





























Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
All
উমার ইবন খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: বনী নাযীরের ধন-সম্পদ ছিল আল্লাহর রাসূলের ওপর আল্লাহর অনুগ্রহ যাতে মুসলিমগণ কোন উট বা ঘোড়া দোড়াতে হয়নি। তাই তা ছিল কেবল আল্লাহর রাসূলেন জন্য খাস। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসালা তার পরিবারের এক বছরের খরচা আলাদা করে রাখতেন। তারপর অবশিষ্ট সম্পদ আল্লাহর রাস্তার প্রস্তুতি ও ঘোড়ার মধ্যে ব্যয় করতেন।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুহাজির হয়ে মদীনায় গমন করলে তিনি তার আসপাশে ইয়াহুদীদের বিভিন্ন দল দেখতে পান। তিনি তাদের সাথে চুক্তিবদ্ধ হলেন যে, তাদেরকে তাদের দীনের ওপর বাকী রাখা হবে তারা তার বিরোধিতা করবে না এবং তার বিপক্ষে দুশমনদের সাহায্য করবে না। সাহাবীগণের থেকে আমর ইবন উমাইয়্যাহ আদ-দামরী রাদিয়াল্লাহু আনহু নামক এক সাহাবী বনী আমেরের দুই লোক ইসলামের দুশমণ ভেবে হত্যা করে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলইহি ওয়াসাল্লাম দুই লোকের দিয়্যতের দায়িত্ব নিলেন। তিনি বনী নাযীর এলাকায় গেলেন দুই লোকের দিয়তের বিষয়ে সাহায্য চাওয়ার জন্য। তিনি তাদের সাহায্য পাওয়ার অপেক্ষায় তাদের কোন একটি বাজারে বসে ছিল। তখন তারা চুক্তি ভঙ্গ করলেন এবং তাকে হত্যা করার চেষ্টা করলেন। আসমান থেকে তাদের ঘাতকতা বিষয়ে অহী আসলে তিনি তাদের এলাকা থেকে পায়খানা-পেশাবের ভান করে বের হয়ে পড়লেন এবং মদীনার দিকে রওয়ানা হলেন। তারপর যখন সাহাবীদের নিকট পৌছতে তার দেরি হলো, তখন তারা তাকে খুজতে বের হলেন। তিনি তাদের ইয়াহুদীদের ঘাতকতা সর্স্পকে জানিয়ে দিলেন। আল্লাহ তাদের বিকৃতি করুক। তাদেরকে তাদের এলাকায় ছয়দিন ঘেরাও করে করে রাখা হয়। তারপর তারা শিরিয়া, হীরাহ ও খাইবারে দেশান্তর হওয়ার বিষয়ে একমত হলে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। ফলে তাদের সম্পদ ছিল শীতল গণীমত যা কোন প্রকার কষ্ট ছাড়াই মুসলিমদের উপার্জন হয়েছিল। কারণ, তাদের বিরুদ্ধে কোন ঘোড়া বা উট দোড়াতে হয়নি। সুতরাং তাদের সম্পদ আল্লাহ ও তার রাসূলের জন্য। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা থেকে তার পরিবারের জন্য এক বছরের খরচা জমা করে রাখতেন এবং বাকী মাল তিনি সাধারণ মুসলিমের কল্যাণে ব্যয় করতেন। আর ঐ সময় উত্তম কল্যাণ ছিল জিহাদের জন্য ঘোড়া ও অস্ত্র ইত্যাদির সামানা প্রস্তুত করা। সাধারণ কল্যাণের জন্য সব সময়েই সময় উপযোগী কিছু ব্যয় খাত থাকে সেখানে ব্যয় করাতে কোন অসুবিধা নেই।
আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু সূত্রে নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, কেউ যদি কোন ক্রীতদাস হতে নিজের অংশ মুক্ত করে আর ক্রীতদাসের মূল্য পরিমাণ অর্থ তার কাছে থাকে, তবে তার উপর দায়িত্ব হবে ক্রীতদাসের ন্যায্য মূল্য নির্ণয় করা। তারপর সে শরীকদেরকে তাদের প্রাপ্য অংশ পরিশোধ করবে এবং ক্রীতদাসটি তার পক্ষ হতে মুক্ত হয়ে যাবে, কিন্তু (সে পরিমাণ অর্থ) না থাকলে তার পক্ষ হতে ততটুকুই মুক্ত হবে যতটুকু সে মুক্ত করেছে।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।যে ব্যক্তির কোন গোলাম বা বাঁদিতে সামান্য পরিমাণও অংশিদারিত্ব থাকে অতঃপর সে তার কিছু অংশ আযাদ করে দিল, তাহলে এ আযাদ করা দ্বারা তার অংশ আযাদ করা হবে। যদি আযাদকারী স্বচ্চল হয়; যেমন সে তার শরীকের অংশের মুল্য পরিশোধ করতে সক্ষম তখন পুরো গোলাম মুক্ত হয়ে যাবে। আযাদকারীর অংশ এবং তার অংশিদারের অংশ। আর সে দেখবে তার অংশিদারের অংশের বাজার মূল্য তারপর সে তার শরীককে মূল্য পরিশোধ করবে। আর যদি সে স্বচ্চল না হয়, যেমন সে তার সাথীর অংশের মূল্য পরিশোধের ক্ষমতা না রাখে তখন তার সাথীকে ক্ষতিগ্রস্ত করা যাবে না, ফলে শুধু তার অংশ আযাদ হবে। আর তার অংশিদারের অংশ পূর্বের মতোই গোলাম হিসেবে থেকে যাবে।
আবূ হুরায়রা—রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু— রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, “কেউ তার অংশীদারী গোলাম থেকে নিজের অংশ আযাদ করে দিলে তার দায়িত্ব হয়ে পড়ে নিজস্ব অর্থে সেই গোলামকে পূর্ণ আযাদ করা। যদি তার প্রয়োজনীয় অর্থ না থাকে, তাহলে গোলামের ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ করতে হবে। তারপর (অন্য শরীকদের অংশ পরিশোধের জন্য) তাকে উপার্জনে যেতে বাধ্য করা হবে, তবে তার উপর অতিরিক্ত কষ্ট চাপানো যাবে না”।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।কেউ তার অংশীদারী গোলাম থেকে নিজের অংশ আযাদ করে দিলে তার সম্পদ থাকলে অংশীদারকে তার অংশের মূল্য পরিশোধ করে তার ওপর দায়িত্ব হয়ে পড়ে নিজস্ব অর্থে সেই গোলামকে পূর্ণ আযাদ করা। আর যদি তার প্রয়োজনীয় অর্থ না থাকে অথবা যে পরিমাণ সম্পদ আছে তাতে যদি আযাদ করা সম্ভব না হয় অথবা উক্ত সম্পদ দিয়ে আযাদ করলে আযাদকারীর ক্ষতির আশঙ্কা থাকে তাহলে গোলামকে দু’টির যে কোন একটি কাজ পছন্দ করতে দিতে হবে: প্রথমত: গোলামের যতটুকু আযাদ করা হয়েছে ততটুকু আযাদ রাখা। অর্থাৎ তার কিছু অংশ গোলাম থাকবে আর কিছু অংশ আযাদ থাকবে। এ অবস্থায় তার জন্য আংশিক গোলাম হয়ে থাকা বৈধ। দ্বিতীয়ত: তার ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ করে অন্য শরীকদের অংশ পরিশোধের জন্য তাকে উপার্জন করতে সুযোগ করে দেওয়া। একে ইসতিস‘আ বলা হয়।
আব্দুল্লাহ ইবন আবি আওফা রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: “আমরা রাসূলুল্লাহুর সাথে সাতটি যুদ্ধ টিড্ডি (ফড়িং) খেতে খেতে করেছি”।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা রাসূলের সাহাবীদেরকে সাতটি যুদ্ধে তাদের নিকট কোন খাদ্য না থাকার কারণে টিড্ডি (ফড়িং) দ্বারা রিযিক হিসেবে সাহায্য করেছেন যেমনটি তিনি তাদেরকে আম্বর মাছ দ্বারা সাহায্য করেছিলেন। যে মাছটি সমূদ্র থেকে বের হয়েছিল অপর একটি যুদ্ধে তারা সবাই তা থেকে খেয়েছিলেন।
