





























Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
All
সা‘ঈদ ইবনুল হারেস কর্তৃক বর্ণিত, তিনি জাবের রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুকে আগুনে স্পর্শ করা বস্তু খাওয়ার পর অযু করা সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি বললেন, ‘না। (অযু করতে হবে না।) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে তো আমরা এরূপ খাদ্য খুব কমই পেতাম। আর যখন আমরা তা পেতাম, তখন আমাদের হতের কব্জি, হাতের বাহু ও পা ছাড়া কোনো রুমাল ছিল না। তারপর (নতুন) অযু না করেই আমরা সালাত আদায় করতাম।’
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।সা‘ঈদ ইবনুল হারেস তিনি জাবের রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুকে রান্না করতে গিয়ে অথবা ভুনা করতে গিয়ে অথবা অন্য কোনোভাবে আগুনে স্পর্শ করা বস্তু খাওয়ার পর অযু করা সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করলেন। তাতে অযু আবশ্যক কি না? জাবের বললেন, এর দ্বারা অযু ওয়াজিব হবে না। অতঃপর এর দলীল বর্ণনা করে বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে তো আমরা এরূপ খাদ্য খুব কমই পেতাম। আর যখন আমরা তা পেতাম, তখন আমাদের তো খাবারের তৈলাক্ত মুছার জন্যে কোনো রুমাল ছিল না, তবে আমাদের আঙ্গুলগুলো চাটার পর হাতের কব্জি, বাহু ও পা দ্বারা মুছে ফেলতাম। তারপর (নতুন) অযু না করেই আমরা সালাত আদায় করতাম।
আবু হুরায়রা, আবু কাতাদাহ ও আবূ ইবরাহীম আল-আশহালী তার পিতার থেকে – তার পিতা একজন সাহাবী ছিলেন- রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকে বর্ণিত, তারা সকলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তির জানাযার সালাত আদায় করলেন। অতঃপর তিনি সালাতে এ দো‘আ পড়লেন, “হে আল্লাহ! আমাদের জীবিত-মৃত, ছোট-বড়, নারী-পুরুষ, উপস্থিত ও অনুপস্থিত নির্বিশেষে সকলকে ক্ষমা করুন। হে আল্লাহ! আপনি আমাদের মধ্যে যাকে জীবিত রাখবেন তাকে ইসলামের ওপর জীবিত রাখুন এবং আমাদের মধ্যে যাকে মৃত্যু দান করবেন তাকে ঈমানের সাথে মৃত্যুদান করুন। হে আল্লাহ! আমাদেরকে এর প্রতিদান থেকে বঞ্চিত করবেন না এবং এর পরে আমাদের ফিতনা বা পরীক্ষায় ফেলবেন না।”
এটি ইবন মাজাহ বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন জানাযার সালাত আদায় করতেন তখন নিম্নোক্ত দো‘আ পড়তেন, যার অর্থ হলো, “হে আল্লাহ! আমাদের জীবিত-মৃত মুসলিমকে, ছোট-বড়, নারী-পুরুষ, উপস্থিত ও অনুপস্থিত নির্বিশেষে সকলকে ক্ষমা করুন। হে আল্লাহ! আপনি আমাদের মধ্যে যাকে জীবিত রাখবেন তাকে ইসলামী শরী‘আত আকঁড়ে ধরার ওপর জীবিত রাখুন এবং আমাদের মধ্যে যাকে মৃত্যু দান করবেন তাকে ঈমানের সাথে মৃত্যু দান করুন। হে আল্লাহ! আমাদেরকে এ মৃত্যুর মুসীবতের প্রতিদান থেকে বঞ্চিত করবেন না এবং এর পরে আমাদের পথভ্রষ্ট করবেন না।”
ওয়াসেলাহ ইবনুল আসকা‘ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফু হিসেবে বর্ণিত: “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিয়ে মুসলিমদের এক ব্যক্তির ওপর জানাযার সালাত পড়লেন। তখন আমি তাঁকে বলতে শুনেছি: “হে আল্লাহ! অমুকের পুত্র অমুক আপনার দায়িত্বে ও আপনার প্রতিবেশিত্বের নিরাপত্তায়। অতএব, তাকে আাপনি কবরের পরীক্ষা ও জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করুন। আপনি প্রতিশ্রুতি পালনকারী ও প্রশংসার পাত্র। হে আল্লাহ আপনি তাকে মাফ করুন ও তার প্রতি দয়া করুন। নিঃসন্দেহে আপনি মহাক্ষমাশীল অতি দয়াবান।”
