





























Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
All
কাইস ইবন আবী হাযেম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা অসুস্থ খাব্বাব ইবন আরাত্ত রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুকে দেখতে গেলাম। তখন তিনি (চিকিৎসার জন্যে) শরীরে সাতটি ছেঁকা দিয়েছিলেন। তিনি বললেন, ‘আমাদের সাথীরা যারা (পূর্বেই) মারা গেছেন তাঁরা এমতাবস্থায় চলে গেছেন যে, দুনিয়া তাদের আমলের সওয়াব কমাতে পারে নি। আর আমরা এমন (সম্পদ) লাভ করেছি, যা মাটি ছাড়া অন্য কোথাও রাখার জায়গা পাচ্ছি না। যদি নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে মৃত্যু-কামনা করতে নিষেধ না করতেন, তাহলে আমি মৃত্যুর জন্য দো‘আ করতাম।’ (কাইস বলেন) অতঃপর আমরা অন্য এক সময় তাঁর কাছে আসলাম। তখন তিনি তাঁর (বাড়ির) দেয়াল তৈরি করছিলেন। তিনি বললেন, ‘মুসলিম ব্যক্তিকে তার সকল প্রকার ব্যয়ের ওপর সাওয়াব দান করা হয়, তবে এ মাটিতে ব্যয়কৃত জিনিস ব্যতীত।’
মুত্তাফাকুন আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম), তবে শব্দ সহীহ বুখারীর।হাদীসটির ব্যাখ্যা হচ্ছে, খাব্বাব ইবন আরাত্ত রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর শরীরে সাতটি লোহার গরম ছেঁকা দেওয়া হয়েছে। তারপর তার সাথীরা তাকে দেখার জন্য তার নিকট আসলেন, তিনি তাদের বললেন যে, ‘আমাদের সাথীরা যারা পূর্বেই মারা গেছেন, তারা দুনিয়ার এমন কোনো স্বাদ উপভোগ করেন নি, যাতে আখিরাতে আল্লাহ তা‘আলা তাদের জন্য যা প্রস্তুত করে রেখেছেন তাতে তাদের কোনো ঘাটতি হয়। কিন্তু তিনি এত পরিমাণ সম্পদ লাভ করেছেন যে, তার দ্বারা বাড়ি নির্মাণ করা ছাড়া কোথাও তা সংরক্ষণ করার জায়গা পাচ্ছেন না। তিনি বললেন, যদি নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে মৃত্যু কামনা করতে নিষেধ না করতেন, তাহলে আমি মৃত্যুর জন্য দো‘আ করতাম।’ তবে দীনের ব্যাপারে যখন ফিতনার সম্মুখীন হবে, তখন হাদীসে বর্ণিত বাক্য দ্বারা দো‘আ করা যাবে। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মুসলিম ব্যক্তিকে তার সকল ব্যয়ের ওপর সাওয়াব দান করা হয়, তবে এ মাটিতে ব্যয়কৃত জিনিস ব্যতীত।’ অর্থাৎ ঘর বানাতে ব্যয় করা ছাড়া। কারণ, মানুষের থাকার জন্য যে ঘর যথেষ্ট, তা বানানোর জন্যে বেশী খরচ করার প্রয়োজন হয় না। আর যে সম্পদ প্রয়োজনের অতিরিক্ত ঘর বানানোর কাজে ব্যয় করা হয়, তার ওপর মানুষকে সাওয়াব দেওয়া হয় না। কিন্তু যদি কোনো ঘর ফকীরদের বসবাসের জন্য নির্মাণ করা হয় অথবা তার আয় আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করার জন্য বা এ ধরনের কোনো কল্যাণের জন্য বানানো হয়, তাতে অবশ্যই সাওয়াব পাবে। তবে থাকার জন্য অতিরিক্ত ঘর বানানোতে কোনো সাওয়াব হবে না। আর ছেঁকা দেওয়ার নিষেধাজ্ঞা তার জন্যে, যে বিশ্বাস করে যে, ছেঁকা দিলেই সুস্থতা লাভ হয়। আর যে বিশ্বাস করে প্রকৃত সুস্থতাদানকারী কেবল আল্লাহ, তার জন্যে ছেঁকা লাগানোতে অসুবিধা নেই অথবা যে অন্য চিকিৎসা গ্রহণ করতে সক্ষম তার জন্য ছেঁকা লাগানো নিষেধ, সে (অন্য চিকিৎসা গ্রহণ না করে ছেঁকা লাগালে) তাড়াতাড়ি করল এবং সবার শেষে ছেঁকার চিকিৎসা গ্রহণ করল না।
