





























Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
All
আনাস ইব্নু সীরীন (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আনাস ইব্নু মালিক যখন সিরিয়া হতে ফিরে আসছিলেন, তখন আমরা তাঁকে সংবর্ধনা দেয়ার জন্য এগিয়ে এসেছিলাম। আইনুত্ তামর (নামক) স্থানে আমরা তাঁর সাক্ষাৎ পেলাম। তখন আমি তাঁকে দেখলাম গাধার পিঠে (আরোহী অবস্থায়) পার্শ্ব ফিরে সালাত আদায় করছেন। অর্থাৎ ক্বিবলাহর বা দিকে। তখন তাঁকে আমি প্রশ্ন করলাম, “আমি তো আপনাকে দেখলাম কিবলাহ বিহীন দিকে সালাত আদায় করছেন? তিনি বললেন, যদি আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এমন করতে না দেখতাম, তবে আমিও তা করতাম না”।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।আনাস ইবন মালেক সিরিয়ায় আগমন করলে তার মর্যাদার মহত্ত্ব ও ইলমের গভীরতার কারণে সিরিয়াবাসী তাকে সংবর্ধনা দিলেন। বর্ণনাকারী যিনি একজন সংবর্ধনাকারীও উল্লেখ করছেন যে, তিনি দেখলেন যে সে কিবলাকে বামে রেখে একটি গাধার উপর সালাত আদায় করছেন। তারপর সে তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি তাকে সংবাদ দেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এমন করতে দেখেছেন। আর যদি তিনি তাকে এমন করতে না দেখতেন তাহলে সে নিজে এ কাজ করতেন না।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের-এর স্ত্রী ‘আয়িশাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে মারফু হিসেবে বর্ণিত। তিনি বলেন, উম্মু হাবীবাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা সাত বছর পর্যন্ত ইস্তিহাযাহায় আক্রান্ত ছিলেন। তিনি এ ব্যাপারে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করলেন। তিনি তাঁকে গোসলের নির্দেশ দিলেন। আয়েশা বলেন, অতঃপর তিনি প্রতি সলাতের জন্য গোসল করতেন।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।উম্মে হাবীবাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা যখন রাসূলুল্লাহু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তার ইস্তেহাযাতে করনীয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন তখন তিনি তাকে গোসল করার নির্দেশ দেন। তখন সে প্রতি ওয়াক্ত সালাতের জন্য গোসল করতেন। আর সাত বছর ধরে সে ইস্তেহাযায় আক্রান্ত ছিলেন।
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফূ‘ হিসেবে বর্ণিত: “তোমাদের কেউ যেন স্থির- যা প্রবাহিত নয় এমন পানিতে পেশাব না করে। (সম্ভবত) পরে সে আবার তাতে গোসল করবে।” অপর বর্ণনায় বর্ণিত: “তোমাদের কেউ যেন স্থির- যা প্রবাহিত নয় এমন পানিতে কখনো পেশাব না করে, যে অবস্থায় সে অপবিত্র।”
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন। - মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়সাল্লাম স্থির- যা প্রবাহিত নয় এমন পানিতে পেশাব করতে নিষেধ করেছেন। কারণ, এতে পানি নাপাক এবং পেশাবের জীবাণুর সাথে মিশে যাওয়ার ফলে যে এ পানি ব্যবহার করবে তার ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। অনেক সময় পেশাবকারী নিজেই তা ব্যবহার করবে, যেমন তাতে গোসল করবে। যে জিনিস তার জন্য একটু পরে পবিত্রকারী হবে তাতে সে কীভাবে পেশাব করে। যেমনিভাবে তিনি নিষেধ করেছেন স্থির পানিতে বড় নাপাকী থেকে পবিত্রার জন্য ফরয গোসল করতে। কারণ, তাতে পানির সাথে অপবিত্রতার ময়লা ও আবর্জনার সংমিশ্রণ ঘটে।
