





























Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
All
উম্মুল মুমিনীন মাইমূনা বিনত আল-হারিস রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুমতি না নিয়ে তিনি তাঁর এক দাসীকে স্বাধীন করে দিলেন। তারপর তার ঘরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অবস্থানের দিন তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি জানেন আমি আমার দাসীকে স্বাধীন করে দিয়েছি? তিনি বললেন, তুমি কি তা করেছ? মাইমূনা রাদিয়াল্লাহু আনহা বললেন, হ্যাঁ। তিনি বললেন, “তুমি যদি তোমার মামাদেরকে এটা দান করতে তাহলে তুমি অধিক সাওয়াব পেতে।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।হাদীসের অর্থ: উম্মুল মুমিনীন মাইমূনা রাদিয়াল্লাহু আনহা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে না জানিয়ে বা তাঁর অনুমতি না নিয়ে আপন দাসীকে স্বাধীন করে দিলেন। যেহেতু তিনি আল্লাহর পথে দাস আযাদ করার ফযীলত জানতেন। তারপর যেদিন তার ঘরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অবস্থানের নির্ধারিত দিন আসলো সেদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দাস আযাদের সংবাদ দিলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি কি তা করেছ? মাইমূনা রাদিয়াল্লাহু আনহা বললেন, হ্যাঁ। তিনি তার অভিমত না নিয়ে করা এ কাজকে অস্বীকার করেননি; তবে তিনি বললেন, “শুনো! তুমি যদি তোমার মামাদেরকে এটা দান করতে তাহলে তুমি অধিক সাওয়াব পেতে।” অর্থাৎ তুমি যা করেছ তা ভালো; তবে বনী হিলাল গোত্রের তোমার মামাদেরকে দাসীটি দান করলে আরো অধিক সাওয়াব হতো। কেননা তখন সেটি আত্মীয়-স্বজনের জন্য দান ও আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা দুটোই হতো।
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, এক লোক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে রূঢ়ভাবে তাঁর কাছে পাওনা তলব করল। তখন সাহাবীগণ তাকে ভৎর্সনা করতে চাইলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে বললেন, ‘‘ওকে ছেড়ে দাও। কারণ হক [পাওনা]দারের কথা বলার অধিকার আছে।’’ তারপর বললেন, ‘‘ওকে ঠিক সেই বয়সের [উট] দিয়ে দাও যে বয়সের [উট] ওর ছিল।’’ তাঁরা বললেন, ‘হে আল্লাহর রসূল! তার চেয়ে উত্তম [উট] বৈ পাচ্ছি না।’ তিনি বললেন, ‘‘ওকে [ওটিই] দিয়ে দাও, কেননা, তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই সর্বোত্তম, যে ব্যক্তি উত্তম-ভাবে ঋণ পরিশোধ করে।’’
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এর কাছে এক ব্যক্তির কিছু পাওনা ছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক লোকের কাছ থেকে ছোট উষ্ট্রী ঋণ নিয়ে ছিলেন। অতঃপর সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে তার পাওনার জন্য তাগাদা দেয়ার সময় কঠোর ভাষায় কথা বলল। এতে সাহাবীগণ তাঁর সাথে কঠোর ভাষায় কথা বলা ও তাঁর সাথে বেআদবী করার কারণে তাকে প্রহার করতে উদ্যত হলেন। তখন তিনি বললেন, সে যা বলতে চায় বলতে দাও এবং তাকে বাধা দিও না । কেননা পাওনাদারের অধিকার রয়েছে যে, সে ঋণ ও অন্যান্য বিষয় দেনাদারের কাছে দাবি করবে। তবে এক্ষেত্রে দাবি করার শিষ্টাচার বজায় রাখবে। পক্ষান্তরে, গালি-গালাজ করা এবং কঠোর কথা-বার্তার মাধ্যমে আঘাত দেয়া মুসলিমদের চরিত্র বহির্ভূত। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোনো কোনো সাহাবীকে সাদাকার উট থেকে তার উটের সমবয়সী একটি উট দিয়ে দিতে নির্দেশ দিলেন। সাহাবীগণ বললেন, আমরা তার উটের চেয়ে বড় উট ছাড়া আর কোনো উট পাচ্ছি না। তিনি বললেন, এর চেয়ে বড় উটটিই তাকে দিয়ে দাও। কারণ তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে উত্তম ও সবচেয়ে বেশি সওয়াবের অধিকারী হবে ঐ ব্যক্তি, যে তার যিম্মাধীন হকসমূহ পরিশোধ করায় সর্বোত্তম। চাই তা ঋণ হোক বা অন্য কিছু হোক।
ইবন মাস‘ঊদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের প্রশ্ন করলেন, তোমাদের মধ্যে এমন ব্যক্তি কে, যে নিজের সম্পদের চেয়ে তার উত্তরাধিকারীর সম্পদকে প্রিয় মনে করে? তারা সবাই জবাব দিলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের মধ্যে সবাই তার নিজের সম্পদকে সবচেয়ে বেশি প্রিয় মনে করে। তখন তিনি বললেন, নিশ্চয় মানুষের নিজের সম্পদ তা-ই, যা সে আগে পাঠিয়েছে, আর যা পিছনে ছেড়ে যাবে তা উত্তরাধিকারীর সম্পদ।
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, “তোমাদের মধ্যে এমন ব্যক্তি কে, যার কাছে তার উত্তরাধিকারীর সম্পদ নিজের সম্পদের চেয়েও বেশি প্রিয়?” অর্থাৎ তোমাদের মধ্যে এমন কেউ কি আছে, যে তার জীবদ্দশায় নিজের সম্পদের চেয়ে তার মৃত্যুর পরে উত্তরাধিকারীর সম্পদকে বেশি প্রিয় মনে করে? তারা সকলেই উত্তর দিল, আমাদের মধ্যে সবাই তার নিজের সম্পদকে সবচেয়ে বেশি প্রিয় মনে করি। অর্থাৎ এমন কোনো মানুষ নেই, যে নিজের সম্পদের চেয়ে অন্যের সম্পদকে বেশি ভালোবাসে। তার নিজের সম্পদের ওপর রয়েছে সর্বময় কর্তৃত্ব; কেননা ব্যক্তির মালিকনাধীন সম্পদই তার ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষা পূরণের উপায়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “সে অগ্রে যা প্রেরণ করেছে তাই শুধু তার সম্পদ” অর্থাৎ যে সম্পদ ব্যক্তি তার জীবদ্দশায় নিজের জন্য ব্যয় করেছে, হজ, ওয়াকফ, মসজিদ, মাদ্রাসা ও হাসপাতাল তৈরিতে কিংবা নিজের ও তার পরিবার-পরিজনের জন্য যা ব্যয় করেছে, সেসব সম্পদই মূলতঃ ব্যক্তির প্রকৃত সম্পদ, যা সে কিয়ামত দিবসে তার সামনে পাবে। পক্ষান্তরে তার জীবদ্দশায় যা কিছু সঞ্চয় করেছে ও আল্লাহর পথে ব্যয় করতে কৃপণতা করেছে সেগুলো তার উত্তরাধিকারীদের সম্পদ, এতে তার কোনো অংশ নেই। এ হাদীসের সমার্থক আরেকটি হাদীস সহীহ মুসলিমে বর্ণিত আছে। আব্দুল্লাহ ইবন শিখ্খীর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “একবার আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলাম। তখন তিনি সূরা তাকাসুর (আলহাকুম আত-তাকাছুর) পাঠ করছিলেন। তিনি বলেন, আদম সন্তানগণ বলে, আমার মাল, আমার মাল। বস্তুত হে আদম সন্তান! তোমার সম্পদ তো তাই যা তুমি খেয়েছ ও শেষ করে দিয়েছে, পরিধান করেছ ও পুরাতন করে ফেলেছ এবং দান করেছ ও অবশিষ্ট রেখেছ।” (মুসলিম, হাদীস নং ২৯৫৮) এ হাদীসের অর্থ এ নয় যে, মানুষ তার সমূদয় সম্পদ আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করে দিবে এবং সে ও তার পরিবার-পরিজন মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াবে; বরং হাদীসের মূল উদ্দেশ্য হলো, যেমনিভাবে মানুষ তার উত্তরাধিকারীদের জন্য সঞ্চয় করবে তেমনি সে পরকালের জন্যও জমা করবে। যেহেতু তার নিজের জন্য ও তার ওপর নির্ভরশীল স্ত্রী, সন্তান ও পিতামাতার জন্য ব্যয় করা তার ওপর অত্যাবশ্যকীয় দায়িত্ব ও কর্তব্য। সে এদের জন্য ব্যয় না করলে গুনাহগার হবে। এ কথার দলীল হলো, আবূ উমামা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “হে আদম সন্তান, তুমি যদি প্রয়োজনাতিরিক্ত সম্পদ আল্লাহর পথে ব্যয় করে ফেল তবে তা তোমার জন্য উত্তম; আর যদি তা তুমি জমা করে রাখ তবে তা তোমার জন্য অকল্যাণকর।” (মুসলিম, হাদীস নং ১০৩৬, ২/৭১৮)
ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “সুবহে সাদিকের আগে আগেই তোমরা বিতর পড়ে নিবে।”
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।হাদীসের অর্থ: বিতরের সালাত রাতের শেষভাগে বিলম্ব করে আদায় করা মুস্তাহাব। তবে যে ব্যক্তি বিতরের সালাত রাতের শেষভাগে বিলম্বে আদায় করে তার সতর্ক থাকা উচিৎ এবং সুবহে সাদিক উদিত হওয়ার আগেই আদায় করা। কেননা বিতরের শেষ সময় হলো সুবহি সাদিকের পূর্ব পর্যন্ত। বিতরের সালাত আদায়ের পূর্বে ফজরের সময় হয়ে গেলে বিতরের সালাতের ফযীলত ছুটে যাবে।
আবূ মাসঊদ বদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে মরফূ‘ হিসেবে বর্ণিত, “তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের মধ্যে একটি লোকের হিসাব নেওয়া হয়েছিল। তার একটি মাত্র সৎকর্ম ব্যতিরেকে আর কোনো ভালো কাজ পাওয়া যায় নি। সেটি হলো এই যে, সে লোক সমাজে মিলে-মিশে থাকত। সে ছিল সচ্ছল (বিত্তশালী) ব্যক্তি। নিজ কর্মচারীদেরকে গরীব ঋণগ্রস্তদের ঋণ মওকুফ করার নির্দেশ দিত। (এসব দেখে) আল্লাহ তা‘আলা বললেন, ‘আমি তো তার চেয়ে বেশি ক্ষমা প্রদর্শনের অধিকারী। (হে ফিরিশতাবর্গ!) তোমরা তাকে মাফ করে দাও।”
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।“একটি লোকের হিসাব নেওয়া হয়েছিল” অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলা তার কৃত আমলসমূহের হিসাব নিলেন। “তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের মধ্যে” পূর্ববর্তী উম্মতের। “তার একটি মাত্র সৎকর্ম ব্যতিরেকে আর কোনো ভালো কাজ পাওয়া যায় নি” অর্থাৎ এমন সৎকর্ম যা আল্লাহর নিকটবর্তী করে। “সেটি হলো এই যে, সে লোক সমাজে মিলে-মিশে থাকত। সে ছিল সচ্ছল (বিত্তশালী) ব্যক্তি” সে তাদের সঙ্গে ক্রয়-বিক্রয় ও লেনদেনের মাধ্যমে মু‘আমালা করতে এবং সে ছিল ধনী। “সে নিজ কর্মচারীদেরকে গরীব ঋণগ্রস্তদের ঋণ মওকুফ করার নির্দেশ দিত।” অর্থাৎ সে মানুষের নিকট থেকে ঋণ আদায়ের সময় তার কর্মচারীদেরকে ঋণ মওকুফ করার নির্দেশ দিত। আর দরিদ্র ঋণী যার কাছে ঋণ আদায়ের সামর্থ্য নেই তাকে তারা সক্ষমতা ফিরে আসা পর্যন্ত অবকাশ দিত অথবা তার থেকে ঋণ মওকুফ করে দিত। (এসব দেখে) আল্লাহ তা‘আলা বললেন, “আমি তো তার চেয়ে বেশি ক্ষমা প্রদর্শনের অধিকারী। তোমরা তাকে ক্ষমা করে দাও।” অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলা মানুষের ওপর ইহসান, তাদের সাথে নম্র আচরণ এবং (ঋণ আদায়ে সহজীকরণের কারণে তার পুরস্কারস্বরূপ তাকে ক্ষমা করে দেন।
জাবির রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফু‘ সূত্রে বর্ণিত, (মসজিদে নববীর পাশে কিছু জায়গা খালি হলে) সালেমাহ গোত্র সেখানে এসে বসতি স্থাপন করতে মনস্থ করলো। বিষয়টি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে পৌঁছলে তিনি তাদের (সালামাহ গোত্রের লোকদের) উদ্দেশ্যে বললেন, আমি জানতে পেরেছি যে, তোমরা মসজিদের কাছে চলে আসতে চাও। তারা বললো, হে আল্লাহর রাসূল, আমরা তাই মনস্থ করেছি। একথা শুনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “হে বনু সালেমাহ! তোমরা তোমাদের বাড়ীতেই থাক। কারণ, তোমাদের সালাতের জন্য মসজিদে আসার প্রতিটি পদক্ষেপ লিপিবদ্ধ করা হয়।তোমরা তোমাদের বাড়ীতেই থাক। কারণ, তোমাদের সালাতের জন্য মসজিদে আসার প্রতিটি পদক্ষেপ লিপিবদ্ধ করা হয়”। অন্য বর্ণনায় এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “মসজিদে আসার প্রতিটি পদক্ষেপে তোমাদের জন্য রয়েছে সাওয়াব।”