আবূ আত্বিয়্যাহ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ও মাসরূক আয়েশা রাদিয়াল্লাহ আনহার নিকট উপস্থিত হলাম। মাসরুক তাঁকে বললেন, ‘মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথীদের মধ্যে দু’জন সাথী কল্যাণের ব্যাপারে আদৌ ত্রুটি করেন না। তাঁদের একজন মাগরিব ও ইফতার দ্রুত সম্পাদন করেন এবং অপরজন মাগরিব ও ইফতার দেরীতে সম্পাদন করেন।’ এ কথা শুনে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, ‘কে মাগরিব ও ইফতার দ্রুত করেন?’ তিনি বললেন, ‘আব্দুল্লাহ —অর্থাৎ ইবন মাসঊদ— তিনি বললেন, ‘আল্লাহর রসূল এরূপই করতেন।’
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।আবূ আত্বিয়্যাহ ও মাসরূক আয়েশা রাদিয়াল্লাহ আনহাকে‘মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথীদের মধ্যে দু’জন সাথীর ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করেন। তাদের একজন মাগরিব ও ইফতার দেরিতে করেন এবং অপরজন মাগরিব ও ইফতার তাড়াতাড়ি সম্পাদন করেন।’ তাদের দুইজনের মধ্যে কে সঠিক পথের ওপর আছে? এ কথা শুনে আয়েশা জিজ্ঞাসা করলেন, ‘কে মাগরিব ও ইফতার তাড়াতাড়ি করেন?’ তারা বললেন, ইবন মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহু।’ তিনি বললেন, ‘আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপই করতেন।’ অর্থাৎ মাগরিব ও ইফতার তাড়াতাড়ি সম্পাদন করেন।’ এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কর্মগত সুন্নাত। এতে প্রমাণিত হয়, যে উত্তম হলো ইফতার দ্রুত করা।
আয়িশা রাদিয়াল্লাহ আনহা হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার রুকু ও সিজদাতে পড়তেন, “সুববূহুন ক্বুদ্দূসুন রাববুল মালা-ইকাতি অর্রূহ।” অর্থাৎ, অতি পবিত্র, মহা পবিত্র ফেরেশতামন্ডলী ও জিবরীল -এর রব।
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।আয়িশা রাদিয়াল্লাহ আনহা হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় সালাতের রুকু ও সিজদাতে পড়তেন, ‘সুববূহুন ক্বুদ্দূসুন রাববুল মালা-ইকাতি ওয়াররুহ।’ অর্থাৎ, “অতি পবিত্র, মহা পবিত্র ফেরেশতামন্ডলী ও জিবরীল -এর রব।” অর্থাৎ আপনি অতি পবিত্র ও মহা পবিত্র।” এটি পবিত্রতা বর্ণনা করার চূড়ান্ত শব্দ। মহান আল্লাহ অতি পবিত্র ও মহা পবীত্র। “ফেরেশতামন্ডলীর রব।” তারা হলো আল্লাহর বাহিনী, যাদের আমরা প্রত্যক্ষ করি না। আর রূহ হলো জিবরীল। তিনি হলেন সর্বশ্রেষ্ট ফিরিশতা। সুতরা‘ একজন মানুষের জন্য স্বীয় সালাতের রুকু ও সেজদায় বেশি বেশি করে ‘সুববূহুন ক্বুদ্দূসুন রাববুল মালা-ইকাতি ওয়ারুহ বলা উচিত। কুদ্দূস আল্লাহর সুন্দর নামসমূহের একটি নাম। এটি কাদ্দাসা শব্দ হতে সংগৃহিত। এর অর্থ হলো, বড়ত্ব ও মহত্ব সহকারে যাবতীয় খারাপী থেকে তার পবিত্রতা ঘোষণা ও তাকে দূরত্বে রাখা। আর সুব্বুহুন এটি তার সুন্দর নামসমূহের একটি নাম। অর্থাৎ অসীম পবিত্র।
