





























Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
All
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে মারফূ‘ হিসেবে বর্ণিত, “যে ব্যক্তি মারা গেল অথচ তার ওপর রয়েছে সাওম, তার অভিভাবক তার পক্ষ থেকে সাওম পালন করবে।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা সংবাদ দেন যে, কোনো ব্যক্তি মারা গেল অথচ তার জিম্মায় ফরয সিয়াম, যেমন মান্নত, কাফফারা বা রমযানের সাওয়ামের কাযা বাকি রয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার অভিভাবকদের নির্দেশ দেন যে, তারা যেন তার পক্ষ থেকে সাওম পালন করে। কারণ, এটি তার ওপর ঋণ। আর তার নিকটাত্মীয়গণ তার পক্ষ থেকে তার জিম্মায় থাকা ফরয আদায় করার বেশি হকদার। কারণ, এটি তার প্রতি ইহসান, হিতাকাঙ্খিতা ও আত্মীয়তার হক। তবে এ আদেশটি পালন করা মুস্তাহাব, ওয়াজিব নয়।
আবদুল্লাহ ইবন ‘আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে মরফূ‘ হিসেবে বর্ণিত,আমার মা এক মাসের সাওম যিম্মায় রেখে মারা গেছেন, আমি কি তাঁর পক্ষ থেকে এ সাওম কাযা করতে পারি? তিনি বললেন, যদি তোমার মায়ের ওপর ঋণ থাকত তুমি তার পক্ষ থেকে সেটা আদায় করতে? সে বলল: হ্যাঁ, অতএব আল্লাহর ঋণ পরিশোধ করাই হলো অধিক যোগ্য। অন্য বর্ণনায় আছে, এক মহিলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলল, আমার মা মারা গেছে, অথচ তার ওপর মান্নতের সাওম এর কাযা রয়েছে। আমি তার পক্ষ থেকে এ সাওম আদায় করতে পারি কি? তখন তিনি বললেন যদি তোমার মায়ের ওপর কোনো ঋণ থাকত এবং তুমি তা পরিশোধ করে দিতে, তবে তা তার পক্ষ থেকে আদায় হতো কি? সে বলল, হ্যাঁ। তিনি বললেন: তোমার মায়ের পক্ষ তেকে তুমি সিয়াম পালন কর।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।এ হাদীসে দু’টি বর্ণনা এসেছে। পূর্বপ্রসঙ্গ থেকে সুস্পষ্ট যে, এখানে ঘটনা দুটো; একটি নয়। প্রথমটি হলো, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এক ব্যক্তি এসে সংবাদ দিল, তার মা এক মাসের সাওম যিম্মায় রেখে মারা গেছেন, সে কি তার পক্ষ থেকে এ সাওম কাযা করতে পারবে? দ্বিতীয়টি হলো, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এক মহিলা এসে সংবাদ দিল, তার মা মারা গেছে, অথচ তার যিম্মায় মানতের সাওম রয়েছে। সে কি তার পক্ষ থেকে এ সাওম আদায় করতে পারবে? তিনি উভয়কে তাদের মায়ের সাওম কাযা করতে বলেছেন; এরপর তাদেরকে এমন উদাহরণ দিয়েছেন যা তাদের জন্য উত্তর বুঝতে সহজ ও সুস্পষ্ট করে দেয়। আর তা হচ্ছে, যদি তাদের পিতা-মাতার ওপর কোনো ব্যক্তির ঋণ থাকে, তাহলে তারা কি তা পরিশোধ করবে? তারা বলল, হ্যাঁ। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের জানালেন যে, এই সাওমটি আল্লাহর জন্য তাদের পিতা-মাতার ওপর ঋণস্বরূপ। যখন ব্যক্তির পরিশোধ করা হয় তাহলে আল্লাহর ঋণ পরিশোধ করা আরো অধিক যোগ্য।
আবদুল্লাহ ইবন ‘আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মুহরিমদের উদ্দেশে ‘আরাফাতে ভাষণ দিতে শুনেছি। তিনি বলেছেন: যার চপ্পল নেই সে মোজা পরিধান করবে আর যার লুঙ্গি নেই সে পায়জামা পরিধান করবে।”
