





























Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
All
আবূ মূসা আল-আশআরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে মারফু হিসেবে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “যে মুসলমান আমানাতদার কোষাধ্যক্ষ মালিকের আদেশ অনুযায়ী কাজ করে এবং সে ভালো মনে তাকে পূর্ণ মাল দেয়, যাকে মালিক দেওয়ার আদেশ করে, সেও সাদকাহকারীদের মধ্যে একজন গণ্য হয়।” অপর বর্ণনায় এসেছে: “যে দেয় যা দিতে তাকে নির্দেশ করা হয়েছে”।
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন। - মুত্তাফাকুন আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম), তবে শব্দ সহীহ বুখারীর।আবূ মূসা আল-আশ‘আরী রাদিয়াল্লাহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন। “যে মুসলিম আমানাতদার কোষাধ্যক্ষ তার প্রতি (মালিকের) আদেশ অনুযায়ী কাজ করে, ফলে সে গ্রহীতাকে পূর্ণ মাল দেয়, এবং নিজের খুশি মনে মালিক যাকে দেওয়ার আদেশ করে তাকে দিয়ে দেয়, সেও সাদকাহকারীদের একজন। মুত্তাফাকুন আলাইহি। আল খাযেন মুবতাদা আর আহাদুল মুতাসাদদিকীন খবর। অর্থাৎ, যে কোষাধ্যক্ষ এ চারটি গুণ অর্জন করবেন—ইসলাম, আমানত, যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তা বাস্তবায়ন করা এবং খরচা করা ও দান করার সময় হাসিখুশি ও আনন্দিত থাকা। “সে মুসলিম” এ কথা বলে কাফিরকে বাদ দেওয়া হয়েছে। সুতরাং কোষাধ্যক্ষ যদি কাফির হয়, যদিও সে আমানতদার এবং যা নির্দেশিত হয় তা বাস্তবায়ন করে তার কোন বিনিময় নেই। কারণ, আখিরাতে কাফেরদের ভালো কাজের কোন প্রতিদান নেই। আল্লাহ বলেন, “আর তারা যে কাজ করেছে আমি সে দিকে অগ্রসর হব, অতঃপর তা বিক্ষপ্ত ধূলিকনায় পরিণত করে দেব”। [সূরা ফুরকান: ২৩] তিনি আরো বলেন: “আর তোমাদের থেকে যে তার দীন থেকে মুরতাদ হবে, অতঃপর সে কাফির হয়ে মারা যাবে, তারাই তাদের আমল দুনিয়া ও আখিরাতে বরবাদ করেছে এবং তারাই জাহান্নামবাসী, সেখানে তারা স্থায়ী হবে”। [সূরা বাকারা:২১৭] কিন্তু যদি সে ভালো কাজ করল অতঃপর ইসলাম গ্রহণ করল, তখন সে পূর্বের ভালো কর্মের ওপর ইসলাম গ্রহণ করল এবং তাকে তার বিনিময় দেওয়া হবে। দ্বিতীয় গুণ: “আমানতদার” অর্থাৎ তার কাছে যে যা আমানত রেখেছে তাই সে আদায় করেছে, সে মাল সংরক্ষণ করেছে, তাতে সীমালঙ্ঘন ও বাড়াবাড়ি করেনি। তৃতীয় গুণ: যা নির্দেশিত হয় তা পালন করে। কারণ, অনেক মানুষ আছে আমানতদার কিন্তু সে অলস। এ ব্যক্তি আমানতদার এবং বাস্তবায়নকারী তাকে যা আদেশ করা হয় তাই করে। সে শক্তি ও আমানতদারী দুটি গুণকে একত্র করল। চতুর্থ গুণ: তাকে যা নির্দেশ করা হয়েছে তা খুশি মনে দেয় ও বাস্তবায়ন করে। অর্থাৎ, যাকে দেওয়া হলো তাকে খোটা দেয় না অথবা তার ওপর কোন কর্তৃত্ব প্রকাশ করে না। বরং খুশি মনেই দেয়। এ লোকটি সাদকাকারীদেরই একজন। অথচ সে তার সম্পদ থেকে একটি পয়সাও দান করেনি। এর দৃষ্টান্ত হলো: এক ব্যক্তির নিকট সম্পদ আছে। এবং সে ছিল সম্পদের হিসাব রক্ষক, মুসলিম আমানতদার, যা তাকে নির্দেশ দেওয়া হয় তাই করে। তার হকদারকে খুশিমনে দান করে। যখন সম্পদের মালিক তাকে বলে হে ভাই এ ফকীরকে দশ হাজার রিয়াল দাও। তখন সে রাসূলুল্লাহ সাল্লল্লাহ যেভাবে বলেছেন সেভাবে দান করে। তাহলে সে ঐ ব্যক্তির মত যে দশ হাজার রিয়াল দান করল। তবে দানকারীর সাওয়াব থেকে কোন প্রকার বিনিময় কমানো হবো। কিন্তু তা আল্লাহর পক্ষ থেকে অনুগ্রহ।
