





























Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
All
জাবির ইবন আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে হজ্জের তালবিয়া পাঠ করতে করতে মক্কায় আগমণ করলাম। অতপর তাঁর নির্দেশে আমরা হজ্জকে উমরায় পরিণত করলাম।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু জানাচ্ছেন যে, সাহাবীগণ বিদায় হজে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে চলতে লাগলেন এবং অধিকাংশ সাহাবী বলছিলেন লাব্বাইকা হাজ্জান অর্থাৎ তারা ইফরাদ হজ্জ করেছেন। অতঃপর সাহাবীদের মধ্যে যে কুরবানীর পশু নিয়ে আসে নি, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে হজ্জের ইহরাম ছেড়ে দিয়ে উমরায় পরিণত করার আদেশ দিলেন। যাতে তারা তামাত্তু হজ্জ আদায়কারী হয়। তারা তাই করলেন। আল্লাহ তাদের উপর সন্তুষ্ট হোন।
সাফিয়্যাহ বিনতে হুয়াই রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে মরফূ‘ হিসেবে বর্ণিত, “আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ই‘তিকাফ অবস্থায় ছিলেন। আমি রাতে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে আসলাম। অতঃপর তাঁর সঙ্গে কিছু কথা বললাম। অতঃপর আমি ফিরে আসার জন্য দাঁড়ালাম। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ও আমাকে পৌঁছে দেওয়ার জন্য আমার সঙ্গে উঠে দাঁড়ালেন। আর তাঁর বাসস্থান ছিল উসামাহ ইবন যায়েদর বাড়িতে। এ সময় দু’জন আনসারী সে স্থান দিয়ে অতিক্রম করল। তারা যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখল তখন তারা শীঘ্র চলে যেতে লাগল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা একটু থাম। এ হচ্ছে সাফিয়্যাহ বিনতে হুয়াই। তারা বললেন, সুবহানাল্লাহ! হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেন, মানুষের ভেতর রক্তের শিরায় শয়তান চলাচল করে। আমি শংকাবোধ করছিলাম যে, সে তোমাদের মনে কোন খারাপ ধারণা অথবা বললেন অন্য কিছু সৃষ্টি করে দেবে। অন্য বর্ণনায় এসেছে: একদা তিনি রমাযানের শেষ দশকে মসজিদে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খিদমতে উপস্থিত হন। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ই‘তিকাফরত ছিলেন। সাফিয়্যাহ তাঁর সঙ্গে কিছুক্ষণ কথাবার্তা বলেন। অতঃপর ফিরে যাবার জন্য উঠে দাঁড়ান। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে উঠে দাঁড়ালেন। যখন তিনি (উম্মুল মুমিনীন) উম্মে সালামাহ রাদিয়াল্লাহু আনহার গৃহ সংলগ্ন মসজিদের দরজা পর্যন্ত পৌঁছলেন...” অতঃপর অনুরূপ হাদীস উল্লেখ করেছেন।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযানের শেষ দশ দিন ই‘তিকাফ অবস্থায় ছিলেন। তাঁর স্ত্রী সাফিয়্যাহ রাদিয়াল্লাহু আনহা কোনো এক রাতে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে আসলেন। অতঃপর তাঁর সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা বললেন। অতঃপর তিনি ঘরে ফিরে যাওয়ার জন্য দাঁড়ালেন। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও তাকে পৌঁছে দেওয়ার জন্য ও তাকে সঙ্গ দেওয়ার জন্য উঠে দাঁড়ালেন। এ সময় দু’জন আনসারী সে স্থান দিয়ে অতিক্রম করল। তারা যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখল তখন তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে তাঁর স্ত্রীকে দেখে লজ্জায় শীঘ্র চলে যেতে লাগল। তখন তিনি তাদের বললেন, তোমরা একটু থাম। অর্থাৎ, ধীরে হাঁটো। এ আমার স্ত্রী সাফিয়্যাহ। তারা বললেন, সুবহানাল্লাহ! আমাদের কারো কি আপনার সম্পর্কে খারাপ ধারণা আসতে পারে! তিনি তাদের জানালেন, নিশ্চয় শয়তান বনী আদমকে পথভ্রষ্ট করতে তৎপর; তাদের উপর তার অনেক প্রভাব আছে। সে মানুষের শিরা-উপশিরার সুক্ষ্ম প্রবেশপথ ও গোপন চলার পথে প্রবাহমান থাকে। তিনি শংকাবোধ করছিলেন, সে তাদের মনে অন্য কিছু সৃষ্টি করে দেবে।
আবদুল্লাহ ইবন মা‘কিল থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি কা‘ব বিন উজরা রাদিয়াল্লাহু আনহু এর পাশে বসে তাঁকে ফিদয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, তা বিশেষভাবে আমার সম্পর্কেই নাযিল হয়েছে। তবে তা তোমাদের সবার জন্য। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে আমাকে নিয়ে যাওয়া হলো। তখন আমার উকুন আমার চেহারার ওপর গড়িয়ে পড়ছিল। অথবা তিনি বললেন, আমি এর পূর্বে জানতে পারিনি যে, তোমার কষ্ট এ পর্যায়ে পৌঁছেছে। তুমি কি একটি বকরী পাবে? আমি বললাম, না। তিনি বললেন, তাহলে তুমি তিনদিন সিয়াম পালন কর অথবা ছয়জন মিসকীনকে অর্ধ সা করে খাবার প্রদান করো। অন্য বর্ণনায় এসেছে: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে এক ফারাক (তিন সা) খাদ্যদ্রব্য ছয়জন মিসকীনের মধ্যে ভাগ করে দিতে কিংবা একটি বকরী কুরবানী করতে অথবা তিনদিন সিয়াম পালনের নির্দেশ দিলেন।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কা‘ব ইবনে উজরাকে হোদায়বিয়ার দিন মুহরিম অবস্থায় দেখলেন। অসুস্থতার কারণে তার চেহারায় উকুন ঝরে পড়ছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার অবস্থার জন্য সমবেদনা প্রকাশ করলেন এবং বললেন, তোমার কষ্ট যে পর্যায়ে পৌঁছেছে তো আগে আমার জানা ছিল না। অতঃপর বললেন, তুমি কি একটি বকরীর ব্যবস্থা করতে পারবে? তিনি বললেন, না। তখন আল্লাহ তাআলা এ আয়াত নাযিল করলেন, فَمَنْ كَانَ مِنْكُم مَرِيضَاً أوْ به أذَىً مِنْ رَأسِه فَفِدْية مِنْ صِيَامٍ أوْ صَدَقَةٍ أوْ نُسُكٍ “আর তোমাদের মধ্যে যে অসুস্থ কিংবা তার মাথায় যদি কোনো কষ্ট থাকে, তবে সিয়াম কিংবা সাদকা অথবা পশু যবেহ এর মাধ্যমে ফিদয়া দিবে...। [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ১৯৬] এ সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনদিন সাওম পালন বা ছয়জন মিসকীন খাওয়ানোর মধ্যে যে কোনো একটি করার অনুমতি দিয়েছেন। প্রত্যেক মিসকীনকে অর্ধ সা যব অথবা এ রকম কিছু দিতে হবে, তাহলে তা মাথা মুণ্ডানোর কাফ্ফারা হবে। বিশেষ করে যে মাথায় পোকা-মাকড় থাকার কারণে ইহরাম অবস্থায় মাথা কামাতে বাধ্য হবে তার কাফ্ফারা স্বরূপ উপরোক্ত বিধান। অন্য বর্ণনায়, তাকে তিনটি কাজের যে কোনো একটি করার এখতিয়ার দিয়েছিলেন।
আবূ হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: “আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিয়ে বিকালের এক সালাত আদায় করলেন। ইব্নু সীরীন বলেন আবূ হুরাইরাহ্ সে সালাতের নাম বলেছিলেন, কিন্তু আমি তা ভুলে গেছি। তিনি বলেন, তিনি আমাদের নিয়ে দু’রাক‘আত সালাত আদায় করে সালাম ফিরালেন। অতঃপর মসজিদে রাখা এক টুকরা কাঠের উপর ভর দিয়ে দাঁড়ালেন। তাঁকে রাগান্বিত মনে হচ্ছিল। তিনি তাঁর ডান হাত বাঁ হাতের উপর রেখে এক হাতের আঙুল অপর হাতের আঙুলের মধ্যে প্রবেশ করালেন। আর যাঁদের তাড়া ছিল তাঁরা মসজিদের দরজা দিয়ে বাইরে চলে গেলেন এবং তারা বলতে লাগলেন, সালাত সংক্ষিপ্ত হয়ে গেছে। উপস্থিত লোকজনের মধ্যে আবূ বকর এবং ‘উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুমা-ও ছিলেন। কিন্তু তাঁরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে কথা বলতে ভয় পেলেন। আর লোকজনের মধ্যে লম্বা হাত বিশিষ্ট এক ব্যক্তি ছিলেন, যাঁকে ‘যুল-ইয়াদাইন’ বলা হতো, তিনি বললেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! আপনি কি ভুলে গেছেন, নাকি সালাত সংক্ষেপ করা হয়েছে? তিনি বললেন, আমি ভুলিনি এবং সালাত সংক্ষেপও করা হয়নি। অতঃপর (অন্যদের) জিজ্ঞেস করলেন, যুল-ইয়াদাইনের কথা কি ঠিক? তাঁরা বললেন, হাঁ। অতঃপর তিনি এগিয়ে এলেন এবং সলাতের বাদপড়া অংশটুকু আদায় করলেন। অতঃপর সালাম ফিরালেন। অতঃপর তাকবীর বললেন ও স্বাভাবিকভাবে সাজদাহ’র মতো বা একটু দীর্ঘ সাজদাহ করলেন। অতঃপর তাকবীর বলে তাঁর মাথা উঠালেন। পরে পুনরায় তাকবীর বললেন এবং স্বাভাবিকভাবে সাজদাহ’র মত বা একটু দীর্ঘ সাজদাহ করলেন। অতঃপর তাকবীর বলে তাঁর মাথা উঠালেন। লোকেরা হয়তো ইব্নু সীরীন-কে জিজ্ঞেস করেছে, “পরে কি তিনি সালাম ফিরিয়েছিলেন?” তখন ইব্নু সীরীন বলতেন, আমার নিকট বর্ণনা করা হয়েছে যে, ‘ইমরান ইব্নু হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, অতঃপর তিনি সালাম ফিরিয়েছিলেন।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।