





























Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
All
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে মারফূ‘ হিসেবে বর্ণিত, রিফা‘আহ আল-কারযীর স্ত্রী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বলল, আমি রিফা‘আহ আল-কারযীর স্ত্রী ছিলাম। সে আমাকে অকাট্য তালাক দেয়। তারপর আমি আব্দুর রহমান ইবন যুবাইরকে বিবাহ করি। কিন্তু তার সাথে রয়েছে কাপড়ের কোণার মতো। তার কথা শোনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুচকি হাসি দিলেন। তিনি বললেন, তুমি কি চাও পুণরায় রিফা‘আহ নিকট ফিরে যেতে? তবে তা তুমি পারবে না যতক্ষণ না তুমি তার স্বাদ এবং সে তোমার স্বাদ গ্রহণ না করবে। তিনি বলেন, আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু তার নিকট ছিল। আর খালিদ ইবন সাঈদ দরজায় অপেক্ষা করতেছিল যাতে তার জন্য অনুমতি দেওয়া হয়। সে ডাকল, হে আবূ বকর তুমি কি এ মহিলার কথা শুনছ না সে রাসূলুল্লাহর নিকট কী বলছে?
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।রিফা‘আহ আল-কারযীর স্ত্রী তার পারিবারিক অভিযোগ নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসল। সে তাকে জানালো যে, সে হলো রিফা‘আহ আল-কারযীর স্ত্রী। সে তাকে শেষ তালাকের মাধ্যমে অকাট্য তালাক দিল। তিন তালাকের মধ্যে আখেরী তালাক দিয়ে দিল। তারপর সে আব্দুর রহমান ইবন যুবাইরকে বিবাহ করল। কিন্তু সে তাকে স্পর্শ করার ক্ষমতা রাখে না। কারণ তার লিঙ্গ দূর্বল দাড়ায় না। ফলে এ ধরণের কথা যা সাধারণত মহিলারা গোপন রাখে তা উচ্চ আওয়াজে ও চিৎকার করে বলাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেঁসে দিলেন এবং তিনি বুঝতে পারলেন যে, তার উদ্দেশ্য হলো সে তার প্রথম স্বামীর নিকট ফিরে যাওয়া। সে ধারণা করল আব্দুর রহমানের সাথে তার বিবাহ হওয়ার কারণে তা তার জন্য হালাল। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা অস্বীকার করলেন। তিনি তাকে সংবাদ দিলেন, তার জন্য রিফা‘আহ এর নিকট ফিরে যাওয়া হালাল হতে হলে, তাকে তার সর্বশেষ স্বামীর সাথে মেলামেশা করতে হবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু ছিল। আর খালিদ ইবন সাঈদ ভিতরে প্রবেশ করতে অনুমতির জন্য দরজায় অপেক্ষা করতেছিল। তখন এ মহিলা যে এ ধরনের কথা রাসূল্লাহর নিকট উচ্চ আওয়াজে বলছে তার প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে খালিদ আবূ বকরকে ডাকল। এগুলো সবই ছিল তাদের অন্তরে রাসূলের সম্মান ও ভীতির কারণে। আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং তাদেরকে সন্তুষ্ট করুন। আর আমাদেরকে তার সাথে যথাযথ আদব রক্ষা এবং তার অনুসরণ করার তাওফীক দিন।
‘আয়েশা বিনতে আবি বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘বারীরা’ এর ভেতর তিনটি স্বভাব ছিল: (ক) যখন তাকে মুক্ত করা হয় তখন তাকে তার স্বামীর ব্যাপারে ঐচ্ছিকতা দেওয়া হয়। (খ) বারীরার জন্য কিছু গোশত হাদিয়া পাঠানো হলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার ঘরে প্রবেশ করে চুলার ওপরে ডেকচি দেখতে পেলেন। অতঃপর খানা নিয়ে আসার জন্য আহ্বান করলেন। এরপর তাঁর জন্য রুটি এবং বাড়ির তরকারী থেকে তরকারী দেওয়া হলো। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, আমি কি চুলার ওপরের ডেকচিতে গোশত দেখি নি? তারা বলল, হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল! এ গোশত বারীরার জন্য দেওয়া সদাকাহর গোশত। আমরা আপনাকে সদকার গোশত খাওয়াতে চাই না। তখন তিনি বললেন, এটা তার জন্য সদাকাহ আর আমাদের জন্য হাদিয়া। (গ) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নিশ্চয় ক্রীতদাসের ওয়ালার মালিক মুক্তকারী।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।