আব্দুল্লাহ ইবন উমার রাদিয়াল্লাহ আনহুমা থেকে বর্ণিত: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার বাহনের পিঠে সালাত আদায় করতেন। যেদিকেই তার মুখ হতো সেদিকেই মুখ করতেন। তিনি মাথা দ্বারা ইশারা করতেন। আর ইবন উমার এ কাজটি করতেন। অপর বর্ণায়: তিনি তার উটের ওপর বিতির আদায় করতেন। আর সহীহ মুসলিমের বর্ণনায় বর্ণিত: তবে তিনি বাহনের উপর ফরয সালাত আদায় করতেন না। আর সহীহ বুখারির বর্ণনায় বর্ণিত: কিন্তু ফরয সালাতসমূহ।
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন। - মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার আরোহণের ওপর কেবল নফল সালাত আদায় করতেন। বাহনটি যেদিকে ফিরত তিনি সেদিকে মুখ ফিরাতেন যদিও তা কিবলামুখ নয়। রুকু সেজদা করার জন্য তিনি মাথা ঝুকাতেন এবং ইশারায় আদায় করতেন। রুকু সেজদা ও কিবলামুখ হওয়ার জন্য তিনি যমীন নামার চেষ্টা করতেন না। সাধারণ নফল সালাত বা সুন্নাতে রাতেবাহ বা কারণ বিশিষ্ট্য সালাতসমূহের মধ্যে কোন প্রার্থক্য নেই। কিন্তু তিনি ফরয সালাতসমূহে এ কাজটি করতেন না। অনুরূপভাবে তিনি বিতিরের সালাতও বাহনের ওপর আদায় করতেন।
‘আয়িশাহ্ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, “আমি নিজ হাতে নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কুরবানীর পশুর কিলাদা পাকিয়ে দিয়েছি। এরপর আমি সেটি চিহ্নিত করলাম এবং তিনি তাকে কিলাদা পরালেন অথবা আমিই তাকে কিলাদা (মালা) পরালাম তারপর সেটি বায়তুল্লাহে পাঠিয়ে দিয়েছেন এবং তিনি মদিনায় অবস্থান করলেন। তাঁর জন্য যা হালাল ছিল এমন কিছু তিনি হারাম করেননি”।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর ঘরের সম্মান করতেন। তাই যখন তিনি স্বয়ং তাতে পৌঁছতে পারতেন না তখন তিনি তা সম্মান ও তার প্রতিবেশীর খাদ্য হিসেবে হাদী প্রেরণ করতেন। আর যখন তিনি হাদী প্রেরণ করতেন তখন তাকে হার পরাতেন এবং শি‘আর (চিহ্নিত) করতেন যাতে মানুষ বুঝতে পারে যে, এটি বাইতুল্লাহর হাদী। ফলে তারা তার সম্মান করবে এবং তার প্রতি কোন খারাপ আচরণ করবে না। তাই সংবাদের গুরুত্বের জন্য আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা উল্লেখ করেন যে, তিনি নিজ হাতে নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কুরবানীর পশুর কিলাদা (মালা) পাকিয়ে দিয়েছেন। আর হাদী প্রেরণের পর রাসূল মদীনায় অবস্থান কালে একজন মুহরিম যে সব কর্ম থেকে দূরে থাকে যেমন, স্ত্রী, খোশবু, শিলাই যুক্ত কাপড় পরিধান করা ইত্যাদি তা থেকে তিনি বিরত থাকতেন না। বরং তিনি হালাল হিসেবেই থাকতেন এবং নিজের জন্য সবকিছুকেই হালাল জানতেন।
