





























Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
All
আবূ ‘আলী সুওয়ায়েদ ইবন মুকাররিন রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি (এক দেখলেন এক বৃদ্ধকে, যিনি তার চাকরকে চপোটাঘাত করেছেন তখন তিনি) বলেন, আল্লাহর শপথ অবশ্যই আমি আমাকে বনী মুকাররিন গোত্রের সাত সদস্য বিশিষ্ট পরিবারের সপ্তম লোক হিসেবে দেখতে পাচ্ছি। আমাদের একজন গোলাম ব্যতীত অন্য কোনো গোলাম ছিল না। একদা আমাদের মধ্যকার সর্ব কনিষ্ঠ ব্যক্তি তাকে চপোটাঘাত করল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন আমাদেরকে নির্দেশ দিলেন তাকে আযাদ করে দিতে। অন্য বর্ণনায় এসেছে, আমাদের সপ্তম ভাইটি।
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।আবূ ‘আলী সুওয়ায়েদ ইবন মুকাররিন রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বনী মুকাররিন গোত্রের সাত সদস্য বিশিষ্ট সদস্যের একজন ছিলাম। তারা সকলেই হিজরতকারী সাহাবী ছিলেন। তাদের সাথে অন্য কেউ ছিল না। আমাদের সেবার জন্য একজন গোলাম ব্যতীত অন্য কোনো লোক ছিল না। একদা আমাদের মধ্যকার সর্ব কনিষ্ঠ ব্যক্তি তার গালে চপোটাঘাত করল। ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে নির্দেশ দিলেন তাকে আযাদ করে দিতে; যাতে স্বাধীন করার মাধ্যমে তার প্রহারের কাফফারা হয়ে যায়।
কাসীর ইবন যিয়াদ বলেন, আমাকে হাদীস বর্ণনা করেছেন আল-উরদিয়্যাহ অর্থাৎ মুস্সাতা, তিনি বলেন, আমি হজ করলাম এবং উম্মে সালামাহ রাদিয়াল্লাহু আনহার নিকট প্রবেশ করলাম। আমি বললাম হে উম্মুল মুমিনীন সামুরাহ বিনতে জুনদাব নারীদেরকে মাসিক অবস্থার সালাত কাযা করার নির্দেশ দেন। তখন তিনি বললেন, তারা কাযা করবে না। রাসূলের স্ত্রীদের মধ্যে নারীগণ প্রসূতি অবস্থায় চল্লিশ দিন অতিবাহিত করত কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের নিফাস অবস্থার সালাতের কাযা করার নির্দেশ দিতেন না। আর অপর বর্ণনায় এসেছে, “আর আমরা আমাদের চেহারা হলদে ঘাস দ্বারা ধৌত করতাম।”
এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। - এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন। - এটি দারিমী বর্ণনা করেছেনআমাদের মাতা উম্মে সালমাহ রাদিয়াল্লাহু আনহা বিশিষ্ট সাহাবী সামুরাহ ইবন জুনদুবের ফাতওয়ার ওপর সংশোধনী দিয়েছেন। আর সেটা হচ্ছে, তিনি নারীদেরকে মাসিকের সময় ছুটে যাওয়া সালাতের কাযা করার নির্দেশ দিতেন। উম্মে সালামাহ শুনে বললেন, “তারা সালাত কাযা করবে না।” তিনি এ ফাতওয়ার কারণ বর্ণনা করে বলেন, “রাসূলের নারীদের থেকে কতক নারী প্রসূতি অবস্থায় চল্লিশ দিন অতিবাহিত করত কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের নিফাস অবস্থায় ছুটে যাওয়া সালাতের কাযা করার নির্দেশ দিতেন না।” তার নারীদের দ্বারা উদ্দেশ্য কন্যাগণ ও আত্মীয় স্বজন। নারী শব্দটি স্ত্রী শব্দ থেকে ব্যাপক। কারণ, কন্যাগণ এবং সমস্ত আত্মীয় এ শব্দের অন্তর্ভুক্ত। এখানে একটি আপত্তি রয়েছে। আর সেটা তার কথায়: (تقعد في النفاس ...إلخ) আর তা হলো, মুস্সাতা উম্মে সালমা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহাকে মাসিক অবস্থার ছুটে যাওয়া সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন এবং তাকে সংবাদ দেন যে, সামুরা তাকে কাযা করার আদেশ দেন, আর উম্মে সালমাহ উত্তর দিয়েছেন নিফাসের অবস্থার সালাত সম্পর্কে। এ আপত্তির উত্তর দু’টি: এক. উত্তর দ্বারা বুঝা যায় যে, এখানে মাহিয শব্দ দ্বারা উদ্দেশ্য ছিল নিফাস। দুই. উম্মে সালামাহ নিফাস অবস্থায় ছুটে যাওয়া সালাত সম্পর্কে উত্তর দেন যা হায়েযের সময় থেকে কম। কারণ, হায়েয বছরে ১২ বার হয় আর নিফাস এত বার হয় না, বরং তা হায়েযের তুলনায় একেবারেই কম হয়ে থাকে। তাই তিনি বলেন, শরী‘আত প্রণেতা নিফাস অবস্থার সালাত মাওকুফ করে দিয়েছেন, যা বারবার আসে না, তাহলে তিনি হায়েয অবস্থার সালাত যা বারবার আসে কীভাবে ক্ষমা করবেন না। আল্লাহই ভালো জানেন। তার বাণী “আমরা আমাদের চেহারর ওপর তেল মাখতাম।” তার বাণী: ওয়ারস অর্থ, সবুজ ঘাস। চেহারার জন্য তা থেকে রস গ্রহণ করত। الكَلَف দ্বারা উদ্দেশ্য কালো ও লাল বর্ণের মাঝামাঝি রং। আর তা হলো লাল মেটে রং চেহারার উপর দৃশ্যমান হয়।
