





























Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
All
আবুল আসওয়াদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মাদীনায় আসলাম এবং আমি ‘উমার ইব্নুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর নিকট বসলাম। এ সময় তাদের পাশ দিয়ে একটি জানাযা অতিক্রম করল। তখন জানাযার লোকটি সম্পর্কে প্রশংসাসূচক মন্তব্য করা হল। ‘উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বললেন, ওয়াজিব হয়ে গেলে। অতঃপর অপর একটি (জানাযা) অতিক্রম করল, তখন সে লোকটি সম্পর্কেও প্রশংসাসূচক মন্তব্য করা হল। (এবারও) তিনি বললেন, ওয়াজিব হয়ে গেল। অতঃপর তৃতীয় একটি (জানাযা) অতিক্রম করল, লোকটি সম্বন্ধে নিন্দাসূচক মন্তব্য করা হল। তিনি বললেন, ওয়াজিব হয়ে গেল। আবুল আসওয়াদ বলেন, আমি বললাম, হে আমীরুল মু‘মিনীন! কি ওয়াজিব হয়ে গেল। তিনি বললেন, আমি তেমনই বলেছি, যেমন নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন, যে কোন মুসলিম সম্পর্কে চার ব্যক্তি ভাল বলে সাক্ষ্য দিবে, আল্লাহ্ তাকে জান্নাতে দাখিল করবেন। ‘উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, তখন আমরা বলেছিলাম, তিনজন হলে? তিনি বললেন, তিনজন হলেও। আমরা বললাম, দু’জন হলে? তিনি বললেন, দু’জন হলেও। অতঃপর আমরা একজন সম্পর্কে আর তাঁকে জিজ্ঞেস করিনি। এটি বর্ণনা করেছেন বুখারী।
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুর পাশ দিয়ে একটি জানাযা অতিক্রম করল। তার সাথে কতক লোক উপস্থিত ছিল।তখন তারা জানাযার লোকটি সম্পর্কে প্রশংসাসূচক মন্তব্য করল। ‘উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বললেন, তা তার জন্য ওয়াজিব হয়ে গেলে। অতঃপর অপর একটি (জানাযা) অতিক্রম করল, তখন তারা সে লোকটি সম্পর্কেও আগের লোকটির মতো সুশংসাসূচক মন্তব্য করল। (এবারও) তিনি বললেন, তার জন্য তা ওয়াজিব হয়ে গেল। অতঃপর তৃতীয় একটি (জানাযা) অতিক্রম করল, তারা লোকটি সম্বন্ধে নিন্দাসূচক মন্তব্য করল। তিনি বললেন, তার জন্য তা ওয়াজিব হয়ে গেল। আবুল আসওয়াদের জন্য উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুর কথা মুশকিল হয়ে পড়ল। তাই সে এর অর্থ জানতে চাইলো। তখন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আমি তেমনই বলেছি, যেমন নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন, যে কোন মুসলিম সম্পর্কে চারজন ভালো ও নেককার লোক ভালো ও নেককার বলে সাক্ষ্য দিবে, সে অবশ্যই ভালো। আর তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যাবে। রাসূলুল্লাহ থেকে এ কথা শুনে সাহাবীগণ বলেছিলেন, যার জন্য তিনজন ভালো বলে সাক্ষ্য প্রদান করে? তিনি বললেন, অনুরূপভাবে যার জন্য তিনজন লোক ভালো বলে সাক্ষ্য দেবে তার জন্য জান্নাত অবধারিত হবে। এ কথা শোনে সাহাবীগণ বললেন, যদি তার জন্য দুইজন ব্যক্তি ভালো বলে সাক্ষ্য প্রদান করে তার জন্যও কি জান্নাত ওয়াজিব হবে? তিনি বললেন, যার জন্য দুইজন লোকও ভালো হওয়ার সাক্ষ্য দেবে তার জন্যও জান্নাত ওয়াজিব হবে। আর যার জন্য একজন লোক ভালো বলে সাক্ষ্য প্রদান করবে তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হবে কিনা তা জিজ্ঞাসা করিনি।
