





























Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
All
হানযালা ইবন কাইস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, আমি রাফে‘ ইবন খাদীজকে স্বর্ণ রুপার বিনিময়ে যমীন ইজারা দেওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি, তিনি বলেন, তাতে কোনো অসুবিধা নেই। কারণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে মানুষ যমীনের বড় নদীর পাশের অংশ, ছোট নদীর পাশের এবং নির্দিষ্ট কতক ফলনের ওপর ইজারা দিত। তখন একজন ক্ষতিগ্রস্থ হতো এবং অপরজন নিরাপদ থাকতো। তখন এ ধরনের ইজারা ছাড়া আর কোনো পদ্ধতি ছিল না। এ কারণে, তার থেকে নিষেধ করেছেন। কিন্তু যদি কোনো বস্তু নির্ধারিত ও জ্ঞাত হয়, তাতে কোনো অসুবিধা নেই।
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।রাফে‘ ইবন খাদিজ উল্লেখ করেন যে, মদীনাবাসীদের মধ্যে তার পরিবার অধিক ক্ষেত-খামার ও বাগানদারী ছিলেন। তারা জাহিলিয়্যাতের পদ্ধতিতে যমীন ইজারা দিতো। তারা ক্ষেত করার জন্য যমীন এ শর্তে ইজারা দিতো যে, ক্ষেতের একটি দিক তাদের জন্য এবং অপর একটি দিক কৃষকের জন্যে থাকত। তখন দেখা যেত যে, এক পাশে ফসল হতো অপর পাশ ধ্বংস হতো। আবার কখনো যমীর মালিকের জন্য ভালো ফসল যেমন, যেগুলো পানির পাশ বা সেচের নিকটবর্তী তা রেখে দেওয়া হতো। ফলে এ ক্ষতিগ্রস্ত হতো আর ও নিরাপদ থাকতো অথবা এর বিপরীত হতো। তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ ধরনের লেনদেন করা থেকে তাদের নিষেধ করেছেন। কারণ, এতে রয়েছে ধোকা, অজ্ঞতা ও যুলুম। সুতরাং, যেমনিভাবে লাভ ও লোকসান সমান হতে হবে তেমনিভাবে বিনিময় সম্পর্কেও অবগতি থাকতে হবে। আর যদি বিনিময় হয় চাষকৃত ফসলের একটি অংশ, তাহলে তাতে লাভ ও লোকসানে বরাবর ও ইনসাফ থাকা চাই এবং হক নির্দিষ্ট থাকা চাই যেমন এক-চতুর্থাংশ, অর্ধেক প্রভৃতি। এ ধরনের লেনদেন অবশ্যই বৈধ চাই স্বর্ণ রুপার বিনিময়ে হোক বা যমীনের উৎপাদিত ফসলের বিনিময় হোক বা একই ধরনের বস্তু হোক বা অন্য কোনো বস্তু হোক। কারণ, এগুলো সবই যমীন ইজারাহ বা মুসাকাত বা মুযারাআর অন্তর্ভুক্ত এবং হাদীসের ব্যাপক বিধান [ فأما شيء معلوم مضمون، فلا بأس به]-এর অন্তর্ভুক্ত।
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরায়ার ক্ষেত্রে পাঁচ ওসাক কিংবা তার চেয়ে কমের ভেতর ক্রয়-বিক্রয়ের অনুমতি দিয়েছেন।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।عرايا আরায়া শব্দটি عرية শব্দের বহুবচন। এর অর্থ হলো, কোনো মানুষ তাজা খেজুরের মৌসুমে তা খেতে চায় কিন্তু তার অভাবের কারণে সে তা খেতে পারে না। তবে তার নিকট শুকনা খেজুর আছে। তখন সে গাছে থাকা তাজা খেজুরকে শুকনা খেজুরের বিনিময়ে ক্রয় করতে পারবে। তবে শর্ত হলো তাজা খেজুর পাঁচ ওসাক কিংবা তার চেয়ে কম হতে হবে। কারণ, আরায়ার মাসআলাটি প্রয়োজনের তাগিদে নিষিদ্ধ বিধান থেকে বাদ দেয়া হয়েছে, তাই তা কেবল জরুরতের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। তাই পাঁচ ওসাক কিংবা তার চেয়ে কম পরিমানের মধ্যে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। কারণ, এর