এটি ইবন মাজাহ বর্ণনা করেছেন। - এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।একজন মুসলিমের ওপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানাযার সালাত আদায় করেন। তারপর তিনি বলেন, যার অর্থ: হে আল্লাহ! নিশ্চয় অমুকের পুত্র অমুক আপনার নিরাপত্তায়, হিফাযতে ও ক্ষমা ভিক্ষায়। অতএব, কবরের পরীক্ষার প্রশ্নের সময় তাকে অবিচল রাখুন এবং তাকে জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করুন। কারণ, আপনি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন না। আপনি হকের অধিপতি। সুতরাং হে আল্লাহ আপনি তাকে মাফ করুন ও তার প্রতি দয়া করুন। নিঃসন্দেহে আপনি অধিক হারে গুনাহ ক্ষমাকারী এবং আনুগত্য কবুল করা ও নেক কাজ বহুগুণ বর্ধিত করার মাধ্যমে অধিক দয়াকারী।
আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পুত্র ইবরাহীমের নিকট গেলেন, যখন সে মারা যাচ্ছিল। তার দু’চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরতে লাগল। আব্দুর রহমান ইবন আউফ তাঁকে বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল?! আপনিও (কাঁদছেন)? তিনি বললেন, “হে ইবন আউফ! এটা রহমত।” অতঃপর তিনি আরো কাঁদলেন। তারপর বললেন, “চোখ অশ্রুপাত করছে এবং অন্তর দুঃখিত হচ্ছে,তবে আমরা সে কথাই বলব, যা আল্লাহকে সন্তুষ্ট করবে। আর হে ইবরাহীম! আমরা তোমার বিরহে দুঃখিত।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ছেলে ইবরাহীমের নিকট প্রবেশ করলেন। যখন সে মৃত্যুর নিকটবর্তী। ফলে তার দু’চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরতে লাগল। তখন আব্দুর রহমান ইবন ‘আউফ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু তাঁকে বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল, আপনিও (কাঁদছেন)? তিনি আশ্চর্য হলেন। অর্থাৎ মানুষ বিপদে ধৈর্য ধারণ করে না, দেখছি আপনিও তাদের মতো কাজ করছেন! তিনি তার এ অবস্থা দেখে আশ্চর্য হলেন। অথচ ইবন আউফ তার সম্পর্কে জানতেন যে, তিনি মানুষকে ধৈর্য ধরতে বলেন ও অধৈর্য হতে নিষেধ করেন। তিনি তাকে উত্তর দিলেন, এটা তো রহমত। অর্থাৎ, তুমি আমার যে অবস্থা দেখছ, সেটা সন্তানের প্রতি অন্তরের দয়া। অতঃপর তিনি আরেকটি বাক্য বললেন, “চোখ অশ্রুপাত করছে ও অন্তর দুঃখিত হচ্ছে তবে আমরা তাই বলব যা আল্লাহকে সন্তুষ্ট করবে। অর্থাৎঅসন্তুষ্ট হব না, বরং ধৈর্য ধারণ করব। আর হে ইব্রাহীম! আমরা তোমার বিরহে দুঃখিত। সুতরাং রহমত ধৈর্য ও তাকদীরের ওপর ঈমানের পরিপন্থী নয়।
জাবির ইব্নু ‘আবদুল্লাহ্ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, “জুমু‘আর দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের সামনে খুতবাহ দিচ্ছিলেন। এ সময় এক ব্যক্তি আসলে তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন, হে অমুক! তুমি কি সালাত আদায় করেছ? সে বলল, না; তিনি বললেন, উঠ, সালাত আদায় করে নাও”।