আব্দুল্লাহ ইব্নু ‘উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাত্হায় অবস্থিত সানিয়্যা ‘উলয়ার কাদা নামক স্থান দিয়ে মাক্কায় প্রবেশ করেন এবং সানিয়্যা সুফলার দিক দিয়ে বের হন।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদায়ী হজ করেন। তিনি যে রাত মক্কায় প্রবেশ করেন সে রাতে যী-তুয়া নামী স্থানে যিল হজ মাসের চার তারিখে রাত যাপন করেন। আর সকালে তিনি সানিয়্যা ‘উলয়ার কাদা নামক স্থান দিয়ে মাক্কায় প্রবেশ করেন। কারণ, প্রবেশের জন্য এটিই সহজ। কারণ, তিনি মদীনা থেকে এসেছেন। আর যখন তিনি হজ কর্ম সম্পন্ন করেন মক্কা থেকে মদীনার দিকের রওয়ানা করেন মক্কার নিম্ন এলাকা দিয়ে বের হন। আর সেটি হলো জারওয়ালের পথ। রাস্তা পরিবর্তনের হিকমত এও হতে পারে যে, ইবাদতের স্থান বাড়ানো। যেমনটি তিনি আরাফায় যাওয়া আসা, সালাতুল ঈদে যাওয়া আসা এবং নফল সালাত ফরয আদায়ের ভিন্ন জায়গায় আদায় করার ক্ষেত্রে করে থাকেন। যাতে যেদিন যমীন তার সংবাদ প্রকাশ করবে সেদিন যেন সে তার উপর কৃত আমল সম্পর্কে সাক্ষ্য দেয়। অথবা যে ব্যক্তি মদীনা থেকে আসবে তার জন্য প্রবেশ করা ও বের হওয়ার জন্য এ পথ দুটি মুনাসিব হওয়ার কারণে তিনি সে পথ দিয়ে যান। আল্লাহই ভালো জানেন।
আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মদীনা থেকে বাইরে গমনকালে) শাজারা নামক জায়গার রাস্তা ধরে বের হতেন এবং ফিরার সময় (যুল হুলাইফার) মুআর্রাস মসজিদের পথ ধরে (মদীনায়) প্রবেশ করতেন। অনুরূপ যখন তিনি মক্কায় প্রবেশ করতেন তখন আস্-সানিয়াতুল উল্ইয়ার পথ হয়ে। আর যখন বের হতেন তখন আস্-সানিয়াতুস সুফলার পথ হয়ে বের হতেন।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।ঈদ, জুমু‘আসহ বিভিন্ন ইবাদতে রাস্তা পরিবর্তন করা মুস্তাহাব হওয়া সম্পর্কে আব্দুল্লাহ ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদীস। রাস্তা পরিবর্তন করার অর্থ হলো, একজন মুসলিম ইবাদত পালনে যাওয়ার সময় এক রাস্তা দিয়ে যাবে আর ফিরে আসার সময় অপর রাস্তা দিয়ে আসবে। যেমন যাওয়ার সময় ডান পাশ দিয়ে যাওয়া আর আসার সময় বাম পাশ দিয়ে আশা। এটি দুই ঈদের সালাতে রাসূলুল্লাহ থেকে প্রমাণিত। যেমনটি বর্ণনা করেছেন, যাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু। ঈদের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাস্তা পরিবর্তন করতেন। অর্থাৎ এক রাস্তা দিয়ে বের হতেন এবং অপর রাস্তা দিয়ে ফিরতেন। অনুরূপভাবে আমাদের সাথে যে হাদীসটি আছে তাতেও বর্ণিত। রাস্তা পরিবর্তনের হিকমত সম্পর্কে উলামাগণের বিভিন্ন মতামত রয়েছে। প্রসিদ্ধ মত হলো—এক, কিয়ামতের দিন রাস্তা যাতে তার জন্য সাক্ষী দেয়। কারণ, যমীনের ওপর ভালো ও মন্দ যা করা হয় কিয়ামতের দিন যমীন সাক্ষী দেবে। যখন এক রাস্তা দিয়ে যাবে এবং অপর রাস্তা দিয়ে আসবে তখন উভয় রাস্তা সাক্ষী দেবে যে