





























Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
All
সাহল রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: “জান্নাতের মধ্যে এমন একটি দরজা আছে, যার নাম হল ‘রাইয়ান’; যার মধ্য দিয়ে কেবলমাত্র সিয়াম পালনকারীগণই কিয়ামাতের দিনে প্রবেশ করবে। তারা ছাড়া আর কেউ সে দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। ঘোষণা করা হবে: ‘সিয়াম পালনকারীগণ কোথায়?’ তখন তারা দাঁড়িয়ে যাবে এবং ঐ দরজা দিয়ে তারা ব্যতীত অন্য কেউ প্রবেশ করবে না। তারপর যখন তারা প্রবেশ করবে, তখন দরজাটি বন্ধ করে দেওয়া হবে। সেখান থেকে আর কেউ প্রবেশ করতে পারবে না”।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, জান্নাতের একটি দরজা আছে যার নাম রাইয়ান দরজা। কিয়ামতের দিন রোজাদাররা সে দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে, তারা ছাড়া আর কেউ প্রবেশ করবে না। ডাকা হবে: রোজাদাররা কোথায়? তারা দাঁড়িয়ে প্রবেশ করবে, তারা ব্যতীত আর কেউ প্রবেশ করবে না। যখন তাদের শেষ ব্যক্তি প্রবেশ করবে, তখন তা বন্ধ করে দেওয়া হবে, তার পরে আর কেউ প্রবেশ করবে না।
আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘কোন কোন মাসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমনভাবে রোযা ত্যাগ করতেন যে, মনে হত তিনি উক্ত মাসে আর রোযা রাখবেন না। অনুরূপভাবে কোন মাসে এমনভাবে রোযা রাখতেন যে, মনে হত তিনি ঐ মাসে আর রোযা ত্যাগই করবেন না। (তাঁর অবস্থা এরূপ ছিল যে,) যদি তুমি না চাও যে, তাকে সালাত রত অবস্থায় দেখবে, তবে অবশ্যই তাকে সেরূপ দেখতে পাবে, আর যদি তুমি না চাও যে, তাকে ঘুমন্ত অবস্থায় দেখবে, তবে অবশ্যই তাকে সেরূপ দেখতে পাবে।
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।হাদীসটির অর্থ: আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু সাওম পালন ও কিয়ামুল লাইল সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অবস্থা সম্পর্কে সংবাদ দেন। তিনি বলেন, ‘কোন কোন মাসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমনভাবে সাওম ত্যাগ করতেন যে, মনে হত তিনি উক্ত মাসে আর সাওম পালন করবেন না। ঐ মাসে অধিক সাওম ত্যাগ করার কারণে এমন মনে হতো। অনুরূপভাবে কোন মাসে এমনভাবে সাওম পালন করতেন যে, মনে হত তিনি ঐ মাসে আর সাওম ত্যাগ করবেন না। অনুরূপভাবে কিয়ামুল লাইলের সালাতে নির্দিষ্ট কোন সময়কে নির্ধারণ করতেন না। কখনো তিনি প্রথম রাতে আবার কখনো তিনি মাঝ রাতে আর কখনো তিনি শেষ রাতে কিয়ামুল লাইল করতেন। এমনভাবে যে, যদি তুমি পছন্দ না কর তাকে সালাত রত অবস্থায় দেখবে, তবে অবশ্যই সেরূপ তাকে দেখতে পাবে। আর যদি তুমি পছন্দ না কর যে, তাকে ঘুমন্ত অবস্থায় দেখবে, তবে অবশ্যই সেরূপ তাকে দেখতে পাবে। বস্তুত তার আমল ছিল বাড়াবাড়ি ও শীথিলতার মাঝামাঝি।
আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফূ‘ সনদে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহর ভয়ে যে লোক ক্ৰন্দন করে তার জাহান্নামে যাওয়া এরূপ অসম্ভব যেমন দোহন করা দুধ আবার পালানের মধ্যে ফিরে যাওয়া অসম্ভব। আর আল্লাহ তা'আলার পথের ধুলা এবং জাহান্নামের ধোঁয়া কখনও একত্র হবে না।
এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। - এটি নাসাঈ বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানিয়েছেন যে, যে ব্যক্তি আল্লাহর ভয়ে ক্রন্দন করে সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে না। কারণ, ভয়ের সাধারণ দাবী হলো, নির্দেশ মান্য করা ও গুনাহ ছেড়ে দেওয়া। “দোহন করা দুধ আবার পালানের মধ্যে ফিরে যাওয়া” এটা অসম্ভবের সাথে শর্ত আরোপ করার পর্যায়ভুক্ত। কোনো বান্দার ক্ষেত্রে আল্লাহর পথের ধুলা এবং জাহান্নামের ধোঁয়া কখনও একত্র হবে না। এরা উভয় যেন একটি অপরটির বিপরীত; কখনো একত্র হবে না, যেমন দুনিয়া ও আখিরাত একে অপরের বিপরীত।
যুবাইর ইবনু ‘আওয়াম রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন: “তোমাদের মধ্যে কেউ রশি নিয়ে তার পিঠে কাঠের বোঝা বয়ে আনা এবং তা বিক্রি করা, ফলে আল্লাহ তার চেহারাকে (যাচ্ঞা করার লাঞ্ছনা হতে) রক্ষা করেন, তা মানুষের কাছে সওয়াল করার চেয়ে উত্তম, চাই তারা দিক বা না দিক”।
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যাখ্যা করেছেন যে, একজন ব্যক্তি যেকোনো কাজ করতে পারে, এমনকি তা দড়ি নিয়ে পিঠে জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করে বিক্রি করে খাওয়া, অথবা তা থেকে দান করা ও মানুষের কাছ থেকে স্বাধীন হওয়া এবং ভিক্ষাবৃত্তির অপমান থেকে নিজের মুখ রক্ষা করা; মানুষের কাছে চাওয়া এবং তারা তাকে দেয় অথবা প্রত্যাখ্যান করার চেয়ে তার জন্য এটা উত্তম, কারণ মানুষের কাছে চাওয়া অপমানজনক, আর মুমিন সম্মানিত, অপমানিত নয়।
উম্মে কুলসুম বিনতে উকবাহ ইবন আবু মু‘আইত্ব (রাদিয়াল্লাহু আনহা) মারফু হিসেবে বর্ণনা করেন, “ঐ ব্যক্তি মিথ্যাবাদী নয়, যে মানুষের মধ্যে সংশোধন করার জন্যে ভালো কথা পৌঁছায় অথবা ভালো কথা বলে। মুসলিমের এক বর্ণনায় আরেকটু বাড়িয়ে আছে, উম্মে কুলসুম বলেন, ‘আমি নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মাত্র তিনটি অবস্থায় মিথ্যা বলার অনুমতি দিতে শুনেছি: যুদ্ধের সময়, মানুষের মধ্যে আপোস-মীমাংসা করার সময় এবং স্বামীর স্ত্রীর সাথে ও স্ত্রীর স্বামীর সাথে আলাপ-আলোচনায়।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মূলনীতি হচ্ছে, মিথ্যা সর্বাবস্থায় হারাম। কারণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমরা মিথ্যা থেকে বিরত থাক। কারণ, মিথ্যা অশ্লীলতার দিকে নিয়ে যায়। আর অশ্লীলতা জাহান্নামের দিকে নিয়ে যায়। একজন মানুষ সর্বদা মিথ্যা বলতে ও মিথ্যার অনুশীলন করতে থাকে অবশেষে আল্লাহর নিকট তাকে মিথ্যুক লিখা হয়।” হাদীসটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তিনটি বিষয়কে মিথ্যা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এক- পরস্পরের মধ্যে বিরোধ মীমাংসার উদ্দেশ্যে মিথ্যা বলা। দুই- যুদ্ধে মিথ্যা বলা। তিন- স্বামী তার স্ত্রীর সাথে আলাপচারিতায় মিথ্যা বলা। এ তিনটি ক্ষেত্রে মিথ্যা বলা বৈধ হওয়া সুন্নাত দ্বারা প্রমাণিত। কারণ, এ তিনটি ক্ষেত্রে মিথ্যা বলাতে কোনো প্রকার অনিষ্ট ছাড়াই কল্যাণ হাসিল হয় । প্রথম: দুই বিবাদমান ব্যক্তি বা গোত্রের মাঝে মীমাংসা করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা বলা। যেমন, ভালো কথা নকল করা, তাদের একজনের কাছে গিয়ে বলা, তোমার সাথী তোমার