





























Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
All
আলী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাতে দাঁড়াতেন তখন বলতেন, “আমি একনিষ্টভাবে আমার মুখমণ্ডল তাঁর দিকেই ফিরালাম যিনি আসমানসমূহ ও যমীন সৃষ্টি করেছেন। আর আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই। নিশ্চয় আমার সালাত, আমার কুরবানী বা যাবতীয় ইবাদাত, আমার জীবন ও আমার মরণ সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহর জন্য। তাঁর কোনো শরীক নেই। আর আমি এরই আদেশপ্রাপ্ত হয়েছি এবং আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত। হে আল্লাহ! আপনিই অধিপতি, আপনি ব্যতীত আর কোনো সত্য ইলাহ নেই। আপনি আমার রব, আমি আপনার বান্দা। আমি আমার নিজের উপর অন্যায় করেছি এবং আমি আমার পাপসমূহ স্বীকার করছি। সুতরাং আপনি আমার সমুদয় গুনাহ মাফ করে দিন। নিশ্চয় আপনি ছাড়া আর কেউ গুনাহসমূহ মাফ করতে পারে না। আর আপনি আমাকে সর্বোত্তম চরিত্রের পথে পরিচালিত করুন, আপনি ছাড়া আর কেউ উত্তম চরিত্রের পথে পরিচালিত করতে পারে না। আর আপনি আমার থেকে আমার খারাপ চরিত্রগুলো দূরীভূত করুন, আপনি ব্যতীত আর কেউ সে খারাপ চরিত্রগুলো দূরীভূত করতে পারে না। আমি আপনার হুকুম মানার জন্য সদা-সর্বদা হাযির, আপনি কল্যাণময়, সকল কল্যাণই আপনার দু’হাতে নিহিত। অকল্যাণ আপনার দিকে নয় অর্থাৎ মন্দকে আপনার দিকে সম্পৃক্ত করা উচিত নয়, অথবা মন্দ দ্বারা (আপনার নিকটবর্তী হওয়া যায় না, বা মন্দ আপনার দিকে উঠে না)। আমি আপনার দ্বারাই (প্রতিষ্ঠিত আছি) এবং আপনার দিকেই (আমার প্রত্যাবর্তন)। আপনি বরকতময় ও সুঊচ্চ। আমি আপনার নিকট ক্ষমা চাই এবং আপনার কাছে তাওবাহ করছি।” আর যখন রুকু করেন তখন বলতেন, “হে আল্লাহ! আমি আপনার জন্যে রুকু করেছি, আপনার ওপর ঈমান এনেছি এবং আপনার কাছে আত্মসমর্পণ করেছি। আমার কান, আমার চোখ, আমার মস্তিষ্ক, আমার হাঁড়, আমার পেশী, সবই আপনার জন্য বিনয়াবনত।” আর যখন রুকু থেকে মাথা তুলতেন, তখন বলতেন: “হে আল্লাহ, সকল আসমান ও যমীন ভর এবং যা তাদের মাঝে রয়েছে এবং এর পরেও আপনি যা চান সবকিছু পূর্ণ করে আপনার প্রশংসা।” আর যখন সাজদাহ করে তখন বলেন, “হে আল্লাহ! আমি আপনার জন্যই সাজদাহ করেছি, আপনার ওপরই ঈমান এনেছি, আপনার কাছেই নিজেকে সঁপে দিয়েছি। আমার মুখমণ্ডল সাজদায় অবনত সেই মহান সত্ত্বার জন্য, যিনি একে সৃষ্টি করেছেন এবং আকৃতি দিয়েছেন, আর তার কান ও চোখ বিদীর্ণ করেছেন। সর্বোত্তম স্রষ্টা আল্লাহ অত্যন্ত বরকতময়।” তারপর সালাম ও তাশাহুদের মাঝখানে সর্বশেষ বলতেন, “হে আল্লাহ! ক্ষমা করে দিন আমার গুনাহসমূহ- যা পূর্বে করেছি এবং যা পরে করব, যা আমি গোপনে করেছি এবং যা প্রকাশ্যে করেছি, এবং যে সীমালঙ্ঘন করেছি, আর যা আপনি আমার চেয়ে বেশি জানেন। আপনিই (কাউকে) অগ্রগামী করেন, আর আপনিই (কাউকে) পিছিয়ে দেন, আপনি ব্যতীত আর কোনো সত্য ইলাহ নেই।”
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাতে দাঁড়াতেন তখন বলতেন, আমি ইবাদতের সাথে একনিষ্ঠ হলাম, এই অর্থে যে, আমি আমার সকল ইবাদত একনিষ্ঠ করলাম আল্লাহর জন্য যিনি আসমানসমূহ ও যমীন সৃষ্টি করেছেন, যার কোনো দৃষ্টান্ত পূর্বে ছিল না। তিনি ছাড়া অন্য সবকিছু থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলাম। কারণ, যে সত্ত্বা এ ধরনের সৃষ্টি আবিষ্কার করেছেন, যা সম্পূর্ণই নতুন এবং খুব মজবুত, সকল চেহারার তার দিকেই মনোনিবেশ করা উচিৎ এবং অন্তর সমূহের সর্বাবস্থায় তাঁর ওপরই ভরসা করা উচিৎ। তিনি ছাড়া অন্য কারো দিকে মনোনিবেশ করা উচিৎ নয়। এবং তার স্থায়ী সন্তুষ্টি ও অনুগ্রহ আশা করা। “সব বাতিল দীন থেকে মুখ ফিরিয়ে সত্য দীন ইসলামের দিকে মনোনিবেশ করলাম তার ওপরই প্রতিষ্ঠিত থেকে।” আরবদের নিকট “হানীফ” বলতে থাকেই বুঝানো হত যে ইবরাহীমের মিল্লাতের ওপর থাকত। তারপর তিনি বলেন, ‘আমার সালাত, যাবতীয় ইবাদত ও নৈকট্য অর্জন করার প্রচেষ্টাসমূহ একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর সন্তুষ্ঠির জন্য উৎসর্গ। এ বিষয়ে তার সাথে অন্য কাউকে শরীক করব না। অনুরূপভাবে আমার হায়াত ও মৃত্যু আল্লাহর জন্য। তিনি তাদের স্রষ্টা ও নির্ণয়ক। এতে তিনি ছাড়া কারো কোনো দখল নেই। তার সত্ত্বা, গুণাবলি ও কর্মসমূহে তার কোনো শরীক নয়। তিনিই আমাকে এই তাওহীদ ও ইখলাসের নির্দেশ দিয়েছেন। আর আমি তারই অনুগত ও অনুসারী মুসলিমদের একজন’। তারপর বলেন, ‘হে আল্লাহ! তুমিই মালিক। তুমি ছাড়া আর কোনো মালিক নেই। তুমি ছাড়া আর কারো জন্যেই প্রকৃত কোনো রাজত্ব নেই। ইলাহ হিসেবে তুমি একক। তুমি ছাড়া সত্যিকার কোনো ইলাহ বা উপাস্য নেই। তুমিই আমার রব, আর আমি তোমার বান্দা। গুনাহ ও অন্যায় এবং তোমার স্মরণ থেকে বিমুখ হয়ে আমি আমার নিজের ওপর অত্যাচার করেছি। আর আমি স্বীকার করছি আমার অপরাধ। তুমি আমার অপরাধ ক্ষমা কর, তুমি ছাড়া আর কেউ অপরাধ ক্ষমা করার নেই। কারণ, তুমিই ক্ষমাকারী ও গাফূর’। তারপর বলেন, ‘আপনি আমাকে আপনার ইবাদত ও অন্যান্যা সবকিছুতে বাহ্যিক ও গোপনীয় যাবতীয় সুন্দর ও পাক-পবিত্র চরিত্রের পথ দেখান, সুন্দর চরিত্র অবলম্বন করার তাওফীক দান করুন এবং তার ওপর অবিচল রাখুন। কারণ, আপনিই তার পথপ্রদর্শক। আপনি ছাড়া আর কেউ পথপ্রদর্শক নেই। আপনি আমাকে খারাপ চরিত্রগুলো থেকে দূরে রাখুন এবং হিফাযত করুন। কারণ, আপনি ছাড়া আর তা থেকে দূরে রাখা বা হিফাযত করার কেউ নেই’। তারপর তিনি বলেন, ‘আপনার আনুগত্যের ওপর সর্বদাই টিকে থাকবো। আর আপনার ডাকে সাড়া দেওয়ার মাধ্যমে এবং আপনার আনুগত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকার মাধ্যমে একের পর এক সৌভাগ লাভ করে যাব’। তারপর তিনি বলেন, যাবতীয় কল্যাণ আপনার নিয়ন্ত্রণে। আপনিই তার অধিপতি এবং আপনি যেভাবে চান সেভাবে পরিচালনা করেন। মন্দ সংঘটিত হয় আপনার কৃত ও সৃষ্ট বস্তুতে, আপনার কর্মে নয়’। সুতরাং মন্দকে কোনো ক্রমেই তার দিকে সম্পৃক্ত করা যাবে না। না তার সত্ত্বা ও সিফাতের সাথে, আর না তার কর্ম ও নামসমূহের সাথে। কারণ, তার সত্ত্বা সর্বদিক থেকে পরিপূর্ণ। আর তার সিফাতও পরিপূর্ণ যার ওপর তার শুকরিয়া ও প্রসংশা করা হয়। আর তার কর্মসমূহ সবই কল্যাণ, রহমত, ইনসাফ ও হিকমতপূর্ণ। কোনো ক্রমেই তার কর্মসমূহের মধ্যে কোনো অকল্যাণ নেই। তার নামসমূহ সবই সুন্দর। ফলে তার দিকে কীভাবে খারাপ কর্মকে সম্পৃক্ত করা যাবে। বরং খারাপ কর্মতো তার সৃষ্টি ও মাখলুকাতের মধ্যে বিদ্যমান। আর তারা আল্লাহ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। কারণ, তার কর্ম তার কৃতের থেকে আলাদা। ফলে তার কর্ম সবই কল্যাণ। তবে তার মাখলুক ও তার কৃতের মধ্যে কল্যাণ ও অকল্যাণ দু’টিই রয়েছে। সুতরাং যেহেতু খারাপ কর্মসমূহ মাখলুক যা তার থেকে আলাদা -মহান রবের সাথে স্থাপিত নয়, তাই তা তার সাথে সম্পৃক্ত করা যাবে না। এ কথার মধ্যে মু‘তাযিলা সম্প্রদায় যারা বিশ্বাস করে যে, আল্লাহ খারাপ কর্মসমূহের স্রষ্টা নন, তাদের