





























Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
All
আবূ সা‘ঈদ আল-খুদরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফূ হিসেবে বর্ণিত: “তোমাদের কেউ যখন কোনো বস্তুর দিকে ফিরে সালাত আদায় করে যা তাকে মানুষকে থেকে আড়াল করে, আর কেউ তার সামনে দিয়ে যেতে চায়, তাহলে সে তাকে বাধা দিবে, সে যদি না মানে, তবে সে ব্যক্তি (মুসল্লী) তার সাথে লড়াই করে, কেননা সে শয়তান।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।যাবতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে শরী‘আত আমাদের আত্মরক্ষা ও সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছে। দীন ও দুনিয়ার সবচেয়ে অধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সালাত। এ জন্যই প্রজ্ঞাবান শরী‘আত প্রণেতা আমাদেরকে সালাতের প্রতি যত্নবান হতে এবং যখন সালাত আরম্ভ করি মানুষ থেকে আড়াল হওয়ার জন্য সুতরা প্রতিস্থাপন করার নির্দেশ দেন। যাতে তার সামনে দিয়ে অতিক্রম করা দ্বারা তার সালাতে—তথা যখন সে তার রবের সাথে মুনাজাত করতে দণ্ডায়মান হয়—কোন বিঘ্ন না ঘটে। যখন কোন ব্যক্তি তার সামনে দিয়ে অতিক্রম করতে চায় তখন প্রথমে তাকে হালকাভাবে বাঁধা দেবে যদি সহজ ও হালকাভাবে বাঁধা সে না মানে তখন বুঝতে হবে সে নিজেই তার সম্মানহানি করল এবং সীমালঙ্গনকারী হলো। তখন তার দুশমনকে থামানোর জন্য একমাত্র উপায় হলো তাকে প্রতিহত করতে হাত দ্বারা যুদ্ধ করা। কারণ, তার এটি শয়তানের অপকর্মসমূহের একটি অপকর্ম, যারা মানুষের ইবাদত নষ্ট করে এবং তাদের সালাতে বিঘ্ন ঘটায়।
আবূ মাস‘ঊদ উকবা ইবন আমর আল-আনসারী আল-বাদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে মারফূ হিসেবে বর্ণিত: “নিশ্চয় চন্দ্র ও সুর্য্য আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে দু’টি নিদর্শন। এ দুটি দ্বারা আল্লাহ তার বান্দাদের সতর্ক করেন। কোন লোকের মৃত্যুর কারণে কখনো সূর্যগ্রহণ বা চন্দ্রগ্রহণ হয় না। তাই তোমরা যখন সূর্যগ্রহণ বা চন্দ্রগ্রহণ হতে দেখবে, তখন সালাত আদায় করবে। আর দো‘আ করতে থাকবে যতক্ষণ না দূর হয়ে যায়”।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেন যে, সূর্য্য ও চন্দ্র আল্লাহর নির্দশনসমূহের দুটি নির্দশন যা তার কুদরত ও হিকমতের ওপর সু-স্পষ্ট প্রমাণ। এ দুটির স্বাভাবিক প্রদ্ধতির পরিবর্তন কোন মহা মানবের হায়াত বা মৃত্যুর কারণে হয় না, যেমনটি জাহিলিয়্যাতের যুগের মানুষরা ধারণা করত। সুতরাং যমীনে সংঘটিত কোন ঘটনা তাদের মধ্যে কোন প্রভাব ফেলে না। তবে এটি হয়ে থাকে বান্দার গুনাহের কারণে তাদের ভয় দেখানো ও শাস্তি হিসেবে যাতে তারা তাওবা করে এবং আল্লাহর দিকে ফিরে আসে। তাই তিনি তাদের নির্দেশনা দেন যে, তারা যেন সালাত ও দোয়ায় লিপ্ত হয়। যাতে তাদের থেকে তা দূর হয় এবং পরিস্কার হয়। আর এ ধরনের ঘটনার মধ্যে আল্লাহর রয়েছে রহস্য ও পরিকল্পনা।
‘উকবা ইবন ‘আমের রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, “অচিরেই অনেক ভূখণ্ড তোমাদের পদানত হবে। আর শত্রুদের মোকাবেলায় আল্লাহই তোমাদের জন্যে যথেষ্ট হবেন। তোমাদের কেউ যেন তীর নিক্ষেপের খেলার অভ্যাস ত্যাগ না করে।”