খুব প্রশংসা করেছে, তোমাকে অনেক ভালো বলেছে এবং অনেক ভালো বিশেষণে তোমাকে উল্লেখ করেছে, অথচ এগুলো সে তার থেকে শুনে নি। কিন্তু তার উদ্দেশ্য হচ্ছে তাদের পরস্পরকে নিকটে টানা ও তাদের মধ্যকার আক্রোশ ও ক্ষোভ প্রশমিত করা। এরূপ করা দূরস্ত আছে, এতে কোনো সমস্যা নেই, যদি তার ইচ্ছা হয় সংশোধন করা ও অন্তরের শত্রুতা, হিংসা ও বিদ্বেষ দূর করা। দ্বিতীয়: যুদ্ধে মিথ্যা: যেমন নিজের শক্তি প্রদর্শন করা, এমন কথা বলা যাতে সাথীরা চাঙ্গা হয় এবং শত্রুরা ধোঁকায় পড়ে অথবা বলল, মুসলিমদের সৈন্যবাহিনী অনেক, তাদের অনেক সাহায্য আসছে অথবা বলল, তুমি তোমার পিছনে দেখ! কারণ, অমুক লোক তোমাকে মারার জন্য পিছন থেকে আসছে -এ ধরনের কথা বলা বৈধ। কারণ, এতে ইসলাম ও মুসলিমদের জন্য রয়েছে মহা কল্যাণ। তৃতীয়: স্বামী স্ত্রীর সাথে বা স্ত্রী স্বামীর সাথে মিথ্যা কথা বলা। যেমন, স্বামী স্ত্রীকে বলল, তুমি আমার নিকট সবার চেয়ে প্রিয়, আমি তোমার মতো মেয়েদের প্রতি আগ্রহী। এ ধরনের কথা বলা বৈধ, যা উভয়ের মাঝে মহব্বত ও ভালোবাসা আবশ্যক করে। এরূপ কথা স্ত্রীও স্বামীকে বলতে পারে। এ জাতীয় কথা বলা বৃহৎ স্বার্থে বৈধ। স্বামী-স্ত্রী সেসব ক্ষেত্রেই মিথ্যা বলতে পারবে, যা তাদের মাঝে মহব্বত, ভালোবাসা ও দাম্পত্য জীবনকে স্থায়ী করে, প্রত্যেক ক্ষেত্রে মিথ্যা বলা বৈধ নয়। ইমাম নাওয়াওয়ী রহ. বলেন, স্বামীর জন্য স্ত্রীর সাথে বা স্ত্রীর জন্য স্বামীর সাথে মিথ্যা বলার উদ্দেশ্য হচ্ছে, তাদের প্রেম জাহির করা ও অনাবশ্যক বিষয়ে প্রতিশ্রুতি প্রকাশ করা বা এ জাতীয় কিছু। অন্যথায় স্বামীকে তার হক থেকে বা স্ত্রীকে তার হক থেকে বঞ্চিত করার জন্যে অথবা স্বামীর যা হক নয় বা স্ত্রীর যা হক নয় সেটা স্বামী বা স্ত্রীর গ্রহণ করার জন্যে একে অপরকে ধোকা দেওয়া সমস্ত মুসলিমের ঐকমত্যে হারাম। (ইমাম নাওয়াওয়ীর ব্যাখ্যা ১৬/১৫৮) হাফিয ইবন হাজার রহ. বলেন, “তারা সবাই একমত যে, স্বামী ও স্ত্রীর মাঝে মিথ্যা বলা বৈধ কেবল ঐ সব ক্ষেত্রে, যেখানে স্বামীর হক বা স্ত্রীর হক নষ্ট না হয় এবং যেসব ক্ষেত্রে স্বামী বা স্ত্রীর অবৈধভাবে কিছু গ্রহণ করার সম্ভাবনা না থাকে।”
আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “জান্নাতে প্রবেশের পর একমাত্র শহীদ ছাড়া আর কেউ দুনিয়ায় ফিরে আসার আকাঙ্খা করবে না, যদিও দুনিয়ার সকল জিনিস তাকে দেওয়া হয়। শহীদ পুনরায় দুনিয়ায় ফিরে আসার আকাঙ্খা করবে। শাহাদাতের মর্যাদা দেখতে পেয়ে সে আরো দশবার শহীদ হওয়ার কামনা করবে। অন্য বর্ণনায় এসেছে, “যেহেতু সে শহীদ হওয়ার ফযীলত দেখবে।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।জান্নাতে প্রবেশের পর তা পরিত্যাগ করে পুনরায় কেউ দুনিয়াতে ফিরে আসার আকাঙ্খা করবে না। যদিও দুনিয়ার সব গুপ্তধন, মূল্যবান জিনিসপত্র, সুউচ্চ দালান-কোঠা, বাগ-বাগিচা তাকে দেয়া হয়। তবে শহীদদের ব্যাপারটি ভিন্ন। সে দুনিয়াতে দশবার ফিরে আসার আকাঙ্খা করবে। যেন প্রত্যেকবার আল্লাহর পথে জিহাদ করে দশবার শহীদ হয় এবং দশবার শহীদদের মর্যাদা লাভ করতে পারে। কেননা শহীদরা যে সম্মান লাভ করবে সেটা সে দেখতে পাবে।
