





























Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
All
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যখন কাউকে মসজিদে বেচা-কেনা করতে দেখবে তখন বলবে, আল্লাহ তোমার এ ব্যবসা লাভজনক না করুন। আর কাউকে যখন দেখবে সে মসজিদে কোন জিনিস হারানোর ঘোষণা দিচ্ছে তখন বলবে, আল্লাহ তোমার জিনিসটি ফেরত না দিন।”
এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যখন কাউকে মসজিদে বেচা-কেনা করতে দেখবে” এখানে মাফ‘ঊলকে ব্যাপকতা বুঝানোর জন্য লোপ করা হয়েছে। সুতরাং যে কোন ধরণের বেচা ও কেনাকে অন্তর্ভুক্ত কবে। সুতরাং উপরোক্ত অবস্থা যার হবে তার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দিকনির্দেশনা দিয়েছেন যে, তাকে ধমক দিকে, সে ক্রেতা হোক বা বিক্রেতা তাকে মুখের ভাষায় স্পষ্ট বলবে, “আল্লাহ তোমার এ ব্যবসা লাভজনক না করুন।” এটি মূলত তার বিরুদ্ধে বদ্দো‘আ করা। অর্থাৎ আল্লাহ তোমার ব্যবসাকে লাভজনক ও উপকারী না করুক। এ দিকেই ইঙ্গিত বহন করে আল্লাহর বাণী, “তাদের ব্যবসা লাভজনক হয় নি।” [সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৬] ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়কে যদি একত্রে বলা হয় ‘লা আরবাহাল্লাহু তিজারাতাকুম’ অর্থাৎ আল্লাহ তোমাদের দু’জনের ব্যবসা লাভজনক না করুক- তবে তা বলাও জায়েয হবে। কেননা এতে উদ্দেশ্য সাধিত হয়ে যায়। মসজিদে বেচাকেনারত ব্যক্তিকে এভাবে ধমক দেওয়ার কারণ হলো, মসজিদ হলো আখিরাতের বাজার। সুতরাং যে ব্যক্তি একে উল্টো দিকে ধাবিত করে দুনিয়ার বাজার বানাবে তাহলে বুঝা যাবে যে, সে নিজের ক্ষতি ও পরকালে বঞ্চিত হওয়া নিজেই ডেকে নিয়ে আসছে। সুতরাং সে লক্ষ্য-উদ্দেশ্য পরিপন্থী কাজ করায় তাকে শাস্তি ও ভীতি প্রদর্শন করতে এবং এ ধরণের কাজ থেকে বিরত থাকতে তাকে এভাবে ধমক দেওয়া হয়েছে। সুতরাং এ ধরণের কাজ মসজিদে করা অত্যন্ত অপছন্দনীয়।
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত, আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু মিনার দিবসগুলোতে তার নিকট এলেন যখন দু’টি মেয়ে দফ বাজাচ্ছিল, আর তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার চাদর আবৃত অবস্থায় ছিলেন। আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু মেয়ে দুটিকে ধমক দিলেন। তারপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুখমণ্ডল থেকে কাপড় সরিয়ে নিয়ে বললেন, “হে আবূ বকর! ওদের বাঁধা দিও না। কেননা আজ ঈদের দিন।” আর সে দিনগুলো ছিল মিনার দিন। আয়েশা বলেন, হাবশীরা যখন মসজিদে (এর প্রাঙ্গনে) খেলাধুলা করছিল তখন আমি তাদের খেলা দেখছিলাম এবং আমি দেখছি, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে আড়াল করে রেখেছেন। উমর হাবশীদের ধমক দিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “ওদের ধমক দিও না। হে বণু আরফিদা! তোমরা যা করছিলে তা নিশ্চিতে করো।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।