





























Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
All
মাহমূদ বিন লাবীদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত: ‘উসমান ইবনু ‘আফ্ফান রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু মসজিদ (মাসজিদুন নাববী) নির্মাণ করার ইচ্ছা করলেন তখন লোকেরা তা অপছন্দ করলেন এবং তারা মসজিদকে তার অবস্থাতে রেখে দিতে পছন্দ করলেন। তখন তিনি বললেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছিঃ “যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্যে মাসজিদ নির্মাণ করল, আল্লাহ তা‘আলা তার জন্যে জান্নাতে অনুরূপ তৈরি করবেন”।
সহীহ বুখারী ও মুসলিম‘উসমান রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু মসজিদে নববীকে তার প্রথম অবকাঠামোর চেয়ে সুন্দর অবকাঠামোতে তৈরি করার ইচ্ছা করলেন। মানুষেরা তা অপছন্দ করলেন, কারণ তার ভেতর ছিল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে তৈরি করা মসজিদের আকৃতির পরিবর্তন। মসজিদটি ইটা দিয়ে তৈরি করা ছিল এবং তার ছাদ ছিল খেজুরের ঢাল, কিন্তু উসমান তা পাথর ও প্লাস্টার দ্বারা নির্মাণ করতে চাইলেন। তখন উসমান রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু তাদেরকে সংবাদ দিলেন, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ তা‘আলার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে মসজিদ নির্মাণ করল, কোনো রিয়া-দেখানো ও সুখ্যাতির জন্য নয়, আল্লাহ তাকে তার আমল অনুযায়ী উত্তম বিনিময় দান করবেন। আর এই বিনিময় হলো তার জন্যে তার অনুরূপ জান্নাতে নির্মাণ করা।
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “মাসজিদুল হারাম ব্যতীত আমার এ মসজিদে সালাত আদায় করা অন্য মসজিদে এক হাজার সালাতের চেয়ে উত্তম”।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমনবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মসজিদে সালাত আদায় করার ফযীলত বর্ণনা করেছেন। এবং তা যমীনের অন্যান্য মসজিদের তুলনায় এক হাজার সালাতের চেয়ে উত্তম, তবে মক্কার মসজিদে হারাম ব্যতীত। কারণ, তাতে সালাত আদায় মসজিদে নববীর থেকেও উত্তম।
আবূ কাতাদাহ আস-সালামী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “যখন তোমাদের কেউ মসজিদে প্রবেশ করে, সে যেন বসার আগে দু’রাকাত সালাত আদায় করে”।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমযে ব্যক্তি যে কোনো সময়, যেকোন উদ্দেশ্যে মসজিদে আসলে নবী সাল্লালল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বসার পূর্বে দু’রাকাত সালাত আদায় করতে উদ্বুদ্ধ করেছেন। আর এই দুই রাকাত হলো তাহিয়্যাতুল মসজিদের দু’রাকাত।
আবূ হুমাইদ বা আবূ উসায়দ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমাদের কেউ যখন মসজিদে প্রবেশ করবে তখন সে বলবে, اللَّهُمَّ افْتَحْ لِي أَبْوَابَ رَحْمَتِكَ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! তুমি তোমার অনুগ্রহের দরজা আমার জন্য খুলে দাও।) যখন হবে, তখন বলবে- اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ (অর্থাৎ- আমি আপনার কাছে আপনার অনুগ্রহপ্রার্থনা করছি)”।
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেননবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উম্মাতকে মসজিদে প্রবেশকালীন যে দোয়া পড়া হবে তা শিখিয়েছেন: (اللَّهُمَّ افْتَحْ لي أَبْوابَ رَحْمَتِكَ) সে আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করবে যেন তিনি তাঁর জন্যে রহমতের উপকরণ প্রস্তুত করে দেন। আর যখন বের হওয়ার ইচ্ছা করবে তখন বলবে: (اللَّهُمَّ إني أَسْأَلُك مِن فَضْلِكَ) সে আল্লাহর নিকট তার অনুগ্রহ প্রার্থনা করবে এবং হালাল রিযক থেকে আরো বেশী অনুগ্রহ চাইবে।