দ্বারা তাজা খেজুর খাওয়ার চাহিদা মিটে যাবে। অন্যথায় মুলনীতি হলো, একই বস্তু অদল-বদলের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত হলেই রিবা হবে। কারণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যখন তাজা খেজুরকে শুকনা খেজুরের বিনিময়ে বিক্রি করার বিষয়টি জিজ্ঞাসা করা হলো তিনি বললেন, “তাজা খেজুর যখন শুকায় তখন ওজন কমে যায় কিনা?” তখন তারা বলল, হ্যাঁ। তিনি বললেন, “তাহলে হবে না।” হাদীসটি সহীহ। বর্ণনায় পাঁচটি সুনান গ্রন্থ।
যায়দ ইবন সাবিত রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরিয়্যার মালিককে তা অনুমানে বিক্রি করার অনুমতি প্রদান করেছেন। আর সহীহ মুসলিমের বর্ণনায় রয়েছে, (শুষ্ক খেজুর) তামারের আন্দাজে (রুতাব) তাজা খেজুর ক্রয় করে খাওয়া।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।খেজুর গাছের মাথার উপর খেজুর থাকা অবস্থায় তার সমপরিমাণ খেজুরের বিনিময়ে বিকিকিনি নিষেধ। একে মুযাবানাহ বলা হয়। কারণ, এ ধরনের বেচা-কেনাতে একই ধরনের দু’টি বস্তু বরাবর হওয়ার বিষয়টি অজ্ঞাত থাকে, (অথচ একই জাতীয় বস্তু যদি অদল-বদল করতে হয়, তাহলে উভয় দিকে বরাবর হওয়া জরুরি, অন্যথায় সুদ হবে) প্রথম যুগে নগদ অর্থ যেমন দিনার ও দেরহাম কম পাওয়া যেত। ফলে যখন রুতাব (তাজা খেজুরের) ও ফলফলাদির মৌসম আসত, মানুষেরা তার খুব প্রয়োজন অনুভব করত, কিন্তু তাদের অনেকের নিকট তাজা খেজুর ক্রয় করার নগদ অর্থ থাকত না। তাই তাদেরকে শুকনো খেজুরের বিনিময়ে তাজা খেজুর ক্রয় করার অনুমতি দিয়েছেন, যেন তারা তাজা খেজুর খেতে পারে, তবে এভাবে বরাবরির খেয়াল করতে হবে যে, যদি তাজা খেজুর শুষ্ক হয় তাহলে যেন শোকনো খেজুরের বরাবর হয়। আর এটিকেই আরবিতে খারস বলা হয়। মুযাবানাহ হারাম, তবে তার থেকে ‘আরায়া’ প্রকারটি ব্যতিক্রম।
সুবাইয়্যাহ আসলামিয়্যাহ রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, সে সা‘দ ইবন খাওলার বিবাহ বন্ধনে ছিল (সাদ ছিল বনু আমির ইবন লুআই বংশের এবং বদরি সাহাবী) বিদায় হজে তার স্বামী সা‘দ মারা যান, তখন তিনি গর্ববতী ছিলেন। তার মৃত্যুর অল্প দিন পরেই বাচ্চা প্রসব করেন। যখন তিনি নিফাস থেকে পবিত্র হলেন, তখন বিবাহের প্রস্তাবের জন্য সৌন্দর্য্য গ্রহণ করলেন। তার নিকট আবূ সানাবিল ইবন বা‘কাক গেলেন। আবূ সানাবিল ছিলেন বনু আবদুদ দারের একজন সদস্য। সে তাকে বলল, কী ব্যাপার তোমাকে সজ্জিত দেখছি? সম্ভবত তুমি বিবাহে আগ্রহী? আল্লাহর কসম, চার মাস দশ দিন না যেতে তুমি বিয়ে করতে পারবে না। সাবুইয়্যাহ বলেন, সে যখন আমাকে এ কথাগুলো বলল, তখন সন্ধ্যা হলে আমার কাপড়গুলো একত্র করে আমি রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আগমন করি এবং তাকে ইদ্দত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করি। তিনি আমাকে ফাতওয়া দেন যে, যখন আমি বাচ্চা প্রসব করেছি তখনি হালাল হয়ে গেছি এবং তিনি আমাকে বিবাহ করার নির্দেশ দিলেন যদি বিবাহ করার ইচ্ছা আমার হয়।” ইবন শিহাব বলেন, “বাচ্চা প্রসব করার পর বিবাহ করায় আমি কোনো দোষ দেখি না, যদিও সে তার রক্ত প্রবাহের সময়ে থাকে, তবে তার পবিত্র না হলে স্বামী তার নিকটবর্তী হবে না।