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।ইবন ‘আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা জানালেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মুহরিমদের উদ্দেশে ‘আরাফার দিন ভাষণ দিলেন। তখন তিনি তাদেরকে চপ্পল না থাকা অবস্থায় মোজা পরিধানের অনুমতি দেন। কিন্তু তিনি টাখনুর নিচ পর্যন্ত কাটার কথা উল্লেখ করেন নি। আর যার লুঙ্গি নেই তার জন্য পায়জামা পরিধান করার অনুমতি দেন; তবে সেটা ফারতে বলেন নি; এটি প্রজ্ঞাবান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতা‘আলার পক্ষ থেকে একটি সহজীকরণ।
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মরফূ‘ হিসেবে বর্ণিত, “চতুষ্পদ জন্তুর আঘাত দায়মুক্ত, কূপ (খননে শ্রমিকের মৃত্যুতে মালিক) দায়মুক্ত, খনি (খননে কেউ মারা গেলে মালিক) দায়মুক্ত। আর রিকাযে এক-পঞ্চমাংশ ওয়াজিব।”
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।আবূ হরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে পশুর কর্মে অথবা কূপ বা খনিতে নামার কারণে ধ্বংস অথবা ক্ষতির ক্ষতিপূরণের হুকুম সম্পর্কে জানাচ্ছেন: যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, পশুর কর্মে যে ধ্বংস বা ক্ষতি হয়েছে তাতে কারো ওপর ক্ষতিপূরণ নেই; এমনিভাবে যে ধ্বংস বা ক্ষতি হয়েছে কূপের কারণে, যেমন তাতে কোনো ব্যক্তি নেমে মারা গেল, অথবা খনিতে কেউ নেমে মারা গেল। কেননা কূপ, খনি ও পশুর ওপর ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা সম্ভব নয় এবং না তার মালিকের ওপর, যেহেতু তার থেকে কোনো সীমালঙ্গন অথবা কোনো কমতি সংঘটিত হয় নি। অতঃপর তিনি বর্ণনা করলেন যে, যে ব্যক্তি কোনো গুপ্তধন প্রাপ্ত হলো, তা অল্প হোক বা বেশি হোক –তার জন্য খুমুস ওয়াজিব। কারণ, সে কষ্ট ও ক্লান্তি ছাড়াই তা অর্জন করেছে। আর বাকী (চার) অংশ তার থাকবে।
আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে মারফূ হিসেবে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর সহাবীগণ চার তারিখ সকালে মক্কায় আগমন করেন। তখন তিনি তাদের ইহরামকে উমরায় পরিণত করার নির্দেশ দেন। তারা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! কী কী জিনিস হালাল? তিনি বললেন: সবকিছু হালাল।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা সংবাদ দেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর সহাবীগণ বিদায় হজ্জের বছর যুলহজ্জ মাসের চার তারিখ সকালে মক্কায় উপনীত হলেন। তাদের কেউ হজ্জের ইহরাম বেঁধে ছিলেন আবার কেউ হজ্জ ও উমরার ইহরাম একসাথে বেঁধে ছিলেন। অতঃপর যারা সাথে কুরবানীর পশু নিয়ে আসে নি তাদেরকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নির্দেশ দিলেন যে, তার যেন হালাল হয়ে যায় এবং তারা তাদের ইহরামকে উমরার ইহরামে পরিণত করে। তাদের জন্য এ নির্দেশ পালন করা কঠিন হয়ে গেল। তারা পরিপূর্ণ হালাল যাতে স্ত্রী সহবাসও হালাল হয়ে যায় তা হওয়া খুবই বড় হয়ে দেখা দিল। এরপর আবার হজ্জের জন্য ইহরাম বাঁধতে হবে। আর এ কারণে তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করলেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের জন্য কী কী জিনিস হালাল যা আমরা করতে পারব? তিনি বললেন: সবকিছু হালাল। ইহরামের পূর্বে যা তোমাদের জন্য হালাল ছিল তা এখন তোমাদের জন্য হালাল। সুতরাং তারা তাঁর কথা মেনে নিলেন। রাযিয়াল্লাহু আনহুম।