আবূ হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমরা স্ত্রীদের জন্য মঙ্গলকামী হও। কারণ নারীকে পাঁজরের (বাঁকা) হাড় থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে। আর পাঁজরের হাড়ের সবচেয়ে বেশী বাঁকা হল তার উপরের অংশ। যদি তুমি এটাকে সোজা করতে চাও, তাহলে ভেঙ্গে ফেলবে। আর যদি তাকে ছেড়ে দাও তাহলে তো বাঁকাই থাকবে। তাই তোমরা নারীদের জন্য মঙ্গলকামী হও।” অন্য এক বর্ণনায় আছে, “মহিলা পাঁজরের হাড়ের মত। যদি তুমি তাকে সোজা করতে চাও, তবে তুমি তা ভেঙ্গে ফেলবে। আর যদি তুমি তার দ্বারা উপকৃত হতে চাও, তাহলে তার এ বাঁকা অবস্থাতেই হতে হবে।” অপর এক বর্ণনায় আছে, “মহিলাকে পাঁজরের বাঁকা হাড় থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে। সে কখনই একভাবে তোমার জন্য সোজা থাকবে না। এতএব তুমি যদি তার থেকে উপকৃত হতে চাও, তাহলে তার এ বাঁকা অবস্থাতেই হতে হবে। আর যদি তুমি তা সোজা করতে চাও, তাহলে তা ভেঙ্গে ফেলবে। আর তাকে ভেঙ্গে ফেলা হল তালাক দেওয়া।”
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন। - উভয় বর্ণনা মুত্তাফাকুন আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।আবূ হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু সংবাদ দেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারীদের সাথে লেন-দেন করা বিষয়ে বলেছেন, আমি তোমাদের যে অসিয়ত করি তা তোমরা কবুল করো। আর তা হলো তোমরা নারীদের কল্যাকামী হও। কারণ, নারীরা জ্ঞানে দুর্বল, দীনের বিষয়ে দুর্বল, চিন্তায় দূর্বল এবং যাবতীয় সব বিষয়ে তারা দুর্বল। কারণ, তাদেরকে পাঁজরের হাঁড় থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে। আর তা এভাবে যে, আল্লাহ আদম আলাইহিস সালামকে পিতা মাতা ছাড়া মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন। তিনি কুন বলেছেন আর হয়ে গেছেন। আর আল্লাহ যখন তার থেকে এ সৃষ্টিকে বিস্তৃত করতে চাইলেন, তার থেকে তার স্ত্রীকে সৃষ্টি করলেন। তিনি তাকে তার পাঁজরের বাঁকা হাড় থেকে সৃষ্টি করেছেন। আর বাঁকা হাড়ের অবস্থা হলো যদি তুমি তা থেকে বাঁকা অবস্থায় রেখে উপকার লাভ করতে চাও করতে পারবে, আর যদি তাকে তুমি সোজা করতে যাও তা ভেঙ্গে যাবে। এ সব নারীরাও তাই। বাঁকা অবস্থায় যদি মানুষ তাদের উপভোগ করতে চায়, উপভোগ করবে; যা সহজ হয় তার প্রতি সন্তুষ্ট থাকবে। আর যদি সোজা করতে চায়, তবে তা সোজা হবে না এবং তা সম্ভব নয়। সে যদিও দীনের বিষয়ে সোজা হবে, তবে সে তার স্বভাবে চাহিদা বিষয়ে সোজা হবে না। সে প্রতিটি বিষয়ে কখনো তার স্বামী ইচ্ছা অনুযায়ী হবে না। বরং তার থেকে অনিয়ম, ও ত্রুটি হবেই। তাতে যে ত্রুটি রয়েছে তুমি তা নিয়েই তার সাথে থাকবে। তুমি যদি তাকে ঠিক করতে যাও, তাকে তুমি ভেঙ্গে ফেলবে। আর তার ভেঙ্গে ফেলা হলো তাকে তালাক দেওয়া। এর অর্থ হলো, যদি তোমার চাওয়া অনুযায়ী তাকে সংশোধন করার ইচ্ছা করো, তা সম্ভব হবে না। তখন তুমি তার কাছ থেকে কষ্ট পাবে এবং তাকে তালাক দেবে।
