





























Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
All
আবূ কাতাদাহ আল-আনসারী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহিস সালাম হজে রওয়ানা করলেন তারাও তাঁর সাথে রওয়ানা করল। তাদের থেকে একটি দলকে তিনি অন্য পথে পাঠালেন— তাদের মধ্যে আবূ কাতাদাও ছিলেন— আর তিনি বললেন, “আমাদের পরস্পর সাক্ষাত হওয়া পর্যন্ত তোমারা সমুদ্র তীরের রাস্তা ধরে অগ্রসর হবে। তাই তারা সকলেই সমুদ্র তীরের পথ ধরে চলতে থাকেন। যখন তারা (রাসূলের দিকে) ফিরলেন সবাই ইহরাম বাঁধলেন; কিন্তু আবূ কাতাদা ইহরাম বাঁধলেন না। পথে চলতে চলতে তারা কিছু বন্য গাধা দেখতে পেল। আবূ কাতাদা গাধাগুলোর উপর হামলা করে একটি মাদী হত্যা করে ফেললেন। এরপর একস্থানে অবতরণ করে আমরা সকলেই তার গোস্ত খেলাম। তারপর বললাম, আমরা তো মুহরিম, এ অবস্থায় আমরা কি শিকার জন্তুর গোস্ত খাব? তাই আমরা গাধাটির অবশিষ্ট অংশ উঠিয়ে নিলাম। আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট পৌঁছে তাঁকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমাদের কেউ কি এর উপর আক্রমন করতে আদেশ কিংবা তার দিকে ইশারা করেছ? তারা বলল, না, আমার তা করি নি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাহলে বাকি গোস্ত তোমরা খেয়ে নাও।” অন্য বর্ণনায় রয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কাছে কি তার গোস্ত অবশিষ্ট আছে? আমি বললাম, হ্যাঁ। অতপর তাঁকে বাহুর গোস্ত দিলে তিনি তা থেকে কিছু খেলেন।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহিস ওয়াসাল্লম ‘উমরা পালনের জন্য হুদাইবিয়ার বছর মক্কার উদ্দেশ্যে বের হলেন। তারা মদীনার হারাম সীমান্ত যুলহুলাইফার নিকটবর্তী পৌঁছার পূর্বে তাঁর কাছে এ মর্মে সংবাদ পৌঁছল যে, শত্রুরা সমুদ্র তীরের দিক থেকে আক্রমণ করতে তার দিকে আসছে। ফলে তিনি তাঁর একদল সাহাবীকে -তাদের মধ্যে আবূ কাতাদাহও ছিলেন-প্রতিরোধ করতে সমুদ্র তীরবর্তী ডান পাশের রাস্তা হয়ে অগ্রসরের নির্দেশ দিলেন। ফলে তারা সে পথে রওয়ানা করলেন। যখন তারা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহিস ওয়াসাল্লামের সাথে নির্দিষ্ট স্থানে মিলিত হতে প্রত্যাবর্তন করছিলেন তখন সবাই ইহরাম বাঁধলেন; কিন্তু আবূ কাতাদা ইহরাম বাঁধলেন না। তাদের চলার পথে তারা কিছু বন্য গাধা দেখতে পেলেন। তারা মনে মনে ইচ্ছা করছিলেন যেনো আবূ কাতাদা গাধাগুলো দেখতে পায়। কেননা তিনি হালাল ছিলেন। অতপর তিনি সেগুলো দেখতে পেয়ে সেগুলোর ওপর হামলা করে একটি মাদী হত্যা করে ফেললেন। অতঃপর তারা সকলেই এর গোস্ত খেলেন। মুহরিম অবস্থায় এ গোস্ত খাওয়া জায়েয কী না সে ব্যাপারে তাদের মনে সন্দেহ হলো। তাই তারা গাধাটির অবশিষ্ট অংশ উঠিয়ে রাখলেন। তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট পৌঁছে তাঁকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি তাদের জিজ্ঞেস করলেন, তাদের কেউ কি এর ওপর আক্রমণ করতে তাকে আদেশ বা সাহায্য বা ইশারা করেছ? তারা বললেন, এ ধরণের কিছু হয় নি। তাদের অন্তর প্রশান্তি লাভ করল যে, উক্ত গোস্ত তাদের জন্য হালাল ছিলো। যেহেতু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে বাকি গোস্ত খাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন এবং তিনি নিজেও তাদের অন্তরের শান্তনার উদ্দেশ্যে সে গোস্ত থেকে কিছু খেলেন।