রসূলল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করা হল, রসূলল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করা হল, ‘হে আল্লাহর রসূল! আল্লাহর পথে জিহাদ করার সমতুল্য আমল কি? তিনি বললেন, “তোমরা তা পারবে না।” তারা তাঁকে দু’-তিনবার ঐ একই কথা জিজ্ঞাসা করতে থাকল, আর তিনি প্রত্যেকবারে বললেন, “তোমরা তার ক্ষমতা রাখ না।” তারপর বললেন, “আল্লাহর পথে জিহাদ-কারীর দৃষ্টান্ত ঠিক সেই রোজাদার ও আল্লাহর আয়াত পাঠ করে নামায আদায়কারীর মত, যে রোযা রাখতে ও নামায পড়তে আদৌ ক্লান্তি-বোধ করে না। (এরূপ ততক্ষণ পর্যন্ত গণ্য হয়) যতক্ষণ না মুজাহিদ জিহাদ থেকে ফিরে আসে।” বুখারীর এক বর্ণনায় আছে, একটি লোক বলল, ‘হে আল্লাহর রসূল! আমাকে এমন একটি আমল বাতলে দিন, যা জিহাদের সমতুল্য হবে।’ তিনি বললেন, “আমি এ ধরনের আমল তো পাচ্ছি না।” তারপর তিনি বললেন, “তুমি কি এরূপ করতে পারবে যে, মুজাহিদ যখন বের হয়ে যাবে, তখন থেকে তুমি মসজিদে ঢুকে অ-ক্লান্তভাবে নামাযে নিমগ্ন হবে এবং অবিরাম রোযা রাখবে।” সে বলল, ‘ও কাজ কে করতে পারবে?’
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন। - মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।এই হাদীসের দু’টি বর্ণনাতেই সাহাবীগণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এমন কিছু নেক আমল ও আনুগত্য সম্পর্কে প্রশ্ন করেছে, যা প্রতিদান ও সাওয়াবের ক্ষেত্রে জিহাদের সমান। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তোমরা সেটি করতে পারবে না।” অর্থাৎ যে আমল জিহাদের সমান সেটা করার ক্ষমতা তোমাদের নেই। তারা প্রশ্নটি দু’বার অথবা তিন বার পুনরাবৃত্তি করলো। প্রতিবারেই তিনি বললেন: “তোমরা সেটা করতে পারবে না।” অতঃপর যে আমলটি তারা করতে পারবে না, তিনি সেটার বর্ণনা দিলেন। আর তা হচ্ছে ক্লান্তিহীন ও বিরতিহীনভাবে সিয়াম পালন করা, কিয়ামুল লাইল ও কুরআন তিলাওয়াত করা। নি:সন্দেহে এরূপ করার ক্ষমতা মানুষের নেই। এ জন্যই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শুরুতেই বলেছেন, “তোমরা সেটা করতে পারবে না।” সহীহ বুখারীর এক বর্ণনায় এসেছে যে, জনৈক সাহাবী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে আবেদন করল, তিনি যেন তাকে এমন একটি আমল বলে দেন, যা মর্যাদা, সম্মান, সাওয়াব ও মহাবিনিময়ের ক্ষেত্রে জিহাদের মতই। তিনি তখন বললেন, আমি এমন কোনো আমল আমি দেখছি না, যা আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের সমান হতে পারে। সহীহ বুখারী ও মুসলিমের বর্ণনায় এসেছে যে, “আল্লাহর রাস্তায় এক সকাল অথবা এক বিকাল সফর করা দুনিয়া ও তার মধ্যকার সবকিছু থেকে উত্তম।” অতঃপর তিনি বলেন, “মুজাহিদ যখন আল্লাহর রাস্তায় বের হয়, তখন কি তুমি মসজিদে প্রবেশ করে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করতে পারবে, কিন্তু ক্লান্ত হবে না এবং একাধারে সিয়াম পালন করতে পারবে, কিন্তু কখনো সিয়াম ছাড়বে না?” অর্থাৎ আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের উদ্দেশ্যে মুজাহিদ ঘর থেকে বের হওয়ার পর থেকে তুমি কি মসজিদে প্রবেশ করে সেখানে এবাদতের জন্য স্থায়ীভাবে অবস্থান ও নিরবিচ্ছিন্নভাবে সালাত আদায় করতে পারবে এবং বিরতিহীনভাবে সিয়াম পালন করতে পারবে? এরূপ করা যদি সম্ভব হয়, তাহলে এটাই জিহাদের সমতুল্য হবে। লোকটি তখন বলল, “এরূপ করতে কে পারবে?” অর্থাৎ বিরতিহীনভাবে সালাত আদায় ও একাধারে সিয়াম পালন করার ক্ষমতা কে রাখে? নি:সন্দেহে এটি মানুষের সমর্থের বাইরে।