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে নববীতে মানুষকে খুতবা দিচ্ছিলেন এ অবস্থায় শালিক আল গাতফানী মসজিদে প্রবেশ করল এবং সে খুতবা শোনার জন্য তাহিয়্যাতুল মাসজিদ না আদায় করে বসে পড়ল। হয়তো সে তার বিধান সম্পর্কে জানে না বা সে ভাবছিল খুতবা শোনা গুরুত্বপূর্ণ বেশি। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপদেশ ও খুতবাহ প্রদান তাকে তা‘লীম বা শিক্ষা দেওয়া থেকে বিরত রাখেনি। তিনি তাকে সম্বোধন করে বললেন, “হে অমুক! আমি তোমাকে দেখার পূর্বে সালাত আদায় করছ?” সে বলল, না, তাহলে তুমি দাড়াও, দুই রাকা‘আত সালাত আদায় কর”। সহীহ মুসলিমের বর্ণনায় এসেছে, “তাকে তিনি নির্দেশ দেন যেন সে তাতে সংক্ষিপ্ত করে”। ঘটনাটি ছিল বড় একটি সমাবেসে যেন সময়মত লোকটি তা‘লীম পায় এবং শিক্ষাটি যেন হয় উপস্থিত সবার মাঝে ব্যাপকভাবে। যে ব্যক্তি ইমামের খুতবা চলা অবস্থায় মসজিদে প্রবেশ করবে, তার জন্য সালাত আদায় করা বৈধ। এ হাদীসটি তার প্রমাণ। এ ছাড়াও অপর একটি হাদীসে রয়েছে। “যখন তোমাদের কেউ জুমু‘আর দিন ইমামের খুতবা চলা অবস্থায় মসজিদে প্রবেশ করে সে যেন দুই রা‘আত সালাত আদায় করে”। এ কারণেই নববী মুসলিমের ব্যখ্যায় রাসূলের বাণী “যখন তোমাদের কেউ জুমু‘আর দিন ইমামের খুতবা চলা অবস্থায় মসজিদে প্রবেশ করে সে যেন দুই রাকা‘আত সালাত আদায় করে।”-এর আলোচনায় বলেন, এটি নস এখানে ব্যাখ্যার কোন সুযোগ নাই। আর আমি মনে করি না যে, এমন কোন আলেম আছে যার কাছে এ শব্দ পৌছছে এবং সে একে সহীহ বলে বিশ্বাস করার পর তার বিরোধিতা করেছে।
আব্দুল্লাহ ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সফর করেছি। তিনি সফরে (চার রাক‘আত বিশিষ্ট সালাতে) দু’রাক‘আতের বেশি আদায় করতেন না। আবূ বকর, উমার ও উসমানও এমনই করতেন।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।আব্দুল্লাহ ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা বর্ণনা করেন যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে অনেক সফরে ছিলেন। অনুরূপভাবে আবূ বকর, উমার ও উসমান রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমদের সাথেও অনেক সফরে ছিলেন। তারা সকলেই চার রাক‘আত বিশিষ্ট সালাত কসর করে দু’রাক‘আত করে আদায় করতেন, এর বেশি আদায় করতেন না। অর্থাৎ তাদের কেউ সফরে চার রাক‘আত বিশিষ্টি ফরয সালাত পূর্ণ চার রাক‘আত আদায় করতেন না এবং ফরযের আগে-পরের সুন্নাত সালাতও আদায় করতেন না। তিনি আবূ বকর, উমার ও উসমান রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমের কথা উল্লেখ করেছেন এটি প্রমাণ করার জন্য যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত্যুর পরেও এ বিধানটি রহিত হয় নি এবং তার বিপরীতে শক্তিশালী কোনো মতও নেই। তবে সফরে চার রাক‘আত বিশিষ্টি ফরয সালাত পুরোপুরি আদায় করাও জায়েয। তবে কসর করা উত্তম। কেননা আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, “(আর যখন তোমরা জমিনে সফর করবে, তখন তোমাদের সালাত কসর করাতে কোন দোষ নেই।” [সূরা আন-নিসা, আয়াত: 101] এ আয়াতে দোষ না হওয়ার কথা বলা হয়েছে, যা থেকে বুঝা যায় যে, কসর রুখসত (সুযোগ), আযীমাত (অত্যাবশ্যকীয়) নয়। তাছাড়া সালাতের মূল হলো (রাক‘আত) পূর্ণ করা। আর কসর হলো পূর্ণ রাক‘আতকে সংক্ষিপ্ত করা। তবে মুসাফিরের জন্য উত্তম হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণে ও যারা কসরকে ওয়াজিব মনে করেন তাদের মতানৈক্য থেকে বেঁচে থাকার জন্য কসর না ছাড়া। তাছাড়া কসর করা সকল আলেমদের কাছে উত্তম।