লোকটি ঈদের সালাত আদায় করছিল। দুই—ঈদের নির্দশন প্রকাশ করার জন্য। যাতে বাজারের অলি গলি ভরে যায়। শহরের রাস্তায় যখন বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ে তখন তাতে ঈদ যে একটি নিদর্শন তা প্রকাশ পাবে। কারণ, ঈদের সালাত দীনের নির্দশন। এর প্রমাণ হলো মানুষকে মাঠে বের হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় যাতে এ দ্বারা নিদর্শনসমূহের প্রচার ও ঘোষণা হয়। গরীব মিসকীন যারা শহরে অবস্থান করে তাদের প্রতি লক্ষ্য করে রাস্তা পরিবর্তন করেন। তারা কতক এ রাস্তায় আবার কতক অন্য রাস্তায় থাকে। ফলে রাস্তা পরিবর্তন দ্বারা সব রাস্তার গরীবরা উপকৃত হয়। তবে সঠিকের কাছাকাছি হলো-আল্লাহই ভালো জানেন-এটি এ নিদর্শনকে সমুন্নত রাখার জন্য করা হয়ে থাকে। যাতে ঈদের সালাতে বের হওয়ার এ নির্দশনটি শহরের প্রতিটি রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ে। আর হজের ক্ষেত্রে রাস্তা পরিবর্তন করা, যেমন আমাদের এ হাদীসে এসেছে— আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় প্রবেশ এবং বের হওয়াতে রাস্তা পরিবর্তন করেছেন। তিনি যখন প্রবেশ করেন তখন উঁচা জায়গা দিয়ে এবং বের হওয়ার সময় নিম্ন অঞ্চল দিয়ে বের হন। অনুরূপভাবে আরাফায় যাওয়ার সময় এক রাস্তা দিয়ে যান আর ফেরার সময় অন্য রাস্তা দিয়ে ফিরেন। এ মাসআলার ক্ষেত্রেও আলেমগণ একাধিক মতামত পেশ করেছেন। এটি কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইবাদত হিসেবে করছেন নাকি প্রবেশ করা ও বের হওয়া সহজ হওয়া হিসেবে করেছেন। কারণ, মক্কায় উঁচা এলাকা দিয়ে প্রবেশ করা এবং নিচু এলাকা দিয়ে বের হওয়া সহজ। কোন কোন আলেম বলেছেন, মক্কায় উঁচা এলাকা দিয়ে প্রবেশ করা এবং নিচু এলাকা দিয়ে বের হওয়া সুন্নাত। আর আরাফায় এক রাস্তা দিয়ে যাওয়া এবং অপর রাস্তা দিয়ে ফেরা সুন্নাত। আর তাদের কেউ কেউ বলেছেন এটি রাস্তা সহজ হওয়া হিসেবে ইবাদত হিসেবে নয়। তাই তুমি তোমার জন্য যেটি সহজ হয় সেটি অবলম্বন করবে। যদি উপর দিয়ে সহজ হয় সেটি অবলম্বন করবে এবং যদি নিম্ন অঞ্চল দিয়ে সহজ হয় সেটি গ্রহণ করবে। সুতরাং হজ ও উমরা পালনকারীর জন্য উঁচা এলাকা থেকে প্রবেশ করা এবং নীচু এলাকা দিয়ে বের হওয়া সহজ হয়। ফলে তারা তাই করবে। তবে যদি তা ইবাদত হয়ে থাকে সে তাও পেয়ে যাবে। আর যদি ইবাদত না হয় তাতে তার কোন অসুবিধা হবে না। আর যদি সুযোগ না হয় তাকে এ বিষয়ে বাধ্য করা হবে না। যেমনটি বর্তমানের বাস্তবতা হলো রাস্তা সব একমুখী। ইচ্ছা করলেও দায়িত্বশীলদের বিরোধিতা করে রাস্তা পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। আলহামদু লিল্লাহ বিষয়টি অবকাশযোগ্য।
