





























Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
All
আব্দুল্লাহ ইবন মাস‘ঊদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “কোন ব্যক্তি যদি কোন মুসলিমের অর্থ সম্পদ আত্মসাৎ করার উদ্দেশে মিথ্যা শপথ করে, তা হলে সে আল্লাহর সমীপে এমন অবস্থায় হাযির হবে যে, আল্লাহ তার উপর রাগান্বিত থাকবেন”। তিনি বলেন, আশ‘আস বললেন, আল্লাহর কসম! এটা আমার সম্পর্কেই ছিল, আমার ও এক ইয়াহূদী ব্যক্তির সাথে যৌথ মালিকানায় এক খন্ড জমি ছিল। সে আমার মালিকানার অংশ অস্বীকার করে বসল। আমি তাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে নিয়ে গেলাম। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, “তোমার কোন সাক্ষী আছে কি?” আমি বললাম, না। তিনি বলেন, তখন তিনি ইয়াহূদীকে বললেন, “তুমি কসম কর”। তিনি বলেন, আমি তখন বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! সে তো কসম করবে এবং আমার সম্পত্তি নিয়ে নেবে। তখন আল্লাহ তা‘আলা (এ আয়াত) নাযিল করেনঃ {إِنَّ الَّذِينَ يَشْتَرُونَ بِعَهْدِ اللَّهِ وَأَيْمَانِهِمْ ثَمَنًا قَلِيلًا}. إِلَى آخِرِ الْآيَةِ. ‘‘যারা আল্লাহর সঙ্গে কৃত প্রতিশ্রুতি এবং নিজেদের শপথকে স্বল্পমূল্যে বিক্রি করে ....... আয়াতের শেষ পর্যন্ত’’- (আলে ইমরান ৭৭)।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্য কারো অর্থ আত্মসাতের জন্য শপথকারী নিজে মিথ্যা বলছেন জেনেও আল্লাহর নামে শপথ না করার ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়েছেন। সে আল্লাহর সাথে এমন অবস্থায় দেখা করবে যখন তিনি তার উপর রাগান্বিত থাকবেন। আশ'আশ ইবনু কায়স রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই কথা এক ইহুদি ব্যক্তির সাথে তার জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের সময় বলেছেন। তারা তাদের মামলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে নিয়ে যান। তখন তিনি আশ'আশকে বলেন: আপনার দাবির প্রমাণ হিসেবে আপনাকে অবশ্যই সাক্ষী উপস্থাপন করতে হবে। যদি আপনি তা প্রদান করতে অক্ষম হন, তাহলে আপনার জন্য আপনার বিবাদীর শপথ ছাড়া আর কিছুই নেই। আশ’আশ বলেন: হে আল্লাহর রাসূল, তাহলে তো ইহুদি লোকটি শপথ করবে এবং দ্বিধা না করে আমার সম্পদ নিয়ে নিবে, তাই আল্লাহ তাআলা কুরআনে এর সত্যতা প্রকাশ করলেন তাঁর বাণীতে: {নিশ্চয় যারা আল্লাহ্র সাথে করা প্রতিশ্রুতি} এবং মুমিনদের জন্য আমানত ফিরিয়ে দেওয়ার তার অসিয়ত পরিবর্তন করে {এবং নিজেদের শপথের বিনিময়ে} অর্থাৎ আল্লাহর নামে মিথ্যা শপথের বিনিময়ে পৃথিবীর ধ্বংসাবশেষ {তুচ্ছ মূল্য খরিদ করে, আখেরাতে তাদের কোনো অংশ নেই। আর আল্লাহ্ তাদের সাথে কথা বলবেন না} এমন কথা যা তাদের খুশি করবে এবং তাদের উপকার করবে, বরং তাদের উপর গোস্বা করবেন। {এবং তাদের দিকে তাকাবেন না কেয়ামতের দিন।} রহমত ও অনুগ্রহের দৃষ্টি দিবেন না। {আর তাদেরকে পরিশুদ্ধও করবেন না}; ভালো প্রশংসার মাধ্যমে এবং মাখফিরাত করে তাদের পাপ ও নাপাকি থেকে পবিত্র করবেন না। {এবং তাদের জন্য রয়েছে মর্মন্তুদ শাস্তি} তাদের কর্মের ফল স্বরূপ কষ্টদায়ক শাস্তি।