তার মতই এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন। - এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।এ হাদীসের অর্থ: সালেমাহ গোত্র মসজিদে নববী থেকে দূরে অবস্থিত তাদের ঘর-বাড়ি থেকে কাছে চলে আসতে চাইল। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনাকে শূণ্য রেখে মসজিদে নববীর আশেপাশে সবার চলে আসা পছন্দ করলেন না; যেমনটি বুখারীর এক বর্ণনায় এসেছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে সেখানেই বসতি স্থাপনে উৎসাহিত করলেন যাতে বিস্তৃত বসতির কারণে মুনাফিক ও মুশরিকদের কাছে মুসলিমদের সংখ্যা অধিক মনে হয়। অতঃপর তিনি তাদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন, আমি জানতে পেরেছি যে, তোমরা মসজিদের কাছে চলে আসতে চাও। তারা বলল, হে আল্লাহর রাসূল, আমরা তাই মনস্থ করেছি। একথা শুনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “তোমরা তোমাদের বাড়ীতেই থাক। তোমাদের সালাতের জন্য মসজিদে আসার প্রতিটি পদক্ষেপ লিপিবদ্ধ করা হয়”। তিনি এ কথা দু’বার বলেছেন। তিনি তাদের সেখানে থাকার কারণ বর্ণনা করে বলেন, “সালাতের জন্য মসজিদে আসার প্রতিটি পদক্ষেপে তোমাদের জন্য সাওয়াব বা মর্যাদা রয়েছে। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মাওকূফ সূত্রে বর্ণিত, “তোমাদের মধ্যে সর্বাধিক সাওয়াবের অধিকারী তারা যাদের ঘর-বাড়ি মসজিদ থেকে সবচেয়ে বেশি দূরে। তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, কেন? তিনি বললেন, অধিক পদক্ষেপের কারণে। মুয়াত্তা মালিক, হাদীস নং ৩৩। সুতরাং মসজিদ থেকে যার ঘর যত বেশি দূরে তার সাওয়াবও তত বেশি এবং গুনাহও ততবেশি মাফ হবে। ব্যক্তি এ মর্যাদার অধিকারী তখনই হবে যখন সে বাড়ি থেকে উত্তমরূপে অযু করে পায়ে হেঁটে মসজিদে যাবে। মসজিদের দূরত্ব অনুসারে তার পদক্ষেপ কম হোক বা বেশি হোক। তার প্রতিটি পদক্ষেপে দু’টি জিনিস লেখা হয়। তার মর্যাদা বৃদ্ধি পায় এবং তার গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়। রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের একজন সাহাবী থেকে মারফু‘ সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, তোমাদের কেউ যখন ভালোভাবে অযু করে সালাতের জন্য রওনা হয়, তখন সে তার ডান পা উঠানোর সাথে সাথেই তার আমলনামায় একটি সাওয়াব লিপিবদ্ধ হয়। অতঃপর তার বাম পা ফেলার সাথে সাথেই তার একটি গুনাহ মার্জনা করা হয়। এখন যে ব্যক্তি ইচ্ছা করে, সে তার আবাসস্থান মসজিদের নিকটে রাখতে পারে অথবা দূরে করতে পারে। এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন, হাদীস নং ৫৬৩। আলবানী রহ. হাদীসটিকে সহীহ আবু দাউদে (৩/৯৭) হাদীস নং (৫৭২) সহীহ বলেছেন। ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,“গত রাতে আমার সুমহান রব আমার কাছে সুন্দরতম রূপে এসেছিলেন। (বর্ণনাকারী বলেন, আমার মনে হয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘স্বপ্নে’ কথাটি উল্লেখ করেছিলেন।) তিনি বললেন: হে মুহাম্মাদ! আপনি কি জানেন, কী নিয়ে মালা’-এ-‘আলা তথা (ফিরিশতাদের) সর্বোচ্চ পরিষদে বিতর্ক হচ্ছে? আমি বললাম: হ্যাঁ, গুনাহের কাফফারা ও সাওয়াবের মর্যাদা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। তিনি বললেন: গুনাহের কাফফারা ও সাওয়াবের মর্যাদাটি কী? এরপর বললেন, তা হলো সালাতের পর মসজিদে অবস্থান করা, জামা‘আতে সালাতের উদ্দেশ্যে পাঁয়ে হেঁটে যাওয়া এবং কষ্টের সময় পরিপূর্ণভাবে অযু করা...। মুসনাদ আহমাদ, হাদীস নং (৩৪৮৪), আলবানী রহ. হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। সহীহ জামে‘উস সগীর ওয়াযিয়াদাতুহু (১/৭২)। সুতরাং উপরোক্ত হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয়ে যে, নিম্নোক্ত বিষয়গুলো পরিপূর্ণ হলে সাওয়াব অর্জিত হবে: ১- পবিত্র অবস্থায় মসজিদে গমন করা। ২- সাওয়াবের নিয়াত করা; কেননা হাদীসে রয়েছে, “প্রত্যেক কাজ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। আর মানুষ তার নিয়ত অনুযায়ী ফল পাবে”। মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (সহীহ বুখারী ও মুসলিম)। ৩- বাড়ি থেকে শুধু মসজিদের উদ্দেশ্যেই বের হতে হবে। ৪- পায়ে হেঁটে যেতে হবে। কোনো আরোহণে নয়, তবে ওযর থাকলে ভিন্ন কথা। তবে কারো ওযর থাকলে সে গাড়িতে চড়ে মসজিদে আসতে কোনো অসুবিধে নেই। গাড়ির চাকার প্রতিবার ঘুরার দ্বারা সে প্রতিটি পদক্ষেপের সাওয়াব পাবে। কেননা গাড়ির চাকা একবার ঘুরলে মাটিতে একবার পদক্ষেপ ফেলানোর মতো হিসেব হয়। অতঃএব কেউ অসুস্থ বা অক্ষম হলে গাড়ি বা অন্য কোনো যানবাহনে আসতে অসুবিধে নেই। এভাবে আসলেও পায়ে হেঁটে আসার সমপরিমাণ সাওয়াবের অধিকারী হবে।
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আল্লাহ তা‘আলা ঐ ব্যক্তির ওপর রহমত করুন যে রাত্রের কিছু অংশ জেগে তাহাজ্জুদের সালাত আদায় করে এবং তার স্ত্রীকেও জাগিয়ে দেয়, তার স্ত্রী যদি জাগ্রত হতে না চায় তবে তার মুখমণ্ডলে পানির ছিটা দেয়। সে মহিলার ওপরও আল্লাহ তা‘আলা রহম করুন, যে রাত্রের কিছু অংশ জেগে তাহাজ্জুদের সালাত আদায় করে। অতঃপর তার স্বামীকেও জাগিয়ে দেয়, সে যদি জাগ্রত হতে না চায় তবে তার মুখে পানির ছিটা দেওয়া।”
এটি ইবন মাজাহ বর্ণনা করেছেন। - এটি নাসাঈ বর্ণনা করেছেন। - এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।এ হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি রাত্রের কিছু অংশ জেগে তাহাজ্জুদের সালাত আদায় করে এবং তার স্ত্রীকেও তাজাজ্জুদ আদায়ের জন্য জাগিয়ে দেয়, প্রচণ্ড ঘুম ও অলসতার কারণে যদি তার স্ত্রী জাগতে না চায় তবে তার মুখমণ্ডলে সামান্য পানির ছিটা দেয় তাহলে সে আল্লাহ তা‘আলার অশেষ রহমতের অংশীদার হবে। এমনিভাবে কোনো স্ত্রীও যদি তার স্বামীর সাথে একই কাজ করে তাহলে সেও অনুরূপ সাওয়াবের ভাগী হবে।
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এক সাহাবী একবার কোনো এক পাহাড়ি রাস্তা দিয়ে অতিক্রম করলেন, সেখানে ছিলো একটি মিষ্টি পানির ছোট ঝর্ণা। এর স্বাদ ও সৌন্দর্য তাকে মুগ্ধ করল। তিনি ভাবলেন, আমি যদি মানুষ থেকে আলাদা হয়ে এই উপত্যকায় বসবাস করতাম! কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছ থেকে অনুমতি গ্রহণ না করা পর্যন্ত আমি তা কখনো করব না। এরপর তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে তা আলোচনা করলেন। তিনি বললেন, “এমন করো না। আল্লাহর পথে সামান্য সময় অবস্থান করা ঘরে বসে সত্তর বছর সালাত আদায় করার চেয়েও উত্তম। তোমরা কি ভালোবাস না যে, আল্লাহ তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিবেন এবং জান্নাতে প্রবেশ করাবেন? আল্লাহর পথে লড়াই করে যাও। উটনীর ওলানে দু’বার টানের মধ্যবর্তী সময় পরিমাণ কেউ যদি আল্লাহর পথে জিহাদ করে তবে তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যাবে।”
এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।হাদীসের অর্থ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এক সাহাবী একবার কোনো এক পাহাড়ি রাস্তা দিয়ে অতিক্রম করলেন, সেখানে ছিলো একটি মিষ্টি পানির ঝর্ণা। এর সৌন্দর্য তাকে মুগ্ধ করল। তিনি মানুষ থেকে আলাদা হয়ে সে উপত্যকায় আল্লাহর ইবাদাতে মগ্ন থাকতে এবং সেখানকার পানি পান করে সেখানে বসবাস করতে চাইলেন। কিন্তু তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছ থেকে অনুমতি গ্রহণ না করা পর্যন্ত কখনো তা করব না। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে তা বললেন। তিনি বললেন, “এমন করো না। এর মাধ্যমে তাকে এরূপ করতে নিষেধ করলেন। কেননা তার ওপর জিহাদ করা ফরয ছিলো। সুতরাং তার ওপর আরোপিত ফরয ছেড়ে নফল ইবাদাতের জন্য লোকালয় ত্যাগ করা ছিলো গুনাহের কাজ। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, “আল্লাহর পথে সামান্য সময় অবস্থান করা ঘরে বসে সত্তর বছর সালাত আদায় করার চেয়েও উত্তম।” অর্থাৎ আল্লাহর পথে জিহাদ করা ঘরে বসে সত্তর বছর নফল ইবাদাত করার চেয়েও উত্তম। কেননা জিহাদের উপকারিতা অপর পর্যন্ত পৌঁছে সালাতের বিপরীত, তার উপকারিতা সালাত আদায়কারীর ওপর সীমাবদ্ধ। “তোমরা কি চাও না যে, আল্লাহ তোমাদেরকে ক্ষমা করবেন ও জান্নাতে প্রবেশ করাবেন?” অর্থাৎ তোমরা যদি পছন্দ কর যে, আল্লাহ তোমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করবেন ও তোমাদের জান্নাতে প্রবেশ করবেন তাহলে তোমাদের উচিত আল্লাহর পথে ধৈর্য সহকারে ও সাওয়াবের প্রত্যাশায় জিহাদ করা। অতঃপর তিনি তার মর্যাদা বর্ণনা করলেন যে, “যে ব্যক্তি উটনীর ওলানে দু’বার টানের মধ্যবর্তী সময় পরিমাণ আল্লাহর পথে জিহাদ করে তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যায়”। অর্থাৎ আল্লাহর কালেমাকে বুলন্দ করতে আল্লাহর রাস্তায় যে ব্যক্তি যুদ্ধ করে; যদিও তা সামান্য সময়ের জন্য, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যায়।
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যখন তোমাদের কেউ রাতে জাগ্রত হয় এবং কুরআন তার মুখে কঠিন ঠেকে, কি বলছে বুঝতে পারে না, সে শুয়ে পড়বে।”
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।হাদীসের অর্থ: বান্দা যখন রাতের সালাতে থাকে এবং ঘুমের প্রভাবে তার পক্ষে কুরআন তিলাওয়াত করা কঠিন হয় যে, কি পড়ছে বলতে পারে না, তখন সে শুয়ে পড়বে, যতক্ষণ না তার থেকে ঘুম চলে যায়। যাতে আল্লাহর কালাম বিকৃত ও পরিবর্তিত না হয় এবং হতে পরে তার মুখ থেকে এমন কথা বের হবে যা বৈধ নয়। যেমন, অর্থের পরিবর্তন, বাক্য বিকৃতি এবং হতে পারে নিজের ওপর বদ-দো‘আ করবে। সহীহ বুখারীতে আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে মারফু‘ হিসেবে বর্ণিত, “যখন তোমাদের কেউ সালাতে তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়, সে ঘুমিয়ে নিবে, যতক্ষণ না সে তার তিলাওয়াত বুঝতে পারে।”