‘আয়িশাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা কেবল হাজ্জের উদ্দেশে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে রওনা হলাম। আমরা যখন সারিফ নামক স্থানে পৌঁছলাম, আমার মাসিক ঋতু শুরু হয়ে গেল। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট এলেন এমন সময় যে আমি তখন কাঁদছিলাম। তিনি বললেন, তুমি কাঁদছ কেন? আমি বললাম, আল্লাহর কসম! আমি যদি এ বছর হাজ্জ করতে না আসতাম! তিনি বললেন, কি হয়েছে তোমার? সম্ভবত তুমি ঋতুবতী হয়েছ? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, আল্লাহ তা’আলা এটা আদাম এর কন্যাদের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছেন। তুমি হাজ্জ পালনকারীগণ যা করে তাই কর কিন্তু পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করো না”। তিনি বলেন, আমি যখন মাক্কায় পৌঁছলাম রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সহাবীদের বললেন, তোমরা এটাকে উমরা করে ফেলল। ফলে যাদের সাথে হাদী বা কুরবানীর পশু ছিল, তারা ব্যতীত সকলে হালাল হয়ে গেল। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবূ বকর, ‘উমার ও অন্যান্য স্বচ্ছল লোকদের সাথে কুরবানীর দিন পশু (হাদী) ছিল। অতঃপর (ইতিপূর্বে যারা ইহরাম খুলে ফেলেছিল, মিনার দিকে) অগ্রসর হবার প্রাক্কালে তারা সবাই (হাজ্জের) ইহরাম বাঁধল। তিনি বলেন, আমি কুরবানীর দিন পবিত্র হলাম এবং আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নির্দেশে তাওয়াফে ইফাযাহ করলাম। আমাদের জন্য গরুর গোশত পাঠান হ’ল। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এগুলো কি? তারা বলল, রসূলুল্লাহ তাঁর সহধর্মিণীদের পক্ষ থেকে একটি গরু কুরবানী করেছেন। যখন হাসবার রাত এল, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! লোকেরা হাজ্জ ও ‘উমরাহ পালন করে প্রত্যাবর্তন করবে, আর আমি শুধু হাজ্জ করে প্রত্যাবর্তন করব। তিনি বলেন, তিনি ‘আবদুর রহমান ইবন আবূ বাকরকে নির্দেশ দিলেন, ফলে সে আমাকে তার উটের পেছনে বসিয়ে রওনা হলেন। ‘আয়িশাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা বলেন, আমি ছিলাম অল্প বয়স্কা এবং আমার মনে আছে যে, তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে আমার মাথা বারবার পালনের খুঁটির সাথে আঘাত খাচ্ছিল। অবশেষে আমরা তান‘ঈম পৌঁছলাম। সেখান থেকে আমি ‘উমরার ইহরাম বাঁধলাম- মানুষের উমরার পরিবের্ত, যা তারা সম্পন্ন করেছে।
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।আয়িশাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহার হাদীসের অর্থ: “আমরা কেবল হাজ্জের উদ্দেশে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে রওনা হলাম”। অর্থাৎ মদীনা থেকে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বের হওয়া ছিল যিল কা‘দা মাসের পাঁচ দিন বাকী থাকতে শনিবার। মদীনায় চার রাকা‘আত যোহর পড়েন তারপর যুল হুলাইফার দিকে রওয়ানা করেন এবং সেখানে গিয়ে আসর দুই রাকা‘আত আদায় করেন। “আমরা হজ ছাড়া আর কোন কিছুই স্মরণ করতাম না”। অপর বর্ণনায় “হজ ছাড়া আর কিছুই দেখতাম না”। কিন্তু তার থেকে অপর একটি