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ হাদীসে তাঁর সাহাবীগণকে সংবাদ দিয়েছেন যে, অচিরেই তারা যুদ্ধ ব্যতীত অনেক দেশ জয় করবে। তাই বলে তাদের তীর নিক্ষেপ শিক্ষা করা ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়। কেননা তীর নিক্ষেপ খেলা মুসলিমদের জন্য একটি উত্তম বিনোদন যদি না তা দ্বারা কোনো ওয়াজিব হক নষ্ট না করা হয়। কেননা তীর নিক্ষেপ আল্লাহর পথে জিহাদের জন্য সহায়ক। সুতরাং তীর নিক্ষেপ শিক্ষায় রয়েছে একটি সর্বোত্তম লক্ষ্য ও সুমহান উদ্দেশ্য। হাদীসে তীর নিক্ষেপকে খেলা বলার কারণ হলো, মানুষের মন তীর নিক্ষেপ খেলার প্রতি আকৃষ্ট। তাই একে খেলা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। নতুবা তীর নিক্ষেপ শিক্ষা করার মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর পথে জিহাদের প্রস্তুতি গ্রহণ করা; তা দ্বারা শুধু খেলাধুলা করা উদ্দেশ্যে নয়।
আবূ উমামাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে মারফু‘ হিসেবে বর্ণিত, এক লোক বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে ভ্রমণ করার অনুমতি দিন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “নিশ্চয় আমার উম্মতের জন্য ভ্রমণ হচ্ছে মহান আল্লাহর পথে জিহাদ।”
এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন।এ হাদীসে বর্ণনা করা হয়েছে যে, সমস্ত ইবাদাত তাওকিফী তথা শরীয়ত যেভাবে পালন করতে আদেশ দিয়েছে সেভাবে পালন করা। সুতরাং পবিত্র শরী‘আত যে কাজ যেভাবে পালন করার আদেশ দিয়েছে সেভাবেই পালন করেত হবে। এ কারণেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ হাদীসে ইবাদাতের উদ্দেশ্যে সংসার ত্যাগ করে জমিনে ভ্রমণ করার ব্যাপারে প্রশ্নকারীর প্রশ্নের উত্তরে বলেছেন যে, এটি নাসারাদের কাজ। ইসলামের প্রচার ও প্রসারের জন্যই দেশ ভ্রমণ করা চাই। আর মুসলিমদের জন্য দেশভ্রমণ হবে আল্লাহর দ্বীনকে সমুন্নত করতে আল্লাহর পথে জিহাদ করার জন্য।
আবূ মাস‘ঊদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেক মারফু‘ সূত্রে বর্ণিত, “এক ব্যক্তি নাকে রশি যুক্ত একটি উষ্ট্রী আল্লাহর রাস্তায় দান করল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমার জন্য রয়েছে এর বিনিময়ে কিয়ামতের দিন নাকে রশিযুক্ত সাতশতটি উষ্ট্রী।”
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।এ হাদীসে আল্লাহর রাস্তায় ব্যয়ের ব্যাপারে উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে, বিশেষ করে যেসব জিনিস দিয়ে জিহাদে সাহায্য করা যায়, যেমন ঘোড়া, উট ইত্যাদি। আল্লাহ এতে সাওয়াব বহুগুণ বাড়িয়ে দিবেন। কারণ ভালো কাজের সাওয়াব সাতশত গুণ পর্যন্ত হয়ে থাকে।
‘আয়িশাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকবীর কিরাত ও আলহামদু লিল্লাহ রাব্বুল আলামীন দ্বারা সালাত আরম্ভ করতেন। আর তিনি যখন রুকূ করতেন তখন তিনি মাথা ঝুকাতেন না এবং খাড়া করে রাখতেন না তবে দুইয়ের মাঝামাঝি থাকতেন। আর রুকূ থেকে মাথা তুলে সোজা হয়ে না দাঁড়ানো পর্যন্ত সাজদায় যেতেন না। আর যখন তিনি সেজদাহ থেকে মাথা উঠানেতন তিনি তখন সোজা হয়ে না বসা পর্যন্ত দ্বিতীয় সেজদায় যেতেন না। আর তিনি প্রতি দুই রাকা‘আতে আত-তাহিয়্যাতু বলতেন। আর তিনি তাঁর বাম পা বিছিয়ে এবং ডান পা খাড়া করে বসতেন। আর তিনি শয়তানের বসা (দুই পা খাড়া করে নিতম্বের ওপর বসা) থেকে নিষেধ করতেন। আর দুই বাহুকে নেকড়ের মতো বিছিয়ে বসতে নিষেধ করতেন। আর তিনি সালাত সালামের মাধ্যমে শেষ করতেন।