সামুরা ইবন জুনদাব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের পিছনে এক মহিলার জানাযার সালাত আদায় করেছি যিনি নিফাস অবস্থায় মারা গিয়েছিল। তিনি তার জানাযার ঠিক মাঝখানে দাঁড়িয়েছিলেন”।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।নারী হোক বা পুরুষ, ছোট হোক বা বড় হোক সকল মুসলিম মৃত ব্যক্তির ওপর জানাযার সালাত আদায় করা ওয়াজিব। সামুরা ইবন জুনদুব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু সংবাদ দেন যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের পিছনে এক মহিলার জানাযার সালাত আদায় করেছেন যিনি নিফাস অবস্থায় মারা গিয়েছিল। তিনি মাইয়্যেতের ঠিক মাঝখানে দাঁড়িয়েছিলেন।
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে সূর্য গ্রহণ হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষদের নিয়ে সূর্যগ্রহণের সালাত পড়েন। তাতে তিনি দীর্ঘ কিয়াম করেন, তারপর দীর্ঘ রুকূ করেন, তারপর রুকূ থেকে উঠেও দীর্ঘ কিয়াম করেন, এ ছিল প্রথম কিয়ামের থেকে কিছুটা কম। অতঃপর সাজদায় গিয়ে দীর্ঘ সাজদাহ করেন, অতঃপর পরবর্তী রাকা‘আতে তাই করেন যা প্রথম রাকা‘আতে করে থাকেন। তারপর তিনি সালাম ফিরান অথচ সূর্য তখন পরিস্কার হয়ে পড়লো। তারপর তিনি মানুষকে ভাষণ দিলেন। আল্লাহর প্রশংসা এবং কৃতজ্ঞতা আদায় করার পর বললেন। চন্দ্র ও সূর্য আল্লাহর নিদর্শনসমূহের দুটি নিদর্শন। কারো মারা যাওয়া বা জন্ম হওয়ার কারণে চন্দ্র বা সূর্য গ্রহণ হয় না। যখন তোমরা তা দেখো আল্লাহকে ডাকো, তাকবীর বলো, সালাত আদায় করো এবং সাদকা করো। তারপর তিনি বলেন, হে উম্মাতে মুহাম্মাদ কেউ আল্লাহর চাইতে অধিক ঈর্ষান্বিত নয় যে, একজন তার গোলামের সাথে বা বাঁদীর সাতে ব্যভিচার করবে। হে উম্মাতে মুহাম্মাদ আমি যা জানি যদি তোমরা তা জানতে তাহলে তোমরা কম হাঁসতে এবং অধিক কাঁদতে। অপর শব্দে বর্ণিত: তারপর তিনি চার রাকা‘আত এবং চার সাজদাহ পূর্ণ করেন।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে সূর্য গ্রহণ হলো। যেহেতু সূর্য্য গ্রহণ ছিল আকিস্মক তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের নিয়ে পরিমাণ ও প্রদ্ধতিগত দিক দিয়ে ব্যতিক্রম ও আকস্মিক সালাত আদায় করেন। তিনি মানুষকে সূর্যগ্রহণের সালাত আদায় করেন। তিনি দীর্ঘ কিয়াম করেন, তারপর দীর্ঘ রুকূ করেন, তারপর কিয়াম করেন এবং দীর্ঘ কিরাত পড়েন যা প্রথম কিরাত থেকে কিছুটা সংক্ষেপ। তারপর আবার দীর্ঘ রুকূ করেন, আর তা ছিল প্রথম রুকূ থেকে সংক্ষিপ্ত। অতঃপর সাজদায় গিয়ে দীর্ঘ সাজদাহ করেন, অতঃপর পরবর্তী রাকা‘আতে তাই করেন যা প্রথম রাকা‘আতে করে থাকেন। যদিও তা কিছুটা সংক্ষেপ ছিল। প্রতিটি রুকনই অপর রুকন থেকে কিছুটা সংক্ষেপ। এভাবেই তিনি দুই রাকা‘আত চার রুকূ এবং চার সেজদাহ সমাপ্ত করেন।