রাফি‘ ইবনু খাদীজ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে যুল-হুলায়ফাতে ছিলাম। সাহাবীগণ ক্ষুধার্ত হয়ে পড়েন, তারা কিছু উট ও বকরী পেলেন। রাফি‘ বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দলের পিছনে ছিলেন। তারা তাড়াহুড়া করে গনীমতের মাল বণ্টনের পূর্বে সেগুলোকে যবেহ করে পাত্রে চড়িয়ে দিলেন। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নির্দেশে পাত্র উলটিয়ে ফেলা হল। তারপর তিনি (গনীমতের মাল) বণ্টন শুরু করলেন। তিনি একটি উটের সমান দশটি বকরী নির্ধারণ করেন। হঠাৎ একটি উট পালিয়ে গেল। সাহাবীগণ উটকে ধরার জন্য ছুটলেন, কিন্তু উটটি তাঁদেরকে ক্লান্ত করে ছাড়ল। সে সময় তাঁদের নিকট অল্প সংখ্যক ঘোড়া ছিল। অবশেষে তাঁদের মধ্যে একজন সেটির প্রতি তীর ছুড়লেন। তখন আল্লাহ উটকে থামিয়ে দিলেন। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: ”নিশ্চয়ই পলায়নপর বন্য জন্তুদের মতো এ সকল চতুষ্পদ জন্তুর মধ্যে কতক পলায়নপর হয়ে থাকে। কাজেই যদি এসব জন্তুর কোনটা তোমাদের উপর প্রবল হয়ে উঠে তবে তার সাথে এরূপ করবে”। তখন রাফি‘ বললেন, আমরা আশঙ্কা করছি যে, কাল শত্রুর সাথে মুকাবিলা হবে। আর আমাদের নিকট কোন ছুরি নেই। তাই আমরা ধারালো বাঁশ দিয়ে যবেহ করতে পারব কি? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “যে বস্তু রক্ত প্রবাহিত করে এবং যার উপর আল্লাহর নাম নেয়া হয়, সেটা তোমরা আহার করতে পার। কিন্তু দাঁত বা নখ দিয়ে যেন যবেহ না করা হয়। আমি তোমাদেরকে এর কারণ বলে দিচ্ছি। দাঁত তো হাড় আর নখ হলো হাবশীদের ছুরি”।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমরাফি’ ইবনু খাদিজ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন যে, তারা যুল-হুলাইফায় নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ছিলেন। লোকেরা ক্ষুধার্ত ছিল। তারা মুশরিকদের কাছ থেকে উট এবং ভেড়া গনিমত হিসাবে লাভ করেছিল, তাই তারা গনীমতের মাল বণ্টনের আগে তাড়াহুড়ো করে ফেলেছিল। তাই তারা রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর অনুমতি না নিয়েই কিছু জবাই করে পাত্রে বসিয়ে দিয়েছিলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের পিছনে চলতেছিলেন, যখন তিনি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানলেন, তখন তিনি পাত্রগুলো ঝোলসহ উল্টে দিতে নির্দেশ দিলেন। তারপর তিনি তাদের মধ্যে গনীমতের মাল ভাগ করে দিলেন, এক উটের মোকাবেলায় দশটি ভেড়া নির্ধারণ করতেন। ইত্যবসরে একটি উট পালিয়ে গেল, কিন্তু তারা তা ধরতে ও আয়ত্তে আনতে পারেনি। তখন ঘোড়ার সংখ্যা কম ছিল। তাদের মধ্যে একজন একটি তীর তাকে ছুঁড়ে মারে এবং আল্লাহ তা তাদের জন্য আটকে রাখেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: এই গৃহপালিত প্রাণীদের প্রকৃতি বন্য প্রাণীর মতোই, তাই যদি তাদের কেউ তোমার উপর আধিপত্য বিস্তার করে এবং তোমরা তাকে ধরতে না পারো, তাহলে তার সাথেও একই আচরণ করো। রাফি বললেন: আমরা আশা করি আগামীকাল শত্রুর মুখোমুখি হব, কিন্তু আমরা আশঙ্কা করছি যে আমাদের অস্ত্রের ধার ক্ষতিগ্রস্ত হবে যদি তা দিয়ে জবাই করি, অথচ আমাদের জবাই করা খুব প্রয়োজন এবং আমাদের কাছে এর জন্য ছুরি নেই, তাহলে কি আমরা ফাঁপা নল দিয়ে জবাই করব? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যার ফলে রক্ত প্রবাহিত হয় এবং প্রচুর রক্তপাত হয় এবং যার উপর আল্লাহর নাম উচ্চারিত হয়, তা খাও, দাঁত এবং নখ ছাড়া। আমি তোমাদের সে সম্পর্কে বলব: দাঁতের কথা বলতে গেলে, এটি একটি হাড় এবং নখের কথা বলতে গেলে, কাফের হাবশীরা এটি ব্যবহার করে।"
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফু‘ হিসেবে বর্ণিত, “যদি কোনো পুরুষ অথবা বলেছেন কোনো ব্যক্তি তোমার অনুমতি ব্যতীরেকে তোমার দিকে উঁকি মারে আর তুমি তার প্রতি কঙ্কর নিক্ষেপ করে তার চক্ষু উপড়ে ফেলো, এতে তোমার কোন অপরাধ হবে না।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দিয়েছন যে, যখন কোনো ব্যক্তি অনুমতি ব্যতীরেকে কারো দরজা বা দেয়ালের উপর থেকে বা অন্য কোনভাবে উঁকি মারে তাহলে তাকে কঙ্কর নিক্ষেপ করে তার চক্ষু উপড়ে ফেললে বা তার চোখে লোহা বা অন্য কিছু দিয়ে আঘাত করলে এতে আঘাতকারী ব্যক্তি অন্যের অঙ্গ ধ্বংস করার অপরাধে অপরাধী হবে না এবং তার কোন কিসাসও হবে না। কেননা দৃষ্টিপাতকারী ব্যক্তিই সীমালঙ্ঘনকারী ও এ ধরণের কাজ করায় অপরাধী।
