





























Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
All
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহ তা‘আলা তার রাসূলের হাতে মক্কা বিজয় সম্পাদন করার পর খুযা‘আহ গোত্র জাহিলিয়্যাতের যুগে নিহত তাদের এক লোকের বদলায় বনী লাইসের এক লোককে হত্যা করল। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে বললেন, আল্লাহ মক্কা থেকে হস্ত বাহিনীকে বিরত রেখেছেন। তার ওপর তার রাসূল ও মু’মিনদের বিজয়ী করেছেন। আর এ শহর আমার পূর্বে কারো জন্য বৈধ ছিল না এবং আমার পরে কারো জন্য বৈধ নয়। আর আমার জন্যও দিনের কিছু সময়ের জন্য বৈধ করা হয়েছে। আর তা হলো এ সময়টুকু। এটি সম্মানিত শহর। তার গাছ কাঁটা যাবে না, কাঁটা উপড়িয়ে ফেলা যাবে না এবং ঘোষণা করার উদ্দেশ্য ব্যতীত কেউ এ স্থানে পড়ে থাকা কোন বস্তুকে উঠিয়ে নিতে পারবে না এবং কর্তন করা যাবে না এখানকার কাঁচা ঘাস ও তরুলতাগুলোকে। আর যার কোন ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়, তার জন্য রয়েছে দুটি স্বাধীনতা। হয় তাকে হত্যা করা হবে অথবা তার দিয়্যত পরিশোধ করা হবে। এ কথা শোনে ইয়ামনী একলোক দাঁড়ালো যাকে আবূ শাহ বলা হয়। সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমার জন্য লিখে দিন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা আবূ শাহের জন্য লিখে দাও। তারপর ‘আব্বাস দাঁড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! ইযখির ব্যতীত। কেননা, ইযখির আমাদের ঘরে ও কবরসমূহে আমরা ব্যবহার করি। তখন নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হাঁ, ইযখির ব্যতীত।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।আবূ হুরায়রাহ রাদিয়াল্লাহু সংবাদ দেন—মক্কা বিজয়ের পর খুযা‘আহ গোত্রের এক লোক জাহিলিয়্যাতের যুগে তাদের নিহত হওয়া এক লোকের বদলায় হুযাইলের একজন লোককে হত্যা করে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে হাদীসে বর্ণিত ভাষণটি প্রদান করেন। তিনি মক্কা সম্মানিত হওয়ার কথা বর্ণনা করেন। হস্ত বাহিনীকে মক্কা থেকে বিরত রাখা এবং তার জন্য দিনের কিছু সময় বৈধ করার কথা বলেন। এখানে কিছু সময় দ্বারা নির্ধারিত কোন সময় নয়, বরং উদ্দেশ্য হলো বিজয়ের দিন দিনের বেলা। কারণ, সেদিন সকাল থেকে আসর পর্যন্ত রাসূলুল্লাহর জন্য বৈধ করা হয়। আর তিনি জানিয়ে দেন যে, তারপর তার সম্মানিত হওয়া পূর্বের মতো ফিরে আসে। হেরমের সীমানার মধে তার কাঁটা উপড়িয়ে ফেলা যাবে না, তার ঘাস ছিড়া যাবে না, তার গাছ কাঁটা যাবে না তবে ইযখার ঘাস ব্যতিত। আর ঘোষণা করার উদ্দেশ্য ব্যতীত কেউ এ স্থানে পড়ে থাকা কোন বস্তুকে উঠিয়ে নিতে পারবে না।
আব্দুল্লাহ ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, “কোনো এক দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিয়ে সালাতুল খাওফ আদায় করেন। তখন এক জামা‘আত তার সাথে সালাতে দাড়ালো এবং অপর জামা‘আত দুশমনের মুকাবালায় দাড়ালো। যারা তার সাথ ছিল তাদের নিয়ে তিনি এক রাকা‘আলা আদায় করলেন। অতঃপর তারা চলে গেল এবং অন্যরা আসলো। তারপর তাদের নিয়ে এক রাকা‘আত আদায় করলেন। আর উভয় জামা‘আত এক রাকা‘আত এক রাকা‘আত নিজেরা আদায় করে নিল”।