আব্দুল্লাহ ইব্নু ‘উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা হতে মারফু হিসেবে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাইতুল্লাহ-এ প্রবেশ করলেন, আরো প্রবেশ করলেন উসামা ইব্নু যায়দ, বেলাল ও ‘উসমান ইব্নু ত্বলহা। তাদের ওপর দরজা বন্ধ করে দেওয়া হলো। যখন দরজা খোলা হলো, তখন আমিই প্রথম ব্যক্তি যে ভিতরে প্রবেশ করেছে। আমি বিলালের সাথে দেখা পেয়ে তাকে জিজ্ঞেস করলাম: নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি ভিতরে সালাত আদায় করেছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ, ডানের দুই খুঁটির মধ্যখানে।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।যখন মক্কা বিজয় হয় এবং আল্লাহ তাআলা তার ঘরকে মুর্তি, ভাস্কর্য ও ছবি থেকে পবিত্র করেন, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কা‘বায় প্রবেশ করলেন। তার সাথে ছিল তার দুই খাদেম বিলাল ও উসামাহ এবং বাইতুল্লাহর পাহারাদার উসমান ইবন তালহা। তারা প্রবেশ করার পর দরজা বন্ধ করে দেওয়া হলো যাতে লোকেরা রাসূল কীভাবে ইবাদত করেন তা দেখার জন্য ভিড় না করে। কারণ এমন হলে তারা এ পবিত্র স্থানে তার আসল উদ্দেশ্য আল্লাহর সাথে কথোপকথন এবং তার নি‘আমতের শুকরিয়া আদায় করা থেকে তাকে বিরত রাখবে। যখন তারা তাতে দীর্ঘ সময় অবস্থান করলেন তখন তারা দরজা খুললেন। আব্দুল্লাহ ইবন উমার ছিল রাসূলের পদাঙ্ক অনুসরন করা ও সুন্নাতের অনুসরণ করার প্রতি অধিক আগ্রহী। এ কারণে, দরজা খোলার পর তিনি ছিলেন প্রথম প্রবেশকারী। তারপর তিনি বিলালকে জিজ্ঞাসা করলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি তাতে সালাত আদায় করেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। ডানের দুই খুঁটির মধ্যখানে। তখন কা‘বা শরীফে ছিল ছয়টি খুঁটি। তিনটি তার পিছনে আর দুটি তার ডানে এবং একটি তার বামে। আর তার মাঝে এবং দেয়ালের মাঝে দূরত্ব ছিল তিন হাত। তিনি দুই রাকা‘আত সালাত আদায় করলেন এবং তার চার কোনায় দো‘আ করলেন।
আবূ হুরাইরাহ্ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে মারফূ‘ হিসেবে বর্ণিত: আল্লাহর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে কুরবানীর উট হাঁকিয়ে নিতে দেখে বললেন, এর পিঠে আরোহণ কর। সে বলল, এ তো কুরবানীর উট। তিনি বললেন, এর পিঠে সওয়ার হয়ে চল। আমি তাকে দেখলাম তার পিঠে সাওয়ার হয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে চলতে ছিলেন। অপর শব্দে: তিনি দ্বিতীয় বা তৃতীয়বারে বললেন, এর পিঠে আরোহণ কর, তোমার সর্বনাশ! অথবা তোমার ধ্বংস।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন এক ব্যক্তিকে আরোহণ করার প্রয়োজন থাকা সত্বেও কুরবানীর জন্তু নিয়ে পায়ে হেটে যেতে দেখেন, তিনি তাকে বলেন, তুমি তাতে সাওয়ার হও। তাদের নিকট কুরবানীর পশু সম্মানী ছিল-তাকে কোন কষ্ট দেওয়া যায় না। তাই লোকটি বলল, এটি কুরবানীর পশু বাইতুল্লাহর উদ্দেশ্য প্রেরণ করা হয়েছে। তারপর সে বলল, তুমি তাতে সাওয়ার হও যদিও তা বাইতুল্লাহর প্রতি প্রেরিত। কথাটি সে দ্বিতীয় ও তৃতীয়বার পুণরাবৃত্তি করল, ফলে তিনি তাকে কঠোরভাবে বললেন, তুমি সাওয়ার হও।
আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত: এক ব্যক্তি জুমু’আহ’র দিন দারুল কাযা (বিচার করার স্থান)-এর দিকের দরজা দিয়ে মসজিদে প্রবেশ করল। এ সময় আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে খুৎবা দিচ্ছিলেন। লোকটি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! ধন-সম্পদ নষ্ট হয়ে গেল এবং রাস্তাঘাট বন্ধ হয়ে গেল। আপনি আল্লাহর নিকট দু’আ করুন যেন তিনি আমাদের বৃষ্টি দান করেন। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’ হাত তুলে দু’আ করলেন, “হে আল্লাহ্! আমাদের বৃষ্টি দান করুন। হে আল্লাহ্! আমাদের বৃষ্টি দান করুন। হে আল্লাহ্! আমাদের বৃষ্টি দান করুন”। আনাস বলেন, আল্লাহর কসম! আমরা তখন আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখলাম, আকাশে কোন মেঘ নেই, মেঘের সামান্য টুকরাও নেই। অথচ সাল’আ পর্বত ও আমাদের মধ্যে কোন ঘরবাড়ি ছিল না। তিনি বলেন, হঠাৎ সাল’আর ওপাশ হতে ঢালের মত মেঘ উঠে এল এবং মধ্য আকাশে এসে ছড়িয়ে পড়লো। অতঃপর প্রচুর বর্ষণ হতে লাগল। আল্লাহর কসম! আমরা ছয়দিন সূর্য দেখতে পাইনি। এর পরের জুমু’আয় সে দরজা দিয়ে এক ব্যক্তি প্রবেশ করল। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন দাঁড়িয়ে খুৎবা দিচ্ছিলেন। লোকটি তাঁর সম্মুখে দাঁড়িয়ে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! ধন-সম্পদ ধ্বংস হয়ে গেল এবং রাস্তাঘাট বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল। কাজেই আপনি বৃষ্টি বন্ধের জন্য আল্লাহর নিকট দু’আ করুন। আনাস রা. বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন দু’ হাত তুলে দু’আ করলেন, “হে আল্লাহ্! আমাদের আশে পাশে, আমাদের উপর নয়। হে আল্লাহ্! টিলা, মালভূমি, উপত্যকায় এবং বনভূমিতে বর্ষণ করুন”। আনাস বলেন, তখন বৃষ্টি বন্ধ হয়ে গেল এবং আমরা বেরিয়ে রোদে চলতে লাগলাম। (রাবী) শরীক বলেন, আমি আনাস-কে জিজ্ঞেস করলাম, এ লোকটি কি আগের সেই লোক? তিনি বললেন, “আমি জানি না”।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমএকজন বেদুইন (গ্রাম্য আরব) এক জুমার দিনে মসজিদে নববীতে প্রবেশ করল—মসজিদের পশ্চিম দিকের দরজা দিয়ে, যা উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুর বাড়ির দিকে মুখ করা। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুতবা দিচ্ছিলেন। লোকটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সম্মুখীন হয়ে দাঁড়িয়ে বলল: হে আল্লাহর রাসূল! পশুগুলো ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে এবং মানুষ স্থানান্তরকারী পশুগুলো মারা যাওয়া অথবা ক্ষুধায় তাদের দুর্বল হওয়ার ফলে পথঘাট বন্ধ হয়ে গেছে, আপনি আল্লাহর কাছে আমাদের জন্য বৃষ্টির দোয়া করুন! তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উভয় হাত উঠালেন এবং বললেন: হে আল্লাহ! আমাদেরকে বৃষ্টি দাও, হে আল্লাহ! আমাদেরকে বৃষ্টি দাও, হে আল্লাহ! আমাদেরকে বৃষ্টি দাও। আনাস ইবন মালিক রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন: আল্লাহর কসম! আমরা আকাশে একটুকরো মেঘও দেখতে পাচ্ছিলাম না। আর মসজিদের মধ্যে আমাদের আর সলা' নামক পাহাড়ের (যা মসজিদের পশ্চিম দিকে) মাঝখানে এমন কোনো ঘরবাড়ি ছিল না যা আমাদের মেঘ দেখার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতো—সেই দিক থেকেই সাধারণত মেঘ আসত। আনাস রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন: এরপর সলা' পাহাড়ের পেছন দিক থেকে একটি মেঘের টুকরো উদয় হলো, যা ছিল গোলাকার—ঠিক যেন একটি ঢালের মতো (ছোট ঢাল)। যখন সেটি মদিনার আকাশের মাঝখানে এসে পৌঁছাল, তখন তা ছড়িয়ে পড়ল, তারপর বৃষ্টি শুরু হলো। আল্লাহর কসম! আমরা পরবর্তী জুমা পর্যন্ত সূর্য দেখতে পাইনি বৃষ্টির কারণে। এরপর সেই আগের লোকটি আবার একই দরজা দিয়ে মসজিদে প্রবেশ করল এবং তখনও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুতবা দিচ্ছিলেন। সে দাঁড়িয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সামনে থেকে সম্বোধন করে বলল: 'হে আল্লাহর রাসূল! সম্পদ ধ্বংস হয়ে গেছে, চলার পথ বন্ধ হয়ে গেছে (অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে), আপনি আল্লাহর কাছে দোয়া করুন যেন তিনি আমাদের উপর থেকে বৃষ্টি থামিয়ে দেন।' তিনি বলেন, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উভয় হাত উত্তোলন করলেন, তারপর বললেন: হে আল্লাহ! আমাদের চারপাশে বৃষ্টি দাও, আমাদের উপর নয়। হে আল্লাহ! বৃষ্টি দাও উঁচু জায়গাগুলিতে, ছোট ছোট পাহাড়ে, উপত্যকার মাঝে এবং গাছপালার জন্মস্থানে। আনাস বলেন: অতঃপর মেঘ থেমে গেল এবং আমরা রোদে হাঁটতে হাঁটতে মসজিদ থেকে বের হলাম।
বারা ইবন ‘আযিব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে থেকে তাঁর সালাত আদায় করার নিয়ম-কানুন ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি। তাঁর দাঁড়ানো (কিয়াম), তাঁর রুকু এবং রুকু থেকে সোজা হয়ে দাঁড়ানো, তাঁর সিজদা এবং দুই সিজদার মাঝে বসা, অত:পর তাঁর দ্বিতীয় সিজদা, তাঁর সালাম ফিরানো এবং সালাম ও সালাত শেষ করে চলে যাওয়ার মাঝখানে বসা এর সবই প্রায় সমান (ব্যবধানে) পেয়েছি।” অন্য বর্ণনায় এসেছে, “সালাতে দাঁড়ানো ও বসা ব্যতীত অন্যান্য আমলসমূহ প্রায় সমান ব্যবধানের ছিলো।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।বারা ইবন ‘আযিব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সালাতের বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি খুব সূক্ষ্মভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পর্যবেক্ষণ করেছেন যাতে তাঁর সালাত আদায় পদ্ধতি জানেন ও তার অনুসরণ করেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, সালাতে তাঁর কাজসমূহ প্রায় সমান ব্যবধানের এবং সামাঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। কেননা কিরাত পাঠ করার জন্য তাঁর দাঁড়ানো ও তাশাহহুদ পাঠ করার জন্য বসা রুকু, রুকু থেকে সোজা হয়ে দাঁড়ানো ও সিজদার সাথে সমানুপাতিক ছিলো। যেমন তিনি রুকু সংক্ষিপ্ত করে সালাতে দাঁড়ানোর সময় খুব বেশি দীর্ঘ করতেন না অথবা সিজদা দীর্ঘ করে সালাতে দাঁড়ানো বা বসার সময় সংক্ষিপ্ত করতেন না। বরং প্রতিটি রুকুনই অন্য আরেকটি রুকুনের সাথে সমানুপাতিক ও সামাঞ্জস্যপূর্ণ ছিলো। এর অর্থ এ নয় যে, তাঁর কিরাত পাঠের জন্য দাঁড়ানো ও তাশাহহুদের জন্য বসা রুকু ও সিজদার সমান ছিলো। বরং হাদীসের অর্থ হলো, তিনি একটি কাজকে সংক্ষিপ্ত করে অন্যটি অতিদীর্ঘ করতেন না।