বিশুদ্ধ বর্ণনা এসেছে, “আমাদের কেউ উমরার ইহরাম আবার কেউ হজের ইহরাম বেঁধেছে। আর আমি তাদের মধ্য থেকে ছিলাম যারা উমরার ইহরাম বেঁধেছে”। সুতরাং তার কথা—“আমরা হজ ছাড়া আর কোন কিছুই স্মরণ করতাম না” এবং তার কথা “হজ ছাড়া আর কিছুই দেখতাম না”—নিম্নের সম্ভাবনাগুলো রাখে: প্রথম অবস্থা: এ দ্বারা তার উদ্দেশ্য মূল হিসেবে ফরয হজ। তারা যে হজের ইহরাম বেঁধেছে তার প্রকার বর্ণনা করা উদ্দেশ্য নয়। দ্বিতীয় অবস্থা: এ দ্বারা উদ্দেশ্য মীকাতে পৌঁছা এবং ইহরামে প্রবেশের পূর্বে মদীনা থেকে বের হওয়ার সময়। তৃতীয় অবস্থা: এ দ্বারা উদ্দেশ্য তিনি ছাড়া অন্যান্য সাহাবীগণের অবস্থা। তিনি নিজে নয়। “এমনকি আমরা সারিফ নামক স্থানে পৌঁছলাম”। অর্থাৎ তারা এমন একটি জায়গায় এসে পৌঁছল যাকে সারিফ বলা হয়। এটি মক্কার কাছাকাছি একটি স্থান। “আমার মাসিক শুরু হয়ে গেল।” অর্থাৎ সে ঋতুমতী হয়ে পড়ল—রাদিয়াল্লাহু আনহা— রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট এলেন তখন আমি কাঁদছিলাম। তিনি বললেন, তুমি কাঁদছ কেন? আমি বললাম, আল্লাহর কসম! আমি চাচ্ছি যে, যদি আমি এ বছর বের না হতাম”। তার যা হওয়ার তা হওয়ার পরেই তিনি কাঁদছেন এবং তিনি আগ্রহ প্রকাশ করেন যে, যদি এ বছর তাদের সাথে হজ পালন না করতেন। কারণ, তিনি ধারণা করেছিলেন যে, যেহেতু তার মাসিক হয়ে গেছে তাই তার হজের আমলসমূহ বাধা গ্রস্ত হবে এবং এ কারণে তার থেকে কল্যাণ ছুটে যাবে। তিনি তাকে বললেন, কি হয়েছে তোমার? সম্ভবত তুমি ঋতুমতী হয়েছ? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, আল্লাহ তা’আলা এটা আদম এর কন্যাদের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছেন। অর্থাৎ ঋতুবতী হওয়া এমন একটি বিষয় যা নির্ধারিত এবং আদমের কন্যাদের ওপর লিপিবদ্ধ। তা শুধু তোমার জন্য খাস নয় এবং তোমার হাতেও নয়। সুতরাং কান্নার কোন কারণ নেই। “তুমি হাজ্জ পালনকারীগণ যা করে তাই কর কিন্তু পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করো না।” নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জানালেন যে, মাসিক হজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য বাঁধা নয় এবং এতে ইহরামের কোন ক্ষতি হয় না। সে সেসব কর্ম করবে যা হাজীগণ করেন, যেমন আরাফা, মিনা ও মুযদালিফায় অবস্থান ও পাথর নিক্ষেপ করা, তবে তাওয়াফ ছাড়া। যতক্ষণ না ঋতু থেকে পবিত্র হবে এবং গোসল না করবে তাওয়াফ করা থেকে বিরত থাকবে। তিনি বলেন, আমি যখন মক্কায় পৌঁছলাম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সহাবীদের বললেন, তোমরা এটাকে ‘উমরা করে ফেলো। তার উদ্দেশ্য হচ্ছে যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় আগমন করলেন, যারা হাদী নিয়ে আসে নাই তাদেরকে তাদের ইহরাম উমরা বানিয়ে ফেলার নির্দেশ দিলেন, যে ব্যক্তি হজের ইহরাম বেঁধেছে কিন্তু সে হাদী প্রেরণ করেনি সে অবশ্যই তার হজের ইহরামকে উমরায় রূপান্তর করবে। সুতরাং সে তাওয়াফ করবে, সাঈ করবে এবং চুল কাটবে। অতঃপর সে ইহরাম থেকে হালাল হয়ে গেল। মুসলিমের অপর বর্ণনায় বর্ণিত: “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মধ্যে যার সাথে হাদী ছিল না তাদের হালাল হওয়ার নির্দেশ দিলেন। তিনি বলেন, আমরা বললাম কিসের হালাল? তিনি বললেন, সবই হালাল। “তিনি বলেন যাদের সাথে হাদী বা কুরবানীর পশু ছিল, তারা ব্যতীত সকলে হালাল হলো।” তিনি আরও বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবূ বকর ‘উমার ও অন্যান্য স্বচ্ছল লোকের সাথে কুরবানীর পশু (হাদী) ছিল। তার উদ্দেশ্য হচ্ছে, যার সাথে হাদী ছিল না সে তাওয়াফ, সাঈ এবং চুল কসর করার পর তার ইহরাম থেকে হালাল হয়ে গেছে। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবূ বকর ও উমার—রাদিয়াল্লাহু আনহুমা এবং স্বচ্ছল ব্যক্তিদের মধ্যে যারা হাদী নিয়ে এসেছেন তারা মুহরিম অবস্থায় থেকে গেলেন। কারণ, তারা হাদী নিয়ে এসেছেন, আর যে হাদী নিয়ে আসে তার জন্য তার ইহরামকে উমরায় পরিবর্তন করা বৈধ নয়। কারণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি যদি হাদী নিয়ে না আসতাম তাহলে আমি তেমনই করতাম যেমনটি আমি তোমাদের নির্দেশ দিয়েছি। “(হজ উমরায়) পরিবর্তন করা হলো। অতঃপর তারা (অর্থাৎ ইতিপূর্বে যারা ইহরাম খুলে ফেলেছিল, মিনার দিকে) অগ্রসর হবার প্রাক্কালে (হাজ্জের) ইহরাম বাঁধল।” অর্থাৎ, যারা তাওয়াফ, সাঈ ও চুল কসর করেছে তারা যিল হজ মাসের আট তারিখ তারবিয়ার দিবসে মিনায় রওয়ানা হওয়ার সময় হজের ইহরাম বেঁধেছে। তিনি বলেন, আমি কুরবানীর দিন পবিত্র হলাম। অর্থাৎ যিল হজের দশ তারিখ নহরের দিন তিনি তার মাসিক থেকে পবিত্র হলেন। নহর করে নাম রাখার কারণ হলো এ দিন কুরবানির পশুকে নহর বা জবেহ করা হয়। তারপর সূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে তাওয়াফে ইফাযাহ করার নির্দেশ দিলেন। অর্থাৎ মাসিক থেকে পবিত্র হওয়ার পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে তাওয়াফে ইফাযাহ করার নির্দেশ দিলেন। তাই তিনি তাওয়াফে ইফাযাহ করলেন। তিনি বলেন, আমাদের জন্য গরুর গোশত পাঠান হ’ল। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এগুলো কি? অর্থাৎ তার জন্য এবং তার সাথে থাকা নারীদের জন্য গরুর গোস্ত পাঠালেন। তারপরও তিনি সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তারা বলল, রসূলুল্লাহ তাঁর সহধর্মিণীদের পক্ষ থেকে একটি গরু কুরবানী করেছেন। অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার প্রত্যেক স্ত্রীর পক্ষ থেকে একটি গরু কুরবানী করেন। “যখন হাসবার রাত এলো” অর্থাৎ তাশরীকের দিনগুলোর পর যখন মিনা থেকে বের হওয়ার রাত এলো। একে হাসবা বলার কারণ, হলো তারা মিনা থেকে বের হয়ে মুহাস্সাব নামক স্থানে অবতরণ করলেন এবং সেখানে রাত যাপন করলেন। সহীহ বুখারীতে এসেছে, “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুহাস্সাবে একটু ঘুমান। তারপর তিনি বাইতুল্লাহতে যান এবং তার তাওয়াফ করেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! লোকেরা হাজ্জ ও ‘উমরাহ পালন করে প্রত্যাবর্তন করবে, আর আমি শুধু হাজ্জ করে প্রত্যাবর্তন করব? সবাই তামাত্তুকারী হওয়ার কারণে তারা আলাদা একটি হজ এবং একটি উমরা নিয়ে ফিরছে আর আমি ফিরে যাব অথচ আমার আলাদা কোন উমরা নাই। কারণ, তিনি ছিলেন কারেন। আর উমরা স্পষ্টত কিরানকারীর মধ্যে প্রবেশ করে গেছে। আর সহীহ মুসলিমের বর্ণনায় বর্ণিত: লোকেরা দ্বিগুণ সাওয়াব নিয়ে ফিরবে আর আমি একগুন সাওয়াব। মূলত: তিনি চাইছিলেন যে, তার জন্যও হজ ছাড়া আলাদা একটি উমরা হোক যেমনটি সকল উম্মুহাতুল মু’মিনীনের হয়েছিল এবং তারা ছাড়া অন্যান্য সাহাবী যারা হজকে উমরায় রূপান্তর করেছেন। তারা উমরা পালন করে তারবীয়ার দিনের পূর্বে হালাল হয়ে যায়। তারপর তারবীয়ার দিন তারা মক্কা থেকে হজের ইহরাম বাঁধে। ফলে তাদের একটি আলাদা উমরা এবং আলাদা হজ হয়। আর আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার মাত্র একটি উমরা হয় যা তার কিরান হজের সাথে একত্র। রওয়ানা হওয়ার দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, হজের জন্য তোমার তাওয়াফ করা তোমার উমরার জন্য যথেষ্ট হবে। কিন্তু তিনি মানলেন না এবং অন্যদের মতো একটি পূর্ণাঙ্গ উমরা করতে চাইলেন। তিনি বলেন, তিনি ‘আবদুর রহমান ইবন আবূ বাকর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহকে নির্দেশ দিলেন এবং তদনুযায়ী তিনি আমাকে তার উটের