





























Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
All
ইব্নু ‘আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আমার খালা মায়মুনার নিকট রাত্রি যাপন করলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে সালাতে দাঁড়ালেন, আমিও তাঁর বামপাশে দাঁড়ালাম, তিনি আমার মাথা ধরে তাঁর ডানপাশে দাঁড় করালেন”।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।বিশিষ্ট সাহাবী ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা সংবাদ দেন যে, তিনি তার ফুফু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীর নিকট রাত যাপন করেন যাতে সরাসরি রাসূলের তাহাজ্জুদ সম্পর্কে অবগত হন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন রাতে সালাতে দাড়ালেন ইবন আব্বাসও তার সাথে সালাত আদায়ের উদ্দেশ্যে দাড়ালেন এবং রাসূলের বামে মুক্তাদী হিসেবে দাড়ালেন। কারণ, ডানই হলো উত্তম স্থান এবং মুক্তাদি যখন একজন হয় তখন ইমামের সাথে দাড়ানোর এটিই স্থান। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মাথা ধরলেন এবং পিছন দিয়ে তাকে ঘুরিয়ে তার ডান পাশে দাড় করালেন।
আলী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফূ‘ হিসেবে বর্ণিত: “আল্লাহ তা‘আলা তাদের ঘর ও কবরসমূহ আগুন দিয়ে ভরে দিক। যেমনিভাবে তারা আমাদেরকে মধ্যবর্তী সালাত থেকে বিরত রাখছে, এমনকি সূর্য ডুবে গেল”। মুসলিমের বর্ণনায় বর্ণিত: “আমাদেরকে মধ্যবর্তী সালাত-আসরের সালাত- থেকে বিরত রাখছে”। অতঃপর মাগরিব ও এশার মাঝে তা আদায় করেন।” সহীহ মুসলিমের অপর একটি বর্ণনা ‘আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুশরিকরা নাবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আসরের সলাত থেকে বিরত রাখলো, এমনকি সূর্য লাল বা হলুদ হয়ে গেল। তখন তিনি বললেন, যারা আমাদেরকে মধ্যবর্তী সালাত-আসরের সালাত-থেকে বিরত রাখলো, আল্লাহ তাদের পেট ও কবরসমূহ আগুন দিয়ে ভরে দিন”।
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন। - মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মুশরিকরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তার সাহাবীদের মদীনার সুরক্ষা ও আত্মরক্ষা স্বার্থে আসরের সালাত থেকে বিরত রাখল এমনকি সূর্য্য ডুবে গেল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তার সাহাবীগন সূর্য্য ডোবার পরই সালাত আদায় করেন। তাই তারা তাকে এবং তার সাহাবীদেরকে যে কষ্ট দিয়েছে সে জন্য তিনি তাদের ওপর বদ-দো‘আ করেন যাতে তাদের পেট, ঘর ও কবরগুলোকে আগুন দ্বারা ভরে দেয়। আর তারা আমাদেরকে আসরের সালাত যেটি সর্ব উত্তম সালাত তা থেকে বিরত রাখে।
আবূ মূসা আশআরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে মরফূ হিসেবে বর্ণিত, “তিন লোকের জন্য দ্বিগুণ বিনিময় রয়েছে: (১) আহলে কিতাবের যে ব্যক্তি তার নবীর উপর ঈমান এনেছে এবং মুহাম্মাদের উপরও ঈমান এনেছে। (২) যে ক্রীতদাস আল্লাহর হক আদায় করে এবং তার মালিকের হকও আদায় করে। (৩) যে তাঁ বাঁদীকে সুন্দরভাবে আদব-কায়দা শিক্ষা দিয়েছে এবং ভালোভাবে দীনি ইলম শিক্ষা দিয়েছে অতঃপর তাকে আযাদ করে বিয়ে করেছে, তার জন্যও দু’টি পুরস্কার রয়েছে।
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।তিন লোককে কিয়ামতের দিন দ্বিগুণ প্রতিদান দেওয়া হবে। অতঃপর তাদের কথা উল্লেখ করেছেন, যেমন তাঁর বাণী: (১) ইয়াহূদী ও খৃস্টানদের মধ্য থেকে যে ব্যক্তি তার নিকট পূর্ব প্রেরিত নবী মূসা ও ঈসা আলাইহিমাস সালামের ওপর ঈমান এনেছে। আর এটি হচ্ছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আগমন ও তাঁর দাওয়াতী মিশনের পূর্বে। অতঃপর যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে প্রেরণ করা হয় এবং তার কাছে তাঁর দাওয়াত পৌঁছে তখন তাঁর উপরও ঈমান এনেছে। এটিই হলো এ ব্যক্তির জন্য দু’টি