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মুশরিকদের সাথে কোন একটি যুদ্ধে যখন মুসলিমরা তাদের দুশমন কাফিরদের মুখোমুখি হলো এবং সালাতে মাশগুল হওয়ার সময় তাদের ওপর অতর্কিত আক্রমণের আশঙ্কা করল তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাহাবীদের নিয়ে সালাতুল খাওফ আদায় করেন। এ সময় দুশমণ কিবলা ছাড়া অন্য দিক ছিল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদের দুই ভাগ করলেন। এক জামাত তার সাথে সালাতে দাঁড়ালো এবং অপর জামাত দুশমনের মুখোমুখী দাঁড়ালো তারা মুসল্লীদের পাহারা দিচ্ছিল। তারপর তিনি তার সাথে যে জামাত ছিল তাদের নিয়ে এক রাকাত সালাত আদায় করলেন। অতঃপর তারা তাদের সালাতে থাকা অবস্থায় দুশমনের মুকাবালায় চলে গেল এবং সেখানে অবস্থান নিল। আর অন্য জামা‘আত যারা এখনো সালাত আদায় করেনি তারা আসলো। তারপর তাদের নিয়ে এক রাকা‘আত সালাত আদায় করলেন। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাম ফিরালেন। তারপর যে জামা‘আতটি তার সাথে শেষে এসে যোগ দিয়েছিল তারা দাঁড়িয়ে অবশিষ্ট রাকা‘আত আদায় করে পাহারা দেওয়ার জন্য চলে গেল। এবং প্রথম জামা‘আত তাদের যে রাকা‘আত বাকী ছিল তা আদায় করল। এটি সালাতুল খাওফের বিভিন্ন প্রদ্ধতির একটি পদ্ধতি। এ থেকে উদ্দেশ্য যেমনটি ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, মানুষ সবাই সালাতে কিন্তু তাদের কতক কতককে পাহারা দেয়। এটি বর্ণনা করেছেন বুখরী।
যুবাইর ইবনুল আওয়াম রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, উম্মু কুলসুম বিনতে উকবা ছিলেন তার স্ত্রী। তিনি তাকে গর্ভাবস্থায় বলেন, আমাকে এক তালাক দিয়ে সন্তুষ্ট করুন। তিনি তাকে এক তালাক দিলেন, অতঃপর সালাত পড়তে চলে গেলেন। তিনি ফিরে এসে দেখেন যে, তার স্ত্রী একটি সন্তান প্রসব করেছে। যুবাইর বললেন, সে কেন আমাকে প্রতারিত করলো! আল্লাহ্ তাকেও প্রতারিত করুন। এরপর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট উপস্থিত হলে তিনি বলেন, আল্লাহর কিতাবে বর্ণিত তার ইদ্দাত পূর্ণ হয়ে গেছে। তাকে বিবাহের প্রস্তাব দাও।
এটি ইবন মাজাহ বর্ণনা করেছেন।যুবাইর ইবনুল আওয়াম উম্মু কুলসুম বিনতে উকবাকে বিবাহ করেছিলেন। তিনি গর্ভাবস্থায় তাকে বললেন, «طيِّب نفسي بتطليقة» “আমাকে এক তালাক দিয়ে সন্তুষ্ট করুন।” অর্থাৎ এক তালাক দেওয়ার মাধ্যমে তুমি আমার অন্তরে খুশি প্রবেশ করাও। স্পষ্টত বুঝা যাচ্ছে যে, উম্মু কুলসুম তাকে ভালোবাসতেন না, ফলে তার বন্ধন থেকে তিনি এমনভাবে বের হতে চান, যেন পুনরায় সে তাকে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করতে না পারে। তাই যখন তার সন্তান প্রসবের সময় কাছাকাছি হলো তখন সে তার কাছে তালাক চাইল। কারণ, সে জানত গর্ভবতী মহিলার ইদ্দত হলো সন্তান প্রসব করা। তখন সে তাকে এক তালাক দিয়ে সালাত আদায় করতে গেলেন। তিনি ফিরে এসে দেখেন যে, তার স্ত্রী একটি সন্তান প্রসব করেছে। যুবাইর বললেন, তার কি হলো? সে কেন আমাকে ধোঁকা দিল! আল্লাহ যেন তাকেও ধোঁকা দেন। ধোঁকা আল্লাহর কর্মময় সিফাতসমূহের একটি সিফাত। তবে সাধারণভাবে এ সিফাতটি দ্বারা আল্লাহকে গুণান্বিত করা যায় না। এ দ্বারা বদলা