Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way






























Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাফিরদের সাথে জিহাদ করা এবং সাধ্য মোতাবেক সব উপায়-উপকরণ দিয়ে তাদের মোকাবিলা করার নির্দেশ দিয়েছেন, যেন আল্লাহর কালিমা বুলন্দ হয়, তন্মধ্যে হল: প্রথমত: তাদের সাথে জিহাদে অর্থ ব্যয় করা, যেমন অস্ত্র খরিদ করা ও মুজাহিদদের উপর ব্যয় করা প্রভৃতি। দ্বিতীয়ত: কাফিরদের সাথে সাক্ষাত ও তাদের প্রতিহত করার জন্য শরীর ও নফস নিয়ে বের হওয়া। তৃতীয়ত: এই দীনের প্রতি মুখে তাদেরকে দাওয়াত দেওয়া, তাদের উপর দলিল সাব্যস্ত করা, তাদের শাসানো এবং তাদের প্রতিহত করা।
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম সংবাদ দিয়েছেন যে, ‘আমল হচ্ছে মোট ছয় ধরণের আর মানুষ হচ্ছে চার শ্রেণির। ছয় ধরণের আমল হচ্ছে: প্রথমত: যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোন কিছু শিরক না করে মারা যাবে, তার জন্য জান্নাত আবশ্যক হয়ে যাবে। দ্বিতীয়ত: যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে শিরক করে মারা যাবে, তার জন্য চিরস্থায়ীভাবে জাহান্নামের আগুন আবশ্যক হয়ে যাবে। আর এ দুটি হলো আবশ্যককারী। তৃতীয়ত: নিয়ত সংক্রান্ত ভালোকাজ, যে ব্যক্তি কোন ভালোকাজের নিয়ত করে, আর সে তার নিয়তের ক্ষেত্রে সত্যবাদীও হয়, এমনকি তার অন্তরও এটি অনুভব করে এবং আল্লাহ তা‘আলাও তার এ নিয়ত সম্পর্কে জানেন। কিন্ত তারপরে তার সামনে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় যে, সে আর উক্ত কাজটি সম্পাদন করতে পারে না, তাহলে এমতাবস্থায় তার জন্য পূর্ণ একটি ভালোকাজ লিখে দেয়া হয়। চতুর্থত: কৃত মন্দকাজ, যে ব্যক্তি কোন একটি মন্দকাজ করে, তার জন্য একটি মন্দকাজই লেখা হয়। আর এরা হচ্ছে: সমান, সমান কোন প্রকার বৃদ্ধি করা ছাড়া। পঞ্চমত: একটি ভালোকাজ, যা তার দশগুণ হয়ে থাকে। এটি হচ্ছে যে ব্যক্তি নিয়ত করে এবং সে অনুযায়ী আমলটি সম্পাদন করে; এতে তার দশটি ভালোকাজ লিখে দেয়া হয়। ষষ্ঠত: সাতশত গুণ বর্ধিত ভালোকাজ। এটি হচ্ছে: যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় কোন কিছু দান করে, তার জন্য এ ভালোকাজটি সাতশত গুণ বৃদ্ধি করে লেখা হয়। এটি নিঃসন্দেহে আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা‘আলার বান্দার উপরে তাঁর অনুগ্রহ ও করুণা। আর চার শ্রেণির মানুষ হচ্ছে: প্রথম: যাকে দুনিয়াতে রিযিকের প্রাচুর্যতা ও নি‘আমাত দান করা হয়েছে, সে এখানে যা চায় সব কিছুই পায়, তবে আখিরাতে সে সংকটে পতিত হবে। আর তার অবস্থান হবে জাহান্নামে, সে হচ্ছে মূলত: ধনী কাফির। দ্বিতীয়: যার উপরে দুনিয়ার রিযিকের সংকীর্ণতা রয়েছে, কিন্তু আখিরাতে সে প্রাচুর্যতা পাবে আর তার আবাস হবে জান্নাত, সে হচ্ছে: দরিদ্র মুমিন। তৃতীয়: যার উপরে দুনিয়া ও আখিরাত উভয়টিই সংকীর্ণ, সে হচ্ছে: দরিদ্র কাফির। চতুর্থ: যে দুনিয়া ও আখিরাত উভয় স্থানেই প্রাচুর্যতা পাবে, সে হচ্ছে: ধনী মুমিন।