





























Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
All
আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে মারফূ‘ হিসেবে বর্ণিত, “মু’আজ্জিন আযানের বিষয়ে অধিক ক্ষমতা রাখেন আর ইমাম ইকামাতের ব্যাপারে অধিক ক্ষমতা রাখেন”।
এটি ইবন আবী শাইবাহ বর্ণনা করেছেন। - এটি বাইহাকী বর্ণনা করেছেন। - এটি আব্দুর রায্যাক বর্ণনা করেছেন।হাদীসটি বর্ণনা করে যে, মুয়াজ্জিন আযানের ব্যাপারে এবং ইমাম ইকামাতের বিষয়ে অধিক হকদার।
সা‘ঈদ ইব্নু হারিস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা জাবির ইব্নু ‘আবদুল্লাহ-কে একটি কাপড়ে সালাত আদায় করা সম্পর্কে প্রশ্ন করলাম। তিনি বললেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে কোন এক সফরে বের হয়েছিলাম। এক রাতে আমি কোন দরকারে তাঁর নিকট গেলাম। দেখলাম, তিনি সালাতে রত আছেন। তখন আমার শরীরে মাত্র একখানা কাপড় ছিল। আমি কাপড় দিয়ে শরীর জড়িয়ে নিলাম আর তাঁর পার্শ্বে সালাতে দাঁড়ালাম। তিনি সালাত শেষ করে জিজ্ঞেস করলেন, জাবির! রাতের বেলা আসার কারণ কী? তখন আমি তাঁকে আমার প্রয়োজনের কথা জানালাম। আমার কাজ শেষ হলে তিনি বললেন, এ কিরূপ জড়ানো অবস্থায় তোমাকে দেখলাম? আমি বললাম, কাপড় একটিই ছিল (তাই এভাবে করেছি)। তিনি বললেন, কাপড় যদি বড় হয়, তাহলে শরীরে জড়িয়ে পরবে। আর যদি ছোট হয় তাহলে লুঙ্গি হিসেবে ব্যবহার করবে। সহীহ মুসলিমের বর্ণনায় বর্ণিত: যদি বড় হয় তবে তার দুই কিনারা দুই দিকে ছাড়বে। আর যদি ছোট হয় তাহলে সেটি তোমার কোমরে বেঁধে নিবে।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু কোন এক সফরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে বের হয়েছিলেন। কোন এক রাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট তার কোন প্রয়োজন ছিল তাই তিনি সে বিষয়ে তাকে জানানোর জন্য তার কাছে গেলেন। তিনি তাকে সালাতে রত অবস্থায় পেলেন। তখন জাবির মাত্র একখানা কাপড় পরিহিত ছিলেন। ফলে সে কাপড়টি দিয়ে শরীর জড়িয়ে নিল এবং কাপড়ের দুই পাশকে স্বীয় কাঁধের উপর রাখলো। আর তাঁর পার্শ্বে সালাত আদায় করল। যখন সালাত শেষ করলেন তখন রাতের এ শেষ সময়ে তার নিকট আসার কারণ সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞেস করলেন। তিনি যে প্রয়োজনের কারণে তার কাছে এসেছিলেন তা তাকে অবহিত করলেন। প্রয়োজনের কথা বলা শেষ হলে তিনি কাপড় দ্বারা জড়ানোকে অপছন্দ করলেন। কারণ, কাপড়টি সংকীর্ণ ছিল। তাকে নির্দেশ দিলেন যে, কাপড় যদি বড় হয়, তাহলে কাপড়টি উপর থেকে নিচ পর্যন্ত সারা শরীরে জড়িয়ে পরবে। সুতরাং কাপড়টি তার কাঁধের উপর রাখবে এবং বাম কিনারা ডান কাঁধের উপর এবং ডান কিনারা বাম কাঁধের উপর রাখবে। যাতে তার লুঙ্গি এবং চাদর উভয়টির কাজ চলে এবং তা দ্বারা পুরো শরীর ডাকা পড়ে। এটি সতর ডাকতে বেশি সক্ষম এবং অবস্থার দিক দিয়েও অধিক সুন্দর। আর যদি কাপড় ছোট হয় তা দ্বারা লুঙ্গি ও চাদর উভয় বানানো সম্ভব নয়, তাকে লুঙ্গি হিসেবে ব্যবহার করবে। আর তা হলো কাপড়টিকে তার মাজার উপর বাঁধবে এবং তা দ্বারা শরীরের নিচের অংশ ডাকবে।