বা শাস্তি হিসেবে গুণান্বিত করা যায়। এ কথা বলা যাবে যে, যে তাকে ধোঁকা দেয় তাকে আল্লাহ ধোঁকা দেবেন। যেমন মুনাফিকদের ধোঁকা দেওয়া এবং যারা মুমিনদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে তাদের ধোঁকা দেওয়া ইত্যাদি। তাদের এ কথা দ্বারা ব্যাখ্যা প্রদান করা বৈধ হবে না যে, যুবাইর তার কথা দ্বারা এ ইচ্ছা করেছেন যে, ধোঁকা দেওয়ার কারণে আল্লাহ তাকে শাস্তি দান করুক। বরং এ সিফাতটি আল্লাহর জন্য তার অন্যান্য সিফাতের মতো কোন প্রকার বিকৃতি করা, অর্থহীন করা এবং ধরণ ও তুলনা করা ছাড়া সাব্যস্ত করা ওয়াজিব। তারপর যুবাইর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট উপস্থিত হলেন এবং তার মধ্যে ও তার স্ত্রীর মধ্যে সংঘটিত বিষয়টি তাকে অবহিত করলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহর কিতাবে বর্ণিত তার ইদ্দত পূর্ণ হয়ে গেছে। অর্থাৎ, ইদ্দত পূর্ণ হওয়ার পূর্বে যা আশা করা যেত সে ইদ্দত শেষ হয়ে গিয়েছে এবং তালাক পতিত হয়ে গেছে। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “তাকে বিবাহের প্রস্তাব দাও।” অর্থাৎ অন্যান্য প্রস্তাবদাতাদের সাথে তুমিও তাকে প্রস্তাব দাও। যেহেতু সে ইদ্দত থেকে বের হয়ে গেছে এখন তাকে বাধ্য করার মতো কোন অধিকার তোমার নেই। (সে চাইলে তুমি তাকে বিয়ে করে আবার গ্রহণ করতে পার।)
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন শেষ রাকাত থেকে মাথা উঠালেন, তখন বললেন, হে আল্লাহ্! আইয়্যাশ ইবন আবূ রাবী‘আকে মুক্তি দাও। হে আল্লাহ! সালামাহ ইবন হিশামকে মুক্তি দাও। হে আল্লাহ! ওয়ালীদ ইবন ওয়ালীদকে রক্ষা কর। হে আল্লাহ! দুর্বল মুমিনদেরকে মুক্তি কর। হে আল্লাহ! মুযার গোত্রের ওপর তোমার শাস্তি কঠোর করে দাও। হে আল্লাহ! ইউসুফ আলাইহিস সালামের সময়ের দুর্ভিক্ষের মো তাদেরকে করে দিন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বললেন, গিফার গোত্র, আল্লাহ! তাদেরকে ক্ষমা কর। আর আসলাম গোত্র, আল্লাহ! তাদেরকে নিরাপদে রাখ। ইবন আবূ যিনাদ রহ. তার পিতা থেকে বলেন, এ সমস্ত দো‘আ ফজরের সালাতে ছিল।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ফজরের সালাতের শেষ রাক‘আত হতে মাথা উঠাতেন, তখন বলতেন, “হে আল্লাহ্! আইয়্যাশ ইবন আবূ রাবী‘আহকে মুক্তি দাও। হে আল্লাহ! সালামাহ ইবন হিশামকে মুক্তি দাও। হে আল্লাহ! ওয়ালীদ ইবন ওয়ালীদকে রক্ষা কর। হে আল্লাহ! দুর্বল মুমিনদেরকে মুক্ত কর।” তারা সবাই সাহাবী। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের আযাব থেকে মুক্তি ও নাজাত দেওয়ার জন্য দো‘আ করেছেন। তারা সবাই মক্কায় কাফিরদের হাতে বন্দী ছিলেন। আইয়্যাশ ইবন আবূ রাবী‘আহ ছিল আবূ জাহালের সৎ ভাই। সে তাকে মক্কায় বন্দী করে রাখে। আর সালমাহ ইবন হিশাম আবূ জাহলের ভাই। ইসলামের পুরনো সাথী। আল্লাহর রাস্তায় তাকে অনেক শাস্তি দেওয়া হয়েছে এবং তাকে হিজরত করতে নিষেধ করা হয়েছে। ওয়ালীদ ইবন ওয়ালীদ ছিলেন খালিদ ইবন ওয়ালিদের ভাই। তাকে মক্কায় বন্দী করে রাখা হয়েছিল। তারপর সে সেখান থেকে পালিয়ে যায়। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ওয়াসাল্লাম বলেন, “হে আল্লাহ! মুযার গোত্রের ওপর তোমার (পায়ের) পৃষ্ঠকে কঠোর কর। হে আল্লাহ! ইউসুফ আলাইহিস সালামের সময়ের দুর্ভিক্ষের মতো তাদেরকে করে দাও।” অর্থাৎ হে আল্লাহ! তোমার আযাব ও শাস্তি কঠোর করো কুরাইশদের কাফিরদের ওপর। কুরাইশরা বৃহৎ মুদার গোত্রের একটি বংশ। তাদের ওপর তোমার শাস্তি কঠোর কর যে, ইউসূফ আলাইহিস সালামের যুগের মতো তাদের ওপর তুমি সাত বছর বা তার চেয়েও বেশি বছর ধরে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ চাপিয়ে দাও। এখানে الوطأة (পায়ে পৃষ্ঠ করা) হাদীসটির দাবি মোতাবেক আল্লাহর সিফাতসমূহের একটি সিফাত। তবে আমরা সালফে সালেহীন বা মুসলিম আলেমদের কাউকে এটি আল্লাহর সিফাত হিসেবে গণ্য করতে পাই নি। সুতরাং এখানে (আল্লাহর) পায়ে পৃষ্ঠ করার অর্থ কঠোরতা ও শাস্তি ধরা হবে। আর আল্লাহর দিকে এর সম্বোধন করার কারণ হলো এটি তার কর্ম ও নির্ধারণ। আল্লাহই ভালো জানেন। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, গিফার গোত্র, আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা কর। এটি তার জন্য ক্ষমার দো‘আ অথবা সংবাদ দেওয়া যে, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। আর অনুরূপভাবে তার বাণী: আর আসলাম গোত্র, আল্লাহ্ তাদেরকে নিরাপদে রাখুন। এটি তার জন্য দো‘আ হতে পারে যাতে আল্লাহ তাকে নিরাপদ রাখেন এবং তার বিরুদ্ধে যুদ্ধে করার নির্দেশ না দেন অথবা এটি সংবাদ দেওয়া যে, আল্লাহ তাকে নিরাপত্তা দিয়েছেন এবং তাদের সাথে যুদ্ধ করতে নিষেধ করেছেন। এ দুটির গোত্রের জন্য বিশেষভাবে দো‘আ করার কারণ হলো, গিফার গোত্র আগেই ইসলাম গ্রহণ করেছিল। আর আসলাম গোত্র রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নিরাপত্তা প্রদান করেছিল। ইবন আবূ যিনাদ রহ. তার পিতা থেকে বলেন, এ সমস্ত দো‘আ ফাজরের সলাতে ছিল। অর্থা তিনি তার পিতা থেকে এ সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেন। তারপর তিনি উল্লেখ করেন যে, উল্লিখিত দো‘আটি ছিল ফজরের সালাতে।
আবূ হুরাইরাহ্ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বনী ইসরাঈলের জনৈক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করলেন, যে বনী ইসরাঈলের অপর এক ব্যক্তির নিকট এক হাজার দীনার ঋণ চাইল। তখন সে (ঋণদাতা) বলল, কয়েকজন সাক্ষী আন, আমি তাদেরকে সাক্ষী রাখব। সে বলল, সাক্ষী হিসাবে আল্লাহই যথেষ্ট। তারপর (ঋণদাতা) বলল, তা হলে একজন যামিনদার উপস্থিত কর। সে বলল, যামিনদার হিসাবে আল্লাহই যথেষ্ট। ঋণদাতা বলল, তুমি সত্যই বলেছ। এরপর নির্ধারিত সময়ে পরিশোধের শর্তে তাকে এক হাজার দীনার দিয়ে দিল। তারপর ঋণ গ্রহীতা সামুদ্রিক সফর করল এবং তার প্রয়োজন সমাধা করে সে যানবাহন খুঁজতে লাগল, যাতে সে নির্ধারিত সময়ের ভেতর ঋণদাতার কাছে এসে পৌঁছতে পারে। কিন্তু সে কোন যানবাহন পেল না। তখন সে এক টুকরো কাঠ নিয়ে তা ছিদ্র করল এবং ঋণদাতার নামে একখানা পত্র ও এক হাজার দীনার তার মধ্যে ভরে ছিদ্রটি বন্ধ করে সমুদ্র তীরে এসে বলল, হে আল্লাহ! তুমি তো জান আমি অমুকের নিকট এক হাজার দীনার ঋণ চাইলে সে আমার কাছে যামিনদার চেয়েছিল। আমি বলেছিলাম, আল্লাহই যামিন হিসাবে যথেষ্ট। এতে সে রাজী হয়। তারপর সে আমার কাছে সাক্ষী চেয়েছিল, আমি বলেছিলাম সাক্ষী হিসাবে আল্লাহই যথেষ্ট, তাতে সে