ইমরান ইবন হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দেখলেন যে, এক ব্যক্তি আলাদা দাঁড়িয়ে আছেন। তিনি লোকদের সাথে সলাত আদায় করেন নি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞেস করলেন, হে অমুক! তোমাকে লোকদের সাথে সালাত আদায় করতে কিসে বিরত রাখলো? তিনি বললেন, আমার উপর গোসল ফরয হয়েছে। অথচ পানি নেই। তিনি বললেন, পবিত্র মাটি নাও (তায়াম্মুম কর), এটাই তোমার জন্য যথেষ্ট।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদের নিয়ে ফজরের সালাত আদায় করেন। যখন তিনি সালাত শেষ করলেন দেখেন এক ব্যক্তি তাদের সাথে সালাত আদায় করেনি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আল্লাহর দিকে দা‘ওয়াতের সৌন্দর্য্য ও দয়াদ্রতার পরিপূর্ণতা স্বরূপ ছিল তিনি এর কারণ সম্পর্কে না জেনে তাকে জামা‘আত থেকে বিরত থাকার ওপর কটাক্ষ করেননি। তাই তিনি বলেন, হে অমুক। তোমাকে জামা‘আতে সালাত আদায়ে কোন জিনিষ না করেছে? তারপর সে -তার ধারণা অনুযায়ী-নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট পারগতার ব্যখ্যা দিয়ে বলেন যে, তার ওপর গোসল ফরয হয়েছে। তার কাছে পানি না থাকার কারণে পানি পেয়ে পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত সে সালাতকে বিলম্ব করছে। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াল্লাম বললেন, আল্লাহ তা‘আলা স্বীয় মেহেবানিতে পবিত্রতা অর্জনে তোমার জন্য পানির স্থলাবিষিক্ত নির্ধারণ করেছেন। আর তা হলো পবিত্র মাটি। তোমার ওপর আবশ্যক হলো তা গ্রহণ করা। কারণ, তা পানির পরিবর্তে তোমার জন্য যথেষ্ট হবে।
আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিনায় এসে সর্বপ্রথম জামরায় গেলেন এবং তাতে কঙ্কর নিক্ষেপ করলেন। অতঃপর তিনি মিনায় তার মানযিলে (অবস্থান করার তাবুতে) গেলেন এবং কুরবানী করলেন। অতঃপর তিনি তার মাথার প্রথমে ডানদিকে ও পরে বামদিকে ইঙ্গিত করে নাপিতকে বললেন, ধর (চুল কাটো)। অতঃপর তিনি তা (চুল) লোকদের দিতে লাগলেন। অন্য বর্ণনায় এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম (কুরবানীর দিন) জামরায় কঙ্কর মারলেন, কুরবানীর পশুগুলো যবেহ করলেন এবং মাথা মুণ্ডন করলেন। প্রথমে তিনি তার মাথার ডান দিক নাপিতের দিকে এগিয়ে দিলেন, সে তা মুণ্ডন করল। তিনি আবূ তালহা আনসারী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুকে ডেকে চুলগুলো তাকে দিলেন। তারপর তিনি তাঁর মাথার বাম দিক বাড়িয়ে দিয়ে বললেন, মুণ্ডন করো এবং সে (নাপিত) তা মুণ্ডন করল। তারপর তিনি কাটা চুল আবূ তালহা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুকে দিয়ে বললেন, “যাও (এ চুলগুলো) লোকদের মধ্যে বণ্টন করে দাও।”