আবূ মূসা আল আশ‘আরী রাদয়ািল্লাহু আনহু হতে র্বণতি। তিনি বলনে, একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইইহ ওয়াসাল্লামের যুগে র্সূযগ্রহণ হল, তখন তিনি ভীত অবস্থায় উঠলনে ও কিয়ামত সংঘটিত হবার ভয় করতে লাগলেন, অবশেষে তিনি মাসজিদে আসেন ও দাঁড়িয়ে যান এবং সবচেয়ে দীর্ঘ কিয়াম ও সাজদা দ্বারা সালাত আদায় করেন। আমি কখনো তাকে তার সালাতে এরূপ করতে দেখেনি। অতঃপর তিনি বললেন, এগুলো হল নিদর্শন যা আল্লাহ্ পাঠিয়ে থাকেন, তা কারো মৃত্যু বা জন্মের কারণে হয় না। বরং আল্লাহ্ তা‘আলা এর মাধ্যমে তাঁর বান্দাদের সতর্ক করেন। কাজেই যখন তোমরা এর কিছু দেখতে পাবে, তখন ভীত অবস্থায় আল্লাহর যিকির, দু‘আ ও ইস্তিগ্ফারের দিকে ধাবিত হবে।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।একবার রাসূলের যুগে যখন সূর্যের আলো দূর হয়ে গেল বা কিছু চলে গেল, তিনি ভীত অবস্থায় উঠে দাঁড়ালেন। কারণ, রবের সম্পর্কে তার পুরোপুরি জ্ঞান তাকে বাধ্য করে অধিকাংশ পৃথিবীবাসীর গোমরাহী ও সীমালঙ্ঘনের কারণে রবকে অধিক ভয় পেতে ও কঠিন সতর্ক থাকতে অথবা সিঙ্গায় ফুঁ দেওয়ার সময় এসে গেছে এ আশঙ্কা থেকে তিনি মসজিদে প্রবেশ করলেন। আর লোকদের নিয়ে সূর্য গ্রহণের সালাত আদায় করেন এবং তাওবা ও আল্লাহ মুখীতা প্রকাশ করার লক্ষ্যে দীর্ঘ সালাত আদায় করেন। যখন তিনি তার রবের সাথে মুনাজাত ও কথোপকথন থেকে ফারেগ হন, তিনি মানুষদের ওয়াজ করতে তাদের মুখোমুখি হন এবং তাদেরন জন্যে স্পষ্ট করেন যে, এ ধরনের নিদর্শন আল্লাহ তার বান্দাদের জন্য প্রেরণ করেন তাদের উপদেশ, স্মরণ করানো ও ভয় পদর্শনের জন্য। যাতে তারা দ্রুত দো‘আ, ক্ষমা চাওয়া, যিকির ও সালাতের দিকে অগ্রসর হয়।
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “(প্রাচীনকালে) একটি লোক অন্য লোক হতে একটি জায়গা ক্রয় করল। ক্রেতা ঐ জায়গায় (প্রোথিত) একটি কলসী পেল, যাতে স্বর্ণ ছিল। জায়গার ক্রেতা বিক্রেতাকে বলল, ‘তোমার স্বর্ণ নিয়ে নাও। আমি তো তোমার জায়গা খরিদ করেছি, স্বর্ণ খরিদ করিনি।’ জায়গার বিক্রেতা বলল, ‘আমি তোমাকে জায়গা এবং তাতে যা কিছু আছে সবই বিক্রি করেছি।’ অতঃপর তারা উভয়েই এক ব্যক্তির নিকট বিচার প্রার্থী হল। বিচারক ব্যক্তি তাদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তোমাদের সন্তান আছে কি?’ তাদের একজন বলল, ‘আমার একটি ছেলে আছে।’ অপরজন বলল, ‘আমার একটি মেয়ে আছে।’ বিচারক বললেন, ‘তোমরা ছেলেটির সাথে তার মেয়েটির বিয়ে দিয়ে দাও এবং ঐ স্বর্ণ থেকে তাদের জন্য খরচ কর এবং দান কর।”
বিভিন্ন বর্ণনায় মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সংবাদ দেন যে, এক লোক অন্য লোক হতে কিছু জায়গা ক্রয় করল। ক্রেতা ঐ জায়গায় (প্রোথিত) কিছু স্বর্ণ পেল। অত্যধিক পরহেজগার হওয়ার কারণে সে স্বর্ণ জমি বিক্রেতাকে ফেরত দিল। কারণ, সে তো জায়গা খরিদ করেছে, তাতে সংরক্ষিত স্বর্ণ খরিদ করেনি।’ বিক্রেতাও অধিক সতর্কতা ও পরহেজগারীর কারণে তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করল।কারণ সে জায়গা এবং তাতে যা কিছু আছে সবই বিক্রি করেছে।’ অতঃপর তারা উভয়েই বিবাধ করল এবং একজন বিচারকের কাছে গিয়ে বলল, তুমি একজনকে পাঠাও যে তা নিয়ে আসবে এবং তুমি ইচ্ছা মতো যেখানে চাও সেখানে রাখ। সে বিরত থাকলো এবং তাদের জিজ্ঞাসা করল, ‘তোমাদের সন্তান আছে কি?’ তাদের একজন বলল, ‘আমার একটি ছেলে আছে।’ অপরজন বলল, ‘আমার একটি মেয়ে আছে।’ বিচারক তাদের পরামর্শ দিল, ছেলেটির সাথে মেয়েটির বিয়ে দিয়ে দিতে এবং ঐ স্বর্ণ থেকে তাদের জন্য খরচ করতে ও তা থেকে দান করতে।”
