





























Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
All
কাব বিন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে তিন আঙ্গুল দিয়ে দেখেছি এবং যখন খাবার শেষ করতেন সেগুলো খেতেন।”
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিন আঙ্গুল দিয়ে খেতেন, আর সেগুলো হচ্ছে মধ্যমা, তর্জনী ও বৃদ্ধাঙ্গুল। এ থেকে প্রমাণিত হয় তিনি খাবারের প্রতি লোভী ও অধিক ভক্ষণকারী ছিলেন না। আর তিনি যখন খাবার শেষ করতেন আঙ্গুল চেটে খেতেন। অতএব তিন আঙ্গুল দিয়ে খাওয়াই মুস্তাহাব। তবে যদি তিন আঙ্গুল দিয়ে খাবার গ্রহণ করা সম্ভব না হয়, তাহলে যেভাবে ইচ্ছা খাবে।
আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, একটি সফরে আমরা রাসূলুল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ছিলাম। আমাদের মধ্যে কতক ছিল সাওম পালনকারী এবং কতক ছিল সাওম ছাড়া। প্রচণ্ড গরমে আমরা একটি স্থানে অবস্থান করলাম। আমরা কাপড় ওয়ালারা বেশি ছায়ার মালিক ছিলাম। আর আমাদের মধ্যে কতক ছিল যারা তাদের হাত দিয়ে গরম থেকে বেঁচে থাকত। তিনি বলেন, সাওম পালনকারীগণ পড়ে গেল। আর যারা সাওম পালন করেন নি তারা খিমা নির্মাণ এবং সাওয়ারীগুলোকে পানি পান করাতে আরম্ভ করল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আজকের দিন যারা সাওম পালন করেন নি তারা বিনিময় নিয়ে গেল।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।একটি সফরে সাহাবীগণ রাসূলুল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ছিলাম। আমাদের মধ্যে কতক ছিল সাওম পালনকারী এবং কতক ছিল সাওম ছাড়া। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেককে তার নিজ নিজ অবস্থার ওপর ছেড়ে দিলেন। অতঃপর সফরে ক্লান্তি লাগবের উদ্দেশ্যে এবং দুপুরের রোদ্রের তাপ থেকে বাঁচার জন্য প্রচণ্ড গরমে একটি স্থানে অবস্থান নিল, যাতে তারা তাতে বিশ্রাম করেন। যখন তারা এ গরমের মধ্যে তাতে অবতরণ করলেন তখন সাওম পালনকারীগণ গরমে ও পিপাসায় ক্লান্ত হয়ে পড়লেন। ফলে তারা কোনো কাজ করতে পারলেন না। আর যারা সাওম পালন করেন নি তারা খিমা নির্মাণ এবং সাওয়ারীগুলোকে পানি পান করাতে আরম্ভ করল। আর সাওম পালনকারীদের খিদমত করা শুরু করে দিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাদের কর্ম ও মুজাহিদদের সেবা দেখলেন, তাদের উৎসাহ দিয়ে বললেন, “আজকের দিন যারা সাওম পালন করেন নি তারা বিনিময় নিয়ে গেলেন।
আবদুল্লাহ ইবন যায়দ ইবন আসিম রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হুনাইনের দিবসে আল্লাহ যখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে গনীমতের সম্পদ দান করলেন, তখন তিনি ঐগুলো সেসব মানুষের মধ্যে বন্টন করে দিলেন, যাদের হৃদয়কে ঈমানের ওপর সুদৃঢ় করার প্রয়োজন অনুভব করেছিলেন। আর আনসারগণকে তিনি কিছুই দেননি। ফলে তারা যেন নাখোশ হয়ে গেলেন। কেননা অন্যান্য লোক যা পেয়েছে তারা তা পাননি। কাজেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে সম্বোধন করে বললেন, “হে আনসারগণ! আমি কি তোমাদেরকে