নবী রাসূলগণ সব মানুষের চেয়ে অধিক জ্ঞানী, অন্তরের দিক দিয়ে তারা অটুট ও অবিচল, আল্লাহর বিধান বাস্তবায়নে তারা সবচেয়ে শক্তিশালী এবং ধৈর্যের দিক বিবেচনায় তারা সবার উর্ধ্বে। তা সত্বেও তারা মানবিক সীমাবদ্ধতা থেকে বের হয়ে যাননি। এ সব গুণাবলীতে সবচেয়ে পরিপূর্ণ মানব হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তারপরও মানুষ হওয়ার কারণে তার ওপর ভুলে যাওয়া চড়াও হয়, যেন আল্লাহ তাআলা তার বান্দাদের জন্যে ভুলের বিধান রচনা করে দেন। আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহ বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন সাহাবীদের নিয়ে যোহর বা আসরের সালাত আদায় করতে ছিলেন। আবূ হুরায়রা সালাতটি নির্দিষ্টভাবে বলেন কিন্তু ইবন সীরীন তা গেছেন। যখন প্রথম দুই রাকা‘আত আদায় করেন তিনি সালাম ফিরান। যেহেতু আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন পরিপূর্ণ- তার আত্মা কখনো পূর্ণাঙ্গ আমল ছাড়া পরিতৃপ্ত হয় না, তাই তিনি কোন দূর্বলতা বা বিঘ্নতার বিষয়টি অনুভব করলেন। তিনি তার কারণটি বুঝতে পারছিলেন না। ফলে তিনি মসজিদের সামনের দিকে রাখা একটি লাকড়ির ওপর হেলান দিয়ে ভারাক্রান্ত মনে দাড়ালেন এবং এক হাতের আঙুল অপর হাতের আঙুলের মধ্যে প্রবেশ করালেন। যাঁদের তাড়া ছিল তাঁরা মসজিদের দরজা দিয়ে বাইরে চলে গেলো এবং তারা বলাবলি করতেছিল নিশ্চয় কোন একটি ঘটনা ঘটেছে। আর তা হলো সালাত সংক্ষিপ্ত করণ। তারা নবুওয়তের অবস্থানকে ভুল ভ্রান্তির থেকে অনেক বড় মনে করলেন। তাদের অন্তরে রাসূলের ভীতির কারণে তাদের কেউ তার এ গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন করার ওপর সাহস করল না। কারণ, বিশেষ করে উপস্থিত লোকজনের মধ্যে আবূ বকর এবং ‘উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুমা-ও ছিলেন। বিশেষভাবে তারা তার ভেতর সংকীর্ণ ও প্রভাবিত হওয়ার লক্ষণ দেখেছেন। কিন্তু লোকজনের মধ্যে এক ব্যক্তি ছিলেন, যাঁকে ‘যুল-ইয়াদাইন’ বলা হতো, তিনি এ নীরবতাকে ভাঙলেন। তিনি এ বলে রাসূলুল্লাহকে জিজ্ঞাসা করলেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! আপনি কি ভুলে গেছেন, নাকি সালাত সংক্ষেপ করা হয়েছে? তিনি কোনটাই নিশ্চিত করলেন না। কারণ, ঐ যুগের মধ্যে দুটির যেকোনটিই সম্ভব। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ধারণা থেকে বললেন, আমি ভুলিনি এবং সালাত সংক্ষেপও করা হয়নি। যখন যুল ইয়াদাইন জানতে পারলেন যে, সালাত সংক্ষিপ্ত করা হয়নি আর সে নিশ্চিত ছিল যে, তিনি দুই রাকা‘আত আদায় করছেন তাই সে বলল, বরং আপনি ভুলে গেছেন। তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুল ইয়াদাইনের সংবাদটি নিশ্চিত হতে চাইলেন। কারণ, তার সংবাদটি তার ধারনার বিপরীত। তাই তিনি চাইলেন এমন কিছু যা তার কথাকে প্রধান্য দেয়। অতঃপর তিনি তার আশপাশের সাহাবীদের জিজ্ঞেস করলেন, যুল-ইয়াদাইনের কথা কি ঠিক? আমি নাকি কেবল দুই রাকা‘আত সালাত আদায় করছি। তাঁরা বললেন, হাঁ। তখন তিনি এগিয়ে এলেন এবং সলাতের বাদপড়া অংশটুকু আদায় করলেন। তাশাহুদের পর সালাম ফিরালেন ও বসা অবস্থায় তাকবীর বললেন এবং স্বাভাবিকভাবে সাজদাহ’র মতো বা একটু দীর্ঘ সাজদাহ করলেন। অতঃপর তাকবীর বলে সেজদা থেকে মাথা উঠালেন। পরে পুনরায় তাকবীর বললেন এবং স্বাভাবিকভাবে সাজদাহ’র মত বা একটু দীর্ঘ সাজদাহ করলেন। অতঃপর তিনি সালাম ফিরিয়েছিলেন কিন্তু তাশাহুদ পড়েননি।