আবূ হুরায়রাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে মারফু হিসেবে বর্ণিত, “দু’জন মহিলার সাথে তাদের দু’টি ছেলে ছিল। একদা একটি নেকড়ে বাঘ এসে তাদের মধ্যে একজনের ছেলেকে নিয়ে গেল। একজন মহিলা তার সঙ্গিনীকে বলল, ‘বাঘে তোমার ছেলেকেই নিয়ে গেছে।’ অপরজন বলল, ‘তোমার ছেলেকেই বাঘে নিয়ে গেছে।’ সুতরাং তারা দাঊদ আলাইহিস সালাম-এর নিকট বিচারপ্রার্থিনী হল। তিনি (অবশিষ্ট ছেলেটি) বড় মহিলাটির ছেলে বলে ফায়সালা ক’রে দিলেন। অতঃপর তারা বের হয়ে দাঊদ আলাইহিস সালাম-এর পুত্র সুলায়মান আলাইহিস সালাম-এর নিকট দিয়ে গেল এবং উভয়ে তাকে ঘটনাটি বর্ণনা করল। তখন তিনি বললেন, ‘আমাকে একটি চাকু দাও। আমি একে দু টুকরো ক’রে দু’জনের মধ্যে ভাগ ক’রে দেব।’ তখন ছোট মহিলাটি বলল, ‘আপনি এরূপ করবেন না। আল্লাহ আপনাকে রহম করুন। ছেলেটি ওরই।’ তখন তিনি ছেলেটি ছোট মহিলার (নিশ্চিত জেনে) ফায়সালা দিলেন।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।আমাদের নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-আমাদেরকে দুইজন মহিলার ঘটনা সম্পর্কে অবগত করেন। তারা দুইজন তাদের দুইজনের ছেলে নিয়ে বের হলো। একটি নেকড়ে বাঘ এসে তাদের মধ্যে একজনের ছেলেকে নিয়ে গেল, আর অপর ছেলেটি থেকে গেল। তারা উভয় বলল, অবশিষ্ট ছেলেটি আমার। সুতরাং তারা দাঊদ আলাইহিস সালাম-এর নিকট বিচারপ্রার্থিনী হল। তিনি স্বীয় ইজতিহাদ দ্বারা (অবশিষ্ট ছেলেটি) বড় মহিলাটির জন্য ফায়সালা ক’রে দিলেন। কারণ, হতে পারে বড় মহিলাটি বন্দা হয়ে গেছে আর সন্তান হবে না। আর ছোট মহিলাটি যুবতী। সে ভবিষ্যতে আরেকটি সন্তান লাভ করতে পারবে। তারপর তারা দুইজন তার নিকট থেকে বের হয়ে তার ছেলে সুলায়মান আলাইহিস সালামের নিকট গেল। এবং তার কাছে ঘটনাটি পুণরায় ব্যক্ত করল। তখন তিনি বললেন, ‘আমাকে একটি চাকু দাও। আমি একে দু টুকরো ক’রে দু’জনের মধ্যে ভাগ ক’রে দিব।’ তখন বড় মহিলাটি খুশি হলো। আর ছোট মহিলাটি প্রত্যাখ্যান করল এবং বলল, ছেলেটি বড় মহিলার। তার অন্তরে দয়া ও রহমতের উদ্রেক হলো। কারণ, বাস্তবে এটি তাঁরই সন্তান ছিল। তাই সে বলল, হে আল্লাহর নবী এটি বড় মহিলার সন্তান। তারপর তিনি দলীল ও আলামত দ্বারা ছেলেটি ছোট মহিলার জন্য ফায়সালা দিলেন। কারণ, তিনি সন্তানটির প্রতি দয়া দেখালেন এবং তাকে বাচানোর জন্য বললেন, সে বড় মহিলার ছেলে। কারণ দুই টুকরা করে তাকে মেরে ফেলার চাইতে বাঁচিয়ে রাখা অনেক উত্তম। ফলে তিনি তাকে ছোট মহিলাটির জন্য ফায়সালা দিলেন।