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফু‘ হিসেবে বর্ণিত, “আল্লাহর পথে কেউ আঘাত প্রাপ্ত হলে কিয়ামতের দিন এমতাবস্থায় আসবে যে, তার ক্ষতস্থান থেকে টকটকে লাল রক্ত ঝরছে: রঙ হবে রক্তের রঙ আর সুগন্ধি হবে কস্তুরীর সুগন্ধি।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের ফযীলত ও মুজাহিদের উত্তম পাওনা সম্পর্কে বর্ণনা করেন। তা হলো, যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে জখম হয়ে শহীদ হয় বা আরোগ্য লাভ করে কিয়ামতের দিন সে সমস্ত সৃষ্টির মধ্যে জিহাদের ঝাণ্ডা ও জিহাদ করতে যে বালামুসিবাতের সম্মুখীন হয়েছিলেন তা নিয়ে ঘাড় উঁচু করে উপস্থিত হবে। সে তার তাজা জখম নিয়ে উপস্থিত হবে, তাতে রক্তের রঙ থাকবে আর তার থেকে কস্তুরির ঘ্রান বের হবে।
আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু থেকে মারফূ‘ হিসেবে বর্ণিত: “যে ব্যক্তি কোন মুসলমান ব্যক্তির মাল নাহক আত্মসাৎ করার জন্য মিথ্যা কসম খাবে, সে আল্লাহর সাথে এমন অবস্থায় সাক্ষাৎ করবে, যখন তিনি তার উপর ক্রোধান্বিত থাকবেন। অতঃপর নাযিল হল: যার অর্থ, ‘যারা আল্লাহর প্রতিশ্রুতি ও নিজেদের শপথ স্বল্প মূল্যে বিক্রয় করে, পরকালে তাদের কোন অংশ নেই”। আয়াতের শেষ পর্যন্ত।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে অপরের সম্পদকে হনন করে তার জন্য হাদীসটিতে রয়েছে কঠিন হুমকি ও শাস্তি। সে অবশ্যই মিথ্যা ও অসৎ শপথ এবং অন্যায় যুক্তি দিয়ে অপরের সম্পদ ছিনিয়ে নিয়েছে। কিয়ামতের দিন এ লোক আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবে যে অবস্থায় আল্লাহ তার ওপর ক্ষুব্ধ। আর যার ওপর আল্লাহ ক্ষুব্ধ হবেন সে অবশ্যই ধ্বংস হবে। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কঠিন হুমকির প্রমাণ স্বরূপ কুরআনের এ আয়াতটি তিলাওয়াত করেন।
আবূ কাতাদা আল-আনসারী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে হুনাইনে বের হলাম। —এবং তিনি ঘটনাটি উল্লেখ করলেন— তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যে ব্যক্তি কাউকে হত্যা করবে আর তার জন্য রয়েছে তার ওপর প্রমাণ, তাহলে তার মাল-সামানাহ তার”। এটি তিনি তিনবার বলেছেন।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুনাইনের দিন বলেছেন, যে ব্যক্তি কাউকে হত্যা করে এর ওপর তার জন্য রয়েছে সাক্ষী বা প্রমাণ, তাহলে তার মাল-সামানাহ তার। অর্থাৎ তার জন্যে রয়েছে নিহত ব্যক্তির মাল-সামানাহ, কাপড়, অস্ত্র এবং যে বাহনের ওপর আরোহণ করে যুদ্ধ করেছে। আর আবু কাতাদাহ এক লোককে হত্যা করল এবং তার আশপাশের লোকদের বলল, আমি এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছি। যে ব্যক্তি বিষয়টি জানতে পারলো তাকে আমি সপথ করাবো যে, সে যেন আমার পক্ষে সাক্ষ্য দেয়। এটি তিনি তিনবার বলেছেন।