সালিম ইবনু আবুল জা’দ সুত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যাক্তি বললেন, যদি আমি সালাত আদায় করতাম তাহলে প্রশান্তি পেতাম, তারা যেন বিষয়টি অপছন্দ করল। তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, “হে বিলাল! সালাত কায়িম করো। আর তার মাধ্যমে আমাদেরকে শান্তি দাও”।
আবু দাউদ এটি বর্ণনা করেছেনসাহাবীদের একজন বললেন, যদি আমি সালাত আদায় করতে পারতাম তাহলে প্রশান্তি পেতাম, তখন তার পাশে থাকা উপস্থিত লোকজন যেন সেটিকে দোষ মনে করলো। তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ হে বিলাল! জোরে সালাতের আজান দাও এবং তার ইকামত দাও , যেন আমরা তার মাধ্যমে স্বস্তি লাভ করতে পারি। কারণ, তার ভেতর আল্লাহর সাথে কথোপকথন এবং অন্তর ও রূহের প্রশান্তি রয়েছে।
আবূ হাযিম বিন দীনার হতে বর্ণিত: (একদিন) কিছু লোক সাহল বিন সা’দ সা’ঈদীর নিকট আগমন করে এবং মিম্বরটি কোন্ কাঠের তৈরি ছিল, এ নিয়ে তাদের মধ্যে তর্ক হলো । তারা এ সম্পর্কে তাঁর নিকট জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, আল্লাহর শপথ! আমি সম্যকরূপে অবগত আছি যে, তা কিসের ছিল। প্রথম যেদিন তা স্থাপন করা হয় এবং প্রথম যে দিন এর উপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসেন তা আমি দেখেছি। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনসারদের অমুক মহিলার (বর্ণনাকারী বলেন, সাহল তার নামও উল্লেখ করেছিলেন) নিকট লোক পাঠিয়ে বলেছিলেন, “তোমার কাঠমিস্ত্রি গোলামকে আমার জন্য কিছু কাঠ দিয়ে এমন জিনিস তৈরি করার নির্দেশ দাও, যার উপর বসে আমি লোকদের সাথে কথা বলতে পারি”। অতঃপর সে মহিলা তাকে আদেশ করেন এবং সে (মদিনা হতে নয় মাইল দূরবর্তী) জঙ্গলের এক গাছের কাঠ দ্বারা তা তৈরি করে নিয়ে আসে। মহিলাটি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট তা পাঠিয়েছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর আদেশে এখানেই তা স্থাপন করা হয়। অতঃপর আমি দেখেছি, এর উপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায় করেছেন। এর উপরেই তাকবীর দিয়েছেন এবং এর উপরেই (দাঁড়িয়ে) রুকূ’ করেছেন। অতঃপর পিছন ফিরে তা থেকে নেমে এসে মিম্বারের গোড়ায় সিজদা্ করেছেন এবং পুনরায় ফিরে সলাত শেষ করেছেন, অতঃপর সালাত শেষ করে সমবেত লোকদের দিকে ফিরে বলেছেনঃ “হে লোক সকল! আমি এটা এ জন্য করেছি যে, তোমরা যেন আমার অনুসরণ করতে এবং আমার সালাত শিখে নিতে পার”।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমএকবার কিছু লোক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে মিম্বারটি গ্রহণ করেছিলেন সেটি কীসের তৈরি তা জিজ্ঞেস করার জন্যে একজন সাহাবীর নিকট আসলেন। তারা বিষয়টি নিয়ে তর্কাতর্কি ও বাদানুবাদ করলেন। তিনি (সাহাবী) তাদেরকে বললেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনসারদের একজন মহিলা যার একজন কাঠমিস্ত্রি গোলাম ছিল তাকে ডেকে পাঠালেন। তিনি তাকে বললেন, তোমার কাঠমিস্ত্রি গোলামকে আমার জন্য মিম্বার তৈরি করার নির্দেশ দাও, লোকদের সাথে কথা বলার সময় যার উপর আমি বসবো। মহিলাটি সাড়া দিল এবং তার গোলামকে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্যে এক গাছের কাঠ দ্বারা মিম্বার তৈরি করার নির্দেশ দিলেন। যখন সে তৈরি করল মহিলাটি নবী আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট মিম্বারটি পাঠিয়ে দিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর আদেশে মসজিদে যথাস্থানে তা রাখা হলো। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ওপর সালাত আদায় করলেন, তার ওপর তাকবীর দিলেন ও রুকু করলেন। অতঃপর চেহারা ঘুরানো ছাড়াই পিছনের দিকে নেমে আসেন এবং মিম্বারের গোড়ায় সিজদা্ করেন এবং যথাযথ পুনরায় ফিরে সালাত শেষ করে সমবেত লোকদের দিকে ঘুরে বসে বললেনঃ হে লোক সকল! আমি এটা এ জন্য করেছি যে, তোমরা যেন আমার অনুসরণ করতে এবং আমার সালাত শিখে নিতে পার।