গুমরাহীর মধ্যে লিপ্ত পাইনি, পরে আল্লাহ আমার দ্বারা তোমাদেরকে হিদায়াত দান করেছেন? তোমরা ছিলে পরস্পর বিচ্ছিন্ন, অতঃপর আল্লাহ আমার মাধ্যমে তোমাদের পরস্পরকে জুড়ে দিয়েছেন। তোমরা ছিলে অভাবগ্রস্ত, অতঃপর আল্লাহ আমার মাধ্যমে তোমাদেরকে অভাবমুক্ত করেছেন। এভাবে যখনই তিনি সেদিন কোনো কথা বলেছেন তখন আনসারগণ জবাবে বলেছেন, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই আমাদের ওপর অধিক অনুগ্রহকারী। তিনি বললেন, আল্লাহর রাসূলের জবাব দিতে তোমাদেরকে বাধা দিচ্ছে কিসে? তারা তখনও তিনি যা কিছু বলছেন তার উত্তরে বলে গেলেন, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই আমাদের ওপর অধিক অনুগ্রহকারী। তিনি বললেন, তোমরা ইচ্ছা করলে বলতে পার যে, আপনি আমাদের কাছে এমন এমন সময়ে এসেছেন (লোকেরা যখন আপনাকে মিথ্যুক বলেছিল তখন আমরা আপনাকে সত্যায়ন করেছি, আপনি আমাদের কাছে এসেছেন অসহায় অবস্থায়, অতঃপর আমরা আপনাকে আশ্রয় দিয়েছি...)। কিন্তু তোমরা কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, লোকেরা বকরী ও উট নিয়ে ফিরে যাবে আর তোমরা তোমাদের বাড়ি ফিরে যাবে আল্লাহর নবীকে সাথে নিয়ে? আল্লাহর পক্ষ থেকে যদি আমাকে হিজরত করানোর সিদ্ধান্ত গৃহীত না থাকত তা হলে আমি আনসারদেরই একজন হতাম। লোকজন যদি কোনো উপত্যকা ও গিরিপথ দিয়ে চলে তাহলে আমি আনসারদের উপত্যকা ও গিরিপথ দিয়েই চলব। আনসারগণ হলো আমার দেহ সংযুক্ত গেঞ্জি আর অন্যান্য লোক হল উপরের জামাস্বরূপ। আমার বিদায়ের পর অচিরেই তোমরা দেখতে পাবে অন্যদের অগ্রাধিকার। তখন ধৈর্যধারণ করবে। অবশেষে তোমরা হাউজে কাউসারে আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।আল্লাহ যখন তার নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হুনাইয়েন যুদ্ধে অনেক গনীমত দান করলেন এবং তিনি তায়েফ অবরোধ প্রত্যাহার করার পরে গনীমতের মালের দিকে মনোনিবেশ করলেন। গণীমতের অধিকাংশ ছিল গৃহপালিত পশু। তাতে চল্লিশ হাজার উট এবং এক লক্ষ বিশ হাজার বকরী গণীমত হিসাবে জমা হয়েছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নতুন মুসলিমদের একদল লোককে তা দান করলেন। যাতে তাদের হৃদয়কে ঈমানের ওপর সুদৃঢ় করা যায়। এটা কতিপয় আনসার অপছন্দ করলেন। তবে তাদের বিশিষ্টজনরা জানতেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বণ্টন যথার্থ বণ্টন। যখন তাদের কথা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট পৌঁছল, যেমন তাদের কেউ বলেছিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন সব লোকদের গনীমত দেন যাদের রক্ত এখনও আমাদের তলোয়ার থেকে টপকে পড়ছে; অথচ তিনি আমাদেরকে পরিহার করছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে এক প্রশস্ত জায়গায় একত্রিত হতে নির্দেশ দিলেন। তারা একত্র হলো। তিনি বললেন তোমাদের এ কি কথা আমার নিকট পৌঁছেছে...! তাদের কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন এবং তাদেরকে ভর্ৎসনা করলেন। আর তারা তাঁর জন্য ও তার আনীত ইসলামের জন্য যে সাহায্য করেছে তাও তিনি স্বীকার করলেন। ফলে