





























Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
All
জাবির বিন আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বিদায় হজ্জের বছর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর সহাবীগণ হজ্জের ইহরাম বাঁধলেন। তাদের মাঝে কেবল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তালহা রাদিয়াল্লাহু আনহু ব্যতীত অন্য কারো সঙ্গে কুরবানীর পশু ছিল না। আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু ইয়ামান থেকে আগমন করলেন। তিনি ইহরাম বাঁধার সময় বলেছিলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেরূপ ইহরাম বেঁধেছেন, আমিও সেরূপ ইহরাম বেঁধেছি। সাহাবীদের মধ্যে যাদের সাথে কুরবানীর পশু ছিল না, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের ইহরামকে উমরায় পরিণত করার নির্দেশ দিলেন। তারা যেন তাওয়াফ করে, চুল ছেঁটে অথবা মাথা মুণ্ডিয়ে হালাল হয়ে যায়। তারা বলাবলি করতে লাগলো, আমরা যদি হালাল হয়ে যাই তাহলে কি স্ত্রীর সাথে মিলনের পরপরই আমরা মীনায় যাবো? অথচ তখন আমাদের কারো পুরুষাঙ্গ থেকে বীর্য ঝরতে থাকবে! তা অবগত হয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আমি পরে যা জানতে পেরেছি তা যদি আগে জানতে পারতাম, তাহলে কুরবানীর পশু সাথে আনতাম না। আমার সাথে কুরবানীর পশু না থাকলে অবশ্যই ইহরাম ভঙ্গ করতাম। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা ঋতুমতী হওয়ার কারণে বাইতুল্লাহর তাওয়াফ ব্যতীত হজ্জের অন্যসব কাজ সম্পন্ন করেছিলেন। পবিত্র হয়ে তাওয়াফ করার পর আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! সকলেই হজ্জ ও উমরা উভয়টি আদায় করে ফিরছে, আর আমি কি কেবল হজ্জ করে ফিরবো? তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আব্দুর রাহমান বিন আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে নির্দেশ দিলেন, তিনি যেন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে নিয়ে তানঈমে চলে যান। সেখান থেকে ইহরাম বেঁধে তিনি হজ্জের পর উমরা আদায় করলেন।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।জাবির বিন আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হজ্জের কথা বর্ণনা এভাবে করছেন যে, তিনি ও তাঁর সাহাবীগণ হজ্জের ইহরাম বাঁধলেন। তাদের মধ্যে কেবল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তালহা বিন উবাইদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু ব্যতীত অন্য কেউ কুরবানীর নিয়ে আসেননি। ঐদিকে আলী বিন আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু ইয়ামান থেকে আগমন করলেন। তিনি তার প্রজ্ঞা অনুসারে নিজের ইহরামকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইহরামের সাথে শর্তযুক্ত করলেন। যখন তারা মক্কায় আগমন করলেন তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের হজ্জের ইহরামকে উমরায় পরিণত করার নির্দেশ দিলেন। ফলে তাদের তাওয়াফ ও সাঈ উমরার জন্যই হবে। অতঃপর তারা যেন চুল ছেঁটে অথবা মাথা মুণ্ডিয়ে পরিপূর্ণভাবে হালাল হয়ে যায়। যাদের নিকট কুরবানীর পশু ছিল না এ নির্দেশটি তাদের জন্য ছিল।