





























Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
All
আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন সম্প্রদায়ের জন্য দো‘আ বা বদ-দো‘আ করা ছাড়া কুনূত পড়তেন না।
ইবন খুযাইমাহ এটি বর্ণনা করেছেন।হাদীস শরীফটি সে সব স্থানগুলো আলোচনা করেছে যেখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুনূত পড়তেন। আর তা হচ্ছে কোন সম্প্রদায়ের জন্য দো‘আ বা বদ-দো‘আ করার সময়। এ দ্বারা বিপদের সময় কুনূত পড়ার বৈধতা প্রমাণিত হয়। এ ছাড়া ফরয সালাতে কুনূত পড়া প্রমাণিত নয়। সুতরাং কুনূত পড়া বিপদ-আপদ ও বিপর্যয়ের সময়ের সাথে খাস। কারণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেবল মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য দো‘আ বা কাফিরদের ওপর বদ-দো‘আর করার সময় কুনূত পড়তেন। আর এ কুনূত পড়া কোন সালাতের সাথে খাস নয়। বরং উচিত হলো সব সালাতেই কুনূত পড়বে।
আবূ মালিক আল-আশজাঈ সা‘দ ইবনু তারেক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার পিতাকে বললাম, হে পিতা! আপনি অবশ্যই রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবূ বকর, ‘উমার ও ‘উসমান রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুম-এর পিছনে সালাত আদায় করেছেন এবং এই কুফায় ‘আলী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু-এর পেছনে প্রায় পাঁচ বছর সালাত আদায় করেছেন। তাঁরা কি ফজরের সালাতে দু‘আ কুনূত পড়তেন? তিনি বলেন, হে বৎস! এটা তো বিদ্আত।
এটি ইবন মাজাহ বর্ণনা করেছেন। - এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।হাদীস শরীফটি স্পষ্ট করে যে, ফজরের সালাতে কুনুত পড়া যদি কোন নির্ধারিত বিপদ না হয়, তবে তা বিদআত হবে। শাইখুল ইসলাম বলেছেন ভিতিরের সালাত ছাড়া অন্য কোন সালাতে কুনূত পড়বে না। তবে যদি মুসলিমদের ওপর কোন বিপর্যয় নেমে আসে। তখন প্রত্যেক মুসল্লী সব সালাতেই কুনূত পড়বে। কিন্তু ঐ বিপর্যয়ের মুনাসেব সময় ফজর ও মাগরিব অধিক গুরুত্বপূর্ণ। যে ব্যক্তি সুন্নাহ বিষয়ে ফিকির করবে সে অবশ্যই নিশ্চিতভাবে জানতে পারবে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন সালাতেই সব সময় কুনূত পড়েননি। তাওযীহুল আহকাম (২/২৫০)
আব্দুল্লাহ ইবন যুবাইর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, “রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাশাহহুদ পড়ার জন্য বসতেন তখন ডান হাত ডান উরুর ওপর এবং বাঁ হাত বাঁ উরুর ওপর রাখতেন। আর শাহাদাত আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করতেন। এই সময় তিনি বৃদ্ধাঙ্গুলি মধ্যমার সাথে সংযুক্ত করতেন এবং বাঁ হাতের তালু (বাঁ) হাঁটুর ওপর রাখতেন।”
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।হাদীসের অর্থ: “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাশাহহুদ পড়ার জন্য বসতেন” ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত হাদীস এটিকে শক্তিশালী করে, “রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাশাহহুদ পড়ার জন্য বসতেন তখন বাঁ হাত বাঁ হাঁটুর ওপর রাখতেন।” বর্ণনায় মুসলিম। তাশাহহুদ হলো এ দু‘আ পড়া: “আত্তাহিয়্যাতু লিল্লাহি” (সকল সম্ভাষণ, সালাত ও পবিত্র ইবাদত আল্লাহর জন্য। হে নবী! আপনার প্রতি সালাম এবং আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক। সালাম আমাদের প্রতি এবং আল্লাহর প্রত্যেক বান্দাদের প্রতি।” এটি দু‘আ সম্বলিত হওয়ায় একে দু‘আ বলা হয়েছে। কেননা “আপনার প্রতি সালাম” এবং “সালাম আমাদের প্রতি” মূলত দু‘আ। সাহাবীর বাণী, “ডান হাত ডান উরুর ওপর এবং বাঁ হাত বাঁ উরুর ওপর রাখতেন।” অর্থাৎ তিনি যখন তাশাহহুদের জন্য বসতেন তখন ডান হাত ডান উরুর ওপর এবং এমনিভাবে বাম হাত বাম উরুর ওপর বিছিয়ে দিতেন। হাঁটুর কাছে বা হাঁটুর ওপর বা উরুর ওপর হাত রাখার কারণ হলো অনর্থক কাজ থেকে হস্তদ্বয়কে বিরত রাখা। উরুর ওপর হাত রাখা আর হাঁটুর ওপর হাত রাখা বিরোধপূর্ণ নয়; কেননা উরুর ওপর হাত রাখলে সাধারণত হাতের আঙ্গুলসমূহ হাঁটু পর্যন্ত সম্প্রসারিত হবে। নাসায়ী ও অন্যান্য কিতাবে ওয়ায়েল ইবন হুজর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর বর্ণনায় রয়েছে, “নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বাম হাতের তালু রাখলেন তাঁর বাম হাঁটু ও রানের ওপর। আর ডান কনুইর শেষ প্রান্ত পর্যন্ত ডান রানের ওপর রাখলেন।” সাহাবীর কথা, “আর ডান কনুইর শেষ প্রান্ত পর্যন্ত ডান রানের ওপর রাখলেন” অর্থাৎ মুসল্লি যখন তার ডান হাতের কনুই তার ডান উরুর ওপর রাখে তাহলে নি:সন্দেহে তার ডান হাতের আঙ্গুল তার হাঁটু বরাবর পৌঁছবে। ইমাম নাওয়াওয়ী রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন, ‘আলেমগণ একমত যে, আঙ্গুলি হাঁটুর কাছে বা হাঁটুর ওপর রাখা মুস্তাহাব।’ কেউ কেউ বলেছেন, হাতের আঙ্গুল হাঁটুর ওপর রাখা। আর এটি হাদীসের অর্থ “বাঁ হাতের তালু (বাঁ) হাঁটু গিলে ফেলত।” সাহাবীর বাণী, ‘হাত রাখতেন’ দ্বারা হাতের আঙ্গুলের শেষাংশ থেকে কনুই পর্যন্ত উদ্দেশ্য। হাদীসের বাহ্যিক অর্থ দ্বারা বুঝা যায় যে, প্রথম ও দ্বিতীয় উভয় তাশাহহুদের সময়ই একইভাবে হাত রাখা। সাহাবীর বাণী, ‘শাহাদাত আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করতেন’ সাব্বাবাহ হলো বৃদ্ধাঙ্গুলির পরের আঙ্গুল যা শাহাদাত অঙ্গুলি বলে। একে সাব্বাবাহ বলার কারণ মানুষ গালি দেওয়ার সময় এ আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করে। একে মুসাব্বাহাহও বলা হয়, কেননা এর দ্বারা মানুষ আল্লাহর তাওহীদ তথা একত্ববাদ ও তাঁর পুত:পবিত্রতার প্রতি ইশারা করে ও আল্লাহর তাসবীহ বর্ণনা করে। তাশাহহুদের সময় শাহাদাত আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করা সুন্নাত যা সহীহ হাদীস দ্বারা সাব্যস্ত। সুন্নাত হলো তাশাহহুদে বসা থেকে তা শেষ হওয়া পর্যন্ত আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করা। এ অধ্যয়ের হাদীসের বাহ্যিক অর্থ দ্বারা এটিই বুঝা যায়। কেননা সাহাবীর বাণী, “রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাশাহহুদ পড়ার জন্য বসতেন তখন ডান হাত ডান উরুর ওপর এবং বাঁ হাত বাঁ উরুর ওপর রাখতেন। আর শাহাদাত আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করতেন।” মুসলিমের বর্ণনায় রয়েছে, আব্দুল্লাহ ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাশাহহুদ পড়ার জন্য বসতেন তখন বাম হাত বাম হাঁটুর ওপর আর ডান হাত ডান হাঁটুর ওপর রাখতেন। আর (হাতের তালু ও আঙ্গুলসমূহ গুটিয়ে আরবী) তিপ্পান্ন সংখ্যার মত করে শাহাদাত আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করতেন।” অনুরূপভাবে আবূ দাউদে ওয়ায়েল ইবন হুজর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত হাদীসও তা প্রমাণ করে। এতে রয়েছে, “অত:পর তিনি বাম পা বিছিয়ে দিলেন এবং তাঁর বাম হাত বাম উরুর ওপর এবং ডান হাতের কনুই ডান উরুর উপর রাখেন। পরে তিনি স্বীয় ডান হাতের কনিষ্ঠ ও অনামিকা অংগুলিদ্বয় আবদ্ধ করে রাখেন এবং মধ্যমা ও বৃদ্ধাংগুলি বৃত্তাকার করেন এবং শাহাদাত অঙ্গুলি (তর্জনী) দ্বারা ইাশারা করেন। আমি (‘আসিম ইবন কুলাইব) তাকে (বিশর ইবনুল মুফাদ্দাল) এভাবে বলতে দেখেছি। আর বিশর ইবনুল মুফাদ্দাল নিজের মধ্যমা ও বৃদ্ধাগুলি দ্বারা বৃত্ত করেন এবং তর্জনী দ্বারা ইশারা করেন।” ইবন হাজার রাহিমাহুল্লাহ বলেন, “তাশাহহুদ পড়তে বসার শুরু থেকেই এভাবে ইশারা করতেন। অন্যান্য বর্ণনা অনুসারে এটিই প্রমাণিত।” শাইখ ইবন বায রাহিমাহুল্লাহ ও ফতওয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটি এ মতানুসারে ফতওয়া দিয়েছেন। সাহাবীর বাণী, “এই সময় তিনি বৃদ্ধাঙ্গুলি মধ্যমার সাথে সংযুক্ত করতেন” অর্থাৎ বৃদ্ধাঙ্গুলি ও মধ্যমার দ্বারা বৃত্ত বানাতেন এবং শাহাদাত আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করতেন। সাহাবীর বাণী, “আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করতেন বলতে শাহাদাত অঙ্গুলি দ্বারা ইশারা করতেন। পুরো সময়ে শাহাদাত আঙ্গুল উপরের দিকে উঠিয়ে রাখতেন। শাহাদাত আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করার হিকমত হলো মহান মাবুদ একজন। সুতরাং কথা, কাজ ও বিশ্বাসে তাকে সর্বাস্থায় এক বলে ঘোষণা করা। মুসনাদে আহমাদে ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফু‘ সূত্রে বর্ণিত, “(এভাবে শাহাদাত আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করলে) তা শয়তানের জন্য লোহার চেয়েও অধিক কঠিন।” হাদীসে উল্লেখিত সাহাবীর প্রকাশ্য বক্তব্য দ্বারা এ কথা বুঝায় যে, তিনি ইশারা করার সময় তা নড়াচড়া করতেন না। কেননা ইশারা করা আর নাড়ানো এক জিনিস নয়। সাহাবীর বাণী, “এবং তার বাঁ হাত তার হাঁটুকে গিলে ফেলত।” অর্থাৎ বাঁ হাতের তালুর মধ্যে বাঁ হাঁটু এমনভাবে ছিলো যেন তাঁর হাঁটু হাতের তালুর মধ্যে লোকমার মতো হয়েছিলো। দ্বিতীয় অবস্থা হলো, বাঁ হাত হাঁটুর ওপর ধরা ব্যতিত শুধু বিছিয়ে দেওয়া। যেমন মুসলিমে ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত হাদীসে এরূপ এসেছে, “নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহিস সালাম যখন সালাতে (তাশাহহুদের জন্য) বসতেন তখন তাঁর হাতদ্বয় হাঁটুর ওপর রাখতেন। তাঁর বাঁ হাত বাঁ হাঁটুর ওপর বিছানো অবস্থায় থাকত।” উপরোক্ত আলোচনার ভিত্তিতে প্রমাণিত যে, সালাতে তাশাহহুদের সময় দু’পদ্ধতিতে হাত হাঁটুর ওপর রাখা সুন্নাত। যে পদ্ধতিই গ্রহণ করা হোক তা সুন্নাত। তবে উত্তম হচ্ছে একবার প্রথম পদ্ধতি আমল করা আবার মাঝে মধ্যে দ্বিতীয় পদ্ধতি আমল করা যাতে উভয় সুন্নাত আমল করা হয়।
ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের তাশাহুদ এমনভাবে শেখাতেন যেমনটি তিনি কুরআনের সূরা শেখাতেন। তিনি বলতেন, “যাবতীয় বরকতময় অভিবাদন আল্লাহর জন্য, অনুরূপভাবে সকল সালাত ও পবিত্র কাজও। হে নবী! আপনার ওপর বর্ষিত হোক সালাম, আল্লাহর রহমত ও বরকতসমূহ। আমাদের ওপর এবং আল্লাহর সৎ বান্দাদের উপরও বর্ষিত হোক সালাম। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো হক্ব ইলাহ নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। ইবন রুমহের বর্ণনায় বর্ণিত, যেমনিভাবে আমাদের কুরআন শেখাতেন।
