





























Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
All
ইবন ‘আব্বাস রাদয়িাল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সূরাহ্ সা-দ এর সাজদাহ্ অত্যাবশ্যক সাজদাহ্সমূহের মধ্যে গণ্য নয়, তবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে আমি তা তিলাওয়াতের পর সাজদাহ্ করতে দেখেছি।
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।“সা-দ এর সাজদাহ্ অত্যাবশ্যক সাজদাহ্সমূহের মধ্যে গণ্য নয়” হাদীসটির অর্থ: অর্থাৎ সূরা সা-দ এর তিলাওয়াতের সেজদা সুন্নাত ওয়াজিব নয়। কারণ, তা করার গুরুত্বের ওপর কোন নির্দেশমুলক বর্ণনা বর্ণিত হয়নি। বরং সংবাদের বাক্য বর্ণিত। দাঊদ আলাইহিস সালাম তা করেছেন আল্লাহর জন্য তাওবা করার উদ্দেশ্যে। আর আল্লাহ তা‘আলা দাউদ আলাইহিস সালামকে ক্ষমা দ্বারা অনুগ্রহ করেছে তার শুকরিয়া আদায়ার্থে আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি সালাম সেজদা করেন। নাসা‘ঈর বর্ণনায় তা প্রমাণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “দাউদ আলাইহিস সালাম সেজদা করেছেন তাওবা স্বরূপ আর আমরা সেজদা করবো শুকরিয়া হিসেবে”।
আব্দুর রহমান ইবন ‘আউফ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হয়ে তাঁর সদকার বাগানের দিকে গেলেন এবং সেখানে প্রবেশ করে কিবলামুখী হয়ে সিজদা করলেন।সিজদা এতো দীর্ঘ করলেন যে, আমি ভাবলাম মহান আল্লাহ হয়ত তার রূহ কবয করে নিয়েছেন। অতঃপর আমি তাঁর কাছে গিয়ে বসলাম। তিনি মাথা উঠিয়ে বললেন, তুমি কে? আমি বললাম, আমি আব্দুর রহমান। তিনি বললেন, কী ব্যাপার? আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি এতো দীর্ঘ সিজদা দিয়েছেন যে, আমি ভাবলাম মহান আল্লাহ হয়ত আপনার রূহ কবয করে নিয়েছেন।তিনি বললেন, জিবরীল আলাইহিস সালাম আমার কাছে এসে সুসংবাদ দিয়েছেন, মহান আল্লাহ বলেছেন যে, যে ব্যক্তি আপনার প্রতি দরুদ পাঠ করবে আমি (আল্লাহ) তার প্রতি দরুদ (রহমত বর্ষণ) পাঠ করব। আর যে ব্যক্তি আপনার প্রতি সালাম পেশ করবে আমি (আল্লাহ) তার প্রতি সালাম (শান্তি ও নিরাপত্তা) পেশ করব। ফলে আমি মহান আল্লাহর শুকরিয়া জ্ঞাপন করে সিজদা দিয়েছিলাম।”
এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।উপরোক্ত হাদীস শরীফে নতুন নতুন নি‘আমত প্রাপ্তি, আনন্দদায়ক ও সুসংবাদ শ্রবণে শুকরিয়া জ্ঞাপন সিজদার প্রচলন বর্ণিত হয়েছে। যেমন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে যা ঘটেছিল, তিনি সালাতরত অবস্থায় ছিলেন, এমনসময় জিবরীল আলাইহিস সালাম তাঁর কাছে এসে সুসংবাদ দিয়েছেন যে, তাঁর উম্মতের মধ্যে যে ব্যক্তি তাঁর প্রতি দরুদ পাঠ করবে এবং যে ব্যক্তি তাঁর প্রতি সালাম পেশ করবে আল্লাহ তার প্রতি রহমত ও শান্তি বর্ষণ করবেন। সাধারণত শুকরিয়ার সিজদা দীর্ঘ করা সুন্নাত; কারণ নবী এতো দীর্ঘ সিজদা করেছেন যে সাহাবীগণ ভেবেছিলেন তিনি মারা গেছেন।
বারা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খালিদ ইবন ওয়ালিদকে ইয়ামনের দিকে প্রেরণ করেন যাতে তিনি তাদের ইসলামের দিকে দাওয়াত দেয়। কিন্তু তারা তাকে সাড়া দেয়নি। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলী ইবন আবী তালেব রাদিয়াল্লাহু আনহুকে পাঠালেন এবং তাকে নির্দেশ দিলেন যে, খালিদ এবং তার সাথে আরও যারা আছে তাদের ফেরত পাঠাতে। তবে যদি খালিদের সাথে থাকা কোন লোক আলীর সাথে থাকতে চায় সে যেন তার সাথে থাকে। বারা বলেন, আমি তাদের মধ্যে একজন ছিলাম সে তার সাথে রয়ে গেল। তারপর যখন আমরা সম্প্রদায়ের লোকদের কাছাকাছি গেলাম, তারা আমাদের কাছে বের হয়ে আসল। আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু আমাদের সালাত পড়ালেন এবং এক কাতার করে দাড়ালাম। তারপর তিনি আমাদের সামনে অগ্রসর হলেন। তারপর তাদেরকে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চিঠি পড়ে শুনালেন, ফলে হামদান গোত্রের সব লোক ইসলাম গ্রহণ করে ফেলল। আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট তাদের ইসলাম গ্রহণের সংবাদ জানিয়ে চিঠি লিখলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন চিঠিটি পড়লো সেজদায় লুটে পড়ল। তারপর তিনি তার মাথা তুললেন এবং বললেন, হামদান সম্প্রদায়ে ওপর শান্তি। হামদান সম্প্রদায়ে ওপর শান্তি।
