়ে”। আর লুটে পড়া সাধারণত দাঁড়ানো থেকেই হয়ে থাকে।
এ হাদীসটিতে দুর্বল লোক যেমন ইয়াতিম ও মহিলার প্রতি সদয় আচরণ করতে ইসলামের মূলনীতি দ্ব্যর্থভাবে বর্ণিত হয়েছে। হাদীসটিতে আরো লক্ষ্য করা যায় যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইয়াতিম ও নারীর অধিকারের ব্যাপারে সর্ব্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। কেননা তাদের এমন কোন প্রভাব-প্রতিপত্তি নেই তারা যার আশ্রয় নিবে এবং নিজেদের থেকে অন্যায়-অবিচার প্রতিহত করবে। ফলে যারা তাদের অধিকার ছিনিয়ে নিবে তাদের ওপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংকট, অসুবিধা, কষ্টের বদ দোআ করেছেন। (অর্থাৎ তাদের ব্যাপারে তিনি কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন)।
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা উল্লেখ করেন যে, ‘আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ওরসে হেলান দিতেন। আর তিনি কুরআন পড়তেন অথচ তিনি ঋতুবতী। এটি প্রমান করে যে, ঋতুবতী নারীর দেহ পবিত্র, হায়যের কারণে তা অপবিত্র হয় না।
এ হাদীসটিতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায়ের উত্তম ওয়াক্ত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। সুতরাং যুহরের সালাতের ওয়াক্ত যখন মধ্য আকাশ থেকে সূর্য্য ঝুঁকে পড়ে। আর তা হলো তার প্রথম ওয়াক্ত। ‘আসরের সালাতের ওয়াক্ত: যতক্ষণ পর্যন্ত সূর্য উজ্জ্বল থাকবে ও তার সাথে অস্ত যাওয়ার হলদে বর্ণ যুক্ত না হবে। তার পরিমাণ: প্রতি বস্তুর ছায়া ডলে যাওয়ার পর থেকে ঐ বস্তুর সমপরিমাণ হওয়া। মাগরিবের সালাত: সূর্য অস্ত যেতেই আদায় করবে। আর ‘ইশার সালাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুক্তাদিদের অবস্থা বিবেচনা করতেন। যদি দেখতেন, সকলেই প্রথম ওয়াক্তে অর্থাৎ, লাল বর্ণ দূর হওয়া পর সমবেত হয়েছেন, তাহলে তারা সালাত আদায় করতেন। আর যদি দেখতেন, লোকজন আসতে দেরী করছে, তাহলে রাতের প্রথমার্ধ প্রর্যন্ত বিলম্ব করতেন। কারণ, যদি কষ্ট না হতো তাহলে এটাই ছিল এশার সালাতের উত্তম সময়। আর ফজরের সালাতের ওয়াক্ত: দিনের আলো অন্ধকারের সাথে সংমিশ্রণের শুরুতেই আরম্ভ হয়।
উম্মু কায়স বিনতে মিহসান রাদিয়াল্লাহু আনহা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট তাঁর একটি ছোট্ট ছেলেকে নিয়ে এলেন, যে তখনও খাবার খেতে শুরু করেনি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে নিজের কোলে বসালেন। তখন সে ছেলে তাঁর কাপড়ে প্রস্রাব করে দিল। তিনি পানি আনালেন এবং তার কাপড়ে তা ছিটিয়ে দিলেন, তা ধৌত করলেন না।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কার উঁচু অঞ্চলে আবতাহ নামক স্থানে অবস্থান করছিলেন। বিলাল তাঁর ওযূর অবশিষ্ট পানি নিয়ে বাইরে বের হলেন। কিছু লোক তা দিয়ে বরকত হাসিল করছিল। অতঃপর বিলাল আযান দিলেন। আবূ জুহাইফা বলল, আমি তাঁর মুখ ফিরানো লক্ষ্য করছিলাম। সে ডানে ও বামে মুখ ফিরিয়ে ‘হাইয়্যা আলাস সালাহ’, ‘হাইয়্যা আলাল ফালাহ’ বলছিলেন, যাতে মানুষ শুনতে পায়। কারণ, এ দুটি বাক্য সালাতের প্রতি আসার ওপর উৎসাহ। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য একটি বর্শা (সুতরাহ স্বরূপ) পুঁতে দেওয়া হল, যাতে তা তার জন্য সালাতে সুতরাহ হয়। তারপর তিনি যোহরের দুই রাকা‘আত সালাত পড়লেন। অতঃপর তিনি মদীনায় ফিরে আসার আগ পর্যন্ত চার রাকাত বিশিষ্ট সালাত মুসাফির হওয়ার কারণে দুই রাকা‘আ করে পড়তে থাকেন।
যখন কোন ব্যক্তি স্ত্রীর চার শাখার মাঝে বসে। আর তা হলো দুই হাত, দুই পা। তারপর তার লিঙ্গকে স্ত্রীর লজ্জাস্থানে প্রবেশ করালো তাহলে তাদের উভয়ের ওপর গোসল ওয়াজিব হয়ে যায়। যদিও তাতে বীর্যপাত না হয়। কারণ, শুধু প্রবেশ করানো গোসল ওয়াজিব হওয়ার কারণসমূহের একটি কারণ।
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা এ হাদীসে বর্ণনা করেছেন যে, মহিলা সাহাবীগণ গায়ে চাদর জড়াতেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ফজরের সালাতে শরীক হতেন। তারপর সালাত শেষে তারা নিজ গৃহে ফিরে যেতেন যখন অন্ধকার ও আলো একত্র হতো; তবে তাদের দিকে দৃিষ্টদাতা অন্ধকার অবশিষ্ট থাকায় তাদেরকে চিনত না। তাইসীরুল আহকাম, লেখক, আল-বাসসাম, পৃ. 86।