আব্দুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত: “এক ব্যক্তি আরাফায় অবস্থান করছিল হটাৎ সে তার উটের পিঠ থেকে পড়ে গেল, ফলে উট তার ঘাড় ভেঙ্গে দিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাকে কুলপাতা মিশ্রিত পানি দিয়ে গোসল দাও, তার দুই কাপড়েই কাফন দাও এবং তার মাথা অনাবৃত রাখ। কারণ, আল্লাহ তা’আলা ক্বিয়ামাতের দিন তাকে তালবিয়াহ পাঠরত অবস্থায় উঠাবেন।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।এক সাহাবী বিদায়ী হজে এহরাম অবস্থায় আরাফায় তার উটের পিঠে অবস্থান করছিল। হঠাৎ সে তা থেকে পড়ে গেল। ফলে তার ঘাড় ভেঙ্গে গেল এবং সে মারা গেল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দেশ দিলেন যে, তাকে যেন অন্যান্য মৃতের মতো কুল পাতার পানি দিয়ে গোসল দেওয়া হয় এবং তাকে তাকে যেন তার চাদর ও লুঙ্গি যা দ্বারা সে ইহরাম বেঁধেছিল সে দুই কাপড়েই কাফন দেওয়া হয়। কারণ, সে হজের উদ্দেশ্যে ইহরাম বাঁধছে এবং ইবাদাতের প্রভাব এখনোও তার সাথে অবশিষ্ট আছে। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে খুশবু লাগাতে এবং তার মাথা ডাকতে নিষেধ করেছেন। আর তার হিকমত সম্পর্কে বর্ণনা করেন যে, তিনি যে অবস্থায় মারা গিয়েছেন আল্লাহ তা’আলা ক্বিয়ামাতের দিন তাকে সে অবস্থায় উঠাবেন। আর তা হলো তালবিয়াহ পাঠরত অবস্থা যা হজের নির্দশন।
জাবির ইবন আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, উহুদের দিন এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললো, আমি যদি আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হয়ে যাই, আমার স্থান কোথায় হবে বলুন? তিনি বলেন, জান্নাতে। তারপর সে তার হাতের খেজুর ফেলে দিয়ে যুদ্ধে যোগদান করলো এবং শহীদ হয়ে গেল।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।জাবির ইবন আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু সংবাদ দিচ্ছেন, উমায়ের ইবন হুমাম রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু নামে এক লোক উহুদ যুদ্ধের দিন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি যদি আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করতে করতে শহীদ হয়ে যাই, অর্থাৎ এ যুদ্ধে মুশরিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করি ও শহীদ হয়ে যাই আমার পরিণতি কী হবে? তিনি বললেন, তুমি জান্নাতে যাবে। তারপর সে তার হাতের খেজুর ফেলে দিয়ে বলল, এ খেজুরগুলো খাওয়া পর্যন্ত যদি জীবিত থাকি, তাহলে তা অনেক দীর্ঘ জীবন। অত:পর তিনি অগ্রসর হলেন ও যুদ্ধ করলেন যতক্ষণ না তিনি শহীদ হলেন-রাদিয়াল্লাহু আনহু-