পেছন দিকে বসিয়ে রওনা হলেন। অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ভাই আব্দুর রহমান ইবন আবু বকরকে নির্দেশ দিলেন তাকে নিয়ে তানঈম যেতে যাতে তিনি অন্যদের মতো একটি উমরা নিয়ে ফিরেন। তখন তিনি তাকে তার পিছনে চড়ালেন। যেমনটি সহীহ মুসলিমের অপর এক বর্ণনায় বর্ণিত। ‘আয়িশাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা বলেন, আমি ছিলাম অল্প বয়স্কা এবং আমার মনে আছে যে, তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে আমার মাথা বারবার পালনের খুঁটির সাথে আঘাত খাচ্ছিল। অর্থাৎ, যখন আব্দুর রহমান ইবন আবূ বকর তাকে তার পিছনে বহন করল এবং তাকে নিয়ে সে তানয়ীম যাচ্ছিল, তখন তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়ল। অধিক তন্দ্রার কারণে তার মাথা বার বার পড়ে যাচ্ছিল। ফলে পালনের খুঁটির ওপর আঘাত খাচ্ছিল। “এভাবে আমরা তান‘ঈম পৌঁছলাম। সেখান থেকে আমি আবার ‘উমরার ইহরাম বাঁধলাম- যা লোকেরা ইতিপূর্বে আদায় করেছে। অর্থাৎ, তারা যখন তান‘ঈম পৌঁছল তখন লোকেরা প্রথমে যে উমরা করেছিল তার জায়গায় সে রকম একটি পূর্ণাঙ্গ উমরার ইহরাম বাঁধলেন। সহীহ বুখারী ও মুসলিমের অপর বর্ণনায় বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমরা আদায় করার পর তাকে বললেন, এটি তোমার উমরার স্থলাভিষিক্ত। অর্থাৎ এটি সেই উমরার স্থলাভিষিক্ত যা তুমি হজ থেকে আলাদা করে অর্জন করতে চেয়েছিলে। কিন্তু তোমাকে তা পালন করতে তোমার মাসিক বিরত রেখেছিল।
জাবের রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা একটি সফরে বের হলাম। আমাদের এক ব্যক্তি মাথায় পাথরের আঘত পেল এবং সে আহত হলো, অতঃপর তার স্বপ্নদোষ হলো। তারপর সে সাহাবীদের জিজ্ঞাসা করল। সে বলল, তোমরা কি আমার তায়াম্মুম করার অনুমতি পাও? তারা বলল, আমরা তোমার জন্য কোনো অনুমতি দেখতে পাচ্ছি না, তুমিতো গোসল করতে সক্ষম। ফলে সে গোসল করলো। অতঃপর মারা গেল। আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আগমন করলে বিষয়টি সম্পর্কে তাকে সংবাদ দেওয়া হলো। তখন তিনি বললেন, তারা তাকে হত্যা করেছে, আল্লাহ তাদের হত্যা করুন। যখন তারা জানত না তারা কেন জিজ্ঞাসা করল না। অবশ্যই অজ্ঞতার প্রতিষেধক হচ্ছে জিজ্ঞেস করা। তার জন্য তায়াম্মুম করাই যথেষ্ট ছিল অথবা সে তার জখমের উপর একটি পট্টি বেঁধে নিত, অতঃপর তার উপর মাসাহ করত এবং পুরো দেহ ধুয়ে নিত।
এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন।জাবের রাদিয়াল্লাহু সংবাদ দেন যে, তারা একটি সফরে বের হলে তাদের মধ্যে এক ব্যক্তি পাথরের আঘাত পেল ফলে তার মাথা ফেটে যায়। তারপর লোকটির ওপর গোসল ফরয হলে সে সাহাবীগণকে শরীর ধোয়ার পরিবর্তে তায়াম্মুম যথেষ্ট হবে কিনা সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। তখন তারা বলল, আমরা তোমার জন্য কোনো অনুমতি দেখতে পাচ্ছি না, তুমিতো গোসল করতে সক্ষম। ফলে সে গোসল করলো। অতঃপর মারা গেল। অর্থাৎ পানি বিদ্যমান থাকাবস্থায় তায়াম্মুম করা তোমার জন্য যথেষ্ট হবে না; তায়াম্মুমের অনুমতি যার কাছে পানি নেই তার জন্য। পানি পাওয়া যাওয়া সত্ত্বেও তোমার জন্য অনুমতি নেই। তারপর সে গোসল করল এবং পানির কারণে তার আঘাতটি বেড়ে গেল। ফলে তিনি (রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু) মারা গেলেন। তারপর যখন তারা মদীনায় ফিরে আসল ঘটনাটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাকে জানালে তিনি তাদের এ বলে ভর্ৎসনা করেন যে, তারা তাকে হত্যা করেছে, আল্লাহ তাদের হত্যা করুন। তাদের ওপর বদ-দো‘আ করেন। কারণ, তাদের ভুল ফাতওয়া দেওয়ার কারণে তার হত্যার কারণ হলো। “যখন তারা জানত না তারা কেন জিজ্ঞাসা করল না।” তাদের ওপর ওয়াজিব ছিল তারা জিজ্ঞাসা করবে এবং ফাতওয়া দেওয়াতে তাড়াহুড়া করবে না। কারণ, তাতে রয়েছে অন্যের প্রতি ক্ষতি করা যা হয়েই গেল। “অবশ্যই অজ্ঞতার প্রতিষেধক হচ্ছে জিজ্ঞেস করা।” অর্থাৎ যখন তারা বিষয়টি জানত না তাহলে তারা কেন জিজ্ঞাসা করল না? কারণ, অজ্ঞতার প্রতিশেধক হলো জিজ্ঞাসা করা। যখন কোনো মানুষ শর‘ঈ বিধান সম্পর্কে না জানে তখন এ অজ্ঞতা থেকে বাচার উপায় হলো জিজ্ঞাসা করা। এমন কোনো ফাতওয়া দিবে না যা ক্ষতির দিকে নিয়ে যায় বা মানুষকে ধ্বংস করে। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ বিষয়ে শরী‘আতের বিধান জানিয়ে দেন “তার জন্য তায়াম্মুম করাই যথেষ্ট ছিল অথবা সে তার জখমের উপর একটি পট্টি বেঁধে নিত, অতঃপর তার উপর মাসাহ করত এবং পুরো দেহ ধুয়ে নিত।” এটিই তার জন্য জরুরি ছিল এবং এটিই শরী‘আতের মূলনীতির সাথে সামঞ্জস্য পূর্ণ। কিন্তু তাকে গোসল করতে বাধ্য করা যার ফলে তার শরীরের ক্ষতি হয় বা সে মারা যায় বা তার সুস্থ হতে বিলম্ব হয়, শরী‘আতের মূলনীতির সম্পূর্ণ পরীপন্থী। এরই ভিত্তিতে বলা যায় যে, আক্রান্ত বা আঘাত প্রাপ্ত ব্যক্তি তার পুরো দেহ পানি দ্বারা ধুইবে এবং পট্টির উপর মাসাহ করবে তাই যথেষ্ট হবে। পট্টি লাগানোর পর তায়াম্মুম করা শরী‘আতসম্মত নয়। কারণ, একই অঙ্গের জন্য দু’টি পবিত্রতা অর্জনে বাধ্য করা শরী‘আতের মূলনীতির পরিপন্থী। আল্লাহ ভালো জানেন। হাদীসটি জখমের অতিরিক্ত পট্টির উপর প্রয়োগ করা হবে, যা খোলা বা উঠানো কষ্টকর। এ জন্যেই অতিরিক্ত পট্টির উপর তায়াম্মুমের প্রচলণ রাখা হয়েছে অথবা হাদীসটি প্রয়োগ করা হবে যে, যখমটি অযুর অঙ্গের উপর ছিল। ফলে তাতে পানি পৌঁছানো কঠিন ছিল। তাই অঙ্গগুলো ধোয়ার পরিবর্তে তায়াম্মুম করার অনুমতি দিয়েছেন।
আবূ সাঈদ আল-খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: দুই লোক সফরে বের হলো। সালাতের সময় হলো অথচ তাদের সাথে কোন পানি নেই। তারা দুইজন মাটি দ্বারা তায়াম্মুম করল এবং সালাত আদায় করল। তারপর তারা সময়ের মধ্যে পানি পেলে তাদের একজন ওযূ ও সালাত পূণরায় আদায় করল আর অপরজন তা করল না। অতঃপর তারা দুই রাসূলুল্লাহর নিকট এসে বিষয়টি জানালো। তখন যে সালাত পূণরায় আদায় করল না তাকে বলল, তুমি সুন্নাতকে যথাযথ অনুসরণ করছ, তোমার সালাত হয়ে গেছে। আর যে ওযূ করল এবং সালাত পুণরায় আদায় করল তোমার জন্য রয়েছে দুইবার সাওয়াব।
এটি নাসাঈ বর্ণনা করেছেন। - এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন। - এটি দারিমী বর্ণনা করেছেনবিশিষ্ট সাহাবী আবূ সাঈদ আল-খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু একটি ঘটনা বর্ণনা করে বলেন: ‘দুই লোক সফরে বের হলো। পথি মধ্যে সালাতের সময় হলো” সালাতের সময় উপস্থিত। “অথচ তাদের সাথে কোন পানি নেই। তাই তারা দুইজন মাটি দ্বারা তায়াম্মুম করল: বিশেষ পদ্ধতির ওপর তারা মাটির ইরাদাহ করল অথবা তরা মাটি দ্বারা তায়াম্মুম করল। এবং সালাত আদায় করল। তারপর তারা সময়ের মধ্যে পানি পেলে তাদের একজন ওযূ ও সালাত পূণরায় আদায় করল” হয়তো সে ধারণা করছিল যে, তার প্রথম সালাত বাতিল বা সতর্কতা অবলম্বন করল। আর অপরজন তা করল না। এ পদ্ধতি শুদ্ধ ছিল এ কথার ওপর ভিত্তি করল। অতঃপর তারা দুইজন রাসূলুল্লাহর নিকট এসে বিষয়টি জানালো। তাদের ঘটনা। তখন যে সালাত পূণরায় আদায় করল না তাকে বলল, তুমি সুন্নাতকে যথাযথ অনুসরণ করছ, তোমার সালাত হয়ে গেছে। আর যে ওযূ করল এবং সালাত পুণরায় আদায় করল, তাকে বলল, তোমার জন্য রয়েছে দুইবার সাওয়াব। অর্থাৎ তোমার জন্য রয়েছে সালাতের সাওয়াব দুইবার। কারণ, তাদের উভয়জনই বিশুদ্ধ ছিলেন যার ওপর সাওয়াব আরোপিত হয়। আল্লাহ তা‘আলা যে সুন্দর আমল করে তার বিনিময় নষ্ট করেন না। আর এতে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, সর্তকামুলক আমল করা উত্তম। যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যা তোমাকে সংশয়ে ফেলে তা ছাড় আর যা তোমাকে সংশয়ে নিপতিত করে তা গ্রহণ করো।