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ঈমান ও তার প্রতিশ্রুতির প্রতি বিশ্বাস রেখে আল্লাহর পথে জিহাদের জন্য ঘোড়া প্রস্তুত রাখে, কিয়ামতের দিন তার আমেলের পাল্লায় ঘোড়ার খাদ্য, পানীয়, গোবর ও পেশাব ওজন করা হবে।”
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।হাদীসের অর্থ: যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ঈমান ও তাঁর প্রতিশ্রুতির প্রতি বিশ্বাস রেখে আল্লাহর পথে জিহাদের জন্য ও তাঁর সন্তুষ্টি লাভের প্রত্যাশায় ঘোড়া ওয়াকফ করে রাখে, যাতে তার উপর আরোহন করে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় মুজাহিদগণ যুদ্ধ করতে পারে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা‘আলা ঘোড়ার খাদ্য, পানীয়, গোবর ও পেশাবের বিনিময়ে সাওয়াব প্রদান করবেন। এমনকি কিয়ামতের দিন এগুলো তার নেক আমলের পাল্লায় রাখবেন। কেননা আল্লাহ বলেছেন, “আর তোমরা যা আল্লাহর রাস্তায় খরচ কর, তা তোমাদেরকে পরিপূর্ণ দেওয়া হবে।” (সূরা আল- আনফাল, আয়াত: ৬০) আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত দীর্ঘ হাদীসে এসেছে, “ঘোড়া তিন প্রকার: ঘোড়া কারো জন্য পাপ অর্জনের কারণ হয়। আবার কারো জন্য হয় আবরণ। আর কারো জন্য তা হয় সাওয়াবের কারণ। অতঃপর তিনি বললেন, যে ঘোড়া মালিকের জন্য সাওয়াবস্বরূপ হয় তা ঐ ব্যক্তির ঘোড়া, যে তার ঘোড়াকে আল্লাহর পথে মুসলিমদের উদ্দেশ্যে বাগান বা সবুজ তৃণভূমিতে বেঁধে রাখে। ঘোড়াটি ঐ চারণভূমি কিংবা বাগান থেকে যে পরিমাপ ভক্ষণ করে এর বিনিময়ে তাকে সাওয়াব দেওয়া হয়। এমনকি এর মল-মূত্রের বিনিময়েও তাকে সমপরিমাণ সাওয়াব দেওয়া হয়। আর ঘোড়াটি যদি তার রশি ছিড়ে এক বা দু’টি টিলা অতিক্রম করে তবে তার প্রতিটি পদচিহ্ন ও গোবরের বিনিময়েও তাকে সাওয়াব দেওয়া হয়। মালিক ঘোড়াটি নিয়ে কোন নদী অতিক্রম করলে মালিকের অনিচ্ছা সত্বেও সেসময় ঘোড়াটিকে যদি নদী থেকে পানি পান করে ফেললে, তাহলে যে পরিমাণ পানি পান করে তাকে সে পরিমাণ সাওয়াব দেওয়া হয়।” (বুখারী ও মুসলিম)
আমর ইবনে আবাসাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, “যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় একটি তীর নিক্ষেপ করে, তার জন্য একটি গোলাম আজাদ করার সমান নেকী হয়।”
এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। - এটি নাসাঈ বর্ণনা করেছেন। - এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।হাদীসের অর্থ: নিশ্চয় যে ব্যক্তি আল্লাহ শত্রুর দিকে একটি তীর নিক্ষেপ করে, তার জন্য আল্লাহর রাস্তায় একটি গোলাম আযাদকারীর সমান সাওয়াব নির্ধারিত। চাই সে তীর শত্রুকে আঘাত করুক বা না করুক। যেমন এটি সুনানে নাসাঈর বর্ণনা। যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় একটি তীর নিক্ষেপ করল, চাই সে তীর শত্রু পর্যন্ত পৌঁছুক বা না পৌঁছুক। আর যদি তা দ্বারা শত্রুকে আঘাত করে তাহলে তার জন্য জান্নাতে একটি মরতবা রয়েছে। যেমন এটি সুনানে আবূ দাউদের বর্ণনা।যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে তীর নিক্ষেপ করেছে, তার জন্য একটি মরতবা রয়েছে। আর আহমাদের বর্ণনায় রয়েছে “জান্নাতে”।