আয়শা রাদিয়াল্লাহু আনহা তার দাসী বারীরার বরকত স্মরণ করছেন তাকে কেনার দামদরকে বরকতমত মনে করে, যে দামদর তাকে এসব বরকত এনে দিয়েছে। যেহেতু আল্লাহ তার বিধানাবলির মধ্যে তিনটি সুন্নাহ এই নারীর মাধ্যমে বাস্তবায়ন করেছেন, যা চিরকাল শরীয়ত হিসেবে প্রবর্তিত হয়ে গেল।প্রথমত: বারীরা তার দাস স্বামী মুগীসের অধীনে থাকা অবস্থায় মুক্ত হন। এ অবস্থায় তাকে আগের বিবাহ বিদ্যমান রাখা ও পৃথক হয়ে যাওয়ার মাঝে এখতিয়ার দেওয়া হয়; কারণ এখন সে বারিরার সমান নয়, বারীরা মুক্ত নারী আর মুগীস ক্রীতদাস। আর বিবাহের ক্ষেত্রে সমতা তথা কুফু বিবেচনা করা জরুরি। বারীরা নিজেকে গ্রহণ করে বিবাহ বিচ্ছেদ করে দিলেন; ফলে এটি অন্যান্য নারীদের জন্যও সুন্নত হয়ে গেল। দ্বিতীয়: বারিরা যখন তার মনিব আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহার ঘরে তখন তাকে গোশত সদকা করা হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরে প্রবেশ করলেন তখনো ডেকচিতে গোশত পাক হচ্ছিল। তিনি খাবার চেয়ে ডাকলেন, ফলে তারা রুটি এবং বাড়ির তরকারী থেকে তরকারী নিয়ে আসলো যা তাদের অভ্যাস অনুযায়ী সবসময় তারা খেত। কিন্তু বারীরার জন্য সদকাকৃত গোশত থেকে তার জন্য কোনো কিছু নিয়ে আসে নি। কারণ, তারা জানতো যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সদকার মাল ভক্ষণ করতেন না। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি কি চুলার উপরে ডেকচিতে গোশত দেখি নি? তারা উত্তর দিল, হ্যাঁ, কিন্তু তা বারীরার জন্য সদাকা করা হয়েছে। আর আমরা আপনাকে তা থেকে খাওয়াতে অপছন্দ করেছি। তখন তিনি বললেন, এটা তার জন্য সদাকা আর আমাদের জন্য হাদিয়া। তৃতীয়: তার পরিবার যখন তাকে আয়েশার কাছে বিক্রি করতে ইচ্ছা করল তখন মালিক পক্ষ শর্ত করল যে, ওয়ালা (অভিভাবকত্ব) তাদেরকে দিতে হবে যেন তারা এ অভিভাকত্বের মাধ্যমে গর্ব করতে পারে, যখন মেয়েটি তাদের দাসী হিসেবে পরিচিত থাকবে। কখনো বৈষয়িক ফায়দাও পেতে পারে, যেমন: ওয়ারিশ হওয়া, সাহায্য পাওয়া ইত্যাদি। এ জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “নিশ্চয় ওয়ালা তথা অভিভাবকত্ব ঐ ব্যক্তির জন্য হবে যে মুক্ত করবে।” বিক্রেতারও নয়, অন্য কারও নয়। ওয়ালা তথা অভিভাবকত্ব হলো দাস ও মনিবের মধ্যে মুক্তির পর একটি সম্পর্ক। যদি দাসের কোনো ওয়ারিস না থাকে অথবা ওয়ারিস থাকলেও তাদের মধ্যে আসহাবুল ফুরূদ্ব-কে সম্পদ দেওয়ার পর কিছু বাকি থাকে তাহলে মনিব ঐ দাসের ওয়ারিস হবে।
‘আয়িশাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সা‘দ ইব্নু আবূ ওয়াক্কাস ও ‘আব্দ ইব্নু যাম্‘আ উভয়ে এক বালকের ব্যাপারে বিতর্ক করেন। সা‘দ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! এতো আমার ভাই উৎবা উবনু আবী ওয়াক্কাসের পুত্র। সে তার পুত্র হিসাবে আমাকে ওয়াসিয়্যত করে গেছে। আপনি ওর সাদৃশ্যের প্রতি লক্ষ্য করুন। ‘আব্দ ইবনু যাম‘আ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এ আমার ভাই, আমার পিতার দাসীর গর্ভে জন্মগ্রহণ করে। তখন আল্লাহর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার চেহারার দিকে তাকিয়ে দেখতে পেলেন যে, উত্বার সাথে তার পরিষ্কার সাদৃশ্য রয়েছে। তিনি বললেন, এ ছেলেটি তুমি পাবে, হে আব্দ ইবনু যাম‘আ! বিছানা যার, সন্তান তার। ব্যভিচারীর জন্য রয়েছে পাথর। হে সাওদাহ বিনতু যাম‘আ! তুমি এর হতে পর্দা কর। ফলে সাওদাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু কখনও তাকে দেখেননি।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।