আবূ সুলায়মান মালেক ইবনে হুওয়াইরিস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে রর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা প্রায় সমবয়স্ক কতিপয় নব যুবক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বেশি দিন অবস্থান করলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম অত্যন্ত দয়ালু ও স্নেহ পরবশ ছিলেন। তাই তিনি ধারণা করলেন যে, আমরা আমাদের পরবিারের কাছে ফিরিয়ে যাবার জন্য উদ্গ্রীব হয়ে উঠেছি সেহেতু তিনি আমাদেরকে প্রশ্ন করলেন যে, আমরা আমাদের পরিবারের কাকে ছেড়ে এসেছি? সুতরাং আমরা তাঁকে জানালে তিনি বললনে, “তোমরা তোমাদের পরবিারের কাছে ফিরে যাও এবং তাদের মাঝেই বসবাস কর । তাদেরকে শিক্ষা দান কর এবং তাদেরকে (ভাল কাজের) আদেশ দাও। অমুক সালাত অমুক সময়ে পড়। অমুক সালাত অমুক সময়ে পড়। সুতরাং যখন সালাতের সময় হবে তখন তোমাদের মধ্যে কেউ একজন আযান দিবে এবং তোমাদের মধ্যে যে বড় সে ইমামতি করবে।” বুখারীর বর্ণনায় এরূপ বাড়তি আছে যে, “আমাকে তোমরা যেভাবে নামায পড়তে দেখেছ, ঠিক সেইভাবেই নামায পড়।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মালেক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, আমরা প্রায় সমবয়স্ক কতিপয় নব যুবক দীন জানার জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসলাম। এটি ছিল নবম হিজরী ওয়াফদের বছর। তারা সবাই যুবক ছিল। তারা বিশ দিন অবস্থান করল। মালেক বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দয়াপরবশ ও নম্র। তাই তিনি ধারণা করলেন যে, আমরা আমাদের পরবিারের কাছে ফিরে যাবার জন্য উদ্গ্রীব হয়ে উঠেছি সেহেতু তিনি আমাদেরকে প্রশ্ন করলেন যে, আমরা আমাদের পরিবারে কাকে ছেড়ে এসেছি? সুতরাং আমরা তাঁকে জানালে তিনি বললনে, “তোমরা তোমাদের পরবিারের কাছে ফিরে যাও এবং তাদের মাঝেই বসবাস কর । তাদেরকে শিক্ষা দান কর এবং তাদেরকে (ভাল কাজের) আদেশ দাও। অমুক সালাত অমুক সময়ে পড়। অমুক সালাত অমুক সময়ে পড়। সুতরাং যখন সালাতের সময় হবে তখন তোমাদের মধ্যে কেউ একজন আযান দিবে এবং তোমাদের মধ্যে যে বড় সে ইমামতি করবে”। ইমাম বুখারী এ কথা বাড়ান যে, আর তোমরা আমাকে যেভাবে সালাত আদায় করতে দেখেছ সেভাবে সালাত আদায় কর। এ হাদীসটি প্রমান করে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রহমত ও নম্রতায় প্রসিদ্ধ ছিলেন। তিনি মানুষের প্রতি সবচেয়ে বেশি দয়ালু ও নমনীয় ছিলেন। তাই তিনি যখন দেখতে পেলেন যে, তারা তাদের পরিবারের প্রতি উদগ্রীব হয়ে আছেন, তাই তিনি বাড়িতে তারা কাদেরকে রেখে এসেছেন তাদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন এবং তারা তাকে সে সম্পর্কে অবহিত করলে তিনি তাদের নির্দেশ দেন যে, তারা যেন তাদের পরিবারে ফিরে যায়। “আর তোমাদের মধ্যে যিনি বড় তিনি যেন তোমাদের ইমামতি করেন”। এতে প্রমাণিত হয় যে, বয়সে যারা বড় তারা ইমামতিতে প্রাধান্য পাবে। এটি রাসূলের বাণী—আল্লাহর কিতাবের কারীগণ কাওমের ইমামতি করবেন—এর পরিপন্থী নয়। কারণ, এ যুবকগুলো সবাই রাসূলের নিকট একই সময় উপস্থিত হয়েছিল। ফলে স্পষ্টত বুঝা যাচ্ছে যে, কুরআনের কারী হওয়ার ব্যাপারে তাদের মধ্যে স্পষ্ট কোন প্রার্থক্য ছিল না। তারা