তাদের অন্তর খুশী হলো। আল্লাহ তাআলা তাদের জন্য যে মহা প্রতিদান সঞ্চয় করে রেখেছেন, তারা তাও জানতে পারলো। জানতে পারলো নবীর সাহচর্য পেয়ে ধন্য হওয়ার কথা ও তাকে নিয়ে তাদের বাড়িতে ফিরে যাওয়ার মহা প্রতিদানের বিষয়টি। সাথে সাথে তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য যে অবদান রেখেছেন ও ত্যাগ স্বীকার করেছেন তার বিনিময়ে আখিরাতে আল্লাহর সঞ্চিত অশেষ নি‘আমতের কথাও জানলো। তাই তার পরে তারা যে অগ্রাধিকার দেখবে সে ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে ধৈর্যধারণ করতে আদেশ দিলেন। দেখুন, তাইসীরুল আল্লাম, পৃ. ৩০৬; তানবীহুল আফহাম, (৩/৪০৩); তা’সীসুল আহকাম, (৩/১৯৭)।
আবূ সা‘ঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রামাদানের মধ্যম দশকে ই‘তিকাফ করতেন। এক বছর এরূপ ই‘তিকাফ করেন, যখন একুশের রাত আসলো, যে রাতের সকালে তিনি তাঁর ই‘তিকাফ থেকে বের হবেন, তখন বললেন, যারা আমার সঙ্গে ই‘তিকাফ করেছে তারা যেন শেষ দশকে ই‘তিকাফ করে। আমাকে স্বপ্নে লাইলাতুল কাদর দেখানো হয়েছিল। পরে আমাকে তা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। অবশ্য আমি স্বপ্নে দেখতে পেয়েছি যে, ঐ রাতের সকালে আমি কাদা ও পানির মাঝে সাজদাহ করছি। তোমরা তা শেষ দশকে তালাশ কর এবং প্রত্যেক বেজোড় রাতে তালাশ কর। পরে এই রাতে আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষিত হলো, মসজিদের ছাদ ছিল খেজুর পাতার ছাউনির। ফলে মসজিদে টপটপ করে বৃষ্টি পড়তে লাগল। তাই একুশের রাতের সকালে আমার দু’চোখ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কপালে কাদা ও পানির চিহ্ন দেখতে পেয়েছে।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।আবূ সা‘ঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু সংবাদ দিচ্ছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযানের মধ্যম দশকে লাইলাতুল কদরের অন্বেষণে ই‘তিকাফ করতেন। তাঁর অভ্যাস অনুযায়ী এক বছর এভাবে ই‘তিকাফ করেন, যখন একুশের রাত আসলো, যে রাতের সকালে তিনি তাঁর ই‘তিকাফ থেকে বের হবেন, তখন তিনি জানতে পারলেন যে, কদরের রাত রামাযানের শেষ দশকে। ফলে তিনি তাঁর সাহাবীগণকে বললেন, যারা আমার সঙ্গে রামাযানের মধ্য দশকে ই‘তিকাফ করেছে তারা যেন তাদের ই‘তিকাফ শেষ দশক পর্যন্ত চালিয়ে যায়। তিনি আরো বলেছেন, আল্লাহ তা‘আলা তাকে স্বপ্নে এলাইলাতুল কাদর দেখিয়েছেন অতঃপর তাঁকে তা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। অবশ্য তিনি স্বপ্নে সে বছরের লাইলাতুল কদরের রাতে কিছু আলামত দেখেছেন: আর সেসব আলামত হলো, ফজরের সালাতে কাদা ও পানির মাঝে তাঁর সাজদাহ করা। আল্লাহ তাঁর নবীর স্বপ্ন সত্যে পরিণত করেছেন। ফলে একুশে রামাযানের রাতে আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষিত হলো, মসজিদের ছাদ ছিল খেজুর পাতার ছাউনির। আর খুঁটি ছিলো খেজুরে গাছের। বৃষ্টির ফলে মসজিদে টপটপ করে পানি পড়তে লাগল। ফলে একুশের রাতের সকালে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাদা ও পানিতে সাজদাহ করেছেন। দেখুন, তাইসীরুল আল্লাম, পৃ. ৩৪৯; তান্বীহুল আফহাম, (৩/৪৭২); তা’সীসুল আহকাম (৩/২৯২)।
জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক সফরে ছিলেন, হঠাৎ তিনি লোকের জটলা এবং ছায়ার নিচে এক ব্যক্তিকে দেখে জিজ্ঞেস করলেনঃ “এর কী হয়েছে?” লোকেরা বলল, সে সায়িম। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ “ সফরে সওম পালনে কোন সওয়াব নেই”। মুসলিমের শব্দ হল, “তোমরা আল্লাহর শিথিলতাকে গ্রহণ কর, যেই শিথিলতা তিনি তোমাদের দিয়েছেন”।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমরাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক সফরে ছিলেন। তিনি দেখলেন, একজন ব্যক্তিকে ঘিরে লোকেরা জড়ো হয়েছে এবং তার ওপর ছায়া দেওয়া হয়েছে সূর্যের প্রচণ্ড তাপ ও তৃষ্ণার কারণে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: ওর কী হয়েছে? তারা বলল: সে সিয়াম রেখেছে। তখন তিনি বললেন: সফরে সিয়াম রাখা পুণ্যের কাজ নয়। তোমরা আল্লাহ্র রুকসত (ছাড়) গ্রহণ করো, যা তিনি তোমাদেরকে দিয়েছেন।
আবুদ দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “একবার আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে রামাযান মাসে সফরে বের হলাম। তখন অত্যন্ত গরম ছিলো; এমনকি আমাদের কেউ কেউ গরমের প্রচণ্ডতা থেকে বাঁচার জন্য নিজের হাত মাথার উপর রাখতেন। আমাদের মধ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আব্দুল্লাহ ইবন রাওয়াহা রাদিয়াল্লাহু আনহু ছাড়া আর কেউই সাওম পালনকারী ছিলেন না।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।আবুদ দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু সংবাদ দেন যে, তারা একবার রামাযান মাসে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে সফরে বের হয়েছিলেন। তখন গরমের তীব্রতা এতো বেশি ছিলো যে, গরমের প্রচণ্ডতা থেকে বাঁচার জন্য কেউ কেউ নিজের হাত মাথার উপর রেখেছেন। তাদের মধ্যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আব্দুল্লাহ ইবন রাওয়াহা আনসারী রাদিয়াল্লাহু আনহু ছাড়া আর কেউই সাওম পালনকারী ছিলেন না। তারা গরমের তীব্রতা সহ্য করে সাওম পালন করেছিলেন। এ হাদীস দ্বারা বুঝা যায় যে, সফরে প্রচণ্ড কষ্ট সত্ত্বেও সাওম পালন করা জায়েয; যদি কষ্টের তীব্রতা ধ্বংসের পর্যায়ে না পৌঁছে।
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে মরফূ হিসেবে বর্ণিত, “মুসলিমের ওপর তার ঘোড়া ও গোলামের মধে কোনো যাকাত নেই। ”অন্য শব্দে এভাবে এসেছে: “কিন্তু দাস-দাসীর মধ্যে সাদাকাতুল ফিতর রয়েছে।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।সাম্য ও ইনসাফের ওপর যাকাতের ভিত্তি। এ কারণে আল্লাহ তায়ালা ধনীদের বর্ধনশীল ও বৃদ্ধির জন্য প্রস্তুতকৃত সম্পদের ওপর যাকাত ওয়াজিব করেছেন। যেমন যমীনের উৎপাদিত ফসল, ব্যবসার মাল প্রভৃতি। আর অন্যান্য সম্পদ যা বর্ধনশীল নয় এবং নিত্য প্রয়োজনীয় তাতে তার মালিকের ওপর যাকাত নেই। কেননা তা দ্বারা মুসলিমকে একান্তভাবে খাস করা হয়েছে। যেমন মুসলিমের ঘোড়া, উট, গাড়ি একইভাবে তার খেদমতের দাস, ব্যবহারের বিছানা এবং পাত্রসমূহ। তবে ক্রীতদাসের ক্ষেত্রে যাকাতুল ফিতরের হুকুম এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। তার ওপর যাকাতুল ফিতর ওয়াজিব হবে। যদিও ব্যবসার জন্য প্রস্তুত করা না হয়। কারণ, তা তার সম্পর্ক ব্যক্তির সাথে; সম্পদের সাথে নয়।