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট প্রবেশ করল, তখন আমার নিকট একজন মানুষ ছিল। তিনি বললেন, হে আয়েশা লোকটি কে? আমি বললাম, আমার দুধ ভাই। তখন তিনি বললেন, হে আয়েশা তুমি যাচাই করে দেখ কারা তোমার ভাই? কারণ, ভাই হওয়ার ক্ষেত্রে ক্ষুধা নিবারণের জন্য দুধ পান করাই ধর্তব্য।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহার নিকট প্রবেশ করলেন, তখন আয়েশার নিকট আয়েশারই এক দুধভাইকে দেখতে পেলেন, যার সম্পর্কে তিনি জানতেন না। এ অবস্থাটিকে অপছন্দ করে এবং তার মাহরামের ওপর ঈর্ষান্বিত হয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চেহারার রং পরিবর্তন হয়ে গেল। যে কারণে রাসূলের চেহারার রং পরিবর্তন হলো তা তিনি বুঝতে পারলেন, তাই তিনি তাকে জানিয়ে দিলেন, ‘সে তার দুগ্ধ ভাই।’ তখন তিনি বললেন, হে আয়েশা! তুমি ভেবে চিন্তে দেখ এবং দুধপান সাব্যস্ত করা বিষয়ে আরো যত্নবা হও। কারণ, এমনও দুধপান আছে যার দ্বারা মাহরাম সাব্যস্ত হয় না। সুতরাং দুধপান এমন হতে হবে, যার দ্বারা দেহের বৃদ্ধি ঘটে এবং হাঁড় শক্ত হয়। আর তা তখন হবে যখন বাচ্চা মুখাপেক্ষি হয়ে ক্ষুধা নিবারণের উদ্দেশ্যে দুধ পান করে এবং দুধ ছাড়া অন্য কিছু দ্বারা তার ক্ষুধা নিবারণ না হয়। তখন বাচ্চা দুধ মাতার দেহের অংশ ও তার সন্তানের মতো হবে এবং তার সাথে মাহরাম সাব্যস্ত হবে। মাহরাম হওয়ার অর্থ হলো দুধপানকারিনী এবং তার পরিবারের জন্য সে মুহরিম হবে। ফলে তার থেকে পর্দা করতে হবে না, তার সাথে দেখা দেওয়া যাবে এবং সফরে সে তার মুহরিম হবে। এ বিধান দুধ দানকারিনী, দুধের মালিক তার স্বামী, তাদের সন্তান, তাদের ভাই-বোন এবং তাদের মাতা-পিতা সবাইকে শামিল করে।
আব্দুল্লাহ ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু খায়বারে একটি যমীন লাভ করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে তার ব্যাপারে পরামর্শ চান। যেমন তিনি বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি খায়বারে একটি যমীন পেয়েছি, ইতোপূর্বে আমি কখনো তার চেয়ে অধিক প্রিয় কোনো সম্পদ লাভ করি নি, আপনি তার বিষয়ে আমাকে কি নির্দেশনা দেন? তিনি বললেন: যদি চাও তুমি তার মালিকানা রাখতে পার এবং উৎপাদনটা দান করতে পার। তিনি বললেন, তিনি তা সাদকা করে দিলেন। তবে মুল মালিকানা বিক্রি করা যাবে না, হেবা করা যাবে না এবং তার উত্তরাধিকারীও হওয়া যাবে না। তিনি বললেন, তারপর উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু তা ফকীর-মিসকীন, নিকটাত্মীয়কে, মুক্তিপণ আদায়ে, আল্লাহর রাস্তায় এবং মুসাফির ও মেহমানদেরকে দান করে দেন। যে ব্যক্তি এ সম্পদের অভিভাবকত্ব করবে, তার জন্য জমা করার উদ্দেশ্য ব্যতীত তা থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী ভক্ষণ করা বা বন্ধুকে খাওয়ানোতে কোনো অসুবিধা নেই।