আব্দুল্লাহ ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, “বিলাল সুবহে সাদিকের পূর্বে (ফজরের সালাতের) আযান দিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ফিরে গিয়ে বলতে নির্দেশ দিলেন : “জেনে রাখ! বান্দা ঘুমিয়ে ছিল। জেনে রাখ! বান্দা ঘুমিয়ে ছিল।”
এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন।এ হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে যে, মুয়াযযিন যখন সময়মত আযান দিতে ভুল করে তখন তার উচিত মানুষকে তার ভুল জানিয়ে দেওয়া। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিলালকে সময়মত আযান দিতে ভুল করায় তাকে মানুষকে জানিয়ে দিতে আদেশ দিয়েছেন যে, জেনে রাখ! মানুষেরা এ সময়ে ঘুমে বিভোর থাকে।
আবূ যার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে মারফূ হিসেবে বর্নিত: যখন তোমাদের কেউ সালাতে দাড়ায়, অবশ্যই রহমত তার সম্মূখীন হয়। সতুরাং সে যেন পাথর দূর না করে। আর মুয়াইকীব রাদিয়াল্লাহ আনহু থেকে বর্ণিত, যে লোকটি সেজদার স্থানে মাটি সমান করে তার সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যদি করতেই তবে যেন একবার করে।
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।আবূ যার রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদীসে: যখন তোমাদের কেউ সালাতে দাড়ায়, অর্থাৎ যখন সালাতে প্রবেশ করে এবং তাকবীরে তাহরীমাহ বাঁধে তাকে যেন নিষেধ করা না হয়। তার বাণীতে নিষেধের অর্থ: সামান্য কারণে সালাত থেকে যে বিমুখ না থাকে। কারণ, তাতে সালাতের মনোযোগ নষ্ট হয়। তখন সালাতের মনোযোগী হওয়া যা রহমতের কারণ তা ছুটে যাবে। আর এটি তখন যখন তা সেজদার স্থান পরিস্কার করার জন্য না হবে। অন্যথায় প্রয়োজন অনুযায়ী একবার করাতে কোন অসুবিধা নেই। আর এ কথা অজানা নয় যে, এখানে পাথর দ্বারা ছোট পাথর উদ্দেশ্য। আর পাথরের কথা উল্লেখ করা অভ্যাগত। কারণ, তখন তাদের মসজিদসমূহের বিছানায় পাথরই হতো। সুতরাং এ মাসআলার ক্ষেত্রে মাটি বালি ও পাথরের মধ্যে কোন প্রার্থক্য নেই। আর মুয়াইকীব রাদিয়াল্লাহ আনহু থেকে বর্ণিত হাদীসে যে লোকটি সেজদার স্থানে মাটি সমান করে তার সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যদি করতেই হয় তবে যেন একবার করে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকটি সম্পর্কে বলেন, অর্থাৎ সে লোকটির অবস্থা সম্পর্কে যে তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে যে, সে তার সেজদা করার স্থানে তার ওপর সেজদা করার জন্য মাটি দূর করে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে উত্তর দেন যে, যদি তোমার করতেই হয়, অর্থাৎ প্রয়োজন দেখা দেয়, তাহলে তুমি একবার করো তার বেশি নয়। পাথর সরানো মাকরূহ। কিন্তু যদি পাথরের কারণে সেজদা করতে অসুবিধা হয় যেমন, উচা নিচা