আবদুল্লাহ ইবন ‘উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফু‘ হিসেবে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাওমে বেসাল থেকে নিষেধ করলেন। লোকেরা বললো, আপনি যে সাওমে বেসাল পালন করেন! তিনি বললেন: আমি তোমাদের মতো নই, আমাকে পানাহার করানো হয়। তোমাদের কেউ যদি বেসাল করতে চায় সে যেন সাহরী পর্যন্ত বেসাল করে।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।সাহাবীদের প্রতি দয়াবান ও মেহেরবান হয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে সাওমে বেসাল করতে নিষেধ করেছেন। কিন্তু সাহাবীগনের মধ্যে আল্লাহর অনুগ্রহের প্রতি মহব্বত এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের প্রতি অধিক লোভ থাকার কারণে তারা রাসূলের অনুকরণে সাওমে বেসাল করতে আগ্রহ দেখালেন। আর তারা বললেন, আপনি সাওমে বেসাল করেন। তখন তিনি তাদের জানিয়ে দেন যে, তার জন্য একজন খাওয়ানে ওয়ালা রয়েছে, যে তাকে খাওয়ায় এবং একজন পান করানে ওয়ালা রয়েছে যে তাকে পান করায় যা তার খাওয়া ও পান করার বিনিময় হয়ে যায়। তবে যদি তোমাদের কেউ সাওমে বিসাল করার ইচ্ছা করে সে যেন সাহরী পর্যন্ত বেসাল করে। ইসলামী শরী‘আত হলো একটি চিরন্তন সহজ ও সরল পথ। তাতে কোনো বাড়াবাড়ি ও কষ্ট নেই এবং সীমালঙ্ঘন ও লুকোচুরি নেই। কারণ, সাওমে ওয়িসালে আত্মাকে কষ্ট দেওয়া ও বেঁধে রাখা হয়। আর আল্লাহ কোনো আত্মাকে তার সাধ্যের বাহিরে কষ্ট দেন না। কারণ, সহজ করা এবং সহনীয়তার মধ্যে আমলের স্থায়ীত্ব ও নিরাপত্তা থাকে। আর তাতে রয়েছে ইনসাফ যা আল্লাহ তা‘আলা যমীনে স্থাপন করেছেন। আর তা হলো আল্লাহ তা‘আলা যে ইবাদত করা বান্দার কাছে চেয়েছেন, তা তাকে দান করা। আর আত্মাকে দান করা তা যা তাকে শক্তিশালী করে।
মুহাম্মাদ ইবন আব্বাদ ইবন জাফর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি জাবির ইবন আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুকে জিজ্ঞেস করলাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কি জুমুআর দিনে নফল সাওম পালনে নিষেধ করেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ।” অন্য বর্ণনায় এসেছে: “কা‘বার রবের কসম”।
এটি নাসাঈ বর্ণনা করেছেন। - মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।জুমুআর দিন যেহেতু মুসলিমদের জন্য ঈদ, তাই শরীয়ত প্রণেতা ঐ দিনকে সাওম বা সালাতের জন্য নির্দিষ্ট করতে নিষেধ করেছেন; বরং সাওম পালন করতে চাইলে তার পূর্বে বা পরে একদিন মিলিয়ে নিবে। অথবা অভ্যাসের রোজার অন্তর্ভুক্ত হলে রাখতে পারবে। এটা এই জন্য যে, সাধারণ লোকেরা যেন ধারণা না করে যে, জুমুআর দিনকে অন্যান্য দিনের চেয়ে অতিরিক্ত ইবাদত বা আমল দ্বারা বিশেষিত করা ওয়াজিব।