এ হাদীসে ইসলামী শরী‘আতের সহনীয়তা, উদারতা এবং তার বিধান যে অধিকাংশ কট্টর ও উগ্রপন্থী, যারা শরী‘আতকে কঠোর, অনমনীয় ও রুক্ষ্ণভাবে দেখে, তাদের বিরোধিতার বর্ণনা করা হয়েছে। হাদীসটিতে দফ বাজানো ও ঈদের দিনে আনন্দ করার বৈধতা আলোচনা করা হয়েছে। ঈদের দিনে দু’টি মেয়ে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে গান করলে যিনি তা বন্ধ করতে বলেছিলেন তাকে তিনি বাঁধা দেন। এমনিভাবে তরবারী ইত্যাদির দ্বারা খেলা করাও জায়েয। হাবশীগণ স্বভাবগতভাবেই খেলাধুলা ও আমোদ-প্রমোদ করতে পছন্দ করত। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে তাদেরকে এ কাজ করতে অনুমতি দিয়েছিলেন শরী‘আতের গুরুত্বপূর্ণ হিকমতের দিকে লক্ষ্য রেখে, যা হাদীসের শব্দাবলীর প্রতি লক্ষ্য করলে দেখা যায়। তাহলো: ১. যেসব লোক এখনো ইসলামকে কঠোর ও সহিংস ভেবে এখনও ইসলামে প্রবেশ করে নি তাদেরকে এ কথা জানিয়ে দেওয়া যে, ইসলাম ধর্ম উদার, প্রশন্ত ও সহজ-সরল ধর্ম। বিশেষ করে সেসব দলের মধ্যে ছিলো ইয়াহুদী ধর্ম যারা নিজেরা ধর্ম থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল আর অপরকেও তা থেকে নিষেধ করত। এ কারণেই কিছু হাদীসের শব্দাবলী এমন ছিলো যে, উমার তাদেরকে বাঁধা দিয়েছিলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “ওদের ধমক দিও না। তাদেরকে খেলাধুলা করতে দাও। যাতে ইয়াহুদীরা বুঝতে পারে যে, ইসলাম ধর্মে রয়েছে প্রশস্ততা। আর আমি প্রেরিত হয়েছি মহানুভব ও সরলতা নিয়ে।” ২. তাদের খেলাধুলা ছিলো ঈদের দিনে। আর ঈদ মানে আনন্দ, খুশি ও বৈধ কাজ করার ব্যাপারে প্রশস্ততার দিন। ৩. পুরুষদের খেলাধুলায় রয়েছে তাদের শক্তিশালী, উদ্দীপ্ত ও বীরত্বের বহি:প্রকাশ।
আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: “মানুষ মসজিদসমূহ নিয়ে অহংকার না করা পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না”।
এটি আবূ দাঊদ, নাসাঈ ও ইবন মাজাহ বর্ণনা করেছেন।নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলছেন: কিয়ামত নিকটবর্তী এবং দুনিয়ার শেষ হওয়ার লক্ষণগুলির মধ্যে একটি হল লোকেরা তাদের মসজিদের সাজসজ্জা নিয়ে গর্ব করবে, অথবা আল্লাহর যিকিরের জন্য নির্মিত মসজিদের অভ্যন্তরে তাদের পার্থিব বিষয় নিয়ে গর্ব করবে।
রিফা‘আহ ইবন রাফে‘ আয-যুরাকী থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগনের একজন ছিলেন। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি আসল তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে বসা ছিল। সে তার কাছাকাছি স্থানে সালাত আদায় করল। তারপর সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে তাঁকে সালাম দিলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, তুমি তোমার সালাত আবার পড়ো। কেননা তুমি সলাত পড়োনি। তিনি বলেন, তারপর সে ফিরে গেল এবং আগের মতো সালাত আদায় করলো। তারপর আবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট ফিরে এলো। তিনি তাকে বললেন, তুমি তোমার সালাত আবার পড়ো। কেননা তুমি সলাত পড়োনি। সে