বেশি হয়ে থাকার কারণে তার ওপর ফরয আদায় করা পর্যন্ত কপাল রাখা যাচ্ছে না, তখন একবার বা দুইবার পাথর দূর করবে। কারণ, কতবার করবে সে বিষয়ে দুটি বর্ণনা আছে কোন বর্ণনায় একবার আবার কোন বর্ণনায় দুইবার। তবে দুই বর্ণনার মধ্যে সর্বাধিক স্পষ্ট হলো একবার তার বেশি নয়। নিষেধ করার কারণ তাঁরই বাণী “কারণ, রহমত তার মুখোমুখি” অর্থাৎ, তার ওপর রহমত নাযিল হয় এবং তার দিকে রহমত অগ্রসর হয়। এটিই নিষেধের কারণ। সুতরাং কোন জ্ঞানী লোকের জন্য উচিত হবে না যে, এ নিকৃষ্ট কাজের মাধ্যমে এ মহান নি‘আমাতের শুকরিয়া আদায় করা ছেড়ে দেওয়া। এটি বলেছেন আল্লামা তীবী রহ। আর আল্লাম শাওকানী রহ. বলেন, এটিকে কারণ সাব্যস্ত করা দ্বারা প্রমাণিত হয়, পাথর সরানো নিষিদ্ধ হওয়ার হিকমত হলো যাতে তার অন্তর এমন কোন বিষয় নিয়ে ব্যস্ত না হয়, যা তাকে তার সামনে আগত রহমত থেকে অমনোযোগী করে; যার ফলে তা থেকে তার পাওনা ছুটে যায়।
হাকীম ইবন হিযাম রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফু‘ হিসেবে বর্ণিত, “মসজিদে হদ্দ (শরী‘আতের শাস্তি) কার্যকর করা যাবে না এবং তাতে কিসাস কার্যকর করা যাবে না।”
এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন।মহান সাহাবী হাকীম ইবন হিযাম রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বর্ণনা করেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে হদ্দ (শরী‘আতের শাস্তি) কার্যকর করতে নিষেধ করেছেন। অর্থাৎ মসজিদে কোন ধরনের হদ্দ কায়েম করা যাবে না। চাই তা আল্লাহর হকের সাথে সম্পৃক্ত হদ্দ হোক বা মানুষের হকের সাথে। কেননা এতে মসজিদের পবিত্রতা নষ্ট করে এক ধরনের অসম্মান করা হয়।এ ছাড়াও আঘাত বা পেশাব-পায়খানার কারণে তা অপবিত্র হতে পারে। অধিকন্তু মসজিদ সালাত ও আল্লাহর যিকিরের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে; হদ্দ কায়েম করার জন্য নয়। হাদীসটি মসজিদে হদ্দ কায়েম করা ও কিসাস নেওয়া হারাম হওয়ার দলিল। কেননা উসূলে ফিকাহের নিয়মানুযায়ী নিষেধাজ্ঞা মূলত হারাম সাব্যস্ত করার জন্য ব্যবহৃহ হয়। আর এখানে হাকীকী (প্রকৃত) অর্থ থেকে সরে যাওয়ার (অর্থাৎ হারাম না হওয়ার) কোন কারণ নেই।
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত, কোন আরব গোত্রের একটি কালো দাসী ছিল। তারা তাকে আযাদ করে দিল। সে তাদেরই সাথে থেকে গেল। সে বলেছে যে, তাদের একটি মেয়ে গলায় লাল চামড়ার ওপর মূল্যবান পাথর খচিত হার পরে বাইরে গেল। দাসী বলেছে, সে হারটা হয়তো নিজে রেখে দিয়েছিল অথবা পড়ে গিয়েছিল। তখন চিল তা পড়ে থাকা অবস্থায় গোশতের টুকরা মনে করে ছোঁ মেরে নিয়ে গেল। দাসী বলেছে: তারপর গোত্রের লোকেরা বেশ খোঁজাখুঁজি করতে লাগলো; কিন্তু তারা তা পেল না। তখন তারা আমার উপর এর দোষ চাপাল। সে বলেছে: তারা আমার উপর তল্লাশী শুরু করলো, এমন কি আমার লজ্জা-স্থানেও তল্লাশী চালাল। দাসীটি বলেছে: আল্লাহর কসম! আমি তাদের সাথে সে অবস্থায় দাঁড়ানো ছিলাম, এমন সময় চিলটি উড়ে যেতে যেতে হারটি ফেলে দিল। সে বলেছে তাদের সামনেই তা পড়লো। তখন আমি বললাম: তোমরা তো এর জন্যই আমার উপর দোষ চাপিয়ে ছিলে! তোমরা আমার উপর সন্দেহ করেছিলে; অথচ আমি এ ব্যাপারে সম্পূর্ণ নির্দোষ। এই তো সেই হার! সে বলেছে: তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে ইসলাম গ্রহণ করলো। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা বলেন: তার জন্য মসজিদে (নববীতে) একটি তাঁবু অথবা ছাপড়া করে দেওয়া হয়েছিল। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা বলেন (দাসীটি) আমার কাছে আসতো আর আমার সঙ্গে কথা-বার্তা বলতো। সে আমার কাছে যখনই বসত তখনই বলতো: “সেই হারের দিনটি আমার রবের আশ্চর্য ঘটনা বিশেষ। জেনে রাখুন সে ঘটনাটি আমাকে কুফরের শহর থেকে মুক্তি দিয়েছে।” আয়েশা বলেন, আমি থাকে বললাম: কি ব্যাপার, তুমি আমার কাছে বসলেই যে এ কথাটা বলে থাক? আয়েশা বলেন: সে তখন আমার কাছে উক্ত ঘটনা বর্ণনা করল।
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।হাদীস শরীফটিতে একজন দাসীর ইসলাম গ্রহণের কারণ বর্ণিত হয়েছে যাকে তার গোত্রের পক্ষ থেকে তাকে লাল চামড়ার ওপর মূল্যবান পাথর খচিত হার চুরির অপবাদ দেওয়া হয়েছিল। অথচ সেটি একটি চিল লাল রঙের হওয়ার কারণে গোশতের টুকরা মনে করে ছোঁ মেরে নিয়ে গিয়েছিল। গোত্রের লোকেরা দাসীটিকে তল্লাশী করতে লাগল। অতপর আল্লাহর কুদরতে সেসময় চিলটি উক্ত হারটি ফেলে দিলো। ফলে তারা তখন দাসীটিকে নির্দোষ জানতে পারল। অতপর সে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে ইসলাম গ্রহণ করলো। সে মসজিদে (নববীতে) একটি ছোট ঘরে বসবাস করতে লাগল। দাসীটি আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহার কাছে প্রায়ই হারের উক্ত ঘটনা বলত এবং নিম্নোক্ত কবিতাটি উক্ত ঘটনার সত্যতার ব্যাপারে আবৃতি করত। “সেই হারের দিনটি আমার রবের আশ্চর্য ঘটনা বিশেষ। জেনে রাখুন সে ঘটনাটি আমাকে কুফরের শহর থেকে মুক্তি দিয়েছে।” অর্থাৎ হার হারানো সেদিন যে আশ্চর্যজনক ঘটনা ঘটেছিল যা আল্লাহর ইচ্ছায় সংঘটিত হয়েছিল। তিনি আমাকে সেই ঘটনার পর কুফরের দেশ থেকে মুক্তি দিয়েছেন।
আবূ হুরাইরাহ্ রাদয়িাল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা বিকালের এক সfলাত দু’রাকাত আদায় করলেন। মুহাম্মাদ বলেন, আমার অধিক ধারণা আসরের সালাত। অতঃপর সালাম ফিরালেন। অতঃপর মাসজিদে অগ্রাভাগে রাখা এক টুকরা কাঠের উপর ভর দিয়ে দাঁড়ালেন এবং তার ওপর তার হাত রাখলেন। উপস্থিত লোকজনের মধ্যে আবূ বকর ও ‘উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুমা-ও ছিলেন। কিন্তু তাঁরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের-এর সঙ্গে কথা বলতে ভয় পেলেন। যাদের তাড়া ছিল তারা বের হয়ে পড়ল। তারা বলল, সালাত কি সংক্ষেপ করা হয়েছে? একজন লোককে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘যুল-ইয়াদাইন’ বলে ডাকতেন। সে বলল, আপনি কি ভুলে গেছেন, নাকি সালাত সংক্ষেপ করা হয়েছে? তিনি