রাজী হয়ে যায়। আমি তার ঋণ (যথাসময়ে) পরিশোধের উদ্দেশে যানবাহনের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি, কিন্তু পাইনি। তাই আমি তোমার নিকট সোপর্দ করলাম, এই বলে সে কাষ্ঠখণ্ডটি সমুদ্রে নিক্ষেপ করল। আর কাষ্ঠখণ্ডটি সমুদ্রে প্রবেশ করল। অতঃপর লোকটি ফিরে গেল এবং নিজের শহরে যাওয়ার জন্য যানবাহন খুঁজতে লাগল। ওদিকে ঋণদাতা এই আশায় সমুদ্রতীরে গেল যে, হয়তবা কোন নৌযান তার মাল নিয়ে এসেছে। তার দৃষ্টি কাষ্ঠখণ্ডটির উপর পড়ল, যার ভিতরে মাল ছিল। সে কাষ্ঠখণ্ডটি তার পরিবারের জ্বালানীর জন্য বাড়ী নিয়ে গেল। যখন সে তা চিরল, তখন সে মাল ও পত্রটি পেয়ে গেল। কিছুদিন পর ঋণগ্রহীতা এক হাজার দীনার নিয়ে এসে হাযির হল এবং বলল, আল্লাহর কসম! আমি আপনার মাল যথাসময়ে পৌঁছিয়ে দেয়ার উদ্দেশে সব সময় যানবাহনের খোঁজে ছিলাম। কিন্তু আমি এই আসার আগে আর কোন নৌযান পাইনি। ঋণদাতা বলল, তুমি কি আমার নিকট কিছু পাঠিয়েছিলে? ঋণগ্রহীতা বলল, আমি তো তোমাকে বললামই যে, এর আসার আগে আর কোন নৌযান আমি পাইনি। সে বলল, তুমি কাঠের টুকরোর ভিতরে যা পাঠিয়েছিলে, তা আল্লাহ তোমার পক্ষ হতে আমাকে আদায় করে দিয়েছেন। অতএব তুমি তোমার এক হাজার দীনার নিয়ে হালাল হৃদয়ে ফিরে চলে এল।
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম উল্লেখ করেন যে, বনী ইসরাঈলের কোন এক ব্যক্তি বনী ইসরাঈলের অপর এক ব্যক্তির নিকট এক হাজার দীনার ঋণ চাইল। তখন সে (ঋণদাতা) বলল, কয়েকজন সাক্ষী আন, যে সাক্ষ্য দেবে যে, তুমি আমার কাছ থেকে এক হাজার দীনার ঋণ গ্রহণ করেছ। যে ঋণ চায় সে বলল, সাক্ষী হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট। অর্থাৎ তোমার জন্য এবং আমার জন্যে যথেষ্ট হবে যে, আল্লাহ আমাদের ওপর সাক্ষী হবে। তারপর (ঋণদাতা) বলল, তা হলে একজন যামিনদার উপস্থিত কর যে দায়িত্ব নেবে। সে বলল, যামিনদার হিসাবে আল্লাহই যথেষ্ট। অর্থাৎ, তোমার জন্য যথেষ্ট হবে যে, আল্লাহই জিম্মাদার। তখন ঋণদাতা বলল, তুমি সত্যই বলেছ। এরপর নির্ধারিত সময়ে পরিশোধের শর্তে তাকে এক হাজার দীনার দিয়ে দিল। তারপর ঋণ গ্রহীতা মাল নিয়ে সামুদ্রিক সফর করল তাতে সে ব্যবসা করল। তারপর যখন ঋণ পরিশোধের নির্ধারিত সময় আসল সে যানবাহন খুঁজতে লাগল, যাতে সে সাওয়ার হয়ে যার থেকে ঋণ নিয়েছে তার কাছে আসবে। কিন্তু সে কোন যানবাহন পেল না। তখন সে এক টুকরো কাঠ নিয়ে তা ছিদ্র করল এবং এক হাজার দীনার ও একটি চিঠি তার মধ্যে ভরল। তার নিকট সে চিঠি লিখল যে, অমুকের পক্ষ থেকে অমুকের নিকট। আমি তোমার সম্পদ পরিশোধ করেছি একজন ওকীলের নিকট যে আমার ওয়াকীল হয়েছে। তারপর সে ছিদ্রটি বন্ধ করে দিল এবং তা সংশোধন করল। তারপর সে সমুদ্র তীরে এসে বলল, হে আল্লাহ! তুমি তো জান আমি অমুকের নিকট এক হাজার দীনার ঋণ চাইলে সে আমার কাছে যামিনদার চেয়েছিল। আমি বলেছিলাম, আল্লাহই যামিন হিসাবে যথেষ্ট। এতে সে রাজী হয়। তারপর সে আমার কাছে সাক্ষী চেয়েছিল, আমি বলেছিলাম সাক্ষী হিসাবে আল্লাহই যথেষ্ট, তাতে সে রাজী হয়ে যায়। আমি তার ঋণ (যথাসময়ে) পরিশোধের উদ্দেশে যানবাহনের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি, কিন্তু পাইনি। তাই আমি তোমার নিকট সোপর্দ করলাম, এই বলে সে