আবূ যার জুনদুব ইবন জুনাদাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফূ‘ হিসেবে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট কিছু গণীমতের সম্পদ একত্র হলো। তিনি বললেন, হে আবূ যার! তুমি গ্রামে যাও। তখন আমি রাবযাহ গ্রামে গেলাম। তখন আমার গোসল ফরয হতো। এ অবস্থায় আমি সেখানে পাঁচ ও ছয় দিন থাকতাম। তারপর আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসি। তিনি বলেন, হে আবূ যার! আমি চুপ রইলাম। “তোমার মা তোমাকে গুম করুক, হে আবূ যার তোমার মায়ের জন্য ধ্বংস” অতঃপর তিনি আমার জন্য একজন কালো বাদি ডাকালেন। সে একটি বড় পাত্র নিয়ে আসল যাতে রয়েছে পানি। সে আমাকে একটি কাপড় দিয়ে আড়াল করল আর আমি সাওয়ারী দ্বারা পর্দা করলাম। তারপর গোসল করলাম। তখন মনে হলো যেন, আমি আমার থেকে পাহাড় সরালাম। তখন বলল, পানি না পাওয়া গেলে পবিত্র মাটি একজন মুসলিমের পবিত্রতা যদিও দশ বছর হয়। যখন তুমি পানি পাবে তখন তুমি শরীরকে পানি দ্বারা ধুইয়ে নাও। কারণ, এটি উত্তম।”
এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। - এটি নাসাঈ বর্ণনা করেছেন। - এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।এ হাদীসটি এ শরী‘আতের একটি সহজ নিদর্শন তুলে ধরেছে। আর তা হলো পানি না থাকা অবস্থায় তায়াম্মুম দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করা। “পবিত্র মাটি” অর্থাৎ যমীনের উপরি ভাগের পবিত্র মাটি ইত্যাদি। এ নামকরণ করার কারণ হলো, মানুষ তার উপর আরোহন করে ও চলে। “মুসলিমের পবিত্রতা” এ কথার মধ্যে রয়েছে পবিত্রতার ক্ষেত্রে পবিত্র মাটিকে পানির সাথে তুলনা করা। তাই শরী‘আত প্রণেতা তায়াম্মুমের ওপর অযু শব্দ ব্যবহার করেছেন। কারণ, তা তার স্থলাভিষিক্ত হওয়ার কারণে। সহজ বিধানটি ততদিন থাকবে যতদিন অপারগতা পাওয়া যাবে। এ কারণে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যদিও দশ বছর পানি পাওয়া না যায় অথবা বিশ বছর অথবা ত্রিশ বছর বা তার চেয়েও বেশি। সুতরাং দশ দ্বারা উদ্দেশ্য অধিক বোঝানো সংখ্যা বোঝানো নয়। অনুরূপভাবে যদি পানি পাওয়াও যায় কিন্তু পানি ব্যবহারে শর‘ঈ বা দৈহিক কোনো অসুবিধা রয়েছে। এতে প্রতীয়মান হয় যে, তায়াম্মুম অযুর স্থলাভিষিক্ত। যদিও তার দ্বারা দুর্বল পবিত্রতা হয় কিন্তু ওয়াক্ত চলে যাওয়ার পূর্বে সালাত আদায়ের জন্য এটি জরুরি পবিত্রতা। তারপরও যখন পানি পাওয়া যায় ও তা ব্যবহারে সক্ষম হয় তখন তায়াম্মুম করার অনুমতি শেষ হয়ে যায়। এ কারণে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ যারকে পবিত্রতার ক্ষেত্রে মূলের দিকে ফিরে যাওয়ার দিক নির্দেশনা দেন। আর তা হলো পানি ব্যবহার করা। তিনি বলেন, যখন তুমি পানি পাবে তখন তুমি পানি তোমার শরীরে পৌঁছাও। তা দ্বারা তুমি অযু বা গোসল করে নাও। তিরমিযীর বর্ণনায় এসেছে: যখন পানি পাওয়া যাবে সে যেন তার চামড়ায় পানি স্পর্শ করে। কারণ, তা অধিক উত্তম। এ দ্বারা বুঝা যায় যে, পানি পাওয়া তায়াম্মুমকে ভঙ্গ করে দেয় যদি সে তা ব্যবহারে সক্ষম হয়। কারণ, ব্যবহার করতে সক্ষম হওয়া পানি পাওয়ার উদ্দেশ্য।