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দিচ্ছেন যে, আল্লাহ তা‘আলা যেসব বিষয়ে তাঁর শরী‘আতের মধ্যে বিধানগত ছাড় প্রদান করেছেন, সেগুলো গ্রহণ করাকে তিনি পছন্দ করেন। যেমন ইবাদাত ও আহকামের মধ্যে যেগুলিকে তিনি হালকা করে দিয়েছেন এবং কোন ওযরের কারণে বান্দার উপরে সহজ করেছেন, যেমন: সফরের অবস্থায় সালাতকে কসর বা সংক্ষিপ্ত করা এবং একসাথে পড়ার বিধান ইত্যাদি। ঠিক যেভাবে তাঁর ‘আযীমাত বা আবশ্যকীয় আদেশগুলো পালন করাকে তিনি পছন্দ করেন; কেননা রুখসত ও ‘আযীমতের বিধান দেওয়ার ক্ষেত্রে আল্লাহর আদেশ একই পর্যায়ের।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাওয়াব ও ফজিলত লাভ করার উদ্দেশ্যে প্রত্যেক সালাতের জন্যে উযূ করতেন, যদিও তার উযূ ভঙ্গ না হত। যতক্ষণ উযূ অবস্থায় থাকবে এক উযূ দ্বারা একাধিক ফরয সালাত আদায় করা বৈধ রয়েছে।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো কখনো যখন উযূ করতেন তখন উযূর অঙ্গসমূহের প্রত্যেকটি অঙ্গ একবার করে ধৌত করতেন। যেমন তিনি একবার চেহারা ধৌত করতেন—কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়া চেহারারই অন্তর্ভুক্ত—, এবং দুই হাত ও দুই পা একবার করে ধৌত করতেন। এটা হলো ওয়াজিব পরিমাণ।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন কোন সময় যখন উযূ করতেন, উযূর অঙ্গসমূহ হতে প্রত্যেক অঙ্গকে দু’বার করে ধুতেন—কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়া চেহারার অন্তর্ভুক্ত—, এবং দুই হাত ও দুই পা দুইবার (ধুতেন)।
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেছেন, যখন মুসল্লির পেটে কোনো জিনিস দ্বিধাগ্রস্ত হয় এবং সেখান থেকে কোনো জিনিস বের হলো কি হলো না সন্দেহ হয়, তখন যতক্ষণ না বাতাসের আওয়াজ শোনে অথবা গন্ধ শোকে সালাত ভঙ্গকারী হাদাস (নাপাক) সম্পর্কে নিশ্চিত না হবে, সালাত থেকে বের হবে না এবং পুনরায় উযূ করার জন্যে সালাত ভঙ্গ করবে না, কেননা সন্দেহ নিশ্চিত বস্তুকে বাতিল করতে পারে না, ইতোপূর্বে সে পবিত্রতার ব্যাপারে নিশ্চিত ছিল, এখানেে উযুভঙ্গ হলো সন্দেহযুক্ত।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দিয়েছেন যে, প্রত্যেক সাবালক মুসলিমের উপর হক হলো, সপ্তাহের সাত দিনের এক দিনে গোসল করা। এই দিন পবিত্রতা ও পরিচ্ছনতার জন্যে সে তার মাথা ও শরীর ধৌত করবে। সাত দিনের ভেতর উত্তম হলো জুমার দিন। যেমন কতক বর্ণনা থেকে প্রতিয়মান হয়। বস্তুত জুমার দিন সালাতের পূর্বে গোসল করা গুরুত্বপূর্ণ মুস্তাহাব, যদিও সে বৃহস্পতিবার গোসল করে থাকেন। ওয়াজিব না হওয়ার কারণ হলো, আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহার বাণী: “মানুষেরা নিজ নিজ পেশা নিয়ে ব্যস্ত ছিলো, যখন তারা জুমায় যেত তাদের সে অবস্থাতেই চলে যেত। তাদেরকে বলা হলো, “যদি তোমরা গোসল করে নিতে”। বুখারী। তার অপর বর্ণনায় রয়েছে: “তাদের গন্ধ ছিল”। অর্থাৎ ঘাম ইত্যাদির গন্ধ ছিল। তবু তাদেরকে বলা হলো, “যদি তোমরা গোসল করে নিতে”। অতএব অন্যদের ওপর ওয়াজিব না হওয়া বেশী শ্রেয়।
কাইস বিন ’আসিম ইসলাম গ্রহণ করার ইচ্ছে নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বরই পাতা মিশ্রিত পানি দ্বারা গোসল করার নির্দেশ দান করেন। কারণ, বরই পাতা পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতায় ব্যবহার করা হয়, অধিকন্তু তার রয়েছে সুবাস ও সুগন্ধি।