তবে যারা কুরবানীর পশু নিয়ে এসেছিল যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তারা তাওয়াফ ও সাঈ করার পরও ইহরাম অবস্থায় রয়ে গেলেন। যারা হজ্জের ইহরাম বাদ দিয়ে উমরা করতে আদিষ্ট হয়েছিলেন তারা বিষয়টিকে বড় মনে করে অবাক হয়ে প্রশ্ন করলেন, আমরা কীভাবে হালাল হয়ে স্ত্রী সহবাস করে আবার মিনায় হজ্জের জন্য যাবো? তখন তো আমরা কেবল স্ত্রী সহবাস সেরে নিবো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে তাদের এই বক্তব্য ও মনের দ্বিধা-সংকোচের কথা পৌঁছলে তিনি তাদেরকে মূল সত্যটি জানিয়ে এভাবে আস্বস্ত করে বললেন যে, আমি পরে যা জানতে পেরেছি তা যদি আগে জানতে পারতাম, তাহলে কুরবানীর পশু সাথে আনতাম না যা আমাকে হালাল হওয়া থেকে বাধা দিয়েছে। কুরবানীর পশু সাথে না থাকলে অবশ্যই আমি তোমাদের সাথে হালাল হয়ে যেতাম। ফলে তারা খুশী হলো এবং তাদের অন্তর প্রশান্তি লাভ করল। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা মক্কা প্রবেশের নিকটবর্তী হলে ঋতুবতী হয়ে গেলেন। ফলে তিনি হজ্জ ও উমরা মিলিয়ে ফেললেন। কেননা ঋতু তাকে বাইতুল্লার তাওয়াফ করা থেকে বাধা দিয়েছিল। তবে তিনি বাইতুল্লার তাওয়াফ ও সাঈ ব্যতীত হজ্জের অন্যসব কাজ সম্পন্ন করে নিয়েছিলেন। অতঃপর যখন তিনি পবিত্র হলেন এবং বাইতুল্লার তাওয়াফ করলেন তখন তার মনে একটু খটকা লাগল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্ত্রীগণসহ অধিকাংশ সাহাবী উমরার কাজ আলাদাভাবে করেছিলেন এবং হজ্জের কাজও করেছিলেন। অথচ তিনি উমরাকে হজ্জের সাথে মিলিয়ে ফেলেছেন। ফিরার পথে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! সকলেই হজ্জ ও উমরা উভয়টি আদায় করে ফিরছে, আর আমি কেবল হজ্জ আদায় করে ফিরছি? তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার মনে শান্তনা দেয়ার জন্য তার ভাই আব্দুর রাহমানকে নির্দেশ দিলেন তিনি যেন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে নিয়ে তানঈমে চলে যান। অতঃপর তিনি সেখানে গিয়ে উমরার ইহরাম বাঁধলেন এবং হজ্জের পর একটি উমরা করলেন।
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত যে, তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মক্কা বিজয়ের বছর মক্কায় অবস্থানকালে বলতে শুনেছেন: “আল্লাহ তা‘আলা ও তাঁর রাসূল মদ, মৃত জন্তু, শূকর ও মূর্তি কেনা-বেচা হারাম করে দিয়েছেন”। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! মৃত জন্তুর চর্বি সম্পর্কে আপনি কী বলেন? তা দিয়ে তো নৌকায় প্রলেপ দেয়া হয় এবং চামড়া তৈলাক্ত করা হয় আর লোকে তা দ্বারা চেরাগ জ্বালিয়ে থাকে? তিনি বললেন, “না, তাও হারাম”। তারপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “আল্লাহ তা‘আলা ইয়াহূদীদের বিনাশ করুন। আল্লাহ যখন তাদের জন্য মৃতের চর্বি হারাম করে দেন, তখন তারা তা গলিয়ে বিক্রি করে মূল্য ভোগ করে”।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমজাবির ইবন আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামকে মক্কা বিজয়ের বছর মক্কায় অবস্থানকালে বলতে শুনেছেন, নিশ্চয় আল্লাহ ও তাঁর রাসূল মদ, মৃত পশু, শূকর ও মূর্তি বিক্রি নিষিদ্ধ করেছেন। বলা হলো: হে আল্লাহর রাসূল, আমাদের জন্য মৃত পশুর চর্বি বিক্রি করা জায়েয হবে? কেননা এটি জাহাজে রং করার জন্য ব্যবহৃত হয়, এটি দ্বারা চামড়া তৈলাক্ত করা হয় আর লোকেরা তা দ্বারা চেরাগ জ্বালিয়ে থাকে। তিনি বললেন: না, এটি বিক্রি করা হারাম। তারপর তিনি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: আল্লাহ ইহুদীদের ধ্বংস ও তাদের অভিশাপ করুন। আল্লাহ যখন তাদের ওপর পশুর চর্বি হারাম করলেন, তখন তারা তা গলিয়ে তারপর তার চর্বি বিক্রি করে তার মূল্য ভক্ষণ করল।