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহ থেকে মারফু‘ সূত্রে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, শহীদ হলো পাঁচ প্রকার: মহামারীতে মৃত, পেটের পীড়ায় মৃত, পানিতে ডুবে মৃত, ধসে মৃত, আর হলো আল্লাহর রাস্তায় শহীদ। অন্য বর্ণনায় এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদের বললেন, “তোমরা তোমাদের মধ্যকার কাদেরকে শহীদ বলে গণ্য কর? তারা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় নিহত হয় সেই তো শহীদ। তিনি বললেন, তবে তো আমার উম্মতের শহীদের সংখ্যা অতি অল্প হবে। তখন তারা বললেন, তা হলে তারা কারা, হে আল্লাহর রাসূল? তিনি বললেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ রাস্তায় নিহত হয় সে শহীদ, যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে মারা যায় সেও শহীদ। যে ব্যক্তি মহামারীতে মারা যায় সে শহীদ, যে ব্যক্তি পেটের পীড়ায় মারা যায় সেও শহীদ এবং পানিতে ডুবে মারা যায় এমন ব্যক্তিও শহীদ।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।শহীদ মোট পাঁচ ধরনের: যে ব্যক্তি জীবনঘাতী মহামারীতে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়, যে ব্যক্তি পেটের পীড়ায় মারা যায়, যে ব্যক্তি বৈধভাবে নৌযানে আরোহণ করে সমুদ্র পাড়ি দিতে গিয়ে পানিতে ডুবে মারা যায়, যে ব্যক্তি কোনো কিছু ধসে যেমন দেয়াল ধসে মারা যায়, আরও হচ্ছেন আল্লাহর রাস্তায় নিহত ব্যক্তি। শেষোক্ত ব্যক্তি সর্বোচ্চ স্তরের শহীদ। এমনিভাবে যে ব্যক্তি যুদ্ধে নিহত হওয়া ব্যতীত আল্লাহর রাস্তায় মারা যায় সেও শহীদ। প্রথম চার ধরনের শহীদগণ আখিরাতে শহীদের মর্যাদা পাবেন, তবে দুনিয়াতে তাদেরকে প্রকৃত শহীদের বিধান অনুযায়ী গণ্য করা হবে না। সুতরাং মারা যাওয়ার পরে তাদেরকে গোসল করানো হবে এবং তাদের উপর জানাযার সালাত আদায় করা হবে। হাদীসটিতে শহীদের সংখ্যা সীমাবদ্ধ করা হয় নি (বরং এ ছাড়াও শহীদ রয়েছে)।
সালেহ ইবন খাওয়াত ইবন জুবাইর রাদিয়াল্লাহু আনহু এমন ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেন যিনি রাসূলুল্লাহর সাথে যাতুর রিকা‘ সালাতুল খাওফ আদায় করেছেন: একটি জামাত তার সাথে কাতারবন্দী হন আরেকটি জামাত দুশমনের মুখোমুখি। ফলে যারা তার সাথে রয়েছেন তিনি তাদের নিয়ে এক রাকা‘আত সালাত আদায় করেন। তারপর দাঁড়িয়ে থাকেন। আর তারা নিজেরা তা পূর্ণ করেন। তারপর তারা ফিরে যান এবং তারা দুশমনের মুখোমুখি কাতার করেন। আর অপর জামাত আসেন তখন তিনি তাদের নিয়ে সেই রাকা‘আত আদায় করেন যে রাকা‘আত বাকী ছিল। তারপর তিনি বসে থাকেন এবং তারা নিজেরা সালাত পূর্ণ করেন। তারপর তিনি তাদের নিয়ে সালাম ফেরান।