বিশ্বাসের পক্ষে কোনো প্রমাণ নেই। কারণ, আল্লাহ ভালো ও খারাপ যাবতীয় কর্মের স্রষ্টা। আর তিনিই সবকিছুর স্রষ্টা। আপনার দ্বারাই আশ্রয় চাই, আপনার ওপর ভরসা করি, আপনার দ্বারাই প্রতিষ্ঠিত আছি। আর আপনার দিকেই আমার আশ্রয়, আপনার দিকেই ফিরে যাওয়া এবং আপনার দিকেই মুখ করা। অথবা অর্থ হলো আপনাকেই একক জানি, আমার যাবতীয় কর্ম আপনাতে সমাপ্ত হয়। আপনিই শুরু আবার আপিনিই শেষ। আবার কেউ বলেন, আপনার মাধ্যমেই সাহায্য চাই এবং আপনার দিকেই আমার ফিরে যাওয়া। আপনার বরকত মহান, সম্মানিত ও সংখ্যায় অনেক। চিন্তাগুলো যতটুকু চিন্তা করে এবং বিবেক যতটুকু ধারণা করে আপনি তার চেয়েও উর্ধ্বে। আপনি সকল ত্রুটি থেকে পবিত্র। আমি আপনার নিকট পূর্বের পাপের ক্ষমা চাই এবং যেসব পাপ বাকি আছে সেগুলো থেকে ফিরে আসছি, এবং আপনার তাওফীক ও দৃঢ়তায় মৃত্যু পর্যন্ত আপনার দিকেই মনোনিবেশ করব। আর যখন রুকু করেন তখন বলতেন, ‘আমার রুকু একমাত্র আপনার জন্যেই, আমি আপনার ওপর ঈমান এনেছি এবং আপনার কাছেই আত্মসমর্পণ করেছি। আমি এবং আমার সকল অঙ্গ, যেমন কান, চোখ, মস্তিষ্ক, হাড়, পেশী, সবই আপনার নির্দেশের জন্যে বিনয়াবনত’। আর যখন রুকু থেকে মাথা তুলেন তখন বলেন, ‘আমি আপনার এমন প্রশংসা করছি যে, সেটা যদি শরীরের আকৃতি ধারণ করত তাহলে সকল আসমান ও যমীন পূর্ণ করে নিত, এবং আসমান ও যমীনের পর যা চাইত সেটাও পূর্ণ করে নিত’। আর যখন সাজদাহ করেন তখন বলেন, ‘আমার মুখমণ্ডল সাজদায় অবনত সেই মহান সত্ত্বার জন্য, যিনি একে সৃষ্টি করেছেন এবং আকৃতি দিয়েছেন, আর তার কান ও চোখ বিদীর্ণ করেছেন। সর্বোত্তম স্রষ্টা আল্লাহ অত্যন্ত বরকতময়’। তারপর সালাম ও তাশাহ্হুদের মাঝখানে সর্বশেষ বলতেন, “হে আল্লাহ! ক্ষমা করে দিন আমার গুনাহসমূহ- যা পূর্বে করেছি, যা পরে করেছি, অর্থাৎ যেন সে বলল, হে আল্লাহ আমার নতুন ও পুরাতন পাপগুলো মাফ করুন”। ‘যা আমি গোপনে করেছি এবং যা প্রকাশ্যে করেছি এবং যা আমার নফস বলেছে এবং যা জবান উচ্চারণ করেছে সব আপনি ক্ষমা করুন। যে পাপ ও অন্যায় করে আমি সীমালঙ্ঘন করেছি, সেগুলো মাফ করে দিন। আমার সেসব মাফগুলো ক্ষমা করুন, যেগুলো আমি জানি না। আর যা আপনি আমার চেয়ে বেশি জানেন। আপনি যাকে চান আপনার আনুগত্য দ্বারা অগ্রগামী করেন এবং আপনি যাকে চান তার থেকে পিছিয়ে রাখেন। আপনি ব্যতীত আর কোনো সত্য ইলাহ নেই’।
আউফ ইবন মালেক আল-আসজাঈ‘ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, এক রাতে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সালাতে দাঁড়ালাম। তিনি দাঁড়িয়ে সূরা বাকারাহ তিলাওয়াত করলেন। যখনই কোনো রহমতের আয়াত অতিক্রম করতেন, তিনি থামতেন এবং রহমত কামনা করতেন। আর যখনই কোনো শাস্তির আয়াত অতিক্রম করতেন, তিনি থামতেন এবং আশ্রয় চাইতেন। তিনি বলেন, তারপর তিনি দাঁড়ানোর পরিমাণ রুকু করলেন। তিনি রুকুতে বলতে ছিলেন: “পবিত্রতা ঘোষণা করছি সেই সত্ত্বার, যিনি প্রবল প্রতাপ, বিশাল সাম্রাজ্য, বিরাট গৌরব-গরিমা এবং অতুলনীয় মহত্ত্বের অধিকারী।” তারপর দাঁড়ানোর সমপরিমাণ সাজদাহ করলেন। অতঃপর তিনি সাজদাহও অনুরূপ বললেন। তারপর তিনি দাঁড়িয়ে সূরা আলে ইমরান পড়লেন। তারপর একটি একটি সূরা পড়তে লাগলেন।
এটি নাসাঈ বর্ণনা করেছেন। - এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।আউফ ইবন মালিক আল আসজাঈ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু সংবাদ দিচ্ছেন যে, তিনি এক রাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সালাতুল লাইল আদায় করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে সূরা বাকারাহ তিলাওয়াত করেন। যখনই কোনো রহমত ও জান্নাতের আয়াত অতিক্রম করতেন, তিনি থামতেন এবং রহমত কামনা করতেন। আর যখনই কোনো শাস্তির আয়াত অতিক্রম করতেন, তিনি আল্লাহর নিকট তার শাস্তি থেকে আশ্রয় কামনা করতেন। তারপর তিনি দাঁড়ানোর সমপরিমাণ রুকু করতেন। তিনি রুকুতে বলতেন: “পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করছি সেই সত্তার, যিনি প্রবল প্রতাপ, বিশাল সাম্রাজ্য, বিরাট গৌরব-গরিমা এবং অতুলনীয় মহত্ত্বের অধিকারী।” অর্থাৎ আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি, যিনি প্রতাপশালী, ক্ষমতাধর, দৃশ্য ও অদৃশ্য রাজত্বের অধিপতি এবং মহত্বের মালিক। তারপর তিনি দাঁড়ানোর সমপরিমাণ সাজদাহ করলেন। অতঃপর তিনি সাজদাহও অনুরূপ বললেন, যা তিনি রুকুতে বলেছেন। তারপর তিনি দাঁড়ালেন এবং সূরা আলে ইমরান পড়লেন। তারপর একটি একটি করে সূরা পাঠ করতে থাকেন।
ইবন ‘আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে তাহাজ্জুদের উদ্দেশে যখন দাঁড়াতেন, তখন দো‘আ পড়তেন, «اللهم ربَّنا لك الحمدُ، أنت قَيِّمُ السموات والأرض، ولك الحمدُ أنت ربُّ السموات والأرض ومَن فيهنَّ، ولك الحمدُ أنت نورُ السموات والأرض ومن فيهنَّ، أنت الحقُّ، وقولُك الحقُّ، ووعدُك الحقُّ، ولقاؤك الحقُّ، والجنةُ حقٌّ، والنارُ حقٌّ، والساعةُ حقٌّ، اللهم لك أسلمتُ، وبك آمنتُ، وعليك توكَّلتُ، وإليك خاصمتُ، وبك حاكمتُ، فاغفر لي ما قدَّمتُ وما أخَّرتُ، وأسررتُ وأعلنتُ، وما أنت أعلم به مني، لا إلهَ إلا أنت». “হে আল্লাহ্! আপনারই জন্য সমস্ত প্রশংসা, আপনি আসমান যমীন ও এ দু’য়ের মাঝে বিদ্যমান সব কিছুর নিয়ামক এবং আপনারই জন্য সমস্ত প্রশংসা। আসমান যমীন এবং তাদের মাঝে বিদ্যমান সবকিছুর কর্তৃত্ব আপনারই। আপনারই জন্য সমস্ত প্রশংসা। আপনি আসমান যমীনের নূর। আপনারই জন্য সমস্ত প্রশংসা। আপনি আকাশ ও যমীনের মালিক, আপনারই জন্য সমস্ত প্রশংসা। আপনিই চির সত্য। আপনার ওয়াদা চির সত্য; আপনার সাক্ষাৎ সত্য; আপনার বাণী সত্য; জান্নাত সত্য; জাহান্নাম সত্য; নাবীগণ সত্য; মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সত্য, কিয়ামত সত্য। হে আল্লাহ্! আপনার নিকটই আমি আত্মসমর্পণ করলাম; আপনার প্রতি ঈমান আনলাম; আপনার উপরেই তাওয়াক্কুল করলাম, আপনার সাহায্যেই তর্কে লিপ্ত হলাম এবং আপনাকেই বিচারক মেনে নিলাম। তাই আপনি আমার পূর্বাপর ও প্রকাশ্য গোপন সব অপরাধ ক্ষমা করুন। এবং আপনি আমার সম্পর্কে যা জানেন, (সব ক্ষমা করুন)। আপনি ব্যতীত সত্য কোনো ইলাহ্ নেই।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে তাহাজ্জুদের উদ্দেশে যখন দাঁড়াতেন, তখন তাকবীরে তাহরীমার পর বলতেন, «اللهم ربَّنا لك الحمدُ» “হে আল্লাহ! আপনারই জন্য সমস্ত প্রশংসা।” অর্থাৎ, সমস্ত প্রশংসার পাওনা ও অধিকারী কেবল আপনি। তিনি তার সিফাতসমূহ, নামসমূহ ও নি‘আমাতসমূহের জন্যে প্রশংসিত এবং আরো প্রশংসিত তার ক্ষমতা, সৃষ্টি, কর্ম, নির্দেশ ও বিধানের জন্যে। তিনি প্রশংসিত শুরুতে ও শেষে এবং প্রকাশ্যে ও গোপনে। তারপর বলেন, «أنت قَيِّمُ السموات والأرض» “আপনি আসমান যমীন ও এ দু’য়ের মাঝে বিদ্যমান সব কিছুর নিয়ামক।” অর্থাৎ আপনিই অস্তিত্বহীন থেকে অস্তিত্ব দান করেছেন। আপনিই এ দুটিকে ঠিক রাখা ও কায়েম রাখার নিয়ামক। আপনিই স্রষ্টা, রিযিকদাতা, অধিপতি, পরিচালক, জীবন-দাতা ও মৃত্যু-দাতা। তারপর তিনি বলেন, «ولك الحمدُ أنت رب السموات والأرض ومن فيهنَّ» “এবং আপনারই জন্য সমস্ত প্রশংসা। আসমান, যমীন এবং তাদের মাঝে বিদ্যমান সবকিছুর কর্তৃত্ব আপনারই।” আপনি দুইয়ের এবং তার মধ্যে যা কিছু আছে সবকিছুর মালিক। আপনার ইচ্ছা অনুযায়ী এ দুইয়ের কর্তৃত্বকারী আপনি নিজেই। আপনি এ দুটিকে অস্তিত্বহীন থেকে অস্তিত্ব দানকারী। সুতরাং, মালিকানা আপনার, আপনার সাথে আর কারো কোনো শরীক বা পরিচালক নেই। আপনি বরকতময় ও মহৎ। তারপর তিনি বলেন, «ولك الحمدُ أنت نورُ السماوات والأرض ومن فيهنَّ» “আপনারই জন্য সমস্ত প্রশংসা। আপনি আসমানসমূহ ও যমীনের এবং তদুভয়ে যা কিছু আছে তার নূর।” আল্লাহর একটি সিফাত হলো তিনি নূর, তিনি নূরের দ্বারা মাখলুকের থেকে আড়াল হয়ে আছেন। তিনিই আসমানসমূহ ও যমীনকে আলোকিতকারী। আসমানসমূহ ও যমীনের অধিবাসীদের পথ পদর্শক। নূরের সিফাতটি আল্লাহর থেকে অস্বীকার করা যাবে না এবং তাতে কোনো ব্যাখ্যা করা যাবে না। তারপর তিনি বলেন, «أنت الحقُّ» “আপনিই চির সত্য।” হক তার নাম ও সিফাতসমূহ থেকে একটি নাম ও সিফাত। তিনি তার সত্বা ও গুনে সত্য। তার অস্তিত্ব ওয়াজিব। সিফাত ও প্রশংসায় তিনি পরিপূর্ণ। তার অস্তিত্ব তার জাতের অপরিহার্য এক বিষয়। তিনি ছাড়া কোনো কিছুর অস্তিত্ব চিন্তা করা যায় না। তারপর তিনি বলেন, «وقولُك الحقُّ» “আপনার বাণী সত্য।” আপনি যা বলেছেন, তা সত্য, হক ও ইনসাফ-পূর্ণ। বাতিল তার সামনে ও পিছনে আসতে পারে না। না পারে তার সংবাদে, হুকুমে এবং শরী‘আতে আসতে এবং না পারে তার প্রতিশ্রুতি ও হুমকিতে আসতে। তারপর তিনি বলেন, «ووعدُك الحقُّ» “আপনার ওয়াদা চির সত্য।” অর্থাৎ আপনি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন না। আপনি যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তা অবশ্যই সংঘটিত হবে। তাতে কোনো পিছপা বা অমিল থাকবে না। তারপর তিনি বলেন, «ولقاؤك حقُّ» “আপনার সাক্ষাৎ সত্য।” অর্থাৎ বান্দাগণ অবশ্যই আপনার সাক্ষাৎ করবেন। তখন আপনি তাদের আমল অনুযায়ী বিনিময় দান করবেন। আল্লাহর দেখা তার সাক্ষাতের অন্তর্ভুক্ত। তাপর তিনি বলেন, «والجنةُ حقٌّ، والنارُ حقٌّ» “জান্নাত সত্য; জাহান্নাম সত্য।” অর্থাৎ উভয়টি প্রমাণিত ও মওজুদ। যেমন, এ বিষয়ে সংবাদ দেওয়া হয়েছে যে, এ দুটি তাদের অধিবাসীদের জন্য প্রস্তুতকৃত। এ দু’টি হলো স্থায়ী ঘর। বান্দারা ফিরবে এ দু’টি দিকেই। তারপর তিনি বলেন, «والساعةُ حقٌّ» “কিয়ামত সত্য।” অর্থাৎ, কিয়ামতের আগমন সত্য তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তা অবশ্যই সংঘটিত হবে। আর তা হলো দুনিয়ার ইতি ও আখিরাতের শুরু। তার বাণী: «اللهم لك أسلمتُ» “ইয়া আল্লাহ! আপনার নিকটই আমি আত্মসমর্পণ করলাম।” আপনার বিধান অনুগত হলাম, মেনে নিলাম এবং সন্তুষ্ট হলাম। তার বাণী: «وبك آمنت» “আপনার প্রতি ঈমান আনলাম।” অর্থাৎ আপনাকে এবং যা নাযিল করেছেন তা বিশ্বাস করলাম এবং তদুনুযায়ী আমল করলাম। «وعليك توكلت» “আপনার উপরেই তাওয়াককুল করলাম।” অর্থাৎ, আপনার ওপর ভরসা করলাম এবং আমার যাবতীয় বিষয় আপনার প্রতি সোপর্দ করলাম। «وإليك خاصمت» “আপনার সাহায্যে তর্কে লিপ্ত হলাম।” অর্থাৎ আপনি যে সব অকাট্য প্রমাণাদি আমাকে দিয়েছেন তার দ্বারা হঠকারীদের প্রমাণ তুলে ধরলাম এবং বিজয় লাভ করলাম। «وبك حاكمت» “আপনাকেই বিচারক মেনে নিলাম।” অর্থাৎ যতজন সত্য গ্রহণ করতে অস্বীকার করে এবং মেনে নেয় না তাকে আপনার নিকট বিচারের জন্য নিয়ে আসলাম। সকল তাগুত বা গণক ইত্যাদির বানানো বাতিল বিধান যার দিকে মানুষ বিচার নিয়ে যায় তাকে দূরে ফেলে আমার ও তার মাঝে আপনাকে বিচারক বানালাম। তার বাণী: «فاغفر لي ما قدَّمتُ وما أخَّرتُ، وأسررتُ وأعلنتُ، وما أنت أعلم به مني» “তাই আপনি আমার পূর্বাপর ও প্রকাশ্য গোপন সব অপরাধ ক্ষমা করুন। আপনিই অগ্র পশ্চাতের মালিক।” অর্থাৎ যেসব গুনাহ সম্পর্কে আমি জানি এবং যা আমি ভবিষ্যতে করব, এবং যা তোমার কোনো মাখলুকের কাছে প্রকাশ পেয়েছে এবং যা তাদের থেকে গোপন রয়েছে, এবং তুমি ছাড়া আর কেউ জানে না। তারপর তিনি এ বলে দো‘আ শেষ করেন, «لا إلهَ إلا أنت» “আপনি ব্যতীত সত্য প্রকৃত কোন ইলাহ নেই।” সুতরাং আপনি ছাড়া আর কারো দিকে আমরা ঝুঁকবো না, আপনি ছাড়া আর যাকে তারা ইলাহ বানিয়েছে সবই বাতিল। তার দিকে আহ্বান গোমরাহি ও বিপদ। আর এটিই হলো তাওহীদ যা নিয়ে আল্লাহর রাসূলগণের আগমন এবং যা আল্লাহ তার বান্দাদের ওপর ওয়াজিব করেছেন।
আবূ সাঈদ আল-খুদরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি রাসূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বলল, আমার ভাই পেটের রোগে আক্রান্ত। তিনি বললেন, “তুমি তাকে মধু পান করাও”। লোকটি দ্বিতীয়বার আসল, তাকে বললেন, “তুমি তাকে মধু পান করাও”। অতঃপর লোকটি তৃতীয়বার আসল, তখন তিনি বললেন, ““তুমি তাকে মধু পান করাও”। তারপর লোকটি এসে বলল, আমি মধু খাওয়াছি, তখন তিনি বললেন, “আল্লাহ সত্য বলেছেন তোমার ভাইয়ের পেটই মিথ্যা বলছে, তুমি তাকে মধু পান করাও”। তারপর সে তাকে আবার মধু পান করালে সে সুস্থ হয়ে যায়।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ওয়াসাল্লামের নিকট এসে জানালো যে, তার ভাই পেটের রোগে কষ্ট পাচ্ছে। হাদীসের বিভিন্ন বর্ণনা দ্বারা স্পষ্ট হয় যে, রোগটি ছিল ডায়রিয়া। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ভাইকে মধু পান করানোর নির্দেশ দিলেন। সে তাকে মধু পান করালো কিন্তু রোগ ভালো হলো না। অতঃপর সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সংবাদ দিল, তিনি তাকে পুণরায় মধু পান করানোর নির্দেশ দিলেন। সে আবারো মধু পান করালো কিন্তু ভালো হলো না। তারপর লোকটি আবারো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সংবাদ দিল, তিনি তাকে তৃতীয়বার পান করাতে বললেন, সে পান করাল কিন্তু ভালো হল না। সে আবার এসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সংবাদ দিল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “আল্লাহ সত্য বলেছেন তোমার ভাইয়ের পেট মিথ্যা বলছে, তুমি তাকে মধু পান করাও।” এতে দু’টি সম্ভাবনা রয়েছে: এক. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাহ তাকে অদৃশ্য বিষয় যা আল্লাহ তাকে ওহীর মাধ্যকে জানিয়ে দেন এবং অবগত করে দেন। আর তা হলো এ রোগের চিকিৎসা মধুর মাধ্যমে। তাই তিনি তাকে বার বার একই আদেশ দেন যাতে তাকে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে তার প্রতিফলন ঘটে। দুই. এ দ্বারা আল্লাহর বাণী: “তাতে রয়েছে মানুষের জন্য আরোগ্য।” এর প্রতি ইঙ্গিত করা হয়। আর তিনি জানতেন যে, এ ধরনের রোগের আরোগ্য মধুর মধ্যে রয়েছে। তারপর যখন চতুর্থবার তাকে মধু পান করানোর নির্দেশ দিলেন, লোকটি গিয়ে আবারো তার ভাইকে মধু পান করালো। তখন সে আল্লাহর অনুমতিতে আরোগ্য লাভ করল।
আবু সালমাহ ইবন আব্দুর রহমান ইবন আওফ, তিনি বলেন, আমি উম্মুল মু‘মিনীন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহাকে জিজ্ঞাসা করলাম রাতে যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতে দাঁড়াতেন কি দিয়ে সালাত শুরু করতেন। তিনি বলেন, তিনি যখন রাতে সালাতে দাঁড়াতেন এ বলে শুরু করতেন “হে আল্লাহ! জিবরীল, মীকাঈল ও ইসরাফীলের রব, আসমান ও যমীনের স্রষ্টা, গায়েব ও প্রকাশ্য সবকিছু জান্তা, আপনার বান্দাগণ যেসব বিষয়ে মতভেদে লিপ্ত আপনিই তার মীমাংসা করে দিবেন। যেসব বিষয়ে মতভেদ হয়েছে তন্মধ্যে আপনি আপনার অনুমতিক্রমে আমাকে যা সত্য সেদিকে পরিচালিত করুন। নিশ্চয় আপনি যাকে ইচ্ছা সরল পথ প্রদর্শন করেন।”
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।আবূ সালমা ইবন আব্দুর রহমান ইবন আউফ উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়সাল্লাম যখন রাতে সালাত আদায় করতেন তখন তিনি কোন দো‘আ দিয়ে সালাত আরম্ভ করতেন সে বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেন। তখন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন রাতে সালাত আদায় করতেন তখন তিনি বলতেন, “হে আল্লাহ! জিবরীল, মীকাঈল ও ইসরাফীলের রব, অন্যান্য ফিরিশতাদের বাদ দিয়ে এ তিনজন ফিরিশতার নাম উল্লেখ করার কারণ, অন্যদের ওপর এ তিনজনের মর্যাদা ও সম্মান বেশি। আর প্রথমে জিবরীল আলাইহিস সালামের নাম উল্লেখ করেছেন। কারণ, তিনি আসমানী কিতাবসমূহের রক্ষণাবেক্ষণকারী। ফলে দীনের যাবতীয় বিষয় তার ওপরই ন্যস্ত। আর ইসরাফীল আলাইহিস সালামকে শেষে উল্লেখ করেছেন। কারণ, তিনি সিঙ্গায় ফু দানকারী। এর মাধ্যমেই কিয়ামত সংঘটিত হবে। আর মীকাঈল আলাইহিস সালামকে মাঝখানে উল্লেখ করেছেন। কারণ, তিনি বৃষ্টি ও ফসলাদির নিয়ন্ত্রক। যার সম্পর্ক হলো দুনিয়ার রিযিকের সাথে। তিনি আসমান ও যমীনের স্রষ্টা অর্থাৎ আবিষ্কারক ও উদ্ভাবক। গায়েব ও প্রকাশ্য সবকিছু জান্তা। বান্দার থেকে যা দৃশ্য বা অদৃশ্য, সবই তিনি জানেন। আপনার বান্দাগণ দুনিয়ার জীবনে ধর্মীয় যেসব বিষয়ে মতভেদে লিপ্ত আপনিই তার মীমাংসা করে দিবেন। মানুষ দুনিয়া ও ধর্মীয় যেসব বিষয়ে মত বিরোধ করছে সে ক্ষেত্রে আপনারই অনুগ্রহে ও সহজীকরণে আমাকে সত্যের দিশা দান করুন। আপনি যাকে চান সত্য ও সঠিক পথের দিকে পথ দেখান।
আবূ সা‘ঈদ আল-খুদরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করা হলো, আমরা কি বুদ্বা‘আহ কূপের পানি দ্বারা অযু করতে পারি? কূপটি এমন ছিলো যেখানে মহিলাদের হায়েযের নেকড়া, কুকুরের গোশত এবং দুর্গন্ধযুক্ত ময়লা-আবর্জনা নিক্ষেপ করা হতো। উত্তরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “পানি পবিত্র, তাকে কোনো জিনিস অপবিত্র করে না।”
এটি নাসাঈ বর্ণনা করেছেন। - এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।এ হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেছেন যে, পানি পবিত্র, কোনো নাপাকী এতে মিলিত হলেই তা অপবিত্র হয়ে যায় না; যতক্ষণ না তার রং বা স্বাদ বা গন্ধ পরিবর্তন হয়।
আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম (নিজের স্ত্রী) মাইমূনা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহার গোসলের অবশিষ্ট অতিরিক্ত পানি দ্বারা গোসল করতেন।
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর স্ত্রী মাইমূনা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহার গোসলের অবশিষ্ট পানি দ্বারা গোসল করতেন।
আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফু‘ হিসেবে বর্ণিত, একদা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো এক স্ত্রী বড় একটি পাত্রের পানি দ্বারা গোসল করছিলেন। এমতাবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে অযু অথবা গোসল করার জন্য আগমন করলেন । তখন তিনি (পত্নী) বললেন, আল্লাহর রাসূল! আমি বড় ধরনের অপবিত্রতায় ছিলাম। উত্তরে রাসূল্লুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “নিশ্চয় পানি অপবিত্র হয় না (পাত্রে অবশিষ্ট পানির ব্যাপারে বলেছেন)।”
এটি ইবন মাজাহ বর্ণনা করেছেন। - এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। - এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন।একবার নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো একজন স্ত্রী পাত্রের পানি দ্বারা অপবিত্রতা থেকে পবিত্র হতে গোসল করছিলেন। এমতাবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে অযু অথবা গোসল করার জন্য আগমন করলেন । ফলে তিনি তাঁর স্ত্রীর গোসলের অবশিষ্ট পানি ব্যবহার করতে চাইলে তিনি (পত্নী) তাঁকে অবহিত করলেন যে, তিনি জানাবাত জনিত অপবিত্র ছিলেন এবং উক্ত পানি দ্বারা গোসল করেছেন। তখন রাসূল্লুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জানালেন যে, অপবিত্রতার গোসল পানিতে কোনো প্রভাব ফেলে নি। অবশিষ্ট পানি পবিত্র ও পবিত্রকারী।
কাবশা বিনত কা‘ব ইবন মালিক রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি আবূ কাতাদা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর পুত্রবধূ ছিলেন। তিনি বলেন, একদা আবূ কাতাদা (গৃহে) আগমন করলে আমি তাকে অযুর পানি দিলাম। এমতাবস্থায় একটি বিড়াল এসে উক্ত পানি পান করলো। বিড়ালটির পানি পান করার সুবিধার্থে আবূ কাতাদা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু পাত্রটি কাত করে ধরলেন এবং বিড়ালটি তৃপ্তি সহকারে পানি পান করল। কাবশা বলেন, তিনি আমাকে এর প্রতি তাকিয়ে থাকতে দেখে জিজ্ঞেস করলেন, হে আমার ভ্রাতুষ্পুত্রী! তুমি কি আশ্চর্যবোধ করছ? জবাবে আমি (কাবশা) বললাম, হ্যাঁ। তখন তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “নিশ্চয় বিড়াল অপবিত্র (প্রাণী) নয়। এরা তোমাদের আশেপাশে ঘুরাফেরাকারী ও তোমাদের সংশ্রবে আশ্রিত প্রাণী।”
এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। - এটি নাসাঈ বর্ণনা করেছেন। - এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন। - এটি দারিমী বর্ণনা করেছেনউপরোক্ত হাদীসে এসেছে, আবূ কাতাদা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু অযু শুরু করলে একটি বিড়াল ঘরে প্রবেশ করল -সাধারণত বিড়াল গৃহে প্রবেশ করে, মানুষের সাথে মিলেমিশে থাকে এবং আশেপাশে ঘুরাফেরা করে- বিড়ালটির পানি পান করার সুবিধার্থে আবূ কাতাদা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু পাত্রটি কাত করে ধরলেন যাতে অযুর পানি থেকে পান করে। এতে তার ভ্রাতুষ্পুত্রী কাবশা আশ্চর্য হলেন। পাত্রের পানি শুধু অযু করার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছিল। সুতরাং তা স্বয়ং পবিত্র ও অন্যকে পবিত্রকারী হওয়া অত্যাবশ্যক। তখন আবূ কাতাদা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু কাবশাকে নিম্নোক্ত হাদীস বললেন যে, নিশ্চয় বিড়াল নাপাক প্রাণী নয়। সে পাত্র থেকে পানি পান করায় অবশিষ্ট পানিতে কোনো প্রভাব পড়ে নি। কেননা নিশ্চয় এরা সর্বদা মানুষের আশেপাশে ঘুরাফেরাকারী ও সংশ্রবে আশ্রিত প্রাণী।