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু খায়বারে একটি যমীন লাভ করেন। তার পরিমাণ একশ অংশ। এটি ছিল তার নিকট তার সম্পদের মধ্যে সবচেয়ে মুল্যবান। কারণ, যমীনটি খুবই ভালো ও উর্বর ছিল। আর সাহাবীগণ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুম তো চিরন্তন কল্যাণের প্রতি আগ্রহী ও প্রতিযোগী ছিলেন। তাই তিনি আল্লাহর বাণী: {لَنْ تَنَالوا البِرً حَتًى تُنْفِقُوا مِمًا تُحِبونَ } “তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত কল্যাণ লাভ করবে না যতক্ষণ না তোমরা যা মহব্বত কর তা থেকে ব্যয় কর।” [সূরা আলে-ইমরান, আয়াত:৯২] বাস্তবায়ন কল্পে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যে সদকা করার পদ্ধতি সম্পর্কে পরামর্শ চাইলেন। তিনি তাকে সাদকার উত্তম প্রদ্ধতি বললেন, আর তা হলো মুল সম্পদ ধরে রেখে তার উৎপাদন ওয়াকফ করা। উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু তাই করলেন, ফলে তার জমি ওয়াকফ হয়ে গেল। অতএব, তাতে বিক্রি অথবা দান অথবা উত্তরাধিকার ইত্যাদি কোনো প্রকার কর্তৃত্ব যাতে মালিকানা হস্তান্তর হয় বা তার কারণ হয় করা যাবে না। বরং তার উৎপাদন ফকীর, মিসকীন, নিকটাত্মীয় ও রক্তের সম্পর্কীয় আত্মীয়ের স্বার্থে, এবং তার দ্বারা গোলামী থেকে মুক্ত করার জন্য মুক্তিপণ হিসেবে অথবা যাদের ওপর দিয়ত ওয়াজিব হয়েছে তাদের পক্ষ থেকে দিয়ত হিসেবে এবং যারা আল্লাহর কালেমাকে সমুন্নত রাখতে ও তার দীনকে সাহায্য করতে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করে তাদের স্বার্থে; অথবা মুসাফির যার খাদ্য ও পানীয়ের খরচা অপরিচিত শহরে গিয়ে শেষ হয়ে গেছে ও মেহমানদেরকে মেহমানদারীর উদ্দেশ্যে খাওয়ানো ইত্যাদি কল্যাণমুলক কাজে ব্যয় করবে। মেহমানের মেহমানদারী করা আল্লাহর ওপর ঈমানের একটি অংশ। এ ছাড়াও এ সম্পদ তাদের প্রয়োজনে ব্যয় হবে যারা এই ওয়াকফের দায়-দায়িত্ব নেয় ও তার যত্ন করে। তারা তার থেকে ন্যায় সঙ্গতভাবে ভক্ষণ করবে। ফলে নিজের জন্যে সঞ্চয় করার উদ্দেশ্য পরিহার করে তা থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী ভক্ষণ করতে ও বন্ধুকে খাওয়ানোতে কোনো অসুবিধা নেই। এ সম্পদ একমাত্র কল্যাণ ও ইহসানের পথে ব্যয় করার জন্যই নির্ধারণ করা হয়েছে, কারো সম্পদ বৃদ্ধি বা পুঁজি বানানোর জন্য নয়। জ্ঞাতব্য: ওয়াকফ হচ্ছে, মুসলিম কোনো একটি কল্যাণকর ক্ষেত্রে তার এমন সম্পদকে সদকা করবে যার উৎপাদন রয়েছে, ফলে তার উৎপাদন ওই খাতে ব্যয় করবে আর মূল সম্পদ অক্ষত থাকবে। তার দৃষ্টান্ত: ফকীরদের জন্যে কোনো একটি ক্ষেত ওয়াক্ফ করা হলো, তখন যে সব ফল ও ফসল তা থেকে উৎপন্ন হবে, তা ফকীরদের দেওয়া হবে এবং ক্ষেতটি মালিকানাধীন থেকে যাবে।
আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন আব্দুর রহমান ইবন ‘আওফকে দেখলেন যে, তার গায়ে যাফরান রংয়ের চিহ্ন লেগে আছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞেস করলেন, কী ব্যাপার? তিনি বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমি জনৈক মহিলাকে বিবাহ করেছি। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তুমি তাকে কী দিয়েছ? তিনি বললেন, খেজুরের এক আঁটি পরিমাণ স্বর্ণ। তিনি বললেন, আল্লাহ তোমাকে বরকত দান করুন। একটি বকরী দিয়ে হলেও ওয়ালীমা কর।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন আব্দুর রহমান ইবন ‘আওফকে দেখলেন, তার গায়ে যাফরান রংয়ের চিহ্ন লেগে আছে। পুরুষের জন্য উত্তম হলো তারা এমন খুশবু ব্যবহার করবে যার ঘ্রাণ প্রকাশ পাবে কিন্তু দাগ গোপন থাকবে। তাই নবী বিষয়টিকে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অস্বীকৃতি জানিয়ে তার গায়ের চিহ্ন সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তখন তিনি তাকে জানালেন, তিনি কেবল নতুন বিবাহ করেছেন, তার স্ত্রীর দেহ থেকে তার শরীরে দাগটি লেগেছে। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়ালাল্লাম তার জন্য সম্মতি জ্ঞাপন করলেন। যেহেতু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের প্রতি ছিলেন অতি সহানুভূতিশীল ও দয়ালু এ কারণে তিনি তাদের অবস্থা সম্পর্কে অনুসন্ধান করতেন, যাতে ভালো কর্মে তাদের সমর্থন যোগাতেন এবং খারাপ ও মন্দ কর্ম হতে তাদের নিষেধ করতেন, তাই তিনি মহিলার মোহরানা সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তখন তিনি বললেন, তার মোহরানা হলো খেজুরের এক আঁটি পরিমাণ স্বর্ণ। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জন্য বরকতের দো‘আ করলেন এবং নির্দেশ দিলেন, বিবাহ করার কারণে যেন একটি বকরী দিয়ে হলেও ওয়ালীমা করে।
আবূ সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, বেলাল বারনী খেজুর নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, “এগুলো তুমি কোথায় পেয়েছ? বেলাল বলল, আমাদের নিকট খারাপ খেজুর ছিল, তার দুই সা-এর বিনিময়ে এক সা কিনে নিয়ে এসেছি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে খাওয়াবো বলে। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, “আহ্, আহ্, হুবহু সুদ, হুবহু সুদ, এরূপ কর না। তবে যদি তুমি কিনতে চাও, তাহলে (তোমার) খেজুরকে অন্য বস্তুর বিনিময়ে বিক্রি কর, অতঃপর তার মূল্য দিয়ে এই খেজুর খরিদ কর।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।