এটি বাইহাকী বর্ণনা করেছেন।হাদীসটি বর্ণনা করে যে, যখনই এমন কোন সংবাদ আসে যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে খুশি করে, তখন তিনি আল্লাহর শুকরিয়া আদায়ের লক্ষ্যে সেজদায় পড়ে যান। এ ধরনের একটি ঘটনা যা আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাথে সংঘটিত হয়। খালেদ ইবন ওয়ালিদের হাতে ইসলাম গ্রহণ করতে অস্বীকার করার পর যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ইয়ামানের দিকে তার অধিবাসীদের ইসলামের দাওয়াত দেওয়ার জন্য পাঠান, তখন আলী তাদের ইসলামের দাওয়াত দিলে হামদান গোত্রের সবাই তার হাতে ইসলাম গ্রহণ করেন। তখন তিনি বিষয়টি জানিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে চিঠি লেখেন। তা পড়ে আল্লাহর শুকরিয়া স্বরূপ তিনি সেজদায় পড়ে যান।
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “মুয়াযযিন যখন ফজরের প্রথম আযান শেষ করত তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়াতেন এবং দু’রাকাত হালকা সালাত আদায় করতেন ফজরের সালাতের পূর্বে ফজর স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার পর। তারপর তিনি ডান কাত হয়ে শুয়ে পড়তেন। যতক্ষণ না একামত দেওয়ার জন্যে মুয়াযযিন তার নিকট আসতেন।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।উপরোক্ত হাদীস শরীফ বর্ণিত, মুয়াযযিন যখন ফজরের আযান দিতো তখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে দু’রাক‘আত সালাত আদায় করতেন। অতঃপর তিনি ডান কাত হয়ে শুয়ে পড়তেন, যতক্ষণ মুয়াযযিন পুনরায় ইক্বামতের জন্য না আসত।
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমাদের কেউ যখন ফজরের দু’ রাকআত সুন্নত পড়বে, তখন সে যেন তার ডান পার্শ্বে শুয়ে যায়।” মারওয়ান ইবন হাকাম তাকে বলল, আমাদের কারো মসজিদের দিকে গমন করা ডান পার্শ্বে শুয়ার জন্য যথেষ্ট হবে না। উবাউদুল্লাহ স্বীয় হাদীসে বলেন: তিনি বললেন, না, তিনি বলেন: বিষয়টি ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুর নিকট পৌঁছলে তিনি বলেন, আবূ হুরায়রাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু তার ওপর বাড়াবাড়ি করল। তখন ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বলা হলো, তিনি যা বলেন তার কোন কিছু কি আপনি অস্বকীর করেন। সে বলল, “না, তবে সে সাহস দেখিয়েছে আর আমরা ভীরুতা প্রদর্শন করেছি।” তিনি বলেন, বিষয়টি আবূ হুরায়রার নিকট পৌঁছলে তিনি বললেন, আমার কি অপরাধ যদি আমি স্মরণ রাখি এবং তারা ভুলে যায়। সুনানে আবূ দাউদ।
এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। - এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।হাদীস শরীফটি স্পষ্ট করে যে, একজন মানুষের জন্য ফজরের দুই রাকা‘আত আদায় করার পর সুন্নাত হলো ইকামাতের পূর্ব পর্যন্ত সে যেন তার ডান পার্শ্বে শুয়ে যায়। ডান কাতকে খাস করার কারণ হলো যাতে ঘুমের মধ্যে মগ্ন না হয়ে যায়। কারণ, অন্তর হলো বাম পাশে। তখন অন্তর ঝুলন্ত থাকে স্থীর থাকে না। যখন সে বাম পাশের ওপর ঘুমাবে তখন তা স্বাধীন ও আরামে থাকবে ফলে ঘুমে অচেতন হয়ে পড়বে।
আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: “ফরয সালাতসমূহের মতো বিতিরের সালাত আবশ্যক নয়। তবে সুন্নাত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা সুন্নাত করেছেন”।
এটি ইবন মাজাহ বর্ণনা করেছেন। - এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। - এটি নাসাঈ বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।“বিতির আত্যাবশ্যক নয়” এ হাদীসটির অর্থ হলো: বিতিরের সালাত ওয়াজিব নয়। অন্যান্য ফরয সালাতের মতো। অর্থাৎ পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের মতো। তবে সুন্নাত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা সুন্নাত করেছেন। এটি অত্যাবশ্যক নয় কথার তাকীদ। সুতরাং বিতিবেরর সালাত মুস্তাহাব ও নফল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা সুন্নাত করেছেন। অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের জন্য বিতির সুন্নাত করেছেন আমাদের ওপর ওয়াজিব করেননি। তাসহীলুল ইলমাম (২/৩৭১)
আবূ তামীম আল-জাইশানী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ‘আমর ইবন ‘আসকে বলতে শুনেছি, আমাকে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের একজন সাহাবী সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “নিশ্চয় মহান আল্লাহ তোমাদেরকে ইশা ও ফজরের সালাতের মধ্যবর্তী সময়ে একটি অতিরিক্ত সালাত দান করেছেন, আর তা হলো বিতর, বিতর।” আর বর্ণনাকারী সাহাবী হলেন আবূ বাসরাহ আল-গিফারী। আবূ তামীম বলেন, আমি ও আবূ যার বসা ছিলাম। তিনি বলেন, অতপর আবূ যার আমার হাত ধরলেন এবং আমরা আবূ বাসরাহর কাছে চললাম। তাকে আমরা তার বাড়ির দরজায় পেলাম যা ‘আমর ইবন ‘আস এর বাড়ির পাশে ছিলো। অতপর আবূ যার জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি কি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: “নিশ্চয় মহান আল্লাহ তোমাদেরকে ইশা ও ফজরের সালাতের মধ্যবর্তী সময়ে একটি অতিরিক্ত সালাত দান করেছেন, আর তা হলো বিতর, বিতর।” তিনি বললেন, হ্যাঁ। আবূ যার আবার জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কি এ হাদীসটি শুনেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কি হাদীসটি শুনেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ।
এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।হাদীসের অর্থ: “নিশ্চয় মহান আল্লাহ তোমাদেরকে একটি অতিরিক্ত সালাত দান করেছেন।” অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে একটি সালাত দান করেছেন যে সালাতটি তারা ইতোপূর্বে এ নিয়ম ও পদ্ধতিতে পড়েনি। আর তা হলো বিতর। এটি বান্দার উপর অনুগ্রহ হিসেবে আরোপিত হয়েছে। তিনি যেন বলেছেন, নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের উপর পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরয করেছেন যাতে তিনি তোমাদেরকে তার বিনিময়ে প্রতিদান ও সাওয়াব দিতে পারেন। তিনি শুধু এসব ফরয সালাত দান করেই তার নি‘আমত সীমাবদ্ধ করেন নি; বরং তিনি তোমাদের জন্য তাহাজ্জুদের সালাত ও বিতরের সালাত শরী‘আতে বিধিবদ্ধ করেছেন যাতে তিনি তোমাদেরকে ইহসানের উপর আরো ইহসান করতে পারেন। “সুতরাং তোমরা সে সালাত আদায় করো” এটি একটি (আমর) আদেশ। আর আমর তথা নির্দেশের নীতি হলো কাজটি ওয়াজিব হওয়া। কিন্তু এ হাদীসটি ও অন্যান্য হাদীসের বাহ্যিক অর্থ থেকে যদিও বিতরের সালাত ওয়াজিব সাব্যস্ত হয়; তবে অন্যান্য স্পষ্ট সহীহ দলিলের কারণে ওয়াজিব সাব্যস্ত হওয়া থেকে সরে আসা হয়েছে (অর্থাৎ নফল সাব্যস্ত হয়েছে)। অতপর বিতরের সালাতের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। “ইশার সালাত ও ফজরের সালাতের মধ্যবর্তী সময়” অর্থাৎ বিতর সালাতের ওয়াক্ত শুরু হয় ইশা সালাত আদায় শেষে। যখন ইশার সালাত আদায় করবে তখন বিতরের সালাতের সময় প্রবেশ করবে। যদিও মাগরিবের সালাতের সাথে ইশার সালাতকে (বৈধ কারণবশত) ওয়াক্তের পূর্বেই একত্রিত আদায় করে। আর বিতরের শেষ সময় হলো ফজর উদিত হওয়া পর্যন্ত। ফজর উদিত হলে বিতরের সময় শেষ হয়ে যায়। যদি সে উক্ত সময়ের মধ্যে (বিতর) আদায় করে তাহলে সে তা পূর্ণই করল। অতপর ‘আমর ইবন ‘আস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, “নিশ্চয় বর্ণনাকারী হলেন আবূ বাসরাহ।” অর্থাৎ যিনি ‘আমর ইবন ‘আসকে সংবাদ দিয়েছেন তিনি হলেন আবূ বাসরাহ আল-গিফারী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু। “আবূ তামীম বলেন, আমি ও আবূ যার বসা ছিলাম। তিনি বলেন, অতপর আবূ যার আমার হাত ধরলেন এবং আমরা আবূ বাসরাহর কাছে চললাম। তাকে আমরা তার বাড়ির দরজায় পেলাম যা ‘আমর ইবন ‘আস এর বাড়ির পাশে ছিলো।” অর্থাৎ আমর ইবনুল আস তাদেরকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস পৌঁছার পরে তিনি এর বিশুদ্ধতার ব্যাপারে আরো নিশ্চিত হতে চাইলেন। ফলে তারা উভয়ে আবূ বাসরাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর কাছে গেলেন। তারা আবূ বাসরাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর কাছে পৌঁছলে আবূ যার তাকে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত উক্ত হাদীসের বিশুদ্ধতা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। তিনি বললেন, হ্যাঁ। আবূ যার তাকে আবার জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কি হাদীসটি শুনেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তিনি পুনরায় তাকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কি হাদীসটি শুনেছেন? তিনি পুনরায় বললেন, হ্যাঁ। তিনি তাদেরকে নিশ্চয়তা দিয়ে বললেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের থেকে বর্ণিত হাদীসখানা “নিশ্চয় মহান আল্লাহ তোমাদেরকে একটি অতিরিক্ত সালাত দান করেছেন” সহীহ।
আবূ সাঈদ আল-খুদরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি সকাল অতিবাহিত করল অথচ বিতির আদায় করেনি তার কোন বিতির নাই।”
ইবন হিব্বান এটি বর্ণনা করেছেন। - ইবন খুযাইমাহ এটি বর্ণনা করেছেন। - এটি হাকিম বর্ণনা করেছেন।হাদীস শরীফটি বর্ণনা করে যে, দ্বিতীয় ফজর উদয়ের দ্বারা বিতিরের সালাতের ওয়াক্ত শেষ হয়ে যায়। এটি ইচ্ছাধীন সময়। আর বাধ্যতামুলক হলো, যেমন একজন দেরিতে ঘুম থেকে উঠেছে তার জন্য ফজরের ওয়াক্ত (অর্থাৎ বিতির সালাত) ফজরের সালাত পর্যন্ত দীর্ঘ হবে। সাহাবীদের একটি জামা‘আত থেকে বিষয়টি বর্ণিত হওয়ার কারণে।
আবূ জুহাইম ইবনে হারেস ইবনে সাস্মাহ আল-আনসারী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে মারফু হিসেবে বর্ণিত, “যদি সালাত আদায়কারীর সামনে দিয়ে অতিক্রমকারী জানত যে, তা তার জন্য কত পাপ, তাহলে সে সালাত আদায়কারীর সামনে দিয়ে অতিক্রম করার চেয়ে চল্লিশ (দিন/মাস/বছর) দাঁড়িয়ে থাকা উত্তম মনে করত।” আবু নাদর বলেন, আমি জানি না যে, তিনি চল্লিশ দিন, নাকি চল্লিশ মাস, নাকি চল্লিশ বছর বললেন।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।স্বীয় রবের সামনে দাঁড়ানো একজন সালাত আদায়কারী রবের সাথে কথোপকথন করে ও তাকে ডাকে। তাই যখন কোন অতিক্রমকারী তার সামনে দিয়ে অতিক্রম করে সে তার কথোপকথনে বাধা প্রদান করে এবং তার ইবাদতে বিঘ্ন ঘটায়। এ কারণেই যে ব্যক্তি অতিক্রম করে মুসল্লীর সালাতে বিঘ্ন ঘটানোর কারণ হলো তার গুনাহ খুবই মারাত্মক। তাই শরী‘আত প্রণেতা সংবাদ দেন যে, অতিক্রমকারী যদি জানত তার ওপর কি গুনাহ বর্তায়, তাহলে সে মুসল্লীর সামনে দিয়ে অতিক্রম করার পরিবর্তে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত নিজ স্থানে দাড়িয়ে থাকাকে প্রাধান্য দিত। যাতে সে গুনাহ থেকে বাঁচতে ও দূরে থাকতে পারে।