প্রতিদান। একটি হলো তার নিকট প্রেরিত প্রথম রাসূলের উপর ঈমানের প্রতিদান আর দ্বিতীয়টি হলো মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর ঈমান আনার প্রতিদান। (২) যে ক্রীতদাস আল্লাহ তাআলার ইবাদত করে এবং তার মালিকের অর্পিত দায়িত্বও উত্তমভাবে আদায় করে। তার জন্যও দু’টি প্রতিদান রয়েছে। (৩) যে তার বাঁদীকে সুন্দরভাবে আদব-কায়দা শিক্ষা দিয়েছে এবং ভালোভাবে দীনি ইলম, যেমন হালাল-হারাম শিক্ষা দিয়েছে; অতঃপর তাকে দাসত্ব থেকে আযাদ করে বিয়ে করেছে। তার জন্য দু’টি প্রতিদান রয়েছে। প্রথম প্রতিদান হচ্ছে, আদব-কায়দা শিক্ষা দেয়া ও আযাদ করার জন্য। আর দ্বিতীয় প্রতিদান হচ্ছে, আযাদ করার পর তাকে কষ্ট না দিয়ে তার প্রতি অনুগ্রহ করার জন্য, তাকে বিবাহ করার জন্য এবং তার লজ্জাস্থানের হিফাযত করার জন্য।
আবূ সাফওয়ান সুআইদ ইবনে ক্বাইস রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ও মাখরামাহ আব্দী ‘হাজার’ নামক জায়গা থেকে কিছু কাপড় (বিক্রির উদ্দেশ্যে) আমদানি করেছিলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট এসে পায়জামার দর-দাম করতে লাগলেন। আমার নিকটে একজন কয়াল (মাপনদার) ছিল, যে পারিশ্রমিকের বিনিময়ে (স্বর্ণ-রৌপ্য) ওজন করে দিত। সুতরাং তিনি কয়ালকে বললেন, “ওজন কর ও একটু ঝুঁকিয়ে ওজন কর।”
এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। - এটি নাসাঈ বর্ণনা করেছেন। - এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন। - এটি দারিমী বর্ণনা করেছেনসাফওয়ান ইবন সুআইদ ও মাখরামা আল-‘আবদী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা ‘হাজর’ নামক স্থান হতে কাপড় নিয়ে আগমন করেন। “নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট এসে পায়জামাটি দাম দর করেন। অর্থাৎ, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের কাছ থেকে একটি পায়জামা কিনতে চাইলেন। তাই তিনি দরদাম ঠিক করেন। নাসায়ীর বর্ণনায় রয়েছে, “তিনি আমাদের কাছ থেকে একটি পায়জামা কিনলেন।” নাসায়ী দরদামের কথা উল্লেখ করেন নি। “আমার কাছে এক ব্যক্তি ছিলো যে পারিশ্রমিকের বিনিময়ে জিনিসপত্র মেপে দিতো” অর্থাৎ বাজারে দাঁড়িপাল্লাসহ ওজনকারী পাওয়া যেতো যারা পারিশ্রমিকের বিনিময়ে ওজন করে দিতো। তখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওজনকারীকে বললেন, “ওজন করো এবং একটু ঝুঁকিয়ে দাও” অথাৎ নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওজনকারী লোকটিকে আদেশ দিলেন যে, পাল্লার যে পাশে পণ্য থাকে সেটি পাল্লার পরিমাপক পাশের তুলনায় ঝুঁকিয়ে দিতে। এর অর্থ এ নয় যে, খুব বেশি পরিমাণে ঝুঁকিয়ে দেওয়া। এতে বিক্রেতার ক্ষতি হবে; বরং সামান্য পরিমাণে ঝুঁকিয়ে দেওয়া যাতে ক্রেতা নিশ্চিত হয় যে, সে তার হক পুরোপুরি বুঝে পেয়েছে।
ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে মারফূ‘ সনদে বর্ণিত: বারীরাহ ও তার স্বামীর ঘটনায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, “যদি তুমি তার কাছে ফিরে যেতে” সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি আমাকে আদেশ দিচ্ছেন? বলল, “আমি কেবল সুপারিশ করছি” সে বলল, তার মধ্যে আমার কোনো প্রয়োজন নেই।
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।বারীরাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহার স্বামী একজন ক্রীতদাস ছিল। তাকে মুগীস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলা হতো। ক্রয়ের আগে বারীরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহা আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার খিদমত করতেন। যখন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা তাকে ক্রয় করে আযাদ করে দিলেন, আর বারীরাহকে স্বাধীনতা দেওয়া হলো যে, ইচ্ছা করলে সে মুগীসের সাথে থাকতে পারবে অথবা তার