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।সুন্নাতের প্রচার ও ইলম পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা এ গুরুত্বপূর্ণ হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সালাতের পদ্ধতি বর্ণনা করেন। তিনি তাকবীরে তাহরীমার দ্বারা সালাত শুরু করত। ফলে তিনি বলতেন, আল্লাহু আকবর। আর সূরা ফাতিহা— যার শুরু হলো আলহামদু লিল্লাহী রাব্বিল আলামীন—দ্বারা কিরাত শুরু করতেন। দাঁড়ানোর পর যখন রুকূ করতেন তখন তিনি মাথা উঁচাও করতেন না এবং নীচাও করতেন না বরং মাথাকে সোজা ও বরাবর রাখতেন। আর যখন সেজদার পূর্বে যখন রুকূ থেকে দাঁড়াতেন সোজা হয়ে দাঁড়াতেন। আর যখন সেজদা থেকে মাথা উঠাইতেন সোজা হয়ে না বসা পর্যন্ত পরবর্তী সেজদা করতেন না। আর তিনি প্রতি দুই রাকা‘আত পর যখন বসতেন তখন বলতেন, আত-তাহিয়্যাতু লিল্লাহি ওয়াস সালাওয়াতু। যখন বসতেন তখন বাম পা বিছিয়ে তার ওপর বসতেন এবং ডান পা খাড়া করে দিতেন। মুসল্লীকে সালাতে শয়তানের মতো বসা থেকে নিষেধ করতেন। আর তা হলো দুই পা যমীনে বিছিয়ে দেওয়া দুই পা যমীনের জন্য খোলা এবং সে স্বীয় নিতম্বের ওপর বসবে অথবা দুই পা খাড়া করে রাখবে অতঃপর নিতম্ব-দ্বয় দুই পায়ের মাঝে যমীনের ওপর রাখবে। অনুরূপভাবে তিনি সেজদায় দুই বাহুকে নেকড়ের মতো বিছিয়ে রাখতে নিষেধ করেন। যেমননিভাবে সালাত আল্লাহর তা‘জীম ও বড়ত্ব দ্বারা শুরু করেন এমনভাবে উপস্থিত ফিরিশতা এবং মুসল্লী অতপর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তার সমস্ত বান্দাদের ওপর সালাম দেওয়ার দ্বারা শেষ করেন। মুসল্লীদের ;জন্য উচিত হলো তারা তাদের দো‘আয় এ ধরনের ব্যাপকতা রক্ষা করা।
আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি সাবিত (আল-বুনানী) রাহিমাহুল্লাহকে বললেন, আমি কি তোমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা দিয়ে ঝাড়ফুঁক করেছিলেন তা দিয়ে ঝাড়ফুঁক করে দিবো না? তিনি বললেন, অবশ্যই। তখন আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু পড়লেন, “হে আল্লাহ! আপনি মানুষের রব, ব্যাধি নিবারণকারী, সুস্থতা দান করুন, আপনিই সুস্থতা দানকারী। আপনি ব্যতীত আর কেউ সুস্থতা দানকারী নেই। এমন সুস্থতা (চাই), যা আর কোনো রোগ অবশিষ্ট রাখে না।”
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু সাবিত আল-বুনানী রাহিমাহুল্লাহকে ডেকে বললেন, আমি কি তোমাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা দিয়ে ঝাড়ফুঁক করেছিলেন তা দিয়ে ঝাড়ফুঁক করে দিবো না? তিনি রোগীর জন্য তাঁর ররেব কাছে দো‘আ করতেন যাতে তার রোগ সেরে যায়, তার দুঃখ-কষ্ট দূরীভুত হয় এবং তাকে এমন সুস্থতা দান করেন যার পরে আর কোনো রোগ অবশিষ্ট না থাকে। আলিমগণ তিনটি শর্ত সাপেক্ষে ঝাড়ফুঁক করা জায়েয বলে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। সেগুলো হলো: ১- ঝাড়ফুঁক হতে হবে আল্লাহর কালাম দ্বারা বা তাঁর নামসমূহ বা তাঁর সিফাতসমূহ দ্বারা। ২- ঝাড়ফুঁকের ভাষা হতে হবে আরবী ভাষায়। অথবা এমন ভাষায় যার অর্থ ভাষায় বুঝা যায়। তবে মুস্তাহাব হলো ঝাড়ফুঁকের শব্দাবলী হাদীসে বর্ণিত শব্দাবলী হওয়া। ৩- ব্যক্তির দৃঢ় বিশ্বাস থাকা যে, ঝাড়ফুঁক নিজে নিজেই কোনো উপকার করতে পারে না; বরং আল্লাহ তা‘আলার নির্ধারণেই কেবল আরোগ্য লাভ হয়।