বললো, হে আল্লাহ্র রসূল! আমাকে শিখিয়ে দিন কীভাবে সালাত আদায় করবো। তিনি বলেন, “তুমি যখন কিবলামুখী হবে তাকবীর (তাহরীমা) বলো, এরপর তুমি সূরা ফাতিহা পড়ো। তারপর কুরআনের যে অংশ তোমার কাছে সহজ সেখান থেকে পাঠ করো। তারপর যখন তুমি রুকূ করবে তখন তুমি তোমার দুই হাত দুই হাঁটুর উপর রাখবে এবং তোমার পিটকে লম্বা করে বিছিয়ে দেবে। তুমি তোমার রুকূর জন্য ধীরস্থিরতা অবলম্বন করো। অতঃপর যখন তুমি তোমার মাথা উঠাবে তখন তুমি তোমার মেরুদন্ড সোজা কর। যাতে হাঁড়গুলো নিজ নিজ জোড়ার স্থানে ফিরে যায়। তারপর যখন সেজদা করবে তখন তুমি তোমার সেজদার জন্য ধীরস্থিরতা অবলম্বন করো। তারপর যখন তুমি তোমার মাথা উঠাবে তখন তুমি তোমার বাম উরুর ওপর বসো। অতঃপর প্রতি রুকু ও সেজদায় তা করো। মুসনাদে আহমাদ। অপর বর্ণনায় বর্ণিত। তিনি বলেন, “আল্লাহর নির্দেশ মত পূর্ণাঙ্গরূপে উযূ না করলে তোমাদের কারো সালাত পরিপূর্ণ হবে না। সে তার মুখমণ্ডল ও দু’ হাত কনুইসহ ধৌত করবে, তার মাথা মাসহ করবে এবং দু’পা গোছা পর্যন্ত ধৌত করবে। তারপর তাকবীর বলবে এবং আল্লাহর প্রশংসা করবে। তারপর তাকে যতটুকু অনুমতি দেওয়া হয়েছে এবং তার জন্য যা সহজ হয় তা থেকে কুরআন পড়বে। তারপর তাকবীর বলবে এবং সেজদা করবে। তারপর চেহারাকে বা কপালকে যমীনে এমনভাবে রাখবে যাতে তার শরীরের জোড়াগুলো স্থীর হয়ে পড়ে এবং ঝুঁকে পড়ে। তারপর তাকবীর বলবে এবং সোজা হয়ে তার আসনে বসবে এবং মেরুদন্ডকে সোজা করবে। এভাবে চার রাকা‘আত সালাতের পদ্ধতি বর্ণনা করেন। এ সব কর্মসমূহ সম্পাদন করা ছাড়া তোমাদের কারো সালাত পূর্ণ হবে না।” সুনানে আবূ দাউদ। অপর বর্ণনায় বর্ণিত: “তারপর তুমি আল্লাহ যেভাবে আদেশ করেছেন সেভাবে ওযূ কর। তারপর তাশাহুদ পড়। ইকামত দাও এবং তাকবীর বলো। যদি তোমার কাছে কুরআন জানা থাকে তা থেকে পড়ো। অন্যথায় আল্লাহর প্রশংসা কর, তার তাকবীর বল এবং তাহলীল পড়ো।”
এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন।এ হাদীসটি স্বীয় সালাতে ভুলকারীর হাদীস হিসেবে প্রসিদ্ধ। আর এটি সালাতের রুকন, ওয়াজিব ও শর্তসমূহ সহ সালাতের প্রদ্ধতি বর্ণনাকারীদের জন্য উত্তম দলিল। কারণ, এ হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিক্ষাদানের উপযুক্ত স্থান স্পষ্ট করেছেন ও সালাতের আমলসমূহের ব্যাখ্যা দিয়েছেন, যে আমলগুলো সালাতে আদায় করা ওয়াজিব এবং এ হাদীসে যে কর্মগুলো করা ছেড়ে দেওয়া হয়েছে সেগুলো করা ওয়াজিব ধরা হবে না। হাদীসটির সার সংক্ষেপ হলো: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে প্রবেশ করলেন, তখন খাল্লাদ ইবন রাফে‘ নামক একজন সাহাবী মসজিদে এসে কথা ও কর্ম অপূর্ণাঙ্গ রেখে সালাত আদায় করলেন। অতঃপর সে সালাত থেকে ফারেগ হয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসল ও তাকে সালাম করলো। তিনি সালামের জবাব দিয়ে বললেন, আবার গিয়ে সালাত আদায় কর। কেননা, তুমিতো সালাত আদায় করনি। তিনি ফিরে গিয়ে পূর্বের মত সালাত আদায় করলেন। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসল। তিনি বললেন, ফিরে গিয়ে আবার সালাত আদায় কর। কেননা, তুমি সালাত আদায় করনি। এভাবে তিনবার বললেন। সাহাবী কসম খেয়ে বললেন, সেই মহান সত্তার শপথ! যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন, আমিতো এর চেয়ে সুন্দর করে সালাত আদায় করতে জানি না। কাজেই আপনি আমাকে শিখিয়ে দিন। যখন সে শেখার আগ্রহ প্রকাশ করল, তার মনে তার দিকে ঝুকালো, শিক্ষা কবুল করার জন্য প্রস্তুত হলো এবং বারবার ফিরিয়ে দেওয়ার পর ভুলক্রমে কিছু করার সম্ভাবনা দূর হয়ে গেলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, যার অর্থ, যখন তুমি সালাতের জন্য দাঁড়াবে, তখন তুমি তাকবীরে এহরাম বলবে। অতঃপর সূরা ফাতিহা পড়া শেষ করে কুরআন হতে যা তোমার পক্ষে সহজ তা পড়বে। অতঃপর রুকু‘তে যাবে এবং ধীরস্থিরভাবে রুকূ‘ করবে। তারপর তুমি রুকূ হতে উঠে সোজা হয়ে দাড়াবে এবং দাঁড়ানো অবস্থায় তুমি ধীরস্থিরতা অবলম্বন করবে। তারপর তুমি সেজদা করবে এবং ধীরস্থীরতা অবলম্বন করবে। অতঃপর সাজদাহ্ হতে উঠে স্থির হয়ে বসবে। তাকবীরে এহরাম ছাড়া পুরো সালাতে এ কর্ম ও কথাগুলো আদায় করবে। কারণ, তাকবীরে তাহরীমাতো প্রথম রাকা‘আতে অন্য রাকা‘আতে নয়। অন্যান্য বর্ণনা সালাতের আরো কয়েকটি শর্তের দিকে দৃষ্টিপাত করেছেন, যেমন কিবলামুখী হওয়া ও ওযূর পবিত্রতা।
আবূ সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন রাতে জাগ্রত হতেন, তখন তাকবীর বলতেন। তারপর তিনি বলতেন, “হে আল্লাহ! আপনার পবিত্রতা ও আপনার প্রশংসা এবং আপনার নাম বড়ই বরকতময়, আপনার প্রতিপত্তি অতি উচ্চ। আর আপনি ব্যতীত অন্য কোনো হক্ব ইলাহ্ নেই”। তারপর তিনি তিনবার লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলতেন। তারপর তিনি আল্লাহু আকবর কাবীরান তিনবার বলতেন। তারপর এ দো‘আ বলতেন “আমি শয়তান থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আশ্রয় চাই তার ফুঁ তথা দম্ভ-অহংকার থেকে, তার থুতু তথা কবিতা থেকে ও তার চাপ তথা পাগলামি থেকে” তারপর সে কিরাত পড়ত।
এটি ইবন মাজাহ বর্ণনা করেছেন। - এটি নাসাঈ বর্ণনা করেছেন। - এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।হাদীসটির অর্থ: “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন রাতে জাগ্রত হতেন, তাকবীর বলতেন”। অর্থাৎ, তাকবীরাতুল ইহরাম আল্লাহু আকবর বলতেন। এটি এমন একটি রুকন যা ছাড়া সালাত শুদ্ধ হয় না। তারপর তিনি বলতেন, “হে আল্লাহ! আপনার পবিত্রতা” অর্থাৎ যা আপনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় তা থেকে আমি আপনাকে পবিত্র ঘোষণা করছি। হে আমার রব, সকল দোষত্রুটি ও দুর্বলতা থেকে যে ধরনের পবিত্র হওয়া আপনার হক তা আমি ঘোষণা করছি। “আপনার প্রশংসাসহ” অর্থাৎ এই তাওফীক দেওয়ার ওপর আল্লাহর প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা। যদি আপনার তাওফীক ও হিদায়াত না হতো তাহলে আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করতে পারতাম না। এটি বান্দার পক্ষ থেকে আল্লাহর অনুগ্রহ এবং তার তাওফীক ছাড়া