সাথে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করতে পারবে, তখন বারীরাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহা) তার সাথে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করলো। ফলে মুগীস এ পারিবারিক বিচ্ছিন্নতার কারণে মদীনার অলি-গলি ও রাস্তায় বারীরার পিছু পিছু ঘুরতে লাগল। বারীরার প্রতি তার ভালোবাসা প্রকট হওয়াতে অনবরত তার চোখের পানি দাড়ির উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে থাকত যাতে সে তার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে এবং তার কাছে ফিরে আসে। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বারীরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহাকে বললেন, “যদি তুমি তার কাছে ফিরে যেতে (তাহলে তোমার সাওয়াব হতো)”। বারীরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি আমাকে তার কাছে ফিরে যাওয়ার বাধ্যতামূলক আদেশ দিচ্ছেন? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “আমি কেবল তার জন্য মধ্যস্থতা করছি”। সে বলল, তার কাছে ফিরে যাওয়ার মধ্যে আমার কোনো উদ্দেশ্য ও আগ্রহ নেই।
আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, মদীনার আনসারীগণের মধ্যে আবূ তালহা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু সবচেয়ে অধিক খেজুর-বাগানের মালিক ছিলেন। মসজিদে নববীর নিকটবর্তী বায়রুহা নামক বাগানটি তাঁর কাছে অধিক প্রিয় ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বাগানে প্রবেশ করে সুপেয় পানি পান করতেন। আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, যখন এ আয়াত অবতীর্ণ হল; যার অর্থ, ‘‘তোমরা কখনও পুণ্য লাভ করতে পারবে না, যতক্ষণ না তোমাদের প্রিয় জিনিস আল্লাহর পথে ব্যয় করেছ।’’ [আলে ইমরান, আয়াত:৯২] তখন আবূ তালহা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গিয়ে বললেন, ‘ইয়া রাসূলুল্লাহ! আল্লাহ আপনার উপর (আয়াত) অবতীর্ণ করে বলেছেন, ‘‘তোমরা কখনও পুণ্য লাভ করতে পারবে না, যতক্ষণ না তোমাদের প্রিয় জিনিস আল্লাহর পথে ব্যয় করেছ।’’ আর বায়রুহা বাগানটি আমার নিকট সবচেয়ে প্রিয়। এটি আল্লাহর নামে সদকাহ করা হল। আমি এর কল্যাণ কামনা করি এবং তা আল্লাহর নিকট আমার জন্য জমা হয়ে থাকবে। কাজেই আপনি যাকে দান করা ভাল মনে করেন, তাকে দান করে দিন।’ তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘‘আরে! এ হচ্ছে লাভজনক সম্পদ। এ হচ্ছে লাভজনক সম্পদ। তুমি যা বলেছ, তা শুনেছি। আমি মনে করি, তুমি তোমার আপন-জনদের মধ্যে তা বণ্টন করে দাও।’’ আবূ তালহা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বললেন, ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি তাই করব।’ তারপর তিনি তাঁর আত্মীয়-স্বজন, আপন চাচার বংশধরদের মধ্যে তা বণ্টন করে দিলেন।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।আবু তালহা রাদিয়াল্লাহু আনহু মদীনার আনসারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী কৃষী জমির মালিক ছিলেন। তার একটি বাগান ছিল মসজিদের কিবলার দিকে। তাতে সুমিষ্ট পানিও ছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেখানে যেতেন ও তার পানি পান করতেন। যখন আল্লাহর বাণী: {لن تنالوا البر حتى تُنِفُقوا مما تُحبون} “তোমরা কখনো কল্যাণ ও নেকি পাবে না, যতক্ষণ না তোমরা তোমাদের পছন্দনীয় সম্পদ থেকে খরচ না কর।” (সূরা আলে-ইমরান, আয়াত: ৯২) নাযিল হল, তখন আবু তালহা দ্রুত সবার আগে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট উপস্থিত হল এবং বলল, হে আল্লাহর রাসূল, আল্লাহ তো স্বীয় বাণী: {لن تنالوا البر حتى تُنِفُقوا مما تُحبون} নাযিল করেছেন।আর আমার নিকট সবচেয়ে প্রিয় বাগান হচ্ছে বায়রুহা। বায়রুহা তার প্রিয় বাগানটির নাম। এই বায়রুহাকে সাদকা স্বরূপ আল্লাহ ও তার রাসূলের সামনে পেশ করছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুগ্ধ হয়ে বললেন। বাহ! বাহ! সেটি তো লাভজনক সম্পদ, সেটি তো লাভজনক সম্পদ। আমি পরামর্শ দিচ্ছি যে, এটা তুমি তোমার আত্মীয়দের ভেতরই সাদকা করে দাও। অত:পর তিনি তার নির্দেশ মোতাবেক তার আত্মীয় ও চাচাতো ভাইদের মধ্যে সেটি বণ্টন করে দিলেন।
আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, মক্কা বিজয়ের বছর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিরস্ত্রাণ পরিহিত অবস্থায় (মক্কায়) প্রবেশ করেছিলেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিরস্ত্রাণটি মাথা থেকে খোলার পর এক ব্যক্তি এসে তাঁকে বললেন, ইবন খাতাল কা‘বার গিলাফ ধরে আছে। তিনি বললেন, তাকে তোমরা হত্যা কর।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং কুরাইশ কাফিরদের মধ্যে চুক্তি ছিল। তিনি কতক মুশরিকদের রক্তকে মূল্যহীন ঘোষণা করেন এবং তাদের হত্যার নির্দেশ দেন। আর তাদের সংখ্যা হলো নয়জন। যখন মক্কা বিজয় হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম সতর্ক ও পরিবেষ্টিত অবস্থায় মক্কায় প্রবেশ করেছিলেন। আর সে তার মাথায় রেখেছিল শিরস্ত্রাণ। আর কতক সাহাবী ইবন খাতালকে দেখতে পেল সে হত্যা থেকে বাঁচার জন্য কা‘বার গিলাফ ধরে আছে। কারণ, সে তার পূর্বের অপকর্ম ও মন্দ আমল সম্পর্কে জানত। তাই সাহাবীগণ রাসূলকে জিজ্ঞাসা করা ছাড়া তাকে হত্যা করার ব্যাপারে সংকোচবোধ করছিল। তারপর যখন তারা রাসূলকে জিজ্ঞাসা করল, তিনি বললেন, তাকে তোমরা হত্যা কর। তখন তাকে হিজর ও মাকামের মাঝখানে হত্যা করা হলো।
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুকে যাকাত আদায়ের জন্য পাঠালেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলা হলো, ইবন জামিল, খালিদ ইবন ওয়ালিদ ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের চাচা আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু যাকাত দেন নি। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ইবন জামিল এ কারণে যাকাত দিতে অপছন্দ করেছে যে, সে গরিব ছিলো। আল্লাহ তাকে ধনী করে দিয়েছেন। আর খালিদ ইবন ওয়ালিদের কাছে যাকাত চেয়ে তোমরা তার ওপর অবিচার করেছ। কারণ, সে তার বর্ম ও ধন-সম্পদ আল্লাহর পথে ওয়াকফ করে রেখেছে। আর আব্বাস, তার যাকাত আমার ওপর, অনুরূপ সেটার সমপরিমাণ সম্পদও আমার যিম্মায় আছে। অতঃপর তিনি বললেন, হে উমার! তুমি কি উপলব্ধি করছ না যে, কোনো ব্যক্তির চাচা তার পিতার সমতুল্য?
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমার ইবন খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুকে যাকাত আদায়ের জন্য পাঠালেন। উমার যখন আব্বাস ইবন আব্দুল মুত্তালিবের কাছে যাকাত আদায়ের জন্য গেলেন, তখন তিনি যাকাত দিলেন না। একই আচরণ করলেন খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ ও ইবনু জামিল। ফলে উমার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে তাদের তিনজন সম্পর্কে অভিযোগ করলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “ইবন জামিলের যাকাত আদায় না করার কোনো ওযর নেই, তবে সে এ কারণে যাকাত দিতে অপছন্দ করেছে যে, সে গরিব ছিলো। আল্লাহ তাকে ধনী করে দিয়েছেন। অথচ তার এ ধনী হওয়ার কারণে তার উচিৎ ছিল সর্বপ্রথম ব্যক্তি হিসেবে যাকাত আদায় করা। আর খালিদ ইবন ওয়ালিদ যাকাত আদায় করেনি, এ কথা বলে তোমরা তার ওপর অবিচার করেছ, অথচ সে তার বর্ম ও ধন-সম্পদ আল্লাহর পথে ওয়াকফ করে রেখেছে। তার মতো এমন ব্যক্তির কীভাবে যাকাত আদায় করতে অস্বীকার করে? যে ব্যক্তি তার ওপর ফরয নয় এমন কাজে তার ধন-সম্পদ ব্যয় করে আল্লাহর নৈকট্য লাভে ব্যস্ত, আর সে ব্যক্তি তার ওপর আরোপিত ফরয যাকাত আদায় করতে অস্বীকার করবে তা হতেই পারে না। অন্যদিকে আব্বাসের যাকাত আদায়ের দায়িত্বভার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেই নিয়েছেন। হয়ত রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে তার আত্মীয়তার অবস্থান ও মর্যাদার কারণে তিনি তার যাকাতের দায়িত্ব নিয়েছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিম্নোক্ত বাণী উক্ত কথার প্রমাণ, “হে উমার! তুমি কি উপলব্ধি করছো না যে, কোনো ব্যক্তির চাচা তার পিতার সমতুল্য?” দেখুন, তাইসীরুল আল্লাম (১/৩০৪); তামবীহুল আফহাম (পৃ. ৩৩৯); তাসীসুল আহকাম, হাদীস নং (১৭৩) এর ব্যাখ্যা।