আবূ হুরায়রাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “নবীদের মধ্যে কোন এক নবী জিহাদের জন্য বের হওয়ার ইচ্ছা করলেন। সুতরাং তিনি তাঁর সম্প্রদায়কে বললেন, ‘আমার সঙ্গে যেন ঐ ব্যক্তি না যায়, যে নতুন বিবাহ করেছে এবং সে তার সাথে বাসর করার কামনা রাখে; কিন্তু এখনো পর্যন্ত সে তা করেনি। আর সেও নয়, যে ঘর নির্মাণ করেছে; কিন্তু এখনো পর্যন্ত ছাদ ঢালেনি। আর সেও নয়, যে গর্ভবতী ভেড়া-ছাগল কিম্বা উঁটনী কিনেছে এবং সে তাদের বাচ্চা হওয়ার অপেক্ষায় আছে।’ অতঃপর সেই নবী জিহাদের জন্য বেরিয়ে পড়লেন। তারপর তিনি আসরের সালাতের সময় অথবা ওর নিকটবর্তী সময়ে ঐ গ্রামে (যেখানে জিহাদ করবেন সেখানে) পৌঁছলেন। অতঃপর তিনি সূর্যকে (সম্বোধন ক’রে) বললেন, ‘তুমিও (আল্লাহর) আজ্ঞাবহ এবং আমিও (তাঁর) আজ্ঞাবহ। হে আল্লাহ! একে তুমি আঁটকে দাও (অর্থাৎ যুদ্ধের ফলাফল বের না হওয়া পর্যন্ত সূর্য যেন না ডোবে)।’ বস্তুতঃ সূর্যকে আটকে দেওয়া হল। এমনকি আল্লাহ তা‘আলা (ঐ জনপদটিকে) তাদের হাতে জয় করালেন। অতঃপর তিনি গনীমতের মাল জমা করলেন। তারপর তা গ্রাস করার জন্য (আসমান থেকে) আগুন এল; কিন্তু সে তা খেল না। (এ দেখে) তিনি বললেন, ‘নিশ্চয় তোমাদের মধ্যে খিয়ানত আছে (অর্থাৎ তোমাদের কেউ গনীমতের মাল আত্মসাৎ করেছে)। সুতরাং প্রত্যেক গোত্রের মধ্য হতে একজন আমার হাতে ‘বায়আত’ করুক।’ অতঃপর (বায়আত করতে করতে) একজনের হাত তাঁর হাতের সঙ্গে লেগে গেল। তিনি বললেন, ‘তোমাদের মধ্যে খিয়ানত রয়েছে। সুতরাং তোমার গোত্রের লোক আমার হাতে ‘বায়আত’ করুক।’ সুতরাং দুই অথবা তিনজনের হাত তাঁর হাতের সঙ্গে লেগে গেল। তিনি বললেন যে, ‘তোমাদের মধ্যে খিয়ানত রয়েছে।’ সুতরাং তারা গাভীর মাথার মত একটি সোনার মাথা নিয়ে এল এবং তিনি তা গনীমতের সাথে রেখে দিলেন। তারপর আগুন এসে তা খেয়ে ফেলল। (শেষ নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন যে,) আমাদের পূর্বে কারো জন্য গণীমতের মাল হালাল ছিল না। পরে আল্লাহ তা‘আলা যখন আমাদের দুর্বলতা ও অক্ষমতা দেখলেন, তখন আমাদের জন্য তা হালাল করে দিলেন।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নবীদের মধ্যে কোন এক নবীর বিষয়ে সংবাদ দেন। তিনি একটি কাওমের সাথে যুদ্ধ করেন যাদের সাথে যুদ্ধ করার জন্য তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু তার সাথে জিহাদে অংশগ্রহণ করতে ঐ ব্যক্তিকে নিষেধ করেছেন যে নতুন বিবাহ করেছে এবং সে তার সাথে বাসর ঘর করার কামনা রাখে; কিন্তু এখনো পর্যন্ত সে তা করেনি। আর এমন লোকে নিষেধ করেছেন, যে ঘর নির্মাণ করেছে; কিন্তু এখনো পর্যন্ত ছাদ ঢালেনি। আর এমন লোককে বারণ করেছেন, যে গর্ভবতী ভেড়া-ছাগল কিম্বা উঁটনী কিনেছে এবং সে তাদের বাচ্চা হওয়ার অপেক্ষায় আছে। কারণ, এ ধরনের লোক সাধারণত তাদের ইচ্ছা নিয়ে ব্যস্ত। নতুন বিবাহিত লোকটি তার স্ত্রীকে নিয়ে ব্যস্ত, সে তার সাথে বাসর করতে আগ্রহী অথচ এখনো সে তা করেনি। অনুরূপভাবে যে ঘর বানিয়েছে এবং এখনো ছাদ নির্মাণ করেনি সেও তার ঘর নিয়ে ব্যস্ত যে ঘরে সে ও তার পরিবার থাকার ইচ্ছা করে। অনুরূপভাবে উট ও ছাগলের মালিক সেও ব্যস্ত সে সেগুলোর বাচ্চার অপেক্ষায় আছে। জিহাদের জন্য জরুরী হলো মানুষ এমন হবে তার জিহাদ ছাড়া আর কোন ব্যস্ততা থাকবে না। অতঃপর সেই নবী জিহাদের জন্য বেড়িয়ে পড়লেন। তারপর তিনি আসরের সালাতের পর সন্ধ্যার নিকটবর্তী সময়ে ঐ গ্রামে (যেখানে জিহাদ করবেন সেখানে) পৌঁছলেন। সে আশঙ্কা করল যে, যদি রাত অন্ধকার হয়ে যায় তাহলে বিজয় লাভ হবে না। তাই তিনি সূর্যকে সম্বোধন ক’রে বললেন, ‘তুমিও (আল্লাহর) আজ্ঞাবহ এবং আমিও (তাঁর) আজ্ঞাবহ। তবে সূর্যের আদিষ্ট হওয়া কাওনী আর তার আদিষ্ট হওয়া শর‘ঈ। তিনি জিহাদের জন্য আদিষ্ট আর সূর্য আল্লাহ তাকে যে পথে চলার আদেশ করেছেন সে পথে চলতে আদিষ্ট। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, আর সূর্য তার সু নির্দিষ্ট কক্ষ পথে চলতে থাকে আর এটি মহা পরাক্রমশীল প্রজ্ঞাবান আল্লাহর নির্ধারণ” [সূরা ইয়াসীন, আয়াত: ৩৮] আল্লাহ তাকে যেদিন থেকে সৃষ্টি করেছেন সেদি থেকে সেটি তার আদেশ অনুযায়ী চলমান। কখনো আগেও যায় না এবং পিছেও যায় না উপরেও ওঠে না এবং নিচেও নামে না। তিনি বলেন, হে আল্লাহ! একে তুমি আঁটকে দাও (অর্থাৎ যুদ্ধের ফলাফল বের না হওয়া পর্যন্ত সূর্য যেন না ডোবে)।’ বস্তুতঃ সূর্যকে আটকে দেওয়া হল। যুদ্ধ চলার সময় তা অস্ত যায়নি। এমনকি আল্লাহ তা‘আলা (ঐ জনপদটিকে) তাদের হাতে জয় করালেন। অতঃপর তিনি অসংখ্য গনীমতের মাল জমা করলেন। কিন্তু পূর্বের উম্মাতের মধ্যে যুদ্ধাদের জন্য গণীমতের মাল হালাল ছিল না। বরং গণীমতের মাল হালাল হওয়া এ উম্মাতের বৈশিষ্ট্য। আল্লাহর জন্যই সব প্রশংসা। পূর্বের উম্মতগণ গণীমতের মাল একত্র করত আর আকাশ থেকে আগুন এসে তা গ্রাস করত। যদি আল্লাহ তা‘আলা তা কবুল করতেন। কিন্তু তারা গণীমতের মাল একত্র করল কিন্তু আগুন নাযিল হলো না এবং তা খেল না। (এ দেখে) তিনি বললেন, ‘নিশ্চয় তোমাদের মধ্যে খিয়ানত আছে (অর্থাৎ তোমাদের কেউ গনীমতের মাল আত্মসাৎ করেছে)। অতঃপর তিনি নির্দেশ দিলেন প্রত্যেক গোত্রের মধ্য হতে একজন সামনে অগ্রসর হবে এবং সে এ বলে বায়‘আত করবে যে, তাদের মধ্যে কোন খিয়ানত নেই। তারপর যখন তারা এ বলে বাইয়াত করতে লাগলো যে, তাদের মধ্যে খিয়ানত নেই। তাদের একজনের হাত তাঁর হাতের সঙ্গে লেগে গেল। যখন লেগে গেল তখন তিনি বললেন, ‘তোমাদের মধ্যে খিয়ানত রয়েছে। অর্থাৎ এ গোত্র। তারপর তিনি সে গোত্রের প্রত্যেক লোককে আলাদা আলাদা তার হাতে ‘বায়আত’ করার নির্দেশ দেন।’ সুতরাং দুই অথবা তিনজনের হাত তাঁর হাতের সঙ্গে লেগে গেল। তিনি বললেন যে, ‘তোমাদের মধ্যে খিয়ানত রয়েছে।’তারা তা নিয়ে আসল। তারা গাভীর মাথার মত একটি সোনার মাথা আত্মসাৎ করেছিল। তারপর যখন তা নিয়ে আসল এবং তিনি তা গনীমতের সাথে রেখে দিলেন। তারপর আগুন এসে তা খেয়ে ফেলল।
ইব্নু ‘উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বিদায় হাজ্জের সময় আল্লাহর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাজ্জ ও ‘উমরাহ একসাথে পালন করেছেন ও কুরবানী করেছেন। তিনি যুল-হুলাইফা হতে কুরবানীর জানোয়ার সাথে নিয়ে নেন। অতঃপর আল্লাহর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথমে ‘উমরাহ’র ইহরাম বাঁধেন, এরপর হাজ্জের ইহরাম বাঁধেন। সাহাবীগণ তাঁর সঙ্গে ‘উমরাহ’র ও হাজ্জের নিয়্যাতে তামাত্তু‘ করলেন। সাহাবীগণের কতেক যুল হুলাইফা থেকে হাদী সাথে নিয়ে চললেন, আর কেউ কেউ হাদী সাথে নেননি। এরপর নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাক্কাহ্ পৌঁছে সাহাবীগণকে উদ্দেশ্য করে বললেন, তোমাদের মধ্যে যারা হাদী সাথে নিয়ে এসেছ, তাদের জন্য হাজ্জ সমাপ্ত করা পর্যন্ত কোন নিষিদ্ধ জিনিস হালাল হবে না। আর তোমাদের মধ্যে যারা হাদী সাথে নিয়ে আসনি, তারা বাইতুল্লাহর এবং সাফা-মারওয়ার তাওয়াফ করে চুল কেটে হালাল হয়ে যাবে। এরপর হাজ্জের ইহরাম বাঁধবে ও কুরবানী করবে, তবে যারা কুরবানী করতে পারবে না তারা হাজ্জের সময় তিনদিন এবং বাড়িতে ফিরে গিয়ে সাতদিন সওম পালন করবে। নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাক্কাহ্ পৌঁছেই তাওয়াফ করলেন। প্রথমে হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করলেন এবং তিন চক্কর রামল করে আর চার চক্কর স্বাভাবিকভাবে হেঁটে তাওয়াফ করলেন। বাইতুল্লাহর তাওয়াফ সম্পন্ন করে তিনি মাকামে ইব্রাহীমের নিকট দু’রাক‘আত সালাত আদায় করলেন, সালাম ফিরিয়ে আল্লাহর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাফায় আসলেন এবং সাফা-মারওয়ার মাঝে সাত চক্কর সা‘ঈ করলেন। হাজ্জ সমাধান করা পর্যন্ত তিনি যা কিছু হারাম ছিল তা হতে হালাল হয়নি। তিনি কুরবানীর দিনে হাদী কুরবানী করলেন, সেখান হতে এসে তিনি বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করলেন। অতঃপর তাঁর উপর যা হারাম ছিল সে সব কিছু হতে তিনি হালাল হয়ে গেলেন। সাহাবীগণের মধ্যে যাঁরা হাদী সাথে নিয়ে এসেছিলেন তাঁরা সেরূপ করলেন, যেরূপ আল্লাহর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম করেছিলেন”। “আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি যখন তিনি মক্কায় আগমন করেন তাওয়াফের শুরুতে হাজরে আসওয়াদকে চুমু দেন এবং প্রথম তিন চক্করে রমল করেন”।
উভয় বর্ণনা মুত্তাফাকুন আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মদীনাবাসীর মীকাত যুল-হুলাইফা হজ করার উদ্দেশ্যে বের হলেন, যে হজে তিনি বাইতুল্লাহকে ও হজের মানাসেককে বিদায় জানালেন, লোকদেরকে বিদায় জানালেন আর তাদেরকে তার রিসালাত পৌছালেন এবং তার ওপর সাক্ষ্য গ্রহণ করলেন, তাতে তিনি হজ ও উমরার ইহরাম বাঁধলেন। ফলে তিনি ছিলেন হজ্জে কিরানকারী। আর কিরানকারী মূলত তামাত্তুকারী। লোকেরা রাসূলুল্লাহর সাথে তামাত্তু করলেন। তাদের অনেকেই দুই নুসুকের (হজ ও উমরার) ইহরাম বাঁধলেন। আর কেউ কেউ উমরার ইহরাম বেঁধেছেন তা শেষ করে হজ করার নিয়তে। আবার কতক লোক শুধু হজের ইহরাম বেঁধেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের তিন প্রকার হজের যে কোনটি পালনে স্বাধীনতা দিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তার কতক সাহাবী যুল হুলাইফাহ থেকে হাদী-কুরবারী জন্তু সাথে নিয়ে গেছেন। আর কিছু লোক কুরবারীর জন্তু সাথে নিয়ে যাননি। যখন তারা মক্কার নিকটে পৌঁছলেন ইফরাত ও কিরানকারীদের থেকে যারা কুরবানীর পশু নিয়ে যাননি তাদেরকে হজ বাতিল করে উমরা সম্পন্ন করতে উৎসাহ প্রদান করেন। তারপর যখন তারা তাওয়াফ ও সা‘ঈ করল তাদেরকে তিনি জোর দিলেন যেন তারা চুল কেটে তাদের উমরা থেকে হালাল হয় অতঃপর হজের ইহরাম বাঁধে ও কুরবানীর পশু প্রেরণ করে। কারণ, তারা একই সফরে দুটি মানসেক পালন করতে এসেছে। তবে যারা কুরবানী করতে পারবে না তারা দশদিন সাওম পাল করবে। হাজ্জের সময় তিনদিন, এই সিয়ামের সময় উমরার ইহরাম করার পর থেকে শুরু হয় এবং বাড়িতে ফিরে গিয়ে সাতদিন সওম পালন করবে। নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মাক্কায় পৌঁছলেন, প্রথমে হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করলেন এবং সাত চক্কর তাওয়াফ করলেন। তিন চক্কর রামল করলেন। কারণ, এটি ছিল আগমনের পরের তাওয়াফ। আর চার চক্কর স্বাভাবিকভাবে হেঁটে তাওয়াফ করলেন। বাইতুল্লাহর তাওয়াফ সম্পন্ন করে তিনি মাকামে ইব্রাহীমের নিকট দু’রাক‘আত সালাত আদায় করলেন। তারপর তিনি সাফায় আসলেন এবং সাফা-মারওয়ার মাঝে সাত