সবাই সম পর্যায়ের ছিল। তাদের কেউ অপরের চেয়ে অধিক কুরআন ওয়ালা ছিল না। এ কারণেই তিনি বলেছেন, তোমাদের মধ্যে যিনি বড় তিনি তোমাদের ইমামতি করবেন। কারণ তারা কুরআনের ব্যাপারে সবাই সমান বা কাছাকাছি। অনুরূপভাবে তারা সবাই যদি ক্বিরাত, সুন্নাহ ও হিজরত বিষয়ে সমান হয়, তাহলে বয়সের দিক দেখবে এবং যিনি বয়স্ক তাকে অগ্রাধিকার দেবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী—“তোমরা আমাকে যেভাবে সালাত আদায় করতে দেখেছ, সেভাবে সালাত আদায় কর।” এটি রাসূলের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য যে, তিনি মানুষকে কথা ও কর্ম উভয়ের মাধ্যমে শিক্ষা দান করতেন। তাই তিনি যে ব্যক্তি স্থীরতা ছাড়া সালাত আদায় করল, তাকে মৌখিকভাবে শিক্ষা দিলেন, বললেন, যখন তুমি সালাতে দাঁড়াও তুমি পরিপূর্ণ ওযূ কর। অতঃপর তুমি কিবলা মুখী হও, তাকবীর বল, তারপর তুমি তোমার নিকট যে কুরআন রয়েছে তা থেকে যা তোমার জন্য সহজ হয় পড়, অতঃপর তুমি রুকু কর...। আর এ সব যুবকদেরকে তিনি কর্মের মাধ্যমে বাস্তবিক শিক্ষা দান করেন।
ইমরান ইবন হোসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, আল্লাহর কিতাবে মুত‘আর আয়াত নাযিল হলো। আমরা তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে আঞ্জাম দিলাম আর তা নিষিদ্ধ করে কুরআনের কোন আয়াত নাযিল হয়নি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনিও তার থেকে নিষেধ করেননি। একজন তার মতামত অনুযায়ী যা চাইল তাই বললেন। বুখারী বলেন, বলা হয়ে থাকে তিনি হলেন উমার। অপর এক বর্ণনায় বর্ণিত: মুতআর আয়াত —অর্থাৎ হজ্জে তামাত্তুর আয়াত নাযিল হলো। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা করার জন্য আমাদের আদেশ দিলেন। তারপর এমন কোন আয়াত নাযিল হয়নি যা হজ্জে তামাত্তকে রহিত করে। এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমৃত্যু তা থেকে নিষেধ করেননি। আর তাদের উভয়ের জন্য রয়েছে একই অর্থের হাদীস।
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন। - মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।ইমরান ইবন হোসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুমা উমরা করে হজ্জ করার মুত‘আ বিষয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, ইহা আল্লাহর কিতাব ও সুন্নাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নত দ্বারা সাব্যস্ত। কুরআন যেমন, আল্লাহ তা‘আলার বাণী: “যে ব্যক্তি উমরার পর হজ সম্পাদনপূর্বক তামাত্তু করবে, তবে যে পশু সহজ হবে, তা যবেহ করবে”। আর সুন্নাত হলো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কর্ম, তার ওপর তার স্বীকৃতি, তা নিষিদ্ধ করে কুরআনের কোন আয়াত নাযিল হয়নি এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা নিষেধ করেননি। নবী সাল্লাল্লাহুু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন অথচ তা বিদ্যমান ছিল। তারপর থেকে