কোন কিছু করার অক্ষমতার স্বীকারোক্তি। “আপনার নাম বড়ই বরকতময়” এটি বরকত থেকে। আর তা হলো, অধিক ও প্রসস্ত। অর্থাৎ আসমান ও যমীনে তার বরকতসমূহ অধিক, পরিপূর্ণ ও প্রসস্থ হলো। এ গুলো সবই আল্লাহ তা‘আলার কল্যাণের প্রতি বিশেষিত হওয়ার প্রতি ইঙ্গিত। “আর আপনার প্রতিপত্তি অতি উচ্চ”। জাদ্দ অর্থ,মহত্ব। অর্থাৎ, তোমার আজমত মহান ও উঁচা। আর তোমার মহত্ব সবকিছুর মহত্বের ওপর আর তোমার শান সবকিছুর শানের উর্ধ্বে। আর তোমার রাজত্বের ক্ষমতা প্রতিটি রাজত্বের উপরে। সুতরাং রুবুবিয়্যাত, উলুহিয়্যাত এবং মুলুকিয়্যাতের মধ্যে অথবা তার নাম ও সিফাতসমূহের কোন নাম ও সিফাতে তার সাথে কেউ অংশিদার হওয়া থেকে তিনি উর্ধ্বে। এ কারণেই এ কথা বলার পর তিনি বলেন, তিনি ছাড়া কোন ইলাহ নেই। তুমি ছাড়া সত্যিকার কোন উপাস্য নেই। তুমিই ইবাদাতের উপযুক্ত। তুমি একক তুমি তোমার সম্পর্কে যে সব প্রশংসিত গুণদ্বারা গুণাগুণ করেছো এবং যে সব মহান নি‘আমতসমূহ দ্বারা তুমি অনুগ্রহ করেছ তাতে তোমার সাথে কোন শরীক নেই। এ শুরুর দো‘আতে রয়েছে আল্লাহর ওপর প্রশংসা এবং যা তার সাথে প্রযোজ্য নয় তা থেকে তার পবিত্রতা ঘোষণা। আর আল্লাহ তাবারাকা ও তা‘আলা যাবতীয় সব দোষ ও দুর্বলতা থেকে পবিত্র। এটি হাদীসে বর্ণিত এ অধ্যায়ের দো‘আসমূহের একটি দো’আ। উত্তম হলো সুন্নাতের দলীলসমূহের সব দলীলকে আমলে একত্র করা, কোনটিকে না ছেড়ে কখনো এ দো‘আ পাঠ করা আবার কখনো অন্য দো‘আ পাঠ করা। আর এ বিষয়ের বাক্যসমূহ হতে একটি বাক্য লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু তিনবার বলা। অর্থাৎ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ তিনবার বলবে। আর লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ অর্থ, আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোনো হক্ব ইলাহ্ নেই। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, “এটি এ জন্য যে, আল্লাহ হক। আর তাকে বাদ দিয়ে যাকে তোমরা ডাকো তাই বাতিল”। [সূরা হজ, আয়াত: ৬২] “তারপর তিনি আল্লাহু আকবর কাবীরান তিনবার বলতেন”। অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলা সবকিছু হতে বড়। তারপর সালাত শুরু করার পর বিতাড়িত শয়তান থেকে এ দো‘আ বলে “আমি শয়তান থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই” আশ্রয় চাইতেন। আর আউযু বিল্লাহিস সামীউল আলীম। এ দো‘আর অর্থ: আল্লাহ যিনি সর্বশ্রেতা ও প্রজ্ঞাবান তার মাধ্যমে আমরা আশ্রয়, সুরক্ষা ও সামর্থ্য চাই। “শয়তান থেকে” বিতাড়িত, হটকারী—মানুষ ও জীন শয়তানগুলো থেকে। “বিতাড়িত” প্রত্যাখ্যাত ও নিক্ষিপ্ত। আল্লাহর রহমত থেকে দূরে নিক্ষিপ্ত। দুনিয়া ও দীনের বিষয়ে যা আমার ক্ষতি করে তা দিয়ে তুমি তাকে আমার ওপর চাপিয়ে দিও না। দুনিয়া ও দীনের বিষয়ে যা আমার কল্যাণে আসবে তা করতে সে যেন আমাকে বিরত না রাখে। যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে তার দুশমন যে তাকে তার রব থেকে বিচ্ছিন্ন করতে চায় এবং অন্যায় ও ধবংসের অতল গভীরে নিক্ষেপ করতে চায় তার থেকে আশ্রয় চায়, সে শক্তিশালী খুটির নিকট আশ্রয় নিল এবং আল্লাহর শক্তির আশ্রয় নিল এবং তার রশিকে মজবুত করে ধরল। “আশ্রয় চাই তার ফুঁ থেকে”। আর তা হলো মাতলামী ও দিশাহারা হওয়া যা কোন মানুষের হয়ে থাকে। কারণ, শয়তান কখনো কখনো মানুষকে পাগল করে ফেলে তাই তা থেকে আশ্রয় চাওয়ার বিষয়টির ইসলামে প্রচলন রাখা হয়েছে। তথা দম্ভ-অহংকার থেকে। কারণ, শয়তান তার কুমন্ত্রণার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে ফুঁ দেয়। ফলে সে তার নিজের চোখে নিজেকে বড় করে দেখে এবং অন্যদেরকে সে ছোট করে দেখে। যার ফলে তার বড়াই ও অহংকার বৃদ্ধি পায়। তার থুতু তথা কবিতা থেকে ও তার চাপ তথা পাগলামি থেকে” আর তা হলো যাদু-যাদুর অনিষ্ঠতা। কারণ, ঘিরায় ফু দানকারিনীরা হলো যাদুকর যারা সুতায় ঘিরা লাগাতো এবং প্রতিটি ঘিরায় ফুঁ দিত, যাতে তারা যে যাদুর ইচ্ছা করত তা যেন সংঘটিত হয়। তারপর সে কিরাত পড়ত। আর তার প্রথম হলো সূরা ফাতিহা।
উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়িশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকবীর (আল্লাহু আকবার) বলে সালাত শুরু করতেন এবং সূরাহ আল ফা-তিহাহ দিয়ে কিরাআত পাঠ শুরু করতেন। তিনি যখন রুকু করতেন, ঘাড় থেকে মাথা নীচুও করতেন না, উপরেও উচু করে রাখতেন না বরং একই সমতলে রাখতেন। তিনি যখন রুকূ’ থেকে মাথা উঠাতেন, সোজা হয়ে না দাঁড়িয়ে সিজদা করতেন না। তিনি (প্রথম) সিজদা থেকে মাথা তুলে সোজা হয়ে না বসা পর্যন্ত (দ্বিতীয়) সাজদায় যেতেন না। তিনি প্রতি দুরাকাআত অন্তর "আত্তাহিয়াতু" পাঠ করতেন। তিনি বসার সময় বাম পা বিছিয়ে দিতেন এবং ডান পা দাঁড় করিয়ে রাখতেন। তিনি শয়তানের বসা থেকে নিষেধ করতেন। তিনি পুরুষ লোকেদেরকে হিংস্র জন্তুর ন্যায় দু’হাত মাটিতে ছড়িয়ে দিতে নিষেধ করতেন। তিনি সালামের মাধ্যমে সালাতের সমাপ্তি ঘোষণা করতেন।
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেনমুমিনদের মা আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা উল্লেখ করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সালাত শুরু করতেন আল্লাহু আকবার বলে তাকবীর দিয়ে আর সূরা আল-ফাতিহা দিয়ে তেলাওয়াত শুরু করতেন: «الحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ العَالَمِينَ...» সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সৃষ্টিকুলের রব। যখন তিনি দাঁড়ানোর পর রুকু করতেন, তখন রুকু করার সময় মাথা উঁচু করতেন না বা নিচু করতেন না, বরং তা সোজা এবং সমান রাখতেন। রুকু থেকে মাথা উঠানোর সময়, সিজদার আগে সোজা হয়ে দাঁড়াতেন। যখন তিনি প্রথম সাজদা থেকে মাথা তুলতেন, তখন স্থিরভাবে বসে না যাওয়া পর্যন্ত দ্বিতীয়বার সাজদা করতেন না। তিনি প্রতি দুই রাকআতের পর তাশাহহুদের জন্য বসতেন এবং বলতেন: ‘সকল ধরনের সালাম, সালাত ও পবিত্রতা শুধু আল্লাহর জন্য...’