বললেন, আমি ভুলিনি এবং সালাত সংক্ষেপও করা হয়নি। সে বলল, অবশ্যই, আপনি ভুলে গিয়েছেন। তারপর তিনি দু্ই রাকা‘আত সালাত আদায় করলেন, সালাম ফিরালেন ও তাকবীর বললেন এবং স্বাভাবিকভাবে সাজদাহ’র মতো বা একটু দীর্ঘ সাজদাহ করলেন। অতঃপর তার মাথা তুললেন ও তাকবীর বললেন। অতঃপর তার মাথা রাখলেন ও তাকবীর বললেন এবং স্বাভাবিকভাবে সাজদাহ’র মত বা একটু দীর্ঘ সাজদাহ করলেন। অতঃপর তার মাথা তুললেন ও তাকবীর বললেন।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মুসল্লি যখন ভুলে যায় ও তার সালাত হ্রাস করে ফেলে তখন কি করবে হাদীসটি তাই বর্ণনা করছে। যেমন সে অবশিষ্ট সালাত আদায় করবে অতঃপর সালাম ফিরাবে অতঃপর ভুলের দু’টি সাজদাহ করবে, এটি যা হয়েছে তার প্রতিবিধান করে ফেলবে। আর আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহ বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন সাহাবীদের নিয়ে যোহর বা আসরের সালাত আদায় করলেন। যখন তিনি প্রথম দু’রাকাত পড়লেন সালাম ফিরিয়ে ফেললেন। যেহেতু আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন পরিপূর্ণ- তার আত্মা কখনো পূর্ণাঙ্গ আমল ছাড়া পরিতৃপ্ত হত না, তাই তিনি কোন দূর্বলতা বা বিঘ্নতার বিষয়টি অনুভব করলেন। তিনি তার কারণটি বুঝতে পারছিলেন না। ফলে তিনি মসজিদের সামনের দিকে রাখা একটি লাকড়ির ওপর হেলান দিয়ে ভারাক্রান্ত মনে দাড়ালেন এবং এক হাতের আঙুল অপর হাতের আঙুলের মধ্যে প্রবেশ করালেন। কারণ, তার মহান নফস অনুভব করছিল কিছু অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে যা পূর্ণ করা হয়নি। যাঁদের তাড়া ছিল তাঁরা মসজিদের দরজা দিয়ে বাইরে চলে গেলো এবং তারা বলাবলি করতেছিল নিশ্চয় কোন একটি ঘটনা ঘটেছে। আর তা হলো সালাত সংক্ষিপ্ত করণ। তারা যেন নবুওয়তের অবস্থানকে ভূল ভ্রান্তি থেকে অনেক বড় মনে করলেন। তাদের অন্তরে রাসূলের ভীতির কারণে তাদের কেউ এ ক্ষেত্রে তাকে সংশোধনি দিতে সাহস করল না। কারণ, বিশেষ করে উপস্থিত লোকজনের মধ্যে আবূ বকর এবং ‘উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুমা-ও ছিলেন। তবে সাহাবীদের মধ্যে এক ব্যক্তি ছিল, যাঁকে ‘যুল-ইয়াদাইন’ বলা হতো, তিনি এ নীরবতাকে ভাঙলেন, যেমন তিনি এ বলে রাসূলুল্লাহকে জিজ্ঞাসা করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি ভুলে গেছেন, নাকি সালাত সংক্ষেপ করা হয়েছে? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ধারনার ওপর বললেন: ভুলিনি এবং সংক্ষেপও করা হয়নি। যখন যুল ইয়াদাইন জানতে পারল যে, সালাত সংক্ষিপ্ত করা হয়নি আর সে নিশ্চিত ছিল যে, তিনি দুই রাকা‘আত আদায় করছেন, অতএব সে নিশ্চিত জানলো তিনি ভুলে গেছেন, তাই সে বলল, বরং আপনি ভুলে গেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুল ইয়াদাইনের সংবাদটি নিশ্চিত হতে চাইলেন। তাই তার আশপাশের সাহাবীদের জিজ্ঞেস করলেন, যুল-ইয়াদাইনের কথা কি ঠিক, আমি নাকি কেবল দুই রাকা‘আত সালাত আদায় করছি? তাঁরা বললেন, হাঁ। অতঃপর তিনি এগিয়ে এলেন এবং সলাতের বাদপড়া অংশটুকু আদায় করলেন। তাশাহুদের পর সালাম ফিরালেন ও বসা অবস্থায় তাকবীর বললেন এবং সালাতের শুরুর ন্যায় স্বাভাবিক সাজদাহ’র মতো বা একটু দীর্ঘ সাজদাহ করলেন। অতঃপর সাজদাহ থেকে তার মাথা তুললেন ও তাকবীর বললেন। পরে পুনরায় তাকবীর বললেন এবং স্বাভাবিকভাবে সাজদাহ’র মত বা একটু দীর্ঘ সাজদাহ করলেন। অতঃপর তিনি মাথা তুললেন ও তাকবীর বললেন। অতঃপর তিনি সালাম ফিরালেন, কিন্তু তাশাহুদ পড়েননি।
‘আবদুল্লাহ— রাদয়িাল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সলাত আদায় করলেন। রাবী ইব্রাহীম বলেন, আমার জানা নেই, তিনি বেশী করেছেন অথবা কম করেছেন। সালাম ফিরানোর পর তাঁকে বলা হলো, হে আল্লাহ্র রসূল! সলাতের মধ্যে নতুন কিছু হয়েছে কি? তিনি বললেন, তা কী? তাঁরা বললেন, আপনি তো এরূপ এরূপ সলাত আদায় করলেন। তিনি তখন তাঁর দু’পা ঘুরিয়ে ক্বিবলাহমুখী হলেন। আর দু’টি সাজদাহ আদায় করলেন। অতঃপর সালাম ফিরালেন। পরে তিনি আমাদের দিকে ফিরে বললেন, যদি সলাত সম্পর্কে নতুন কিছু হতো, তবে অবশ্যই তোমাদের তা জানিয়ে দিতাম। কিন্তু আমি তো তোমাদের মত একজন মানুষ। তোমরা যেমন ভুল করে থাক, আমিও ভুলে যাই। আমি কোন সময় ভুলে গেলে তোমরা আমাকে স্মরণ করিয়ে দেবে। তোমাদের কেউ সালাত সম্বন্ধে সন্দেহে পতিত হলে সে যেন নিঃসন্দেহ হবার চেষ্টা করে এবং সে অনুযায়ী সালাত পূর্ণ করে। অতঃপর যেন সালাম ফিরিয়ে দু’টি সাজদাহ দেয়।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।হাদীস শরীফ বর্ণনা করে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের নিয়ে একবার সালাত আদায় করেন যাতে তিনি কম বা বেশ করেন। তখন সাহাবীগণ তাকে জিজ্ঞাসা করল, সালাতে কোন পরিবর্তন হয়েছে কি? তিনি তাদের সংবাদ দেন যে, যদি তাতে কোন পরিবর্তন হতো তিনি অবশ্যই তাদের জানাতেন। তারপর তিনি বলেন, তিনি আমাদের মতোই মানুষ সালাতে বেশি বা কম করাতে তিনিও ভুলে যান। তারপর তিনি যে ব্যক্তি ভুল করে সালাতে বেশি বা কম করার পর স্মরণ আসে তার বিধান আলোচনা করেন। প্রথমে রাকা‘আত সংখ্যার ব্যাপারে নিশ্চিত হবে। যদি কম হয়ে তা পূর্ণ করবে অথবা ভুলের জন্য দুটি সেজদা করবে। তারপর সালাম ফিরাবে।
সাওবান রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “প্রত্যেক ভুলের জন্য সালামের পর দুই সেজদা”।
এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন।এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সালাতে যে ধরণের ভুল সংঘটিত হোক চাই তা বৃদ্ধি করা বা কম করা বা সন্দেহ করার কারণে হোক তার ওপর সেজদা সাহু করা ওয়াজিব হয়ে যায়। যারা বলে সাজদা সাহু সালামের পরে হাদীসটি তাদের পক্ষে দলীল। এ অধ্যায়ে বিভিন্ন দলীলের মধ্যে সামঞ্জস্য হলো, দুই অবস্থায় সালামের পর সেজদা হয়: যদি কম করার কারণে সালাম ফিরায় এবং যদি সন্দেহের কারণ প্রবল ধারণার ওপর ভিত্তি করে। এ দুটি কারণ ছাড়া অন্য কারণে হলে সাজদা সাহু সালামের পূর্বে হবে।