এটি মুসলিম তার দুই রেওয়ায়েতে বর্ণনা করেছেন।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন বিদায় হজে ঈদের দিন মিনায় আসলেন তখন জামরায় কঙ্কর নিক্ষেপ করলেন। অতপর তিনি মিনায় তার মানযিলে (অবস্থান করার তাবুতে) গেলেন এবং তার হাদীগুলো যাবেহ করলেন। অতপর তিনি নাপিত ডেকে মাথা মুণ্ডন করলেন। প্রথমে তিনি তার মাথার ডান দিক নাপিতের দিকে এগিয়ে দিলেন, সে তা মুণ্ডন করল। তিনি আবূ তালহা আনসারী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুকে ডেকে তাকে ডান পাশের চুলগুলো দিলেন। তারপর তিনি তাঁর মাথার অবশিষ্ট চুল মণ্ডন করলেন। তারপর তিনি কাটা চুল আবূ তালহাকে দিয়ে বললেন, এ চুলগুলো লোকদের মধ্যে বণ্টন করে দাও। ফলে তিনি তা মানুষের মাঝে বণ্টন করে দিলেন। কেউ একটি চল পেল, কেউ আবার দু’টো, কেউ আবার সুযোগ মতো অনেকগুলো চুল পেলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের চুলের দ্বারা বরকত হাসিলের উদ্দেশ্যে লোকজন এগুলো সংগ্রহ করলেন। আর এটি শুধু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিদর্শনের সাথেই খাস।
আবূ তারীফ আদী ইবনে হাতেম রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু কর্তৃক মারফূ‘ হিসেবে বর্ণিত: “যে ব্যক্তি কোন বিষয়ের উপর কসম খেল অতঃপর তার চেয়ে বেশী তাকওয়ার বিষয় দেখল (কসম ভঙ্গ করাতে), তার উচিত তাকওয়ার বিষয় গ্রহণ করা।”
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।যে ব্যক্তি কোন কর্ম করা বা ছাড়ার শপথ করল। তারপর সে দেখল, তার বিপরীত করা শপথের ওপর অনড় থাকা অপেক্ষা উত্তম ও তাকওয়া। তখন তার মুস্তাহাব ও উত্তম হলো, শপথ ছাড়া এবং যে কর্মটি উত্তম তাই করা। যদি যার ওপর শপথ করেছে তা যদি এমন হয় যে, তা করা অথবা ছাড়া ওয়াজিব যেমন শপথ করল, সালাত ছাড়বে অথবা মদ পান করবে, তখন তার ওপর ওয়াজিব হলো শপথ ভঙ্গ করা এবং যে সব কর্ম করতে এবং ছাড়তে আদিষ্ট তাই পালন করা।
আলী ইবন আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত: “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে তার উট পরিচালনা করার নির্দেশ দেন। আর তিনি নির্দেশ যে, আমি যেন তার গোস্ত, চামড়া, জীনপোষ সাদকা করে দিই এবং কসাইকে বিনিময় হিসেবে তা থেকে কোন কিছু না দেই”।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।বিদায়ী হজে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় আগমণ করেন। তার সাথে ছিল তার হাদী। আর আলী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু ইয়ামান থেকে আগমণ করেন এবং তার সাথেও তার হাদী ছিল। যেহেতু হাদীর জন্তু কেবলই ফকীর ও মিসকীনদের হক তাই হাদী প্রেরণকারীর জন্য তাতে কোন প্রকার কর্তৃত্ব করা বা বিনিময় হিসেবে কাউকে দেওয়ার সুযোগ নেই। তাই কসাইকে তার কাজের বিনিময় হিসেবে তা থেকে কোন কিছু প্রদান করতে নিষেধ করেছেন। তাকে গোস্ত, চামড়া ও জীনপোষ ভিন্ন অন্য কিছু দিয়ে বিনিময় প্রদান করবে।
আব্দুল্লাহ ইবনে যামআহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে খুৎবাহ দিতে শুনলেন। তিনি (খুৎবার মাধ্যমে) (সালেহ নবীর) উঁটনী এবং ঐ ব্যক্তির কথা আলোচনা করলেন, যে ঐ উঁটনীটিকে কেটে ফেলেছিল। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “যখন তাদের মধ্যকার সর্বাধিক হতভাগ্য ব্যক্তি তৎপর হয়ে উঠল। (সূরা শাম্স ১২ আয়াত) (অর্থাৎ) উঁটনীটিকে মেরে ফেলার জন্য নিজ বংশের মধ্যে এক দুরন্ত চরিত্রহীন প্রভাবশালী ব্যক্তি তৎপর হয়ে উঠেছিল।” অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহিলাদের কথা আলোচনা করলেন এবং তাদের ব্যাপারে উপদেশ প্রদান করলেন। তিনি বললেন, “তোমাদের কেউ কেউ তার স্ত্রীকে দাসদের মত প্রহার করে। অতঃপর সম্ভবতঃ দিনের শেষে তার সাথে সঙ্গমে লিপ্ত হবে। (এরূপ উচিত নয়।)” পুনরায় তিনি তাদেরকে বাতকর্মের ব্যাপারে হাসতে নিষেধ করলেন এবং বললেন, “তোমাদের কেউ এমন কাজে কেন হাসে, যে কাজ সে নিজেও করে?”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।আব্দুল্লাহ ইবনে যামআহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু সংবাদ দেন যে, সে নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে স্বীয় উষ্টির ওপর খুৎবাহ দিতে শুনলেন। রাসূলের আদর্শ ছিল তিনি অনুপুস্থিতকে তালাশ করতেন না এবং উপস্থিতকে প্রত্যাখ্যান করতেন না যদি তাতে শরী‘আতের দৃষ্টিতে কোন অসুবিধা বা সীমালঙ্গন না হতো। রাসূলুল্লা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুতবা দিচ্ছিলেন, আর আব্দুল্লাহ ইবন যাম‘আহ তা শুনছিলেন। তিনি খুৎবায় যা আলোচনা করলেন তাতে ছিল সালেহ নবীর উঁটনীর কথা যে উঁটনী তার মু‘জেযা ছিল এবং তার আলোচনায় ঐ ব্যক্তির কথা ছিল, যে ঐ উঁটনীটিকে কেটে ফেলেছিল। তাকে বলা হতো কুযার। যে লোকটি ছিল তাদের মধ্যকার সর্বাধিক হতভাগা। তার গুণ ছিল তার দৃষ্টান্ত বিরল, কঠিন ফাসাদ সৃষ্টিকারী এবং তার গোত্রের মধ্যে অপ্রতিরোধ্য। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার খুৎবায় (মহিলাদের প্রসঙ্গে) বললেন, “তোমাদের কেউ কেউ তার স্ত্রীকে দাসদের মত প্রহার করে। এতে প্রমাণিত হয় দাসকে প্রহার করে আদব শেখানো বৈধ। আর নারীদের তার চেয়ে কম প্রহার করে শাস্তি দেওয়া বৈধ। হাদীসটিতে উভয় কর্ম একজন জ্ঞানী থেকে পাওয়া যাওয়ার বিষয়টিকে অসংগত বলা হয়েছে। একজন জ্ঞানী ব্যক্তি তার স্ত্রীকে খুব মারবে অতঃপর সম্ভবতঃ দিনের শেষে বা সে রাতে তার সাথে সঙ্গমে লিপ্ত হবে। (এরূপ উচিত নয়।)” কারণ, সঙ্গম ও সহবাস সাধারণত আগ্রহ ও আকাঙ্খার পছন্দনীয় হয়। কিন্তু যাকে প্রহার করা হলো সে সাধারণত যে তাকে মারল তার থেকে দূরে থাকতে চায়। এতে এটি যে একটি নিন্দনীয় কর্ম তার প্রতি ইঙ্গিত করা হলো। তবে যদি মারতেই হয় তাহলে তা যেন সীমিত আকারে প্রহার করা দ্বারা হয়। যাতে সে পুরোপুরি বদলে না যায়। সুতরাং প্রহার করা ও শিক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে সীমালঙ্ঘন করবে না। পুনরায় তিনি তাদেরকে বাতকর্ম বিষয়ে নসিহত করলেন। অর্থাৎ, বাতকর্ম বিষয়ে তাদের হাঁসি সম্পর্কে সতর্ক করলেন। কারণ, এটি মানবিকতার পরিপন্থী। এ ছাড়াও এতে রয়েছে সম্মানহানি। এর খারাপ দিকটি তুলে ধরে তিনি বলেন “তোমাদের কেউ এমন কাজে কেন হাসে, যে কাজ সে নিজেও করে?” কারণ, হাঁসিতো হবে এমন বিষয় নিয়ে যা আশ্চর্য ও অনাকাঙ্খিত যার প্রভাব চেহারায় প্রকাশ পাবে। তখন সে মুচকী হাসবে। আর যদি তা আরও শক্তিশালী হয় তখন হাঁসিতে আওয়াজ হবে। আর যদি আরও শক্তিশালী হয় তখন তা হবে অট্ট হাঁসি। আর যেহেতু এ বিষয়টি এমন বিষয় যার প্রতি সব মানুষই অভ্যস্থ এ ধরনের একটি বিষয় সংঘটিত হওয়াতে হাঁসির কারণ কি হতে পারে?