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।সুবাইয়্যাহ আসলামিয়্যাহ যখন গর্ববতী তখন তার স্বামী সা‘দ ইবন খাওলা মারা যান। সুবাইয়্যাহ তার মৃত্যুর অল্প দিন পরেই বাচ্চা প্রসব করেন। যখন তিনি নেফাস থেকে পবিত্র হলেন, তখন সৌন্দর্য্য গ্রহণ করলেন। কারণ, তিনি জানতেন বাচ্চা প্রসব করার ফলে তার ইদ্দত শেষ হয়ে গিয়েছে এবং বিবাহ করা তার জন্যে বৈধ। ইত্যবসরে আবূ সানাবিল তার নিকট যান, সে তখন সজ্জিত, তিনি বুঝতে পারলেন বিবাহের জন্যে সে প্রস্তুত। এটা দেখে তিনি প্রতিবাদ করলেন। কারণ, তার বিশ্বাস ছিল এখন তার ইদ্দত শেষ হয় নি এবং আল্লাহর কসম করেই বললেন, চার মাস দশ দিন না যেতে তুমি বিয়ে করতে পারবে না। কারণ, আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, “আর তোমাদের মধ্যে থেকে যারা মারা যাবে এবং স্ত্রীদের রেখে যাবে, তাদের স্ত্রীগণ চার মাস দশ দিন অপেক্ষায় থাকবে।” [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত:২৩৪] আর সুবাইয়্যাহ যা জানতেন সে ব্যাপারে তিনি শতভাগ নিশ্চিত ছিলেন না, অথচ আবূ সানাবিল নিশ্চতভাবে বলছেন। তাই সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে সে সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন, তিনি তাকে ফাতওয়া দেন যে, যখন বাচ্চা প্রসব করেছে তখনি সে হালাল হয়ে গেছে। এখন যদি সে বিয়ে করতে চায় তাহলে সেটার সুযোগ আছে। কারণ, আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,“আর গর্ভধারিনীদের ইদ্দতকাল সন্তান প্রসব পর্যন্ত।” [সূরা আত-তালাক, আয়াত: ৪] অতএব, যার স্বামী মারা যায় সে যদি গর্ভবতী হয়, তাহলে বাচ্চা প্রসব করার দ্বারা ইদ্দত শেষ হয়ে যাবে, আর যদি গর্ভবতী না হয়, তাহলে তার ইদ্দত চার মাস দশ দিন।
যায়েদ ইবন খালিদ আল-জুহানী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কুড়িয়ে পাওয়া স্বর্ণ অথবা চাঁদি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন, তুমি তার বাঁধনের রশি এবং থলে-ঝুলি ভালো করে চিনে রাখ। অতঃপর এক বছর পর্যন্ত তার ঘোষণা দিতে থাক। যদি তুমি তার মালিক না পাও, তা তোমার নিকট রেখে দাও। আর তা যেন তোমার নিকট আমানত হিসেবেই থাকে। যদি কোনো সময় তার মালিক তোমার নিকট আসে তাহলে তুমি তা তার নিকট ফিরিয়ে দাও। আর তাকে হারানো উট সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন সেটা দিয়ে তুমি কী করব? তাকে তুমি ছেড়ে দাও, তার সঙ্গে তার মশ্ক ও খুর রয়েছে। সে পানির জায়গায় গিয়ে পানি পান করবে ও গাছপালা খাবে, যতক্ষণ না তার মালিক তাকে পেয়ে যায়। আর তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, হারানো বকরি সম্পর্কে? তিনি বললেন, তা তুমি ধর, সেটি হয় তোমার, না হয় তোমার ভাই মালিকের, না হয় নেকড়ে বাঘের।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।