হিত্তান বিন আবদুল্লাহ আর রাকাশী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ মূসা আশ’আরী এর সাথে সালাত আদায় করলাম। তিনি যখন তাশাহ্হুদে বসলেন, জামা’আতের মধ্য হতে এক ব্যক্তি বলে উঠল, সালাত ও যাকাত কে একসাথে সৎআমল হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়েছে। বর্ণনাকারী বলেন, আবূ মূসা সালাত শেষ করে সালাম ফিরানোর পর বললেন, তোমাদের মধ্যে কে এরূপ বলেছে? লোকেরা নীরব থাকল। তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, তোমাদের মধ্যে কে এরূপ এরূপ বলেছে? এবারও লোকেরা নীরব থাকল। অতঃপর তিনি বললেন, হে হিততান সম্ভবত তুমিই এটা বলেছ। তিনি (হিত্তান) বললেন, আমি তা বলিনি। অবশ্য আমার আশঙ্কা হচ্ছিল যে, এ জন্যে আপনি আমাকে শাসাবেন! এমন সময় লোকেদের মধ্যে হতে এক ব্যক্তি বলল, আমি এরূপ বলেছি। আমি এর মাধ্যমে কল্যাণ ছাড়া কিছুই ইচ্ছা করিনি। আবূ মূসা বললেন, তোমরা তোমাদের সালাতে কী বলবে তা কি জান না? (একবার ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে খুতবাহ দিলেন এবং আমাদেরকে আমাদের সুন্নাত ও সালাত শিক্ষা দিলেন। তিনি বললেন, “তোমরা যখন সালাত আদায় করবে, তোমাদের কাতারগুলো ঠিক করে নিবে। অতঃপর তোমাদের কেউ তোমাদের ইমামতি করবে। সে যখন তাকবীর বলবে, তোমরাও তখন তাকবীর বলবে। সে যখন {غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلا الضَّالِّينَ} [الفاتحة: 7] বলবে তোমরা তখন আমীন বলবে। আল্লাহ তোমাদের ডাকে সাড়া দিবেন। যখন সে তাকবীর বলে রুকু’তে যাবে, তোমরাও তাকবীর বলে রুকু’তে যাবে। কেননা, ইমাম তোমাদের আগে রুকু’তে যাবে এবং তোমাদের আগে রুকু থেকে উঠবে”। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ “এটা ওটার বিনিময়ে, (তথা ইমাম যেমন রুকু সাজদায় আগে যাবে, তেমনি আগে উঠবে)। যখন সে سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ বলবে, তখন তোমরা اللَّهُمَّ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ বলবে, আল্লাহ তোমাদের কথা শুনবেন। কেননা আল্লাহ তা’আলা তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ভাষায় বলছেনঃ سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ (আল্লাহ তার প্রশংসাকারীর প্রশংসা শুনেন)। যখন সে তাকবীর বলবে এবং সাজদায় যাবে, তোমরাও তার পরপর তাকবীর বলে সাজদায় যাবে। কেননা, ইমাম তোমাদের আগে সাজদায় যাবে এবং তোমাদের আগে সিজদা থেকে উঠবে”। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “ওটা ওটার পরিবর্তে।যখন বৈঠকের আসনে থাকবে, তখন তোমাদের প্রথম পাঠ হবে, التَّحِيَّاتُ الطَّيِّبَاتُ الصَّلَوَاتُ لِلهِ، السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ، السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللهِ الصَّالِحِينَ، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ অর্থাৎ- সকল প্রকার পবিত্র ও একান্ত মৌখিক, শারীরিক ও আর্থিক ইবাদাতসমূহ আল্লাহরই জন্য। হে নবী! আপনার উপর আল্লাহর পক্ষ হতে শান্তি, রহমত ও বারাকাত নাযিল হোক এবং আমাদের উপর ও আল্লাহর নেককার বান্দাদের উপরও শান্তি বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য মাবূদ নেই এবং আমি এও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল ”।
