Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way






























Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল, আপনি কী বলেন যদি কোন লোক এসে আমার সম্পদ নিতে চায়? তিনি বললেন: তুমি তার কাছে আত্মসমর্পণ করতে এবং তাকে তোমার টাকা দিতে বাধ্য নও। সে বলল: আপনি কী লক্ষ্য করেছেন যদি সে আমার সাথে মারামারি করে? তিনি বললেন: তার সাথে মারামারি করা তোমার জন্য জায়েয। সে বলল: যদি সে আমাকে মেরে ফেলে? তিনি বললেন: তাহলে তুমি শহীদ। সে বলল: আপনি লক্ষ্য করেছেন কী যদি আমি তাকে মেরে ফেলি? তিনি বললেন: কিয়ামতের দিন সে জাহান্নামে শাস্তি পাওয়ার যোগ্য।
সালামাহ ইবনে আকওয়া’ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু সংবাদ দেন যে, নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কতক সাহাবীর নিকট দিয়ে অতিক্রম করেন যারা তীর নিক্ষেপ করছিল। তাদের থেকে কে অপরের ওপর বিজয় হয় তা দেখার জন্য। তারা যা করছিল তার ওপর তিনি তাদের স্বীকৃতি দেন। বরং তিনি তাদের এ বলে উৎসাহ দেন যে, “হে ইসমাঈলের সন্তানেরা। তোমরা তীর নিক্ষেপ কর এবং তা সংরক্ষণ কর। কারণ, এটি তোমাদের ওপর আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ নি‘আমত হে ইসমাঈলের সন্তানেরা। অর্থাৎ আরবরা। কারণ, তোমাদের আদি পিতা ইসমাঈল ইবন ইব্রাহীম আলাইহিমাস সালাম তাদের একজন ছিল, যারা ভালো ও সুন্দর তীর নিক্ষেপ করতে পারত।
হাদীসটির অর্থ: সর্বোত্তম সাদকাহ যা মানুষ করে তা হলো এ তিনটি বস্তুর সাদকাহ। আল্লাহর রাহে তাঁবুর ছায়ার ব্যবস্থা করা। আল্লাহর রাস্তায় কোনো খাদেম দান করা। কিংবা আল্লাহর পথে (গর্ভধারণের উপযুক্ত হৃষ্টপুষ্ট) উষ্ট্রী দান করা। এ সাদকাহ আল্লাহর রাস্তার মুজাহিদদের ওপর হোক বা অন্য অভাবীদের ওপর হোক একই কথা। কারণ, সেটাও আল্লাহর রাস্তা। এ সাদকাহ উত্তম হওয়ার কারণ, সম্ভবত তখনকার যুগের মানুষ এর বেশি মুখাপেক্ষী ছিল। তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে এর প্রতি বেশি উৎসাহ দিতে চেয়েছেন। বর্তমানে এর প্রতি মানুষের প্রয়োজন নাও থাকতে পারে বা দুনিয়ার কোনো প্রান্তে থাকতেও পারে খুব কম সংখ্যায়। তবে অধিকাংশের ওপর ভিত্তি করে বিধান রচনা হয়। হাদীসটি আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহার নিম্নোক্ত হাদীসের অনুরূপ। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, হে আয়েশা! “যে ঘরে খেজুর নেই তার বাসিন্দারা ক্ষুধার্ত রয়ে গেলে।” এটি ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন। শাইখ ইবন বায রহ. বলেন, “আহলে ইলমের নিকট বিষয়টি তাদের সাথে সংশ্লিষ্ট যাদের খাদ্য খেজুর, যেমন রাসূলের যুগে মদীনাবাসী ও তাদের মতো যারা খেজুর খেয়ে জীবন ধারণ করত।”
এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে জিহাদে শরীক হতে লৌহ বর্মে আবৃত হয়ে তাঁর কাছে আসল। সে তখনও ইসলাম গ্রহণ করেনি। অতঃপর সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আগে জিহাদ করবো অতঃপর ইসলাম গ্রহণ করবো? নাকি আগে ইসলাম গ্রহণ করব অতঃপর জিহাদ করবো? তিনি তাকে বললেন, “ইসলাম গ্রহণ করো, তারপর যুদ্ধে যাও।” সে ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করল। অতঃপর জিহাদে গিয়ে তুমুল যুদ্ধ করে শহীদ হয়ে গেলো। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “সে অল্প আমল করে বেশি পুরস্কার পেলো।” অর্থাৎ তার ইসলাম গ্রহণের সময় হিসেবে। তার ইসলাম গ্রহণ ও শহীদ হওয়ার মাঝে অত্যন্ত নগণ্য ব্যবধান ছিলো। এতদসত্ত্বেও তার সাওয়াব ছিলো অনেক। কেননা আল্লাহর দীনকে বুলন্দ করতে তাঁর পথে জিহাদ সর্বাধিক ফযীলতপূর্ণ আমল ও সর্বোচ্চ সাওয়াবের কাজ।
হাদীসটির অর্থ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় উম্মতের ওপর মিসওয়াক ব্যবহার করা ও নিয়মিতভাবে ব্যবহার করার অধিক গুরুত্ব দিয়েছেন, তবে মুস্তাহাব হিসেবে, ওয়াজিব হিসেবে নয়। কারণ, এতে রয়েছে অনেক উপকার ও মহা ফযীলত। তন্মধ্যে সবচেয়ে মহৎ ও বড় ফযীলত হচ্ছে এই যে, এটি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতা‘আলার সন্তুষ্টির কারণ।
মু‘আবিয়া রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু নাছোড় বান্দা হয়ে যাচ্ঞা করার বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিষেধাজ্ঞার একটি সংবাদ দেন। অর্থাৎ চাওয়ার ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি ও বাধ্য করো না। হাদীসে বর্ণিত, ‘তুলহিফূ’ শব্দটি ‘আলহাফা’ শব্দ থেকে নির্গত, বলা হয়ে থাকে, ‘আলহাফা ফিল মাসআলাতে’ যখন নাছোড় বান্দা হয়ে কেউ চায়। কারণ তার এ বাড়াবাড়ি সে প্রাপ্ত বস্তুর বরকত দূর করে দেয়। অতঃপর তিনি শপথ করে বলেন, তাদের কেউ যদি বাড়াবাড়ি করে কোনো কিছু চায়, তারপর তার যাচ্ঞা ও চাওয়ার কারণে তিনি কিছু দেন, অথচ দিতে নারাজ ছিলেন, অর্থাৎ তাকে দিতে অথবা বের করতে নারাজ ছিলেন, সে অবস্থায় তাকে সে প্রাপ্ত বস্তুতে বরকত দেওয়া হবে না, অর্থাৎ বাড়াবাড়ির ওপর তাকে আমি যা দিলাম তাতে তার জন্য বরকত দেওয়া হবে না।
কিয়ামতের দিন পর্যন্ত ঘোড়ার সাথে কল্যাণ সংশ্লিষ্ট থাকবে। (যুদ্ধের জন্য) ঘোড়া বাঁধার উপর যে সাওয়াব লাভ হয়, তা হলো (পরকালে অর্জিত হবে এমন) বাকী কল্যাণ। আর মুজাহিদ (ঘোড়ার দ্বারা) শত্রুদের সম্পদ থেকে যে গণীমত লাভ করে তা হলো নগদ কল্যাণ।
হাদীসের অর্থ: আল্লাহর পথে শহীদ হওয়া ঋণ ব্যতীত ছোট বড় যাবতীয় গুনাহর কাফফারা হয়ে যায়। তবে শাহাদাত লাভ করলেও তা দ্বারা ঋণের কাফফারা হয় না। কেননা এতে রয়েছে সৃষ্টিকুলের হক; বিশেষ করে অর্থ-সম্পদের ঋণে। ধন-সম্পদ মানুষের কাছে খুব মূল্যবান ও সম্মানিত জিনিস। ঋণের সাথে যুক্ত হবে ব্যক্তির যিম্মায় যেসব ঋণ রয়েছে, যেমন চুরি, ডাকাতি, খিয়ানত ইত্যাদি। জিহাদ, শাহাদাত ও এ জাতীয় অন্যান্য সৎআমল মানুষের হকের কাফফারা হয় না; বরং তা শুধু আল্লাহর হকের কাফফারা হয়।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বরে খুতবা দেওয়ার সময় দান-খয়রাত এবং টাকা-পয়সা চাওয়া থেকে বিরত থাকার কথা উল্লেখ করলেন। তারপর বললেন: দানকারী ও ব্যয়কারীর উপরের হাতটি আল্লাহর কাছে ভিক্ষাকারী নিম্ন হাতের চেয়ে উত্তম এবং প্রিয়।