এক লোক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কুড়িয়ে পাওয়া স্বর্ণ, চাঁদি, উট ও বকরী ইত্যাদি সম্পদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল। তখন তিনি এ সব কুড়িয়ে পাওয়া সম্পদের বিধান বলে দিলেন যাতে অন্যান্য কুড়িয়ে পাওয়া বস্তুর জন্যও তা দৃষ্টান্ত হয়, যাতে এ থেকে অন্যান্য সম্পদের বিধানও গ্রহণ করতে পারে। তিনি স্বর্ণ ও রুপা সম্পর্কে বলেন, তুমি তার বাঁধনের রশি এবং থলে-ঝুলি ভাল করে চিনে রাখ। যাতে তুমি তা তোমার সম্পদ থেকে আলাদা করতে সক্ষম হও এবং যে তা দাবি করে তাকে তুমি তোমার মুখস্থ তথ্য থেকে সংবাদ দিতে পার। যদি তার বর্ণনা তোমার জানা তথ্যের সাথে মিলে যায় তাহলে তুমি তা তাকে দিয়ে দিবে। অন্যথায় তোমার কাছে তার দাবি অশুদ্ধ বলে প্রমাণিত হবে। আর তাকে নির্দেশ দিলেন যেন সে যেদিন পেয়েছে সেদিন থেকে পূর্ণ এক বছর পর্যন্ত তার ঘোষণা দিতে থাকে। এ ধরনের ঘোষণা হবে মানুষের সমাবেশে, বাজারে, মসজিদের দরজার সামনে ও কুড়িয়ে পাওয়ার স্থানে। অতঃপর এক বছর ঘোষণা করার পর এবং মালিক সম্পর্কে কোন প্রকার অবগত না হওয়াতে তার জন্য তা খরচা করার অনুমতি প্রদান করেন। যদি কোনো এক সময় তার মালিক তোমার নিকট আসে, তাহলে তুমি তা তার নিকট ফিরিয়ে দিবে। আর হারানো উট ও এ ধরনের জন্তু যার দ্বারা মানুষ উপকৃত হতে পারে। তা তুলে নেওয়া থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাপম নিষেধ করেছেন। কারণ, তাকে সংরক্ষণ করার প্রয়োজন পড়ে না। সে নিজেই নিজের রক্ষাকারী। তার মধ্যে এমন শক্তি আছে যার দ্বারা সে নিজেকে ছোট নেকড়ে থেকে রক্ষা করতে পারে। তার খুর আছে যার দ্বারা সে বন অতিক্রম করতে পারে। তার লম্বা গর্দান আছে যার দ্বারা সে গাছ-পালা ও পানীয় গ্রহণ করতে পারে। সে তার পেটে খাদ্য বহন করতে পারে। সে নিজেই তার রক্ষক। যতক্ষণ না তার মালিক যে তাকে খুজছে তার হারানোর স্থানে এসে তাকে পেয়ে যায়। আর হারানো বকরি ইত্যাদি ছোট জন্তু তাদের সম্পর্কে তিনি তাদের ধ্বংস ও নেঁকড়ের আক্রমণ থেকে রক্ষার জন্য ধরার নির্দেশ দেন। ধরার পর তার মালিক আসলে তা সে নিয়ে যাবে অথবা তার ওপর এক বছর ঘোষণার সময় অতিবাহিত হবে। তারপর যে তা পেয়েছে তার জন্য হবে।
জাবের ইবন আব্দুল্লাহ আনসারি রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি সালাতুল খাওফে রাসূলুল্লাহর সাথে উপস্থিত ছিলাম। রাসূলে পিছনে আমরা দুই কাতার করলাম। আর দুশমন আমাদের ও কিবলার মাঝামাঝি উপস্থিত ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তাকবীর বলল আমরাও সবাই তাকবীর বললাম। তিনি রুকূ করলেন আমরা সবাই রুকূ করলাম। অতঃপর তিনি রুকূ থেকে মাথা উঠালেন আমরা সবাই রুকু থেকে মাথা উঠালাম। অতঃপর তিনি সেজদায় গেলেন এবং যে কাতারটি তার সাথে তারা সেজদায় গেলেন। আর শেষের কাতারটি দুশমনের মুকাবালায় দাঁড়িয়ে রইলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাাম যখন সেজদা শেষ করলেন এবং তার সাথে মিলিত কাতারটি দাড়ালো তখন শেষ কাতার সেজদায় অবনত হলো এবং তারা দাঁড়ালো। তারপর পিছনের কাতার সামনে আসল ও সামনের কাতার পিছনে গেল। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুকূ করলে আমরা সবাই রুকূ করলাম। তারপর তিনি মাথা উঠালে আমরা সবাই মাথা উঠালাম। তারপর তিনি এবং তার সাথে মিলিত কাতার যেটি প্রথম রাকা‘আতে শেষ কাতার ছিল সেজদায় গেল। আর শেষ কাতার দুশমনের মুকাবেলায় অবস্থান নিল। তারপর যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তার সাথে মিলিত কাতার সেজদা শেষ করল, তখন শেষের কাতার সেজদায় পড়ল। তারপর তিনি সালাম ফিরালেন আমরা সবাই সালাম ফিরালাম। জাবের বলেন, যেমনটি তোমাদের পাহারাদার এসব আমীরদের সাথে করে থাকে। আর ইমাম বুখারী এর একটি অংশ আলোচনা করেন : “তিনি সালাতুল খাওফ রাসূলুল্লাহর সাথে সপ্ত যুদ্ধ অর্থাৎ যাতুর রিকা‘ নামক যুদ্ধে আদায় করেন”।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।এ হাদীসটিতে সালাতুল খাওফের পদ্ধতি বর্ণনা করা হয়েছে। আর পদ্ধতিটি কার্যকর তখন হবে যখন দুশমন কিবলা অভিমুখে অবস্থান করবে। যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সৈন্যদলকে দুইভাগে ভাগ করেছেন। একদল প্রথম কাতার আর অপরদল দ্বিতীয় কাতার। তারপর তাদের নিয়ে সালাত আদায় করেন। প্রথমে তাদের সবাইকে নিয়ে তাকবীর বলবেন, কিরাত পড়বেন এবং রুকূ করে সবাই রুকূ থেকে মাথা উঠাবেন। তারপর তিনি সেজদা করবেন এবং তার সাথে মিলিত প্রথম কাতার সেজদা করবেন। তারপর যখন দ্বিতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়াবেন তখন দ্বিতীয় কাতারের লোক যারা দুশমনকে পাহারা দিচ্ছিল তারা সেজদা করবে। তারপর যখন সবাই দাঁড়াবে তখন পিছনের কাতার সামনে যাবে আর সামনের কাতার পিছনে যাবে, যাতে সবাইর মধ্যে ইনসাফ কায়েম থাকে এবং প্রথম কাতার পুরো সালাতে একস্থানে না থাকে। আর দ্বিতীয় রাকাআতে এমনই করবে যেমনটি প্রথম রাকা‘আতে করেছিল। তারপর সবাইকে নিয়ে তাশাহুদ পড়বে এবং সালাম ফিরাবে। এ হাদীসে বর্ণিত সালাতুল খাওফের বিস্তারিত পদ্ধতি সে অবস্থা অনুযায়ী যে অবস্থায় তখন উপনিত ছিল রাসূল ও তার সাহাবীগণ, যেমন দুশমনরা কিবালার দিকে ছিল এবং মুসল্লিগণ তাদেরকে দাঁড়ানো ও রুকু অবস্থায় দেখতে ছিল আর তাদের পিছন থেকে আক্রান্ত হওয়া থেকে তারা নিরাপদ ছিল।
উম্মে হাবিবাহ বিনতে আবু সুফিয়ান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল, আমার বোন আবু সুফিয়ানের মেয়েকে বিয়ে করুন। তিনি বললেন, তুমি এটা পছন্দ কর? আমি বললাম, হ্যাঁ। কারণ, আমি একাই আমার জীবন সঙ্গী নই, তাই আমি পছন্দ করি কল্যাণের ভেতর আমার বোনই আমার অংশীদার হোক। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এটা আমার জন্যে হালাল নয়। উম্মে হাবিবাহ বলেন, আমরা বলাবলি করছি যে, আপনি আবু সালামার মেয়েকে বিয়ে করবেন। তিনি বললেন, উম্মে সালামার মেয়ে? তিনি বলেন, আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, “যদি সে আমার ঘরে পালক না হত, তবুও আমার জন্যে সে হালাল হত না। কারণ, সে আমার দুধ ভাইয়ের মেয়ে। আমাকে ও আবু সালামাকে সুআইবাহ দুধ পান করিয়েছেন। অতএব, তোমরা তোমাদের মেয়ে ও বোনদের আমার ওপর (বিয়ের জন্যে) পেশ কর না।” উরওয়া বলেন, সুআইবাহ আবূ লাহাবের আযাকৃত বাদী ছিল, সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দুধ পান করিয়েছে। যখন আবূ লাহাব মারা গেল, তার পরিবারের কেউ তাকে স্বপ্নে দেখল, তারপর তাকে জিজ্ঞেস করল, কীসের সাক্ষাত পেয়েছ? সে বলল, তোমাদের আড়াল হয়ে কোনো কল্যাণ চোখে দেখি নি, তবে এটাতে করে আমাকে পান করানো হয়েছে সুআইবাহকে আযাদ করার মিনিবয়ে।