উরওয়াহ ইবন যুবায়ের থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা উসামা ইবন যায়দ রাদিয়াল্লাহু আনহুকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল। আমি তখন বসা ছিলাম, বিদায় হজ্জে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরাফা থেকে ফিরে আসার সময় কেমন গতিতে পথ চলেছিলেন? উসামা বলেন, তিনি সাধারণ গতিতে চলতেন। আর যখন প্রশস্ত ফাঁকা জায়গা পেতেন, তখন দ্রুত চলতেন।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।‘আরাফা থেকে মুযদালিফা পর্যন্ত উসামা ইবন যায়েদ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পিছনে একই বাহনে বসা ছিলেন । তিনি আরাফা থেকে মুযদালাফার দিকে ফিরে আসার সময় পর্কে সর্বাধিক অবগত ছিলেন। কেউ তার কাছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চলার গতি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, তিনি সাধারণ দ্রত গতিতে চলতেন। মানুষের ভীড়ের মধ্যে এটি ছিল সহজ গতিতে চলা। যেন কেউ কষ্ট না পায়। আর যখন প্রশস্ত ফাঁকা জায়গা পেতেন, যেখানে কোনো মানুষ নেই সেখানে তার বাহনকে সেদিকে পরিচালিত করতেন। তখন একটু দ্রুত চলতেন। কেননা সেখানে দ্রুত চললেও কেউ কষ্ট পেতো না।
আবদুল্লাহ বিন আমর ইবনুল আস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে মারফূ হিসেবে বর্ণিত, “আল্লাহর নিকট অধিক পছন্দনীয় সাওম হলো দাঊদ আলাইহিস সালামের সিয়াম। আর আল্লাহর নিকট অধিক পছন্দনীয় সালাত হলো দাঊদ আলাইহিস সালামের সালাত। তিনি রাতের অর্ধাংশ ঘুমাতেন,এক-তৃতীয়াংশ সালাতে কাটাতেন।আর বাকী ষষ্ঠাংশ ঘুমাতেন। তিনি একদিন সাওম পালন করতেন আর একদিন ইফতার করতেন।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।এ হাদীছে আব্দুল্লাহ ইবন আমর ইবনুল আস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে সংবাদ দিচ্ছেন যে, আল্লাহর নিকট অধিক পছন্দনীয় সিয়াম ও কিয়াম তাঁর নবী দাঊদ আলাইহিস সালামের সিয়াম ও কিয়াম। এটা এজন্য যে, দাঊদ আলাইহিস সালাম একদিন সাওম পালন করতেন, আরেকদিন সাওম ভঙ্গ করতেন। এর মাধ্যমে ইবাদত হয়ে যেত আবার শরীরের হকও প্রদান করা হতো। আর তিনি রাতের প্রথম অর্ধাংশ ঘুমাতেন। যাতে ইবাদতের জন্য প্রফুল্ল বোধ করেন। অতঃপর রাতের এক তৃতীয়াংশ সালাত আদায় করতেন। এরপর বাকী এক ষষ্ঠাংশ ঘুমাতেন। যাতে দিনের প্রথমাংশে ইবাদত করায় প্রফুল্ল থাকেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট পছন্দনীয়। তাই তিনি এ পদ্ধতিটির প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন।
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে মারফূ হিসেবে বর্ণিত, “পাঁচ প্রকার প্রাণী; সবগুলোই ক্ষতিকর। এগুলোকে হারামেও হত্যা করা যাবে। কাক, চিল, বিচ্ছু, ইঁদুর ও হিংস্র কুকুর।” অন্য বর্ণনায় এসেছে: পাঁচটি ক্ষতিকর প্রাণী হারাম ও হারামের বাইরে হত্যা করা যাবে।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।এ হাদীসে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা সংবাদ দিচ্ছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পাঁচ প্রকার প্রাণীকে হত্যা করার নির্দেশ দিয়েছেন চাই হারামে হোক বা হালাল স্থানে হোক, যেগুলো সবই ফিসকের সাথে গুণান্বিত। অতঃপর তিনি এই পাঁচ প্রকার প্রাণীর বর্ণনা দিয়েছেন। যেমন কাক, চিল, বিচ্ছু, ইঁদুর ও হিংস্র কুকুর। এই পাঁচ প্রকার প্রাণী ক্ষতিকর হিসেবে চিহ্নিত। ক্ষতি করা ও আক্রমণ করার দিক থেকে এগুলোর স্বভাব অন্যসব প্রাণী থেকে ভিন্ন। তাই গণনা করে এগুলোর ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে। এগুলোর ক্ষতি বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকে। আর এ রকম যত প্রাণী ক্ষতিকর তাও এই হুকুমের অন্তর্ভুক্ত হবে এবং কষ্ট দেয়া ও আক্রমণ করার কারণে এগুলো হত্যা করা হবে। হারাম এসব প্রাণীকে আশ্রয় দেয় না এবং ইহরাম অবস্থায় এ সবকে আশ্রয় দেওয়াও যায় না।