যির ইবনু হুবাইশ হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন: মোজাদ্বয়ের উপর মসিহ করা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করার উদ্দেশে আমি সাফওয়ান ইবনু আসসাল আল-মুরাদী-এর কাছে আগমন করলাম। তিনি বললেন, হে যির! তোমাকে কিসে নিয়ে এসেছে? আমি বললাম, ইলমের অন্বেষা! তিনি বললেন, নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলার ফেরেশতাগণ ইলমের অন্বেষায় খুশি হয়ে ইলম অন্বেষণকারীর জন্য তাদের পাখা বিছিয়ে দেন। আমি বললাম, আমার মনে একটা দ্বিধাদ্বন্ধ সৃষ্টি হয়েছে মলমূত্র ত্যাগের পর মোজার উপর মাসেহ করা প্রসঙ্গে। আর আপনি হলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একজন সাহাবী। তাই আপনাকে আমি প্রশ্ন করতে এসেছি যে, এ প্রসঙ্গে আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কিছু আলোচনা করতে শুনেছেন কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমাদেরকে তিনি নির্দেশ দিতেন যে, আমরা সফররত অবস্থায় থাকলে এবং নাপাকির গোসলের প্রয়োজন না হলে তিন দিন ও তিন রাত পর্যন্ত যেন আমাদের মোজাদ্বয় না খুলি। মলমূত্র ত্যাগ এবং ঘুমানোর কারণে তা খোলার দরকার নেই, বরং শুধু তার উপর মাসেহ করলেই চলবে। যির বলেন, আমি বললাম, মহব্বত (ভালবাসা) প্রসঙ্গে আপনি কি তাকে কিছু আলোচনা করতে শুনেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। এক সফরে আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ছিলাম। একদিন আমরা তার নিকটেই ছিলাম, এমন সময় এক বেদুঈন উচ্চস্বরে তাকে ডাক দিয়ে বলে, হে মুহাম্মাদ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও তার ন্যায় একই রকম উচ্চ শব্দে তার ডাকে জবাব দিলেনঃ “আস”। সেই বেদুঈনকে আমরা বললাম, তোমার অমঙ্গল হোক, তোমার কণ্ঠস্বর নীচু কর। কেননা তুমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সম্মুখে আছ। নবীর সম্মুখে তোমাকে উচ্চস্বরে কথা বলতে বারণ করা হয়েছে (কুরআনে)। লোকটি বলল, আল্লাহর শপথ! আমি নীচু স্বরে কথা বলতে পারি না। এবার সে বলল, এক লোক এক গোত্রকে ভালবাসে, কিন্তু তাদের সঙ্গে সে মিলিত হতে পারেনি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ “কোন লোক যাকে ভালবাসে কিয়ামতের দিন সে তার সঙ্গেই থাকবে”। তারপর তিনি আমাদের সঙ্গে কথাবার্তা বলতে থাকলেন। অবশেষে তিনি পাশ্চাত্যে অবস্থিত একটি দরজার কথা উল্লেখ করলেন যা এত দীর্ঘ যে, একটি সওয়ারীর সেই দরজার এক প্রান্ত হতে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত পার করতে চল্লিশ কিংবা সত্তর বছর সময় লাগবে।
এটি তিরমিযী, ইবনে মাজাহ ও আহমাদ বর্ণনা করেছেন।যির ইবন হুবাইশ সফওয়ান ইবন আ'স্সাল (রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু)-এর কাছে আসলেন এবং তাঁকে মোজার ওপর মাসাহ্ করার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলেন। সফওয়ান বললেন, হে যির! কী কারণে তুমি এসেছো? যির বললেন, ইলম অর্জনের উদ্দেশ্যে। তখন সফওয়ান বললেন, নিশ্চয়ই ফেরেশতারা ইলম অন্বেষণকারীর প্রতি সন্তুষ্টি ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করে তাদের পাখা বিছিয়ে দেয়। এরপর যির বললেন, মোজার ওপর মাসাহ্ করার বিষয়ে আমার মনে দ্বিধা ছিল, বিশেষ করে পায়খানা ও প্রস্রাবের পর। আর আপনি তো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাহাবী, তাই আমি জানতে চাচ্ছি — আপনি কি এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহকে কিছু বলতে শুনেছেন? সফওয়ান বললেন: হ্যাঁ, তিনি আমাদের নির্দেশ দিতেন যে, যখন আমরা মুসাফির থাকতাম, তখন যেন ছোট নাপাকির কারণে — যেমন পায়খানা, প্রস্রাব বা ঘুম — তিন দিন ও তিন রাত পর্যন্ত মোজা না খুলি। তবে জানাবতের কারণে অবশ্যই মোজা খুলতে হতো। তখন আমি বললাম: আপনি কি তাঁকে ভালোবাসা (মহব্বত) সম্পর্কে কিছু বলতে শুনেছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ, আমরা একবার নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সঙ্গে