কাষ্ঠখণ্ডটি সমুদ্রে নিক্ষেপ করল। আর কাষ্ঠখণ্ডটি সমুদ্রে প্রবেশ করল। অতঃপর লোকটি ফিরে গেল এবং যার কাছ থেকে ঋণ গ্রহণ কলেছিল তার শহরে যাওয়ার জন্য যানবাহন খুঁজতে লাগল, যাতে আরেক হাজার দীনার তাকে পরিশোধ করতে পারে। সে ধারণা করছিল যে, তার প্রথম কর্ম যথেষ্ট হয়নি। ওদিকে সম্পদের মালিক ঋণদাতা যথা সময়ে এই আশায় সমুদ্রতীরে গেল যে, হয়তবা ঋণগ্রহীতা কোন নৌযানে করে তার মাল নিয়ে এসেছে বা কাউকে সে পাঠিয়েছে। সে কোন যানবাহন দেখতে পেল না। হঠাৎ তার দৃষ্টি কাষ্ঠখণ্ডটির উপর পড়ল, যার ভিতরে মাল ছিল। সে কাষ্ঠখণ্ডটি তার পরিবারের জ্বালানীর জন্য বাড়ী নিয়ে গেল। সে জানে না যে তাতে মাল রয়েছে। যখন সে করাত দিয়ে তা চিরল, তখন সে মাল ও যে পত্রটি তার কাছে লিখেছিল সে পত্রটি পেয়ে গেল। কিছুদিন পর ঋণগ্রহীতা আরও এক হাজার দীনার নিয়ে এসে হাযির হল এবং বলল, আল্লাহর কসম! আমি আপনার মাল যথাসময়ে পৌঁছিয়ে দেয়ার উদ্দেশে সব সময় যানবাহনের খোঁজে ছিলাম। কিন্তু আমি যে নৌযানে এখন আসলাম, তার আগে আর কোন নৌযান পাইনি। ঋণদাতা বলল, তুমি কি আমার নিকট কিছু পাঠিয়েছিলে? ঋণগ্রহীতা বলল, আমি তো তোমাকে বললামই যে, এর আগে আর কোন নৌযান আমি পাইনি। সে বলল, তুমি কাঠের টুকরোর ভিতরে যা পাঠিয়েছিলে, তা আল্লাহ তোমার পক্ষ হতে আমাকে আদায় করে দিয়েছেন। তখন সে আনন্দচিত্তে এক হাজার দীনার নিয়ে ফিরে চলে এল।
আল-‘আলিয়াহ বিনত সুবাই‘ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উহুদের মাঠে আমার বকরী ছিলো। সেখানে মহামারী দেখা দিলে (বকরী মারা গেলে) আমি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রী মাইমুনার কাছে গিয়ে বিষয়টি জানালাম। তিনি বললেন, তুমি তো এর চামড়া নিয়ে এর দ্বারা উপকৃত হতে পারো। আমি বললাম, এর দ্বারা উপকৃত হওয়া কি বৈধ? তিনি বললেন, হ্যাঁ। কতিপয় কুরাইশ প্রায় গাধার সমান তাদের একটি বকরী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে দিয়ে টেনে হিঁচড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। তা দেখে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বললেন: “যদি তোমরা এর চামড়া গ্রহণ করতে। তারা বললো: এটা তো মৃত। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “পানি এবং ছলম বৃক্ষের পাতার রস (কারাজ) এটাকে পবিত্র করে দেয়।”
এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।আল-‘আলিয়াহ বিনত সুবাই‘ রাহিমাহুল্লাহ. হাদীস বর্ণনা করেন যে, তার বকরী ছিলো যা রোগে বা অন্য কোন কারণে মারা যায়। অতপর তিনি মাইমুনা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহার কাছে গিয়ে বিষয়টি জানালেন। তিনি তাকে এর চামড়া দ্বারা উপকৃত হওয়ার পরামর্শ দিলেন। তিনি বললেন, মৃত্যুর পরে এর চামড়া দ্বারা উপকৃত হওয়া কি বৈধ? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তিনি তার মতের পক্ষে অনুরূপ একটি ঘটনা বর্ণনা করেন। আর তা হলো কতিপয় কুরাইশ তাদের একটি বকরীকে দূরে ফেলে দিতে ও তার থেকে মুক্তি পেতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে দিয়ে টেনে হিঁচড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। তা দেখে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বললেন: “যদি তোমরা এটিকে ফেলে না দিয়ে এর চামড়া রেখে দিয়ে উপকৃত হতে। তারা বললো: এটা তো মৃত। তারা ভেবেছিলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানতেন না যে এটি মৃত। আর তারা জানত যে, মৃত প্রাণীর সব কিছুই অপবিত্র। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে বললেন: পানি এবং ছলম বৃক্ষের পাতার রস (কারাজ) দ্বারা এটিকে দাবাগাত করলে এটা পবিত্র হয়ে যায়।
আনাস ইবন মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি পাত্র ফেটে গিয়েছিল, ফলে তিনি ফাটা স্থানে রুপার একটি টুকরা দিয়ে জোড়া লাগান।
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি পাত্র ছিল, তাতে তিনি পানি পান করতেন। পাত্রটি ফেটে গেলে তিনি ফেটে গেলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুপার একটি টুকরা নিলেন এবং তা দ্বারা ফাটা দুই টুকরা জোড়া লাগালেন।
মুয়াবিয়া বিন আবূ সুফিয়ান রাদিয়াল্লাহু আনহুর সূত্রে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, চোখ দু’টো হলো গুহ্যদ্বার বেঁধে রাখার রশি বা ঢাকনা স্বরূপ। সুতরাং চোখ দু’টি যখন ঘুমায় তখন রশির বাঁধন খুলে যায়।
এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন। - এটি দারিমী বর্ণনা করেছেনহাদীসের অর্থ: “চোখ দু’টো হলো গুহ্যদ্বারের ঢাকনা স্বরূপ।” অর্থাৎ চোখ দু’টো জাগ্রত অবস্থায় গুহ্যদ্বারকে সংরক্ষণ করে এবং তা থেকে কোনো কিছু বের হতে বাঁধা দেয়। তা থেকে যদি কোনো কিছু বের হয় মানুষ তা টের পায়। “সুতরাং চোখ যখন ঘুমায় তখন গুহ্যদ্বার উন্মুক্ত হয়ে যায়।” অর্থাৎ যখন মানুষ ঘুমায় তখন তার শরীরের পেশীসমূহ ঢিল হয়ে যায়। এ সময় গুহ্যদ্বার বেঁধে রাখার রশি খুলে যায়। ফলে অনুভব করা ছাড়াই বায়ু নির্গত হয়। এ জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চোখকে ঐ রশির সাথে তুলনা করেছেন, যা দ্বারা পাত্রের মুখ বেঁধে রাখা হয়। দুচোখ খোলা থাকা অবস্থায় রশিটি দ্বারা গুহ্যদ্বার আটকানো থাকে। এসময় তা থেকে কোনো কিছু বের হলে মানুষ তা অনুভব করে। আর চোখ দু’টি ঘুমিয়ে পড়লে রশি ঢিল হয়ে যায়। তখন অনুভূতি ছাড়াই গুহ্যদ্বার দিয়ে ভিতর থেকে বায়ু নির্গত হয়। এখানে তাশবীহ তথা সাদৃশ্য করা হয়েছে। এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের একটি অলংকারপূর্ণ সাদৃশ্য প্রদান। এদ্বারা শরীয়তের হুকুম মানুষের মস্তিস্কের নিকটবর্তী করে দেয়া হয়েছে। আর এটি হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে প্রদত্ত ‘জাওয়ামিউল কালিম’ এর অন্তর্ভুক্ত। তাওদীহুল আহকাম (১/৩১৯), তাসহীলুল ইলমাম (১/২০৮)।
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “একটি লোক বলল, ‘(আজ রাতে) আমি অবশ্যই সাদকাহ করব।’ সুতরাং সে আপন সাদকার বস্তু নিয়ে বের হল এবং (অজান্তে) এক চোরের হাতে তা দিয়ে দিল। লোকেরা সকালে উঠে বলাবলি করতে লাগল যে, ‘আজ রাতে এক চোরের হাতে সাদকা দেওয়া হয়েছে।’ সাদকাকারী বলল, ‘হে আল্লাহ! তোমারই যাবতীয় প্রশংসা! (আজ রাতে) অবশ্যই আবার সাদকা করব।’ সুতরাং সে নিজ সাদকা নিয়ে বের হল এবং (অজান্তে) এক বেশ্যার হাতে তা দিয়ে দিল। সকাল বেলায় লোকেরা বলাবলি করতে লাগল যে, ‘আজ রাতে এক বেশ্যাকে সাদকা দেওয়া হয়েছে।’ সে তা শুনে আবার বলল, ‘হে আল্লাহ! তোমারই প্রশংসা যে, বেশ্যাকে সাদকা করা হল। আজ রাতে পুনরায় অবশ্যই সাদকাহ করব।’ সুতরাং তার সাদকা নিয়ে বের হয়ে গেল এবং (অজান্তে) এক ধনী ব্যক্তির হাতে সাদকা দিল। সকাল বেলায় লোকেরা আবার বলাবলি করতে লাগল যে, ‘আজ এক ধনী ব্যক্তিকে সাদকা দেওয়া হয়েছে।’ লোকটি শুনে বলল, ‘হে আল্লাহ! তোমারই সমস্ত প্রসংশা যে, চোর, বেশ্যা তথা ধনী ব্যক্তিকে সাদকা করা হয়েছে।’ সুতরাং তাকে বলা হল যে, ‘(তোমার সাদকা ব্যর্থ যায়নি; বরং) তোমার যে সাদকা চোরের হাতে পড়েছে তার দরুন হয়তো চোর তার চৌর্যবৃত্তি ত্যাগ ক’রে দেবে। বেশ্যা হয়তো তার দরুন তার বেশ্যাবৃত্তি ত্যাগ করবে। আর ধনী; সম্ভবতঃ সে উপদেশ গ্রহণ করবে এবং সে তার আল্লাহ প্রদত্ত ধন-সম্পদ আল্লাহর রাহে ব্যয় করবে।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের উপদেশ গ্রহণের জন্য পূর্বেকার উম্মতদের ঘটনা হতে একটি ঘটনার সংবাদ দেন। ফলে তিনি বলেন, এক লোক দান করার উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের হলো। এ কথা প্রসিদ্ধ যে সাদকাহ সাধারণত ফকীর ও মিসকীনদের জন্য হয়ে থাকে। কিন্তু তার সাদকাহ একজন চোরের হাতে পড়ল। তাই লোকেরা সকালে বলাবলি করতে লাগলো রাতে সে একজন চোরকে সাদকাহ করেছে। উচিত হলো চোরকে শাস্তি দেওয়া তাকে দান করা বা তার সম্পদ বাড়ানো কাম্য হতে পারে না। তখন দানকারী লোকটি বলল, আলহামদু লিল্লাহ। কারণ, আল্লাহ সর্বাবস্থায় প্রশংসিত। তারপর লোকটি আবার বের হলো এবং বলল আজ রাতে আমি অবশ্যই দান করব। আজ তার সাদকাহ একজন ব্যভিচারী মহিলার হাতে পড়লো যে মানুষকে তার সাথে ব্যভিচার করার সুযোগ করে দেয়। লোকেরা সকালে বলাবলি করতে লাগলো রাতে সে একজন ব্যভিচারীনি মহিলাকে সাদকাহ করেছে। এটি এমন একটি কাজ যা কোন জ্ঞানী বা বুদ্ধিমান গ্রহণ করবে না। লোকটি বলল, আলহামদু লিল্লাহ। তারপর সে বলল, আমি আবারো রাতে সাদকাহ করবো। সে ভাবছিল প্রথম ও দ্বিতীয়বার যে সাদকাহ করেছিল তা কবুল হয় নাই। তারপর সে সাদকাহ করলে তা একজন ধনী লোকের হাতে পড়ল। ধনী লোক সাদকাহ গ্রহণ করার উপযুক্ত লোক নয় সে হাদীয়া, হিবা ইত্যাদি গ্রহণ করার লোক। লোকেরা সকালে বলাবলি করতে লাগলো রাতে সে একজন ধনীকে সাদকাহ করেছে। সে বলল, চোরের হাতে, ব্যভিচারিনীর হাতে এবং ধনীর হাতে সাদকাহ করাতে আলহামদু লিল্লাহ। লোকটি চাইছিল তার সাদকাহ যেন এমন এক লোকের হাতে পড়ে যে গরীব, মানুষের কাছে হাত পাতে না ও হাত পাতা থেকে মুক্ত। কিন্তু আল্লাহর ফায়সালাহ যা নির্ধারিত হওয়ার তাই হলো। তারপর তাকে ঐ উম্মাতের নবীর মাধ্যমে জানানো হলো, তোমার তিনবারের সাদকাহ গ্রহণ করা হয়েছে। কারণ, সে মুখলিস। তার নিয়ত ছিল ভালো। কিন্তু তাকে তাওফীক দেওয়া হয়নি। চোরকে সাদকাহ করাতে হতে পারে সে চুরি করা থেকে ফিরে আসবে এবং বলবে এ মাল আমার জন্য যথেষ্ট। আর ব্যভিচারিনী মহিলাও হতে পারে সে ব্যভিচার থেকে ফিরে আসবে। কারণ, অনেক সময় সে মালের লোভে ব্যভিচার করে। তারতো সম্পদ উপার্জন হয়েছে যা তার ব্যভিচার করে উপার্জন করা থেকে যথেষ্ট হবে। আর ধনী লোকটি উপদেশ গ্রহণ করবে এবং সেও আল্লাহ প্রদত্ত সম্পদ হতে সাদকাহ করবে।