আবূ সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন এক মহিলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বলল, ‘হে আল্লাহর রসূল! কেবলমাত্র পুরুষেরাই আপনার হাদীস শোনার সৌভাগ্য লাভ করছে। সুতরাং আপনি আমাদের জন্যও একটি দিন নির্ধারিত করুন। আমরা সে দিন আপনার নিকট আসব, আপনি আমাদেরকে তা শিক্ষা দেবেন, যা আল্লাহ আপনাকে শিক্ষা দিয়েছেন।’ তিনি বললেন, “তোমরা অমুক অমুক দিন একত্রিত হও।” অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের নিকট এসে সে শিক্ষা দিলেন, যা আল্লাহ তাঁকে শিক্ষা দিয়েছেন। তারপর তিনি বললেন, “তোমাদের মধ্যে যে কোন মহিলার তিনটি সন্তান মারা যাবে, তারা তার জন্য জাহান্নামের আগুন থেকে আড় হয়ে যাবে।” এক মহিলা বলল, ‘আর দু’টি সন্তান মারা গেলে?’ তিনি বললেন, “দু’টি মারা গেলেও (তাই হবে)।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।একজন মহিলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলল, পুরুষরা পুরো সময় আপনার ব্যয় করে। ফলে সারা দিন তারা আপনার পিছু না ছাড়ার কারণে আমরা আপনার সাথে সাক্ষাৎ করতে এবং দীন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে সুযোগ পাই না। তাই আমাদের নারীদের জন্য একটি দিন ধার্য করেন যাতে আমরা আপনার সাক্ষাৎ করতে পারি তাতে আপনি আমাদের আমাদের দীনের বিষয়গুলো শেখাবেন। ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের জন্য একটি দিন নির্ধারণ করলেন যাতে তারা একত্র হয়। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জন্য যে দিন নির্ধারণ করল সেদিন নারীরা একত্র হলো। তিনি তাদের সম্মুখে এসে আল্লাহ তাকে যা শিখিয়েছেন তা হতে যে সব বিষয় জানা তাদের প্রয়োজন তা শিক্ষা দিলেন। তারপর তিনি তাদের সু-সংবাদ দিলেন যে, যে কোন নারীর তিনজন সন্তান ছেলে হোক বা মেয়ে হোক মারা যায় সে সাওয়াবের আশায় এবং ধৈর্য সহকারে আখিরাতের জন্য তাদের পেশ করে তাদের কারণে তার দুঃখিত হওয়া জাহান্নাম থেকে সুরক্ষা হবে। যদিও গুনাহের কারণে সে তা নিজের ওপর অবধারিত করে রাখছিল। এ শোনে এক মহিলা বলল, যদি তার দুইজন মারা যায় তাহলে তার জন্য কি তিনজন সন্তান মারা যাওয়ার মতো সাওয়াব মিলবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যদি তার দুইজন সন্তান মারা যায়, তার জন্যও যার তিনজন সন্তান মারা যায় তার সাওয়াব মিলবে।
আব্দুল্লাহ ইবনে আবী আওফা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু তাঁর এক মেয়ের জানাযায় চার তাকবীর দিলেন। অতঃপর তিনি চতুর্থ তাকবীরের পর দুই তাকবীরের মধ্যস্থলে যতটা সময় লাগে ততক্ষণ দাঁড়িয়ে তার (কন্যার) জন্য ক্ষমা প্রার্থনা ও দুআ করলেন। তারপর তিনি বললেন, ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই রকমই করতেন। অন্য এক বর্ণনায় আছে, তিনি চার তাকবীর বলার পর কিছুক্ষণ থেমে গেলেন, এমনকি আমি ধারণা করলাম যে, তিনি পাঁচ তাকবীর বলবেন। অতঃপর তিনি তাঁর ডানে ও বামে সালাম ফিরালেন। তারপর তিনি যখন নামায শেষ করলেন, তখন আমরা তাঁকে বললাম, ‘একী!?’ তিনি বললেন, ‘আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে যা করতে দেখেছি, তার চেয়ে বেশী করব না’ অথবা ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ রকমই করেছেন।