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেনসাহাবী আবূ মূসা ‘আশআরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু কোনো এক সালাতে তাশাহ্হুদের বৈঠকে ছিলেন। তার পিছনে একজন মুসল্লি বললেন:সালাতকে পুণ্য ও যাকাতের সাথে একসঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে।) আবূ মূসা সালাত থেকে ফারিগ হয়ে মুসল্লিদের দিকে ফিরে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমাদের থেকে কে "কুরআনে সলাত কে নেকীর সাথে মিলান হয়েছে"বাক্যটি বলেছে? উপস্থিত সবাই চুপ থাকলেন, কেউ কোনো কথা বললেন না। দ্বিতীয়বার তিনি একই প্রশ্ন করলেন, কিন্তু কেউ তার উত্তর দিল না। তখন আবূ মূসা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বললেন, হে হিত্তান, সম্ভবত তুমি বলেছো! সে সাহসী ছিল এবং তাঁর কাছের লোক ও আত্মীয় ছিল, ফলে তাকে দোষারোপ করলে সে কষ্ট পাবে না (জানতেন) এবং (তাকে তিরস্কার করা) যেন সত্যিকার কথককে স্বীকার করতে উদ্বুদ্ধ করে। হিত্তান তা অস্বীকার করলেন এবং বললেন, আমি আশঙ্কা করেছি, আমার প্রতি আপনার ধারনা আমিই তা বলেছি আপনি আমাকে শাসাবেন। তখন কওমের এক ব্যক্তি বললেন: আমি তা বলেছি, এ দ্বারা আমি ভালো ছাড়া কিছু উদ্দেশ্য করেনি! আবূ মূসা তাকে শিক্ষা দিয়ে বললেন, তোমরা সালাতে কিভাবে বলবে তা কি শিখনি?! এটি তার অপছন্দের বহিঃপ্রকাশ। অতঃপর আবূ মূসা সংবাদ দিলেন, একবার নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুতবা দিলেন, অতঃপর তাদেরকে শরীয়ত বর্ণনা ও সালাত শিক্ষা দিলেন। তিনি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তোমরা যখন সালাত আদায় করো, তখন তোমাদের কাতারগুলো বরাবর করো এবং তাতে সোজা হয়ে দাঁড়াও। অতঃপর তাদের কেউ মানুষদের ইমামতি করবে। যখন ইমাম তাকবীরে তাহরীমা বলবে, তোমরাও তার মত তাকবীর বলবে। যখন সে সূরা ফাতিহা পড়বে ও {غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلا الضَّالِّينَ} [الفاتحة: 7] পর্যন্ত পৌঁছবে, তখন তোমরা আমীন বলবে। যখন তোমরা এরূপ করবে আল্লাহ তোমাদের ডাকে সাড়া দিবেন। যখন তাকবীর বলে রুকু’তে যাবে, তোমরাও তাকবীর বলে রুকু’তে যাবে। কেননা, ইমাম তোমাদের আগে রুকু’তে যাবে এবং তোমাদের আগে রুকু থেকে উঠবে। কাজেই তোমরা তার আগে যাবে না। কারণ, ইমাম যে সময়টুকু তোমাদের আগে রুকুতে গিয়ে থাকবেন, তার ওঠে যাওয়ার পর তোমাদের কিছু সময় রুকুতে থাকা তার প্রতিবিধান করবে। এই সময়টুকু ঐ সময়ের বিনিময়ে হবে। ফলে তোমাদের রুকু তার রুকুর সমান হবে। আর ইমাম যখন سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ বলবে, তোমরা তখন اللَّهُمَّ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ বলবে, মুসল্লিরা যখন একথা বলবেন, আল্লাহ তাদের দোয়া ও কথা শুনবেন। কেননা আল্লাহ তা’আলা তার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ভাষায় বলছেনঃ سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ (আল্লাহ তার প্রশংসাকারীর প্রশংসা শুনেন)। তারপর ইমাম যখন তাকবীর বলবে ও সাজদায় যাবে, মুসল্লিরাও তাকবীর বলবে ও সাজদায় যাবে। কেননা, ইমাম তাদের আগে সাজদায় যাবে ও তাদের আগে সাজদা থেকে উঠবে। এই সময়টি ঐ সময়ের প্রতিবিধান করবে। ফলে ইমাম ও মুক্তাদির সাজদার পরিমাণ সমান হয়ে যাবে। যখন তাশাহহুদের জন্যে বসবে তখন মুসল্লির প্রথম কথা হবে: التَّحِيَّاتُ الطَّيِّبَاتُ الصَّلَوَاتُ لِلهِ অতএব রাজত্ব, স্থায়ীত্ব ও বড়ত্ব সবই মহান আল্লাহর জন্যে খাস। অনুরূপভাবে পাঁচ ওয়াক্ত সালাতও তাঁর জন্যে খাস। "السلام عليك أيها النبي ورحمة الله وبركاته، السلام علينا وعلى عباد الله الصالحين" অতএব আল্লাহর কাছে প্রত্যেক দোষ, ত্রুটি, অসম্পূর্ণতা ও উচ্ছন্নতা থেকে নিরাপত্তা প্রার্থনা করো। বিশেষভাবে আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সালাম দ্বারা খাস করবো। তারপর আমরা আমাদের ওপর সালাম প্রেরণ করবো। তারপর আল্লাহর যেসব নেককার বান্দা তাদের ওপর থাকা আল্লাহর হকসমূহ ও আল্লাহর বান্দার হকসমূহ যথাযথভাবে আদায় করেন তাদের ওপর সালাম প্রেরণ করবো। তারপর সাক্ষ্য দিব যে, আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো মাবূদ নেই এবং আরো সাক্ষ্য দিবো যে, মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল।