জাহিলিয়্যাতের যুগে মানুষ তাদের বাঁদীদের ওপর কর নির্ধারণ করে দিতেন যা তারা ব্যভিচারের মাধ্যমে উপার্জন করত। আর সন্তান ব্যভিচারির সাথে সম্পৃক্ত করা হতো যদি তারা দাবি করত। উতবা ইব্নু আবূ ওয়াক্কাস যাম‘আ ইবন আসওয়াদের বাঁদীর সাথে ব্যভিচার করলে একটি সন্তান জন্ম লাভ করে। উতবা তার ভাই সা‘আদকে অসিয়ত করে যে, এ সন্তানটি যেন তার ভাইয়ের বংশের সাথে সম্পৃক্ত করে। মক্কা বিজয় হলে, সা‘আদ বাচ্চাটিকে তার ভাইয়ের সাদৃশ দেখে চিনতে পারে এবং তার ভাইয়ের সাথে সম্পৃক্ত করার ইচ্ছা করে। সে এবং আবদ ইবন যাম‘আ বাচ্চাটি নিয়ে বিবাদ করে। সা‘আদ তার দলীল পেশ করেন যে, তার ভাই স্বীকার করেন যে সে তার বাচ্চা এবং তাদের উভয়ের মাঝে সাদৃশ্য রয়েছে। তখন আবদ ইবনু যাম‘আ বলেন, সে আমার ভাই। আমার পিতার দাসীর গর্ভে জন্মগ্রহণ করে। অর্থাৎ তার পিতা সন্তান জন্মদাতা বাঁদীর মুনীব। সুতরাং তিনিই হলেন বিছানার মালিক। তখন আল্লাহর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার চেহারার দিকে তাকিয়ে দেখতে পেলেন যে, উত্বার সাথে তার পরিষ্কার সাদৃশ্য রয়েছে। এবং বাচ্চাটিকে তিনি যাম‘আর জন্য ফায়সালা করলেন। আর তিনি বললেন, বিছানা যার, সন্তান তার। ব্যভিচারীর জন্য রয়েছে পাথর ও ক্ষতি। সে সন্তান থেকে দূরে থাকবে। কারণ, মুলনীতি হলো বাচ্চা বাঁদীর মালিক যিনি বৈধ পদ্ধতিতে তার সাথে মেলামেশা করার অধিকার রাখে তার অনুসারী হবে। কিন্তু যখন বাচ্চাটিকে উতবার সাথে সাদৃশ্য দেখেন তাই তিনি তার বোন সাওদাহ বিনতে যামআহকে তার দিকে তাকাতে সতর্ক করেন। ফলে তিনি তাকে তার থেকে সতর্কতা বশত পর্দা করার নির্দেশ দেন। সুতরাং বিছানা পাওয়ার পর আলামত বা সাদৃশ্য হওয়া কোন গুরুত্ব বহন করে না।
আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু মারফূ‘ হিসেবে বর্ণিত, ‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুরুষদের জন্য জাফরানী রঙ্গের কাপড় পরিধান করতে নিষেধ করেছেন।’
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুরুষের শরীর ও কাপড়কে জাফরান দ্বারা রঙ্গিন করতে নিষেধ করেছেন। এ ছিল মহিলাদের সাজ সজ্জা। তাই পুরুষদেরকে এ থেকে নিষেধ করার কারণ হচ্ছে (মহিলাদের) সাদৃশ্য থেকে বিরত রাখা।
আলী ইবন আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফূ‘ হাদীস বর্ণিত, “সাবালক হবার পর ইয়াতীম বলা যাবে না এবং কোনো দিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বাক বন্ধ রাখা যাবে না।”
এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন।প্রথমত: বালেগ হওয়ার পর কাউকে ইয়াতীম বলে গণ্য করা হবে না। দ্বিতীয়ত:জাহিলিয়্যাতের যুগে চুপ থাকার মাধ্যমে ইবাদত পালন করা হত। তারা পুরো একদিন চুপ থাকত, সূর্যাস্ত পর্যন্ত কারো সাথে কথা বলত না। মুসলিমদের এ থেকে নিষেধ করা হয়েছে। কারণ, এতে তাসবীহ, তাহলীল, আল্লাহর প্রসংশা করা, ভালো কাজের আদেশ অসৎ কর্ম থেকে বারণ করা, কুরআনের তিলাওয়াত করা ইত্যাদি ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ছাড়াও এটি জাহিলিয়্যাতের সংস্কৃতি। এ কারণে তা থেকে নিষেধ করা হয়েছে।
কায়েস ইবন আবূ হাযেম রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবূ বাকর সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু আহমাস গোত্রের যয়নাব নামক এক মহিলার নিকট এসে দেখলেন যে, সে কথা বলে না। তিনি বললেন, ‘ওর কী হয়েছে যে, কথা বলে না?’ তারা বলল, ‘ও নীরব থেকে হজ্জ করার সংকল্প করেছে।’ তিনি বললেন, ‘কথা বল। কারণ, এ (নীরবতা) বৈধ নয়। এ হল জাহেলী যুগের কাজ।’ সুতরাং সে কথা বলল।
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।আবূ বাকর সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু আহমাস গোত্রের যয়নাব নামক এক মহিলার নিকট এসে দেখলেন যে, সে কথা বলে না। তিনি তাদের জিজ্ঞাসা করলেন, ‘সে কথা বলে না কেন?’ তারা বলল, ‘ও নীরব থেকে হজ করার সংকল্প করেছে।’ তিনি বললেন, ‘কথা বল। কারণ, এ (নীরবতা) বা একেবারে কথা ছেড়ে দেওয়া বৈধ নয়। এ হল জাহেলী যুগের কাজ পরবর্তীতে ইসলাম তা নিষিদ্ধ করেছেন। একজন পুরুষের জন্য নারীর নিকট যাওয়া যদি কোন সন্দেহ বা একাকি না হয় তখন বৈধ। যেমনটি আবূ বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহু করেছেন।