আব্দুল্লাহ ইব্নু ‘উমার রাদয়িাল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত: এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রাসূল! ‘মুহরিম কী কাপড় পরিধান করবে?’ তিনি বললেন, “জামা, পাগড়ী, পাজামা, টুপি এবং মোজা পরিধান করবে না। কিন্তু জুতা না পেলে চামড়ার মোজা পরতে পারে, তবে টাখনুর নিচ থেকে কেটে ফেলবে। (যাতে মোজা দু’টি পায়ের গিরার নিচে থাকে।) আর কুসুম বা যা’ফরান রঙ্গে রঞ্জিত কোন কাপড় পরিধান করবে না”। বুখারীর অপর বর্ণনায় বর্ণিত: “মহিলারা নিকাব ও হাত মোজা পরিধান করবে না”।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।সাহাবীগণ জানতেন যে, ইহরামের একটি বিশেষ অবস্থা রয়েছে যা হালাল অবস্থার থেকে ভিন্ন। এ কারণে একজন লোক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মুহরিম ব্যক্তির জন্য যে সব পোশাক পরিধান করা বৈধ সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। কিন্তু যেহেতু উচিত ছিল কোন কোন পোশাক থেকে বিরত থাকবে সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা, কারণ, তা সীমিত ও কম। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জাওয়ামেউল কালিম দেওয়া হয়েছে তাই তিনি একজন মুহরিম যে সব পোশাক থেকে বিরত থাকবে তার বর্ণনা দিয়ে উত্তর দেন। আর বাকী পোশাক তার আসল অর্থাৎ হালাল হওয়ার ওপর বাকী থাকবে। এতে অনেক ইলম হাসিল হবে। তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুহরিম ব্যক্তির ওপর নিষিদ্ধ পোশাক গণনা করা আরম্ভ করেন, যাতে বুঝতে পারে যে এর প্রত্যেক প্রকার ও তার ন্যায় অন্যান্য পোশাক মুহরিম পরিধান করবে, তিনি বলেন: সে কামিছ পরিধান করবে না এবং যে সব পোশাক শরীরের মাপ অনুযায়ী কাটা হয়েছে এবং সেলাই করা হয়েছে। আর পাগড়ী ও টুপি পরিধান করবে না এবং যে সব পোশাক দ্বারা মাথা ডাকা হয় এবং তা মাথার সাথে মিশে থাকে। পায়জামা পরিধান করবে না। আর যে সব দ্বারা কোন একটি অঙ্গও ডেকে রাখা হয় যেমন হাত মোজা বা এ ধরনের পোশাক সেলাই করা হোক বা পেছানো হোক, আর মোজা সুতার হোক বা পশমের হোক বা চামড়ার হোক পরবে না এবং এ ধরনের পোশাক যা মানুষের পায়ের টাখনুদ্বয়কে ডেকে ফেলে তাও পরবে না। আর যদি কোন ব্যক্তি ইহরামের সময় পাদুকাদ্বয় না পায়, সে যেন দুই মোজা পরিধান করে তবে টাখনুর নিচ থেকে কেটে ফেলবে। যাতে মোজা দুটি জুতার মতো হয়। তারপর রাসূলুল্লাহু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছু উপকারী কথা বাড়ান যা প্রশ্নের মধ্যে ছিল না। তবে পেক্ষাপট তা চেয়েছিল। তাই তিনি একজন মুহরিম চাই সে নারী হোক বা পুরুষ হোক তার জন্য যা নিষিদ্ধ তা বর্ণনা করেন। তিনি বলেন মুহরিম ব্যক্তি এমন কোন কাপড় পরিধান করবে না চাই তা সেলাই করা হোক বা সেলাই করা না হোক যখন তা যাফরান বা ওয়ারস ঘাস দ্বারা সুগন্ধি যুক্ত করা হয়। এ দ্বারা সতর্ক করা হলো যে কোন ধরনের খুশবু ব্যবহার থেকে বিরত থাকা বিষয়ে। তারপর তিনি নারীর করণীয় বর্ণনা করেন, যেমন তার চেহারা ঢাকা এবং তার দুই কব্জিকে এমন কিছুতে প্রবেশ করানো যা তার কব্জিদ্বয়কে আচ্ছাদিত করে হারাম। তিনি বলেন, “নারী নিকাব পরিধান করবে না এবং হাত মোজা পরিধান করবে না”।