আবওয়া নামক স্থানে আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস এবং মিসওয়ার বিন মাখরামা রাদিয়াল্লাহু আনহুমার মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিল। আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, মুহরিম তার মাথা ধৌত করবে। আর মিসওয়ার রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, মুহরিম তার মাথা ধৌত করবে না। বর্ণনাকারী বলেন, আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু আমাকে আবূ আইউব আনসারী রাদিয়াল্লাহু আনহুর নিকট প্রেরণ করলেন। আমি তাকে কূপের নিকট দু’খুঁটির মাঝখানে কাপড় দিয়ে ঘেরা স্থানে গোসল করতে দেখলাম। আমি তাকে সালাম দিলাম। তিনি বললেন, কে? বললাম, আমি আব্দুল্লাহ বিন হুনাইন। মুহরিম অবস্থায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কীভাবে তাঁর মাথা ধৌত করতেন, এ বিষয়টি জিজ্ঞেস করার জন্য আমাকে আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু আপনার নিকট প্রেরণ করেছেন। এ কথা শুনে আবূ আইউব রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর হাত পর্দার কাপড়ের উপর রেখে তা সরিয়ে দিলেন। এতে আমার সামনে তাঁর মাথা প্রকাশিত হলো। অতঃপর যে তার শরীরে পানি ঢালছিল, তাকে বললেন, পানি ঢালো। সে তাঁর মাথায় পানি ঢালল। অতঃপর তিনি দু’হাত দিয়ে মাথা নাড়া দিয়ে হাত দু’টি একবার সামনে আনলেন আবার পেছনের দিকে টেনে নিলেন। এরপর বললেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এভাবে গোসল করতে ও মাথা ধৌত করতে দেখেছি। অন্য বর্ণনায় এসেছে: এরপর মিসওয়ার রাদিয়াল্লাহু আনহু ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বললেন, আমি আর কখনও আপনার সাথে বিতর্কে লিপ্ত হব না।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মুহরিম মাথা ধৌত করতে পারবে কি না, এ বিষয়ে আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস এবং মিসওয়ার বিন মাখরামা রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বিতর্ক করছিলেন। এব্যাপারে সন্দেহের স্থল হচ্ছে যে, মুহরিম যদি গোসল অবস্থায় মাথার চুল নাড়ায়, তখন গোসলটি দু একটি চুল পড়ার কারণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইত্যবসরে আব্দুল্লাহ বিন হুনাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু আবূ আইউবের নিকট এসে তাকে গোসল অবস্থায় দেখেন। তারপর তিনি তাকে বললেন, মুহরিম অবস্থায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কীভাবে গোসল করতেন -এ বিষয়টি জিজ্ঞেস করার জন্য আমাকে আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু আপনার নিকট প্রেরণ করেছেন। তখন তিনি পর্দা সরিয়ে মাথা উন্মুক্ত করলেন। এতে আমার সামনে তার মাথা উন্মুক্ত হলো। যিনি তার উপর পানি ঢালছিল তাকে বললেন, পানি ঢাল। এরপর তিনি দু’হাত দিয়ে মাথা মাসেহ করে হাত দু’টি একবার সামনে আবার পেছনে টেনে নিলেন। এরপর বললেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এমন করতে দেখেছি। অতঃপর আব্দুল্লাহ বিন হুনাইন গিয়ে আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহুর মত সঠিক হওয়ার কথা তাদের জানালেন। তারা সত্যের সন্ধানী ছিলেন। তাই মিসওয়ার তার মত পরিহার করলেন এবং ইবনে আব্বাসের শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি দিয়ে বললেন, আমি আপনার সাথে আর কখনো বিতর্কে লিপ্ত হবো না।