সফরে ছিলাম। সে সময় আমরা তাঁর কাছে অবস্থান করছিলাম, হঠাৎ এক বেদুঈন উচ্চ স্বরে ডাক দিল: হে মুহাম্মাদ! তখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার কণ্ঠের কাছাকাছি উচ্চ স্বরেই উত্তর দিলেন: এসো। আমরা তাকে বললাম: ধ্বংস হোক তোমার! তুমি তোমার কণ্ঠস্বর নিচু করো, কেননা তুমি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সামনে আছো, আর তাঁর সামনে উচ্চ স্বরে কথা বলার বিষয়ে নিষেধ করা হয়েছে। বেদুঈন নিজের রূঢ়তার কারণে বলল: আল্লাহর কসম! আমি কণ্ঠস্বর নিচু করব না। তারপর বেদুঈন বলল: হে আল্লাহর রাসূল, একজন মানুষ সৎকাজকারী লোকদের ভালোবাসে, অথচ তাদের মতো আমল করে না — তাহলে তার অবস্থা কী হবে? নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: কিয়ামতের দিনে মানুষ তার সেই প্রিয়জনদের সাথেই থাকবে, যাদের সে ভালোবাসত। যির বললেন: এরপর সাফওয়ান আমাদের বলতে লাগলেন, এমনকি তিনি তাওবার একটি দরজার কথাও উল্লেখ করলেন আল্লাহ তা শামের দিকে সৃষ্টি করেছেন যেদিন আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন। এই দরজার প্রস্থ এতটাই বিস্তৃত যে একজন আরোহী চলতে থাকলে চল্লিশ কিংবা সত্তর বছরেও তা পেরোতে পারবে না। আর এই দরজা বন্ধ হবে না, যতক্ষণ না সূর্য পশ্চিম দিক থেকে ওঠে।
মা‘ন ইবন ইয়াযীদ ইবন আখনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার পিতা ইয়াযীদ দান করার জন্য কয়েকটি স্বর্ণমুদ্রা বের করলেন। অতঃপর তিনি সেগুলো (দান করতে) মসজিদে একটি লোককে দায়িত্ব দিলেন। আমি (মসজিদে) এসে তার কাছ থেকে (অন্যান্য ভিক্ষুকের মতো) তা নিয়ে নিলাম এবং তা নিয়ে বাড়ী এলাম। (যখন আমার পিতা এ ব্যাপারে অবগত হলেন তখন) বললেন, আল্লাহর কসম! তোমাকে দেওয়ার নিয়ত আমার ছিল না। (ফলে এগুলো আমার জন্য হালাল হবে কি না তা জানার উদ্দেশ্যে) আমি আমার পিতাকে নিয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খিদমতে উপস্থিত হলাম। তিনি বললেন, “হে ইয়াযীদ! তোমার জন্য তাই রয়েছে যা তুমি নিয়ত করেছ এবং হে মা‘ন! তুমি যা নিয়েছ তা তোমার জন্য হালাল।”
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।ইয়াযীদ ইবন আখনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু ফকিরদের দান করার জন্য মসজিদে এক ব্যক্তিকে দায়িত্ব দিয়ে কয়েকটি স্বর্ণমুদ্রা বের করলেন। তখন তার ছেলে মা‘ন তার কাছ থেকে (অন্যান্য ভিক্ষুকের মতো) তা নিয়ে নিল। তখন তার পিতা বললেন, এই স্বর্ণমুদ্রাগুলো তোমাকে দেওয়ার নিয়ত আমার ছিল না। (ফলে এগুলো তার জন্য হালাল হবে কি না) তা জানার উদ্দেশ্যে তারা দু’জন (পিতা-ছেলে) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খিদমতে উপস্থিত হল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “হে ইয়াযীদ! তোমার জন্য তাই রয়েছে যা তুমি নিয়ত করেছ, কারণ তুমি মুসলিম ফকিরদের মধ্যে একজন ফকিরের নিকট (তোমার) দান পৌঁছে দিয়েছো। অতএব, তোমার নিয়তের ওপর অবশ্যই প্রতিদান পাবে এবং হে মা‘ন! তুমি যা নিয়েছ তা তোমার জন্য হালাল।” কেননা তুমি সঠিক পন্থায়ই নিয়েছ। আর মূলত এই দানের হকদার তার ছেলেও ছিল।
আবূ যার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মরফূ‘ হিসেবে বর্ণিত, “আমার উম্মতের ভালো-মন্দ কর্ম আমার কাছে পেশ করা হলো। সুতরাং আমি তাদের ভাল কাজের মধ্যে ঐ কষ্টদায়ক জিনিসও পেলাম, যা রাস্তা থেকে সরানো হয়। আর তাদের মন্দ কর্মসমূহের তালিকায় মসজিদে ঐ কফও পেলাম, যার উপর মাটি চাপা দেওয়া হয় নি।”