চক্কর সা‘ঈ করলেন। দুটি আলামতের মাঝে তিনি দৌড়ালেন। আর বাকী অংশ তিনি স্বাভাবিক হাঁটলেন। তারপর হাজ্জ সমাধান করা, নহরের দিন কুরবানী করা আগ পর্যন্ত তিনি তার ইহরাম থেকে হালাল হননি। তারপর যখন তিনি তার হজ শেষ করে, জামরায় পাথর মারলেন, কুরবারীর পশু জবেহ করলেন, নহরের দিন মাথা মুন্ডালেন, এটি হল প্রথম হালাল, তখন সাজ সকালে বাইতুল্লাহর দিকে রওয়ান দিলেন এবং তাওয়াফ করলেন। অতঃপর তাঁর উপর যা হারাম ছিল সে সব কিছু হতে তিনি হালাল হয়ে গেলেন। এমনকি নারীগণও হালাল হয়ে গেল। সাহাবীগণের মধ্যে যাঁরা হাদী সাথে নিয়ে এসেছিলেন তাঁরাও সেরূপ করলেন, যেরূপ আল্লাহর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম করেছিলেন।
জাবির ইব্নু ‘আবদুল্লাহ্ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা হতে বর্ণিত যে, খন্দকের দিন সূর্য অস্ত যাওয়ার পর ‘উমার ইব্নু খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু এসে কুরাইশ গোত্রীয় কাফিরদের ভর্ৎসনা করতে লাগলেন এবং বললেন, “হে আল্লাহর রাসূল! আমি এখনও ‘আসরের সালাত আদায় করতে পারিনি, এমন কি সূর্য অস্ত যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন আল্লাহর শপথ! আমিও তা আদায় করিনি। অতঃপর আমরা উঠে বুতহানের দিকে গেলাম। সেখানে তিনি সালাতের জন্য উযূ করলেন এবং আমরাও উযূ করলাম; অতঃপর সূর্য ডুবে গেলে ‘আসরের সালাত আদায় করেন, তারপর মাগরিবের সালাত আদায় করেন”।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।খন্দকের দিন সূর্য অস্ত যাওয়ার পর ‘উমার ইব্নু খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু রাসূলের নিকট আসেন যে অবস্থায় তিনি কুরাইশ গোত্রীয় কাফিরদের ভর্ৎসনা করতে ছিলেন। কারণ, তারা তাকে ‘আসরের সালাত আদায় করতে দেয়নি, এমন কি সূর্য অস্ত যাওয়ার উপক্রম হয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর শপথ করলেন অথচ তিনি পরম সত্যবাদী! তিনি এখনও সালাত আদায় করেনি যাতে উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু যে কারণে কষ্ট পাচ্ছিত সে বিষয়ে সে তৃপ্তি পায়। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতের জন্য উযূ করলেন এবং সাহাবীগণও তার সাথে উযূ করলেন; অতঃপর সূর্য ডুবে যাওয়ার পর ‘আসরের সালাত আদায় করেন, অতঃপর আসরের সালাতের পর মাগরিবের সালাত আদায় করেন।
জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, উহুদের যুদ্ধ যখন সংঘটিত হয়। রাতে আমাকে আমার পিতা ডেকে বললেন, ‘আমার মনে হয় যে, নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহচরবৃন্দের মধ্যে যাঁরা সর্বপ্রথম শহীদ হবেন, আমিও তাঁদের অন্তর্ভুক্ত। আর আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পর, তোমাকে ছাড়া ধরাপৃষ্ঠে প্রিয়তম আর কাউকে ছেড়ে যাচ্ছি না। আমার উপর ঋণ আছে, তা পরিশোধ ক’রে দেবে। তোমার বোনদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করবে।’ সুতরাং যখন আমরা ভোরে উঠলাম, তখন দেখলাম যে, সর্বপ্রথম উনিই শাহাদত বরণ করেছেন। আমি তাঁর সাথে আর এক ব্যক্তিকে সমাধিস্থ করলাম। তারপর অন্যজনকে তাঁর সঙ্গে একই কবরে দাফন করাতে আমার মনে শান্তি হল না। সুতরাং ছমাস পর আমি তাঁকে কবর হতে বের করলাম। (দেখা গেল) তার কান ব্যতীত (তার দেহ) সেদিনকার মত অবিকল ছিল, যেদিন তাকে কবরে রাখা হয়েছিল। অতঃপর আমি তাকে একটি আলাদা কবরে দাফন করলাম।