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে মারফূ হিসেবে বর্ণিত: “তোমাদের কেউ যেন এক কাপড়ে সালাত আদায় না করে যে অবস্থায় তার গর্দানের ওপর কোন কিছুই থাকে না”।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।একজন মুসল্লী সর্বাধিক সুন্দর অবস্থায় থাকা জরুরী। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, (অর্থ) “হে আদম সন্তান তোমরা প্রত্যেক সালাতের সময় তোমাদের সৌন্দর্যকে অবলম্বন কর”। কারণ, বাদশার মুখোমুখি হওয়া এবং সম্মানি ও নেতৃস্থানীয় ব্যতিবর্গের সাথে সাক্ষাতের সময় মানুষ চায় খুব পরিপাটি এবং সুন্দর অবস্থায় থাকতে। তাহলে যিনি বাদশার বাদশ এবং সব মুনীবের মুনীব তার সামনে কিরূপে হাজির হওয়া দরকার? এ কারণেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উভয় গাড় বা একটি ঢাকার মতো কাপড় পাওয়া যাওয়া সত্বেও তা খুলে রেখে এক কাপড়ে যাতে সালাত আদায় না করে তার প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন। এমন অবস্থায় সালাত আদায় করতে নিষেধ করার কারণ সালাতে সে আল্লাহর সাথে কথোপকথন করার জন্যে তার সামনে দন্ডায়মান হয়।
মালিক ইবন হুয়াইরিস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত: “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাকবীর বলতেন তার দুই হাত কান বরাবর উঠাতেন, যখন রুকূ করতেন তখন দুই হাত কান বরাবর উঠাতেন এবং যখন তিনি রুকূ থেকে মাথা উঠাতেন তখন ‘সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ’ বলে একই ধরনের আমল করতেন”।
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।মালিক ইবন হুয়াইরিস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু সংবাদ দেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম “যখন তাকবীর বলতেন তার দুই হাত কান বরাবর উঠাতেন”। অর্থাৎ, যখন তাকবীরে তাহরীমা বলত তখন দুই হাত কান বরাবর উঠাতো। অপর বর্ণনায় বর্ণিত দুই হাত দুই কানের লতী বরাবর উঠাতেন। ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদীসে বর্ণিত তিনি দুই হাত কাঁধ বরাবর উঠাতেন। অর্থাৎ কাঁধের পাশাপাশি ও সমান করতেন। এ হলো তিনটি বর্ণনা। এক: দুই হাত কান বরাবর উঠাতেন। দুই: দুই হাত কানের লতি বরাবর উঠাতেন। তিন: দুই হাত দুই কাঁধ বরাবর উঠাতেন। একজন মুসল্লী এ তিনটির যে কোন একটির ওপর আমল করতে পারে। অথবা দুই হাত কাঁধ বরাবর এমনভাবে উঠাবে যাতে আঙ্গুলের মাথা কানের উপরিভাগের বরাবর এবং বৃদ্ধা আঙ্গুল লতী বরাবর এবং কব্জিদ্বয় কাঁধ বরাবর। আর তার বাণী: “যখন তাকবীর বলে দুই হাত উঠাবে।” অর্থাৎ, তাকবীরের সাথে দুই হাত উঠাবে। আর মুসলিমের অপর বর্র্ণনায় বর্ণিত: হাত উঠাবে অতঃপর তাকবীর বলবে। অর্থাৎ, পরে। অপর বর্ণনায় বর্ণিত, তাকবীর বলবে অতঃপর দুই হাত উঠাবে। তাকবীরে তাহরীমার সময় হাত উঠানোর এ হলো তিনটি প্রদ্ধতি। সুতরাং এ সুন্নাতটি বিভিন্ন পদ্ধতিতে বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং সুন্নাতের অনুসরনের লক্ষে রাসূলুল্লাহ থেকে বর্ণিত সব পদ্ধতির ওপর আমল করবে। আর যখন রুকূ করতেন তখন দুই হাত কান বরাবর উঠাতেন।” অর্থাৎ যখন রুকূ করা আরম্ভ করে তখন দুই হাত কান বরাবর উঠাবে। এটি হলো দ্বিতীয় স্থান যেখানে হাত উঠানো মুস্তাহাব। আর যখন তিনি রুকূ থেকে মাথা উঠাতেন তখন سَمع الله لِمَن حَمِده বলেন। অর্থাৎ যখন রুকূ থেকে উঠা আরম্ভ করেন তখন বলেন سَمع الله لِمَن حَمِده এ তাসমী‘ সালাতের ওয়াজিবসমূহ থেকে। “একই ধরনের আমল করতেন।” তাকবীরের সময় যেমনিভাবে তিনি কান বরাবর হাত উঠাতেন রুকূ থেকে উঠার সময়ও তার মতো করতেন। এটি হলো সালাতের তৃতীয় স্থান যেখান হাত উঠানো মুস্তাহাব। সুতরাং এ তিনটি স্থানে সালাতের মধ্যে হাত উঠানো মুস্তাহাব। আর চতুর্থ স্থান হলো তিন বা চার রাকা‘আত বিশিষ্ট সালাতে প্রথম তাশাহুদ থেকে উঠার সময়।