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।আল্লাহ তা‘আলা উম্মতের ভালো কর্মগুলো আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে পেশ করলেন। সুতরাং তিনি তাদের ভাল কাজের মধ্যে ঐ কষ্টদায়ক জিনিসও পেলেন, যা রাস্তা থেকে সরানো হয়। আর তাদের মন্দ কর্মসমূহের তালিকায় পেলেন মসজিদে মানুষের নিক্ষিপ্ত কফ, যাকে মাটি চাপা বা অন্য কোনোভাবে দূর করা হয় নি।
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহু ও মুগীরা ইবন শু‘বা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে (এত দীর্ঘ) কিয়াম করতেন যে, তাঁর পা দু’খানা (ফুলে) ফেটে (দাগ পড়ে) যেত। একদা আমি তাঁকে বললাম, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আপনি এরূপ কাজ কেন করছেন? আল্লাহ তো আপনার আগের ও পিছের সমস্ত পাপ মোচন করে দিয়েছেন।’ তিনি বললেন, “আমি কি তাঁর কৃতজ্ঞ বান্দা হতে পছন্দ করব না?”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে তাহাজ্জুদ সালাতে এত দীর্ঘ কিয়াম করতেন যে, তাঁর পা দু’খানা (ফুলে) ফেটে (দাগ পড়ে) যেত। একদা আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা তাঁকে বললেন— কারণ তার ধারণা ছিল তিনি গোনাহের ভয় এবং রহমত ও মাগফিরাতের আশায় আল্লাহর ইবাদত করেন, অথচ তার জন্য আল্লাহর ক্ষমা লিখে হয়ে গেছে; তাই এর প্রয়োজন নেই— হে আল্লাহর রাসূল! আপনি এরূপ কাজ কেন করছেন? আল্লাহ তো আপনার আগের ও পিছের সমস্ত পাপ মোচন করে দিয়েছেন। তিনি তাকে বললেন, আমি কি তাঁর কৃতজ্ঞ বান্দা হবো না? তার এই ইবাদতের কারণ হলো আল্লাহর ক্ষমার শুকরিয়া করা।
জাবির ইবন আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাজ্জাসীর (গায়েবানা) জানাযার সালাত আদায় করেন। আমি দ্বিতীয় বা তৃতীয় কাতারে ছিলাম।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।জাবির ইবন আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা সংবাদ দিয়েছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাজ্জাসীর গায়েবানা জানাযার সালাত আদায় করেন। যারা সে সালাত আদায় করেছিলেন তিনি তাদের মধ্যে একজন ছিলেন; তবে তিনি স্মরণ করতে পারছিলেন না যে, তিনি কী দ্বিতীয় কাতারে ছিলেন না-কী তৃতীয় কাতারে।এটি জাবির রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর সন্দেহ; বর্ণনাকারীর সন্দেহ নয়।
জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে মারফূ‘ সূত্রে বর্ণিত, “যুদ্ধ হচ্ছে কৌশল।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।এ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, কাফিরদের বিপক্ষে যুদ্ধে কৌশল অবলম্বন করার বৈধ। কারণ, তা ইসলাম ও মুসলিমদের জন্য কল্যাণকর স্বার্থ নিশ্চিত করে।
উম্মে সালামাহ্ রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, একদা আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমি যদি (আমার প্রথম স্বামী) আবূ সালামাহর সন্তান-সন্ততির ওপর ব্যয় করি, তাতে কি আমি নেকী পাব? আমি তো তাদেরকে এভাবে ছেড়ে দিতে পারছি না, তারা তো আমারই সন্তান।’ তিনি বললেন, “হ্যাঁ, তুমি তাদের ওপর ব্যয় করার দরুন নেকী পাবে।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।উম্মে সালামাহ রাদিয়াল্লাহু আনহা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলেন, আমি যদি (আমার প্রথম স্বামী) আবূ সালামাহর সন্তান-সন্ততির ওপর ব্যয় করি এবং তাদের জন্য তা যথেষ্ট হয়, তাতে কি আমি নেকী পাব? এতে তাদেরকে খাদ্যের সন্ধানে ছুটে বেড়াতে হবে না। নাকি আমি তাদের প্রতি অনুগ্রহবশত এ কাজ করি দেখে কোনো সওয়াব হবে না; কারণ, তারা তো আমারই সন্তান।’ তখন তিনি তাকে জানালেন যে, তাদের ওপর ব্যয় করার দরুন সে নেকী পাবে।