আবূ হুরাইরাহ্ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি রমযান ও রমযান ছাড়া ফরজ হোক বা অন্য কোন সালাত হোক, দাঁড়িয়ে শুরু করার সময় "আল্লাহু আকবার" বলতেন, আবার রুকূ‘তে যাওয়ার সময় "আল্লাহু আকবার" বলতেন। অতঃপর (রুকূ‘ হতে উঠার সময়) سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ বলতেন, সিজদা্য় যাওয়ার পূর্বে رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ বলতেন। অতঃপর সিজদার জন্য অবনত হবার সময় আল্লাহু আকবার বলতেন। আবার সিজদা্ হতে মাথা উঠানোর সময় "আল্লাহু আকবার " বলতেন। অতঃপর (দ্বিতীয়) সিজদায় যাওয়ার সময় তাকবীর বলতেন এবং সিজদা্ হতে মাথা উঠানোর সময় তাকবীর বলতেন। দু’ রাক‘আত আদায় করে দাঁড়ানোর সময় আবার তাকবীর বলতেন। সালাত শেষ করা পর্যন্ত প্রতি রাক‘আতে এরূপ করতেন। সালাত শেষে তিনি বলতেন, যে সত্তার হাতে আমার প্রাণ তাঁর শপথ! তোমাদের মধ্য হতে আমার সালাত আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সালাতের সাথে অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ। দুনিয়া হতে বিদায় নেয়ার পূর্ব পর্যন্ত এই সালাতই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সালাত ছিল।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমআবূ হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সালাতের পদ্ধতিসমূহের একটি অংশ বর্ণনা করছেন এবং তিনি সংবাদ দিচ্ছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাতের ইচ্ছা করে দাঁড়াতেন তখন ইহরামের তাকবীর বলতেন, অতঃপর যখন রুকুতে যেতেন তখন তাকবীর বলতেন এবং সাজদার সময় ও যখন সাজদা থেকে মাথা উঠাতেন তখন এবং যখন দ্বিতীয় সাজদা করতেন এবং যখন তার থেকে মাথা উঠাতেন এবং যখন তিন অথবা চার রাকাত বিশিষ্ট সালাতে প্রথম দুই রাকাতের প্রথম তাশাহহুদের বৈঠকের পর উঠতেন তখন তাকবীর বলতেন। অতঃপর সালাত শেষ না করা পর্যন্ত পুরো সালাতে এরূপ করতেন। তবে রুকু থেকে পিঠ সোজা করার সময় বলতেন: سمع الله لمن حمده অতঃপর দাঁড়িয়ে বলতেন:ربنا لك الحمد অতঃপর আবূ হুরাইরাহ সালাত শেষে বলতেন, যে সত্তার হাতে আমার প্রাণ তাঁর শপথ! তোমাদের মধ্য হতে আমার সালাত আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সালাতের সাথে অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ। দুনিয়া হতে বিদায় নেয়ার পূর্ব পর্যন্ত এটিই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সালাতের বিবরণ ছিল।
আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “মানুষের মাঝে সবচেয়ে খারাপ চোর হলো যে তার সালাতে চুরি করে”। তিনি বলেন, সালাতে কিভাবে চুরি করে? তিনি বললেন, “সে তার রুকু ও সাজদাহ পূর্ণ করে না”।
ইবনু হিব্বান এটি বর্ণনা করেছেননবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেছেন, চোরের মাঝে সবচেয়ে খারাপ চোর যে তার সালাতে চুরি করে। কারণ, চোর অপরের সম্পদ চুরি করে দুনিয়াতে কখনো উপকৃত হয়। এই চোর তার বিপরীত, কারণ সে নিজের হক সাওয়াব ও বিনিময়কে চুরি করেছে। তারা বলল, হে আল্লাহর রাসূল, কিভাবে সালাতে চুরি করে? বললেন, সে রুকু ও সাজদাহ পূর্ণ করে না। যেমন রুকু ও সাজদা দ্রুত করে তা পূর্ণভাবে আদায় করে না।