আব্দুল্লাহ ইবন ‘আমর ইবন ‘আস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “জিহাদ থেকে প্রত্যাবর্তন করার নেকীও জিহাদে লিপ্ত থাকার মতোই।”
এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন।এ হাদীসটিতে ইবাদত আদায় করার সময় বান্দাদের ওপর আল্লাহর অনুগ্রহের বর্ণনা করা হয়েছে। যেমনিভাবে ইবাদতের জন্যে অগ্রসর হওয়ার সময় তাদের সাওয়াব ও বিনিময় দেওয়া হয়, অনুরূপভাবে তা আদায় করে ফেরার পথেও সাওয়াব ও বিনিময় দেওয়া হয়। এ কারণে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়সাল্লাম সংবাদ দেন যে, যুদ্ধ থেকে প্রত্যাবর্তনকারী সাওয়াবের ক্ষেত্রে যুদ্ধকারীর মতোই। যেমনিভাবে মসজিদে গমনকারীর সাওয়াব লিপিবদ্ধ হয়, তেমনিভাবে মসজিদ থেকে পরিবারে ফেরার সময়ও সাওয়াব লিপিবদ্ধ করা হয়।
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “সংশোধনকারী অধীনস্থ দাসের জন্য রয়েছে দু’টি নেকী।” (আবূ হুরায়রা বলেন,) ‘সেই মহান সত্তার শপথ, যাঁর হাতে আবূ হুরায়রার জীবন! যদি আল্লাহর পথে জিহাদ, হজ ও আমার মায়ের সেবা না থাকত, তাহলে আমি পরাধীন গোলামরূপে মারা যাওয়া পছন্দ করতাম।’
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, স্বীয় রব আল্লাহর হক আদায়কারী ও নিজ মনিবের হিতাকাঙ্খী অধীন দাসের জন্য রয়েছে দু’টি নেকী। আল্লাহর হক ইবাদত করার কারণে এবং তার মনিবের হক খিদমত করার কারণে। তারপর আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু জানান, যদি এমন না হতো যে, দাসের ওপর আল্লাহর পথে জিহাদ করা নেই এবং ভরণ-পোষণ ও সেবা দ্বারা মায়ের খিতমতও নেই, তাহলে তিনি পরাধীন দাসরূপে মারা যাওয়া পছন্দ করতেন। কারণ, তাতে রয়েছে অনেক সাওয়াব।
ীি‘আমর ইবন ‘আবাসাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, জাহেলিয়াতের যুগ থেকেই আমি ধারণা করতাম যে, লোকেরা পথভ্রষ্টতার ওপর রয়েছে এবং এরা কোনো ধর্মেই নেই, কারণ তারা প্রতিমা পূজা করছে। অতঃপর আমি এক ব্যক্তির ব্যাপারে শুনলাম যে, তিনি মক্কায় আজব আজব খবর বলছেন। সুতরাং আমি আমার সাওয়ারীর উপর বসে তাঁর কাছে এসে দেখলাম যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লুকিয়ে আছেন, আর তাঁর সম্প্রদায় (মুশরিকরা) তাঁর উপর খুব রেখে আছে। সুতরাং আমি মক্কায় তার সাথে সংগোপনে সাক্ষাত করলাম। অতঃপর আমি তাঁকে বললাম, ‘আপনি কে?’ তিনি বললেন, “আমি নবী।” আমি বললাম, ‘নবী কী?’ তিনি বললেন, “আমাকে মহান আল্লাহ প্রেরণ করেছেন।” আমি বললাম, ‘কী নির্দেশ দিয়ে প্রেরণ করেছেন?’ তিনি বললেন, “জ্ঞাতিবন্ধন (আত্মীয়তার সম্পর্ক) অক্ষুণ্ণ রাখা, মূর্তি ভেঙ্গে ফেলা, আল্লাহকে একক উপাস্য মানা এবং তাঁর সাথে কাউকে শরীক না করার নির্দেশ দিয়ে।” আমি বললাম, ‘এ কাজে আপনার সঙ্গে কে আছে?’ তিনি বললেন, “স্বাধীন মানুষ ও কৃতদাস।” তখন তাঁর সঙ্গে আবূ বকর ও বিলাল (রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা) ছিলেন। আমি বললাম, ‘আমিও আপনার অনুগত।’ তিনি বললেন, “তুমি এ কাজ তোমার বর্তমান সময়ে করতে পারবে না। তুমি কি আমার অবস্থা ও লোকদের অবস্থা দেখতে পাও না? অতএব, তুমি (এখন) বাড়ি ফিরে যাও। অতঃপর যখন তুমি আমার জয়ী ও শক্তিশালী হওয়ার সংবাদ পাবে, তখন আমার কাছে এসো।” সুতরাং আমি আমার পরিবারের নিকট চলে গেলাম এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (পরিশেষে) মদীনা চলে এলেন, এ দিকে আমার বংশের কতক লোকও মদীনায় আসলো। আমি বললাম, ‘ঐ লোকটার অবস্থা কি, যিনি (মক্কা ত্যাগ করে) মদীনা এসেছেন?’ তারা বলল, ‘লোকেরা তার দিকে ধাবমান। তাঁর সম্প্রদায় তাঁকে হত্যা করার ইচ্ছা করেছিল; কিন্তু তারা তা করতে সক্ষম হয় নি।’ অতঃপর আমি মদীনা এসে তাঁর খিদমতে হাযির হলাম। তারপর আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রসূল! আপনি আমাকে চিনতে পারছেন?’ তিনি বললেন, “হ্যাঁ, তুমি তো ঐ ব্যক্তি, যে মক্কায় আমার সাথে সাক্ষাৎ করেছিল।” আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রসূল! আল্লাহ তা‘আলা আপনাকে যা শিক্ষা দিয়েছেন এবং যা আমার অজানা -তা আমাকে বলুন? আমাকে সালাত সম্পর্কে বলুন?’ তিনি বললেন, “তুমি ফজরের সালাত পড়। তারপর সূর্য এক বল্লম বরাবর উঁচু হওয়া পর্যন্ত বিরত থাকো। কারণ, তা শয়তানের দু’ শিং-এর মধ্যভাগে উদিত হয় এবং সে সময় কাফিররা তাকে সাজদাহ করে। পুনরায় তুমি সালাত পড়। কেননা সালাতে যে ফিরিশতা সাক্ষী ও উপস্থিত হন, যতক্ষণ না ছায়া বল্লমের সমান হয়ে যায়। অতঃপর সালাত থেকে বিরত হও। কেননা তখন জাহান্নামের আগুন উস্কানো হয়। অতঃপর যখন ছায়া বাড়তে আরম্ভ করে, তখন সালাত পড়। কেননা, এ সালাতে ফিরিশতা সাক্ষী ও উপস্থিত হন। পরিশেষে তুমি আসরের সালাত পড়। অতঃপর সূর্য ডোবা পর্যন্ত সালাত পড়া থেকে বিরত থাকো। কেননা, সূর্য শয়তানের দু’ শিঙ্গের মধ্যে অস্ত যায় এবং তখন কাফিররা তাকে সাজদাহ করে।” পুনরায় আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর নবী! আপনি আমাকে অযু সম্পর্কে বলুন?’ তিনি বললেন, “তোমাদের মধ্যে যে কেউ পানি নিকটে করে (হাত ধোওয়ার পর) কুল্লি করে এবং নাকে পানি নিয়ে ঝেড়ে পরিষ্কার করে, তার চেহারা, তার মুখ এবং নাকের গুনাহসমূহ ঝরে যায়। অতঃপর সে যখন আল্লাহর আদেশ অনুযায়ী তার চেহারা ধোয়, তখন তার চেহারার পাপরাশি তার দাড়ির শেষ প্রান্তের পানির সাথে ঝরে যায়। অতঃপর সে যখন তার হাত দু’খানি কনুই পর্যন্ত ধোয়, তখন তার হাতের পাপরাশি তার আঙ্গুলের পানির সাথে ঝরে যায়। অতঃপর সে যখন তার মাথা মাসাহ করে, তখন তার মাথার পাপরাশি চুলের ডগার পানির সাথে ঝরে যায়। অতঃপর সে যখন তার পা দু’খানি গাঁট পর্যন্ত ধোয়, তখন তার পায়ের পাপরাশি তার আঙ্গুলের পানির সাথে ঝরে যায়। অতঃপর সে যদি দাঁড়িয়ে গিয়ে সালাত পড়ে, আল্লাহর প্রশংসা ও তাঁর মাহাত্ম্য বর্ণনা করে -যার তিনি যোগ্য এবং অন্তরকে আল্লাহ তা‘আলার জন্য খালি করে, তাহলে সে ঐ দিনকার মতো নিষ্পাপ হয়ে বেরিয়ে আসে, যেদিন তার মা তাকে প্রসব করেছিল।” তারপর ‘আমর ইবন আবাসাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু এ হাদীসটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবী আবূ উমামা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর নিকট বর্ণনা করলেন। আবূ উমামাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু তাকে বললেন, ‘হে ‘আমর ইবন ‘আবাসাহ! তুমি যা বলছ তা চিন্তা করে বল! এক জায়গায় কি ব্যক্তিকে এতটা মর্যাদা দেওয়া হবে?’ ‘আমর বললেন, ‘হে আবূ উমামাহ! আমার বয়স ঢের হয়েছে, আমার হাড় দুর্বল হয়ে গেছে এবং আমার মৃত্যুও নিকটবর্তী। (ফলে এ অবস্থায়) আল্লাহ তা‘আলা অথবা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর মিথ্যা বলার আমার কী প্রয়োজন আছে? যদি আমি এটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট থেকে একবার, দু’বার, তিনবার এমনকি সাতবার পর্যন্ত না শুনতাম, তাহলে কখনই তা বর্ণনা করতাম না। কিন্তু আমি তাঁর নিকট এর চেয়েও বেশিবার শুনেছি।’
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।‘আমর ইবন ‘আবাসাহ আস-সুলামী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু জাহেলী যুগে তার অবস্থা কেমন ছিল এবং কীভাবে আল্লাহ তা‘আলা তাকে ইসলামের দিকে পথপ্রদর্শন করলেন তা আমাদেরকে জানালেন। জাহেলিয়াতের যুগে তার অন্তরে একটি নূর ছিল যা তাকে বলে দিতো যে, এ সকল লোকেরা বাতিল, শির্ক ও পথভ্রষ্টতার ওপর রয়েছে এবং অন্যান্য লোকেরা যা বিশ্বাস করতো তিনি তা বিশ্বাস করতেন না। অতঃপর তিনি মক্কায় এমন এক ব্যক্তির আবির্ভাব সম্পর্কে অবগত হলেন যে, মক্কায় আজব আজব খবর বলছেন। সুতরাং তিনি তার সাওয়ারীর উপর বসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে দেখলেন যে, কাফের কুরাইশদের ভয়ে গুপ্তভাবে দাওয়াতের কাজ করছেন। ‘আমর ইবন ‘আবাসাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, আমি বিচক্ষণতার সাথে কাজ নিলাম। পরিশেষে আমি মক্কায় তাঁর কাছে প্রবেশ করলাম। অতঃপর আমি তাঁকে বললাম, ‘আপনি কে?’ তিনি বললেন, “আমি নবী।” আমি বললাম, ‘নবী কী?’ তিনি বললেন, “আমাকে মহান আল্লাহ প্রেরণ করেছেন।” আমি বললাম, ‘কী নির্দেশ দিয়ে প্রেরণ করেছেন?’ তিনি বললেন, “জ্ঞাতিবন্ধন অক্ষুণ্ণ রাখা, মূর্তি ভেঙ্গে ফেলা, আল্লাহকে একক উপাস্য মানা এবং তাঁর সাথে কাউকে শরীক না করার নির্দেশ দিয়ে।” এখানে তিনি আল্লাহ তা‘আলার দিকে আহ্বান করলেন এবং এই মহান দীনের সৌন্দর্য ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বর্ণনা করলেন, অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলার তাওহীদ ও ভালো আচরণ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে এমন কিছু অবগত করালেন যা মানুষ তাদের জ্ঞানের মাধ্যমে অবগত হয় যে, এ সমস্ত মূর্তি বাতিল। এ কারণে এ ব্যক্তি ইসলামে প্রবেশ করাকে গ্রহণ করে নিল, কারণ সে জানতো যে, মুশরিকরা মূর্তি পূজার যে ইবাদত আঞ্জাম দিচ্ছে তা বাতিল। তিনি সত্য অনুসন্ধান করতে ছিলেন। রাদিয়াল্লাহু আনহু। তিনি যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে গেলেন তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, আল্লাহ তা‘আলা তাঁকে এ বিষয় দিয়ে প্রেরণ করেছেন। যেমন তিনি বললেন, “জ্ঞাতিবন্ধন অক্ষুণ্ণ রাখার নির্দেশ দিয়ে আমাকে প্রেরণ করেছেন।” এটি হচ্ছে উত্তম চরিত্র। কেননা মক্কাবাসীরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর অপবাদ আরোপ করতো যে, তিনি আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করতে এসেছেন। অতএব, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করলেন এবং বললেন তিনি জ্ঞাতিবন্ধন অক্ষুণ্ণ রাখতে আগমন করেছেন, ছিন্ন করতে নয়। “মূর্তি ভেঙ্গে ফেলা” আল্লাহ ব্যতীত যার ইবাদত করা হয় তা ভেঙ্গে ফেলতে “এবং আল্লাহকে একক উপাস্য মানা এবং তাঁর সাথে কাউকে শরীক না করা”। ‘আমর ইবন আবাসাহ বলেন, আমি বললাম, ‘এ কাজে আপনার সঙ্গে কে আছে?’ অর্থাৎ এ দীনে আপনার সাথে কে প্রবেশ করেছে? তিনি বললেন, “স্বাধীন মানুষ ও কৃতদাস।” স্বাধীন হলেন আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু, আর ক্রীতদাস হলেন বিলাল রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু। (তিনি বললেন,) ‘আমিও আপনার অনুগত।’ তিনি বললেন, “তুমি তোমার বর্তমান সময়ে এটা পারবে না।” এর অর্থ হচ্ছে, যদি সে তাঁর অনুসরণ করে এবং তার সম্প্রদায়কে পরিত্যাগ করে তাহলে সে স্বাভাবিকভাবে মক্কায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথীতে পরিণত হবে, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার থেকে কাফেরদের প্রতিহত করতে সক্ষম হবেন না। অতঃপর তিনি তাকে বললেন, মুসলিম অবস্থায় তুমি তোমার সম্প্রদায়ে অবস্থান করো, যখন এ দীন জয়ী ও শক্তিশালী হওয়ার সংবাদ পাবে, তখন আমার কাছে এসো এবং আমার সাথী হয়ো। বস্তুত এটিই হচ্ছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের করুণা, দয়া ও সমমর্মিতা। কেননা এই ব্যক্তি ছিল দুর্বল। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ ব্যক্তিকে বললেন, “তুমি এখন এ কাজ করতে পারবে না। তুমি কি আমার অবস্থা ও লোকদের অবস্থা দেখতে পাও না?” অর্থাৎ কাফেররা সংখ্যায় অনেক, তারা আমাকে কষ্ট পৌঁছায় আর আমি তা প্রতিহত করতে সক্ষম নই। তাহলে কীভাবে আমি তোমার থেকে তা প্রতিহত করবো? অতএব, তুমি (এখন) বাড়ি ফিরে যাও। অতঃপর যখন তুমি আমার জয়ী ও শক্তিশালী হওয়ার সংবাদ পাবে, তখন আমার কাছে এসো। অর্থ হচ্ছে, তোমার ইসলামের ওপর অটল থাকো আমার জয়ী ও শক্তিশালী হওয়া পর্যন্ত, তখন আমার কাছে এসো। তিনি বলেন, “সুতরাং আমি আমার পরিবারের নিকট চলে গেলাম, অবশেষে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনা চলে এলেন, আমি তখন আমার পরিবারেই ছিলাম। ফলে আমি খবরাখবর নিতে আরম্ভ করলাম” কেননা তার অন্তরে ইসলাম প্রবেশ করেছে। তিনি বলেন, “এবং যখন তিনি মদীনায় আগমন করলেন, তখন আমি (তাঁর ব্যাপারে) লোকদেরকে জিজ্ঞাসা করতে লাগলাম। অবশেষে আমার পরিবারের কিছু লোক মদীনায় এল। আমি বললাম, ‘ঐ লোকটার অবস্থা কি, যিনি (মক্কা ত্যাগ করে) মদীনা এসেছেন?’ তারা বলল, ‘লোকেরা তার দিকে ধাবমান। তাঁর সম্প্রদায় তাঁকে হত্যা করার ইচ্ছা করেছিল; কিন্তু তারা তা করতে সক্ষম হয় নি।’ তিনি বললেন, তখন আমি মদীনা এসে তাঁর খিদমতে হাযির হলাম। তারপর আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রসূল! আপনি আমাকে চিনতে পারছেন?’ তিনি বললেন, “হ্যাঁ, তুমি তো ঐ ব্যক্তি, যে মক্কায় আমার সাথে সাক্ষাৎ করেছিল।” তিনি বললেন, আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ তা‘আলা আপনাকে যা শিক্ষা দিয়েছেন এবং যা আমার অজানা -তা আমাকে বলুন?” তিনি এখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রশ্ন করলেন যে, ইসলামের আহকাম কী যা আপনার ওপর অবতীর্ণ করা হয়েছে? আল্লাহ তা‘আলা আপনাকে যা শিক্ষা দিয়েছেন এবং যা আমার অজানা -তা আমাকে বলুন? আমাকে সালাত সম্পর্কে বলুন?’ তিনি বললেন, “তুমি ফজরের সালাত পড়।” অর্থাৎ সময়মত। “তারপর সূর্য এক বল্লম বরাবর উঁচু হওয়া পর্যন্ত বিরত থাকো।” এর অর্থ হলো, এর পর ফজরের সময় বাকী থাকে না। অতএব, সূর্য এক বল্লম বরাবর উঁচু হওয়া পর্যন্ত বিরত থাকো। সূর্য উদিত হওয়ার সময় কি নফল সালাত পড়া যাবে? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, অতএব, সূর্য এক বল্লম বরাবর উঁচু হওয়া পর্যন্ত সালাত থেকে বিরত থাকো।” কারণ, তা শয়তানের দু’ শিং-এর মধ্যভাগে উদিত হয়। সূর্য উদয়ের সময় কাফিররা সে সময় সূর্যকে সাজদাহ করে। সুতরাং মুসলিমে জন্য স্বেচ্ছায় এ সময় পর্যন্ত ফরয সালাত দেরী করে পড়া জায়েয হবে না এবং সূর্য উদয়ের সময় থেকে সূর্য এক বল্লম বরাবর উঁচু হওয়া পর্যন্ত নফল সালাত পড়া জায়েয হবে না। ক্যালেন্ডারে দেখবেন ‘সূর্যোদয়ের সময়’ দেওয়া আছে; এখানে সেটাই উদ্দেশ্য। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “কারণ, তা শয়তানের দু’ শিং-এর মধ্যভাগে উদিত হয় এবং সে সময় কাফিররা তাকে সাজদাহ করে।” অতএব, তিনি আমাদেরকে তাদের সাদৃশ্য থেকে নিষেধ করেছেন।তিনি বলেন, “পুনরায় তুমি সালাত পড়। কেননা সালাত সাক্ষী ও হাজিরা।” অর্থাৎ এই সালাতকে লিখে নেওয়ার জন্যে দিনের ফিরিশতারা উপস্থিত হন এবং যারা সালাত আদায় করে তাদের ব্যাপারে সাক্ষী দেন। এটাই হচ্ছে “মাশহুদাহ মাকতুবাহ” বর্ণনার অর্থ। তিনি বলেন, “যতক্ষণ না ছায়া বল্লমের সমান হয়ে যায়। অতঃপর সালাত থেকে বিরত হও।” অর্থাৎ সূর্য ঢলে যাওয়ার সময়। কেননা এসময় সূর্য মধ্য আকাশে মাথার উপরে থাকে এবং প্রত্যেক বস্তুর ছায়া দু’পায়ের নিচে থাকে। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, এ সময় তুমি সালাত আদায় করো না। আর এটি এমন এক সময় যাতে সহজভাবে আনুমাণিক দু’রাকাত সালাত পড়া যায়। সুতরাং এ সময় তার জন্য সালাত আদায় করা জায়েয হবে না। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তখন জাহান্নামের আগুন উস্কানো হয়।” অতএব, এ সময় সালাত হারাম। অতএব, এ সময় যে মসজিদে প্রবেশ করবে অপেক্ষা করবে যতক্ষণ না মুয়াজ্জিন আযান দেয়। তিনি বলেন, “অতঃপর যখন ছায়া কাছে আসে।” অর্থাৎ ছায়া কমতে কমতে পায়ের নিচে চলে আসে এবং এরপর বিপরীত দিকে যেতে থাকে; ফলে যোহরের আযানের সময় ছায়া পশ্চিম দিক থেকে পূর্ব দিকে চলে যাওয়া আরম্ভ করে। তিনি বলেন, “অতঃপর যখন ছায়া কাছে আসে তখন সালাত পড়। কেননা, এ সালাতে ফিরিশতা সাক্ষী ও উপস্থিত হন। পরিশেষে তুমি আসরের সালাত পড়।” অর্থাৎ আসর পর্যন্ত ফরয ও নফল সালাত পড়। এটি খোলা সময়। সুতরাং যত ইচ্ছা নফল সালাত পড় -এতে কোনো নিষেধ নেই। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “অতঃপর সূর্য ডোবা পর্যন্ত সালাত পড়া থেকে বিরত থাকো।” অর্থাৎ যখন আসরের সালাত পড় তখন সূর্য ডোবা পর্যন্ত নফল সালাত পড়ো না।“ অতঃপর সূর্য ডোবা পর্যন্ত সালাত পড়া থেকে বিরত থাকো।” সূর্যোদয়ের সময়ের মতো সূর্যাস্তের পূর্বে দ্বিতীয়বার হারাম ওয়াক্ত ফিরে আসে। এর কারণ হলো, সূর্য শয়তানের দু’ শিঙ্গের মধ্যে অস্ত যায় সুতরাং মুসলিমের জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে সূর্যাস্ত পর্যন্ত দেরি করে আসর সালাত পড়া জায়েয নেই। কারণ, তা সূর্য পূজারী কাফেরদের সাথে সাদৃশ্য হয়ে যায়; মুসলিম ব্যক্তি তার এ কাজের মাধ্যমে এসব কাফিরদের সাথে সাদৃশ্য করে ফেলে, কারণ সে আসরের সালাতকে এতদূর পিছিয়ে এনেছে। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একে মুনাফিকের সালাত হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। কেননা মুনাফিকরা সূর্যের অপেক্ষা করে; সূর্য যখন হলুদ হয়ে যায় তখন চারবার ঠোকর মারে এবং তাতে আল্লাহকে খুব কমই স্মরণ করে। তাই, কাফির বা মুনাফিকদের সাথে সাদৃশ্য হওয়া এবং আসরের সালাতকে সূর্য হলুদ হওয়া পর্যন্ত দেরী করা থেকে সাবধান। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “নিশ্চয় সূর্য শয়তানের দু’ শিঙ্গের মধ্যে অস্ত যায় এবং তখন কাফিররা তাকে সাজদাহ করে।” ‘আমর বলেন, আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর নবী! আপনি আমাকে অযু সম্পর্কে বলুন?’ তিনি বললেন, “তোমাদের মধ্যে যে কেউ পানি নিকটে করে (হাত ধোওয়ার পর) কুল্লি করে এবং নাকে পানি নিয়ে ঝেড়ে পরিষ্কার করে, তার চেহারা, তার মুখ এবং নাকের গুনাহসমূহ ঝরে যায়। অতঃপর সে যখন আল্লাহর আদেশ অনুযায়ী তার চেহারা ধোয়, তখন তার চেহারার পাপরাশি তার দাড়ির শেষ প্রান্তের পানির সাথে ঝরে যায়।” অর্থাৎ মানুষ যখন অযু করে তখন পানির শেষ ফোটার সাথে সাথে তার পাপরাশি ঝরে যায়। যখন সে তার চেহার ধৌত করে তখন তার মুখ, নাক, চেহারা ও দু’চোখের গুনাহসমূহ পানির সাথে ঝরে যায়। তারপর ‘আমর ইবন আবাসাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু এ হাদীসটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবী আবূ উমামা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর নিকট বর্ণনা করলেন। আবূ উমামাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু তাকে বললেন, ‘হে ‘আমর ইবন ‘আবাসাহ! তুমি যা বলছ তা চিন্তা করে বল! এক জায়গায় ব্যক্তিকে এতটা মর্যাদা দেওয়া হয়?’ অর্থাৎ একজন বান্দা একটা জায়গাতেই এত বেশি পেয়ে যাবেন এ ব্যাপারটা তিনি বেশি মনে করলেন। যখন এভাবে অযু করবে তখন তার থেকে সকল গোনাহ ঝরে যাবে। অতঃপর সে যদি দাঁড়িয়ে গিয়ে সালাত পড়ে, তাহলে সে ঐ দিনকার মতো নিষ্পাপ হয়ে বেরিয়ে আসে, যেদিন তার মা তাকে প্রসব করেছিল। যেদিন তার কোনো গোনাহ ছিল না। তিনি বললেন, তুমি ভালোভাবে বল, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বলেছেন হয়তো তুমি কোনো কিছু ভুলে গেছো। তখন জবাবে ‘আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, ‘হে আবূ উমামাহ! আমার বয়স ঢের হয়েছে, আমার হাড় দুর্বল হয়ে গেছে এবং আমার মৃত্যুও নিকটবর্তী। (ফলে এ অবস্থায়) আল্লাহ তা‘আলার প্রতি মিথ্যারোপ করার আমার কী প্রয়োজন আছে?” নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথীগণ আল্লাহ অথবা তার রাসূলের ওপর কখনো মিথ্যা বলতে পারেন না। তিনি বলেন, “যদি আমি এটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট থেকে একবার, দু’বার, তিনবার এমনকি সাতবার পর্যন্ত না শুনতাম, কখনই তা বর্ণনা করতাম না।” অর্থাৎ এই হাদীসটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার বলেন নি বরং তিনি সাত বার বলেছেন। আর আরবরা সাত সংখ্যাকে অধিক অর্থ বর্ণনা করে থাকে। হয়তো তিনি এর চেয়েও বেশি বলেছেন। তিনি বলেন, “কিন্তু আমি তাঁর নিকট এর চেয়েও অধিকবার শুনেছি।”