আবূ সা‘ঈদ আল-খুদরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি এক সোমবার রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে মসজিদে কুবা-র দিকে রওয়ানা হলাম। আমরা যখন বানূ সালিম-এর এলাকায় পৌঁছিলাম তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘ইতবান রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর বাড়ির দরজায় গিয়ে থামলেন এবং তাকে জোরে ডাক দিলেন। অতপর তিনি তার লুঙ্গি মাটিতে টানতে টানতে বেরিয়ে এলেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমরা এ ব্যক্তিকে তাড়াহুড়ার মধ্যে ফেলেছি। ‘ইতবান বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! কোন ব্যক্তি তার স্ত্রী থেকে তাড়াতাড়ি পৃথক হয়ে গেলে এবং ধাতু নির্গত না হলে তার কী হুকুম (সে গোসল করবে কি-না)? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “পানি (অর্থাৎ গোসল) পানির (বীর্য নির্গত হওয়ার) ফলেই ফরয হয়।”
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।আবূ সা‘ঈদ আল-খুদরী থেকে বর্ণিত দ্বারা বুঝা যায় যে, ধাতু নির্গত হলে গোসল ফরয। উত্তেজনার সময় প্রথম যে পানি বের হয় তা সবার পরিচিত। দ্বিতীয় পর্যায়ে যে পানি নির্গত হয় তার নাম মনি/ বীর্য। সুতরাং এ হাদীসটি প্রমাণ করে যে, ধাতু নির্গত না হলে গোসল ফরয নয়; এমনকি গোপনাঙ্গের একটির সাথে অন্যটি মিলিত হলেও (যদি বীর্য নির্গত না হয়); কিন্তু এ হাদীসটি মানসূখ হয়ে গেছে। সহবাস করলেই গোসল ফরয হয়ে যায়; বীর্য বের হোক বা না-ই হোক। দু’টি লিঙ্গ একত্রিত হলে- ই গোসল ফরয হয়ে যায়।
রাফে‘ ইবন খাদীজ রাদিয়াল্লাহ আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমরা ফজরের সালাত সকাল করে আদায় কর। কারণ, তা তোমাদের সাওয়াবের দিক বিবেচনায় অধিক। অথবা সাওয়াবের জন্য মহান”।
এটি ইবন মাজাহ বর্ণনা করেছেন। - এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের আদেশ দেন, যেন আমরা ফজরের সালাত সকাল উদয় হওয়ার পর আদায় করি। তারপর তিনি তার কারণ হিসেবে বর্ণনা করেন যে, তা সাওয়াবের দিক বিবেচনা মহান। কারণ সকাল হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়।
আবূ জুহাইফাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি বিলালকে আযান দেওয়ার সময় তার দুই আঙ্গুলকে কানের মধ্যে দিয়ে ঘুরতে এবং তার মুখকে এদিক সেদিক ঘুরাতে দেখেছি। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি লাল তাঁবুতে অবস্থান করছিলেন—আমার মনে হয় তিনি বলেছেন (তাবুটি ছিল) চামড়ার—বিলাল তার সামনে একটি লাঠি নিয়ে বের হলেন এবং তা সমতল ভূমিতে পুঁতে দিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লাল চাদর পরে তার দিক মুখ করে সালাত আদায় করছেন যে অবস্থায় তার সামনে দিয়ে কুকুর, গাধা অতিক্রম করছিল। আমি যেন তার দুই পায়ের নলার উজ্জলতা দেখছি। অপর বর্ণনায় বর্ণিত: আমি বিলালকে দেখলাম আবতাহ নামক স্থানে বের হল ও আযান দিল। যখন সে হাইয়া আলাস সালাহ, হাইয়া আলাল ফালাহ পৌঁছলো তার গর্দানকে ডানে ও বামে ঘুরালো তবে সে নিজে ঘুরেনি।
এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। - এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কার উঁচা অঞ্চলে আবতাহ নামক স্থানে অবরতণকারী ছিলেন। বিলাল তাঁর ওযূর অবশিষ্ট পানি নিয়ে বাইরে বের হলেন। কিছু লোক তা দিয়ে বরকত হাসিল করছিল। অতঃপর বিলাল আযান দিলেন। আবূ জুহাইফা বলল, আমি তাঁর মুখ (ফিরানো) লক্ষ্য করছিলাম। সে ডানে ও বামে মুখ ফিরিয়ে ‘হাইয়্যা আলাস সালাহ’, ‘হাইয়্যা আলাল ফালাহ’ বলছিলেন, যাতে মানুষ শুনতে পায়। কারণ, এ দুটি বাক্য সালাতের দিকে আসার প্রতি উৎসাহ। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য একটি বর্শা (সুতরাহ স্বরূপ) পুঁতে দেওয়া হল, যাতে তা তার জন্য সালাতে সুতরাহ হয়। তারপর তিনি যোহরের দুই রাকা‘আত সালাত পড়ালেন। অতঃপর তিনি মদীনায় ফিরে আসার আগ পর্যন্ত চার রাকাত বিশিষ্ট সালাত মুসাফির হওয়ার কারণে দুই রাকা‘আ করে পড়াতে থাকেন।