এটি ইবন মাজাহ বর্ণনা করেছেন। - এটি হাকিম বর্ণনা করেছেন।আব্দুল্লাহ ইবনে আবী আওফা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু সংবাদ দেন যে, তিনি তাঁর এক মেয়ের জানাযার সালাতে ইমামতি করেন। তাতে তিনি চার তাকবীর দিলেন। সালাতে প্রবেশের জন্য তাকবীর। তারপর তিনি সূরা ফাতিহা পড়লেন। তারপর তিনি দ্বিতীয় তাকবীর দিলেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর দরূপ পড়লেন। তারপর তিনি তৃতীয় তাকবীর দিলেন তারপর মৃতের জন্য দো‘আ করলেন। তারপর তিনি চুতুর্থ তাকবীর দিলেন। চতুর্থ তাকবীরের পর তিনি কিছু সময় দেরি করলেন। যাতে তিনি দো‘আ ও ইস্তেগফার করেন। তারপর সালাতের সালাম ফিরিয়ে যারা তার সাথে সালাত আদায় করেছিল তাদের বললেন, এভাবেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানাযার সালাত আদায় করতেন।অর্থাৎ তিনি চার তাকবীর বলতেন এবং চতুর্থ তাকবীরের পর মৃতের জন্য দো‘আ করতেন। অপর বর্ণনায় বর্ণিত: উল্লিখিত নিয়মে তিনি চার তাকবীর বললেন, তারপর তিনি দো‘আ করেন এবং ক্ষমা প্রার্থনা করেন এমনকি যারা পিছনে ছিল তার ভাবছিল তিনি পঞ্চম তাকবীর দেবেন। অতঃপর তিনি দুইটি সালাম ফিরালেন। প্রথম সালাম তাঁর ডানে ও দ্বিতীয় সালাম তার বামে ফিরালেন সালাতের ন্যায়। সালাত শেষে তার পিছনের লোকেরা তাকে চুতুর্থ তাকবীরের পর সাথে সাথে সালাম না ফিরিয়ে দেরি করার কারণ সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞাসা করল। তিনি বললেন, ‘আমি যে কাজটি করেছি তাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম- যা করছেন তার ওপর অতিরিক্ত কিছু নেই। তবে অধিক সহীহ এবং অধিকাংশ সাহাবী আমল হলো শুধু ডান দিকে একবার সালাম ফিরানো।
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার আমাদেরকে একটি অভিযানে পাঠালেন এবং কুরাইশ বংশীয় দুই ব্যক্তির নাম নিয়ে আদেশ দিলেন যে, ‘তোমরা যদি অমুক ও অমুককে পাও, তাহলে তাদেরকে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিও।’ অতঃপর যখন যাত্রা শুরু করলাম, তখন তিনি বললেন, “আমি তোমাদেরকে অমুক অমুককে আগুন দিয়ে জ্বালাতে বলেছিলাম। কিন্তু আগুন দিয়ে জ্বালানোর শাস্তি কেবল আল্লাহই দেন। বিধায় তোমরা যদি তাদেরকে পাও, তাহলে তাদেরকে হত্যা ক’রে দিও।”
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু এ হাদীসটিতে সংবাদ দেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার তাদেরকে একটি অভিযানে পাঠালেন দুশমনদের সাথে যদ্ধ করার জন্য এবং তাদের নির্দেশ দিলেন যদি তারা কুরাইশ বংশীয় দুইজন নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে দেখে তারা যেন তাদের আগুন দিয়ে জালিয়ে দেয়। অতঃপর যখন তারা যাত্রা শুরু করল এবং তারা তাদের সফরের পূর্বে তার কাছ থেকে বিদায় আনতে গেলেন, তখন তিনি বললেন, “আমি তোমাদেরকে অমুক অমুককে আগুন দিয়ে জ্বালানোর নির্দেশ দিয়েছিলাম। কিন্তু আগুন দিয়ে জ্বালানোর শাস্তি কেবল আল্লাহই দেন। বিধায় তোমরা যদি তাদেরকে পাও, তাহলে তাদেরকে হত্যা ক’রে দিও”।
ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা ’আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সফর সঙ্গী ছিলাম। তিনি তাঁর প্রয়োজনে অন্যত্র গেলেন। ’আমরা দু’টি বাচ্চাসহ একটি পাখি দেখতে পেয়ে বাচ্চা দুটোকে ধরে নিলাম। মা পাখিটা সাথে সাথে আসলো এবং পাখা ঝাঁপটিয়ে বাচ্চার জন্য অস্থিরতা প্রকাশ করতে লাগলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফিরে এসে বললেনঃ “কে এর বাচ্চা নিয়ে এসে একে অস্থিরতায় ফেলেছে? বাচ্চাগুলো এদের মায়ের কাছে ফিরিয়ে দাও”। তিনি আমাদের পুড়িয়ে দেয়া একটা পিঁপড়ার টিবি দেখতে পেয়ে বললেনঃ “কে এগুলো পুড়িয়েছে?” ’আমরা বললাম, ’আমরা। তিনি বললেনঃ “আগুনের রব ব্যতীত আগুন দিয়ে কিছুকে শাস্তি দেয়ার কারো অধিকার নেই”।