। তিনি যখন দুই সাজদার মাঝখানে অথবা তাশাহহুদের জন্য বসতেন, তখন তিনি তাঁর বাম পা বিছিয়ে তার ওপর বসতেন এবং ডান পা খাড়া করে রাখতেন। তিনি সালাতে শয়তানের মতো বসতে নিষেধ করেছেন। যেমন—নিজের পা দুটো মাটিতে বিছিয়ে দিয়ে, গোড়ালির উপর বসা; অথবা পশ্চাদ্দেশ মাটিতে লাগিয়ে পা দুটো সোজা করে বসা এবং কুকুরের মতো দুই হাত মাটিতে রাখা। আবার সাজদার সময় হাত দুটোকে মাটিতে বিছিয়ে দিয়ে শিকারি জন্তুর ভঙ্গিতে বসতেও নিষেধ করেছেন। তিনি সালাম দিয়ে সালাত শেষ করতেন—ডানে একবার এবং বামে আরেকবার: ‘আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ’ বলতেন।
ওয়ায়েল ইবন হুজর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সালাত আদায় করেছি। তিনি তার ডান হাতকে বাম হাতের উপর রাখলেন তার বুকের উপর।
ইবন খুযাইমাহ এটি বর্ণনা করেছেন।তিনি তার ডান হাতকে বাম হাতের উপর রাখলেন। যখন হাত বলা হয় তখন তার দ্বারা উদ্দেশ্য হলো হাতের কব্জি। আর এখানে তাই উদ্দেশ্য। একে সমর্থন করে আবূ দাউদ ও নাসাঈ যে হাদীস বর্ণনা করেছেন তার শব্দ। তাতে বলা হয়, “তারপর তার ডান হাতকে তার বাম কব্জির পিঠের উপর এবং পান্জা ও বাহুর উপর রাখলেন। পান্জা হলো কব্জি ও বাহুর মাঝখানের জোড়া। তার বুকের উপর, অর্থাৎ, ডান হাতকে তার বাম হাতের উপর রেখেছেন এবং সালাতে কিয়াম অবস্থায় দুই হাতকে তার বুকের উপর রেখেছেন।
আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবু বকর ও উমার সালাতকে আল-হামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামীন দ্বারা শুরু করতেন। মুসলিম আরও বৃদ্ধি করেন যে, তারা কিরাতের শুরুতে বা শেষে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম উল্লেখ করতেন না। আহমাদ, নাসাঈ ও ইবন খুযাইমার বর্ণনায় বর্ণিত: তারা বিসমিল্লাহকে উচ্চ আওয়াজে পড়তেন না। ইবন খুজামার অপর বর্ণনায় বর্ণিত: তারা চুপে চুপে পড়তেন। মুসলিমের না করার অর্থ এটাই করা হবে, তবে যে বর্ণনাটি দুর্বল বলে সাব্যস্ত করেছে তার কথা ভিন্ন।
ইবন খুযাইমাহ এটি বর্ণনা করেছেন। - এটি নাসাঈ বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন। - মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।হাদীসটি বর্ণনা করে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তার দুই সাথী রাদিয়াল্লাহু আনহুমা সালাত অবস্থায় সূরা ফাতিহার শুরুতে বিছমিল্লাহ বড় আওয়াজে পড়তেন না। এটি প্রমাণ করে যে, মিসমিল্লাহ সূরা ফাতিহার অংশ নয়। ফতোয়ার স্থায়ী পরিষদ ঘোষণা করে যে, বিশুদ্ধ হলো বিসমিল্লাহ সূরায়ে ফাতিহার অংশ নয় এবং অন্য কোন সূরার অংশও নয়। বরং ইহা একটি স্বয়ং সম্পন্ন আয়াত এবং সূরা নামালের { إِنَّهُ مِنْ سُلَيْمَانَ وَإِنَّهُ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ } আয়াতের অংশ বিশেষ। সূরা তাওবাহ ছাড়া প্রতিটি সূরার শুরুতে বিসমিল্লাহ পড়া মুস্তাহাব। আর সালাতে সূরা ফাতিহার পূর্বে আস্তে পড়া সুন্নাত।
আব্দুল্লাহ ইবন আবূ আওফা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বলল, আমি কুরআন মুখস্থ করে রাখতে পারি না। অতএব আমাকে এমন কিছু শিক্ষা দিন যা কুরআনের পরিবর্তে (সালাতে) যথেষ্ট হবে। তখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি বলবে: “সুবহানাল্লাহ্, আলহামদু লিল্লাহ, ওয়ালা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার ওয়ালা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহিল আলিয়্যিল আযীম ।” অর্থাৎ “আমি আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করছি। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর। তিনি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই। আল্লাহ মহান। সুউচ্চ সুমহান আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত আমার গুনাহ থেকে বিরত থাকা এবং সৎকাজ করার ক্ষমতা নেই।” তখন ঐ ব্যক্তি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এটা তো মহান আল্লাহর জন্য; আমার জন্য কী? উত্তরে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি বলো, “আল্লাহুম্মার হামনী, ওয়ারযুকনী, ওয়া‘আফিনী, ওয়াহ্দিনী।” অর্থাৎ “হে আল্লাহ আমার ওপর রহম করুন, আমাকে রিযিক দান করুন, আমাকে সুস্থ রাখুন এবং আমাকে হিদায়েত দান করুন।” (বর্ণনাকারী বলেন,) লোকটি যখন উঠে যাচ্ছিলেন তখন তিনি সেগুলো হাতের অংগুলিতে এভাবে গণনা করেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “এ ব্যক্তি উত্তম বস্তু দ্বারা তার হাত পরিপূর্ণ করেছে।”
এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।এ হাদীসটিতে যারা কুরআন মুখস্থ করে রাখতে পারে না তারা কীভাবে সালাত আদায় করবে সে হুকুম বর্ণনা করা হয়েছে। যেমন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক বেদুইনকে সালাত আদায়ের পদ্ধতি শিক্ষা দিয়েছেন যে কুরআন মুখস্থ রাখতে সক্ষম ছিলেন না। তিনি তাকে বললেন, তুমি সালাতে বলবে: “সুবহানাল্লাহ” অর্থাৎ আমরা আল্লাহকে সকল প্রকার দোষ-ত্রুটি মুক্ত ঘোষণা করছি। “আলহামদু লিল্লাহ” সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্যে। “ওয়ালা ইলাহা ইল্লাল্লাহু” অর্থাৎ আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য মাবুদ নেই। “ওয়াল্লাহু আকবার” আল্লাহ সবচেয়ে বড়। “ওয়ালা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহিল আলিয়্যিল আযীম।” অর্থাৎ আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কারো এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় পরিবর্তন হওয়ার কোন ক্ষমতা নেই। বেদুইন লোকটি যখন সালাতে নিজের জন্য দু‘আর প্রার্থনা করলেন তখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে দুনিয়া ও আখিরাতের যাবতীয় কল্যাণের সমষ্টিগত দু‘আ শিক্ষা দিয়ে বললেন, “আল্লাহুম্মার হামনী, ওয়ারযুকনী, ওয়া‘আফিনী, ওয়াহ্দিনী।” অর্থাৎ “হে আল্লাহ আমার ওপর রহম করুন, আমাকে রিযিক দান করুন, আমাকে সুস্থ রাখুন এবং আমাকে হিদায়েত দান করুন।” আর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ দু‘আ ও যিকিরের ফযিলত ও বড়ত্ব বর্ণনা করে বললেন, “এ ব্যক্তি উত্তম বস্তু দ্বারা তার হাত পরিপূর্ণ করেছে।” অর্থাৎ সে অপরিসীম কল্যাণের অধিকারী হলো।