বেলাল বারনী উন্নত খেজুর নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলেন। উন্নত জাতের খেজুর দেখে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আশ্চর্য হলেন এবং বললেন: এগুলো কোত্থেকে? বেলাল বললেন, আমাদের নিকট খেজুর ছিল, ফলে নিম্নমানের দুই সা খেজুর দিয়ে ভালো জাতের এক সা এই খেজুর ক্রয় করেছি, যেন তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খাবার হয়। বিষয়টি নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট কঠিন ঠেকল এবং তিনি আহ্ শব্দ উচ্চারণ করলেন। কারণ, পাপই তার নিকট সবচেয়ে বড় মুসীবত ছিল। তিনি বললেন, তোমার এই কাজটিই হুবহু সুদ, অতএব এরূপ কর না। তবে যদি তুমি নিম্নমানেরটি পরিবর্তন করতে চাও, তাহলে খারাপটিকে মুদ্রার বিনিময়ে বিক্রি কর, অতঃপর মুদ্রা দিয়ে ভালো খেজুর খরিদ কর। এই বৈধ পদ্ধতিটি তুমি গ্রহণ কর, যেন হারামে পড়তে না হয়। “তাইসীরুল আল্লাম শারহু উমদাতুল আহকাম (পৃ. ৫৬৮)”
আবূ মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুকুরের মূল্য, পতিতার পারিশ্রমিক ও গণকের টাকা থেকে নিষেধ করছেন।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।হালাল রিযিক অন্বেষণ করার জন্য সম্মানিত, সম্ভান্ত ও পবিত্র অনেক পেশা রয়েছে খারাপ ও নিচু মানের অনেক পেশার বিপরীতে। যেহেতু প্রথম পদ্ধতিগুলো দ্বিতীয় পদ্ধতিগুলোর মোকাবেলায় যথেষ্ট, আবার দ্বিতীয় পদ্ধতিগুলোতে যে অনিষ্ট আছে সেটা তার উপকারের সামনে খুবই তুচ্ছ, তাই শরী‘আত খারাপ পদ্ধতিগুলো হারাম করে দিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে নিচের তিনটি : ১- কুকুর বেচা। কারণ, কুকুর খারাপ ও নাপাক। ২- একইভাবে পতিতার পতিতাবৃত্তির বিনিময়ে গৃহীত পারিশ্রমিক, যার দ্বারা তার দীন ও দুনিয়া উভয় নষ্ট হয়। ৩- আর অনুরূপভাবে মিথ্যুক ও পথভ্রষ্টদের গৃহীত অর্থ, যারা গায়েব জানার ও জগতে কর্তৃত্ব করার দাবী করে এবং তাদের বাতিল বিদ্যা দ্বারা মানুষকে প্রতারিত করে, যেন তাদের অর্থ নিতে সক্ষম হয়। অতঃপর সেগুলো অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করে। এসব পন্থা হলো নিকৃষ্ট ও হারাম। এমন কাজ করা এবং এর বিনিময় নেওয়াও জায়েয নেই। আল্লাহ এগুলোর বদলে বৈধ সম্ভান্ত পন্থা প্রদান করেছেন।
জাবির ইবন আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত: তিনি একটি উটে আরোহণ করতেন। সেটি তিনি ছেড়ে দেওয়ার ইচ্ছা করলেন। (তিনি বলেন) তারপর আমার সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাক্ষাৎ হলো তিনি আমার জন্য দো‘আ করলেন এবং উটটি প্রহার করলেন। তারপর তা এত দ্রুত চলল, ইতোপূর্বে কোনো দিন এত দ্রুত চলে নি। তারপর তিনি বললেন, তুমি তাকে এক উকীয়্যার বিনিময়ে আমার কাছে বিক্রি করে দাও। আমি বললাম, না। তিনি আবারো বললেন, তুমি আমার নিকট তা বিক্রি করে দাও। ফলে আমি তা এক উকিয়্যাহর বিনিময়ে বিক্রি করে দিলাম এবং আমার পরিবারের নিকট পৌঁছা পর্যন্ত আরোহণ করার শর্ত দিলামা। আমি যখন বাড়ি পৌঁছলাম তার নিকট উটটি পৌঁছে দিতে গেলাম তখন তিনি আমাকে তার মূল্য পরিশোধ করলেন। তারপর আমি বাড়িতে রওয়ানা করলাম, এমতাবস্থায় আমার পিছনে একজনকে ডেকে পাঠালেন। (আমি উপস্থিত হলে) তিনি বললেন, তুমি কি ভেবেছিলে যে, আমি তোমার উট গ্রহণ করার জন্য তোমার সাথে দর কষাকষি করেছি? তুমি তোমার উট নাও এবং দিরহামও নাও। সবই তোমার।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।একটি যুদ্ধে জাবের রাদিয়াল্লাহ ‘আনহুমা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামেরে সাথে ছিলেন। তিনি এমন একটি উটের উপর আরোহণ করেছিলেন যে উটটি দূর্বল হয়ে গেছে এবং সে ভ্রমণ করতে ও সৈন্যদের সাথে চলতে অক্ষম হয়ে পড়েছিল। ফলে তাতে উপকার না থাকায় তিনি চাইলেন তাকে ছেড়ে দিবেন, সে যে দিকে দেখবে চলে যাবে। এদিকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাথী ও উম্মতের প্রতি দয়ালু হওয়ার কারণে সৈন্যদলের পিছনে থাকতেন। তিনি দুর্বল, অক্ষম ও দল থেকে পিছিয়ে পড়া লোকদের দেখা শোনা করতেন। ইত্যবসরে তিনি জাবেরের দেখা পেলেন যখন সে তার দুর্বল উটের উপর আরোহী ছিল। তিনি তার জন্য দো‘আ করলেন এবং তার উটের ওপর আঘাত করলেন। তার এ আঘাত করা, অক্ষম উটটির জন্য শক্তি ও প্রেরণনা কারণ হলো। ফলে সেটি এত দ্রূত চলল, ইতোপূর্বে আর কখনো এত দ্রূত চলে নি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাবেরের অন্তরকে খুশি করা এবং সফরের পথ চলায় সাথীর ন্যায় আলাপচারিতায় বললেন, তুমি এটিকে আমার নিকট এক উকিয়া দ্বারা বিক্রি করে দাও। তখন জাবের রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু আল্লাহর ফযলের প্রতি আগ্রহ দেখালেন। তিনি জানতেন যে, এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট বিক্রি না করাতে ইসলামের কোনো ক্ষতি নেই। কারণ, যে বিষয়ে রাসূলের আনুগত্য করা ওয়াজিব এটি তার অন্তভুর্ক্ত নয়। এ ছাড়াও আদেশটি বাধ্যতামুলক ছিল না। তা সত্বেও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কাছে আবারও চাইলেন। তখন তিনি এক উকীয়ার বিনিময়ে তা তার কাছে বিক্রি করে দিলেন, তবে শর্তে দিলেন মদীনায় তার পরিবারের নিকট পৌঁছা পর্যন্ত সে তাতে আরোহণ করবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার শর্ত গ্রহণ করলেন। যখন সে মদীনায় পৌঁছল তাকে উটটি হস্তান্তর করল, আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও তাকে মূল্য প্রদান করলেন। তারপর যখন সে রওয়ানা দিল তার পিছনে একজন লোককে ডাকতে পাঠালেন, ফলে জাবের ফিরে আসলো। তখন তিনি তাকে বললেন, তুমি কি ধারণা করছিলে যে, আমি তোমার উটের প্রতি লোভ করে তা তোমার থেকে নেওয়ার জন্য তোমার সাথে এ বেচা-কেনা করেছি? তুমি তোমার উট ও দিরহাম নিয়ে যাও। উভয়টিই তোমার। তার দয়া, আখলাক ও অনুগ্রহের সামনে এ ঘটনাটি আশ্চর্য কিছু নয়, তার আরো বড় বড় কৃতিত্ব রয়েছে।