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।উম্মে হাবিবাহ বিনতে আবু সুফিয়ান মুমিনদের মায়েদের একজন (আল্লাহ তাদের সবার প্রতি সন্তুষ্ট থাকুন) তিনি নবী সাল্লাল্লামের বিয়ের কারণে নিজেকে অনেক সৌভাগ্যবাতী ও সুখী ভাবতেন। আর এটা করা তার জন্যে যথাযথও ছিল। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আবদার করলেন, তিনি যেন তার বোনকে বিয়ে করেন। তিনি আশ্চর্যবোধ করলেন, একজন নারী কীভাবে তার সতীনকে পছন্দ করে? কারণ, এ ব্যাপারে নারীদের অনেক অহমিকা কাজ করে। এই জন্যেই তিনি আশ্চর্য হয়ে তাকে জিজ্ঞাসার সুরে বললেন, এটা কি তুমি পছন্দ কর? তিনি বললেন, হ্যাঁ। এটা আমি পছন্দ করি। অতঃপর তাকে কারণটি বললেন, অর্থাৎ তার মন তার বোনকে সতীন হিসেবে গ্রহণ করতে সম্মত হয়েছে যেহেতু সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ব্যাপারে একা নয়, অন্যান্য নারী তার অংশীদার আছে, তাই এই কল্যাণে তার অংশীদার তার বোনই হোক। হয়তো তিনি জানতেন না, দুই বোনকে একত্র বিয়ে করা যায় না, এজন্যই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন, তার বোন তার জন্য হালাল নয়। তারপর বললেন, তিনি শুনতে পেয়েছেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মে সালামার মেয়েকে বিয়ে করবেন। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য প্রশ্ন করলেন। তিনি বললেন, তুমি বিনত উম্মে সালামার কথা বলছ? সে বলল, হ্যাঁ। তখন তিনি এ গুজব মিথ্যা প্রমাণ করে বললেন,উম্মে সালামার মেয়ে দু’টি কারণে আমার জন্যে হালাল নয়। এক. সে আমার পালক, আমি তার দেখাশোনা করেছি, তাই সে আমার স্ত্রীর মেয়ে। দুই. সে আমার দুধ ভাইয়ের মেয়ে। কারণ, আমাকে ও তার বাবাকে আবূ লাহাবের আযাদকৃত বাদী সুআইবাহ দুধ পান করিয়েছে। তাই আমি তার চাচা। অতএব, তোমরা তোমাদের মেয়ে ও বোনদের আমার ওপর পেশ কর না। এসব ব্যাপারে আমারটা আমিই ভালো জানি।
জাবির ইবন আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওমরার (অর্থাৎ এক প্রকার ওয়াকফের) ব্যাপারে ফায়সালা করেছেন, যার জন্যে দান করা সেটা তার জন্যেই।” অপর শব্দে: “যার জন্যে এবং যার বংশের জন্যে ওয়াকফ করা হয়, সেটা যাকে দেওয়া হয়েছে তার জন্যেই হবে, দানকারীর নিকট কখনো ফিরে আসবে না। কারণ, সে এমনভাবে একটি বস্তু দান করে দিয়েছেন যার মধ্যে উত্তরাধিকার স্থাপিত হয়ে গিয়েছে।” জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “যে ধরনের ওমরা (জীবন ভর ভোগ করার অধিকার) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনুমোদন দিয়েছেন, সেটা হচ্ছে এরূপ বলা যে, “এটা তোমার ও তোমার ওয়ারিশদের।” কিন্তু যদি এ কথা বলে, “তুমি যতদিন বেঁচে থাকবে তা তোমার জন্য।” তখন সেটা মালিকের নিকট ফিরে আসবে। সহীহ মুসলিমের শব্দে বর্ণিত: “তোমরা তোমাদের সম্পদ তোমাদের নিকট সংরক্ষণ কর, তা ধ্বংস করো না। কারণ, যে কাউকে কিছু জীবন ভর ভোগ করতে দেয়, সেটা তার জন্যেই তার জীবিত কালীন অবস্থায়, মৃত অবস্থায় এবং তার মৃত্যুর পর বংশধরের জন্যে।