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।হাদীস শরীফটি তাশাহুদের বাক্যগুলো বর্ণনা করছে। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে তা শিখাতে এত আগ্রহি ছিলেন যেমনটি আগ্রহী ছিলেন কুরআনের আয়াতসমূহ শেখানোর ক্ষেত্রে। তাশাহুদের বাক্যগুলো অর্থ হলো, যাবতীয় বরকতময় অভিবাদন আল্লাহর জন্য, অনুরূপভাবে সকল সালাত ও পবিত্র কাজও। হে নবী! আপনার ওপর বর্ষিত হোক সালাম, আল্লাহর রহমত ও বরকতসমূহ। আমাদের ওপর এবং আল্লাহর সৎ বান্দাদের উপরও বর্ষিত হোক সালাম। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো হক্ব ইলাহ নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। এটি আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত প্রসিদ্ধ তাশাহুদেরই মতো। তবে প্রার্থক্য শুধু আল-মুবারাকাত শব্দের বৃদ্ধিতে ও তার পরে দুই শব্দ থেকে ওয়াও হরফ উহ্য করাতে। আর তাশাহুদের ক্ষেত্রে বর্ণিত একাধিক বাক্য থেকে একেক সময় একেকটি পড়া বৈধ।
জাবের ইবন আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন অসুস্থকে দেখতে যান। তিনি তাকে দেখলেন একটি বালিশের ওপর সালাত আদায় করছে। তিনি তা নিয়ে ফেলে দিলেন। তারপর সালাত আদায়ের জন্য একটি কাঠ নিলেন। এটিও তিনি নিলেন এবং ফেলে দিলেন এবং বললেন, যদি তুমি সক্ষম হও যমীনে সালাত আদায় করো, অন্যথায় তুমি ইশারা করো আর তুমি তোমার সেজদাকে রুকূ থেকে বেশি নীচা করো।
এটি বায্যার বর্ণনা করেছেন। - এটি বাইহাকী বর্ণনা করেছেন।হাদীস শরীফটি অসুস্থ ব্যক্তি যে তার কপালকে যমীনে রাখতে সক্ষম নয় তার সালাতের প্রদ্ধতি বর্ণনা করে। তার ওপর ওয়াজিব হলো, সক্ষমতা অনুযায়ী সালাত আদায় করা এবং রুকূ ও সেজদায় ইশারা করা। আর তার সেজদা তার রুকূর তুলনা অধিক ঝুঁকে করা।
যিয়াদ বিন আলাকাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা মুগীরা বিন শু‘বা আমাদের সালাতে ইমামতি করলেন। তিনি দুই রাকআতের পর দাঁড়িয়ে গেলে আমরা বললাম সুবহানাল্লাহ। তিনি বললেন, সুবহানাল্লাহ এবং সালাত চালিয়ে গেলেন। যখন সালাত শেষ করলেন এবং সালাম ফিরালেন তখন দুটি সাহু সিজদা করলেন। তারপর যখন তিনি সালাত থেকে ঘুরে বসলেন, তখন তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে অনুরূপ করতে দেখেছি।
এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। - এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন। - এটি দারিমী বর্ণনা করেছেনহাদীসটিতে মুগীরা ইবন শ‘বার আমল তুলে ধরা হয়েছে যে, তিনি তার সালাতে ভুল করে তাশাহুদ পড়েননি। তার পিছনে লোকেরা তাসবীহ পড়ে তাকে সতর্ক করলে তিনি বিষয়টি বুঝতে পারেন। কিন্তু তিনি তার প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করে সালাত সম্পন্ন করলেন এবং সালামের পর দুটি সাহু সিজদা করলেন। আর তিনি তার এ আমলকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আমল বলে দাবি করলেন। তবে সর্বাধিক সহীহ কথা হলো এ ভুলের জন্য সাহু সিজদা সালামের পূর্বে হবে। আব্দুল্লাহ বিন মালিক বিন বুহাইনা রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদীছটি এর প্রমাণ। হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ইমাম বুখারী ও মুসলিম।