তা রহিত হয়নি। সুতরাং একজন মানুষ স্বীয় মতামত থেকে কীভাবে বলে এবং তা থেকে নিষেধ করে? এ কথা দ্বারা হজের মাসসমূহে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু স্বীয় ইজতিহাদ দ্বারা তা থেকে নিষেধ করার বিষয়টির দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। তার নিষেধ করার কারণ হলো যাতে সারা বছর বাইতুল্লাহর যিয়ারতকারীর সংখ্যা বাড়ে। কারণ, তারা যদি হজের সাথে ওমরা নিয়ে আসে, হজের মৌসুমের পর তারা আর তার দিকে ফিরে আসবে না। উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুর নিষেধ করা হারাম ঘোষণা করার জন্য বা কুরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী আমল ছেড়ে দেয়ার জন্য নয়। জন সাধারণের কল্যাণের জন্য তা হলা সাময়িক নিষেধাজ্ঞা।
আবূ জামরাহ নাসার ইবন ইমরান আদ-দাব‘ঈ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ইবন আব্বাসকে মুত‘আ (তামাত্তু হজ্জ) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম? তিনি তা করতে আমাকে আদেশ দেন। আর আমি তাকে হাদী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম? তিনি বলেন, তাতে উট, অথবা গরু অথবা ছাগল অথবা একটি জন্তুর রক্তে অংশিদার। তিনি বলেন: কতক লোক তা অপছন্দ করল। আমি ঘুমালাম। তখন ঘুমের মধ্যে স্বপ্নে দেখলাম, যেন এক ব্যক্তি চিৎকার করে বলছে, মাবরুর হজ ও গৃহিত (মাকবুল) মুত‘আ। তারপর আমি ইবন আব্বাসের নিকট আসি তাকে ঘটনাটি বললে তিনি বলেন, আল্লাহু আকবার, আবূল কাসিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাত।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।আবূ জামরাহ ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমাকে হজের সাথে ওমরাহ করার মুত‘আ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন, তিনি তা করতে তাকে আদেশ দেন। তারপর তিনি আল্লাহ তা‘আলার বাণীতে হজের সাথে লাগোয়া হাদী সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তিনি তাকে জানান যে, তা হলা, উট আর এটিই সবচেয়ে উত্তম। তারপর গরু তারপর ছাগল অথবা গরু বা উটের এক সপ্তমাংশ। অর্থাৎ যারা গরু বা উটে অংশগ্রহণ করেছে তাদের সাথে অংশ গ্রহণ করবে যতক্ষণ না তাদের সংখ্যা সাত না হবে। তখন একজন তামাত্ত‘র বিষয়ে আবূ জামরার আপত্তি তুলল। তখন তিনি একজন চিৎকারকারীকে ডাক দিয়ে বলতে স্বপ্নে দেখলেন। তিনি বলছেন, মাবরুর হজ, গৃহিত মুত‘আ। তারপর তিনি এ সুন্দর স্বপ্ন বিষয়ে সু সংবাদ দেয়ার জন্য ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমার নিকট আসলেন এবং তাকে ঘটনাটি বললেন। যেহেতু ভালো স্বপ্ন নবুওতের অংশসমূহের একটি অংশ তাই ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু খুশি হলেন। আর তিনি সু সংবাদ গ্রহণ করলেন যে, আল্লাহ তা‘আলা তাকে সঠিক বিষয়টি বুঝার তাওফীক দিয়েছেন। ফলে তিনি বললেন, আল্লাহু আকবার, এটি আবূল কাসিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাত।