





























Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
All
লাকীত ইবন সাবুরাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আগত বনু মুনতাফিক্ব গোত্রের প্রতিনিধি দলটির নেতা ছিলাম আমি অথবা বলেছেন, আমি তাঁদের মধ্যেই ছিলাম। আমরা যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে পৌঁছলাম তখন তাঁকে তাঁর ঘরে উপস্থিত পেলাম না, অবশ্য উম্মুল মু’মিনীন ’আয়িশাহ্-কে পেলাম। তিনি আমাদের জন্য ’খাযিরাহ’ (এক প্রকার খাদ্য) তৈরীর আদেশ দিলেন। অতঃপর আমাদের জন্য তা তৈরী করা হলো এবং আমাদের সম্মুখে ক্বিনা’ (অর্থাৎ খেজুর ভর্তি একটি পাত্র) পেশ করা হলো। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে বললেনঃ “তোমরা কিছু খেয়েছো কি? অথবা তিনি বললেন, তোমাদের আপ্যায়নের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে কি?” আমরা বললাম, হ্যাঁ, হে আল্লাহর রসূল! লাক্বীত্ব বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট বসা ছিলাম। এমন সময় এক রাখাল তাঁর মেষপাল খোঁয়াড়ে নিয়ে এলেন। আর সাথে একটি ছাগলের বাচ্চা ছিল, সেটি চিৎকার করছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেনঃ “হে উমুক! কি বাচ্চা জন্ম হয়েছে?” সে বলল, মাদী। তিনি বলেন, “সেটির পরিবর্তে আমাদের জন্য একটি বকরী যাবাহ্ কর”। অতঃপর (প্রতিনিধি দলের নেতাকে উদ্দেশ্য করে) বললেনঃ “এমনটি মনে করো না যে, বকরীটি তোমার জন্যই যাবাহ্ করছি। বরং আমাদের কাছে একশ’টি বকরী আছে। তাই আমরা এর সংখ্যা আর বাড়াতে চাই না। সেজন্যই কোন বাচ্চা জন্ম হলে আমরা সেটির পরিবর্তে একটি বকরী যাবাহ্ করি”। তিনি বলেন, আমি বললামঃ হে আল্লাহর রসূল! আমার একজন স্ত্রী আছে। সে অশ্লীলভাষী। তিনি বললেনঃ “তাহলে তাকে ত্বালাক দাও”। তিনি বলেন, আমার সাহচর্যে সে দীর্ঘ দিন অতিবাহিত করেছে এবং তার গর্ভজাত আমার একটি সন্তানও রয়েছে। তিনি বললেনঃ “তবে তাকে উপদেশ দাও। তার মাঝে কল্যাণ থাকলে সে উপদেশ গ্রহণ করবে। জেনে রাখ, নিজের জীবন সঙ্গিনীকে ক্রীতদাসীদের মত প্রহার করবে না”। অতঃপর আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে অযু সম্পর্কে অবহিত করুন। তিনি বলেনঃ “পরিপূর্ণরূপে অযু করবে, অঙ্গুলিসমূহ খিলাল করবে এবং নাকে উত্তমরূপে পানি পৌঁছাবে, তবে সিয়াম রত অবস্থায় নয়”।
এটি আবূ দাউদ, তিরমিযী, নাসায়ী ও ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন।লাকিত ইবনু সাবরা রাবরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে তাঁর গোত্র বনু মুন্তাফিকের অন্যান্যদের সাথে এসেছিলেন। তিনি বললেন: আমরা তাকে তার বাড়িতে পাইনি, কিন্তু আমরা মুমিনদের মা আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে পেয়েছি। তিনি আমাদের জন্য ময়দা এবং চর্বি দিয়ে তৈরি একটি স্যুপ তৈরি করার নির্দেশ দিলেন এবং আমাদের এক প্লেট খেজুরের টুকরো পরিবেশন করা হল। তারপর তিনি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে বললেন: তোমাদেরকে কি কোন খাবার পরিবেশন করা হয়েছে? আমরা বললাম: হ্যাঁ, লাকিত বলেন: আমরা যখন তাঁর সাথে বসে ছিলাম, তখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ভেড়ার রাখাল এসে ভেড়াগুলো তাদের ঘুমানোর জায়গায় নিয়ে গেল, তার সাথে একটি ছাগলের বাচ্চা ছিল যা চিৎকার করছিল। তিনি বললেন: কী বাচ্চার জন্ম হয়েছে? তিনি বললেন: মাদি। তিনি বললেন: তাহলে আমাদের জন্য তার পরিবর্তে একটি পূর্ণবয়স্ক বকরী জবাই করো। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: ভাবো না যে আমরা তোমার জন্য ওদের যবেহ করার চেষ্টা করেছি; বস্তুত আমাদের কাছে একশোটি ভেড়া আছে এবং আমরা চাই না যে তারা এই সংখ্যার বেশি হোক। তাই যদি একটি নতুন বাচ্চা জন্মগ্রহণ করে, আমরা তার জায়গায় আরেকটি জবাই করি। লাকিত বললেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আমার স্ত্রীর জিহ্বা লম্বা এবং নোংরা, আমি তাকে নিয়ে কী করব? তিনি বললেন: তাহলে তাকে তালাক দাও। লাকিত বললেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, সে দীর্ঘদিন ধরে আমার সঙ্গী এবং তার থেকে আমার সন্তান রয়েছে। তিনি বললেন: তাকে উপদেশ দাও, যদি তার মধ্যে কোন কল্যাণ থাকে, তাহলে সে তোমার উপদেশে সাড়া দেবে। যদি সে সাড়া না দেয়, তাহলে তাকে আঘাত করো, কিন্তু তীব্রভাবে নয়। আর তোমার দাসদের মতো তাকে আঘাত করো না। তখন লাকিত বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমাকে ওযু সম্পর্কে বলুন। তিনি বললেন: ওযুর সময় পানি তার যথাস্থানে পৌঁছাবে, প্রতিটি অঙ্গের হক আদায় করবে এবং এর কোন ফরয ও সুন্নত কাজ বাদ দেবে না। হাত ও পায়ের আঙ্গুলগুলো ধোয়ার সময় পৃথক কর এবং অযু করার সময় নাকে পানি টেনে বের করে দাও, যদি না তুমি রোজা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকো, যেন পানি পেটে প্রবেশ না করে।
হাস্সান ইবন বিলাল থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আম্মার ইবন ইয়াসিরকে আমি ওযূ করতে দেখেছি, তিনি তা দাড়ি খেলাল করলেন। তখন তাকে বলা হল বা তিনি বললেন, আমি তাকে বললাম আপনি আপনার দাড়ি খিলাল করলেন? তিনি বললেন, “কেন করব না? আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তার দাড়ি খিলাল করতে দেখিছি”।
এটি ইবন মাজাহ বর্ণনা করেছেন। - এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন।হাস্সান ইবন বিলাল আম্মার ইবন ইয়াসিরকে ওযূতে তার দাড়ি খেলাল করতে দেখেন। তিনি তাকে ওযূতে দাড়ি খেলার করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি আম্মার ইবনে ইয়াসারকে এরূপ করতে দেখে যেন আশ্চর্য হলেন যা তিনি ইতিপূর্বে জানতেন না। “কেন করব না?” আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তার দাড়ি খিলাল করতে দেখেছি। আম্মার রাদিয়াল্লাহু আনহু তাকে উত্তর দিলেন এখানে এমন কিছু নাই যা দাড়ি খেলাল করতে বাধা দিবে। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এরূপ করতে দেখেছি। দাড়ি খেলাল করার দুটি পদ্ধতি: এক, এক কোষ পানি নিবে এবং তা দাড়ির নিচে দিয়ে প্রবেশ করাবে যাতে খেলাল হয়ে যায়। দুই- এক কোষ পানি নিবে এবং দাড়িকে আঙ্গুল দিয়ে চিরনীর মতো খেলাল করবে।
আব্দুল্লাহ ইবন যায়েদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে মারফূ‘ হিসেবে বর্ণিত, “রাসূলুল্লাহর নিকট এক মুদের দুই তৃতীয়াংশ পানি আনা হলে তিনি তার বাহুকে ঘষতে আরম্ভ করেন।”
ইবন খুযাইমাহ এটি বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।এ হাদীসটিতে আব্দুল্লাহ ইবন যায়েদ-রাদিয়াল্লাহু আনহু- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওযুর পানির পরিমাণ সম্পর্কে সংবাদ দেন। অর্থাৎ, তিনি এক মুদের দুই তৃতীয়াংশ পানি দ্বারা ওযূ করতেন। এতেই কোন প্রকার অপচয় ছাড়া উদ্দেশ্য হাসিল হয়ে যেত। তিনি তার বাহুকে ঘষতেন। আর এ ঘষা ছিল ধোয়ার সমস্ত অঙ্গে পানি পৌছানোর জন্যে।
সাওবান রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি সৈন্যদল পাঠান যাদের ঠান্ডা পেয়ে বসল। তারপর যখন তারা রাসূলুল্লাহর নিকট গমন করলো, তিনি তাদের আদেশ দিলেন যে, তারা যেন তাদের মোজা ও পাগড়ীর ওপর মাসেহ করে।
এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।সাওবান রাদিয়াল্লাহু আনহু সংবাদ দেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাহাবীদের একটি জামাতকে কাফিরদের সাথে যুদ্ধ করার জন্য প্রেরণ করেন। তাদের চলার পথে অধিক ঠান্ডার কারণে মোজা ও পাগড়ী খোলা কষ্টকর ছিল। তারপর তারা যখন মদীনায় গমন করলেন বিষয়টি তারা আল্লাহর রাসূলকে অবহিত করলেন। তখন তিনি তাদের জন্য মোজা ও পাগড়ীর ওপর মাসেহ করাকে বৈধ করলেন। চাই মোজা চামড়ার হোক বা পশমের হোক বা কাপড়ের টুকরার হোক। সুতরাং এটি একটি প্রমাণিত সুন্নাত। সফর অবস্থায় হোক বা মুকীম অবস্থায় হোক এবং অপারগতার কারণে হোক বা অপারগতা ছাড়া হোক। সর্বাবস্থায় তা বৈধ।
আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে সাহাবীগণ ইশার সালাত আদায়ের জন্য এতো অপেক্ষা করতেন যে তন্দ্রাচ্ছন্ন হওয়ার কারণে তাদের ঘাড়সমূহ নিচের দিকে ঝুলে পড়ত। এমতাবস্থায়ও তারা পুনরায় অযু না করে সালাত আদায় করতেন।
এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন। - এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে সাহাবীগণ এশার সালাত আদায়ের জন্য অপেক্ষা করতে করতে তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়তেন। অতঃপর অযু করা ব্যতীত সালাত আদায় করতেন। আর তাঁর যুগে কেউ কোনো কর্ম করলেন, কিন্তু রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে নিষেধ করলেন না, এটার নামই সম্মতি। তাঁর সম্মতি সুন্নাতে নববীর এক প্রকার। সুন্নাতে নববী মানে তাঁর কথা, কর্ম ও সম্মতি। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে যাই করা হোক, তিনি যদি সেটা নিষেধ না করেন, তবে তাই সম্মতিগত সুন্নাত। কেননা তাদের সালাত যদি বাতিল হতো বা তাদের কাজটি যদি না জায়েয হতো তাহলে অবশ্যই তিনি তাদের সতর্ক করতেন। কারণ, তিনি সাহাবীদের এরূপ করা জানতেন অথবা অহীর মাধ্যমে তাকে জানানো হত, তবে তাঁর মৃত্যুর পর যা করা হয় তার হুকুম এরূপ নয়। "تَخْفِقَ رُءُوسُهُمْ" অর্থাৎ অধিক তন্দ্রার কারণে তাদের মাথা ঝুলে পড়ত। অন্য বর্ণনায় এসেছে, “এমন কি আমি তাদের (সাহাবীদের) নাক ডাকার আওয়াজ শুনেছি, অতঃপর তারা সালাতের জন্য দাঁড়াতেন ও পুনরায় অযু না করে সালাত আদায় করতেন।” অপর বর্ণনায় এসেছে, “তাদের পার্শ্ব রেখে দিতেন।” “তারা নতুন অযু না করেই সালাতে দাঁড়াতেন।” কেননা তাদের ঘুম গভীর ছিল না। তাছাড়া তাদের এ ঘুম যদি অযু ভঙ্গের কারণ হতো তাহলে রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এতে সম্মতি দিতেন না। আমরা এরূপ বলেছি দলীলগুলোর মাঝে সামঞ্জস্য বিধান কল্পে। যেহেতু প্রমাণিত যে, ঘুমও পেশাব-পায়খানার ন্যায় অযু ভঙ্গের কারণ। যেমন, রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী, “তবে পেশাব, পায়খানা ও ঘুমের কারণে অযু ভঙ্গ হয়।” এছাড়া আলী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হাদীসে এসেছে,“চোখ হলো পশ্চাদদ্বারের বন্ধনস্বরূপ। অতএব, যে ব্যক্তি ঘুমায় সে যেন অযু করে।” অনুরূপ মু‘আবিয়া রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত হাদীসে এসেছে, “চোখ হলো পশ্চাদদ্বারের বন্ধনস্বরূপ। কারো দু’চোখ ঘুমালে তার পশ্চাদদ্বার খুলে যায়।” এসব হাদীস প্রমাণ করে যে, নিদ্রা অযু ভঙ্গকারী। আর এ অধ্যায়ের হাদীস ও অন্যান্য বর্ণনা দ্বারা বুঝা যায় যে, নিদ্রা অযু ভঙ্গ করে না। অতএব, উভয় হাদীসের মধ্যকার দ্বন্দ্ব নিরসনে এ অধ্যায়ে বর্ণিত হাদীস ও “নাক ডাকা ও পার্শ্ব কাত হয়ে শোয়ার” বর্ণনার হাদীসের ব্যাখ্যায় বলা হবে যে, নাক ডাকা ও পার্শ্ব কাত হয়ে শোয়া বলতে তাদের ঘুম গভীর ছিল না। কেননা কারো গভীর ঘুমের আগেও নাক ডাকার শব্দ শোনা যায়। আবার পার্শ্ব কাত হয়ে ঘুমালেও গভীর ঘুম হওয়া অত্যাবশ্যক নয়, যেটি বাস্তব। এভাবে দলীলসমূহ একত্রিত করা হবে এবং উভয় হাদীসের ওপর আমল করা হবে। কেননা একটি দলীল বাতিল করে অপরটির ওপর আমল করার চেয়ে উভয় দলীল একত্রিত করে আমল করা সম্ভব হলে তার ওপর আমল করাই উত্তম। মূলকথা, মানুষ যখন এমন গভীর ঘুমে ঘুমায় যে, সে কোনো কিছু অনুভব করতে পারে না, তাহলে তার অযু করা অত্যাবশ্যক হবে। আর যদি গভীর ঘুমে না ঘুমায় তাহলে অযু করা অত্যাবশ্যক হবে না; যদিও ইবাদত করার জন্য পুনরায় অযু করা উত্তম ও অধিক সতর্কতা। আর যদি সে দ্বিধাদ্বন্দ্বে থাকে যে, তার ঘুম কী গভীর ছিল নাকি অগভীর? তাহলে তার অযু ভঙ্গ হবে না। কেননা মূল হলো পবিত্রতা। আর সন্দেহের কারণে ইয়াকীন দূরীভূত হয় না। শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ রহ. বলেছেন, কেউ যদি ঘুমে সন্দেহ করে যে, তাতে তার পশ্চাদদ্বার দিয়ে বায়ু বের হয়েছে নাকি হয় নি? তাতে তার অযু ভঙ্গ হবে না। কেননা তার পবিত্রতা ইয়াকীনের সাথে সাব্যস্ত। সুতরাং সন্দেহের কারণে তার ইয়াকীন দূর হবে না। দেখুন, মাজমু‘উ ফাতাওয়া, শাইখুল ইসলাম (২১/৩৯৪); সুবুলুস সালাম (১/৮৮-৮৯); ফাতহু যিল জালালি ওয়াল ইকরাম (১/২৩৮); তাওদীহুল আহকাম (পৃ. ২৮২ ও ২৮৩); তাসহীলুল ইলমাম (১/১৭০-১৭১)।
‘উরওয়াহ রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি একবার মারওয়ান ইবন হাকামের নিকট উপস্থিত হয়ে তার কাছে কী কী কারণে অযু করার প্রয়োজন হয় তা আলোচনা করলাম। মারওয়ান বললেন, পুরুষাংগ স্পর্শ করলে কী হবে? তখন ‘উরওয়াহ বলেন, আমি এটা জানি না। ফলে মারওয়ান বললেন, বুসরাহ বিনতে সাফওয়ান আমাকে তা জানিয়েছেন। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন, “যে ব্যক্তি নিজের পুরুষাংগ স্পর্শ করবে তাকে অযু করতে হবে।”
এটি ইবন মাজাহ বর্ণনা করেছেন। - এটি নাসাঈ বর্ণনা করেছেন। - এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন।হাদীসের অর্থ: ‘উরওয়াহ জানাচ্ছেন যে, তিনি একবার মারওয়ান ইবন হাকামের নিকট উপস্থিত হলেন। তখন তিনি মদীনার গভর্নর ছিলেন। “কী কী কারণে অযু করতে হয় আমরা তা পরস্পর আলোচনা করলাম।” অর্থাৎ আমরা অযু ভঙ্গের কারণসমূহ নিয়ে আলোচনা ও অনুসন্ধান করলাম। তখন মারওয়ান বললেন, “আর পুরুষাংগ স্পর্শ করলে (অযু ভঙ্গ হয়)।” অর্থাৎ যেসব কারণে অযু ভঙ্গ হয় সেগুলোর মধ্যে একটি হলো পুরুষাংগ স্পর্শ করা। তখন ‘উরওয়াহ বলেন, “আমি এটা জানি না।” অর্থাৎ আমি এর দলীল জানি না। আর আমার কাছে এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের বর্ণিত কোনো ইলম নেই। ফলে মারওয়ান বললেন, বুসরা বিনত সাফওয়ান আমাকে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি নিজের পুরুষাংগ স্পর্শ করবে তাকে অযু করতে হবে।” তিরমিযীর বর্ণনায় এসেছে, “অযু না করে যেন সালাত আদায় না করে।” উপরোক্ত বর্ণনা দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, উত্তেজনাবশত হোক আর উত্তেজনা ছাড়া হোক, ইচ্ছাকৃত হোক আর অনিচ্ছাকৃত হোক পুরুষাংগ স্পর্শ করা অযু ভঙ্গের কারণ। তবে শর্ত হলো পুরুষাংগ কাপড় বা কোনো কিছুর পর্দা ব্যতীত সরাসরি স্পর্শ করতে হবে। যদি কেউ আবরণের উপর দিয়ে স্পর্শ করে তাহলে তা অযু ভঙ্গের কারণ হবে না। যেহেতু আবরণের উপর দিয়ে স্পর্শ করলে তা প্রকৃত স্পর্শ হয় না। কেননা স্পর্শ হলো এক অঙ্গ অন্য অঙ্গ সরাসরি ধরা। নাসাঈ ও অন্যান্য হাদীস গ্রন্থে বর্ণিত হাদীস উপরোক্ত মতের প্রমাণ, “তোমাদের কারো হাত যখন তার লজ্জাস্থানে পৌঁছে (হাত লজ্জাস্থান স্পর্শ করে) আর উভয়ের মাঝে কোনো পর্দা বা আবরণ না থাকে তাহলে সে যেনো (সালাত বা এ জাতীয় কাজ করলে) অযু করে নেয়। দেখুন, সুবুলুস সালাম (১/৯৭); ফাতহু যিল জালালি ওয়াল ইকরাম (১/২৬০-৩৬১); তাওদীহুল আহকাম (১/২৯৮)।
জাবের ইবন সামুরা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন। আমি কি বকরীর গোশত খেয়ে ওযু করব? তিনি বললেন, “যদি চাও ওযু কর আর যদি না চাও ওযু করো না।” সে বলল, উটের গোশত খেয়ে ওযু করব কি? তিনি বললেন, “হ্যাঁ। উটের গোশত খেয়ে ওযু কর।” সে বলল, বকরীর খোঁয়াড়ে সালাত আদায় করব কি? তিনি বললেন, “হ্যাঁ” সে বলল, উটের খোয়াড়ে/আস্তাবলে সালাত আদায় করব কি, তিনি বললেন, “না”
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।হাদীসটি ব্যাখ্যা “আমি কি বকরীর গোশত খেয়ে ওযু করব?” এটি একজন সাহাবীর পক্ষ থেকে বকরীর গোশত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা যে, বকরীর গোশত ভক্ষণকারী যখন সালাত বা যেসব ইবাদত পালনে পবিত্রতা শর্ত তার ইচ্ছা করে, তার জন্যে ওযু করা ওয়াজিব কিনা? “যদি চাও ওযু কর আর যদি না চাও ওযু করো না।” নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ওযু করা ও না করা দু’টির মধ্যেই স্বাধীনতা দেন এবং দু’টিই বৈধ। সে বলল, উটের গোশত খেয়ে ওযু করব কি? অর্থাৎ উটের গোশত খাওয়ার পর যখন সালাতের ইচ্ছা করি অথবা যে সব বিধান পালনে পবিত্রতা শর্ত তা আদায় করার ইচ্ছা করি তখন তার জন্য ওযু করা ওয়াজিব কিনা? “হ্যাঁ। উটের গোশত খেয়ে ওযু কর” অর্থাৎ উটের গোশত খাওয়া দ্বারা তোমার ওপর ওযু করা ওয়াজিব, যদিও তা সামান্য হয়ে থাকে। তবে উটের দুধ ও তার গোশতের ঝোল খাওয়াতে ওযু করা ওয়াজিব নয়। কারণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উরনায়াইনদের উটের দুধ খাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তবে খাওয়ার পর তাদের ওযু করার নির্দেশ দেন নি। (যদি ওযু করা জরুরী হত, তিনি অবশ্যই তাদের নির্দেশ দিতেন কারণ) প্রয়োজনের সময় বিধান বর্ণনা না করে চুপ থাকা বৈধ নয়। “সে বলল, বকরীর খোঁয়াড়ে সালাত আদায় করব কি?” অর্থাৎ যে জায়গায় বকরী আশ্রয় নেয় সে স্থানে সালাত আদায় করা যাবে কি? “তিনি বললেন, “হ্যাঁ” অর্থাৎ বকরীর তরফ থেকে কোনো ভয় না থাকার কারণে তোমার জন্য এই সব স্থানে সালাত আদায় করা বৈধ। “সে বলল, উটের খোয়াড়ে সালাত আদায় করব কি?” অর্থাৎ যে জায়গায় উট আশ্রয় নেয় সে স্থানে সালাত আদায় করা যাবে কি? তিনি বললেন, “না” অর্থাৎ তাতে তুমি সালাত আদায় করো না। কারণ, তার দৌড়াদৌড়ি আশঙ্কা থেকে নিরাপদ হওয়া যায় না। তখন মুসল্লীর গায়ে আঘাত লেগে তার ক্ষতি হতে পারে। এ ধরনের সম্ভাবনা বকরীর ক্ষেত্রে নেই। কারণ, তাতে রয়েছে অভয়। কারণ, বকরী কম লাফালাফি করে এবং তার থেকে কষ্টের আশঙ্কা নেই। সুবুলুস সালাম (১/৯৯), ফাতহু যিল জালালি ওয়াল ইকরাম (১/২৬৪), তাওযীহুল আহকাম (৩০৪,৩০৫), তাসহীলুল ইলমাম (১/১৯২,১৯৫)
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “জ্বর জাহান্নামের তীব্র উত্তাপের অংশ বিশেষ। অতএব, তোমরা তা পানি দ্বারা ঠাণ্ডা কর।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানিয়ে দেন যে, জ্বর জাহান্নামের তাপের তীব্রতার অংশ। অসুস্থ ব্যক্তি যে তাপ অনুভব করে, সেটা তারই অংশ। আর পানি দ্বারা সেই তাপ দূর হয়।
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি প্রথম আঘাতেই টিকটিকি হত্যা করে ফেলে, তার জন্য এত এত নেকী হয়, আর যে ব্যক্তি দ্বিতীয় আঘাতে মেরে ফেলে, তার জন্য প্রথম ব্যক্তি অপেক্ষা কম এত এত নেকী হয়। আর যদি তৃতীয় আঘাতে তাকে হত্যা করে, তাহলে তার জন্য (অপেক্ষাকৃত কম) এত এত নেকী হয়।” অপর এক বর্ণনায় আছে, “যে ব্যক্তি প্রথম আঘাতেই টিকটিকি হত্যা করে, তার জন্য একশত নেকী, দ্বিতীয় আঘাতে তার চাইতে কম (নেকী) এবং তৃতীয় আঘাতে তার চাইতে কম (নেকী) হয়।”
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম টিকটিকি হত্যা করার প্রতি উৎসাহ ও প্রেরণা দিয়েছেন। তিনি জানান, যে ব্যক্তি প্রথম আঘাতেই সেটা হত্যা করে ফেলে, তার জন্য একশত নেকী লিপিবদ্ধ করা হয়, আর যে ব্যক্তি দ্বিতীয় আঘাতে সেটাকে মেরে ফেলে, তার জন্য প্রথম ব্যক্তি অপেক্ষা কিছু কম নেকী লেখা হয়। আর যদি তৃতীয় আঘাতে তাকে হত্যা করে, তার নেকী আরও কম লেখা হয়।