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাহাবীদের নিয়ে একটি যুদ্ধ করেন। তাদের অধিকাংশই ছিল পায়ে হাঁটা। খালি পা হওয়ার কারণে তাদের পাঁ দূর্বল হয়ে পড়লে তারা তার উপর কাপড়ের টুকরা পেঁচালো। আর তিনি দুশমনের সাক্ষাত পেলেন তবে যুদ্ধ হলো। তবে মুসলিমগণ তাদের দুশমণদের ভীতি পদর্শন করলেন। এ হাদীসটিতে দেখা যায় দুশমনরা কিবলার বিপরীত মুখে অবস্থান করছিল। কারণ, তাদের বাড়ী ঘর ছিল মদীনার পূর্বে পাশে। তাই তিনি তাদেরকে দুই ভাগে ভাগ করলেন। এ কারণেই এক জামাত কাতারে দাড়ালো আর অপর জামাত দুশমনের মুখোমুখি দাড়ালো যাদের মুসল্লিরা তাদের পিছনে রেখে আসছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যারা তার সাথে তাদের নিয়ে এক রাকা‘আত আদায় করলেন। অতঃপর তিনি তাদের নিয়ে দ্বিতীয় রাকা‘আতে দাড়ালেন এবং তাতে তিনি দাঁড়িয়ে স্থীর থাকলেন। আর তারা নিজেরা এক রাকা‘আত শেষ করলে এবং সালাম ফিরিয়ে তারা দুশমনের মুকাবালায় চলে গেলেন। আর অপর জামা‘আত আসলে তাদের সাথে তিনি অবশিষ্ট রাকা‘আত আদায় করলেন। তারপর তিনি বসা অবস্থায় স্থীর থাকলেন। আর তারা দাঁড়িয়ে গেল এবং নিজেরা এক রাকা‘আত আদায় করল। তারপর তিনি তাদের নিয়ে সালাম ফিরালেন। প্রথম জামা‘আত সালাতের তাহরীমা শরীক হলো আর তা হলো ইমামের সাথে তাকবীরে তাহরীমা। আর দ্বিতীয় জামা‘আত সালাতের তাহলীল পেল। আর তা হলো ইমামের সাথে সালাম। ফলে ইমামের সাথে সালাত আদায় করার ফযীলত উভয় জামা‘আতের মাঝে সমান হলো।
‘আয়িশাহ্ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে হাজ্জ আদায় করে কুরবানীর দিন তাওয়াফে যিয়ারাহ্ করলাম। এ সময় সাফিয়্যাহ এর ঋতু দেখা দিল। তখন নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সঙ্গে তা ইচ্ছা করছিলেন যা একজন পুরুষ তার স্ত্রীর সঙ্গে ইচ্ছা করে থাকে। আমি আরয করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি তো ঋতুবতী। আল্লাহর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তবে সে কি আমাদের আটকিয়ে ফেলবে? তারা বলল, হে আল্লাহর রাসূল! সাফিয়্যাহ তো কুরবানীর দিন তাওয়াফে যিয়ারত করে নিয়েছেন। তিনি বললেন, তাহলে চলো। অপর শব্দে বর্ণিত: নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিরক্ত হয়ে বললেন, সেকি কুরবানির দিন তাওয়াফ করেছে? বলা হলো হ্যাঁ। বললেন, তাহলে রওয়ানা দাও”।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে বিদায় হজ করেন। যখন তারা তাদের হজকর্মগুলো শেষ করেন, বাইতুল্লাহর তাওয়াফও তারা সম্পন্ন করে নেন। তাদের সাথে ছিল তার স্ত্রী সুফিয়্যাহ। যখন রওয়ানা করার রাত হলো সাফিয়্যাহ ঋতুবতী হলেন। তখন নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সঙ্গে তা ইচ্ছা করছিলেন যা একজন পুরুষ তার স্ত্রীর সঙ্গে ইচ্ছা করে থাকে। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা তাকে জানালেন যে, সে তো ঋতুবতী। আল্লাহর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম ধারণা করছিলেন যে, তার ঋতু দেখা দিয়েছে তাওয়াফে ইফাযাহ করার পূর্বে। কারণ, এ তাওয়াফ হলো রুকন তা ছাড়া হজ সম্পন্ন হবে না। তাহলে সে তাদেরকে মক্কা থেকে বের হতে বারণ করবে যতক্ষণ না সে পবিত্র হয়ে তাওয়াফ না করবে। ফলে তিনি প্রসিদ্ধ বাক্যটি বললেন, যা মুখে বলা হয় তার আসল অর্থ উদ্দেশ্য নেওয়া হয় না। ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তবে কি সে আমাদের পবিত্র হয়ে তাওয়াফ না করা পর্যন্ত আটকিয়ে ফেলবে? তারা তাকে জানালেন, হে আল্লাহর রাসূল! সাফিয়্যাহ তো কুরবানীর দিন তার মাসিক হওয়া আগে তাওয়াফে যিয়ারত করে নিয়েছেন। তারপর তিনি বললেন, তাহলে সে যেন রওয়ানা দেয়। কারণ, তার ওপর শুধু বিদায়ী তাওয়া বাকী রয়েছে। আর সে তা করতে না পারার ব্যাপারে অপারগ।
সাহাল ইবন সা‘দ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক মহিলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট একটি (হাতে) বুনা চাদর নিয়ে এল। সে বলল, ‘আপনার পরিধানের জন্য চাদরটি আমি নিজ হাতে বুনেছি।’ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেটার মুখাপেক্ষী হয়ে গ্রহণ করলেন। তারপর সেটা তিনি লুঙ্গিরূপে পরিধান করে আমাদের সামনে আসলেন। তখন অমুক ব্যক্তি বলল, ‘কী সুন্দর এটি! আমাকে এটি পরতে দিন।’ তিনি বললেন, “হ্যাঁ, (তাই দিব।)” নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মজলিসে কিছুক্ষণ বসলেন। অতঃপর ফিরে গিয়ে তা ভাঁজ করে ঐ লোকটির কাছে পাঠিয়ে দিলেন। লোকেরা তাকে বলল, ‘তুমি কাজটা ভালো কর নি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা মুখাপেক্ষী হয়ে পরিধান করেছিলেন, তবুও তুমি চেয়ে বসলে, অথচ তুমি জান যে, তিনি কারো চাওয়া ফেরত দেন না।’ ঐ ব্যক্তি বলল, ‘আল্লাহর কসম! আমি তা পরার উদ্দেশ্যে চাইনি, আমার চাওয়ার উদ্দেশ্য যে, তা আমার কাফন হবে।’ সাহাল বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত সেটা তার কাফনই হয়েছিল।’
তার মতই এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।হাদীসটিতে রয়েছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিজের ওপর অন্যকে প্রাধান্য দেওয়ার বর্ণনা। কারণ, তিনি চাদরটির মুখাপেক্ষী থেকেও লোকটিকে চাদরটি দান করে দেন। তিনি চাদরটি পরিধান করেছিলেন যা প্রমাণ করে চাদরটি তার দরকার ছিল। তার ঘটনা হচ্ছে, একজন মহিলা রাসূলের কাছে এসে তাকে একটি চাদর হাদিয়া দিল। তারপর একলোক রাসূলের দিকে এগিয়ে এসে বলল, চাদরটি কতইনা সুন্দর এবং সে রাসূলের কাছে চাদরটি চাইলো। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লাম চাদরটি খুলে ভাঁজ করে তাকে দান করে দিলেন। কোনো কোনো ব্যাখ্যাকারী বলেন, এ হাদীসটির শিক্ষনীয় বিষয় হলো, নেককার লোকদের নিদর্শন দ্বারা বরকত হাসিল করা বৈধ। তবে বিষয়টি এমন নয়, এখানে বরকত হাসিল করা হয়েছে রাসূলের সত্ত্বা দ্বারা। ফলে ফযীলত ও যোগ্যতার মাপকাটিতে তার উপর অন্য কাউকে কিয়াস করা যাবে না। এ ছাড়াও সাহাবীগণ অন্য কারও সাথে তার জীবদ্দশায় কিংবা মৃত্যুর পর এ ধরনের কোনো কাজ করতেন না। যদি তাতে কোনো কল্যাণ থাকতো এ ব্যাপারে তারা আমাদের থেকে অগ্রগামী থাকতেন।
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, “এক ব্যক্তি উপবনে হাঁট ছিল তখন সে মেঘ থেকে শব্দ শুনতে পেল, ‘অমুকের বাগানে বৃষ্টি বর্ষণ কর।’ অতঃপর সেই মেঘ সরে গিয়ে কালো পাথুরে এক ভূমিতে বর্ষণ করল। তারপর (সেখানকার) নালাসমূহের মধ্যে একটি নালা সম্পূর্ণ পানি নিজের মধ্যে জমা ক’রে নিল। লোকটি সেই পানির অনুসরণ ক’রে কিছু দূর গিয়ে দেখল, একটি লোক কোদাল দ্বারা নিজ বাগানের দিকে পানি ঘুরাচ্ছে। সে তাকে জিজ্ঞাসা করল, ‘তোমার নাম কি ভাই?’ বলল, ‘অমুক।’ এটি ছিল সেই নাম, যে নাম মেঘের আড়ালে সে শুনেছিল। বাগান-ওয়ালা বলল, ‘ওহে আল্লাহর বান্দা! তুমি আমার নাম কেন জিজ্ঞাসা করলে?’ লোকটি বলল, ‘আমি মেঘের আড়াল থেকে তোমার নাম ধরে তোমার বাগানে বৃষ্টি বর্ষণ করতে আদেশ শুনলাম। তুমি কি এমন কাজ কর?’ বাগান-ওয়ালা বলল, ‘এ কথা যখন বললে, তখন বলতে হয়; আমি এই বাগানের উৎপন্ন ফল-ফসলকে ভেবে-চিন্তে তিন ভাগে ভাগ করি। অতঃপর তার এক ভাগ দান করি, এক ভাগ আমি আমার পরিজন সহ খেয়ে থাকি এবং বাকী এক ভাগ বাগানের চাষ-খাতে ব্যয় করি।”
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।এক ব্যক্তি প্রশস্ত উপবনে হাঁট ছিল। তখন সে মেঘ থেকে শব্দ শুনতে পেল যে কেউ বলছে ‘অমুকের বাগানে বৃষ্টি বর্ষণ কর।’ অতঃপর সেই মেঘ তার লক্ষ্যবস্তু থেকে সরে গিয়ে কালো পাথুরে এক ভূমিতে তার মধ্যে থাকা পানি বর্ষণ করল। তারপর (সেখানকার) নালাসমূহের মধ্যে একটি নালা সম্পূর্ণ পানি নিজের মধ্যে জমা ক’রে নিল। লোকটি সেই পানির অনুসরণ ক’রে কিছু দূর গিয়ে দেখল, নিজ বাগানে দাঁড়ানো একজন লোক কোদাল দ্বারা নিজ বাগানের দিকে পানি ঘুরাচ্ছে। সে তাকে জিজ্ঞাসা করল, ‘হে আল্লাহর বান্দা তোমার নাম কি?’ বলল, ‘অমুক।’ এটি ছিল সেই নাম, যে নাম মেঘের আড়ালে সে শুনেছিল। বাগান-ওয়ালা বলল, ‘ওহে আল্লাহর বান্দা! তুমি আমার নাম কেন জিজ্ঞাসা করলে?’ লোকটি বলল, ‘আমি মেঘের আড়াল থেকে এই মেঘের মালিককে তোমার নাম ধরে তোমার বাগানে বৃষ্টি বর্ষণ করতে আদেশ দিতে শুনলাম। তুমি তোমার বাগান দ্বারা এমন কি কল্যাণমুলক কাজ কর যদ্বারা তুমি এতো সম্মানের অধিকারী হলে?’ বাগান-ওয়ালা বলল, ‘এ কথা যখন বললে, তখন বলতে হয়; আমি এই বাগানের উৎপন্ন ফল-ফসলকে ভেবে-চিন্তে বন্টন করি। তিন ভাগ করে এক ভাগ দান করি, এক ভাগ ও আমি আমার পরিজন সহ খেয়ে থাকি এবং বাকী এক ভাগ বাগানের চাষ-খাতে ও আবাদ করতে ব্যয় করি।”