আবু দাউদ এটি বর্ণনা করেছেনআবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, তারা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে এক সফরে ছিলেন, তিনি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মলত্যাগ করতে বেরিয়ে পড়লেন এবং তার সঙ্গীরা দুটি ছানাসহ একটি লাল পাখি দেখতে পেলেন, তাই তারা তাদের ধরলেন। লাল পাখিটি তার ছানা হারানোর ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে তার ডানা মেলে দিতে শুরু করল এবং ডানা খুলতে শুরু করল। তারপর তিনি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে বললেন: তার সন্তানদের কেড়ে নিয়ে কে তাকে দুঃখিত এবং ভীত করেছে?! তারপর তিনি তাকে তা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিলেন। তারপর তিনি একটি পিঁপড়ার গ্রাম দেখতে পেলেন যা আগুনে পুড়া হয়েছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: কে এটা পুড়িয়ে দিয়েছে? তার কিছু সাহাবী বললেন: আমরা। তিনি তাদের বললেন: কাউকে আগুন দিয়ে জীবন্ত যন্ত্রণা দেওয়া স্রষ্টা ছাড়া কারও পক্ষে জায়েয নয়।
বুরাইদাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফু‘ হিসেবে বর্ণিত, “যারা যুদ্ধে যায় নি, তাদের জন্য মুজাহিদদের স্ত্রীগণ এমন হারাম, যেমন তাদের জন্য তাদের মাতাগণ হারাম। আর কোনো মুজাহিদের পরিবারের ব্যাপারে কোনো ব্যক্তি যদি জিম্মাদার হয় অতঃপর তার পরিবারের ক্ষেত্রে তার খিয়ানত করে, তাহলে সে ব্যক্তি কিয়ামতের দিন তার গতি রোধ করে দাঁড়াবে এবং সন্তুষ্ট না হওয়া পর্যন্ত তার আমল হতে যা ইচ্ছা কেড়ে নিবে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের দিকে তাকালেন এবং বললেন, “তোমাদের ধারণা কী?” (অর্থাৎ তোমাদের ধারনায় সে কী পরিমাণ গ্রহণ করবে!)
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।একটি নীতি হচ্ছে, পরনারী পর পুরুষের জন্য হারাম। আর হারামের পরিমাণটা আরো বেড়ে যায় মুজাহিদদের স্ত্রীদের ব্যাপারে, যারা আল্লাহর পথে জিহাদের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে গেছেন এবং তাদের স্ত্রীগণকে পশ্চাতে রেখে গেছেন তাদের দেখা-শুনাকারীদের দায়িত্বে। সুতরাং যারা যুদ্ধে যায় নি তাদের জন্য আবশ্যক হলো মুজাহিদদের স্ত্রীগণের মান-সম্মান রক্ষার ব্যাপারে সর্বাত্মক সতর্কতা অবলম্বন করা, তাদের সাথে নির্জনে মিলিত না হওয়া, তাদের দিকে দৃষ্টি না দেওয়া ও তাদের সাথে অশ্লীল কথাবার্তা না বলা। কেননা তারা সেসব লোকদের জন্য এমন হারাম যেমন তাদের জন্য তাদের মাতাগণ হারাম। তাছাড়া তারা (মুজাহিদগণ) তাদেরকে যুদ্ধে না নিয়ে বাড়িতে এ জন্য রেখে গেছেন যাতে তাদের পরিবারের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরবরাহ করেন। তাই নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যারা যুদ্ধে যায় নি তাদের ওপর ওয়াজিব হলো মুজাহিদের পরিবারের প্রয়োজন মেটানো এবং তাদের কোনো খিয়ানত না করা, তাদের দিকে না তাকানো অথবা হারাম কোনো কাজ করার চেষ্টা না করা, তাদের দেখাশুনা ও রক্ষণাবেক্ষণ করা, উপকারী ও কল্যাণকর জিনিস পৌঁছানো এবং কষ্টকর জিনিস থেকে দূরে রাখার ব্যাপারে কোনো ধরণের ত্রুটি না করা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী, “যে ব্যক্তি মুজাহিদের অবর্তমানে তার স্ত্রীর ব্যাপারে খিয়ানত করার দুঃসাহস দেখাবে এবং তার খিয়ানত করবে, তাহলে আল্লাহ তা‘আলা কিয়ামতের দিন উক্ত মুজাহিদকে খিয়ানতকারীর আমলনামা থেকে যতো খুশী ততো নেক আমল কেড়ে নেওয়ার অনুমতি দিবেন, যাতে তার চক্ষু শীতল হয়ে যায়।” অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “তোমাদের ধারণা কী?” অর্থাৎ সে পরিস্থিতিতে খিয়ানতকারীর আমলনামা থেকে মুজাহিদ কতো বেশি পরিমাণ আমল নিবে সে ব্যাপারে তোমাদের ধারণা কী? অর্থাৎ সে এতো বেশি আমল নিবে যে, খিয়ানতকারীর আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। দেখুন, মিরকাতুল মাফাতীহ (৬/২৪৬১); শরহি সুনানি আবী দাঊদ লিল আব্বাদ, ইলেকট্রনিক কপি।
ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক বালকের মাথার কিছু অংশের চুল কামানো ও কিছু অংশের চুল না কামানো দেখে তাদেরকে এরূপ করতে নিষেধ করলেন। তিনি বললেন, ”তোমরা মাথা মুণ্ডন করলে পুরোপুরি মুণ্ডন করবে, না হয় পুরোপুরি ছেড়ে দিবে।”
এটি নাসাঈ বর্ণনা করেছেন। - এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন।হাদীসের অর্থ: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক বালকের মাথার কিছু অংশের চুল কামানো ও কিছু অংশের চুল না কামানো দেখে তাদেরকে দ্বিতীয়বার এরূপ করতে নিষেধ করলেন। তিনি তাদেরকে বললেন, ”তোমরা মাথা মুণ্ডন করলে পুরোপুরি মুণ্ডন করবে, না হয় পুরোপুরি ছেড়ে দিবে।”
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, “তোমাদের কারো যদি একটি জুতার ফিতা ছিড়ে যায়, তখন সে যেন তা মেরামত না করা পর্যন্ত এক জুতা পায়ে দিয়ে না হাঁটে।”
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।কারো একটি জুতার ফিতা ছিড়ে গেলে এবং সেটি পায়ে দিয়ে চলতে সক্ষম না হলে তখন এক জুতা পায়ে হাঁটতে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন। বরং সে ছিড়ে যাওয়া জুতাটি মেরামত করবে অথবা অপরটি খুলে রেখে খালি পায়ে হাঁটবে।
জাবির ইবন রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মক্কা বিজয়ের দিন আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর পিতা আবূ কুহাফা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুকে নিয়ে আসা হলো। তার চুল ও দাঁড়ি ছিল সাগামার (এক ধরনের সাদা উদ্ভিদের) ন্যায় সাদা। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এটি কোনো কিছু দিয়ে পরিবর্তন করে দাও; তবে কালো রং বর্জন করবে।
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।জাবির ইবন রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মক্কা বিজয়ের দিন আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর পিতা আবূ কুহাফা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুকে নিয়ে আসা হলো। তার চুল ও দাঁড়ি ছিল সাগামার (এক ধরনের সাদা উদ্ভিদের) ন্যায় সাদা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে এ অবস্থায় দেখে বললেন, “এটি কোনো কিছু দিয়ে পরিবর্তন করে দাও; তবে কালো রং বর্জন করবে।” তিনি তাকে সাদা চুল ও দাঁড়ি পরিবর্তন করতে নির্দেশ দিলেন তবে কালো রং বর্জন করতে আদেশ করেছেন। কেননা কালো রং মানে হলো ব্যক্তিকে তার যৌবনে ফিরিয়ে নেওয়া। আর এ ধরনের কাজ হলো আল্লাহর সৃষ্টির স্বাভাবিকতা ও তাঁর চিরন্তন নিয়মকে পরিবর্তন করা। অন্যদিকে অন্য রং যেমন লাল, হলুদ বা মেহেদী ও কাতাম বা মিশ্রিত রং দ্বারা চুল বা দাঁড়ি পরিবর্তন করতে বাধা নেই। কালো রং না হয়ে যদি কালো ও লাল রংয়ের মাঝামাঝি হয় তাতেও কোনো অসুবিধে নেই। কেননা হাদীসে শুধু খাঁটি কালো রং ব্যবহার করতে নিষেধ করা হয়েছে। সহীহ মুসলিমে আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবূ বকর ও উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু মেহেদী ও কাতাম দ্বারা চুল রঙিন করেছিলেন।