তারপর তিনি সালাত শেষ করেন। অথচ সূর্য তখন পরিস্কার হয়ে পড়লো। তারপর তিনি তার স্বাভাবিক অভ্যাস অনুযায়ী মানুষকে ভাষণ দিলেন। প্রথমে তিনি আল্লাহর প্রশংসা এবং কৃতজ্ঞতা আদায় করেন। তারপর তিনি তাদের নসিহত করেন। যেদিন সূর্য্য গ্রহণ হয় সেদিন তার ছেলে ইবরাহীমের মৃত্যু ঘটনাও সংঘটিত হয়। তাই কেউ কেউ বলল, ইবরাহীমের মৃত্যুর কারণে সুর্য্য গ্রহণ হয়েছে। জাহিলিয়্যাতের যুগের এ ধরনের বিশ্বাস ছিল যে, সূর্য্য গ্রহণ কোন মহান মৃত্যু বা মহা জম্মের কারণেই হয়ে থাকে। তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাখলুকের উপকারার্থে এবং তাদের কাছে রিসালাতের বাণী তুলে ধরার ক্ষেত্রে মুখলিস হওয়াতে তাদেরকে উপদেশ দেওয়ার মাধ্যমে তাদের অন্তর থেকে এ ধরণের কুসংস্কার যার কোন বিশুদ্ধ ভিত্তি এবং যুক্তিকতা নেই তা দূর করতে চাইলেন। তিনি তার খুতবায় সূর্য ও চন্দ্র গ্রহণের হিকমাত বর্ণনা করে তার ভাষণে বলেন, চন্দ্র ও সূর্য আল্লাহর নিদর্শনসমূহের দুটি নিদর্শন। কারো মারা যাওয়া বা জন্ম হওয়ার কারণে চন্দ্র বা সূর্য গ্রহণ হয় না। এ দুটি বিষয়কে আল্লাহই তার কুদরত দ্বারা সংঘটিত করেন যাতে তিনি এ দ্বারা তার বান্দাদের সতর্ক করেন এবং তাদের তার নি‘আমত স্মরণ করিয়ে দেন। যখন তোমরা তা দেখো আল্লাহর তাওবা করতে করতে এবং ক্ষমা চাইতে চাইতে তার দিকে ফিরে যাও এবং তাকে ডাকো, তাকবীর বলো, সালাত আদায় করো এবং সাদকা করো। কারণ এতে রয়েছে আসন্ন মুসিবত প্রতিহত করা এবং শাস্তি দূর করা। তারপর তিনি আল্লাহর কিছু বড় বড় নাফরমানী তুলে ধরেন। যেমন ব্যভিচার যা একটি সমাজকে কুলশিত করে এবং চরিত্রকে ধ্বংস করে এবং যা আল্লাহর ক্ষোভ ও শাস্তিকে অবধারিত করে। এ ওয়াজে তিনি সপথ করেন। যদিও তিনি পরম সত্যবাদী। তিনি বলেন, হে উম্মাতে মুহাম্মাদ! আল্লাহর সপথ, কেউ আল্লাহর চাইতে অধিক ঈর্ষান্বিত নয় যে, একজন তার গোলামের সাথে বা বাঁদীর সাথে ব্যভিচার করবে।তারপর তিনি বর্ণনা করেন যে, তারা আল্লাহর আযাব সম্পর্কে খুব কমই জ্ঞান রাখে। তিনি যা জানেন যদি তারা তা জানতো তাহলে তাদের মধ্যে ভয় প্রবেশ করত। তাহলে তারা খুশির সময় কম হাঁসতো এবং অধিক কাঁদতো এবং অধিক চিন্তিত হতো। কিন্তু আল্লাহ তার প্রজ্ঞানুযায়ী তাদের থেকে আড়াল করে রেখেছেন।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর স্ত্রী আয়িশাহ রাযিয়াল্লাহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সামনে ঘুমাতাম। আমার পা দু’টি তখন তাঁর ক্বিবলাহর দিকে থাকতো। তিনি যখন সাজদায় যেতেন তখন আমাকে খোঁচা দিতেন। তাতে আমি পা দু’টি গুটিয়ে নিতাম। আর তিনি দাঁড়িয়ে গেলে আমি তা প্রসারিত করতাম। সে সময় ঘরগুলোতে বাতি ছিল না।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলতেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রাতের সালাত আদায়কালে আমি তাঁর সামনে ঘুমাতাম। আমাদের ঘরসমূহ সংকীর্ণ হওয়ার কারণে আমার পা দু’টি তাঁর সামনে তাঁর মাঝে ও সিজদার স্থানের মাঝখানে থাকতো। যতক্ষণ পর্যন্ত তিনি দাড়িঁয়ে তাহাজ্জুদ পড়তেন ততক্ষণ আমি পাদ্বয়কে বিছিয়ে রাখতাম। যখন তিনি সিজদায় যেতেন তখন আমার পায়ে খোঁচা দিলে পা দু’টি গুটিয়ে নিতাম। যাতে তিনি সিজদা করতে পারেন। আর আমি যখন তাকে দেখতাম তিনি সেজদা করতে যাচ্ছেন তখন আমি খোঁচা দেয়া ছাড়াই পাদ্বয় গুটিয়ে নিতাম। কিন্তু সে সময় আমাদের ঘরগুলোতে বাতি ছিল না। যাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখা যেতো। দেখা গেলে তো তিনি নিজেই পা দ্বয় সরিয়ে নিতেন। খোঁচা দেওয়ার দরকার পড়তো না।