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।আব্দুল্লাহ ইবনে হারাম তার ছেলে জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুকে রাতে ঘুম থেকে ডেকে বললেন, ‘আমার মনে হয় যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহচরবৃন্দের মধ্যে যাঁরা সর্বপ্রথম শহীদ হবেন, আমিও তাঁদের অন্তর্ভুক্ত। এ ছিল ওহুদ যুদ্ধের কিছুক্ষণ আগে। তারপর তিনি তাকে উপদেশ দিয়ে বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পর, তোমাকে ছাড়া ধরাপৃষ্ঠে প্রিয়তম আর কাউকে ছেড়ে যাচ্ছি না। তিনি তাকে অসিয়ত করেন, যাতে তার উপর থাকা ঋণপরিশোধ ক’রে। তিনি আরও অসিয়ত করেন, তার বোনদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করার জন্য।’ তারপর তিনি যুদ্ধ করেন এবং শহীদ হন। সেদিন শহীদের সংখ্যা ছিল, সত্তুর জন। তাই প্রত্যেকের জন্য আলাদা আলাদা কবর খনন করা মুসলিমদের ওপর কষ্টকর ছিল। তাই তারা দুইজন বা তিনজন এক কবরে দাফন করত। সুতরাং আব্দুল্লাহ ইবন হারামের সাথে অন্যজনকে একই কবরে দাফন করা হলো। কিন্তু জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুর মনে শান্তি হল না। তিনি তার পিতার মাঝে এবং তার সাথে দাফনকৃত ব্যক্তির মাঝে ব্যবধান করল। তারপর যেদিন তাকে দাফন করা হয়েছিল সেদিন থেকে ছমাস পর তাঁকে কবর হতে বের করা হলো। তখন তাকে দেখা গেল সম্পূর্ণ অক্ষত যেন তাকে আজকেই দাফন করা হয়েছে। শুধু তার কানের মধ্যে সামান্য পরিবর্তন হয়েছে। অতঃপর তাকে একটি কবরে একা দাফন করা হলো
নবীর সহধর্মিণী হাফসা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, “হে আল্লাহর রাসূল! লোকদের কী হল, তারা ‘উমরাহ শেষ করে হালাল হয়ে গেল, অথচ আপনি ‘উমরাহ হতে হালাল হচ্ছেন না? তিনি বললেন, আমি মাথায় আঠালো বস্তু লাগিয়েছি এবং কুরবানীর জানোয়ারের গলায় মালা ঝুলিয়েছি। কাজেই কুরবানী করার পূর্বে হালাল হতে পারি না”।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।বিদায়ী হজে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজ ও উমরার ইহরাম বাঁধেন। তিনি হাদী সাথে নেন এবং মাথায় আঠালো বস্তু লাগান যা তাকে বিক্ষিপ্ততা থেকে বিরত রাখবে। কারণ, তার ইহরাম দীর্ঘ হবে। সাহাবীদের কতক তার ইহরামের মতো আর কতক হজে তামাত্তুকারী হিসেবে উমরার ইহরাম বাঁধেন। তাদের অধিকাংশই হাদী প্রেরণ করেননি এবং কতক হাদী প্রেরণ করেছেন। তারপর যখন তারা মক্কায় পৌঁছল, তাওয়াফ ও সা‘ঈ করল, মুফরিদ ও কারেন হজকারী যারা হাদী নিয়ে আসেনি তাদের নির্দেশ দিলেন তারা যেন তাদের হজকে পরিবর্তন করে এবং তাকে উমরায় রুপান্তর করে। আর তারা হালাল হয়ে যাবে। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং যারা তার সাথে হাদী নিয়ে এসেছে তারা তাদের ইহরামের ওপর বাকী থাকলো, তারা হালাল হলো না। তখন রাসূলের স্ত্রী হাফসা রাদিয়াল্লাহু আনহা তাকে জিজ্ঞাসা করল, কেন লোকেরা হালাল হলো অথচ আপনি হালাল হলেন না? তিনি বললেন, আমি মাথায় আঠালো বস্তু লাগিয়েছি, কুরবানীর জানোয়ারের গলায় মালা ঝুলিয়েছি এবং তা সাথে নিয়ে এসেছি। হালাল হওয়ার জন্য এটি আমার জন্য বাঁধা প্রদানকারী যতক্ষণ না তা তার জায়গায় পৌঁছবে। আর তা হলো কুরবানীর দিন, হজের সমাপ্তির দিন।