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন। - মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।‘ওমরার’ মতোই ‘রুকবা’ এবং উভয় হেবার দু’টি প্রকার। জাহিলিয়্যাতের যুগে এ দুই প্রকার আদান প্রদান ছিল। তখন এক ব্যক্তি অপর ব্যক্তিকে তার ঘর ইত্যাদি এ বলে প্রদান করত: তোমাকে এটি জীবন ভর ভোগ করতে দান করলাম অথবা তোমাকে এটি দান করলাম যত দিন তুমি অথবা আমি বেঁচে থাকি। ফলে তারা যাকে দেওয়া হলো তার মৃত্যুর প্রতীক্ষায় থাকতো যাতে তারা তাদের দানে ফিরে যেতে পারে। শরী‘আত এ ধরনের হিবাকে স্বীকৃতি দিয়েছে তবে প্রচলিত শর্ত অর্থাৎ দানে ফিরে যাওয়াকে বাতিল করেছেন। কারণ দানে ফিরে যাওয়া ব্যক্তির দৃষ্টান্ত ওই কুকুরের মতো যে বমী করে অতঃপর সে তার বমিতে ফিরে যায়। এ কারণেই রাসূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফায়সালা দেন যে, যাকে দান করা হয় ওমরা তার জন্যে এবং তার বংশধরের জন্য। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে সতর্ক করেন যে, তারা যেন তাদের সম্পদ হিফাযত করে। কারণ তারা ধারণা করত এ ধরনের শর্ত পালন করা জরুরি নয় এবং দান করে সেটা গ্রহণ করা বৈধ। যেমন তিনি বলেন, “তোমরা তোমাদের সম্পদ তোমাদের নিকট সংরক্ষণ কর, তা তোমরা ধ্বংস করো না। কারণ, যাকে জীবন ভর ভোগ করতে দেওয়া হল সেটা তার জন্যেই জীবিত ও মৃত অবস্থায় এবং তার মৃত্যুর পর তার ওয়ারিশদের জন্য।”
জাবির ইবন ‘আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যৌথমালিকানার যে সম্পত্তির ভাগ-বাঁটোয়ারা হয়নি, তার মধ্যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুফ‘আর অধিকার প্রদান (অপর শব্দে আছে ফয়সালা) করেছেন। তারপর যখন সীমানা নির্ধারিত হয়ে যায় এবং স্বতন্ত্র করা হয় তখন আর শু‘ফআর অধিকার থাকবে না।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।হিকমতপূর্ণ এ শরী‘আতের আগমনই হলো অধিকার ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা এবং মানুষের ক্ষতি ও অনিষ্টতা দূর করার জন্যে। এ কারণেই যেহেতু যমীনের মধ্যে শরীকানা হলে তার ক্ষতি বেশি হয়, তার অনিষ্ট দীর্ঘ হয় এবং সেটা বন্টন করাও কষ্টকর হয়, তাই প্রজ্ঞাময় বিধান দাতা অংশীদারের জন্য শুফা‘আ লাভ করার অধিকার দিয়েছেন। যদি কোনো যমীনের দুই শরীকের একজন তার অংশ বিক্রি করে দেয়, তখন অপর শরীক যে তার অংশ বিক্রি করেনি সে অংশীদারিত্বের ক্ষতি প্রতিহত করতে সমপরিমাণ মুল্য পরিশোধ করে ক্রেতা থেকে যমীনের অংশ নিয়ে নিবে। শরীকের জন্য এ অধিকার ততদিন থাকবে যতদিন শরীকানা যমীন বন্টন সীমানা নির্ধারণ এবং তার রাস্তা বাঁধা না হয়। কিন্তু সীমানা নির্ধাতিরত হওয়ার পর এবং উভয়ের অংশ চিহ্নিত ও রাস্তা নির্ধারিত হওয়ার পর কোনো শুফ‘আ নেই, কারণ এখন শরীকের অংশীদারিত্ব ও যৌথ মালিকানা নেই, যে কারণে এক অংশীদারের বিক্রি করা জমি ক্রেতার কাছ থেকে ফিরিয়ে আনার অধিকার অপর অংশীদারকে শরী‘আত দিয়েছিল।