আসমা বিনত আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাললাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে একটি ঘোড়া নহর করলাম এবং সেটি খেলাম।” অন্য বর্ণনায় রয়েছে, “তখন আমরা মদীনায় ছিলাম।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।আসমা বিনত আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা সংবাদ দিয়েছেন যে, তারা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাললাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে একটি ঘোড়া নহর করেছিলেন এবং সেটি ভক্ষণ করেছেন। এ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত যে, ঘোড়ার গোস্ত খাওয়া জায়েয। সুতরাং আল-কুরআনে গাধা ও খচ্চরের সাথে ঘোড়ার কথা উল্লেখ করায় এটি খাওয়া নিষিদ্ধ হওয়ার সন্দেহ করা যাবে না। আল্লাহ বলেছেন, “আর (তিনি সৃষ্টি করেছেন) ঘোড়া, খচ্চর ও গাধা, তোমাদের আরোহণ ও শোভার জন্য এবং তিনি সৃষ্টি করেন এমন কিছু, যা তোমরা জান না।” [সূরা আন-নাহাল, আয়াত: ৮]
‘উকবাহ ইব্নু ‘আমির রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, “আমার বোন পায়ে হেঁটে হাজ্জ করার মানত করেছিল। আমাকে এ বিষয়ে নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে ফাতাওয়া আনার নির্দেশ করলে আমি নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বিষয়টি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, পায়ে হেঁটেও চলুক, সাওয়ারও হোক”।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানুষের স্বভাব হলো কখনো কখনো সে আবেগ প্রবণ হয়ে তার নিজের ওপর এমন কিছু ওয়াজিব করে যা তার ওপর কষ্টকর হয়, অথচ আমাদের শরী‘আত এসেছে মধ্যমপন্থা ও ইবাদত করতে গিয়ে আত্মাকে কষ্ট না দেওয়ার নীতি নিয়ে যেন তা (কিয়ামত পর্যন্ত) অব্যাহত থাকে। এ হাদীসটিতে উকবা ইবন আমেরের বোন তার কাছে চাইল, সে যেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করে যে, তিনি বাইতুল্লায় খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার মান্নত করেছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দেখলেন এ মহিলা কিছু পথ হাঁটতে পারবে। তাই তিনি তাকে যতক্ষণ হাঁটতে সক্ষম ততক্ষণ হাঁটা এবং যখন অক্ষম হবে তখন সাওয়ার হওয়ার নির্দেশ দিলেন।
জাবের ইবন আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গৃহপালিত গাধার গোস্ত খেতে নিষেধ করেছেন এবং ঘোড়ার গোস্ত খাওয়ার অনুমতি প্রদান করেছেন। সহীহ মুসলিমের একক বর্ণনায় বর্ণিত: আমরা খাইবারের বছর জঙ্গলি গাধা ও ঘোড়ার গোস্ত খেয়েছি। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের গৃহ পালিত গাধার গোস্ত খাওয়া থেকে নিষেধ করেছেন। আব্দুল্লাহ ইবন আবূ আওফা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: খাইবারের রাতে আমাদের ক্ষুধা পেল। যখন দিন হলো আমরা গৃহ পালিত গাধার ওপর লুটে পড়লাম। যখন পাতিলসমূহ উতরানো আরম্ভ করল তখন রাসূলের আহ্বানকারী বলল, তোমরা পাতিলসমূহ উল্টে ফেল। হয়তো বা বলল, তোমরা গাধার গোস্ত থেকে কিছুই ভক্ষণ করো না। সা‘লাবা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গৃহপালিত গাধার গোস্ত নিষিদ্ধ করেন।
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন। - মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।জাবের ইবন আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা সংবাদ দেন যে, গৃহপালিত গাধার গোস্ত খেতে নিষেধ করেছেন এবং তিনি ঘোড়া ও গাধার গোস্ত খাওয়ার অনুমতি প্রদান করেছেন। আর আব্দুল্লাহ ইবন আবূ আওফা রাদিয়াল্লাহু আনহুমা সংবাদ দেন যে, খাইবারে ঘটনার রাতে তাদের ক্ষুধা পেয়েছিল। যখন খাইবার জয় হলো, তারা তার গাধা যবেহ করলেন এবং তার গোস্ত নিলেন এবং রান্না করা আরম্ভ করলেন। তারপর যখন তারা তা রান্না করা শেষ করলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের পাতিলসমূহ উল্টে ফেলা এবং এ গোস্ত থেকে কোন কিছু না খাওয়ার নির্দেশ দিলেন।