আবূ রাফি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু তাদের কাছে সূরা ইনশিকাক তিলাওয়াত করলেন। তিনি এতে সিজদা দিলেন। অতপর সিজদা শেষে তিনি বললেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ সূরা তিলাওয়াত করে সিজদা দিয়েছেন।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।বর্ণনা করা হয যে, আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু সূরা ইনশিকাক তিলাওয়াত করার সময় এ আয়াত পাঠকালে সিজদা করেন “আর যখন তাদের কাছে কুরআন তিলাওয়াত করা হয় তখন তারা সিজদা করে না।” [সূরা আল-ইনশিকাক, আয়াত: 21] তাকে বলা হলো, অর্থাৎ আবূ রাফি রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু এ সূরাতে সিজদা করার ব্যাপারে দ্বিমত পোষণ করেন। যেমন আবূ রাফি রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে অন্য বর্ণনায় রয়েছে, তিনি বলেছেন, আমি বললাম এটি কিসের সিজদা? তিনি এ সূরাতে সিজদা দেওয়া অস্বীকার করেছেন; কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত আছে যে, “তিনি মদীনায় হিজরত করার পরে মুফাসসাল সূরাতে সিজদা করেন নি।” তখন আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বললেন, “আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এ সূরাতে সিজদা করতে না দেখলে আমিও কখনো সিজদা করতাম না।” অর্থাৎ তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণে সিজদা করেছেন।
যায়দ ইব্নু সাবিত রাদয়িাল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট সূরাহ্ ওয়ান্ন নাজ্ম তিলাওয়াত করলাম কিন্তু তাতে তিনি সাজদাহ্ করেননি”।
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।যায়েদ ইবনে সাবেত রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসূলুল্লাহর কাছে সূরা নাজম তিলাওয়াত করেন। যখন সেজদার আয়াত তিলাওয়াত করেন তখন তিনি সেজদা করেননি। এ অবস্থায় সেজদা করা ছেড়ে দেওয়া এ কথা প্রমাণ করে না যে, একেবারেই সেজদা ছেড়ে দিয়েছেন। কারণ, হতে পারে এখানে সেজদা করা ছেড়ে দিয়ে সেজদা না করা বৈধ প্রমাণ করেছেন। এটিই সর্বাধিক প্রাধান্য প্রাপ্ত সম্ভাবনা। এটিই নিশ্চিত করেছেন ইমাম শাফে‘ঈ। কারণ, সেজদা যদি ওয়াজিব হতো তাহলে তিনি তাকে পরে হলেও সেজদা করার নির্দেশ দিতেন।
‘উকবা ইবন ‘আমের রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললাম, সূরা হজে কি দুটি সেজদাহ রয়েছে? সে বলল, “হ্যাঁ। আর যে ব্যক্তি সেজদাহ দুইটি না করবে সে যেন সে দুটি তিলাওয়া না করে”।
এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন।এ হাদীসটিতে উকবাহ ইবন আমের রাদিয়াল্লাহু আনহু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সূরা হাজ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করে জানতে চান যে, তাতে কি দুটি সেজদা আছে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাহ তাকে হ্যাঁ বলে উত্তর দিয়ে জানিয়ে দেন যে, তাতে দুটি সেজদা আছে। তারপর তিনি তাকে আরেকটি বিধান জানিয়ে দেন যে, যে সেজদা করবে না সে যেন আয়াত দুটি তিলাওয়াত না করে। অর্থাৎ যে ব্যক্তি এ দুটি আয়াত পর্যন্ত এসে পৌঁছবে এবং সেজদা করার ইচ্ছা তার নাই, তাহলে সে তা পড়বে না। এ নিষেধ করাটি হারামের জন্য নয়। তবে মাকরুহের জন্য। তিলাওয়াতের সেজদা সুন্নাত।